সমর কুমার ঘোষের লেখায় বর্তমান সরকারের সাফল্যের বয়ান ও একজন পাঠকের প্রতিক্রিয়া
ইকরাম ইবনে মাসুম
সমর বাবু আশা করি পরম করুণাময় এর কৃপায় সুস্থ্য আছেন (শারীরিক এবং মানসিক)। পরসমাচার এই যে আপনার অতীব গুরুত্বপূর্ন পর্যবেক্ষনমুলক লেখা পড়ে আমি একটু অবাকই হয়েছি বটে (সোনার বাংলাদেশ, শ্রাবন ১৪১৬ সংখ্যা)। আমার অল্প জ্ঞান থেকে যা বুঝি তা হচ্ছে সফলতা মাপার জন্য নূন্যতম একটি সময় প্রয়োজন আর যা ৬ মাসে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সরকারের বূরক্রেসির জন্য কোন প্রজেক্ট যখন ইম্পলিম্যান্ট করতেই দেরী হয় তখন তার রেজাল্ট ৬ মাসের মধ্যে পেতে পারেন শুধুমাত্র অতি উৎসাহী ব্যক্তি। তবে আমি বলছিনা যে আপনি তাদের একজন!
আপনি এক নম্বর পয়েন্টে বলেছেন "বিরোধীরা যতই বলুক আন্তর্জাতিক বাজারে চাল ও তেলের দাম কমার কারণে দেশে এই পণ্য দুটির দাম কমেছে, বাস্তব সত্য হচ্ছে, দাম কমেছে যা এর আগের দুই সরকার কমাতে পারেনি। কৃষকেরা উতপাদিত পণ্যের মূল্য পাচ্ছে না বলে খবর প্রকাশিত হচ্ছে বটে, তবে আশা করা যায় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।" আমার মত অজ্ঞের বুঝতে সমস্যা হচ্ছে ইহা দ্বারা আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঝড়ে বক মেরেছেন নাকি লবিং করে চাল এবং তেলে দাম কমিয়েছেন। প্রথমটি হলে কোন কথা নেই কিন্তু ২য়টি হলে কয়েকটি কথা আছে। আপনার মাধম্যে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কাছে আর্যি করি উনি যেন টিপাইমুখী বাধ, বি,এস,এফ এর উদ্ধত আচরন, বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমিক সমস্যার সমাধান এর উপরও লবিং করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শেখ বংশের কান্ডারী আমাদের জয় ইবনে ওয়াজেদ উনাদের লবিং এর ভাবসাবই আলাদা। একজন লবিং করে চাল, তেলের দাম কমিয়ে ফেলত পারেন অন্যজন লবিং করে বিশিষ্ট সামরিক বিশেসজ্ঞে সাথে সামরিক গবেষনা প্রকাশ করেন।
আপনার দ্বিতীয় পয়েন্টে বলেছেন "প্রায় সত্তর জন শীর্ষ স্থানীয় সেনা কর্মকর্তা মারা গেলেও, বিডিআর বিদ্রোহ যে প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণভাবে দমন করা হয়েছে, সে কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। খবর পাওয়ার সাথে সাথে সেদিন সেনাবাহিনীকে পিলখানায় ঢুকতে দিলে সারা দেশে বিডিআর বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়তে পারতো। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রাণ সংশয়ও হতে পারতো। মনে রাখা দরকার যে, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের হাতে নিহত হন নাই, সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যরা তাকে হত্যা করেছিল। " আমার মনে হয়না আপনি বলতে চাচ্ছেন সেনাবাহিনীর বুদ্ধি হাঁটুতে থাকে অন্তত ওযান ইলেভেনের পরে। বাকি থাকে উনরা দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন। ডজন খানেক ডক্টরেট ডিগ্রীধারীর দক্ষতা নিয়ে আমার মতো অধমের মধ্যাঙ্গুলী তাক কার মোটেও সাজেনা তবে অধম বলে কথা। সেদিনের পরে ঢাকা ক্যন্টনম্যন্টে সেনাবাহিনীর অফিসারদের সাথে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা আমরা সবকিছুই ইউ টিউব, ফেইসবুক, এস্নিপস, মেইল এর মাধম্যে জানতে পেরেছিলাম। সেনা অফিসারদের মুখে আমরা শুনেছি কোন পদক্ষেপ নিলে এই দেশ প্রেমিক যোদ্ধারা নিহত হতোনা। তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে, ২জন প্রতিমন্ত্রী সমকক্ষীয় এবং অদক্ষ এমপির হাতে বিষয়টি দিয়ে কি পরিমানে ফেলনা করা হয়েছে জাতীয় গুরুত্বপূর্ন এই বিষয়টি তা আমাদের নজর এড়ায়নি। তার দক্ষতা এতই যে এখন পর্যন্ত এই ঘটনার রির্পোট পেশ করা হলোনা।
আপনার তৃতীয় পয়েন্টে বলেছেন"সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল সেনাবাহিনী ও প্রশাসনকে ধর্মনিরপেক্ষকরণ। এই কাজটি সরকার সাফল্যের সাথে শুরু করেছে এবং আশা করা যায় তাতে আগামীতে আরও গতিশীলতা আসবে। সেনাবাহিনী ও প্রশাসন থেকে ইসলাম ধর্মপ্রবণ অংশকে আস্তে আস্তে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের নিকট গ্রহণযোগ্য করতে হলে এর কোন বিকল্প নেই। " যেনে খুবই অবাক হলাম এই সরকার এর আগে বাংলাদেশ বিশ্বের নিকট একটি অগ্রহণযোগ্য রাষ্ট্র ছিলো। আমি জানতাম যে একটি দেশের সেনাবাহীনি এবং প্রশাসন চালাতে দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তির প্রয়োজন, স্যকুলার নয়। অধমের মাথায় আসছেনা যে ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে বেশীরভাগ দক্ষ ও মেধাবী সেনা অফিসার এবং প্রশাসনিক ক্যাডার মুসলমানই হবে তাদেরকে ঐসলামিক বিবেচনায় ছাট্ই করার কারন কি? উপদেষ্টা এইচটি ইমামের নিয়ন্ত্রিত জি১০ খুব কষ্ট করে যাচ্ছে এগুলো করার জন্য কিন্তু তার পরেও বলে রাখছি যেই দেশে বসে আমাদের জয় ইবনে ওয়াজেদ ছড়ি ঘুড়াচ্ছেন সেই যুক্তরাষ্ট্রও কোন স্যকুলার স্ট্যেট না। বেয়াদবী মাফ করবেন স্যকুলারিজম সর্ম্পকে আপনার এবং আপনার পথ প্রদর্শকের ধারনা সর্ম্পকে আমি বড়ই হতাশ।
আপনার চতুর্থ পয়েন্টে বলেছেন "বাংলাদেশে বিগত জোট সরকারের সময় বোরকার ব্যাপক প্রচলন ঘটে। এটি আমাদের বিদেশে ইমেজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধীরে ধীরে আমরা একাত্তরের চেতনা থেকে সরে একটি ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের সৌভাগ্য যে এই রকম একটি সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। সরকার ইতোমধ্যে এই জঞ্জাল পরিস্কার করার কাজে হাত দিয়েছে। এর প্রথম পাইলটটি করা হয়েছে পিরোজপুরে। সেখানে বোরকা পরা তিন ছাত্রীকে জেলে ঢোকানো হয়েছে, রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ছবি তুলে পোস্টারিংও করা হয়েছে। কৌশলগত কারণে এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু এটি সাইদীর এলাকা, তাই এই এলাকাতে যদি কোন প্রতিবাদ না হয়, তাহলে ধরা যাবে যে বাংলাদেশের অন্য এলাকাগুলোতেই এই ধরণের অপারেশনে কোন প্রতিবাদ আসবে না। এভাবে আরও কয়েকটি এলাকার বোরকা পরা মেয়েদেরকে শাস্তি দিতে পারলে এবং তাদেরকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করতে পারলে বোরকার ব্যবাহার অনেক কমে যাবে। এ পর্যন্ত যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, তাতে বলা যায়, এই পাইলট সফল হয়েছে। সারা বাংলাদেশের কোথাও এর কোন প্রতিবাদ হয়নি। বাংলাদেশের জনগণ যে প্রগতির পথে অনেকদূর এগিয়েছে, এটাই তার প্রমাণ।" এই বিষয়ে কি বলবো আপনার এই পয়েন্ট দেখে আমার মারওয়ার কথা মনে পরে গেল। মারওয়ার নেইবার এই জার্মান লোক মারওয়াকে ‘টেররিষ্ট’ বলে গালি দেয়। কারন মারওয়া হিজাব মেইনটেইন করে। মারওয়া বিষয়টি কোর্টে নিয়ে যায় এবং কোর্টে উপস্থিত হলে প্রতিবেশী এলেক্স নামের জার্মান লোকটা মারওয়ার উপর ছুরি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে হত্যা করে। কোর্ট হাউজে বিচারক, অন্যান্য উপস্থিতি এবং গার্ড থাকা স্বত্ত্বেও রেসিষ্ট কিলার জার্মান লোকটা মারওয়াকে ছুরি দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করে মেরেই ফেললো, মারওয়ার স্বামী বউকে বাঁচাকে গিয়ে সিভিয়ারলী ইনজুরড হলো, তার ছেলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মত মা’কে এভাবে মারা যেতে দেখলো, অথচ এত্তগুলো মানুষের মধ্যে কেউ এগিয়ে এলোনা একমাত্র মারওয়ার স্বামী ছাড়া?! মানুষ রেসিষ্ট হতে পারে, তাই বলে এতটা?! মারওয়া তিন মাসের প্রেগনেন্ট ছিল। কদিন পরে হয়তো আমরা মারওয়ার সেই প্রতিবেশীর জায়গায় সমর বাবুর মেন্টালিটির কোন লোককে দেখবো।
আপনি আপনার পঞ্চম পয়েন্টে বলেছেন "বাংলাদেশে ক্ষমতাশীন দলকে কার কার্যক্রমের একটি বিরাট অংশ ব্যয় করতে হয় বিরোধী দলকে মোকবেলা করতে। এ ক্ষেত্রে সরকার অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। হরতাল দূরে থাক, প্রথম ছয়মাসে বিরোধী দল কোন কর্মসূচিই দিতে পারেনি। চারদলীয় জোটও যাতে আর কখনো সক্রিয় না হয়, সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।" খুবই লজ্জাজনক এবং দুঃখজনক যে এই মেন্টালিটি নিয়ে আওয়ামী লীগ কিভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চায়। তবে শুনে ভাল লাগলো যে আওয়ামী লীগ এখনো চারদলকে নিয়ে খুবই সংকটাপন্য পরিস্থিতিতে রয়েছে। দড়ি ধরে টান দিলে যে কোন সময় সরকার কলাপ্স করবে।
আপনার শেষ পয়েন্ট সম্পর্কে বলবো পাগল আর শিশুকে কাঠগোড়ায় দাড় করানো কোন সুস্থ্য মস্তিকের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এটা অমানবিক। এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। শান্তির পথে আসুন হিংসার পথ বর্জন করুণ। হিংসা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। হিংসা থেকে কোন পরিত্রান নেই।
আপনি যথার্থই বলেেছন। সমর বাবুর ঐ লেখাটা আসলে লেখার বিবেচনায় কোন জাতেই পড়েনা। প্রসঙ্গ আর ভাষা পড়ে মনে হলো তার ব্যাক্তিগত ভাব-আবেগ কাতরতা প্রকাশ তিনি রান্ন ঘরে বসে করলেই পারতেন। বড় জোর পত্রিকার লাওয়ারিশ চিঠি পত্র কলামে । সরাসরি আন্তর্জাতিক অনলাইনে। বাবু বড় সৌভাগ্যবান। আর এধরনের লেখা যে কোন বিবেচনায় সোনার বাংলাদেশ এর মত অনলাইন ম্যাগাজিন সম্পাদক নির্বাচিত করলেন সেটা ভাবতেই অবাক লাগে।
2568
২
জেদ্দা থেকে আবীদ লিখেছেন,
০৪ অগাস্ট ২০০৯; রাত ১২:০৮
সমর বাবু একা নয়। এটা আওয়ামী চরিত্রের যথার্থ বহিঃপ্রকাশ। চাড়ালে ইসলাম সম্পর্কে এতকিছু বল্ল, সবাই ধৈর্য থারণ করল, এটাই ইসলামের সৌন্দর্জ। সোনার বাংলাদেশকে ধন্যবাদ। অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় আপদ দূর করার জন্য ইকরাম ইবনে মাসুম ভাইকে আন্তরিক অভিনন্দন।
2636
৩
United States of America থেকে Mohammad Gani লিখেছেন,
০৪ অগাস্ট ২০০৯; সন্ধ্যা ০৭:১১
Mr. S.K. Ghosh is only a petty "Awami-Razakar", that's all!
Remember, "think tank" Awami-llectuals and AL- lieutenants WORLDWIDE declared crusade against Illegitimate-Unconstitutional Care Taker Government of Fakruddin, President "YESuddin, & ambitious General Moinuddin??? Where & why those champions of HUMAN RIGHTS, RIGHTS OF FREE SPEECH, FIGHTERS AGAINST EXTRA-JUDIACIAL KILLINGS (Cross-fire)............have been hiding today??? Does anyone know?
2652
৪
Jeddah থেকে Abeed লিখেছেন,
০৪ অগাস্ট ২০০৯; রাত ১১:৩১
Yes I know.. becz Awami got the power by their (Fakruddin, "YESuddin, & ambitious General Moinuddin) mercy....
2657
৫
পাকিস্থান থেকে রাজাকার লিখেছেন,
২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯; সকাল ০৯:৪০
ভাই ইকরাম, কেন ওর মত একটা দালালের লেখার জবাব দিয়ে তার লেখা পড়তে লোকদেরকে উৎসাহিত করছেন। আমিতো তার নামও এখানে উচ্চারিত করিনি। আমার মনে হয় আপনি বুঝতে পেরেছেন এই দালালদেরকে কিভাবে avoid করতে হয়।
3875
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: