রবিবার, ২৩ মাঘ ১৪১৯; ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ১০:১৯ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
শেয়ারবাজারে তুঘলকি কারবার : দ্বিতীয় পর্ব (০১/০২/২০১২)
শেয়ারবাজারে তুঘলকি কারবার : প্রথম পর্ব (২৫/০১/২০১২)
রাষ্ট্রপতির নৈতিকতার পরীক্ষা (১৮/০১/২০১২)
কার মান কখন যায় (১৮/০১/২০১২)
লুটেরা শাসক নির্জীব জনগণ (০৪/০১/২০১২)
ছিল দলীয় আসছে দলীয় (২৮/১২/২০১১)
নিরোরা সর্বকালেই বাঁশি বাজায় (২১/১২/২০১১)
স্বৈরাচার যোগ স্বৈরাচার (০৬/১২/২০১১)
ডিজিটাল দুর্নীতির জয়-জয়কার (৩০/১১/২০১১)
মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশীদের কথা ভাবুন (২৩/১১/২০১১)
শূন্যকুম্ভের প্রবৃদ্ধির বড়াই (২৬/১০/২০১১)
চুরি করলে ইজ্জত যায় না! (১৯/১০/২০১১)
আবদার মিটেছে অধিকার মেলেনি (১২/১০/২০১১)
অধীনতামূলক মিত্রতা চুক্তি (২৮/০৯/২০১১)
ভারতের ভূমি আগ্রাসন (২১/০৯/২০১১)
তিস্তা আমাদের অধিকার করিডোর ওদের আবদার (১৪/০৯/২০১১)
দেশপ্রেমিক হলে দেশের স্বার্থ দেখুন (০৫/০৯/২০১১)
আদালতের মর্যাদা (২৪/০৮/২০১১)
সুশাসন নির্বাসনে (১৭/০৮/২০১১)
বাংলাদেশে আক্রান্ত ইসলাম (১০/০৮/২০১১)
ভারতের ট্রানজিটে বাংলাদেশের ফায়দা নাই (০৩/০৮/২০১১)
ভারতকে ট্রানজিট দেয়া রাষ্ট্রীয় আত্মহত্যারই নামান্তর (২৮/০৭/২০১১)
সন্তু লারমার জন্য নোবেল দাবি সেনাবাহিনীর শহীদদের অবমাননা (২৬/০৭/২০১১)
‘নবরূপে বাকশাল’ নাম দেখে সবাই আঁতকে উঠলেন (২৫/০৭/২০১১)
মুসলিম বিশ্বে জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে জনজাগরণে রেনেসাঁর আবির্ভাব ঘটুক (২৪/০৭/২০১১)
বাস্তবতা হলো দুর্নীতি করলেই বরং ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে লেনদেনের মাধ্যমে নিরাপদে থাকা যায় (২৩/০৭/২০১১)
স্বাধীনতার পর থেকে হিন্দু-বিহারিদের সম্পত্তি দখলে আওয়ামী নেতা-কর্মীদের ভূমিকাই অগ্রগামী (২২/০৭/২০১১)
মাওলানা সাঈদীর প্রস্তাবে রান্নাবান্না শুরু হলো কিন্তু তার আয়ু মাত্র তিন দিনের (২১/০৭/২০১১)
কারারক্ষী অম্লান বদনে বললো, হালকা-পাতলা মাইর না দিলে স্যার শয়তান শায়েস্তা হয় না (২০/০৭/২০১১)
প্রধানমন্ত্রীসহ চারজন মন্ত্রী নারী হলেও নারীর সম্ভ্রমের মর্যাদার প্রমাণ দেশবাসী পায়নি (১৯/০৭/২০১১)
আগের লেখা
1331


শেয়ারবাজারে তুঘলকি কারবার : দ্বিতীয় পর্ব

মাহমুদুর রহমান

শেয়ারবাজার পরিস্থিতি বিষয়ক মন্তব্য প্রতিবেদনের শেষ পর্ব বড় বিষণ্ন মন নিয়েই লিখতে বসেছি। গত সোমবার এক তরুণ বিনিয়োগকারী তার ৭০ লাখ টাকার পুঁজি হারানোর মনোবেদনা সইতে না পেরে অসহায় স্ত্রী এবং চার বছরের একমাত্র আদরের শিশু কন্যাটিকে কঠিন জীবন সংগ্রামে এই সংসার সমুদ্রে নিঃসঙ্গ ফেলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সেই ট্রাজেডির সব দায়দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। আওয়ামী লীগ প্রতিবার ক্ষমতায় আসবে আর দেশের লাখ লাখ মানুষকে শেয়ারবাজার ব্যবসায় নানারূপে প্রলুব্ধ করে তাদের সর্বস্বান্ত করে যাবে এমন পরিস্থিতি মেনে নেয়া যায় না। এই লুটেরা শাসকশ্রেণীর প্রতি হৃদয়ের সবটুকু ঘৃণা একত্রিত করে ধিক্কার জানাচ্ছি।

শেয়ারবাজার কারসাজির বিষয়ে লেখা মন্তব্য প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে ওই বাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ সুবিধা এবং এদেশের ধনিক শ্রেণীর কুিসত বিলাস-ব্যসন নিয়েই লিখেছিলাম। আজ সরকার এবং সরকার সমর্থকদের দুই দফায় শেয়ারবাজারে তারল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ তহবিলের নিষম্ফলা ঘোষণা এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করেই দুই পর্বের মন্তব্য প্রতিবেদন সমাপ্ত করব।

গত ছয় মাস ধরে কৃত্রিম মূল্যসূচক অন্তত ৬০০০-এর কোটায় ধরে রাখার ব্যর্থ প্রচেষ্টায় সরকার প্রধানত কালো টাকা বিনিয়োগের সুবিধা এবং বাজারে তারল্য বৃদ্ধি করার বারংবার ঘোষণা দিয়ে একই কুমিরছানা বার বার দেখানোর ব্যর্থ কৌশল নিয়েছিল। প্রথমে ২০১১ সালের মার্চে অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। তখন বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংক (সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা), জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) যৌথ উদ্যোগে এই তহবিল গঠিত হবে।

দেশের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় মেয়াদহীন (Open end) মিউচ্যুয়াল ফান্ড ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাধারণ সূচক ১০৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫৫৩৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আশার বেলুনে হাওয়া দেয়ার জন্য আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নতুন এই তহবিল গঠনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার হবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। সেই বহুল আলোচিত ফান্ডের বর্তমান অবস্থা সার্বিক শেয়ারবাজারের মতোই করুণ। অক্টোবরের ১০ তারিখ থেকে ইউনিট বিক্রি শুরু হলেও আমার পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র ২০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা গেছে।

বাংলাদেশ ফান্ড এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ার পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে অপর একটি মেয়াদহীন (Open end) ফান্ড গঠনের ঘোষণা দিতে রীতিমত বাধ্য করা হয়। অক্টোবর ২২, ২০১১ তারিখে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএবি ৫ হাজার কোটি টাকার মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের ঘোষণা দিলেও ফান্ডে কোনো অর্থ জমা হওয়া তো দূরের কথা, এখন পর্যন্ত এ ফান্ডের আনুষ্ঠানিক আবেদন পর্যন্ত এসইসিতে জমা দেয়া হয়নি। কেবল সরকারপ্রধানকে খুশি করার জন্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পুনরায় প্রতারণায় অংশ নিয়েছেন ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) নামক সংগঠনের নেতারা।

গত বছর নভেম্বর থেকে বিনিয়োগ শুরু করার কথা থাকলেও বিএবি’র নেতারা এখন পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা বলছেন। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফান্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে সেদিন বিএবি’র চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে তহবিলের আকার পাঁচ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত এর আকার আরও বাড়বে। তার কথা শুনে তখন মনে হয়েছিল, টাকা ছাপানোর দায়িত্ব এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিবর্তে বোধহয় দেশীয় ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে দেয়া হয়েছে। যেন তারা ইচ্ছামত টাকা ছাপাবেন এবং শেয়ারবাজারে অকাতরে ঢালতে থাকবেন।

বিএবি চেয়ারম্যান ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দ্বিগুণ আশ্বস্ত করার জন্য বলেছিলেন, আমানতের ১০ শতাংশের আইনি সীমা মেনে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, এরই মধ্যে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ শুরু করেছে। নজরুল ইসলাম মজুমদারের এসব বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই সেদিনও পুঁজিবাজারে পূর্ববত্ প্রভাব পড়েছিল। দিনের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই মূল্যসূচক ২৯৫ পয়েন্ট বেড়ে গিয়েছিল। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ধারা অবশ্য সারাদিন অব্যাহত না থাকলেও দিনশেষে সূচক ১০৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬৫৪-তে দাঁড়িয়েছিল। সূচকের সঙ্গে তাল রেখে লেনদেনের গতিও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সেদিন ঢাকার পুঁজিবাজারে ৬১৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। বিএবি’র মুজিববাদী নেতৃবৃন্দও যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথে বসাতে পুঁজিবাজারের চিহ্নিত সব মার্কেট ম্যানিপুলেটরদের মতোই আচরণ করেছেন, সেটি বিগত তিন মাসে প্রমাণিত হয়েছে। ‘স্টক মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ নামক সোনার হরিণ আজ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছে অধরাই থেকে গেছে। বিএবি চেয়ারম্যান গত নভেম্বরে যখন শেয়ারবাজারে নতুন বিনিয়োগের হাজার হাজার কোটি টাকার গাঁজাখুরি গল্প শোনাচ্ছিলেন, তখন বাংলাদেশের অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংক তীব্র তারল্য সঙ্কটে ভুগছে। ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান হিসেবে তিনি বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না—এমন কথা আমার পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন। অর্থাত্ জেনে-শুনেই বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

ফান্ড গঠনের কাগুজে ঘোষণা দেয়ায় বিএবি আজ জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত। ফান্ডের আলোচনা সমাপ্ত করে এবার বাজার তারল্যের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক।
ইতোমধ্যে উল্লেখ করেছি, বিএবি নেতৃবৃন্দের বায়বীয় ফান্ড গঠনের ঘোষণার সময় দেশের বিপুলসংখ্যক বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভয়াবহ তারল্য সঙ্কটে ভুগছে। গত শুক্রবার রাতে চ্যানেল আই’র ‘আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে সাবেক সচিব মো. আসাফ্উদ্দৌলাহ এসেছিলেন। বিদ্যমান তারল্য সঙ্কট নিয়ে আলোচনাকালে তিনি তার এক বন্ধুর ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন নিয়ে হয়রানির গল্প শোনালেন। সেই ভদ্রলোককে তারই সঞ্চয়ী হিসাব থেকে নিজের টাকা পেতে পাক্কা আড়াই ঘণ্টা তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার অবশ্য ভদ্রলোককে চা-কফি খাইয়ে যথাসম্ভব ঠাণ্ডা রাখতে চেষ্টার ত্রুটি করেননি। সঙ্গত কারণেই সে রাতের আলোচক ব্যাংকের নামটি উল্লেখ করেননি। আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর শাশুড়ি জনতা ব্যাংকের একটি শাখা থেকে মাত্র চার লাখ টাকা উত্তোলন করতে গেলে তাকে একদিনে পুরো টাকা দেয়া যায়নি।

গত শনিবার ইংরেজি দৈনিক দি ইনডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার সংবাদ ছিল, “18 banks face acute liquidity crisis, some banks are desperate in getting cash, driving call money rate high”। সংবাদটির প্রথম প্যারাটি উদ্ধৃত করলেই পাঠক সঙ্কটের ভয়াবহতা সহজেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন। দি ইনডিপেন্ডেন্ট বলছে, “Two state owned, 14 private and two foreign banks are in such an acute liquidity crisis that they are driven to borrow from the call money market almost every working day to meet their clients demand for cash.” (দুটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন, ১৪টি বেসরকারি এবং দুটি বিদেশি ব্যাংক এতটাই তীব্র তারল্য সঙ্কটে ভুগছে যে, গ্রাহকদের নগদ চাহিদা মেটাতে প্রায় প্রতিদিন তারা মুদ্রাবাজার থেকে টাকা ধার করতে বাধ্য হচ্ছে।)

শুধু তা-ই নয়, একই সংবাদে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতবহির্ভূত অন্য আটটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও বিপজ্জনক। দি ইনডিপেন্ডেন্ট সরকার সমর্থক পত্রিকা হিসেবেই সাংবাদিক ও পাঠকমহলে সবিশেষ পরিচিত। এই পত্রিকার মালিক সালমান রহমান কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পারিবারিকভাবে অতি ঘনিষ্ঠ বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টাই নন, তিনি এদেশের শেয়ারবাজারেরও অন্যতম নিয়ন্ত্রক। এবারের শেয়ারবাজার কারসাজির জন্য প্রধানত সালমান রহমান, লোটাস কামাল এবং ফারুক খান গংকেই অভিযুক্ত করা হচ্ছে। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার এই মহাবিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যেও উন্মাদ সরকার জনগণের অর্থ আরেকদফা লুটপাটের উদ্দেশ্যে বেসরকারি খাতে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষমতাসীন মহলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ লুটেরারা নাকি মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে লাইসেন্স প্রদানের আগেই বিলাসবহুল সব অফিসও প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন। বিপর্যয়কর সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত একসময়ের ভারতসম্রাট মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সঙ্গে বর্তমান সরকারের অপ্রকৃতিস্থ নীতিনির্ধারকদের তুলনা করলে সেই ভারতসম্রাটকে বোধহয় অপমানই করা হবে।

দেশি-বিদেশি এবং সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশের ৪৭টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে অন্তত ১৮টি অর্থাত্ ৩৮ শতাংশ ব্যাংকই তীব্র তারল্য সঙ্কটে ভুগছে। ফলে এফডিআর এবং কলমানি উভয় ক্ষেত্রেই সুদের হার বিগত তিন বছরে অনেক বেড়ে গেছে। নতুন আমানত সংগ্রহের জন্য দেউলিয়াত্বের প্রান্তসীমায় উপস্থিত ব্যাংকের আমানত সংগ্রহকারী কর্মকর্তারা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দোরে দোরে ঘুরছেন। ফিক্সড ডিপোজিটের জন্য ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ প্রদান করা হচ্ছে। অর্থনীতির এই অবস্থায় কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন যাদেরই কোনো সঞ্চয় রয়েছে, তারা স্বাভাবিকভাবেই কারসাজির পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে পুঁজি হারানোর ঝুঁকি নেয়ার পরিবর্তে উচ্চ সুদের নিরাপদ এফডিআরের দিকেই ঝুঁকছেন। এদিকে এসইসিও বিনিয়োগকারীদের প্রতি সতর্ক বার্তা প্রকাশের মাধ্যমে শেয়ারবাজার যে ঝুঁকিপূর্ণ, সেই ঘোষণাও আনুষ্ঠানিকভাবেই দিয়েছে। বাজার সূচক যখন কারসাজির মাধ্যমে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠানো হয়েছিল, তখন কিন্তু এসইসি’র জনগণকে সতর্ক করার কথা স্মরণে আসেনি। লুটপাট সাঙ্গ হওয়ার পর তারা এখন ‘সাধু’ সাজার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন।

বাস্তবতা হলো, তারল্য সঙ্কটে জর্জরিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে বিনিয়োগের কোনো সামর্থ্যই নেই। এদিকে ডলারের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীদের একাংশ মুদ্রাবাজারে বিনিয়োগের দিকেও ঝুঁকে পড়ছেন। আস্থার অভাব, সার্বিক তারল্য সঙ্কট এবং সামর্থ্যবান জনগণের এফডিআর ও বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগের প্রবণতার মিলিত প্রভাবে পুঁজিবাজারে লেনদেন প্রত্যাশিতভাবেই ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে চলেছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস অর্থাত্ বৃহস্পতিবারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা জানুয়ারির সর্বনিম্ন লেনদেন। মাঝে-মধ্যে কৃত্রিম ঘোষণা দিয়ে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা গত ছয় মাসের অধিককাল ধরে চালানো হলেও অবস্থার বিশেষ একটা হেরফের হচ্ছে না।

গত বছর নভেম্বরের ৩ তারিখে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল মাত্র ১৮১ কোটি টাকা। সুতরাং কালো টাকা বিনিয়োগের পুরনো সুযোগের নতুন করে ঘোষণা এবং একাধিক ফান্ড গঠনের বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়ানো যায়নি। পাঠককে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, বাজার কারসাজির মাধ্যমে ২০০৯-১০ সালে কৃত্রিমভাবে সূচকের রকেট গতিতে বৃদ্ধির সময় শেয়ারবাজারে দৈনিক লেনদেন অবিশ্বাস্য ৩ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছিল।

তিন বছরেরও অধিক সময় ধরে নানারকম উন্নয়নের গল্প শুনিয়ে জনগণকে ধাপ্পা দেয়ার পর সরকার শেষমেশ স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ার কথিত বিনিয়োগ প্রস্তাব, প্রাইভেট পাবলিক পার্টিসিপেশন (পিপিপি)-এর মাধ্যমে বিশাল সব প্রকল্পের অর্থ জোগান, ইত্যাকার আজগুবি গল্প শোনানোর পর হতাশ ও মরিয়া প্রধানমন্ত্রী এখন বিশ্বব্যাংককে রীতিমত ধমকের সুরে বলছেন, দুর্নীতি প্রমাণ করতে না পারলে আমরা বিশ্বব্যাংক থেকে কোনো সহায়তাই নেব না। যেন বিশ্বব্যাংক টাকার থলি নিয়ে জোড়হস্তে আমাদের মহাপ্রতাপশালী প্রধানমন্ত্রীকে রীতিমত সাধাসাধি করছে! ‘বাণীর রাজা’ খেতাবপ্রাপ্ত নতুন যোগাযোগমন্ত্রী জাতিকে শুনিয়েছেন, টাকা কোত্থেকে আসবে জিজ্ঞেস করবেন না, তবে পদ্মা সেতুর কাজ দেড় বছর পর অন্তত শুরু হবেই।

ওবায়দুল কাদেরের ‘আশাবাদ’ বাস্তবে রূপ নিলেও মহাজোট সরকারের বর্তমান মেয়াদের তখন আর মাত্র তিন-চার মাস বাকি থাকবে। দেশের জনগণ আশা করি, এখনও ভুলে যাননি যে দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে ভিন্ন দফতরে বদলিকৃত প্রথম যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ২০০৯ সালে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই দাবি করেছিলেন, এই সরকারের আমলে পদ্মা সেতু নির্মাণ কেবল শুরুই হবে না, সেটি সম্পন্নও হবে। খানিকটা প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে পদ্মা সেতুর বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রেক্ষিতে উল্লেখ করলাম।

গত জুনে ২০১১-১২ অর্থবছরের অবাস্তবায়নযোগ্য অতিকায় বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কমপক্ষে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রার কথা জোরগলায় বলেছিলেন। আমাদের মতো যত্সামান্য লেখাপড়া করা ব্যক্তিরা তো বটেই, এমনকি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি’র মতো আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও সেই লক্ষ্যমাত্রাকে তখনই অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।

আমাদের অর্থমন্ত্রী তার স্বভাবসুলভ ভাষায় সন্দেহপোষণকারীদের রাবিশ, স্টুপিড ইত্যাকার বিশেষণে ভূষিত করে প্রাণভরে গালাগাল করেছিলেন। অর্থবছরের আর মাত্র পাঁচ মাস বাকি থাকতে এবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই স্বীকার করা হয়েছে যে, বর্তমান অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কোনোক্রমেই ৬.৫ শতাংশের বেশি হবে না। ডিজিটাল সরকার শেয়ার কারসাজির মতো পরিসংখ্যান কারসাজিতেও সিদ্ধহস্ত বলে জনমনে বিশ্বাস রয়েছে। প্রবৃদ্ধিসহ নানারকম উন্নয়ন সূচকের যেসব দাবি তারা সচরাচর করেন, সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও দেশ-বিদেশে যথেষ্ট সন্দেহও আছে। তারপরও এ বছর অন্তত প্রবৃদ্ধিকে ৭ শতাংশে টেনে দেখানো সম্ভব হচ্ছে না।

যা-ই হোক, বাংলাদেশ ব্যাংক যে সর্বশেষ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তার প্রতিক্রিয়ায় জিডিপি ও বিনিয়োগ হ্রাসের সঙ্গে শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহও নিশ্চিতভাবেই কমবে। শেয়ারবাজারে গত ক’দিনের ধসের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে নতুন মুদ্রানীতিকেই দায়ী করা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির এই বিপর্যস্ত অবস্থার সব দায়দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, অর্থ-উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরসহ বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদেরই নিতে হবে। সরকারের দুই-একটি একেবারে দালাল শ্রেণীর পত্রিকা ছাড়া দেশের সব পত্র-পত্রিকায় ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের রেকর্ড পরিমাণ ঋণ গ্রহণের সংবাদ ও অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন লেখা দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু সরকারের ঘুম ভাঙেনি।

তারা তখন বিশাল সব প্রকল্প থেকে বিদেশি মুদ্রায় বিপুল অংকের কমিশন গ্রহণের সুখ-স্বপ্নে বিভোর থেকেছেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে প্রাপ্ত ঋণপ্রবাহে আচমকা ভাটা পড়ায় সেই সুখ-স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মহানগরীতে মনোরেলের আর খবর নেই, পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মরহুম শেখ মুজিবর রহমানের নামে বিমানবন্দর নির্মাণের উচ্চাভিলাষী প্রকল্প মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে, পদ্মা সেতু শূন্যে ভাসমান। এ অবস্থায় বাগাড়ম্বর ছাড়া ক্ষমতাসীনদের করার আর আছেটা কী?

চারদলীয় জোট সরকারের একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিডিয়ায় দুর্নীতির প্রবল প্রচারণা সত্ত্বেও ২০০৬ সালে সেই সরকার একটি স্থিতিশীল এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির জাতীয় অর্থনীতি রেখে দায়িত্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। অর্থনীতির সব পর্যায়ে একপ্রকার শৃঙ্খলাও প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিল। তত্কালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান টেন্ডারবিহীন প্রকল্পের ছদ্মাবরণে আজকের মতো সর্বব্যাপী দুর্নীতির দরজা খুলে দিতে কোনো অবস্থাতেই যে সম্মত হতেন না, সে ব্যাপারে তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি শতভাগ নিশ্চিত। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অনেক সময়ই সিদ্ধান্তহীনতার অভিযোগ উঠেছে। সেই তুলনায় শেখ হাসিনা হয়তো অনেক দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু দ্রুত সিদ্ধান্তের নামে তিন বছরের শাসনামলে অর্থনীতিসহ রাষ্ট্র পরিচালনার প্রায় সর্বক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব হঠকারী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন, তার পরিণতিতে বাংলাদেশ প্রকৃতই আজ একটি অকার্যকর রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সিদ্ধান্তহীনতার কারণে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের গতি সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে; কিন্তু বোধবুদ্ধিহীন হঠকারিতা রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তোলে। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা জনগণের সম্পদ লুটপাট অন্তে যদি বাকি জীবন বিলাস-বৈভবে বিদেশের মাটিতে কাটাতে চান, তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীনদের বাধ্য করা সম্ভব হলে বর্তমান সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গেই বহু রথী-মহারথীকে নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে আর খুঁজে না পাওয়ার সম্ভাবনাই অধিক দেখতে পাচ্ছি।
চারদিক থেকে গুজব শুনছি যে, ক্ষমতাসীনদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নাকি এরই মধ্যে স্ত্রী, পুত্র, কন্যাকে অফুরন্ত টাকা-পয়সাসহ বিদেশে পাঠাতে শুরু করেছেন। সময়-সুযোগমত তারাও দেশ ছাড়বেন। আমাদের মতো সাধারণ ব্যক্তিরা যেভাবে এক-এগারো পরবর্তী সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদ সমর্থিত মহাশক্তিধর সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের সরাসরি সমালোচনা দেশে থেকেই অব্যাহতভাবে করে গেছি, তারা আগামীতেও ইনশাআল্লাহ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে একই ভূমিকা নির্ভয়ে পালন করব। সে কারণেই আমাদের মধ্যে কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারভীতি কাজ করে না। যারা তিন বছরে শেয়ারবাজার এবং সরকারের অন্যত্র অপকর্মের নিত্যনতুন রেকর্ড গড়েছেন, তারাই যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামটি শুনলেই কারাগারে ফিরে যাওয়ার ভয়ে লুটেরা শাসকদের হৃদকম্প শুরু হয়ে যায়। মোদ্দা কথা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে লুটপাটকারীদের চিহ্নিত করে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সেখান থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের যথাসম্ভব পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, আন্তরিকভাবে দুর্নীতিবিরোধী একটি গণমুখী সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের আর কোনো সুযোগ নেই।

সেই সময় অবধি লিয়াকত আলীর মতো আর কোনো যুবককে যেন আত্মহননের পথ বেছে নিতে না হয় মহান আল্লাহতায়ালার কাছে সেই প্রার্থনা করেই এই লেখার সমাপ্তি টানছি।
[সূত্র : আমার দেশ-০১/০২/২০১২]
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MahmudurRahman
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ঢাকার ঠিক মাঝখান থেকে কাজী সোলায়মান পাটোয়ারী লিখেছেন, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১২; সকাল ০৭:৩৩
দেশ দরদী মানূষের প্রিয়, জনাব মাহমদুর রহমান সাহেব।

দেশের অতন্ত্র প্রহরী ও বীর সেনানীদের ৫৭ জন অফিসার-কে, যে দিন পিলখানায় নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো, তার তিন দিন পর কোনো এক সংবাদের মন্তব্যে আপনার উদ্দ্যেশ্যে লিখেছিলাম কারা ঐ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনায় থাকতে পারে। সম্ভাব্য মূল নাম গুলি ছিল, জাঃ কঃ নাঃ, র্মিঃ আঃ, সাঃ খাঃ, এ ছাড়া আরোও অনেকে।

আজ আপনাকে আরেকটি সম্ভাব্য খবর না দিলে-ই নয়!
দালালদের পত্রিকায় খবরে প্রকাশ!

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্টার নেত্রিত্বে বাংলাদেশ!

এর একমাত্র কারন!
শেয়ার বাজার থেকে হাজার হাজার কুটি ডলার লুটে নিয়ে সেই মোরলদের কাছে পৌছানো হচ্ছে, যারা কখনও সখনও অপাত্রে অর্থাৎ , অশান্তির হোতাদের নামেও তাদের তথাকথিত শান্তির নোবেল বরাদ্দ করে থাকে।

সেই শান্তি কাগজের জন্য
শেয়ার ব্যবসায়ীরা হয়েছে পন্য।

তোরা যে যা বলিস ভাই
আমার শান্তি কাগজ চাই।

একদিন তোরা বুঝবি
আমায় তোরা খুজবি,

দাদা বাড়ী যেতে তোরা
কাটা তারে ঝুলবি।
77685
১২১/৪, নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা - ১০০০ থেকে হারুনর রশীদ। লিখেছেন, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১২; বিকেল ০৫:০৩
সরকারের মন্ত্রীদের কথা শুনে কবিতাটি মনে পড়লঃ
"অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশী আজ চোখে দেখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই, প্রীতি নেই, করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।"
77714
ঢাকা থেকে আনোয়ার লিখেছেন, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:৩৪
"এই লুটেরা শাসকশ্রেণীর প্রতি হৃদয়ের সবটুকু ঘৃণা একত্রিত করে ধিক্কার জানাচ্ছি।"----- শাবাশ, মাহমুদুর রহমান শাবাশ। আপনার সুরে সুর মিলিয়ে আমারও কামনা তাই। ফেরাউন-নমরূদদের উপর আল্লাহ-পাকের ধ্বংস নেমে আসুক।
77717
পাটুয়াটুলী থেকে তামান্না লিখেছেন, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ০৯:৩৩
লিয়াকত আলীদের উচিত শেখ হাসিনার কাছে কৃ্তজ্ঞ থাকা --
"শান্তি"-র জন্য জীবন-উত্সর্গ হবার ভাগ্য কজনের হয়! বিশেষ করে
"শান্তির রানী"র হাতে!
77722
Canada থেকে Bipul লিখেছেন, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ১১:৫৪
May Allah save our country. Only Allmighty can help us now to get rid of these devils.....
77730
সুইজারলেন্ড থেকে জর্জ লিখেছেন, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ১২:৫৯
ধন্যবাদ জনাব মাহবুবুর রহমানকে আরো একটি সুন্দর লেখা পাঠকদের উপহার দেয়ার জন্য।
আমার মনে বরাবরই একটি প্রশ্ন জাগে বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে পূর্বের ন্যয় তারা তো এই সরকারের কোন একটি অপকর্মেরই বিচার করবেনা বা করতে পারবেনা বা করতে দিবেনা বা ..., বরং বিএনপির মধ্যে যে সব (বেশির ভাগই খোলষ/রং পাণ্টানো কমিনিষ্ট মান্নান ভূঞার মত) সুবিধাভোগী রয়েছে যারা নানা কায়দায় এই সব বিচার বাধাগ্রস্হ করে নিজেরা আকন্ঠ দূর্ণিতিতে লিপ্ত হবে, আর এর সাথে স্বাধীনতা বিরোধী আওয়ামীলিগ ও তার জারজ সন্ত্রাসীরা তো রয়েছেই মাঠে হরতাল বা নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য।
77738
London থেকে Takmal uddin লিখেছেন, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১২; সকাল ০৭:১৪
What i am gone write i don't understand, because i am start writing about this topic i want to write something that's comes from bottom of my heart and also all the investor who lost there hope there sleep and there dream. we have hard lots of freedom fighter who sacrifice there life for there country or for there hart caching dream,but may be we never hard what we hard in our motherland our Beauty-full Bangladesh, we have seen a tragic drama that's some of use take a lots of our hope,our dream and now we have seen we lost our investor fighter. I want to make dua to the Allmighty Allaha to gives us power to be patient and also make dua to provide us a good leader who can bring our hope,our dream amin!!!!
77749
সৌদিআরব থেকে মোহাম্মদ আলী লিখেছেন, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১২; দুপুর ০২:২৩
আমার পরামর্শে-২০১১ (সালের মন্তব্য)
(১)
আমাদের বুঝে আসে না দীর্ঘদিন পাইপ লাইনে থাকা "ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইনটি" পাশ করতে এত দেরী হয় কেন?
৪ দলীয় জোট সরকারও তাহা নিয়ে অনেক গড়িমসি করেছে, বর্তমান সরকারও তাই..!
দেশের অর্থনৈতিক আরোও "বারোটা বাজার" পর মনে হয় তা পাশ হবে??

ওপারেটরের দায়িত্বশীল যখন রেগুলেটরের দায়িত্ব পেয়ে যাবে, তখন বলার প্রয়োজন নেই যে উনি অনেক কৌশল জানেন। কিভাবে লুণ্টনকারীদের সাথে আতাঁত করে হাজার হাজার কোটি টাকা মহা কেলেংকারী করেছেন।
কোথায় গেল সেই জিয়াউল হক খন্দকার??
সামিটগ্রুপের শেয়ার আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে?
কেপিসিএল কোং শেয়ার কি আজ পর্যন্ত কোনদিন ওপেনিং প্রাইসে গিয়েছে?
"সব শিয়ালের এক রা...!!"
আমরা মনে করি সম্মিলিতভাবে একযোগে শেয়ারবাজার লুন্ঠন করা হয়েছে..!!
(২)
সরকারীদল , বিরোধীদল, ডিএসসি,এসইসি, সিএসসি ও দেশের বুদ্ধিজীবি-সুশীল সমাজের হর্তাকর্তাসহ সরকারের সকল নীতিনির্ধারকদের মুখে এতদিন পরিসংখ্যানের বক্তব্য শুনে আসলাম শেয়ার বাজারে ৩৩ লক্ষ বিনিয়োগকারী।
আর আজ মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সংসদে সদ্য দেয়া বক্তব্য থেকে নতুন করে আমরা জানেত পারলাম শেয়ার বাজারে এখন ১১ লক্ষ বিনোয়োগকারী।
তাহলে বাকীরা বাজার থেকে কি ঝড়ে পড়ে গেছে...???
ডাইরেক্ট ৩৩ থেকে ১১ লক্ষ.....!! সাবাস মন্ত্রী মহোদয় আপনার এই সফলতার জন্য....!!!
কাদোঁ বিনিয়োগকারীরা.....কাদোঁ.....!
তোমার পুজিঁ চোখের সামনে লুন্ঠন করে ওরা নিয়ে গেল কাদোঁ...!!
দেখতে দেখতে চোখের সামনে টাকা বরফের মত নি:শেষ হয়ে গেল, তারপরও কি বসে বসে কাঁদো..!!!
আল্লাহর কাছে গণমোনাজাত কর আর রাজপথে বসে সিজদায় মাথানত কর..!!!
(৩)
রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন সাধারণ মানুষের যাওয়ার বা অভিযোগের কোন স্থান থাকে না। কারন অভিযোগ করে কোন লাভও হবে না।
(৪)
পরবর্তীতে ভক্ষক যখন, রক্ষক হয়ে বাজারে "কোরামিন" ইনজেকশন্ বা "গ্লুকোজ" সেলাইন দেয়ার চেষ্টা করে তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাকে আর বিশ্বাস করে না।
(৫)
শেয়ার বাজার হলো খুব 'সেনসিটিভ' বিনিয়োগের জায়গা। সুতরাং এ ক্ষেত্রে "প্রাণ হজম কেন্ডি" খেলেও অনেকক্ষেত্রে কোন কাজে আসবে না....!!!
(৬)
সালমান এফ রহমান ও লুটাস কামালরা যেভাবে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারকে পরিকল্পিতভাবে অতি মূল্যায়িত করে বাজারের লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে অর্থনীতির আত্মবিশ্বাসের বারোটা বাজিয়েছে, ঠিক তেমনি মনে হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ৪০০ ডলারের স্বর্ণকে পরিকল্পিতভাবে ১৮০০ শত ডলারে বিক্রি করে ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোন পলিসি পাস করে স্বর্ণ বাজারের সূচকের পতন ঘটিয়ে দেওয়ার সন্দেহ-সংশয়কে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
আর অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের একটি বিপর্যয় যদি বিশ্ব অর্থনীতিতে বয়ে যায়, তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। সুপার পাওয়ার কান্ট্রি হিসেবে তাদের দ্বারা অনেক কিছুই সম্ভব।
হায়....! হায়....! সাবধান...!! সূচক অতি মুল্যায়িত........!!!!!
(৭)
"যাদের নিজস্ব পুঁজি আছে, আসলে তাদরে জন্যই শেয়ার বাজার।"
"পরগাছা পুঁজির লোকদের স্বাস্থ্যের জন্য, শেয়ার বাজার ক্ষতিকর।"
(৮)
হতাশ হয়ে কোন লাভ নেই এবং ডিজিটাল কায়দার অপারেশনের সামনে করারও কিছু নেই। লুটেরাদের আরোও যখন টাকার প্রয়োজন হবে, শুধুমাত্র তখনই ওরা সব ব্যবস্তা করেই আবার শেয়ার বাজারে ডুকে তা উপরে তুলবে।
হুঁশিয়ার....!!!
(৯)
আপনার এই পরামর্শ তখনই ওরা কানে নেবে, যারা সরকারের আশ-পাশে আছে এবং কেলেংকারীতে জড়িত তাদের যদি (ঐ লুটেরাদের) খেয়াল হয় আগামী সংসদ নির্বাচনের আরো কিছু টাকা শেয়ার বাজার থেকে লুটে নেয়া দরকার এবৎ কাংখিত ফান্ড বা লক্ষ্যমাত্রা পুরো হয় নাই। নতুবা বাজেটে একটি পজিটিভ প্রনোদনা না দেয়ার কোন কারণ আমরা দেখছি না, তাতে বুঝা যাচ্ছে দেশ মধ্যবর্তী নির্বাচনের (সংঘাত-সংঘর্ষের) দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে...!!
(১০)
বর্তমানে মূলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার যখন একাধারে তিন দিন দশ পয়সা(!) বিশ পয়সা(!) করে বাড়ে, তখন ডিএসই-এসইসি দা,কুড়াল ইত্যাদি নিয়ে চতুর্মূখী আক্রমণ করে। বর্তমানে মাসের মাস যখন সূচকে একাধারে লালবাতি জ্বলে তখন ডিএসসি,এসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থমন্ত্রনালয় বিভিন্ন চাপাতিওয়ালা, কুড়ালওয়ালা কারো কোন মাথা ব্যথা আমরা দেখি না!!
(১১)
কই? বাজারে যখন পূর্বে ৩ হাজার কোটি টাকার উপর লেন-দেন হচ্ছিল এবং মাসের পর সূচক গ্রীন থেকে গ্রীনের দিকের যখন যাচ্ছিল, তখন এই সব অস্র কোথায় ছিল??
হ্যাঁ, জনগণ এখন বুঝতেছে যে-নেটওয়ার্কের মতো ছিল "সব শিয়ালের এক রা.....:লাভ নেই যা হবার হয়ে গেছে...!!
উনারা সবসময় বলে মূলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার দেখে কিনবেন। আপনি কি মনে করেন বর্তমানে মূলভিত্তি বলতে কোন শেয়ার আছে????
সব শেয়ার এক শেয়ার হয়ে গেেছে!!!!
ঐ কৃষকের বন্ধু কৃষক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে মনে হয় আবারও কৃষকের অনুষ্টান "মাটি ও মানুষের" কাজে পাঠিয়ে দেয়া উচিত।
"বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-এটা ঐতিহাসিক সত্য কথা..!!
টিভিতে আমরা দেখেছি শেয়ার বাজার এক্সপার্টরা সব টক শো-তে ওরা বার বার বলেছে-"বাজার এখন আগের মতো অসচ্ছতা নেই, সুতরাং ৯৬ এর মতো ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে নেই,বাজার এখন আগের মতো নেই।"
ঐ রিক্সাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা ও গ্ৃহপরিচারকিা কাজের মেয়েরা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে মরছে...!! এরা শেয়ার বাজার বুঝে না,কিন্তু ওরা তো(!) শেয়ার বাজার বুঝতো..!
এবার শেয়ার বাজারের বিনিয়োগের রোড শো নিয়ে আপনারা আবার আসেন, দেখবেন আপনাদের জন্য কি চমৎকার ফিল্ড অপেক্ষা করছে......!
"You can make fool some people sometime, all people one time. But you can't make fool all the people all the time"
(১২)
May be they are stupid....!!???
We will know later in the end who is stupid?
Who is cheater? Who is gambler?
Who given lots of license to the whole country and from everywhere to collect all poor peoples money rapidly?
May be ABDULLLAHs doesn't know very well about share...? Off course DSE president knows?!!! SEC & CSE chairman's knows?? Prime Minister may doesn't know about Share market but off course her Finance Minister should know very well??!! Bangladesh Bank governor should know about this market very well??? Chairman of the Economical purpose parliamentarian permanent committee should know how to save this kind of stupid (?) ABDULLAHs from arising current situation? Whey their is PM Financial Advisers, off course they should give a proper advice to PM??!! Why some of the gov't lobby Economist telling that SHARE market is CUSINO? Do you think that BANKs,Marchat banks and Brokerages house owners Finacial institute they doesn't know better then ABDULLAHs? Why sale lots of loan out of Bangladesh Banks control? Why they make lots of Road Shows nationally and internationally to invest money in the share market? Why Ex-President of Mr.Rakibur Rahman said that time- (one day Share Bazar buy-sale will reached to more 3,000 (thousand) crore, but today it's collapsed from 33,000 (thousand) crore to less then 300 (hundred) crore..!!! Why one of Gov't responsible person suddenly in falling market said that "Share Market index should be less then 5,000 (thousand) POINTS??!!" And he said now "even if I said still it is not less then 5 thousand index", our question if we minus recents declared companies RIGHT SHARES, BONUS SHARES, PRIORITIES SHARE, NEW CO.SHARES,MITUAL FUNDS, OTC MARKET SHARES even you don't want to trust that the INDEX is not only less then 5,000 points- it is less then 3,000(thousand)points now..!! It's Shame...!! It is Shame..!!!!!
What do you mean by HIGH PRICE SHARE?????
Forget about Starting fall market..!!
It you study last one month market price also you will say it is high price market?? If it is not high price market why it is down day by day?????? Today the situation if you by any current price,you will lose your invest money..! Why..!!
People believes that ABDULLAHs are not united and intelligent those above responsible persons are wise and clever that's why millions of ABDULLAHs is LOSERS..and
all .......WINNERs...!!
(১৩)
IF THIS MARKET IS REALLY CUSINO,NOT HELPING TO THE COUNTRY FINACIAL PROGRESS, IT SHOULD BE CLOSE IMMEDIATLY...!!??
কাঁেদা...! বিনিয়োগকারী কাঁদো...! গায়েবানা নামাজ পড়ো আর কাঁদো...! ওরা সব টাকা নিয়ে গেছে, মনে রাখবে শেয়ার মার্কেটে ঐ দিন আর আসবে না..! আইন তো হাতে তুলে নেয়া ঠিক হবে না। তাই কোন ঐ লুটেরা সিিন্ডকেটের ফাঁদে পা দিও না। কেন ৯৬-এর শেয়ার কেলেংকারী ভূলে গেলে? সবার জানা উচিত ছিল লুটেরা সবাই এক..!
"বাংলাদেশ সর্বহারা শেয়ার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি"র সকল সদস্যদের প্রতি আমাদের প্রবাসীদের মহান প্রভূর কাছে কায়মনোবােক্য দোয়া রইল।
"দোয়ারে তোমার সাত সাগরের পানি আনিয়াছে ফেঁনা, তবু তুমি জাগলে না.!!"
হে সংগ্রামী জাগো....! হে বীর জাগো...!! এ দেশ তোমার ...! এ মাতৃভূমি তোমার..! মমতাময়ী মায়ের মমতা কথা কখনো কি তোমার মনে পড়ে না?? তাহলে কেন মাতৃভূমির সন্তান হয়ে লুটেরাদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাবে না?
"Blame Game " বাদ দিয়ে দোষীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার সংগ্রাম সংগ্রামী। তুমি মৃক্তিযোদ্ধার সন্তান, বীর সৈনিক-বীরের সন্তান...!!
(১৪)
পুরো আর্টিক্যাল এর সাথে আমরা একমত, তবে দেশের শেয়ার বিশেষজ্ঞ ও গুনীজদের উচিত ছিল সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে এই পরিস্থিতি তুলে ধরে বুঝাতে সক্ষমতা অর্জন করে ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারীদের রক্ষা করা। বর্তমানে শেয়ার বাজার "টাইটানিকের" মতো ১৭ হাজার ফুট পানির নীচে ডুবে গেছে। হয়ত: বাজারে এখন যারা আছে এবং ভবিষ্যতে যারা থাকবে তারা হয়ত: কোন একদিন পানির নীচ থেকে সংগ্রাম করে ভেসে উঠতে সক্ষম হবে। কিন্তু ধুলিস্যাত হয়ে গেল বিনিয়োগকারী গৃহীনিরা, গৃহকর্তী,রিক্সাওয়ালা,তরকারীওয়ালা,কৃষক,মেহনতী মানূষ, সরকারী অব:প্রাপ্ত কর্মচারী যারা পেন্ শনের টাকা তার বেকার যুবককে বিনিয়োগর জন্য ব্যবসা করতে দিয়েছিলো, প্রবাসী যারা দেশের আত্নীয়-স্বজনদের ব্যবসা করে সচ্ছলতা অর্জন করার জন্য ফিডিং ব্যাকিং দিয়েছিল, যারা প্রবাসে এসে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য রোড শো করেছিল এবং যাদেরকে এই বাজারে বিনিয়োগ করতে বাধ্য করেছিল-ইত্যাদি ইত্যাদি শ্রেণীর লোকদের কোমর এমনভাবে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে যারা আর কোনদিন শেয়ার বাজারের নাম পর্যন্ত নিবে না বা নিতেও ভয় পাবে।
হয়ত: কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যারা শেয়ার বুঝেনা, ওরা বাজারে আসে কেন? অনেক মন্ত্রীওতো শেয়ার বাজার বুঝেন না..!! অর্থনীতির ভাষায় চাহিদা যদি আবিস্কারের প্রসূতি হয়ে থাকে, তাহলে নি:সন্দেহে অভাব ঐ সকল মানুষের বাজারে আসার অন্যতম প্রধান কারণ। বেচেঁ থাকার সংগ্রামে কেউ সঠিক পথ পায় আর কেহ চোখ থাকতেও চোখে পথ দেখে না। উই পোকার মতো গর্ত থেকে বাহির হয়েই বাতির আলোয় পড়ে মরে।
তাই বলে কি শিক্ষিত বাটপাররা ঐ খেটে খাওয়া মানুষের সর্বস্ব লুটে নিবে আর পুরো দেশের শিক্ষিত সুশীল সমাজ কিছু না করে বসে বসে দেখবে আঙ্গুল চুসবে, তা কখনো হতে পারে না..!! একটি মহিলা "ধর্ষিত" হলে যেমন আর কিছু বাকি থাকেনা, ঠিক তেমনিই সিন্ডিকেট গ্যামবলারারা এমন একটি কাজ করলো ঐ তথাকথিত শিক্ষিত বাটপার চালাক লূটেরা। পরিনাম ঐ খেটে মানুষগুলোরও ধর্ষনের মতো সর্বস্ব খুইয়ে বিপথগামীতা ছাড়া আর কোন পখ সামনে খোলা রইলো না।
(১৫)
বাংলাদেশে বাজারে শেয়ার যারা বেশী বুঝে, তারাই সত্যিকার অর্থে লুটেরা নয়কি..নয়কি...নয়কি....??
(১৬)
চমৎকার লেখা, আবু আহমেদ সাহেব যদি এই লেখাটা নভেম্বরের মাঝামাঝি লিখতেন তাহলে অনেক ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারীর উপকার হতো। এখন আর "কাঁটা-ঘাঁয়ে লবণ ছিটেঁ দিয়ে লাভ নেই।" কারণ অনেকের কাছে "গরমের সময় শীতে ওয়াজ" মনে হবে। আর যা হবার তাতো হয়ে গেছে।
শেয়ার বাজার ক্রাশের জন্য যাদের বুলেট একযোগে একই সময়ে কাজ করেছে-
১) দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদের সময়োপযোগী গণ সচেতনমূলক ভুমিকা না নেয়া।
২) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অর্থনৈতিক প্রতিষ্টানকে একযোগে ১০ শতাংশের উপর বিনিয়োগ তুলে নেয়ার চুড়ান্ত সময় বেধে দেয়।
৩) পতনের সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ- উপদেষ্টার শেয়ার বাজার ও শেয়ার ব্যবসায়ীদের চোরের বা চুরির সাথে তুলনা করে বেফাঁস মন্তব্য করা।
৪) বাজার যখন পতনের মুখে তখন অর্থমন্ত্রীর সরকারী শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার সময় বেধে দিয়ে ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানের শীর্ষদের বাধ্যমূলক পদত্যাগ হুমকি দেয়া।
৫) ঠিক ঐ সময় অর্থনৈতিক বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি আ.হ.ম.মোস্তফা কামাল (ওরফে লুটাস কামাল) সাহেবের বর্তমান শেয়ার বাজার ৩ হাজার পয়েন্টে কাছাকাছি নিয়ে আসা উচিত বলে মিডিয়ায় মন্তব্য সেনসিটিভ বিবৃতি দেয়া।
৬) ডিএসসির সকল ওপারেটর ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় সময়োপযুগী কিছু না করা থেকে বিরত থাকা।
৭) রেগুলেটর হিসাবে এসইসির দূরদর্শী কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সকাল-বিকাল আবোল-তাবোল মার্কা নোটিশ বা সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীকে আস্থাহীনতা তৈরী করে বাজারকে কবরের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সহযোগীতা করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে জড়িত সবাই তাদের হাতে থাকা সকল শেয়ার বিক্রি শেষ করে একযোগে সিন্ডিকেটের মতো বাজারকে ৩ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি নিয়ে আসা। কই আর কত প্রায়তো কাছাকাছি এসে গেছে..! আপনারা আর কি চান? ভাগ্য ভাল আমাদের কাউকে বিশ্বাস না করে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার ২১৫০ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলাম আজ তা ১১৫০ টাকার আশপাশে ঘুর ঘুর করতে। (এ যেন এক বাজার ধর্ষণ জাতি নতুন করে দেখলো সেই ৯৬ সালের আওয়ামীলীগ সরকারের বর্তমান ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে।) কাদোঁ বিনিয়োগকারীরা কাঁদো...!!! ভিক্ষার ঝুলি গলায় নিয়ে মিলাদ পড়ো-আর কাঁদো, তবে মনে হয় কোন লাভ হবে না..!! যা হওয়ার সব হয়ে গেছে..!!!
77766
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মাহমুদুর রহমানের জন্ম। ১৯৭৭ সালে বুয়েট থেকে তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন এবং ১৯৮৬ সালে জাপান থেকে সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮৮ সালে তিনি এমবিএ করেন। টিএনসি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও হিসেবে তিনি কাজ করেন। টেক্সটাইল, সিরামিক ও কেমিক্যাল সেক্টরে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা অপরিসীম। তিনি ১৯৭৭ সালে বিওসিতে অপারেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পেশা শুরু করেন। এরপর মুন্নু গ্রুপ, ডানকান ব্রাদার্স, বেক্সিমকো গ্রুপ, পদ্মা টেক্সটাইলে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। মুন্নু সিরামিক, শাইন পুকুর সিরামিক ও আর্টিসান সিরামিক তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব ও দক্ষতার ফলে উন্নতি লাভ করেছে। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম বোন চায়না প্ল্যান্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তিনিই বিশ্বে টেকনোলজিক্যাল \\\'ব্রেক থ্রো\\\' করেন।

বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও জ্বালানি উপদেষ্টার দায়িত্ব সফলভাবে পালন শেষে তিনি তাঁর আর্টিসান সিরামিক নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এরই মধ্যে ওয়ান-ইলেভেন ঘটে যায়। তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তে শুরু করেন লেখালেখি। পাশাপাশি ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ (এনআইজি) গড়ে তোলেন। জরুরি সরকারের সময় দৈনিক আমার দেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। মালিকরা জেলে থাকায় চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়ে পত্রিকাটি। একই সময় বিএসইসি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সঙ্কট আরও বেড়ে যায়। ফলে পত্রিকার সাংবাদিক-কর্মচারীরা ১২ মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। ঠিক এ সময় একদিন তিনি আমার দেশ অফিসে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আতাউস সামাদ সাহেবের সঙ্গে এনআইজি নিয়ে কথা বলতে আসেন। শ্রদ্ধেয় আতাউস সামাদ পত্রিকার সঙ্কট বিবৃত করে তাঁকে পত্রিকাটির হাল ধরতে অনুরোধ করেন। মাহমুদুর রহমান সাহেব সবকিছু শুনে একটু সময় নেন। এরপর তিন-চারটা মিটিংয়েই পত্রিকাটির মালিকানা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং কয়েকজন উদ্যোক্তাকে সঙ্গে নিয়ে এর দায়িত্ব নেন। সেদিন আমার দেশ-এর কয়েকশ\\\' সাংবাদিক-কর্মচারীর জীবন বাঁচাতেই তিনি সাংবাদিকতা পেশায় চলে আসেন।

সাহসী সাংবাদিকতার কারণে মাহমুদুর রহমান সরকারের রোষাণলে পতিত হন এবং এক পর্যায়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়। অবশেষে ১৭ মার্চ ২০১১ সালে তিনি মুক্তি পান।

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy