মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৪:১৮ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

ঈদ উৎসব- কাসাব্লাংকা থেকে কানাডা

খন্দকার হামিদ আজিজ

ঈদ মানেই আনন্দ । দুনিয়ার এপ্রান্ত থেকে অপ্রান্ত, যেখানেই মুসলমান সেখানেই ঈদ উৎসব। আনন্দ উৎসব । ঈদের আনন্দ এখন বিশ্বব্যাপী । কানাডা থেকে কাসাব্ল্যাংকা , মুসলিম দুনিয়ার সবত্রই আনন্দ উৎসব । প্রতিবারের মত এবারেও এই ঈদ এসেছে মুসলিম উম্মার জীবণে সৌভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য আর আল্লাহর উপর নিজেকে সম্পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখার বারতা নিয়ে । ঈদ মুসলিম বিশ্বের উৎসবের দিন । ইসলামে এ দিনের মর্যাদা সমধিক । মুসলমানদের জীবনে বছরে দুবার ঈদ ফিরে ফিরে আসে মহা আনন্দ আর খুশির বারতা নিয়ে । একটি ইদুল ফিতর অপরটি ঈদুল আযহা ।

ফিতর অর্থ ভঙ্গ করা । সুদীর্ঘ একটি মাস রোজা রাখার পর এই ঈদের দিনে রোজা ভেঙ্গে আনন্দ উৎসব করা হয় বলে একে বলা হয় ইদুল ফিতর । দ্বিতীয় হিজরি থেকে ঈদ উৎসব এর সূচনা হয় । মদীনায় হিজরত এর পর মহানবী (সঃ) দেখেন মদীনাবাসীগণ ‘নওরোজ’ ও ‘মিহিরজান’ নামক দুটি উৎসব নিয়ে মেতে উঠত । শরতের পূর্নিমায় নববর্ষ বরণের উৎসব ছিল ‘নওরোজ’ আর বসন্তের উৎসব ছিল ‘মিহিরজান’, এটি ছিল পারসিকদের অনুকরণে আনন্দ উৎসব । ৬ দিন ব্যাপী এই সব উৎসবে অশালীন আনন্দ-উল্লাস, কুরুচীপূর্ণ নাচ গান, হৈ চৈ, অশালীনতা আর অশ্লীতার উৎসব ছিল এই দুটি । নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা আর বিত্তবানদের অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও অশ্লীলতার কেন্দ্র ছিল এই সব উৎসব অনুষ্ঠান । বিশ্বনবী মদীনাবাসীদের এই সব অশ্লীলতা ও অসভ্যতা থেকে বিরত হতে আহবান জানান । আর এর বদলে ইসলামী মহিমা মণ্ডিত নির্মল আনন্দে ভরপূর ইসলামী সাম্যের প্রতীক ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা নামে দুটি উৎসব পালনের জন্য নির্ধারন করে দেন । মাহে রমজানের শেষে ঈদুল ফিতর আর হজ্জের পরে ঈদুল আযহা । এভাবেই শাওয়ালের এক ফালি নতুন চাঁদ দেখে হিজরী ২য় বর্ষে মুসলিম জীবনে প্রবর্তিত হয় ঈদ ফিতর উৎসব । প্রথম ঈদ পালিত হয় দ্বিতীয় হিজরির ১লা শাওয়াল ৬২৪ খৃষ্টাব্দের ৩১ মার্চ মদীনায়, আর পবিত্র মক্কা মুকাররমায় ৬৪০ খৃষ্টাব্দে ৮ম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের ১১ দিন পর প্রথম ঈদ উদযাপিত হয় ।

আমাদের নানা হতাশা, দুঃখ, অপূর্ণতা, ব্যদনা , ক্লান্তি, শত ব্যস্ত কর্ম ময় জীবনে এই ঈদ যেন নিয়ে আসে ঠাণ্ডা হাওয়া । সব কিছু ভুলে গিয়ে কি ধনী কি গরীব , কি বাদশাহ কি ফকির সবাই এক সাথে মেতে উঠে ঈদ আনন্দ উৎসবে ।

বাংলাদেশে ঈদ উৎসব ।। সেকালে একালে
শহরে গ্রামে গঞ্জে বাংলাদেশের সর্বত্রই মুসলিম মননে এক অনন্য আনন্দ উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে ঈদুল ফিতর । ঈদের চান্দ রাতে রাতভর জেগে থেকে শিশু-কিশোর-কিশোরী যুবতী-গৃহিনী সবাই মিলে আনন্দ ফুর্তি করে মেহদি লাগানো , আর সেই সাথে সারা রাত মায়েদের কত বিচিত্র রকমের ঈদের রান্নাবান্না , সে যে কি আনন্দ । আজকাল শহুরে জীবনে নানা ব্যস্ততার কারণে মেহদী আর সাজসজ্জা অনেকেই বিউটি পারলারে সেরে নেন । এক সময়ে রমজানের শেষে ঈদের নতুন চাঁদ দেখার উৎসবে ঢাকার বুড়িগঙ্গার পারে মানুষের ভীড় জমতো । নারী-পুরুষ সবাই মিলে ছাদে উঠে নতুন চাঁদ দেখার আনন্দে উৎদেলিত হতেন । মোগল আমলে নতুন চাঁদ দেখার সাথে সাথে সেনা শিবিরে বেজে উঠত শাহী তূর্য । গোলন্দাজ বাহিনী ছুড়তে থাকত গুলি । বড় কামান দাগা হত মধ্যরাতে । এখন নতুন চাঁদ দেখে ঈদের ঘোষণা দেয়ার কাজটি করেন ‘জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি’ । ভিন্নমত এড়িয়ে সারা দেশে এক সাথে ঈদ পালনের এ এক মহত প্রচেষ্ঠা ।
ঈদ উৎসবের সাথে রং বেরং এর নতুন জামা কাপড় কেনাকাটার সংস্কৃতি একাকার হয়ে আছে । মা বাবা, ছেলে মেয়ে, ভাই বোন সবাইর জন্য এবং নিজের জন্য ঈদে নতুন জামা কাপড় চাই । ইদানিং বিত্তবানরা তাদের ঈদের কেনাকাটা করেন দেশী বাজারে নয় , তারা উড়ে চলে যান ব্যাংকক , সিংগাপুর, কলকাতা , দুবাই আর লন্ডন শহরে । এক সময়ে ঢাকায় ঈদের মেলা বসত । ইসলামপুর , সোয়ারীঘাট , লালবাগ আর চকবাজারে বিরাট আয়োজনে ঈদ মেলা হত । ঢাকার বুড়িগঙ্গা আর সিলেটের সুরমা নদীতে আজো ঘটা করে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয় । ইংরেজ আমলে ঢাকায় ঈদের মিছিল ছিল এক অনন্য আকর্ষণ ।

ঈদের দিনে সবচেয়ে আনন্দময় ব্যাপার হল ঈদগায় গিয়ে জামাতে ঈদের নামাজ পড়া । ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসাথে একলাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন । এখন যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, সেই স্থানটিতে মহিলাদের ঈদের জামাত হত । এক সময় ডক্টর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এখানে মহিলাদের প্রথম ঈদের জামাতে ইমামতি করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন ।

আরব বিশ্বে ঈদ উৎসব
রমজানের মাঝামাঝি থেকেই আরব দেশগুলোতে ঈদের আগমন বার্তা বইতে থাকে । শপিং মলগুলো মধ্যরাত অবধি খোলা থাকে । চলতে থাকে কেনাকাটার ধুম । ঈদের তিন চার দিন আগে থেকেই বাড়ি ঘর , অফিস-আদালত, রাস্তা-ঘাট, শপিংসেন্টার ইত্যাদিতে ব্যাপক আলোক সজ্জা করা হয় । উৎসব আনন্দে ভেসে উঠে সারা দেশ । আমাদের দেশের মত ৮টা / ৯ টায় নয় , আরবরা সূর্য উদয়ের আধ থেকে এক ঘন্টার মধ্যে ঈদের নামাজ আদায় করে নেয় । ঈদগাহ ময়দানে , মসজিদে ঈদের নামাজ হয়ে থাকে । ঈদের জামাত শেষে সবাই আত্মীয় স্বজনদের কবর জিয়ারত করে । পরিবারের সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করে । দুপুরে ও রাতে বিত্তবানদের বাড়ীতে ভোজের আয়োজন করা হয় । কেউ কারো সাথে দেখা হলেই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে । আহলান সাহলান , ঈদ মোবারক । মরক্কো , মিশর , বাহরাইন ইত্যাদি কোন কোন আরব দেশে রাস্তায় রাস্তায় সুসজ্জিত ঈদ শোভাযাত্রা বের হয়। তিন দিন ধরে উৎসব উদযাপিত হতে থাকে। এ সময়টি ছেলে মেয়েদের বিয়ের জন্য সবচেয়ে উত্তম সময় বলে মনে করা হয় ।

কানাডা আমেরিকায় ঈদ উৎসব
একেবারে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও অনুমান করা হয় উত্তর আমেরিকায় মুসলমানদের সংখ্যা চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ লাখ । হাজারে অধিক মসজিদ রয়েছে এখানে । এবং দ্রত বারছে মুসলমানদের সংখ্যা । ইসলামিক সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা, ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা সহ শতাধিক ইসলামিক অরগেনাইজশন রয়েছে এখানে । শুধু এই টরন্টো শহরেই ৩ থেকে ৪ লাখ মুসলমানের বসবাস । টরন্টো, মনট্রিয়ল , নিউ ইয়র্ক , ডেট্রয়েট, শিকাগো , অটয়া ইত্যাদি বড় বড় শহরগুলোতে রমজনের শেষের দিকে শুরু হয় ঈদ বাজার । শত ব্যস্ততার মাঝে চলতে থাকে ঈদের জন্য কেনাকাটা । একেবারে দেশের মতই সবার জন্য সব কিছু নতুন হওয়া চাই । এখানকার সব গুলো মসজিদে ঈদ জামাত হয় থাকে । কোন কোনটিতে দুটি তিনটি করে জামাত হয়ে থাকে । আবার বড় বড় কমিউনিটি সেন্টার, স্টেডিয়াম ইত্যাদি ভাড়া করে , পার্ক ইত্যাদি স্থানে বড় বড় ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয় । এরকমই একটি, টরন্টো্র ডেন্টনিয়া পার্কের ঈদ জামাত শহরবাসীর প্রশংসা কুড়ায় । তবে মুসলিম কমিউনিটি লিডারগন এবং তাদের সংগঠনগুলো প্রায় প্রতি বছরই চাঁদ দেখা/ না দেখা বির্তকে জড়িয়ে যান , দেখা দেয় বিভক্তি, ঈদ হয় দুটি ভিন্ন ভিন্ন দিনে । আবার কোন কোন গ্রুপ সৌদি আরবকে অনুসরণ করেন । এই ভিন্ন মত গুলোকে এক করে একই দিনে ঈদ পালনের মানসে সব ইসলামিক সেন্টার/ মসজিদ সমূহের পরিচালকগণ সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিতে এগিয়ে আসবেন, এটিই সবাইর কাম্য ।

কর্ম ব্যস্ত এই প্রবাসে ঈদ নিয়ে আসে এক ফালি আনন্দের বার্তা । সবাই মেতে উৎসবে আনন্দে । আয়োজন করা হয় ঈদ পূর্ণমিলনী উৎসবের । ঈদের দিন হাইরাইজ বিল্ডিংগুলোতে শাড়ী, সালোয়ার-কামিজ, পাজাম-পাঞ্জাবী পরিহিত শিশুকিশোর, যুবকযুবতী আর নারী পুরুষের অবাধ বিচরণ দেখে ক্ষনিকের জন্যে হলেও সবাই ভুলে যায়, আমরা পরবাসে বসবাস করি । আহলান সাহলান ।

ঈদ মোবারক
http://www.sonarbangladesh.com/articles/KhandkerHamidAziz
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
regina,sk থেকে ্ৃুুshamim parvage লিখেছেন, ৩০ অগাস্ট ২০১১; দুপুর ১২:০৫
I like your writting,Actually It was my speach from my heart.
I hope you will continue it.I wish every success in your life.
EID MUBARAK.
shamim
66798
ঢাকা থেকে ইকবাল লিখেছেন, ৩০ অগাস্ট ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:০০
আটঘাট বেধে পড়তে শুরু করলাম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ঈদ উৎসব সম্পর্কে চমৎকার একটি ধারণা পাব এই আশায়। কিন্তু কি অবস্থা, পড়া শুরু না করতেই শেষ।

মাইনসা দিলামনা, ভবিষ্যতে তেমন একটি লেখা দিবেন এই আশায়।
66816
ctg থেকে mansoor লিখেছেন, ৩১ অগাস্ট ২০১১; সকাল ০৫:৫৬
interested to know the Eid festival in Malaysia, Brunei, Maldive, Algeria, Moracco, Filipine. Any one who can write eloberately please ....
66853
সিডনি থেকে আলতাফ লিখেছেন, ৩১ অগাস্ট ২০১১; সকাল ১০:১৯
আটঘাট বেধে পড়তে শুরু করলাম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ঈদ উৎসব সম্পর্কে চমৎকার একটি ধারণা পাব এই আশায়। কিন্তু কি অবস্থা, পড়া শুরু না করতেই শেষ।
66860
uk থেকে kamal লিখেছেন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:৫৫
VERY GOOD PLEASE WRITE MORE.
67406
uk থেকে kamal লিখেছেন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১১; রাত ০৯:২৬
VERY GOOD PLEASE WRITE MORE.
67409
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy