|
ন্যাটোর আসন্ন বিদায় ও আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ
খন্দকার মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ্ |
|
আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা ও ন্যাটোর বিদায় চূড়ান্ত। অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিদায়ের পর আফগান সৈন্যরা তালিবান ও গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের হিজবে ইসলামির মুকাবিলায় টিকতে পারবে তো? সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের আশঙ্কা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুশ্চিন্তাকে বাড়িয়ে তুলেছে। তার মতে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী চলে যাওয়ার পর তালিবান খুব দ্রুতই পুরো আফগানিস্তানের দখল বুঝে নেবে। অন্যদিকে মার্কিন বাহিনীর বিদায়পরবর্তী শূন্যতাকে একই সঙ্গে ভারত-পাকিস্তান ও ইরানকে ভাবিয়ে তুলেছে। ভারতের উদ্বেগের জায়গাটি হল, ক্ষমতায় তালিবানের অধিষ্ঠান ঘটলে জিহাদি শক্তির উত্থান কাশ্মিরে নতুন ‘অস্থিতিশীলতা’ জন্ম দেবে। স্বাধীনতাকামী কাশ্মিরীদের সশস্ত্র সংগ্রামে যোগ হবে নতুন মাত্রা। আফগানিস্তানে ভারতবৈরী শক্তি ক্ষমতাসীন হবে। তাই সে বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এবং এই ‘টেনশন’ পাকিস্তানে চালান দেবার যাবতীয় কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে নিচ্ছে। পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করতে যত সহিংসতার মাল-মসলা দরকার এর সবটাই বেলুচিস্তানে ব্যবহার করতে চায় ভারত। এটা গেল আফগানকেন্দ্রিক ভারতীয় দুর্ভাবনার পশ্চাদপট।
ইরানের মাথাব্যথা হল অন্য জায়গায়। সে আফগানিস্তানে এমন সরকার চায় যা সৌদি আরবের সমর্থক নয় এবং শিয়া-সুন্নি ইস্যুকে উস্কে দেবে না, আবার মার্কিন তোষণনীতিও অনুসরণ করবে না। নইলে ইরানের জন্য বিভিন্ন সমস্যার অবকাশ থেকে যায়। পুরো দুনিয়ায় যত আন্দোলন-সংগ্রামের অভ্যুদয় ঘটছে সবগুলোকে শিয়া-সুন্নি বিভাজনের রঙ চড়ানো আমেরিকার কৌশলগত চিন্তাধারার অংশ। যেখানে এটা সম্ভব হয়ে উঠে না সেখানে আল-কায়েদা জুজুর ভয় হাজির করবে। লিবিয়ায় এ তত্ত্ব কাজে লাগানো হয়েছে। মিসরে আমেরিকার কোনো ফন্দি-ফিকির কাজে আসেনি। সিরিয়া ও বাহরাইনে মার্কিন ঔষুধ কাজ দিচ্ছে। পাকিস্তানে যখন ইসলামি আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং ক্ষমতার বেশ কাছাকাছি চলে আসবে তখনই আমেরিকা এই প্রোপাগান্ডায় হাওয়া দেবে। এখানে তখন শিয়া-সু্ন্নি সংঘাত ভয়ানক রূপ নেবে। পাকিস্তানে শিয়া-সুন্নি সংঘাতের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে আমেরিকাই। দেশটিতে বিশেষভাবে কোয়েটায় ইস্যুটিতে এতো সফলভাবে ইন্ধন যোগানো হয়েছে, আজ যদি একজন শিয়া আলিম নিহত হন তো অনিবার্যভাবে আগামীকাল একজন সুন্নি আলিমের লাশ পড়বে। ইরানি বিপ্লবের পর আমেরিকা অন্তত এই কাজে নিরবচ্ছিন্ন সক্ষমতা দেখিয়ে যাচ্ছে। সে অগ্রসরও হচ্ছে এই পরিকল্পনার পথ ধরে।
পাকিস্তানকে আমেরিকার একাধিকবার ধমকের সুরে বারণ করেছে, সে যেন ইরানের কাছ থেকে গ্যাস ক্রয় এবং এতদসংশ্লিষ্ট পরিকল্পনায় না জড়ায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- এতে পাকিস্তানের কল্যাণ নেই। কথাটির অন্য অর্থ হতে পারে- পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠুক এটা আমেরিকা মোটেও পছন্দ করছে না। বক্তৃতা-বিবৃতি ও ঘোষণায় যা-ই বলা হোক না কেন; পাকিস্তান যে, এমন পরিকল্পনার দিকে এগুবে না অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। এবার দেখার বিষয় হল, তুরস্ক আফগানিস্তানের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয়। তবে এ পর্যন্ত এটা পরিষ্কার হয়নি যে, সে আফগান বিষয়ে আদৌ কোনও পদক্ষেপ গ্রহণের কথা সে ভাবছে কি না।
সম্মানিত পাঠক, আফগানিস্তানকেন্দ্রিক সবচেয়ে জটিল সমস্যার আবর্তে আটকা পড়েছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাগোষ্ঠী। অন্যদিকে পাকিস্তান আরও বেশি সঙ্কটে পর্যুদস্ত। আমেরিকা-তালিবান সংলাপে পাকিস্তানকে কাঁছে ঘেঁষতে দেয়ার ইচ্ছে নেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। আমেরিকার ভালো করেই জানা আছে, বন সম্মেলনে পাকিস্তান অংশগ্রহণ না করায় পুরো সম্মেলনটাই ব্যর্থ হয়ে যায়। পাকিস্তানের প্রভাব সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সম্যক অবগত রয়েছে। কারও মুখের দিকে তাকিয়ে না থেকে পাকিস্তানকে তার নিজের দায়িত্ব পালনে সক্রিয় থাকতে হবে। কারণ এই ‘দায়িত্ব পালন’-এর সঙ্গে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্ন জড়িত।
তালিবানদেরও এই প্রসঙ্গে বর্তমান নীতি-কৌশলের পর্যালোচনা এবং অতীত ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার। তালিবানকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে তিক্ত যে বাস্তবতাটি মাথায় রাখতে হবে তাহলো, আফগানিস্তানের বর্তমান প্রশাসনে দেশটির সবপক্ষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব দলের রয়েছে সামরিক সামর্থ ও রাজনৈতিক শক্তি। অন্যদিকে গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার আফগানিস্তানে তাঁর বাহিনীসমতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কারজাই সরকারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধও রয়েছে। অপরাপর মুজাহিদ গ্রুপগুলো সঙ্গে তাঁর ততো দূরত্ব নেই যতটুকু আছে তালিবানের। সবচেয়ে উত্তম উপায় হতে পারে এই তিনপক্ষ একটি জোটভুক্ত হয়ে ভবিষ্যতের আফগানিস্তানকে গড়ে তুলতে সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা তৈরি করবে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানও তার অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারে। আফগানিস্তানে সক্রিয় পক্ষগুলোকে কাছেও টানতে পারে দেশটি। পাকিস্তানের ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে দেশটির ওপর দিয়ে ন্যাটোর সাপ্লাই লাইন চালু রাখার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দখলদার গোষ্ঠীর ঐতিহাসিক পরাজয়ের দ্বার উন্মোচন আর শোচনীয় বিদায়ের জমকালো পর্দাটি উঠার অপেক্ষায় আছে ন্যাটোর সমুদয় সাপ্লাই লাইন বন্ধ করে দেয়ার মধ্য দিয়েই।
সূত্র : ইন্টারনেট (মূল : আমানুল্লাহ শাদ ইয়াযদাই, ফ্রাইডে স্পেশাল, করাচি)
kmhamidullah@gmail.com
|
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/KhandkarMdHamidullah |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| |
|
Baloch nationalism and Shia-Sunni troube will be fermented in Pakistan both by RAW and CIA. This will continue till the Haqqani network in destroyed.
NATO supply line is not impossible to close..but ISI and Pakistan government will prefer not to do so openly but by raising cost by attacks. This unfortunately will keep the drones in the sky.