|
বাসদ নেতা কমরেড খালেকুজ্জামানের সাক্ষাৎকার
কাজী সায়েমুজ্জামান |
|
কাজী সায়েমুজ্জামানঃ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভূইয়া বলেছেন, বুলিসর্বস্ব বাম নেতারা শেখ মুজিবের বিরোধিতাকে সঠিক নৈতিকতার �"পর দাড় করাতে পারেননি বলেই আজ তাদের অংশীদার হতে হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর বাসদ কার্যালয়ে এ প্রতিবেদককে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ অকৃতদার প্রবীণ বামনেতা একথা বলেন। বর্তমান মহাজোটের অংশীদার দুটি বাম দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ �" সাম্যবাদী দল দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন করে তার উৎখাত চেয়েছিল। দলটির তৎকালীন নেতারাই বর্তমানে মহাজোটের আ�"তায় আ�"য়ামী লীগের নেতৃত্বে একজোট হয়েছেন। বিষয়টি এ বাম নেতা কিভাবে দেখেন তা জানতে চাইলে তিনি প্রয়োজনবাদের কথা উল্লেখ করেন। বলেন, সময়ের ভিন্নতায় দুই ধরনের অবস্থান প্রয়োজনবাদ থেকে উদ্ভত, বিপ্লবী চেতনা �" উদ্দেশ্য থেকে নয়। এটা বিপ্লবী রাজনীতির অনুশীলন�" নয়। খালেকুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাম আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। সাক্ষাতকারে সরকারের কর্মকান্ড, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, আইন শৃংখলার অবনতি, শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, তেল গ্যাস রক্ষার আন্দোলন, বাম রাজনীতি বিভাজনের কারণসহ সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তার সাক্ষাতকারটি নিচে উপস্থাপন করা হলো- কাজী সায়েমুজ্জামানঃ বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কেমন?

খালেকুজ্জামান ভূইয়াঃ যত দিন যাচ্ছে আগের চেয়ে খারাপ অবস্থার দিকেই যাচ্ছে। গত ৪০ বছরের শাসন ব্যবস্থায় একটির পর একটি অবনতির দিকেই ধাবিত হচ্ছে দেশ। বুর্জোয়া শাসন দেশকে অবনতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দিনি দিন জনজীবনে দুর্দশা বাড়ছেই। মানুষ ভাল প্রত্যাশা করছে। কিন্তু বাস্তবতা খুব খারাপ। সায়েমঃ বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? খালেকুজ্জামানঃ বর্তমান সরকার একদিকে অতীতের অন্ধকারের দিকে অনবরত ঢিল ছুড়ছে। অন্যদিকে অতীতের ধারাবাহিকতায় একই পথে হাটছে। যে কারণে সমস্যার বিশাল পাহাড় অতিক্রম করার পথ না পেয়ে এখন অলংঘনীয় এক বাধার সামনে এসে দাড়িয়েছে। অন্যেরা কত খারাপ সে তুলনায় নিজেরা কত ভাল তা প্রমাণ করতে গিয়ে কর্তব্য কর্মের বদলে বুর্জোয়া দ্বিদলীয় পাল্টাপাল্টির একটা মাতম তুলে দিয়েছে। যা সরকারের দায় এড়ানো এবং প্রত্যাখ্যাত বিরোধীদের পূনর্বাসনের রাস্তা সহজ করে দিয়েছে। সরকার জনগণের মাঝে ১৬ বছরের আশা জাগিয়ে ১৬ মাসে ২৬ বছরের নিরাশা তৈরী করেছে। সায়েমঃ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার মনোযোগী নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আপনার মত কি? খালেকুজ্জামানঃ বুর্জোয়া দলের নির্বাচনী ইশতেহার নির্বাচনের আগেভাগেই তৈরী হয়। এতে দলের নিচ থেকে সর্বেচ্চ পর্যায় পর্যন্ত আলাপ আলোচনার সম্ভব্যতা যাচাই �" বাস্তবায়নের দলীয় �" গণউদ্যোগের কোন কার্যক্রম থাকেনা বলে তা শুধু বতৃতা �" বিবৃতির বিষয়বস্তু হয়ে থাকে। এদের নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে কতটা সুর মিলিয়ে কথা বলে ভোট টানা যায় সেটাই থাকে মূখ্য। ক্ষমতাসীন হয়ে গেলে তার আর কোন কার্যকারিতা থাকেনা। যেমন ধরুন, তাদের সম্পদের হিসাব দেয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। তারা যেভাবে টাকা উপার্জন করে, নামে বেনামে তা দখলে রাখে আর প্রত্যেক সরকারের আমলেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ পাচ্ছে তাতে তাদের দেয়া হিসেবে প্রকৃত চিত্র পা�"য়া যেতনা। তারপর�" নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্পদের হিসাব না দেয়া চরম দায়িত্বহীনতা। সায়েমঃ বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখাকে কিভাবে দেখেন? খালেকুজ্জামানঃ সরকারগুলো কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রেখে সংবিধান লংঘন করেছে। সংবিধানে অনুপার্জিত আয় ভোগ করা নিষিদ্ধ। শোনা যাচ্ছে আর কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবেনা। এখন যারা সংবিধান লংঘন করেছে এর জবাবদিহিতা �" শাস্তি কি হবে? এরপর অনুপার্জিত আয়ের মালিকরা যারা অনেক টাকা সাদা করেনি তাদের ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে তা আগে বলা দরকার। সায়েমঃ দেশের আইনশৃংখলার চরম অবনতির পর�" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তা নিয়ন্ত্রণে থাকার অব্যাহত দাবীকে কিভাবে দেখেন? খালেকুজ্জামানঃ কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতো আহত হননি। তিনি কোন ছিনতাইয়ের কবলে�" পড়েননি। তা এটাই প্রমাণ করে দেশে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ভালো। গতকাল ১০ জন খুন হয়েছিল। আজ ৬ জন খুন হয়েছে। এটাকে কি অবস্থার উন্নতি বলা যাবেনা ? এভাবে ভাবতে যারা অভ্যস্থ তাদের দায়িত্বহীনতার সঙ্গে অযোগ্যতা যুক্ত হলে যা হয় তাই মানুষ দেখছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবীর প্রকৃতি নতুন কিছু নয়। এটা আমরা বহুদিন ধরে দেখে আসছি। সায়েমঃ সরকার যুদ্ধাপরাধিদের বিচার প্রক্রিয়ায় কোন পথে রয়েছে বলে আপনি মনে করেন? খালেকুজ্জামানঃ যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্ন মানুষ ৪০ বছরে�" ভুলেনি। আগামী চার বছরে�" যে ভুলবেনা সেটাই বিচারের চেয়ে�" সরকারের ভাবনার বিষয় বেশি। এ ইস্যুটি সরকারী দলের ক্ষমতারোহনের সিড়ি হিসেবে যতটা কাজে লেগেছে ক্ষমতায় থাকার জন্য কতটা কার্যকর থাকবে তার উপর নির্ভর করে বিচার প্রক্রিয়া কোন পথে কিভাবে অগ্রসর হবে। সায়েমঃ ছাত্র রাজনীতির কারণে শিক্ষাঙ্গণ উপ্তত্ত হয়ে পড়েছে। ছাত্র রাজনীতি�" ঐতিহ্য হারিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার দাবী �"ঠেছে। এমতাবস্থায় ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আপনার পরামর্শ কি? খালেকুজ্জামানঃ ছাত্র রাজনীতি তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেনি। তা আদর্শহীন বুর্জোয়া রাজনীতির দাপটে আড়াল হয়ে আছে। বিষয়টা ছাত্রদের নয়। এদেশে ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া আদর্শহীন রাজনীতির অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি এটি। পাঁচ শিক্ষাবিদের বিবৃতি দেখলাম। তারা বিষবৃক্ষ থেকে অমৃত আশা করছেন। তারা ছাত্রদের সঙ্গে মুল দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ না রাখার জন্য বলেছেন। এটা কি করে সম্ভব �"নারাই ভাল ব্যাখ্যা করতে পারবেন। মন্ত্রী এমপি তাদের শ্রমিক সংগঠন এমনকি বিভিন্ন স্তরের আমলা - কে মুক্ত এ পরিস্থিতি থেকে ? ক্ষমতাসীন দল এবকং তাদের প্রশ্রয়ে যে লুটতারাজ চলছে তারই অংশ বিশেষ এসব। বিচ্ছিন্নভঅবে এরা নিজেদের মুল চরিত্রকে আড়াল করতে চায়। আর দোষ ছাত্রদের �"পর চাপাতে চায়। সায়েমঃ দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি আপনি কিভাবে দেখছেন? খালেকুজ্জামানঃ রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি, মন্ত্রী, এমপিদের ৮২ ভাগ বেতন বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে দেয় সমাজে সবচেয়ে সুবিধাভোগী এবং উচ্চবিত্তের মানুষদের কাছে�" দ্রব্যমূল্য অসহনীয়। তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী ? সরকার বলছে, সরকারী চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয়তো বাড়েনি। তাদের আয় না বাড়লে ক্রয় ক্ষমতা কমে যায়। এখন মানুষের মধ্যে অভাব অনটন দারিদ্র বাড়ছে। ফলে সমাজে অস্থিরতা �" বাড়ছে। এটা পুলিশ বা সামরিক বাহিনী দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা। সায়েমঃ তেল গ্যাস রক্ষার আন্দোলন বেগবান করতে আপনারা কতটা প্রস্তুত? খালেকুজ্জামানঃ তেল গ্যাস রক্ষার আন্দোলনের কতিপয় শক্তি কক্ষচুøত হয়ে পড়ায় এবং প্রচার মাধ্যমের বদৌলতে বুর্জোয়া পাল।টাপাল্টির আসর কিছুটা জমে �"ঠার কারণে কিছুটা সমস্যা হলে�" অদূল ভবিষ্যতে জনগণ এ আন্দোলনে জড়ো হবে। আমরা তার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সায়েমঃ বিনা টেন্ডারে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন? খালেকুজ্জামানঃ এটা তাদের সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় নীতিমালা বেসরকারীকরণ, বাণিজিকীকরণ এর কারণেই করছে। সংকট দেখিয়ে তারা বিনা টেন্ডারে বিদ্যুৎ কিনছে। সরকার উদ্যোগ নিলে মানুষ দুই টাকা ৩০ পয়সায় বিদুøৎ পেত। সংকটের মধ্যে তারা বিদেশী পুঁজির কাছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তুলে দিয়ে এর দাম ১৪ টাকা থেকে ১৬ টাকা দরে নিয়ে গেলো। সঙ্গত কারণেই সন্দেহ করার কারণ রয়েছে যে, এ সংকট কৃত্রিম। দেশী বিদেশী লুটেরাদের কাছে এ বিদ্যুৎটাতে তুলে দেয়ার অংশ হিসেবে এ সংকটকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সায়েমঃ সরকারের কর্মকান্ডে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রলিফলন হচ্ছে বলে মনে করেন কিনা? খালেকুজ্জামানঃ শাসকদের ইচ্ছা বাস্তবায়নে বিচার বিভঅগের স্বাধীনতা অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে। এ ধারনার কারণে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা সমমাত্রায় সংকুচিত হয়ে গেছে। বিচার ব্যবস্থার দিকে তাকালে এখানে শাসন ব্যবস্থার সংকট কত তীব্র তা যে কত অসার অবস্থায় দাড়িয়েছে তা সহজেই বুঝা যায়। বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতার উপর নির্ভর করে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কতটুকু কার্যকর থাকবে। এখন বিচার ব্যবস্থাকে যে স্থানে এনে দাড় করিয়ে দেয়া হয়েছে, সেখানে সত্যিকার অর্থে জনগণের শাসনের অর্থে যদি গণতন্ত্রের কথা বলি তা কার্যকর করার বাস্তবতাই আর থাকল না। সায়েমঃ শ্রমিকদের নুন্যতম মজুরী কত হ�"য়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? মজুরী নির্ধারণে সরকার �" মালিক পক্ষের ভূমিকাকে কিভাবে দেখছেন? খালেকুজ্জামানঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের হিসাবে দেহ সুস্থ রাখতে হলে ২২’শ ক্যালোরি গুন সম্পন্ন খাদ্য দরকার। তার সঙ্গে কৃচ্ছতার শেষ ধাপে নেমে চার জনের পরিবারের বর্তমান বাজার মূল্যে ১৬/১৭ হাজার টাকা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে আনুপাতিক না হলে�" সর্বনিম্ন মজুরী ৭ হাজার টাকা হ�"য়া বাঞ্ছনীয়। নুন্যতম মজুরী নির্ধারন নিয়ে মালিক সরকারের লোকেরা মাধেমধ্যে পাঁচ তারকা হোটেলে বৈঠক করেন। তার এক বেলার খাবারের যে খরচ তা নুন্যতম মজুরী হলে�" শ্রমিকরা বর্তে যেতো। আর ন্যূনতম মজুরী নির্ধারনের ক্ষেত্রৈ যে গড়িমসি ভাব দেখা যাচ্ছে তা অমানবিক �" অগণতান্ত্রিক। এটা দরিদ্র মানুষের প্রতি তাদের চরম �"দাসীন্য। বাস্তবে শ্রেনী অবস্থানকে ধরে রাখা ছাড়া এটা কিছুই নয়। সায়েমঃ সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করছে। আর সরকার রাতে �"ই এলাকায় কারফিউ জারী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন? খালেকুজ্জামানঃ সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ বাহিনী যে নির্বিচারে বাংলাদেশী নাগরীক হত্যা করছে তা শুধু রাতেই করছেনা দিনে�" করছে। যুদ্ধাবস্থা ছাড়া পাশাপাশি রাষ্ট্র হলেই সীমান্তে ফারফিউ জারী করা দুই রাষ্ট্রের মধ্যে কোন ধরনের সম্পর্ক নির্দেশ করে এবং এতে ভারতীয় বাহিনীর হত্যাকান্ড যৌক্তিক অনুমোদন লাভ করে কিনা শাসককুল তা ভালভাবে ভেবে দেখেনি। বহু সমস্যার ক্ষেত্রে সরকারের যেভাবে নতজানু নীতি এক্ষেত্রে�" তার ব্যতিক্রম হয়নি। সায়েমঃ একদিকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চলছে। অন্যদিকে অপহরণ, গুম হচ্ছেন লোকজন। এর সঙ্গে আইনশৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ �"ঠেছে। বিষয়টি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য কতটা বিপজ্জনক? খালেকুজ্জামানঃ এগুলো ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট। মাত্রাগত তারতম্য থাকলে�" কোন বুর্জোয়া রাষ্ট্রই আজকের দিনে এ বৈশিষ্ট্য এড়িয়ে চলতে পারেনা। বুর্জোয়া অর্থে�" তাদের এক কালের ঘোষিত গণতান্ত্রিক শাসন প্রশাসন পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ করে চলতে পারেনা। এর একমাত্র গ্যারান্টি হচ্ছে জনগণের ব্যাপক গনতান্ত্রিক আন্দোলনের বিকাশ। স্বৈরাচারী ফ্যাসীবাদী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এগিয়ে না আসলে এ প্রবণতা রোধ করা যাবেনা। ফ্যাসিবাদ কোন দেশে আসলে কি হয় তার নজীর বহু দেশের ইতিহাসে রয়েছে। এটা একটা জাতিকে অনেক পিছিয়ে দেয়। মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক �" মানবিক সকল বিকাশকে�" ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। সায়েমঃ সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন অকার্যকর করতে আইন তৈরী করেছে। এক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল বিরোধীতা করছেনা কেন? খালেকুজ্জামানঃ �"দেরতো দুর্নীতি উচ্ছেদ, বিচার, বা প্রতিরোধের দাবী ছিলনা। তাদের বক্তব্য ছিল তোমরা চুরি করে পার পেয়ে গেলে,আমরা কেন পেলামনা। তোমাদের সব মামলা খারিজ হয়ে গেল আমরা কেন খারিজ হলামনা। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশন নিরপেক্ষ এবং শক্তিশালী হোক এটা এদের কেউই চাইবেনা। ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে মাঝেমধ্যে কিছু লিফ সার্ভিস দিলে�" দিতে পারে। বাস্তবে তারা শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন চাইতে পারেনা। সায়েমঃ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি করেছে। সংবিধানের ১৪৫ ক ধারা অনুযায়ী এসব চুক্তি সংসদে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করতে আপনারা দাবী জানাবেন কিনা? খালেকুজ্জামানঃ বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির প্রশ্নে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা স্বার্বভৌমত্বের অংশ সংসদে আলোচনা তো হতেই হবে কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের অনুমোদন প্রতিভাত না হবে ততক্ষণ তা সম্পাদন করা জাতীয় এবং গণস্বার্থ বিরোধী। কিন্তু বর্তমান সরকারতো কিছুই জানাচ্ছেনা। এটা স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ �" জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং গণবিরোধী কার্যকলাপ। সায়েমঃ প্রধান বিরোধী দল ১৯ মে ঢাকার সমাবেশে হরতালসহ আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। এ প্রেক্ষিতে আপনার দলের অবস্থান কি? খালেকুজ্জামানঃ তাদের আন্দোলন কর্মসূচী শর্তযুক্ত। তারা বলেছে তাদের দাবী মেনে নেয়া হলে তারা হরতালসহ কর্মসূচী প্রত্যাহার করবে। একারণে তাদের অবস্থান আর দাবী আমাদের কাছে পরিস্কার নয়। জনগণর দাবীর সঙ্গে এর কতটা সম্পৃক্ততা রয়েছে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। সায়েমঃ জনমনে বাম দলগুলো নিয়ে আস্থার সংকট কেন? এ সংকট উত্তোরণে আপনারা কি করছেন? খালেকুজ্জামানঃ যেটাকে মানুষ বামপন্থা হিসেবে জেনে আসছিল তার বর্তমান অবস্থা দেখে আস্থা ভেংগে পড়েছে। বুলি সর্বস্ব বামপন্থার প্রতি আস্থার দেয়াল যতখানি ধ্বসে পড়ছে প্রকৃত আদর্শবাদী বামপন্থার প্রতি আস্থার ভিত্তি�" গড়ে উঠেছে। আমাদের দল হতাশার কারণ ঘটায়নি বরং আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে। সায়েমঃ দেশে বাম দলগুলোর এত বিভাজনের কারণে বাম আন্দোলন দূর্বল হয়ে গেলে�" বিভাজনের রাজনীতি কমছেনা কেন? খালেকুজ্জামানঃ শুধু বিভাজনই হয়নি। প্রায়ই দেখবেন কয়েকটি দল মিলে ঐক্যবদ্ধ�" হয়েছে। নীতিহীন দলীয় ঐক্য সংযোজন কিংবা বিভাজন দুটাই বামধারাকে দূর্বল করে। আসল কথা হলো একটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তির �"পর সঠিক দিক দিশা সম্পন্ন বিপ্লবী শক্তি গড়ে উঠেছে কিনা যা বিভাজিত জণগনকে সংযোজিত করবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। সে সম্ভাবনা ধীরে হলে�" অগ্রসর হচ্ছে। বিভাজনের কারণ হলো- যে রাজনীতি বা আদর্শের কথা তারা বলছেন তার সঠিক উপলব্ধির অভাব �" তার সঠিক প্রয়োগের ঘাটতি রয়েছে। সেখান থেকেই বিভাজনের উৎপত্তি। সায়েমঃ অনেক বাম দল যারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করে তার উৎখাত চেয়েছিল তারা বর্তমানে আ�"য়ামী লীগের জোটের অংশীদার। সরকারে অংশ নেয়া এ বাম দলগুলো নিয়ে আপনার মত কি? খালেকুজ্জামানঃ আমি মনে করি ঊভয়ের শ্রেণী ভিত্তি পেটিবুর্জোয়া। অন্ধ বিরোধীতা আর অন্ধভাবে সহযোগিতা দুটোরই শ্রেনীভিত্তি এক। তাদের সেদিনের বিরোধিতাকে সঠিক নৈতিক যুক্তির �"পর দাড় করাতে পারেননি বলেই আজ অংশীদার হতে হচ্ছে। এর�" সঠিক কোন নৈতিক যুক্তি তাদের হাতে নেই। সময়ের ভিন্নতায় দুই ধরনের অবস্থান প্রয়োজনবাদ থেকে উদ্ভূত, বিপ্লবী চেতনা �" উদ্দেশ্য থেকে নয়। এটা বিপ্লবী রাজনীতির অনুশীলন�" নয়। সায়েমঃ আমাদের একটি ভয়াবহ সংকট কাল অতিক্রমের কথা বললেন। এ থেকে উত্তোরণের পথ কি? খালেকুজ্জামানঃ মুক্তিযুদ্ধের মুল চেতনাই আমাদের সমাধান। সেটা হলো শোষনমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ। মুল চেতনা সত্যিকারার্থে জনগণের শাসনের অর্থে গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং আত্ম মর্যাদাশীল স্বাধীন অর্থনীতির বিকাশ। এ সব বাস্তবায়িত না হ�"য়া পর্যন্ত দূর্গতি থেকে নিস্তারের উপায় নেই। মানুষকে আহবান করবো- মুক্তিযুদ্ধের এ কেন্দ্রীভূত চেতনা অবলম্বন করে এগিয়ে আসতে। ৪০ বছর পর আর�" ৪০ বছর যেন আমাদের দুর্গতির মধ্যে পড়ে থাকতে না হয়। সায়েমঃ আপনাকে ধন্যবাদ। খালেকুজ্জামানঃ আপনাকে�" ধন্যবাদ। |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/KaziSaemuzzaman |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| কাজী সায়েমুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতোকত্তোর। জন্ম ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম শহরের দামপাড়ায়। তার পূর্বপুরুষ ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের বাউফলের ঐতিহ্যবাহী জমিদার কাজী পরিবার। ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখিতে হাতে খড়ি। তবে ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত হন। তিনি যুগান্তর স্বজন সমাবেশের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহবায়ক। ২০০৪ সালে তিনি দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে ইংরেজী দৈনিক নিউ এজ এর বাংলা প্রকাশনা সাপ্তাহিক বুধবারের সিনিয়র প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত। তিনি বাংলা ছাড়াও ইংরেজী, আরবী, উর্দ্দু ও হিন্দী ভাষা জানেন। ছোটবেলা থেকেই কমার্শিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিত। স্কুল জীবনে তার লেখা বেশ কিছু ছড়া ও কার্টুন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ছাপা হয়। |
|