রবিবার, ২৩ মাঘ ১৪১৯; ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ১০:০৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
বাংলাদেশে হিন্দিপ্রীতি (৩০/০১/২০১২)
মঙ্গলগ্রহ থেকে আসা প্রস্তরখণ্ড (২৩/০১/২০১২)
রামকৃষ্ণ মিশনের ডাকে বাংলাদেশের সাড়া (১৬/০১/২০১২)
প্রসঙ্গ আলবার্ট আইনস্টাইন (০৯/০১/২০১২)
রাশিয়ায় উদার গণতন্ত্রের অভিযাত্রা ও আমরা (০২/০১/২০১২)
রাশিয়ায় উদার গণতন্ত্রের অভিযাত্রা ও আমরা (০১/০১/২০১২)
আওয়ামী লীগ-সিপিবি মৈত্রী (২৬/১২/২০১১)
দেশের সার্বভৌমত্ব (১৯/১২/২০১১)
পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রসঙ্গে (১২/১২/২০১১)
সিমলা চুক্তি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার (০৫/১২/২০১১)
দিল্লির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ডাক (২৯/১১/২০১১)
আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব মিথ্যা হতে যাচ্ছে (২১/১১/২০১১)
গরিবি হটাও (১৪/১১/২০১১)
উপমহাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম (৩১/১০/২০১১)
ওয়াল স্ট্রিট দখল করো (২৪/১০/২০১১)
দুর্গাপূজা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি (১৭/১০/২০১১)
নদী রক্ষার আন্দোলন (১০/১০/২০১১)
পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদ (০৩/১০/২০১১)
ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ (২৬/০৯/২০১১)
কৃষিজমি ও বাসভূমি সংরক্ষণ (১৯/০৯/২০১১)
মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ (১২/০৯/২০১১)
ওমবাড্‌সমান (০৬/০৯/২০১১)
সুভাষ বনাম জওয়াহেরলাল (২৯/০৮/২০১১)
ভারতে দুর্নীতি লাঘবে আন্দোলন (২২/০৮/২০১১)
আসামে স্বাধীনতা আন্দোলন (১৬/০৮/২০১১)
রবীন্দ্রনাথ ও আমাদের জাতিসত্তা (০৮/০৮/২০১১)
নরওয়ের ঘটনাপ্রবাহ ও খ্রিষ্টান বিশ্ব (০২/০৮/২০১১)
দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম জাতীয়তাবাদ (২৫/০৭/২০১১)
জাতীয় সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে কোনো আপস হতে পারে না (১৯/০৭/২০১১)
চীনে কমিউনিস্ট পার্টি (১১/০৭/২০১১)
আগের লেখা
752


বাংলাদেশে হিন্দিপ্রীতি

এবনে গোলাম সামাদ

ভাষা মানুষের জীবনে একটা বিরাট বাস্তবতা। মানুষ ভাষার মাধ্যমে মনোভাব ব্যক্ত করে। ভাষার মাধ্যমে চিন্তা করে। ভাষার মাধ্যমে ধরে রাখতে চায় তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে। ভাষা আধুনিক জাতীয়তাবাদের অন্যতম উপাদান; যদিও একমাত্র উপাদান নয়। জাতিসত্তার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় ভাষাকে কেন্দ্র করে। রাশিয়ানরা রুশ ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছিল হাঙ্গেরিতে; কিন্তু হাঙ্গেরিয়ানরা এটা মেনে নিতে চায়নি। হাঙ্গেরিয়ায় রুশবিরোধী অভ্যুত্থানের এটা ছিল একটা কারণ। বাংলাদেশের মানুষ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করেছে, উর্দু ভাষার আধিপত্য মেনে নিতে চায়নি বলে।

ব্যাকরণগত দিক থেকে হিন্দি আর উর্দুর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। হিন্দি ও উর্দুর মধ্যে একটা পার্থক্য হলো, উর্দু ভাষায় থাকতে দেখা যায় ফারসি ও আরবি শব্দের প্রাধান্য। অন্য দিকে হিন্দি ভাষায় থাকতে দেখা যায় সংস্কৃত শব্দের প্রাধান্য। এ ছাড়া হিন্দি ভাষা লেখা হয় দেব নাগরি অক্ষরে। অন্য দিকে উর্দু লেখা হয় আরবি-ফারসি অক্ষরে। হিন্দি প্রধানত বলে উত্তর ভারতের গ্রামের লোকে; কিন্তু উর্দু বলে শহরের বাসিন্দারা।

এ দিক থেকে উর্দুকে বলতে হয় শহুরে ভাষা। হিন্দি এখনো শহুরে ভাষা হয়ে উঠতে পারেনি। হিন্দি খুব গ্রহণপটু ভাষা নয়। অর্থাৎ হিন্দি চায় না বিদেশী শব্দকে সহজে গ্রহণ করতে। পক্ষান্তরে উর্দু অনেক গ্রহণপটু ভাষা। ইংরেজি ভাষা থেকে উর্দু অনেক শব্দ গ্রহণ করেছে এবং এখনো করছে। এ দিক থেকে উর্দু হলো অনেক সমৃদ্ধ ভাষা। অনেক ভাষাতাত্ত্বিকের মতে উর্দু সাহিত্য হিন্দি সাহিত্য থেকে আছে এগিয়ে।

ব্রিটিশ শাসনামলে সেনাবাহিনীতে চলত রোমান উর্দু। রোমান উর্দু বলতে বোঝাত রোমক বর্ণমালায় লিখিত উর্দুকে। উর্দুর বিশেষ বিকাশ ঘটতে পেরেছে ব্রিটিশ শাসনামলে। উর্দু এখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু এখনো উর্দু পাকিস্তানের কোনো প্রদেশের মানুষের মাতৃভাষা হয়ে ওঠেনি। উর্দু এখনো বলতে গেলে হয়ে আছে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের মাতৃভাষা। ভারতের এক সময়ের প্রধানমন্ত্রী ভিপি সিং গর্ব করে বলেছিলেন, উর্দু তার মাতৃভাষা। জওয়াহের লাল নেহরু ঠিক হিন্দি বলতে পারতেন না। বক্তৃতা দিতেন আসলে উর্দু ভাষাতেই।

উর্দু ভাষার প্রাণকেন্দ্র হলো ভারতের উত্তর প্রদেশ। ভারতের উর্দুভাষী অঞ্চল থেকে যারা গেছেন পাকিস্তোনে, তাদের সাথে ঠিক বনিবনা হচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দাদের। উর্দু করাচি শহরে চলে, কিন্তু সিন্ধু প্রদেশে নয়। ভারতে ভাষা এখনো হয়ে আছে একটা বড় রকমের সমস্যা। দক্ষিণ ভারতে দ্রাবিড় ভাষা পরিবারভুক্ত ভাষায় যারা কথা বলেন তারা মানতে চাচ্ছেন না হিন্দির দৌরাত্ম্য। ফলে এখনো করা সম্ভব হয়নি হিন্দিকে বাস্তববে রাষ্ট্রভাষা। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ-কারবার এখনো চলেছে ইংরেজি ভাষারই মাধ্যমে। তামিলনাড়ুতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার হিন্দি ভাষায় কোনো চিঠি লিখলে তার সাথে দিতে হচ্ছে ইংরেজি অনুবাদ। এ হলো আজকের ভারতের ভাষা সমস্যার ক্ষেত্রে এক বিশেষ বাস্তবতা।

কথাগুলো বলতে হচ্ছে এই কারণে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সমপ্রতি বলেছেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে আমাদের হিন্দি ভাষা শেখা উচিত (নয়া দিগন্ত, ২৩ জানুয়ারি ২০১২)। কিন্তু তিনি বলেননি হিন্দি শেখার মাধ্যমে ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক উন্নত হবে কিভাবে। কারণ বাংলাদেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। পশ্চিমবঙ্গের ভাষা হলো বাংলা। হিন্দি শিখে তাদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের উত্তর-পূর্বে রয়েছে ভারতের যে সাতটি প্রদেশ, তাদের কারো প্রাদেশিক সরকারি ভাষা হিন্দি নয়। হিন্দি ভাষার আধিপত্যের বিরুদ্ধে এসব প্রদেশের মানুষের মনে সৃষ্টি হতে পেরেছে প্রবল ক্ষোভ।

হিন্দি ভাষা শিখে আমরা তাই এদের সাথে উন্নত সম্পর্ক সৃষ্টির কথা ভাবতে পারি না। তাদের সাথে উন্নত সম্পর্ক সৃষ্টি করতে হলে আমাদের শিখতে হবে এসব অঞ্চলের মানুষের ভাষা। বিশেষ করে আসামের অহমিয়া, মেঘালয়ের খাসিয়া ও মিজোরামের মিজো ভাষা। কারণ এদের সাথে আছে আমাদের সাধারণ সীমান্ত। আমরা তাই বুঝতে সক্ষম হচ্ছি না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কী করে বলতে পারছেন হিন্দি ভাষা শিখে ভারতের সাথে উন্নত সম্পর্ক সৃষ্টির কথা। বাংলা যত লোকের মাতৃভাষা, তাদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগের বাস বাংলাদেশে। আর শতকরা ৪০ ভাগের বাস হলো ভারতে। কিন্তু পশ্চিম বাংলার বাইরে ভারতের বাংলাভাষী মানুষ এখন বাংলা ভাষায় কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ তাদের বিবেচনা করা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আগত অবাঞ্ছিত মানুষ হিসেবে। এভাবে বাংলাভাষী মানুষকে অবাঞ্ছিত ভাবলে বাংলাদেশের মানুষের সাথে ভারতের সম্পর্ক কখনওই উন্নত হতে পারবে না। বাংলা ভাষা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে ভারত সরকারকেও। বাংলা ভাষাকে দিতে হবে বিশেষ মর্যাদা। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন বলে আমাদের মনে হচ্ছে না।

ভারতের ২৮টি প্রদেশের মধ্যে ৯টির প্রাদেশিক সরকারি ভাষা হলো হিন্দি। এই প্রদেশগুলো হলো- বিহার, ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাচল ও রাজস্থান। এদের কারো সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত নেই। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত আছে বিহার ও ঝাড়খন্ডের সাথে; কিন্তু আমাদের এদের সাথে কোনো সীমান্ত নেই। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, বিহারের পুর্নিয়া জেলায় অনেক লোক বাংলা ভাষায় কথা বলেন। ঝাড়খন্ডেও রয়েছে অনেক বাংলাভাষাভাষী মানুষ। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রদেশগুলোর মধ্যে আসামের গোয়ালপাড়া ও কাছার জেলার মানুষ কথা বলেন বাংলা ভাষায়। ত্রিপুরা রাজ্যে এক সময় চলত টিপরা ভাষা। কিন্তু এখন সেখানকার ভাষা বিশেষভাবেই হয়ে উঠেছে বাংলা। বাংলা ভাষার স্থান পৃথিবীর মূল ভাষাগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে সপ্তম কি অষ্টম। ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা যথেষ্ট উন্নত।

বিশেষ করে হিন্দি ভাষার তুলনায়। তাই হিন্দি চর্চা করে ভারতের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করা বৃথা। হিন্দির চেয়ে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমেই আমরা ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের মানুষের সাথে প্রয়োজনে অনেক সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি। ভারত ঠিক এক জাতির দেশ নয়। ভারত কার্যত বহু জাতির দেশ। ভারতকে আমাদের সেভাবেই বিচার করতে হবে। তা না হলে ভারত সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হতে চাইবে বিভ্রান্তিকর।

অনেক কিছুই ঘটছে ভারতে। হিন্দি ভাষায় যেমন এখন ব্যবহারের চেষ্টা চলছে আরবি-ফারসি শব্দ বাদ দিয়ে সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বৃদ্ধির; তেমনি আবার দক্ষিণ ভারতের দ্রাবিড়ভাষী মানুষেরা চাচ্ছেন তাদের ভাষায় যেসব সংস্কৃত শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটেছে সেসব শব্দকে বাদ দিতে। সমগ্র দক্ষিণ ভারতের দ্রাবিড়ভাষী অঞ্চলে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে সংস্কৃত শব্দবিরোধী মনোভাব। বিশেষ করে তামিলভাষী প্রদেশ তামিলনাড়ুতে। তামিলনাড়-কে ব্রিটিশ শাসনামলে বলা হতো মাদ্রাজ প্রদেশ। কিন্তু ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর প্রদেশটির নাম হয়েছে তামিলনাড়ু। তামিল ভাষায় ‘নাড়-’ শব্দের অর্থ হলো দেশ। তামিলনাড়- শব্দের বাংলা করলে বলতে হবে তামিলদের দেশ। তামিলনাড়- হলো দ্রাবিড় ভাষাভাষী সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। ভারতে দেখা দিয়েছে আর্য সংস্কৃতির মধ্যে বিশেষ বিরোধ। ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে আর্য সংস্কৃতির প্রসার কখনওই সেভাবে ঘটেনি। এখানে রয়েছে মঙ্গলীয় মানব ধারার প্রাধান্য। ভারত বিভক্ত হয়ে পড়ছে আর্য, দ্রাবিড় ও মঙ্গল (কিরাত) দ্বন্দ্বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্বোচ্চ জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র। এখানে হিন্দি শিক্ষার ব্যবস্থা করা অন্যায় হয়েছে বলে আমরা মনে করি না। কিন্তু হিন্দি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সাথে কোনোভাবেই পোষণ করতে পারছি না ঐকমত্য। তিনি এমন এক সময় তার এই অভিমত ব্যক্ত করলেন যখন দেশে ঘটছে আরো অনেক কিছু। আমরা পাকিস্তান আমলে উর্দু শিখতে চাইনি, কিন্তু এখন ভারতের সাথে উন্নত সম্পর্ক সৃষ্টির নামে শিখতে চাচ্ছি হিন্দি। আমাদের এই হিন্দি শিখতে চাওয়া ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কতটা চাপের ফল সেটা নিয়েও জাগতে পারছে সন্দেহ। এই হিন্দি শেখার হুজুগ বিশেষভাবে উঠতে পারছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। যেটা জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করছে বাংলাদেশের ওপর ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিস্তোরের পরিকল্পনার একটা চেষ্টা হিসেবে।

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি লন্ডনে প্রবাসী বিখ্যাত বাংলাভাষী সাংবাদিক সিরাজুর রহমান রেডিও তেহরানকে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালে তাজউদ্দিন সরকার ভারত সরকারের সাথে ৭ দফা চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তিতে ছিল বাংলাদেশে নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না। থাকবে না স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। ভারত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নেবে। কিন্তু শেখ মুজিব এই চুক্তি মানেননি। ভারত সরকার এখন অগ্রসর হচ্ছে ১৯৭১ সালের চুক্তি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে। সিরাজুর রহমান সাহেবের বক্তব্য কতটা নির্ভরযোগ্য তা আমরা বলতে পারি না। তবে ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন বিবিসির সাংবাদিক। আর সেই সুবাদেই তিনি তাজউদ্দিন সরকার সম্পর্কে নানা বিষয়ে হলেন বিশেষভাবে জ্ঞাত। তাই তার কথা হেলাফেলা করা চলে না।

একই সময়ে আমরা দেখছি, ভারত এখন চাচ্ছে কেবল আমাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করতেই নয়, এ দেশে হিন্দি ভাষার প্রসার বাড়াতেও। বলা হচ্ছে, হিন্দি ও বাংলা নিকট সম্পর্কীয় ভাষা। ব্যাকরণগত দিক থেকে যা আদৌ সত্য নয়। আমাদের তাই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে ভারতের অভিসন্ধি সম্পর্কে বিশেষভাবে সচেতন হওয়ার। ভারত পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিকে মেনে নিয়েছিল কৌশলগত কারণে। সে এখন চাচ্ছে পাকিস্তানের ধ্বংস। সে এটা চাচ্ছে মার্কিন সহযোগিতায়। বাংলাদেশ সম্পর্কেও তার মনোভাব বাংলাদেশের অনুকূল নয়। সমপ্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন ত্রিপুরায়। ত্রিপুরার মানুষ আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে সংবর্ধনা জানিয়েছেন, সেটা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মনঃপূত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে প্রটোকল নিয়ে।

ভারতের খ্যাতনামা সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার আরব উপদ্বীপ থেকে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ও বহুল পঠিত গালফ নিউজ পত্রিকার ২৮ জানুয়ারি ২০১২ সংখ্যায় লিখেছেন- তার কাছে যেসব সংবাদ আছে, তা থেকে সিদ্ধান্ত করা যায়, বাংলাদেশে সমপ্রতি যে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল তাতে ছিল আসামের উলফা এবং মনিপুর ও নাগাল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা। তাই একে কেবল বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। কুলদীপ নায়ারের বক্তব্য যদি নির্ভরযোগ্য হয়, তবে বলতে হবে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের অধিক অবগত হতে হবে। হিন্দি ভাষার মাধ্যমে সারা ভারতের মানুষ কী ভাবছে সেটা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কারণ ভারতে কেবল হিন্দিভাষী মানুষ বাস করে না; ভারত বহুভাষী মানুষের আবাসভূমি।
[সূত্র : নয়াদিগন্ত-৩০/০১/১২]
http://www.sonarbangladesh.com/articles/IbnGolamSamad
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলাদেশ থেকে আক্কাস রফিক লিখেছেন, ৩০ জানুয়ারি ২০১২; দুপুর ০১:৪০
বৃটিশরা এই দেশ ১৯০ বছর ব্যাপী দলিত মথিত করে লুটতরাজ করতে পেরেছিল তাদের উচ্ছিষ্ট ভোগী লোভী ও নীতিহীন দেশদ্রোহী কিছু গোলাম ও দালালদের কারণে। ভারত মনে হয় সেই ধরণের কিছু দালাল ও গোলাম এই দেশে ইতিমধ্যেই তৈরী করে ফেলেছে। যেভাবে চলছে তাতে আশংকা হয় আমাদের স্বাধীনতা আর বেশী দিন টিকতে পারবেনা (আল্লাহ না করুন)। ওদের টার্গেট ২০২১ সাল পর্যন্ত।
77550
London থেকে Lunik লিখেছেন, ৩০ জানুয়ারি ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:৪৫
সামাদ সাহেবের এই নিবন্ধে যে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে তা' বিশেষ ভাবে প্রণিধানযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক হিন্দি শেখার যে উপদেশ দিয়েছেন তা অতীব হাস্যকর। একটা অতিরিক্ত ভাষা শেখায় কোন দোষ নেই, কিন্তু দেখতে হবে কোন ভাষাটা শিখলে আমাদের লাভ হবে। ইংরেজী হ'ল 'Business language' (বাণিজ্যের ভাষা) এবং এর সমাদর সারা বিশ্বে। শ্রম রপ্তানি করে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করি। আমরা যদি তাঁদের ইংরেজী শিখতে সাহায্য করি তাহলে তাঁরা বিদেশে আরও ভালো কাজ এবং সমাদর পাবেন। ভারত আমাদেরই মত একটি অনগ্রসর দরিদ্র দেশ যেখানে আমরা শ্রমিক পাঠাই না। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করতে হলে ইংরেজীতে দক্ষতা থাকলে তা' আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট হবে কারণ হিন্দীর তুলনায় ভাল ইংরেজী বলতে পারার কদর ভারতেও বেশী। শুদ্ধ উচ্চারনে ইংরেজী বলতে পারাটা 'mark of efficiency' হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। আর তা'ছাড়া অনুকরণ যদি করতেই হয় তা'হলে এটা ভাল দেশকেই অনুকরণ করতে হবে ভারতের মত একটা 'dysfunctional' বা খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে চলার দেশকে নয়।
77568
লন্ডন থেকে মোঃ আবু সুফিয়ান মিয়া লিখেছেন, ৩০ জানুয়ারি ২০১২; রাত ০৮:৩৮
আসলে আরেফিন সিদ্দিকিদের মাথা ঠিকনাই। কি বলতে গিয়া কি বলে ফেলেন । বর্তমান তরুন প্রজন্ম তো এমনেতেই হিন্দি সিনেমা দেখে বুদ হয়ে থাকে , আর তরুন প্রজন্মের হিন্দি বোঝেনা এমন সংখ্যা হাতে গোনা কয়েক জন । ভারত কুটচালে যে আত ওস্তাদ তা ওনারা বোঝবে কি করে । এক দিকে বাঙ্গালীদের ঠেলে দিয়েছিল উর্দু ভাষার বিপক্ষে রাস্ট ভাষা বাংলা করার জন্য আর তলে তলে ঠিকই এই ভোদাই জাতিকে হিন্দি শিক্ষা দিয়েছে । অর গভির থেকে বল্লে এখন তরুন প্রজন্ম যে হিন্দি সিনেমা দেখে আসলে ঐ সব সিনেমায় যে ভাষা ব্যবহার করা হয় তা কিন্তু আসলে ছলিট ঊর্দু ভাষা । চালাক কাহাকে বলে তা আসলেই ইন্ডিয়ানরা আর যতসভ ভোদাই ঐ বাঙ্গালীরা ।
77574
Dhaka থেকে Sikdar লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১২; রাত ১২:১৩
Alas!!! Is it the reward for our struggle of language movement and 71's liberation war? It's very shockingthat how could a person like Mr Arefin being the VC of Dhaka University endorse such a logic. The influence of Hindi language on Bangla language started through cable TV channels in the early 90s and now it has become a part of our daily life. For example, my children watch most cantoon and other kids-related channels dubbed in Hindi. When I asked the local cable agent they simply answered me that most residents preferred Hindi-dubbed kids' channels to original version which were in English. My children also now a days have been influenced by Hindi language watching such channels. It's a major concern for all Bangladeshis on how to overcome this problem and save our own cultural identity from Hindi influence. Thanks to the respectable writer for his bold article.
77580
London থেকে Lunik লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১২; রাত ১২:১৪
Abu Sufian @ 3

You have hit the nail on the head, albeit crudely.

সত্যিই তো, তাহলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা করে কী লাভ হ'ল। ভারতের বাইরে কেউ হিন্দি শেখে বলে জানি না, বিলেতে তো নয়ই - বাংলাদেশ বোধ হয় একমাত্র দেশ যেখানে বিশ্ববিদ্যায়ের কর্ণধার হিন্দি শেখার জন্য উপদেশ দিচ্ছেন। আগে ভালো করে বাংলাটা শিখে নি তার পর ইংরেজী - এর পর হাতে সময় থাকলে চায়নিজ্ ভাষা যেটা এখন বিলেতে অনেকেই শিখছে, সঙ্গত কারণেই।
77581
গাজির পাড়া, দক্ষিন সুরমা, সিলেট থেকে মোহাম্মদ সানা-উল গাজী লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১২; রাত ০১:০১
''ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সমপ্রতি বলেছেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে আমাদের হিন্দি ভাষা শেখা উচিত ''

--------কেউ যখন তার নিজের অস্তিত্ব অন্যের কাছে বিকিয়ে দেয় তখন এভাবে বলতে পারে।
77583
কমলাপুর ঢাকা থেকে টোকাই লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১২; রাত ০১:২৮
London থেকে Lunik
একদম ঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ।
77584
USA থেকে Khondakar Golam Mowla লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১২; রাত ০২:৪২
Urdu is the language of India, Muslim India and not Pakistan.

http://en.wikipedia.org/wiki/Urdu

Urdu (Urdu: اردو, IPA: [ˈʊrd̪u] ( listen); English: /ˈʊərduː/) is a register of the Hindi-Urdu language that is identified with Muslims in South Asia. It belongs to the Indo-European family. Urdu is the national language and lingua franca of Pakistan. It is also widely spoken in some regions of India, where it is one of the 22 scheduled languages and an official language of five states. Based on the Khariboli dialect of Delhi, Urdu developed under the influence of Persian, Arabic, and Turkic over the course of almost 900 years.[4] It began to take shape in what is now Uttar Pradesh, India during the Delhi Sultanate (1206–1527), and continued to develop under the Mughal Empire (1526–1858). Urdu is mutually intelligible with Standard Hindi (or Hindi-Urdu) spoken in India. Both languages share the same Indic base and are so similar in phonology and grammar that they appear to be one language.[5] The combined population of Hindi and Urdu speakers is the fourth largest in the world.[6]

http://itre.cis.upenn.edu/~myl/languagelog/archives/005276.html

It must be remembered that from roughly 1400 C.E. onward Persia was to those countries in its cultural orbit what France was to Europe during the reign of Louis XIV, and for a long time afterward. Persian ways set the tone in the ruling courts of Turkey, Afghanistan, and northern India. Persian culture and cuisine were highly valued. The Persian language was the language of diplomacy, of treaties, of art and beauty, of song, of love. Even after the British had assumed control of most of India, moving into a political vacuum created by the shrinking of the Mughal dynasty, they continued the use of Persian as the language of administrative records until the 1830s, when English became the official language of the Raj. The Persian language maintained a "high'' function in Indian Muslim life long after it had ceased to be anybody's first spoken language there. A favorite diversion -- opium was another -- of the last Nizam of Hyderabad, a Muslim-ruled enclave in the Deccan, whose reign was ended in 1948, was composing quatrains in the Persian language. His native language was of course Urdu.

http://adaniel.tripod.com/Languages2.htm
77588
U.S.A থেকে Wounded Tiger. লিখেছেন, ৩১ জানুয়ারি ২০১২; সকাল ১০:৩৭
Excellent and timely article.India consists of multi lingual,cultural and religious countries joined together by the brutal military and paramilitary forces.Many of the countries are struggling against the oppression,tortures,incarceration,rapes and killings of the civilians by the occupying forces.These include the seven sister countries at our border,Kashmir and many other states but Bangalis of W.Bengal enjoy the slavery of Delhi practicing Hindi. I remember this V.C. introduced Indian P.M. as H.E. our prime minister.What a shame and isult to a prestigious university and Bangladesh.If one has to emphasize any language after Bangla and English it must be the Arabic,firstly it is the language of Holy Quran,The Book Of Allah SWT,which is the basis of the religion of 90% of the population,second,Arabic is a very rich language spoken by the people of the largest area in the world,third,economic our workers in Saudi Arabia are the top wage earners.GCC countries has the currency reserve next to China only.Learning Arabic would help fostering other economic ties immensely beneficial to Bangladesh.Chinese and Indians are learning Arabic for the sole purpose of business.But our Delhi controlled govt. alienating and distancing Bangladesh from the Arab and Muslim countries by their various actions even by ammending the constitution.Finally one caution India knows how to take only,they don't give.After seeing all the so called anti state treaties and deals then the brutal tortures and killings at the border,still advocate learning Hindi is totally ,despicable and unpatriotic.Bangladeshis must watch out these mirjafors.
77605
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy