|
তোমার জন্য মন কাঁদে
লোকমান বিন নূর হাশেম |
|
কেমন আছো ? নিশ্চয় ভালো। তুমি ভালো থাকো এটাই তো আমার একান্ত প্রত্যাশা। আজ কত দিন হলো তোমায় দেখি না। তোমাকে দেখার জন্য মনটা পাগল হয়ে আছে। তোমার কি একটি বারও আমাকে মনে পড়ে ? আমি জানি না আমাকে তোমার মনে পড়ে কিনা। তবে তুমি জেনে রেখো প্রতি দিন, প্রতি ঘন্টায়, প্রতি মিনিটে তোমাকে আমার মনে পড়ে বার বার মনে পড়ে।
তোমায় মনে পড়ে
শিশির ভেজা ভোরে
রোদেলা দুপুরে
পড়ন্ত বিকেলে
পাখিদের কিঁচির মিঁচির ডাকা সন্ধ্যায়
চাঁদের আলোয় আলোকিত জোৎস্না রাতে।
গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় শুধু তোমায় মনে করে। তোমাকে একটি মুহূর্তের জন্যও আমি ভুলে থাকতে পারি না। আমি তোমাকে ভালবেসেছি, ভালবাসছি এবং আজীবন ভালোবেসেই যাবো। তুমি আমার বুকের মাঝে যে স্থান দখল করে নিয়েছ তা কেউ কোন দিন দখল করতে পারবে না। সেই স্থানটুকু শুধু তোমার জন্য বরাদ্দ। শুধুই তোমার।
আজ আমি তোমার থেকে অনেক দুরে অ..নে...ক দুরে। কিন্তু তুমি আছ আমার খুব কাছে। মনের মাঝে। হৃদয়ের মধ্যখানে।
শোন হে রূপসী আজ যদিও আছি দুর প্রবাসে
ভুলিনি তোমায়, তুমি আছো আমার পাশে।
এই হৃদয়ে-মনে, শয়নে-স্বপনে আছো শুধুই তুমি
জেনে রেখে কোন দিনই তোমায় ভুলবো না আমি।
অনেক রুপসী দেখেছি, অনেক সুন্দরী দেখেছি কিন্তু সবার রূপ যেন তোমার রূপের কাছে হার মানতে বাধ্য। তোমার তুলনা শুধুই তুমি। তাই তো তোমাকে আমি এত বেশি ভালবাসি। অনেক দিন হল তোমার থেকে দুরে আছি। দুরে এসে বুঝেছি তুমি কত আপন। তোমার কাছে থাকতে কখনোই বুঝতে পারিনি দুরে গেলে তোমার জন্যএত খারাপ লাগবে। তাছাড়া তোমাকে ছেড়ে দুরে যাওয়ার স্বপ্ন কখনোই আমি দেখিনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তোমাকে ছেড়ে আমাকে দুরে আসতেই হল। তবে আমাকে ভুলে যেওনা কিন্তু। তোমাকে হারালে আমি সব হারাবো। তোমার হৃদয়ের মাঝে ছিলাম। এখন হয়তো নিকের জন্য দুরে আছি। তবে তোমার বুকেই ফিরে আসবো। তোমার বুকে কাটিয়ে দিতে চাই সারা জীবন। মরনের পরেও যেন তোমার বুকেই ঠাই হয় আমার।
জানি আরো অনেকে তোমাকে ভালোবাসে। তোমার জন্য মন প্রাণ উজাড় করে দেয়। তোমার জন্য জীবন বাজি রাখে। আমার ভয় হয় এদের পেয়ে আমি প্রবাসীকে ভুলে যাবে না তো ? জানি আমাকে তুমি ভুলতে পারবে না। কেননা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। ভালোবাসার বন্ধন বড়ই মজবুত তা খুব সহজে ছিড়ে যায় না। যদি ভুলেই যাও তবে মনে রেখো............।
এই তো সেইদিন বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে তোমার বাড়িতে বিশাল আয়োজন হল। সবাই আনন্দে মেতে উঠেছিল নেচে ছিল, গেয়ে ছিল, নানা রঙ্গে সেঝেছিল। আমি প্রবাস থেকে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছি। প্রবল ইচ্ছা থাকলেও অংশগ্রহণ করতে পারিনি আনন্দ উৎসবে। জানো তোমার কাছে থাকতে না পেরে সেদিন আমার কত খারাপ লেগেছে ? মন খারাপ করো না। আমি আসছি। তোমার কাছে, তোমার বুকে। তখন কেউ আমাকে আর ছিনিয়ে নিতে পারবে না তোমার বুক থেকে। তখন তোমাকে নয়ন ভরে দেখে নিবো। দীর্ঘ দিন প্রবাসে থাকায় ভালোবাসায় যে ঘাটতি হয়েছে তা সুদে আসলে পূর্ণ করে নিবো। আমি যে শুধু তোমার ভালবাসার টানেই প্রবাস থেকে সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে ফিরে আসবো। তখন কিন্তু তোমার বুকের মাঝে আমাকে জড়িয়ে রাখবে। দীর্ঘ দিন পর তোমায় পেয়ে আমি ভুলে যাবো দুনিয়ার সব কিছু। শুধু হারিয়ে যাবো তোমার মাঝে। আর বলবো তোমার ছিলাম তোমার আছি তোমারই থাকবো। তোমাকেই ভালবাসী হে আমার জন্মভুমি হে আমার বাংলাদেশ।
প্রবাসে এই পরাধীন জীবন চাই না আমি
আমি চাই নিজের দেশে বুক ফুলিয়ে চলতে,
অন্যের ভাষায় কথা বলতে চাই না আমি
আমি চাই মায়ের ভাষায় মনের কথা বলতে।
অন্যের দেশে অফিসে চাকুরি চাই আমি
আমি চাই নিজের দেশে দিন মজুরী করতে,
পরের দেশে অনেক দুরে থাকতে চাই না আমি
আমি চাই নিজের দেশকে ভালবেসে স্বদেশে মরতে।
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি। অনেক ভালবাসি, মন প্রাণ দিয়ে ভালবাসি।
ই-মেইলঃ lokmanbd22@yahoo.com |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/LokmanBinNurhasem |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
লেখক পরিচিতিঃ
লোকমান বিন নূর হাশেম মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার কুতুবপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবার ”মোল্লা মঞ্জিল” এ জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আলহাজ্ব নূর হাশেম মোল্লা। মাতা আমেনা বেগম। তিন ভাই পাঁচ বোনের মাঝে লেখক ৬ষ্ঠ এবং ভাইদের মাঝে সবার ছোট। প্রাথমিক শিক্ষা তিনি নিজ এলাকায় শেষ করেন অতপর থেকে তিনি লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। বাড়ির বাহিরে প্রথমে তিনি বাহাদুর পুর যান লেখাপড়ার জন্য অতপর গুলশান এবং সর্বশেষ সাভারে তিনি লেখাপড়া করেন। সাভার থেকে তিনি ছাত্র অবস্থায়ই সৌদি আরবে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে” আল জাবর” নামক একটি সুনামধন্য কোম্পানীতে একাউন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। দীর্ঘ দিন বাড়ির বাহিরে অতপর দেশের বাহিরে থাকায় বাড়ি ও দেশের প্রতি তার জন্মেছে অগাধ ভালবাসা যা তার লেখা থেকেই প্রতীয়মান হয়। প্রবাসের নানা স্মৃতি, অভিজ্ঞতা সেই সাথে দেশ ও স্বজনদের প্রতি ভালবাসা নিয়ে লিখা” প্রবাস কাহন” নামে তার একটি বই প্রকাশের পথে রয়েছে। |
|
আপনার এই সুন্দর লেখা প্রবাসীদেরকে আরো বেশী দেশপ্রেমে অনুপ্রানিত করবে বলে বিশ্বাস করি ।