মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৫৬ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
সুস্থ্য জীবনের জন্য ইতিবাচক হোন (১২/০৫/২০১২)
আমার মায়ের মুখ (০৫/০৫/২০১২)
ডেসটিনি-২০০০ : ছাত্রদের মেধা বিকাশের শত্রু (০৭/০৪/২০১২)
হিজাব নিষিদ্ধকরণ আধুনিকতা ও প্রগতির (?) নামে প্রতারণা (৩১/০৩/২০১২)
বিসমিল্লাহ্ ও দু’আয় কাজ হয় (২৪/০৩/২০১২)
মুহাম্মদ স: মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মহানায়ক (০৪/০২/২০১২)
বাংলাদেশে এখন মানুষের জীবনই সবচেয়ে সস্তা (১৪/০১/২০১২)
মিথ্যা সাক্ষ্যদান বড় ধরণের জুলুমঃ পরিণতি ভয়াবহ (০৭/০১/২০১২)
বাংলাদেশ যদি খরাপীড়িত মরুভূমির দেশ হয় (৩১/১২/২০১১)
মহররম : বিস্মৃত ইতিহাসের এক অধ্যায় (০৩/১২/২০১১)
জীবনের জন্য জ্ঞান (১৯/১১/২০১১)
ঈদ উৎসবঃ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ (২৭/০৮/২০১১)
খোশ আমদেদ মাহে রমযান, নিন্দাবাদ মুনাফাখোর আর কালোবাজারী (১৬/০৭/২০১১)
ন্যায়পরায়ন শাসকের দায়িত্ব ও কর্তব্য (১৮/০৬/২০১১)
আলেম-ওলামার সাথে শত্রুতা দূর্ভাগ্যজনক (১১/০৬/২০১১)
ধর্মব্যবসায়ী ও ফতোয়াবাজ ও মুনতাসির মামুন-এর চতুরঙ্গ (১৬/০৪/২০১১)
শিক্ষা ও চিকিৎসাঃ মানুষের অধিকার যেখানে অবহেলিত (০৫/০৩/২০১১)
দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি ইসলামী দৃষ্টিকোণ (২৬/০২/২০১১)
ভাষা আল্লাহর সেরা দান (১২/০২/২০১১)
“কালেমার পতাকাবাহী পূর্ণাঙ্গ মহামানব” (০৫/০২/২০১১)
স্বৈরশাসন ও তার পরিণতি (০৮/০১/২০১১)
সর্বশক্তি ও আধুনিক সমরাস্ত্র সঞ্চয়ঃ ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি (২৫/১২/২০১০)
মহররম মাস প্রেরণার বাতিঘর (১১/১২/২০১০)
আগের লেখা
2


মীরাস বন্টনে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করবেন না

জাফর আহমাদ

সরকারের আইন মন্ত্রণালয় মাঝে মধ্যে মুসলমানদের নার্ভ পরীক্ষা করার জন্য ইসলামের স্পর্শকাতর বিষয়ে হাত দেয়া এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষত মুসলমানগণ যখন কোন বিষয়ে ফুঁসে উঠে, তাদের সে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সাম্প্রতিক ‘বিশেষ বিবাহ আইন’ এবং ‘ছেলে না থাকলে কন্যাসন্তানকে পুরো সম্পদের মালিক করে মুসলিম পারিবারিক আইন সংশোধনের উদ্যোগটি তারই অংশ। অতীতেও এধরণের নারী উন্নয়নের নামে নারীর উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে সমান অধিকারের বিষয়টি নিয়ে সরকার অনেক হৈ চৈ করেছে। পৃথিবী বিখ্যাত একটি মুসলিম দেশের একজন মুসলিম আইনমন্ত্রী থেকে এ ধরণের ইসলামের মৌলিক আইনের বিরুদ্ধে আস্ফালন সত্যিই আশ্চর্যজনক। কে তাঁকে এ ধরণের কুরআন পরিবর্তন এবং আল্লাহর আইনের সুস্পষ্ট সীমা লঙ্ঘনের শক্তি যোগায়? দেশের উন্নয়নের জন্য কুরআনের এই আইন কি কোথাও বাঁধা সৃষ্টি করছে? তারা নারী উন্নয়ন বা দেশের উন্নয়নের জন্য আর কোন কিছু কি নজরে আনতে পারেন না?

এ ধরনের উদ্ভট চিন্তা যিনি মাথায় এনেছেন, সেই যেই হোন না কেন, তার দুঃসাহসের প্রশংসা করার ইচ্ছা হয়। কারণ তিনি আল্লাহর বজ্র কঠিণ মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের ব্যাপারে উদাসীন বা বেপরোয়া হয়ে গেছেন। আমার মনে হয় সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন সময় এমন এমন সব উদ্ভট কর্ম সম্পাদন করে বিশেষ কোন ষড়যন্ত্রকে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। যা এদেশের অধিকাংশ মানুষের চিন্তা-চেতনা, কৃষ্টি-কালচার ও ফিতরাতের সম্পূর্ণ বিপরীত। তবে আল-হামদুলিল্লাহ এ দেশের ঈমানদার জনগণ বরাবরই তা প্রতিহত করে আসছে। ইনশাআল্লাহ্ এবারও তা প্রতিহত করবে। তবে সরকারের উদ্দেশ্যে প্রথমেই বলে নিতে চাই, যে কেউ স্বাধীনভাবে যে কোন আদর্শ পোষণ করতে পারেন, কিন্তু তিনি যখন দেশের দায়িত্বে থাকেন, তখন তাকে অবশ্যই দেশের অধিকাংশ মানুষের অভিমত ও আদর্শকে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি অবশ্যই চিন্তা করবেন যে তার দেশের মানুষ কোন ধরনের আদর্শ-চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতি পোষণ করেন। তারা কি হেরার পন্থি, না কি অন্য কোন পন্থি? আর তা পরিমাপ করার সর্বাগ্রে নিজেদের রঙিন চশমা খুলে নিতে হবে। তবে বলে রাখা ভালো আমরা কিন্তু মুসলমান, আমরা কাবার পথের যাত্রী। এদেশটি শাহজালালের, শাহ মাখদুম আর হাজী শরীয়তুল্লাহর। এ পূণ্যভূমিতে শায়িত আছেন ৩৬০ জন আল্লাহর পথের সেনানী। আমরা তাঁদেরই বংশধর। এ জনপদের লোকেরা আল্লাহ, আল-কুরআন, রাসুল ও হাদীসকে ভালবাসে। এরা আল্লাহর নামে ঘুম যায়, আযানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙে। গুটিকয় আদর্শ বিচ্যুত পরজীবি প্রচলিত অর্থে যারা বিদেশীদের দালাল, যারা তাদের নুনের ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যস্ত, তাদের কথায় এদেশের অধিকাংশ মানুষের চিন্তা-চেতনাকে বলির পাঠা বানাবেন তা হতে পারে না।

ধন-সম্পদের ব্যাপারে প্রাথমিক বা মৌলিক কথা হলো এর প্রকৃত মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। দ্বিতীয়তঃ মানুষ কেবলমাত্র বৈধ ভোগ-ব্যবহারের অনুমতিসহ এর আমানতদার বা ট্রাষ্টি মাত্র। যেহেতু সম্পদের মুল মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, তাই তিনিই একমাত্র এর বন্টনের অধিকার রাখেন। তিনি আল-কুরআনের মাধ্যমে এর সুষম ও ইনসাফভিত্তিক বন্টনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সুতরাং কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের ইচ্ছামত পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে সম্পদ বন্টন করার অধিকার রাখেন না। কারণ মানুষের মস্তিস্ক তৈরী বন্টন ব্যবস্থায় কখনো ন্যায়-ইনসাফ ও সুষম বন্টন নিশ্চিত হতে পারেনা। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে বেশী ন্যায়বান। তাই নবী করিম সঃ বলেছেন: “ধন-সম্পদকে উহার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বন্টন কর।”(মুসলিম) মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা নিসার ৭,১১-১৪, ৩৩ ও ১৭৬ নং আয়াত সমুহে মৃত ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উত্তরাধিকার ও তাদের অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

ইসলামে মীরাসী আইনের গুরুত্ব অপরিসীম। এ আইনের মাধ্যমে ধন-সম্পদের আবর্তন বংশানুক্রমিকভাবে অনন্তকাল চলতে থাকবে। ব্যক্তির নিজের জীবনে যে সব লোকের সাথে বৈষয়িক কিংবা আত্মিক অথবা রক্তের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে, তার মালিকানায় ধন-সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর ঐ সব লোকের মধ্যে সুনির্দিষ্ট নিয়মানুসারে বন্টিত হবে। পাশ্চাত্যের এক আইনজ্ঞ লিখেছেন: “আধুনিক সভ্য পৃথিবী ধন-বন্টনের যত নিয়ম ও পন্থা আবিস্কার করতে পেরেছে, ইসলামের উত্তরাধিকার আইন তন্মধ্যে সর্বাপো অধিক বৈজ্ঞানিক ও নির্ভূল। এ আইনের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ও নিখুঁত সামঞ্জস্য অপরিসীম।”

কোন মুসলমান মৃত্যুবরণ করার পর তার পরিত্যক্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তার ছেলে ও মেয়ে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টনের জন্য কুরআনের নির্দেশনা হলোঃ আল্লাহ বলেন,“তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, পুত্র দুই কন্যার অংশের সমান পাবে, আর যদি কন্যা দুইয়ের অধিক হয় তবে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ পাবে। একমাত্র কন্যা হলে অর্ধেক পাবে। মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে পিতা-মাতা (প্রত্যেকে) ছয় ভাগের এক ভাগ পাবে। আর যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকে এবং পিতামাতাই উত্তরাধিকারী হয়, তা হলে মাতার প্রাপ্য এক তৃতীয়াংশ। আর যদি মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাইবোন থাকে, তাহলে মাতা এক ষষ্ঠাংশ পাবে।” (সুরা নিসাঃ১১)
উল্লেখিত আয়াতের আলোকে সরকারকে বলতে চাই আল্লাহর আইনে হাত না দিয়ে বরং নিম্নলিখিত অনিয়মগুলোর ব্যাপারে আইন করুন, তাতে নারী জাতি আর্থিকভাবে লাভবানসহ নারী নির্যাতনের হার বহুলাংশে কমে যাবে।

পরামর্শসমুহ:
০১.
প্রায়শই দেখা যায় যে, ব্যক্তি জীবিত থাকতেই কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যেমনঃ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে, হজ্জে গমন কালে, বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছলে অথবা অধিক মুন্সীয়ানা প্রকাশ করার নিমিত্তে সম্পত্তি ছেলে মেয়েদের মধ্যে বন্টন করে দেন। এটি ঠিক নয়। কারণ উত্তরাধিকার কারো জীবিতাবস্থায় হয় না। উত্তরাধিকার বলতে বুঝায় একজনের অনুপস্থিতে অন্যের অধিকার লাভ। কোন কোন সময় দেখা যায় যে, অতি ভালবাসার বশবর্তী হয়ে আদরের সন্তানকে ধন-সম্পদ লিখে দিয়ে নিজেকে অন্যের অনুগ্রহের পাত্র হতে হয়। আবার এমন অপাত্রে ধন-সম্পদ তুলে দেয়া হয় যে, সে পাত্রটি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অসামাজিক কাজে ব্যয় করে ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। সুতরাং জীবিত অবস্থায় সম্পদ বন্টন করা ঠিক নয়। অনেকে আবার মনে করেন যে, কন্যারা স্বামীর বাড়িতে ধন-সম্পদ নিয়ে যাবে, এ ভয়ে জীবিতাবস্থায় সমস্ত সম্পদ ছেলেদের নামে দলিলপত্র করে দেয় অথবা কোনক্রমে সামান্য কিছু দিয়ে বিদায় করে দেয়া হয়। এটিও একটি মারাত্মক অন্যায় ও ইসলামী আইনের সুস্পষ্ট লংঘন। সরকার এ ব্যাপারে ইসলামী আইন সংরক্ষণ পূর্বক এ ধরণের অবৈধ বন্টন বাতিল হয়ে যাওয়ার আইন করতে পারেন।

০২.
অনেক সময় লক্ষ্য করা যায়, পিতামাতার মৃত্যুর পর ছেলে উত্তরাধিকারীরা বিভিন্ন কলা-কৌশল অবলম্বন করে মৃত ব্যক্তির মেয়ে উত্তরাধিকারীদেরকে বঞ্চিত করে থাকে। কোন কোন এলাকায় মেয়েরা ওয়ারিশ গ্রহণ করবে, এটিকে ঘৃণার বিষয় মনে করা হয়। সমাজের সুবিধাবাদী লোকেরাই মূলতঃ নিজেদের বদ-মতলব চরিতার্থ করার জন্য এ ধরনের একটি কু-প্রথা গড়ে তুলেছে। তারা এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করে যার দরুণ মেয়েটি তার অংশ নিতে আর এগিয়ে আসে না। এ সমস্ত লোক দুষ্ট, লোভী ও স্বার্থপর। বোনদের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাতের দরুণ অবশ্যই এদেরকে আল্লাহর বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে বোন মনে করে যে, অংশ চাইতে গেলে ভাই রাগ করবে অথবা ভাইয়ের সাথে মন কষাকষি হবে। ফলে সে তার অংশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় অথবা চক্ষু লজ্জায় মাফ করে দেয়।। এ দিকে ধূর্ত ভাইটি নিরব ভুমিকা পালন করতে থাকে। এক সময় দেখে যে বোনটি আর তার অংশ দাবী করছে না, প্রসংগক্রমে হয়ত জানতে পেরেছে যে বোন মাফ করে দিয়েছে। মনে রাখা প্রয়োজন এ ধরনের মাফ ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ক্ষেত্রে ভাইয়ের কর্তব্য হবে যেহেতু আদরের বোনটি নিজের অংশ চাইতে লজ্জা পাচ্ছে, তাই স্বেচ্ছায় বোনের অংশ ভাগ করে তাকে বুঝিয়ে দেয়া। সরকার এ ক্ষেত্রে মেয়ে উত্তরাধিকারীর সম্পদ উদ্ধারে আইন প্রণয়ন করতে পারে।

০৩.
মাঝে মধ্যে এমনটি হতে দেখা যায় যে, নিঃসন্তান ব্যক্তি জীবিতাবস্থায় সমস্ত সম্পতি স্ত্রীকে লিখে দেয়, এটি অবৈধ। পান্তরে মৃত ব্যক্তিটির সন্তান না থাকায়, তার ভাইয়েরা তার অসহায় স্ত্রীকে তার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করে অথবা নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করে তাকে স্বামীর ভিটেমাটি ছাড়া করে। এটি মানবতার সাথে মারাত্মক অসদাচরণ। এ ব্যাপারেও সরকার নারীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য উদ্যেগ গ্রহণ করতে পারে।

০৪.
কারো শুধুমাত্র একটি অথবা দুটি মেয়ে আছে, সে মনে করে যে, এরা অর্ধেক অথবা দুই তৃতীয়াংশ পাবে, বাকি সম্পত্তি অন্যেরা নিয়ে যাবে এটি কি করে হয়। তাই জীবিতাবস্থায় সমস্ত সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দেয়া হয়। এটি আল্লাহর আইনের সুস্পষ্ট লংঘন। আবার যারা আল্লাহর আইনটি সম্পর্কে অল্পবিস্তর জানেন, তারা জায়েজ করার নিমিত্তে তসবিহ, এক যিল কোরআন শরীফ ও একখান জায়নামাজ এর পরিবর্তে সমস্ত সম্পত্তি লিখে দেন। এটিও আল্লাহর আইনের লংঘন।

০৫.
এয়াতিমের মাল আগুন। অপরিণামদর্শী কিছু কিছু লোককে এ আগুন নিয়েও খেলা করতে দেখা যায়। এয়াতিম এবং নাবালেগ উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজনেরা বিভিন্ন কলা-কৌশল অবলম্বন করে আত্মসাৎ করে। এদেরকে বলবো আপনি যদি আপনার চক্ষুশীতলকারী আদরের শিশু সন্তানটি নিয়ে একটু এভাবে চিন্তা করেন যে, আপনার অনুপস্থিতে সে কি কি অভাবের সম্মুখীন হবে। তাহলে একজন এতিমের মর্মস্পর্শী হৃদয়ের অব্যক্ত কান্না আপনার বিবেককে অবশ্যই ব্যতিত করবে, আপনার উপলব্ধির করুণ মর্মবেদনা আপনার চোখকে অশ্রুসিক্ত করবে। এতিমের মালের ব্যাপারে আল্লাহর বাণী শুনে নিনঃ “নিশ্চয় যারা এয়াতিমদের মাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে, তারা নিজেদের পেট শুধুমাত্র অগ্নি দ্বারা ভর্তি করছে এবং শীঘ্রই জ্বলন্ত অগ্নীকুন্ডে প্রবেশ করবে।”(নিসাঃ ১০) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ “এয়াতিমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। উত্তম মালামালের সহিত খারাপ মালামালের বিনিময় করো না এবং তাদের সম্পদকে নিজেদের সম্পদের সাথে সংমিশ্রণ করে, তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটা বড় ধরনের পাপ।” (নিসাঃ ২) সরকার এয়াতিমের অধিকার সংরক্ষণের জন্য আইন প্রনয়ন করতে পারে।

আমাদের সমাজ সংসারে প্রচলিত উল্লেখিত নিষিদ্ধ কাজগুলো বন্ধ করার জন্য সরকারকে বিশেষভাবে অনুরোধ করব। আবারো মনে করিয়ে দিতে চাই তা না করে আল্লাহর আইন ও আল কুরআনে হাত দেয়া মানে হাতকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করার শামিল। আল-কুরআনে মিরাসী আইন বর্ণনা করার পর বলা হয়ঃ “এ গুলো হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তারঁ রাসুলের আনুগত্য করবে, তাকে আল্লাহ এমন বাগিচায় প্রবেশ করাবেন, যার নিম্নদেশে ঝরণাধারা প্রবাহিত হবে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নাফরমানি করবে এবং তার নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে যাবে, আল্লাহ আগুনে ফেলে দেবেন। সেখানে সে থাকবে চিরকাল, আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা ও অপমানজনক শাস্তি। (সুরা নিসাঃ ১৩-১৪) অতএব, মিরাসে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করুন।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/JaforAhmad
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ঢাকা থেকে জয় লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; দুপুর ০২:৪৯
ইতিবাচক হলে অনেক সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। আমি অনেক সময় নিজেকে দিয়েই দেখেছি। অনেক ধন্যবাদ
84365
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy