সেমিটিক-বিরোধিতার বিরুদ্ধে সফল প্রচার এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যাপক হত্যাকান্ডের ভীতি সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা। ফলে দীর্ঘদিনের বিভেদমূলক বাধা অপসারিত হয়, আর মার্কিন ইহুদিরা ‘তাদের ভীতির অনুভূতি থেকে মুক্ত হয়’ যা প্রথমদিকে ‘তাদের রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রসারকে ব্যাহত করেছিল।’ ইসরাইল ক্রমাগতভাবে ইহুদি পরিচিতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছিল, যেখানে মিলে যাওয়া ক্রমেই সহজ ও ব্যাপক হয়ে যায়। তবু রাজনীতির সঙ্গে ওই সংশ্লিষ্টতার এমন কিছু কারণ ছিল যা প্রকাশ করা যায় না। আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধের জন্য শত্রুর শক্তি ক্ষয় (১৯৬৯-১৯৭০) এবং যুদ্ধের সময় (১৯৭৩) ইহুদি সংগঠনগুলোর মধ্যে ইসরাইলের কল্যাণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ অব্যাহত থাকে। এসব সংঘর্ষে ইসরাইলের সামরিক সাহসিকতার গর্ব পুনরায় বলীয়ান হয়। তবে তারা ইসরাইলের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়। এজন্য তারা অনেক ইহুদি সম্প্রদায়-সম্পর্ক গ্রুপের ইসরাইলকেন্দ্রিক দৃষ্টিকে আরো শক্তিশালী করে।
জাতীয় ইহুদি কমিউনিটি রিলেশনস অ্যাডভাইজার কাউন্সিলের (পরে ইহুদি কাউন্সিল ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স নামকরণ করা হয়) নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট চেরনিন ১৯৭৮ সালে এ আশা প্রকাশ করেন যখন তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ইসরাইল, তবে এর সঙ্গে সবশ্রেণীর লোকের উদ্বেগসহ মার্কিন ইহুদি নেতৃত্বের মতামতের পূর্ণ ঐক্যের প্রতিফলন থাকতে হবে।’ ঐতিহাসিক জ্যাক ওয়েরদিমার এ মন্তব্যকে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি সম্প্রদায়-সম্পর্ক সংগঠনগুলোর সব উদ্বেগ উপেক্ষা করে ইসরাইলকে সহায়তা করার রাজনৈতিক প্রয়াসের হতবুদ্ধিকর স্বীকৃতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ব্যক্তিগত অর্থ প্রদানের তুলনায় ইসরাইলে মার্কিন বিদেশী সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসরাইল সমর্থক সংগঠনগুলো ক্রমাগতভাবে রাজনৈতিক কার্যাবলীর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যার লক্ষ্য ছিল মার্কিন সরকারের সমর্থন রক্ষা করা অথবা বৃদ্ধি করা। ওয়েরদিমারের মতে, ‘ইসরাইলের জন্য লবিংয়ের সার্বিক দায়িত্ব কনফারেন্স অব প্রেসিডেন্টস… এবং আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওপর ন্যস্ত বলে ধরে নেওয়া হয়। ওই দুটি সংগঠন সত্তর এবং আশির দশকে প্রসিদ্ধি লাভ করে।’ অতিরিক্ত প্রয়াসের ফলে সচেতনতা এমনভাবে প্রতিফলিত হয় যে, ইসরাইলকে সমর্থন করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে এবং তা রাজনৈতিকভাবে যৌক্তিক ও সমর্থনযোগ্য করে তুলতে হয়। আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে মরিস অমিতায় ১৯৭৫ সালে কেনেনের স্থলাভিষিক্ত হন। মরিস বলেন, ‘আপনি যদি ইসরাইলকে সহায়তা করতে চান তাহলে খেলার নাম হলো রাজনৈতিক কাজ।’ মরিস ও তার উত্তরসূরি টম ডাইনের সময় আমেরিকান-ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি ঘনিষ্ঠ ও কম বাজেটের কার্যকলাপ থেকে বড় ও গণভিত্তিক সংগঠনে রূপান্তরিত হয়। এর কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫০ এবং বার্ষিক বাজেট (পুরোপুরি ব্যক্তিগত দান থেকে আসা) ১৯৭৩ সালে ৩ লাখ মার্কিন ডলার থেকে বর্তমানে (২০০৭) প্রাক্কলিত ৪০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। কেনেনের সময় সংগঠনটা প্রচার-খ্যাতি এড়িয়ে চলতো। কিন্তু এ সময় তা ক্রমাগতভাবে এর ক্ষমতা প্রচার করতে চায়। সাবেক একজন কর্মকর্তার মতে, ‘তাত্ত্বিক দিক হলো, কেউ যদি আপনার সম্পর্কে না জানে, তাহলে সে আপনাকে ভয় পাবে না।’ আগে ইহুদীদের পক্ষে ইহুদি উপদেষ্টা ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরা ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে লবিং করতো। আমেরিকান-ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি এবং লবির অন্যান্য গ্রুপ ইসরাইলের ইহুদিদের জন্য মানবিক সাহায্য হিসেবে তাদের কর্মসূচিকে ব্যাখ্যা করেনি। বরং লবির বিবর্তনে তা ক্রমাগতভাবে আমেরিকা ও ইসরাইলের কৌশলগত স্বার্থ এবং নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব যুক্তি গ্রহণ ও তার বিকাশে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ে। নগদ অর্থ এবং ঠান্ডা যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে ভালো অবস্থানে থেকে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি প্রচারাভিযানের জন্য ব্যয়িত অর্থ সম্পর্কে নতুন ফেডারেল বিধির ফলে তার রাজনৈতিক পেশীশক্তি আরো বর্ধিত আকারে দেখতে পায়। এর ফলে স্বাধীন পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির সৃষ্টি ত্বরান্বিত হয় এবং এর পক্ষে ইসরাইল সমর্থক প্রার্থীর কাছে অর্থ প্রেরণ করা সহজতর হয়। ষাটের দশকের প্রথম দিকে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি সবদিক থেকে খুব শক্তিশালী ছিল না।
কিন্তু আশির দশকে, ওয়ারেন বাসের মতে, তা ছিল ‘ওয়াশিংটন পাওয়ার হাউস’। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য এবং মতবিরোধের বিরুদ্ধে স্বাভাবিকতা লবি কোনো কেন্দ্রভিত্তিক বা যাজকীয় আন্দোলন ছিল না, এ কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি লবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইহুদিদের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট নীতির বিষয়েও ব্যাপক মতবিরোধ দেখা গিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি এবং কনফারেন্স অব প্রেসিডেন্টস ইসরাইলের লিকুড ও অন্য গোঁড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে এবং তারা অসলো শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে। অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রুপ, যেমন অ্যামেইনু, আমেরিকানস ফর পিস নাউ, জুইশ অ্যালায়েন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস, ইসরাইল পলিসি ফোরাম, জুইশ ভয়েস ফর পিস, মেরেতজ-ইউএসএ এবং টিকুকন কমিউনিটি সমস্যার জন্য দুই রাষ্ট্র সমাধানের জোর সমর্থক। এসব গ্রুপ বিশ্বাস করে, এটা করার জন্য ইসরাইলকে গুরুত্বপূর্ণভাবে ছাড় দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের মতপার্থক্যের জন্য বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যেও মাঝে মাঝে বিভেদ দেখা দেয়। দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায়, ২০০৬ সালে ইসরাইল পলিসি ফোরাম, আমেরিকানস ফর পিস নাউ, জুইশ ভয়েস ফর পিস এবং জুইশ অ্যালায়েন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস প্রকাশ্যে কংগ্রেসের একটা প্রস্তাবের (এইচআর ৪৬৮১) বিরোধিতা করে যার স্পন্সর করে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি – ওই প্রস্তাবটা ছিল প্যালেস্টাইনকে সাহায্য দেয়ার ওপর ইসরাইল যা চেয়েছিল তার চেয়ে বেশি কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত। সংশোধিত আকারের ওই প্রস্তাবটা অবশ্য সুবিধাজনক ভোটের ব্যবধানে পাস হয়। কিন্তু ওই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসরাইল সমর্থক গ্রুপগুলো একক দলের ধারায় কেন্দ্রীভূত একক স্তম্ভ হিসেবে গঠিত নয়।
এতদসত্ত্বেও মার্কিন ইহুদি সম্প্রদায়ের সংগঠিত সংখ্যাগরিষ্ঠ বিশেষ করে তাদের মধ্যকার সবচেয়ে বড় ও সমৃদ্ধ গ্রুপগুলো ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের অনুসৃত নীতিকে উপেক্ষা করে ওই রাষ্ট্রের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূল সমর্থনের ব্যাপারে অটল থাকে। আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির একজন মুখপাত্র ২০০০ সালের জুন মাসে ব্যাখ্যা করে বলেন যে, চীনের কাছে ইসরাইলের অস্ত্র বিক্রি সম্পর্কে সৃষ্ট উদ্বেগের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হ্রাসের আহবান জানানো হয়। ওই সময় ‘আমরা কোনো অবস্থাতেই ইসরাইলের সহায়তার সঙ্গে অন্য কোনো কিছু সংশ্লিষ্ট করার বিরোধিতা করি। কারণ একবার এরকম শুরু হলে তা কখনো থামবে না।’ এমনকি আমেরিকানস ফর পিস নাউ গ্রুপও ‘ইসরাইলকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা’কে সমর্থন করে এবং মার্কিন সহায়তা ‘হ্রাস বা শর্তযুক্ত’ করারও বিরোধিতা করে। তাদের শুধু একটাই দাবি ছিল, আর তা হলো, মার্কিন সহায়তার অর্থ দিয়ে অধিকৃত অঞ্চলে পুনর্বাসন কাজের জন্য যেন তা ব্যবহার করা না হয়। একইভাবে মধ্যপন্থী ইসরাইল পলিসি ফোরাম ইসরাইলের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাকে অধিক শর্তযুক্ত করা সমর্থন করে না। বরং দুই রাষ্ট্র সমাধান নীতি বাস্তবায়নে অধিক সক্রিয় ও কার্যকরভাবে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে প্ররোচিত করার প্রচেষ্টাকে তারা বেশি গুরুত্ব দেয়। শান্তি প্রয়াস ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সংক্ষেপে বলা যায়, ইসরাইল সমর্থক প্রায় প্রত্যেকটা গ্রুপ ‘বিশেষ সম্পর্ক’ বজায় রাখতে চায়। একমাত্র ব্যতিক্রম হলো জুইশ ভয়েস ফর পিস গ্রুপ। পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুসালেমে দখল না থামানো পর্যন্ত ইসরাইলকে সামরিক সাহায্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য ওই গ্রুপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহবান জানায়। এ অবস্থায় বস্তুত কেউ যুক্তি দিতে পারেন যে, জুইশ ভয়েস ফর পিস আদৌ লবির অংশ নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে সর্বাধিক করার প্রয়াসে ইসরাইলি কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে মার্কিন ইহুদি নেতৃবৃন্দকে নিয়োজিত করে এবং নির্দিষ্ট কোনো ইসরাইলি নীতির পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে সহায়তা করার জন্য তাদের প্রতি আহবান জানায়। কনফারেন্স অব প্রেসিডেন্টসের সাবেক চেয়ারম্যান রাবিব আলেকজান্ডার সিন্ডলার ১৯৭৬ সালে ইসরাইলের একটা ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘কনফারেন্স অব প্রেসিডেন্টস এবং এর সদস্যরা ইসরাইলি নীতির সরকারি যন্ত্র হয়ে আছে। দেখা যায় যে, আমাদের কাজ হলো সরকারের কাছ থেকে নির্দেশ গ্রহণ করা এবং ইহুদি সম্প্রদায়কে কতোটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে তা উপেক্ষা করেই আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করি। (এ অবস্থা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে সিন্ডলার মনে করেন। সাক্ষাৎকারীকে তিনি বলেন যে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইহুদিদের অন্য কেউ ব্যবহার করুক এটা তারা দেখতে চায় না’)। একই ধরনের কথা বলেন ন্যাশনাল জুইশ কমিউনিটি রিলেশনস অ্যাডভাইজরি কমিটির আলবার্ট চেরলিন। তিনি ১৯৭০ সালে বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে আমরা নীতি তৈরি করি, কিন্তু ইসরাইলের বিষয়ে আমাদেরকে নীতি দেয়া হয়… বাস্তবে, কনফারেন্স অব প্রেসিডেন্টস হলো সেই মাধ্যম যার মাধ্যমে ইসরাইল তার নীতি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচার করে।’ ফরোয়ার্ড পত্রিকার ওরি নির একটা প্রধান ইহুদি সংগঠনের একজন কর্মীর (নাম উল্লেখ না করে) উদ্ধৃতি দেন। ২০০৫ সালে ওই কর্মী দাবি করেন যে, ‘নিয়মমাফিকভাবে আমরা বলি, নির্দিষ্ট বিষয়ে এটাই আমাদের নীতি। কিন্তু ইসরাইলিরা কি চিন্তা করছে তা আমাদের খোঁজ করতে হয়। সম্প্রদায় হিসেবে আমরা এ কাজ সব সময় করি।’ আমেরিকান জুইশ কমিটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হাইমান বুকবাইন্ডার একবার স্বীকার করেন, ‘মারাত্মক চাপ, সত্যিকার গুরুত্বপূর্ণ বা মৌলিক কিছু না হলে মার্কিন সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য ইসরাইল যা বলে তোতা পাখির মতো আপনিও তাই বলুন।
মার্কিন ইহুদি হিসেবে আমরা বলে বেড়াই না যে, ইসরাইল তার বিভিন্ন নীতিতে ভুল করছে।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমর্থন সঞ্চারিত করার দক্ষতা ইসরাইল বারবার দেখিয়েছে। জাইয়নিস্ট (এবং পরে ইসরাইল) কর্মকর্তারা ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ দেশভাগ পরিকল্পনা এবং ১৯৪৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য প্রচার করতে মার্কিন ইহুদি নেতৃবৃন্দকে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে তারা ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ মধ্যস্থতাকারী ফোল্ক বার্নাডোটের উদ্ভাবিত ব্যর্থ শান্তি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লবিং করতে বলে। এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রয়াসের ফলে ট্রূমান প্রশাসন ১৯৫২ সালে ইসরাইলের জন্য আর্থিক সহায়তা ব্যাপক বৃদ্ধি এবং মিসরকে এক কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়ার পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দফতরের প্রস্তাব বাতিল করে। ১৯৬৭ সালের ৬ দিন যুদ্ধের আগে সংকটের সময় ইসরাইল সরকার ওয়াশিংটনে নিযুক্ত তার দূতকে নির্দেশ পাঠায় ‘জনমত সৃষ্টি করতে, যা (জনসন) প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে… তবে এটা যেন স্পষ্ট না হয় যে, জনমত সৃষ্টির পেছনে আমরা আছি।’ ওই প্রচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহানুভূতিশীল মার্কিনিরা চিঠিপত্র, সম্পাদকীয় লেখে, টেলিগ্রাম পাঠায় ও জনসমক্ষে বিবৃতি দেয় বিভিন্নভাবে। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী এর উদ্দেশ্য ছিল ‘জনসমর্থনের পরিবেশ সৃষ্টি করা… যা প্রশাসনে আমাদের বন্ধুদেরকে শক্তিশালী করবে।’ হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা অবশেষে তাদের ইসরাইলি প্রতিপক্ষদের চিঠি লেখা প্রচারণা বন্ধ করতে অনুরোধ করে। কিন্তু ইসরাইলি দূত জেরুসালেমে রিপোর্ট করে যে, ‘নিশ্চিতভাবে আমরা এটা অব্যাহত রেখেছি।’ ঐতিহাসিক টম সেগেভের মতে, ‘ইসরাইলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে অনুরোধ সম্বলিত নাগরিকদের চিঠিপত্রে’ হোয়াইট হাউস ‘প্লাবিত’ হয়ে যায়। ইসরাইলকে সমর্থন করার এমন প্রবণতা আজকাল অনেক কমে এলেও লবির বড় বড় সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময় ইসরাইলি নেতাদের সমর্থন করাকে অগ্রাধিকার দেয়।