দেশ ও জাতীর সার্বিক উন্নয়নে আমাদের প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় গবেষণা কেন্দ্র। যে কেন্দ্র উত্তর না পাওয়া প্রশ্নের উত্তর সহ সমাধানের পথ দেখাবে।
আর একই সঙ্গে আবহাওয়া দপ্তরের মত দেবে ঝড়ের পূর্বাভাস। বর্তমানে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক প্রশাসনিক আর অবকাঠামোর প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার হাজারো প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। এটা যেনো চিকিৎসা না করেই অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটানো। আমাদের দেশে বর্তমানে সরকারী বেসরকারী আধা-সরকারী সামাজিক রাজনৈতিক ও ব্যক্তি পরিচালিত বেশ কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান আছে এটা সত্য তবে তা পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কেন্দ্রের চাহিদা মেটাতে পারছেনা। প্রয়োজন কেন্দ্রীয় ভাবে গবেষণার বিষয় বস্তুর সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ। যা গবেষণায় আনবে মৌলিকত্ব ও গতিবেগ। খুলে দেবে চারপাশে জমে থাকা সমস্যার বহুমুখী সমাধানের পথ। এই কেন্দ্র হবে সত্য ও সুন্দরে বিশ্বাসী, উৎপাদন ও উন্নয়নের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ দেশের কল্যাণকামী মানুষের আশা ভরসার প্রতিষ্ঠান। আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্র। স্বাধীনতার ৪০ বছরেও আমরা কেন গনতন্ত্রের সুস্থ বিকাশে ব্যার্থ হলাম? সাধারণ এই প্রশ্নটির উত্তরে আবেগতাড়িত পক্ষপাতিত্ব, দলীয় দৃষ্টি ভঙ্গীর বাইরে সত্যনিষ্ঠ দৃষ্টিগ্রাহ্য বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পাবার ব্যবস্থাই হবে এই গবেষণাকেন্দ্রের কাজ। যত দ্রুত আমরা আমাদের জন্য এইরূপ একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো তত দ্রুত আমরা আমাদের সমস্যার জট থেকে বের হয়ে আসতে পারবো।
গত ৪০ বছর আমরা একদিকে সকল প্রতিকুলতা ও বাধার মুখেও দৃষ্টিগ্রাহ্য উন্নয়ন যেমন করেছি তেমনি অন্যদিকে অসুস্থ বিকাশের ফলে সামাজিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও মানবিক অবক্ষয়ের চুড়ান্তে এসে পৌঁছেছি। এই অবস্থায় একদিকে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে তেমনি অন্যদিকে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসে ফাটল ধরেছে। শতস্ফুর্ততার পরিবর্তে এসেছে এক ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি। যা স্বাভাবিক বিকাশের পথে মারাত্মক ক্ষতিকারক। এর ফলে আমরা আস্থার সংকটের সাথে সাথে কাঙ্খিত উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এই চক্রে আমরা আমাদের প্রকৃত সক্ষমতা বিকাশের পথে রুদ্ধ হয়ে আছি।
আমরা দেখতে পাই আমাদের সমস্যা সমাধানের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য, তত্ত্ব ও মুল্যবান বক্তব্য অতি অল্প সময়ের মাঝেই হারিয়ে যায়। এইরূপ হারিয়ে যাবার সমস্যা ও প্রবণতা থেকে সঠিক পথে বিষয়গুলি পরিচালিত করবার জন্যই প্রয়োজন কেন্দ্রীয় গবেষণাকেন্দ্রের।
যার মূল দায়িত্ব হবে সমুদ্রে ছড়িয়ে থাকা মুক্তা আহরনের মত ১৬ কোটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে থাকা ধারণা সঞ্চিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে আমাদের রাজনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সহ সকল সমস্যা সমাধানের পথে কাজে লাগানো।
আমরা আমাদের সমস্যাগুলি যত কাছ থেকে দেখি, শুনি ও জানি অন্য কেউ কি বিষয়টির মর্ম সেই ভাবে অনুভব করে? অবশ্যই না।
আমরা কেন স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও সব সমস্যায় বিদেশী সমাধানের আশায় বসে থাকি? আমাদের এ মনস্তত্ব পরিবর্তনেও প্রয়োজন উপযুক্ত গবেষণা। প্রতিটি সমস্যাকে চিহ্নিত করে তার গতিপ্রকৃতি ও গুরুত্বের ক্রমানুসারে সমাধানের জন্য আমাদের নিজস্ব শক্তি, সামর্থ, মেধা ও মননকে যথাযথ সুযোগ দিতে হবে। সুযোগ করে দেবার প্রসঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই এসে পড়ে সরকারের কথা। সরকারের দৃষ্টি ভঙ্গি ও প্রায়োরিটি লিস্ট এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতি ও সমাজ নিজস্ব গতিতে চললেও মূল চালক হিসাবে সরকারের দেখানো পথ ও নীতির মাঝে সেটা থাকে।
তাই সরকার যত দক্ষতা ও দূরদৃষ্টি নিয়ে চলবে আমাদের বিকাশ ও মুক্তির পথ ও ততই সুগম হবে।
এই ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা আমাদেরকে সমস্যার শিকলে বেঁধে রাখবে। গবেষণাকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল অনুসরনে সরকার সঠিক পথে চলবার সূত্র পেতে পারেন।
সত্যি বলতে আমাদের অনুন্নত অবকাঠামো, সীমিত সম্পদ, দূর্নীতি পরায়ন প্রশাসন, আর দূর্নীতি মুখী প্রশাসনিক পদ্ধতি, দ্রুত পরিবর্তনশীল অসহিষ্ণু মন, আর চাটুকারী মনোবৃত্তি যেকোন সরকারের জন্যই দেশ পরিচালনা কঠিন করে তোলে।
তার পর দীর্ঘদিনের নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি সরকার ও বিরোধী দলকে পরস্পরের থেকে বিপরীত মুখে বহুদূরে ঠেলে রাখে। তাই হরতালের মত কর্মসূচীকে সরকার ও বিরোধী দল বিপরীত দিক থেকে ভিন্ন ভাবে দেখেন। মজার বিষয় হল অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে দেখবার বুঝবার ও বলবার বিষয়েও পরিবর্তন আসে। এই ভিন্ন মুখী অবস্থানকে এক সমান্তরালে এনে একই ভাবে বুঝবার ও উপলব্ধি করবার কঠিন কাজটিও গবেষণার দ্বারা নিষ্পত্তি হতে পারে। তাই আমাদের সত্যিকার অর্থেই সিদ্ধান্তে আসতে হবে আমরা কি চাই?
রাজনীতিতে সহনশীল গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ সহ পারস্পরিক নূন্যতম শ্রদ্ধাবোধ নাকি অতীত মূখী রাজনীতির আবেগতাড়িত অস্থিরতা আর উত্তেজনার মাঝে সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থির করে রাখা।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কল্যাণকামী উন্নয়ন নাকি সুযোগ সন্ধানী মুনাফা?
সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা জবাবদিহীতা ন্যায় নীতি আর দুর্ণীতি মুখী প্রশাসনিক পদ্ধতির পরিবর্তে দুর্নীতি মুক্ত পদ্ধতি নাকি যেমনি আছি তেমনি রব এর পুরাতন কৌশল?
আমাদের জাতীয় নেতৃত্ব যতদিন গবেষণাকে উৎসাহিত ও মূল্যায়িত করবেননা ততদিন আমাদের এ দুর্ভোগ থেকেই যাবে।
আর এটাও ঠিক নীতি নির্ধারনী সিদ্ধান্ত যদি সুচিন্তিত যুক্তিপূর্ণ ও গবেষণার দ্বারা সমর্থিত না হয় ততদিন আমাদের আশা আকাঙ্খার পথ নিরাশার চাদরেই ঢাকা পড়ে থাকবে। সেই সাথে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্র আদিম জংলী নৃত্যের আসরে বাধা পড়ে থাকবে।
লেখকঃ Ex President, Bangladesh Association of Canada, Toronto
Convenor, Federation of Bangladeshi Association in North Americ (FOBANA) 2000
Toronto, Canada
(Email-macbrick@hotmail.com)
আসলে সত্যনিষ্ঠ দৃষ্টিগ্রাহ্য জাতীয় স্বার্থ রক্ষার নিমিত্তে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে ভবিষ্যতের কর্মষূচী কি হওয়া উচিত বিশেষ করে জাতীয়বাদী রাজনৈতিক কার্য্যকলাপে তা আগে থেকে গবেষনা করলে সফলতার আশাকরা যায়। জাতীয় শত্রুদের কার্য্যকলাপ মনিটর করা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচীকে ব্যর্থ করতে কি করা যায় সে ব্যপারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে এরকম একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় গবেষণা কেন্দ্র। খুবই ভাল লাগল আপনার লেখাটা পড়ে।
প্রশ্ন হচ্ছে সে দূরদৃষ্টি কি আমাদের জাতীয় নেতা নেত্রীদের আছে? ক্ষমতায় েগলে রাজনীতিবদিরা তো ব্যস্ত থাকেন কি ভাবে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্যন করা যায় সে ধান্ধায়!
42365
২
BANGLADESH. থেকে MASUD. লিখেছেন,
০৫ ডিসেম্বর ২০১০; সকাল ১০:০৮
EXCILLENT. WE HOPE FOR THE BEST.
42399
৩
বাংলাদেশ থেকে দেশ প্রেমকি লিখেছেন,
০৫ ডিসেম্বর ২০১০; সকাল ১১:১৫
ভাই, গবষেনা করতে প্রয়োজন জ্ঞানী গবেষক। কোথায় পাবেন সেই গবেষক? সারাটা দেশ জুড়ে ভরে আছে দূর্নীতির করার গবেষক! আগে এদেরকে সরান
42409
৪
Toronto, Canada থেকে Hasan Mahmud লিখেছেন,
০৫ ডিসেম্বর ২০১০; দুপুর ০৩:৫৮
Everything gets corrupt in a corrupt society like ours. The proposal is excellent, such a cell is essential.
Govt will never do it - a team of unbiased experts can do it. But, will they? At a point everything gets political in BD.
Good article.
42448
৫
BANGLADESH থেকে BANGLADESHI লিখেছেন,
০৬ ডিসেম্বর ২০১০; রাত ০১:০৮
TO WHOM IT MAY CONCERN.
42499
৬
BANGLADESHI. থেকে RAZA লিখেছেন,
০৭ ডিসেম্বর ২০১০; রাত ১২:২৪
Its a very thoughtful artical. but three party 1 govt 2 opposition and 3 is the people has three different veiw.
1. the govt is happy. they feel everything is okay? Top line of the party people getting big business, young of the party is getting free hand tender BAZI and free EVEtising,for the bottom the local touts we open new job to find case where put the name and call the people razaker and ask chada. Finaly keep happy india to give them what they ask? this is the key to stay in power.
SO no problem? resourch for what?
2nd the opposition for them if we come to power than everything will be okay?
so resourch for what? we have no time for that.
3rd the poor bangladeshi please do not dream you have no money or resourch to do it. so resourch .......??? when.
it will happen?
42573
৭
BANGLADESH. থেকে RAZA লিখেছেন,
০৭ ডিসেম্বর ২০১০; রাত ০১:১২
Its a very thoughtful article. but three party 1 govt 2 opposition and 3 is the people has three different view.
1. the govt is happy. they feel everything is okay? Top line of the party people getting big business, young of the party is getting free hand tender BAZI and free EVEtising,for the bottom the local touts we open for them new job to find case where put the name of some and call that people razaker and ask chada. Finaly keep happy india to give them what they ask? this is the key to stay in power.
SO no problem? resourch for what?
2nd the opposition for them if we come to power than everything will be okay?
so resourch for what? we have no time for that.
3rd the poor bangladeshi please do not dream you have no money or resourch to do it. so resourch ...when
it will happen?
42575
৮
dhaka bangladesh. থেকে samad লিখেছেন,
১০ ডিসেম্বর ২০১০; সকাল ০৮:২৯
we need another zia . only he could understand.
42855
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
প্রশ্ন হচ্ছে সে দূরদৃষ্টি কি আমাদের জাতীয় নেতা নেত্রীদের আছে? ক্ষমতায় েগলে রাজনীতিবদিরা তো ব্যস্ত থাকেন কি ভাবে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্যন করা যায় সে ধান্ধায়!