|
ভোট ডাকাতি করে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় না : খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া |
|
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্বাচনে ভোট চুরি ও সন্ত্রাস করে জিতে আসায় কোনো আনন্দ নেই। ভোট ডাকাতি করে জিতে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় না। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ভোলা নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো বর্তমান নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ। তারা নিরপেক্ষ নয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হতে পারে না সেটা আবারও প্রমাণ হলো। গত উপজেলা নির্বাচনেও একই চিত্র দেখা গেছে। তিনি ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বলেন, ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধ থাকলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত। গত রাতে গুলশান কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর ছাত্রদল উত্তরের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভোলাতে কোনো নির্বাচনই হয়নি অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, সন্ত্রাস করে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসতে দেয়া হয়নি। ভোলার নির্বাচনের ফলাফল আমরা মানি না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে অবশ্যই বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করত। কারণ আমাদের প্রার্থী অনেক জনপ্রিয় এবং দীর্ঘ ৬ বারের নির্বাচিত এমপি। অপরদিকে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে নমিনেশন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়ার নিন্দা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার খোঁড়া অজুহাতে জনপ্রিয় টেলিভিশন স্টেশন চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দিয়েছে। এটা কোনো অজুহাতই নয়। বন্ধ করেছে কারণ জনপ্রিয় এ চ্যানেলটি লোকজন দেখে। তিনি বলেন, এটা শুধু চ্যানেল বন্ধই নয়, ৫০০ সাংবাদিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বেকার করে দেয়া। বর্তমান সরকার ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার কথা বলে এখন চাকরি খাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে চ্যানেল ওয়ান চালুর অনুমতি দেয়ার দাবি জানান।
জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকারের নির্যাতন দুর্নীতি দেখে জনগণ অতিষ্ঠ। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মসূচি দেয়ার জন্য তোমরা অস্থির হয়ে গেছ। অবশ্যই আন্দোলনের কর্মসূচি দেব। জনগণও তাই চায়। বিএনপি কেন কর্মসূচি দেয় না এ বিষয়ে জনগণের প্রশ্ন আছে। খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি বলে জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। আওয়ামী লীগ কি জিনিস তা নতুন প্রজন্মকে বুঝানোর জন্য এখনই কর্মসূচি দিচ্ছি না। নতুন প্রজন্ম আওয়ামী লীগকে চিনুক বুঝুক। না চিনলে ভবিষ্যতে তারা আবার ভুল করতে পারে।
ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, তারা দুই বছরে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। রাজনীতিবিদদের নির্যাতনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ধরে ধরে অর্থ আদায় করেছে। আমাদের কাছে অনেক তথ্য আছে। আরও তথ্য আসছে। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে তাদের বিচার হচ্ছে না। তিনি বলেন, এই দিন দিন না আরও দিন আছে। তাদের প্রতিটি অপকর্মের বিচার হবে। মইন-ফখরুদ্দীন জনগণ সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা মনে করেছে আওয়ামী লীগ মাফ করলেই সব শেষ। তবে এভাবেই সব শেষ হবে না।
আওয়ামী লীগ মিথ্যাচার করে বলে বিএনপির কারণে বিদ্যুত্ সঙ্কট। আমি একাধিক বক্তব্যে সরকারি তথ্য-উপাত্ত হাজির করে জবাব দিয়েছি। সবাই জানে মিথ্যা কথায় আমরা তাদের সঙ্গে পারব না। এ সরকার ক্ষমতায় এসে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ও উত্পাদন করতে পারেনি। আর সরকার প্রধান মিথ্যা কথা বললে উন্নতি ও উত্পাদন হবে কি করে। তিনি বলেন, এখন বিদেশ থেকে প্রবাসীরা ফেরত আসছে। এটা বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা। কারণ বিদেশিরাও বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। আমরা সবার সঙ্গে সমমর্যাদা রেখেই সম্পর্ক করতে চাই। মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যার যত বেশি আছে তার তত বেশি প্রয়োজন। তাদের এত বেশি আছে যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা চুরি করছে। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দুর্নীতি করছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আশা করছি অচিরেই সারাদেশে নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। মেধাবীদের ছাত্রদলে নিয়ে আসতে হবে। অযোগ্যদের নিয়ে বড় সংগঠন করে লাভ নেই। যেটা ছাত্রলীগে দেখতে পাচ্ছি। যেটাকে লোকে ছাত্র সংগঠন বলে না। কারণ তারা লুটেরা, ধর্ষণকারী ও টেন্ডারবাজ। তারা শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। শিক্ষকদেরও নির্যাতন করছে। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো লাই দিচ্ছে যেন তারা যা ইচ্ছে করতে পারবে। তারা দেশের গরিব জনগণের বাড়িঘর দখল করছে। এ সরকার দাবি করে তারা ধর্মনিরপেক্ষ এবং হিন্দুদের প্রতি সহনশীল। অথচ বর্তমান সরকার হিন্দুদের প্রতি বেশি নির্যাতন করছে। তারা এখন বলছে, নৌকায় ভোট দিয়ে কি অন্যায় করেছি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ছাত্রদলকে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। এ অবস্থায় তোমাদের আচার-আচরণ ভালো হলে মানুষ ছাত্রদলের পক্ষে থাকবে। ছাত্রদল নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ফেনসিডিল এনে আমাদের দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। এ থেকে তোমাদের সাবধান থাকতে হবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে পরিচিতি সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম। এ সময় ছাত্রদল উত্তরের নবগঠিত কমিটির সভাপতি কামাল আনোয়ার আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খান দীপক, সাংগঠনিক সম্পাদক রহমতউল্লাহ রহমত, যু্গ্ম সম্পাদক ফাতেমাতুজ্জোহরা পলিসহ ঘোষিত ১৩জনকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি। এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন, ফজলুর রহমান পটল, যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদল মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক হাবিব অর রশীদ হাবিবসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রঃ আমার দেশ, ২৮/০৪/১০] |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/KhaledaZia |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| লেখিকা বিএনপি চেয়ারপারসন, সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী। |
|