ছোট বেলা থেকে বেশ দুষ্টু স্বভাবের ছিলো আসাদ। বাবা মারা যায় জন্মের আগে। পিতৃহীন আসাদ মায়ের কথা এক দমেই শুনত না। তা মা যদি বলত কোন একটা কাজ কর। তাহলে আসাদ দেখাত অজুহাত। দারিদ্রতার অভাবে ছোট বেলা থেকে পড়া লেখা করা হয়নি আসাদের। তাই আসাদের মা আসাদকে তার মামার বাসায় কাজ করতে পাঠায়। মামার বাসায় কাজ করা শুরু করে আসাদ। আসাদের মামার এক মেয়ে আছে। নাম হচ্ছে শান্তা। শান্তা খুব মেধাবী ছাত্রী। ও যখন পড়তে বসে তখন আসাদকেও সঙ্গে নিয়ে পড়ায়। কিন্তু আসাদের মুখ থেকে পড়া বের হয় না। আর শান্তাও ছেড়ে দিবার পাত্রী না। আসাদকে অনেক কষ্টে দু একটা অর শিখিয়েছে শান্তা। একদিন পড়া শেষে আসাদকে শান্তা বলল, আসাদ তুমি বড় হয়ে কি হবে? আসাদ তার উওরে বলল ,আপা আমি বড় হয়ে ডাক্তার হব।
কিন্তু আসাদকে এ পড়ানো শান্তার মা ভালো চোখে দেখতো না। একদিন শান্তা আসাদকে পড়ানো শুরু করল। কিছুক্ষণ পরে শান্তার মা এসে ধমকের সুরে আসাদকে বলল তোর কাজ নেই? সাথে সাথে আরো বলল তোর পড়া শুনার দরকার নেই। যা যা কাজে যা। এতে শান্তা তার মায়ের প্রতি খুব রাগ করলো। সেদিন রাতে শান্তার বাবা আসাদের জন্য কিছু পড়ার জন্য বই কিনে এনেছে। এই বই দেখে শান্তা খুব খুশি হল এবং তার বাবাকে বলল এই বই দিয়ে আসাদকে ভালো ভাবে পড়া যাবে।
অপরদিকে এই কান্ড দেখে শান্তার মা শান্তার বাবার সাথে ঝগড়া লাগিয়ে দিল। কারণ: আসাদকে বই কিনে দেওয়া, আসাদকে কেনো পড়ানো লাগবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। শান্তার বাবা বুঝেছিলো, শান্তার মা একদিন দুইদিন চিল্লা পাল্লা করে আর করবে না। কিন্তু হলো তার উল্টো। শান্তার মা প্রতিদিন আসাদকে নিয়ে ঝগড়া বাধিয়ে সংসারে অশান্তি লাগিয়ে লাগল।
শান্তার বাবা এই ঝগড়া বিবাদ এড়ানোর জন্য, আসাদকে তার গ্রামে পাঠিয়ে দেয় এবং আসাদকে গ্রামের নূরপুর হাই স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিল। সেখানে আসাদ খুব ভালো ভাবে পড়াশোনা করতে লাগল। আসাদ যে স্কুলে ভর্তি হয়েছে সে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলো শান্তার বাবা। আসাদকে পড়াশোনার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করল শান্তার বাবা।
নূরপুর হাই স্কুলের এবার বার্ষিক রেজাল্ট দিবেন শান্তার বাবা। তাই রেজাল্ট দিবার জন্য শান্তার বাবার সাথে শান্তা এবং শান্তার মা চলে গেল নূরপুর।
সেবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে ৮ম শ্রেণীর মধ্যে প্রথম এবং সারা স্কুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আসাদ। এই খবর শোনার পরে শান্তার মা আসাদকে জড়িয়ে ধরে আদর করে বলল, তুই আমাদের বাসায় থাকবি এবং ঢাকার স্কুলে পড়াশোনা করবি। এরপর আসাদ তার শান্তা আপুর কাছে গিয়ে বলল, আপা আমি প্রথম হয়েছি। আমি বড় হয়ে আমার স্বপ্ন পূরণ করবো। তখন শান্তা বলল অবশ্যই এবং তা পূরণ করতে হবে। দুদিন পরে শান্তাদের সাথে আসাদ ঢাকায় আসলো। ঢাকায় এক স্কুলে আসাদকে ভর্তি করিয়ে দিলো শান্তার মা নিজে।
একদিন স্কুলে যাবার পথে রাস্তা পারা পার করার সময় বিপরীত দিক থেকে একটি বাস এসে আসাদকে ধাক্কা দিয়ে তার উপরে দিয়ে চলে যায়। পুরো রাস্তা রক্তে লাল হয়ে যায়। সাথে সাথে আসাদ ঘটনাস্থলে মারা যায়। আসাদের ডাক্তার হবার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।