-কীরে তুই খুশী হসনি?
মামা খুশীতে ঝনঝন করতে করতে জিজ্ঞেস করে নীলাকে। এইমাত্র নীলার বিয়ে ঠিক হলো। ঠিক এইমাত্র। ওরুমে বাবা যখন জোরগলায় বললো �আলহামদুলিল্লাহ�; নীলা এইরুম থেকে স্পষ্ট শুনেছে। কোনো অনুভূতি হয়নি ওর। যেমন জানালা দিয়ে বাইরের বেলুম্বু গাছটার দিকে তাকিয়ে ছিল, তেমোনি তাকিয়ে রইল। মামা দৌঁড়ে এসেছে, �নীলা, সব ঠিক হয়ে গেলো!� কথাটার অর্থ নীলার কাছে অনেকটা দাঁড়ালো �নীলা তুই আমাদের ঘাড় থেকে অবশেষে বিদায় হলি!�
নীলার নির্লিপ্ত মুখ মামার নজরে পড়েনা। একই খুশীতে ঝনঝন করতে করতে আবার বলেন, �কীরে তুই খুশী হসনি?�
নীলা কি খুশী?
এই যে এতদিন কালো মেয়ে বলে একটার পর একটা বিয়ে ভাংগা, আত্মীয়-স্বজন বাসায় এলেই গল্পের মোড় কীভাবে কীভাবে যেন কালো মেয়েদের সমস্যার দিকে ঘুরে যাওয়া, বড়টা কালো বলে ছোটটার বিয়ে আটকে থাকার নানান কথা শোনা, বাবার চোখের নীচের গাঢ় কালি, আর মা�র ক্ষণে ক্ষণে আঁচল দিয়ে চোখ মুছে বুক চিড়ে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলা; এইসবকিছুর অবসানে নীলার তো খুশী হওয়া উচিত। নীলা তাই মামার দিকে তাকিয়ে চেহারায় ভাষা আনতে চেষ্টা করে। মুচকি হাসে।
হঠাৎ করেই মামার কী যেন হয়। মুখের হাসি মুহূর্তে সরে গিয়ে চোখ ছলছল করে উঠে। আস্তে করে কাছে এসে দাঁড়িয়ে নীলার মাথায় হাত রেখে বলেন �তুই কিছু না বললেও বুঝি মা। কিন্তু দেখিস তুই সুখী হবি�।
মামা আর দাঁড়ান না। হন হন করে বেরিয়ে যান রান্নাঘরের দিকে। সবরুম থেকে সবার হৈচৈ�র আওয়াজ আসছে। মিলা�র পড়ার টেবিল থেকে উঠে নীলা জানালা�র পাশে এসে দাঁড়ায়। এই বেলুম্বু গাছটা তার অনেকদিনের বন্ধু। যখন কাউকে কিছু বলার থাকতোনা, তখনো হাজার কথা থাকতো এই বেলুম্বু গাছকে বলার, মনে মনে। নীলার কেনো যেনো মনে হয়, এই বেলুম্বু গাছটাও মনে মনে তার সাথে কথা বলে। নীলা খেয়াল করেছে যখন ওর মন খারাপ থাকে তখন গাছটার পাতা নড়েনা। কেমন যেন থিতিয়ে থাকে। আর যখন কোনো কারনে নীলার খুশী লাগে, তখন গাছটার সব পাতাগুলো যেন রিনঝিন করে উঠে, দুলতে থাকে। নীলা জানে এ কথা কাউকে বললে নিঃসন্দেহে পাগল ডাকবে। আচ্ছা, এইযে সুমন নামের ছেলেটার সাথে বিয়ে ঠিক হলো, তাকে বললেও কী সে পাগল ভাববে?
মা সেদিন বললো, নীলা�র সব ধৈর্য্যের ফল আল্লাহ দিয়েছেন, সুমনকে দেখেই তিনি বুঝেছেন অসম্ভব ভালো ছেলে। প্রথম যেদিন দেখতে এলো, নীলা চোখের কোণ দিয়ে দেখতে গিয়ে ধরা খেয়ে গিয়েছিলো। সুমন নামের ছেলেটাও ঠিক তখনি তাকে দেখার জন্যে মাথা ঘুরিয়েছিল। বুকের ভিতর কেমন যেন ছ্যাৎ করে উঠেছিল নীলার। ওর তো গায়ের রং কালো, এই ছেলে তাকে কী দেখে বিয়ে করছে? ভাবতে ভাবতে আবার তাকাতেই আবারো চোখাচোখি। নীলা আর ভুলেও তাকায়নি। শুধু মা না, সবাই বলে সুমন এককথায় অসাধারন। কুটনী মেঝখালা তো কথাও শুনিয়ে দিয়েছে �যা বাবা, আমাদের কালো নীলার জন্যে যে এত ভাল ছেলে জুটে যাবে সেতো কল্পনাও করিনি! একেই বলে কপাল!� মিলাতো এখন থেকেই দুলাভাই দুলাভাই করে অস্থির। বাবা তার পরিচিতদেরকে গর্ব করে হবু-জামাইয়ের কথা বলেন। একেতো মেয়ে কালো, তারউপর জামাই শক্তভাবে বলে দিয়েছে কোনো যৌতুক নিবেনা, এই যুগে এমন জামাই হয় নাকি?!
নীলার হঠাৎ খুব কান্না পায়। কৈশোরে যখন থেকেই কালো হওয়ার যন্ত্রনা শুরু হয়েছে, যখন থেকে নীলা আস্তে আস্তে নিজের ভিতর ঢুকে গিয়েছে, যখন থেকে মানুষের কথা শুনেও না শোনার ভান করা শিখতে শুরু করেছে, তখন থেকে না কাঁদার অভ্যাসটাও ভালভাবে রপ্ত করে নিয়েছিল। কিন্তু এখন সে অভ্যাস কাজে এলোনা, কান্নাটা টপ টপ করে চোখ দিয়ে বের হয়ে আসে। চোখের পানিতে বেলুম্বু গাছটা ঝাপসা হয়ে যায়। ঝাপসা চোখেই নীলা ঠিক করে বিয়ের রাতে ও সুমন নামের ছেলেটাকে প্রথম কথাতেই বলবে �আপনাকে আমার একটা কথা বলা উচিত�। সে নিশ্চয়ই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবে �কী?� নীলা তখন বলবে �আমার একটা বন্ধু আছে�। সে আরো অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবে �কে?� নীলা তখন বলবে �মিলার পড়ার টেবিলের পাশের বেলুম্বু গাছটা�।
নীলার কেন যেন মনে হয়, কথাটা শুনে এই সুমন নামের ছেলেটা একটুও হাসবেনা। নীলার আরো মনে হয়, কথাটা শুনে একটু চুপ থেকে কিছুক্ষন পর উলটা বেশ আগ্রহ নিয়ে বলবে �বেশতো, আমিও এখন থেকে তোমার আরেকজন বন্ধু�। নীলা কি তাকে বন্ধু মেনে নিবে? হয়তো নিবে। নীলা চোখের পানি মুছে। আরে, একী? বেলুম্বু গাছের পাতাগুলো এতক্ষন সব নুইয়ে ছিল, কিন্তু এখন যে কেমন ঝিরর ঝিররর করে দুলছে! তাই দেখে চোখে পানি নিয়েই নীলার হাসি পায়।
মিলা কী যেন বলতে দৌঁড়ে এসেছিল। বড়বোনকে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চোখে পানি নিয়ে মুচকি হাসতে দেখে থমকে দাঁড়ায়। কী বুঝে কে জানে, নীলা কিছু বলার আগেই যেভাবে দৌঁড়ে এসেছিল, সেভাবেই হন্তদন্ত হয়ে আবার বের হয়ে যায় মিলা। আপুর বিয়ে, ও এখন খুব ব্যাস্ত।
এইটা একটা গল্প হলো? কোন চরিত্র ফুটে ওঠে নি, কোন ঘটনা নেই।
15257
৪
বাবুগঞ্জ, বরিশাল। থেকে তাওহিদুর রহমান রেহান লিখেছেন,
২৭ এপ্রিল ২০১০; সকাল ১১:০৭
সুজাতা , ভাল লাগার কোন কারন খুজেঁ পাননি কেন? এই গল্পে কোন ড্রামা বা ট্র্যাজিক কাহিনী না থাকলেও এতে বাহ্যিক দৃষ্টিতে কালো একটি মেয়েকে তার জীবনে যে কষ্টগুলো সহ্য করতে হয় তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে । সমাজে কালো বর্নের মেয়েরা যে সব অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়, এবং তার পরিবারকে কতটা দুশ্চিন্তা করতে হয় আপনি কালো মেয়ে হলে তা বুঝতেন !! এই গল্পে নীলা সব কষ্ট সয়ে সয়ে প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব করে মনের কষ্ট ভাগ করে নিতে চেয়েছে .....
i thing its not good story,i have also good story,if u listen everybody will be laugh....
15952
৮
UAE থেকে ৃJABED BBS লিখেছেন,
০১ মে ২০১০; দুপুর ০২:২৫
not good....
15954
৯
michigan usa থেকে muhsina লিখেছেন,
০৭ মে ২০১০; দুপুর ১২:১২
golpota valo chilo . kintu shesher dike giye oshomaptho chilo jemon jodi thaktho biyer pore or shamita oke kalo dheke ki bole chilo. o kothota khushi hoyeche shamike peye. aro likho aro valo hobe. shomalochona manushke upore utthe shahajjo kore mon kharap kore likha chere diona kemon ----shubakankhi muhsina---michigan
16675
১০
দোহা - কাতার থেকে মোহাম্মদ বিন হোসাইন লিখেছেন,
০৭ মে ২০১০; দুপুর ১২:৫৪
ছোট কাল থেকে আমার এক প্রিয় লেখিকা ছিলেন, নাম তার ফারজানা মাহবুবা, কাকতালীয় ভাবে আর্ন্তজাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যাল চট্টগ্রামে একসাথে লেখাপড়া করার সুযোগ ও হয়েছিল, লেখার ষ্টাইল দেখে মনে হয় লেখাটি তারই, কিন্তু অন্য যাযাবর নামে কেন? যা হউক ফারজানা মাহবুবা নামে লিখুন আর যাযাবর নামে লিখুন - আপনার লেখাই চাই, সুন্দর লেখা, চমৎকার!!!!!!!!!
ধন্যবাদ অনেক।
16677
১১
চট্টগ্রাম থেকে মুসা কলিমুল্লাহ লিখেছেন,
০৭ মে ২০১০; দুপুর ০১:১৬
খুব চমৎকার লেখা, লেখককে অনেক ধন্যবাদ, এ রকম বাস্তসম্মত লেখা আরো বেশী বেশী উপহার দেবেন এই প্রত্যাশা করছি।
ধন্যবাদ....
16679
১২
India থেকে Pradeep লিখেছেন,
২২ জুন ২০১০; দুপুর ১২:৫৪
ভালো হয়েছে -আরো লেখো
23726
১৩
Dhaka থেকে Pintu লিখেছেন,
২০ মার্চ ২০১১; দুপুর ০২:৩১
aro lekha dorkar chilo. bear por ki nila k tar kalor jonno kono beg pete hoychilo?
51447
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: