রবিবার, ২৩ মাঘ ১৪১৯; ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ১০:০৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
পর্যালোচনা-১ (০৮/০১/২০১১)
বাংলাদেশে এরশাদই মহাসত্য (০৪/০৯/২০১০)
আমার দেশ বন্ধ করা হলো যেভাবে : একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ননা (০৫/০৬/২০১০)
ছাত্র রাজনীতিকে বলির পাঠা বানালে লাভের গুড় কমে না (২৯/০৫/২০১০)
নয়া ইতিহাস নির্মাণের স্বপ্ন (১৫/০১/২০১০)
এই প্রজন্মের দায় (১৬/১০/২০০৯)
সরকারের বৈধতার ভীত কি নড়বড়ে? (০১/১০/২০০৯)
বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বিতর্ক-রাষ্ট্রের ন্যায্যতার ক্ষয় ও নাগরিক দায় (১৬/০৭/২০০৯)
প্রভাকরণ যা প্রমাণ করে গেলেন (০১/০৭/২০০৯)
বাংলাদেশের সাহসের সীমানা (২৬/০৩/২০০৯)
ছাত্র আন্দোলনের ফসল চুরির কেরামতি এবং ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যত (৩০/০৯/২০০৮)
আগের লেখা
452


পর্যালোচনা-১

খোমেনী ইহসান

[ ভয়ে কাপছি। কোথাও ভরসা খুঁজে পাচ্ছি না। দানবের যে উত্থান ঘটেছে নিকাশ হয়ে যাওয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু বেহুদা মরে যেতে ইচ্ছে করে না। জীবনকে তো গ্লানির জায়গা থেকে বের করে যাপন করতে পারিনি। এখন মৃত্যুটাও যদি উদযাপনের সুযোগ না পায় কিভাবে নিদান মেনে নেব। তাই যাওয়ার আগে যে টুকু সময় আছে নিজেকে পর্যালোচনা করছি। কেন পরিস্থিতি এমন হলো, কেন পারলাম না প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ দুই প্রশ্নের জবাব হাজির করতে চেষ্টা করছি। যা আবার আত্মজীবনীর চরত্রিও ধারন করবে]

ভয়ঙ্কর ঘটনা।
সব ভেঙ্গেচুড়ে গেছে। যে যার মতো পারছে পালিয়ে যাচ্ছে।

প্রচন্ড আশাবাদী মানুষগুলোর ব্যাপারে আমরা আগিলা ধারনাই বহাল ছিল। কখনোই ভাবি নাই তারা পালাতে পারে। আগে তাদের লগে রাজ্যের সব গল্প বিনিময় করতে যেতাম। এখনও যাওয়া বন্ধ করি নাই। কিন্তু গিয়ে আর ফায়দা হাসিল করতে পারছি না। গল্প বিনিময় হচ্ছে না। কেউ আর শ্রোতার পর্যায়ে নাই। সবাই দর্শক হয়ে গেছি! তারা দেখছে আমাকে। আমি দেখছি তাদের।

অভূদপূর্ব দেখাদেখি। ফ্যালফ্যাল করে একে অপরের দিকে ভীতি মাখানোর দৃষ্টিপাত। বেশিক্ষণ তাকানো যায় না। চোখ ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছে করে। আবার চোখ ফিরিয়ে নিতে গিয়ে মনে হয় লোকটা কি অনেক বেশি দূরে চলে যাচ্ছে? চিরতরে হারিয়ে ফেলছি?
হায় হায় রব উঠছে! চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আর কী হবে? যতটুকু পারি দেখে নিই। শেষ দৃষ্টিপাতই তো।

মাস দুই ধরে এভাবেই চালিয়ে নিচ্ছিলাম। হঠাৎত পর্যবেক্ষণে নতুন ভাগফল উদ্ভাসিত হলো। আমরা গত চার বছর যে সম্পর্কসূত্রে কাছাকাছি চলে এসেছি। আসার পথে মত ও পথের এতো ভিন্নতা ছিল, তবুও কাছে আসার কর্তব্য পালনে ছুটৎ-দৌড়ে যতি দিতে পারিনি কেউ।

এখন সুসময় এসে গেছে কাছে আসার মধ্যে নৈকট্য আরো গাঢ় করে তোলার। কিন্তু এই সময়েই যে যার মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি।

হতবাক হয়ে পড়ি। কোথায় এমন কী ঘটলো, নৈরাশ্য তৈরি হল? পলায়নপরতার ধর্ম পালনে সবাই ছুটতে লাগল।

পালিয়ে কেউ যদি স্থানান্তর হতো কথা ছিল না। সবাই সেই আগের বাড়িতে, আগের অফিসে ও আগের আড্ডার কুন্ডলীতেই থাকছে। তাহৎলে তারা পালিয়ে কোথায় যাচ্ছে। আমিইও তো পালাচ্ছি। আমি তো সেই কারওয়ান বাজারে অফিস করতে যাচ্ছি, প্রতি দিন। কাজিপাড়ার বাসায় শয্যা পাতছি, প্রতি রাত। অন্য কোথাও যদি না যাই, তাহলে আমি কেন পালাচ্ছি? যে পলায়ন শরীরকে অন জায়গায় চালান করতে পারে না, তার পেরেশানি যাপন করে লাভ কি?

কোন প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে পাই না। বাজার অর্থনীতির যুগে, সাম্রাজ্যবাদের ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের আনকোরা বেশ ধরার যুগে ও মানুষের ভেতরের উত্থান শক্তির পতনকালে আমি আর কার কাছে যাব। এবং জিজ্ঞেস করব আমাদের কিছু মানুষের এমন বেহাল দশার কারণ কি? যাদের জিজ্ঞেৎস করলে হেতুর তালাশ পাব তারাও তো পালাচ্ছে।

আধুনিক দুনিয়ার মর্মবেদনা বুঝতে মানুষকে সবেচেয়ে বেশি উপকার করে গেছেন কার্ল মার্কস। তিনি জগতের পেছনে না ছুটে জগতের গুঢ়ার্থের সন্ধান করেছেন। তার তরিকা মতে জগতে যে নৈর্বত্তিকতা আছে তার তালাশ করে, ব্যক্তি মানুষকে সিদ্ধান্তে আসতে হয়। এই মানুষ ইচ্ছা শক্তি সম্পন্ন মানুষ। যার চিন্তাই জগতকে নিয়ত বদলে দেয়। বদল ভালো ও মন্দ দু' দিকেই হতে পারে।

আমি সন্ত্রস্ত মানুষ। কী আর করব। জগতের তবিয়ত, নৈর্বত্তিকতা দেখায় নিরত হলাম। মোটামুটি বুঝতে চেষ্টা করতেছি কেন সবাই দুদ্দাড় দৌড়ঝাপ করে পালাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

আসলে আমরা ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে ৎ এতো দিন লাফিয়েছিলাম। আর ডঙ্কা পেটাচ্ছিলাম আমাদের স্বপ্ন পূৎরণ যেন অতি সহজ কোন ব্যাপার । কিন্তু এখন সবাই টের পাচ্ছে স্বপ্ন অতি কঠিন হয়ে গেছে। আসলে স্বপ্ন দেখে দেখে সময় পার করে বিজয় আরোপের ঠুনকো বাসনার জালই বোনা হয়েছে। ভেবেছি সবাই পুটি, খৈলসা মাছ ধরব নিরাপদ পুকুর থেকে। কিন্তু এ যে সমুদ্দর, ধরতে হবে হাঙ্গর। টুটাফাটা আড়াই হাতি জাল যে কাজে লাগবে না কে বুঝত।

নিম্নস্তরের লোভী লোকগুলো যে পুকুরকে সমুদ্দুরে পরিণত করে হাঙ্গরের উপস্থিতি সম্ভব করে তুলবে কেউ ভাবে নি। আমিও তো না। ছিলাম রোমান্টিক মানুষ। রোমান্স প্রত্যাশাতেই দিন গুজরান হলো।

আমৎরা সবাই এমন আকাম করেছি বলেই পালানোর পথ খুঁজে দেখিনি। এখন যে যার মতো পালাচ্ছে নিজের মনের মধ্যে। কিন্তু তো গর্তের বাইরের থাকছে। টেনে বাহির করা আর কী কঠিন?

এভাবে ভাবতে অবশ হয়ে যাচ্ছি। প্রচন্ড ভীতি ছড়িয়ে পড়ছে আমার সংবেদনের পরতে পরতে।

(চলবে)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/KhomeneeEhsan
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy