মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৪:৩৭ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
বেপরোয়া ফ্যাসিবাদের পুলিশি অ্যাকশন (২০/০৫/২০১২)
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বব্যাপী নৈরাজ্য (১৬/০৫/২০১২)
গুমরাজ্যে প্রত্যাবর্তন (০৯/০৫/২০১২)
ছিটমহলবাসীর বঞ্চনা (১১/০৪/২০১২)
আইএসআই নাটকের কলাকুশলী ও বাংলাদেশের রাজনীতি (০৪/০৪/২০১২)
‘বন্ধু’ ভারতের পানি আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত (২৮/০৩/২০১২)
‘বন্ধু’ ভারতের পানি আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত (২৬/০৩/২০১২)
‘বন্ধু’ ভারতের পানি আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত (২১/০৩/২০১২)
‘বন্ধু’ ভারতের পানি আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত (১৪/০৩/২০১২)
সাগর-রুনিকে দ্বিতীয়বার খুন (০৭/০৩/২০১২)
ভারতবন্ধুরা কাছা খুলে নেমেছে (২৯/০২/২০১২)
জেগে উঠছে বাংলাদেশের তরুণ (২২/০২/২০১২)
সরকারি দলের ঢাকা দখল (০৮/০২/২০১২)
শেয়ারবাজারে তুঘলকি কারবার : দ্বিতীয় পর্ব (০১/০২/২০১২)
শেয়ারবাজারে তুঘলকি কারবার : প্রথম পর্ব (২৫/০১/২০১২)
রাষ্ট্রপতির নৈতিকতার পরীক্ষা (১৮/০১/২০১২)
কার মান কখন যায় (১৮/০১/২০১২)
লুটেরা শাসক নির্জীব জনগণ (০৪/০১/২০১২)
ছিল দলীয় আসছে দলীয় (২৮/১২/২০১১)
নিরোরা সর্বকালেই বাঁশি বাজায় (২১/১২/২০১১)
স্বৈরাচার যোগ স্বৈরাচার (০৬/১২/২০১১)
ডিজিটাল দুর্নীতির জয়-জয়কার (৩০/১১/২০১১)
মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশীদের কথা ভাবুন (২৩/১১/২০১১)
শূন্যকুম্ভের প্রবৃদ্ধির বড়াই (২৬/১০/২০১১)
চুরি করলে ইজ্জত যায় না! (১৯/১০/২০১১)
আবদার মিটেছে অধিকার মেলেনি (১২/১০/২০১১)
অধীনতামূলক মিত্রতা চুক্তি (২৮/০৯/২০১১)
ভারতের ভূমি আগ্রাসন (২১/০৯/২০১১)
তিস্তা আমাদের অধিকার করিডোর ওদের আবদার (১৪/০৯/২০১১)
দেশপ্রেমিক হলে দেশের স্বার্থ দেখুন (০৫/০৯/২০১১)
আগের লেখা
1121


বেপরোয়া ফ্যাসিবাদের পুলিশি অ্যাকশন

মাহমুদুর রহমান

বুধবারের নিয়মিত মন্তব্য প্রতিবেদন গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে মহাজোট সরকারের নজিরবিহীন চণ্ডনীতির প্রেক্ষিতে এগিয়ে আনতে হলো। এ দেশে প্রতি মুহূর্তে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। পুলিশের লাঠি শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ নির্বিশেষে সব প্রতিবাদকারীর মাথায় বেধড়কভাবে বৃষ্টির মতো পড়ছে। ক্ষমতাসীনদের আচরণে পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে, তারা দেশে কিংবা বিদেশে কোনো সমালোচনারই পরোয়া করেন না।

বিরোধী দলের চেয়ারপার্সন ব্যতীত সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় বিএনপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতাকে জেলে পোরা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে এক বিরাট অংশকে আবার কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি প্রিজনে বন্দি রাখা হয়েছে। আমি কাশিমপুর-২ জেলখানায় বন্দি থাকার সময় ওই কারাগারটি সম্পর্কে অনেক কথা শুনেছি। ওটা নাকি দুর্ধর্ষ সব জঙ্গি, টপটেরর ও ফাঁসির আসামিদের জন্য তৈরি হয়েছে। সেখানে প্রতিটি সেলে সার্বক্ষণিক সিসিটিভির ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে বন্দিরা ২৪ ঘণ্টা অর্থাত্ টয়লেট সম্পাদনের সময়ও কর্তৃপক্ষের নজরে থাকে। এমন একটি কারাগারে রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি রেখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে হিটলারীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করছেন। ভেবে অবাক হতে হয় একটি সরকার কতখানি বর্বর হলে একজন রাজনীতিবিদকে গুম করেই ক্ষান্ত হয় না, তার অসহায় স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে অধিকতর আতঙ্কিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর রাতে নির্লজ্জভাবে দলীয় ক্যাডারের ভূমিকা পালনকারী পুলিশ তার বাসস্থানে পাঠাতে পারে! বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে আওয়ামীপন্থী ও শেখ হাসিনার চাটুকার ছাড়া অন্যান্য নাগরিকের বসবাস করা ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

বিরোধী দলকে সরকারের গুমের হুমকি
মেয়াদের সাড়ে তিন বছরের মাথায় এসে গণতন্ত্রের শতছিন্ন নেকাবটিও ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার। ক্ষমতার হোয়াইট ওয়াইন (সৈয়দ আশরাফের প্রিয় সোমরস) পানে মত্ত আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিরোধী দলকে এবার ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিয়েছেন। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির নেতৃবৃন্দসহ ১৮ দলীয় জোটভুক্ত ৩৩ নেতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সিএমএম আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের দিনেই এক এগারোর আগে দেশবাসীর কাছে অপরিচিত এই আওয়ামী নেতা হুঙ্কার ছেড়েছেন। মন্ত্রীর চেয়ারে বসে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা যায় কীনা, সেই প্রশ্ন কোনো আওয়ামী লীগারকে করে একেবারেই ফায়দা নেই। অন্যদের কথাবার্তা ধর্তব্যের মধ্যে না এনে কেবল দলটির সভানেত্রীর সংসদের ভেতরে-বাইরে বচন শুনলেই কানে আঙুল দিতে হয়।

তাই শালীনতার প্রসঙ্গ টেনে না এনে আমি বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছি। আইন প্রতিমন্ত্রীর হুমকি প্রদানের দিনেই সাহারা খাতুনের পুলিশ উচ্চ আদালতের এক রুলের জবাবে সোজা বলে দিয়েছে দেশপ্রেমিক, লড়াকু বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী তাদের হেফাজতে নেই। অর্থাত্ ইলিয়াস আলীর পরিণতিও চৌধুরী আলমের মতোই হতে চলেছে। কামরুল ইসলামের হুমকির সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই জবাব গভীরভাবে সম্পর্কিত। ঔদ্ধত্যএবং অশালীন আচরণ ও কথাবার্তার জন্য দেশবাসীর কাছে সবিশেষ পরিচিত আইন (!) প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে ভিন্ন মতের সব নাগরিকের ইলিয়াস আলীর ভাগ্য বরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পছন্দের ব্যক্তি হিসেবে তিনি অবশ্যই জানেন র্যাব ও বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনী কর্তৃক একমাস আগে অপহৃত ইলিয়াস আলীর ভাগ্যে এতদিনে কী ঘটেছে। আইন প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্যে প্রকৃতপক্ষে বিরোধী দলকে গুমের হুমকি দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক আইনে (Rome Statute of the International Criminal Court) গুম (enforced disappearance) একটি গুরুতর অপরাধ। ২০০২ সালের ১ জুলাই এই আইনটি গৃহীত হয়েছে। তাছাড়া ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রে গুম প্রতিরোধে International Convention for the Protection of all Persons from Enforced Disappearance শিরোনামে কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশে গুমের ভয়াবহতার বিষয়ে এ বছর ২০ এপ্রিল বিবিসি “Enforced disappearances haunt Bangladesh” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Human Rights Watch)’র ২০১২ সালের রিপোর্টের নিম্নোক্ত লাইনগুলো উদ্ধৃত করা হয়েছে,

Although the numbers of RAB killings has dropped following domestic and international criticism, there was a sharp increase in enforced disappearances, leading to concerns that security agencies have replaced one form of abuse with another.

(অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে র্যাব কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা হ্রাস পেলেও, গুমের ঘটনার লক্ষ্যণীয় বৃদ্ধি ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা সংস্থাসমূহ এক ধরনের গর্হিত আচরণকে অন্য প্রকার গুরুতর অন্যায় দ্বারা বদল করেছে।)
আইন প্রতিমন্ত্রীর সর্বশেষ হুমকি বাংলাদেশের ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ রূপে এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালতসমূহে তুলে ধরা যেতে পারে। নানারকম আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসীন মহাজোট সরকারের আমলে রাষ্ট্রযন্ত্রের নজিরবিহীন অত্যাচার, নির্যাতনের মধ্যে বসবাস করেও আমি আশাবাদী যে ইন্শাআল্লাহ্, একদিন ক্ষমতাসীন নীতিনির্ধারকদের মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। গুম হয়ে যাওয়া যে কোনো নাগরিকের পরিবারের সদস্য এই মামলা দায়ের করতে পারেন এবং পারবেন। এটা কখনও তামাদি হবে না। ভিন্ন মতাবলম্বীদের ভয়াবহ পরিণতির হুমকিদাতারা বিষয়টি স্মরণে রাখলে উপকৃত হবেন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনে আদালতের দায়
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতা ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংসদে একচেটিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বাংলাদেশে চরম নিবর্তনমূলক একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ চালু করেছিলেন। একই বছরের ১৫ আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থানে তার হত্যার সঙ্গেই সেই চরমভাবে গণধিকৃত শাসন ব্যবস্থার পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন না। একজন স্বৈরশাসকের মতোই ১৯৭৪ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশের তাবত্ সংবাদপত্র আইন করে তিনি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে একটি বিষয়ে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশংসা করতে হবে। তিনি আদালতের কার্যক্রমের ওপর হস্তক্ষেপ করেননি। ফলে রক্ষীবাহিনী অধ্যুষিত বাংলাদেশের জরুরি আইনের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতেও উচ্চআদালত অনেক সাহসী রায় দিয়ে খানিকটা হলেও ফ্যাসিবাদের রাশ টানার চেষ্টাটা অন্তত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অবশ্য সেই সময়ের সম্মানিত বিচারপতিরা উচ্চ মানবিকতাবোধ ও বিবেকসম্পন্ন হওয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করাও তত্কালীন দুর্বিনীত শাসকদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন।

মাজদার হোসেন মামলা নিয়ে এদেশে এক সময় প্রচুর গলাবাজি শুনেছি। সেই মামলার রায়ের আলোকে ভারতপন্থী ও আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং সেনাবাহিনী সমর্থিত মইন-ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাগজে-কলমে বিচার বিভাগ প্রশাসন থেকে পৃথকীকরণের ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণা নিয়ে সেই সময়ের সুশীল (?) পত্রিকাসমূহের প্রচারণা চোখে পড়ার মতো ছিল। তাদের প্রচারণায় মনে হচ্ছিল, আইনের শাসন কায়েম হয়ে বাংলাদেশ যেন পুরাণের ‘সত্যযুগে’ ফিরে গেছে। বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একাধিক প্রকল্পও গৃহীত হয়েছে। কিন্তু, বাস্তবতা হচ্ছে আজকের বিচার বিভাগ বাংলাদেশের ইতিহাসের যে কোনো সময়ের তুলনায় অধিক মাত্রায় দলীয় শৃঙ্খলে আবদ্ধ। দেশের বিবেকসম্পন্ন সব বিশিষ্ট আইনজীবী একবাক্যে বলছেন, এদেশে ন্যায়বিচার পাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। সচেতন নাগরিক মাত্রই জানেন, হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালার বালাই নেই। কেবল দলীয় বিবেচনায় গত সাড়ে তিন বছরে উচ্চআদালতে রেকর্ডসংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ পেয়েছেন। সব বেঞ্চেই সিনিয়র বিচারপতিদের সঙ্গে একজন করে সম্প্রতি নিয়াগপ্রাপ্ত জুনিয়র বিচারককে জুড়ে দেয়া হয়েছে। ফলে বিভক্ত রায় দেয়ার ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড করে বাংলাদেশের নাম গিনেস বুকে ওঠানোর বন্দোবস্ত সম্পন্ন প্রায়। অধিকাংশ রাজনৈতিক মামলায় পূর্বেকার রীতিনীতি (Convention) ভঙ্গ করে জুনিয়র বিচারপতিরা যাদের চাকরি এখনও ‘কনফার্মড্’ (Confirmed) হয়নি, তারাও অম্লান বদনে সিনিয়র বিচারপতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে চলেছেন। কোর্ট রিপোর্টারদের কাছ থেকে শুনেছি, এসব মামলায় বিশেষ চিরকুট পকেটে নিয়েই নাকি এ নবীন বিচারপতিরা এজলাসে ওঠেন। শুনানি শেষে সিনিয়র বিচারপতির রায় প্রদান সমাপ্ত হলে সেই চিরকুট দেখে বিভক্ত রায় ঘোষণা করা হয়।

গত সপ্তাহে সিএমএম আদালতে যে কাণ্ড ঘটল, তার মাধ্যমেও বিচার বিভাগের তথাকথিত স্বাধীনতার স্বরূপ পুনর্বার উন্মোচিত হয়েছে। যে মামলায় সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, বিএনপি দলীয় এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সিএমএম কোর্ট আগেই জামিন দিয়েছে, সেই একই মামলায় বিস্ময়করভাবে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ ৩৩ জন অভিযুক্তের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মধ্যরাতের টক শো’তে নিয়মিত অতিথি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তৃতীয় শক্তির উত্থানের সম্ভাবনা সংক্রান্ত এক মন্তব্য করায় তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে হাইকোর্টে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। সুশীলরা (?) মোটামুটি তার পক্ষে থাকায় এখনও জেলে যেতে না হলেও নিয়মিত উচ্চআদালতে হাজির হয়ে নানা রকম অবমাননাকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন জনপ্রিয় এই অধ্যাপক, কলামিস্ট ও টেলিভিশন স্টার। অথচ মহাজোট সরকারের নেতা ও মন্ত্রীরা বিরোধী দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই অহরহ এই অভিযোগ আনছেন যে, তারা নাকি ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে অসাংবিধানিক কোনো তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনার চক্রান্ত করছে।

মাত্র দু’দিন আগে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তো দেশে এক এগারোর চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু, সেসব মহাশক্তিধরের বিরুদ্ধে কোনো আদালত এখন পর্যন্ত সুয়োমোটো রুল জারি করেননি। আইন সব নাগরিকের জন্য সমান, সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের বাস্তবতায় এখন শুধু কল্পকথাই। এদেশে চেহারা দেখে যে আইনের প্রয়োগ হয়, সেটা ব্যক্তিগতভাবে আমি আদালত অবমাননা মামলাতেই প্রত্যক্ষ করেছি। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এমএ মতিনের ‘below contempt’ তত্ত্ব এখনও কানে বাজে। বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির দায় তাই বিচার বিভাগ এড়িয়ে যেতে পারে না। বিচার বিভাগের দায়িত্বহীনতার কারণেই শ্রমিক নেতা বাকির হোসেন অন্যায়ভাবে জেলে বন্দী অবস্থায় বিনা চিকিত্সায় মৃত্যুবরণ করেছেন, সুুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এমইউ আহমেদকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে, রিমান্ডের নামে দলবাজ র্যাব-পুলিশ কর্মকর্তারা নির্যাতনের লাইসেন্স পেয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শত শত বানোয়াট মামলায় একচেটিয়া জামিন নামঞ্জুর করা হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগকেও এসব কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি ভবিষ্যতে করতে হবে।

মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের ডিজিটাল কায়দা
যাই হোক, পিতা ও কন্যার শাসন পদ্ধতির তুলনায় ফিরে যাই। কন্যা বুঝতে পেরেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সব সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি তাই উদাহরণ সৃষ্টি করে অন্যদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বেশুমার পত্রিকা ও চ্যানেলের মধ্য থেকে মাত্র একটি-দুটি পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলকে বেছে নিয়েছেন। আমার দেশ বন্ধ করেছিলেন, শীর্ষ কাগজ ও চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দিয়েছেন, যমুনা টিভিকে লাইসেন্স দেননি, একুশে টিভির ওপর নানা পদ্ধতিতে আক্রমণ এখনও চলছে। আমিসহ মাত্র চারজন ভিন্ন মতাবলম্বী সম্পাদককে জেল ও রিমান্ডে নিয়েছেন। তাতেই দেখুন, কাজের কাজটি হয়ে গেছে। বিটিআরসি কর্তৃক সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়ার আশঙ্কায় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো কয়েকটি টকশো ব্যতীত প্রবলভাবে সরকারের তোষামোদ করে চলেছে। সেই টকশোগুলোতে আবার অতিথি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বিনা প্রতিবাদে পালন করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে বাংলাভিশনের এক মজার গল্প বলি। সেই চ্যানেলে মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ফ্রন্ট লাইন নামে এক আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন। বাংলাভিশনের একজন প্রযোজক মাস তিনেক আগে আমাকে টেলিফোনে সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানালেন। সঙ্গে আরও বললেন, আমার বিপরীতে থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং নব্য ব্যাংকার ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর। নির্ধারিত রেকর্ডিংয়ের দিন সকালে আকস্মিকভাবে আমাকে জানানো হলো উপস্থাপক মতিউর রহমান চৌধুরী গুরুতর অসুস্থ থাকায় রেকর্ডিং করা যাচ্ছে না। প্রচুর বিনয় সহকারে ভদ্রলোক আমাকে জানালেন, পরের সপ্তাহেই অনুষ্ঠানটি রেকর্ড করা হবে। বলাই বাহুল্য সেই পরের সপ্তাহ আজ পর্যন্ত আসেনি। আরও তাজ্জবের বিষয় হলো ‘অসুস্থ’ উপস্থাপককে আমি কিন্তু নির্ধারিত দিনে অন্য দুই অতিথি নিয়ে যথারীতি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে দেখেছি।

সরকারিভাবে ঘোষণা দিয়ে মিডিয়া বন্ধ না করেও কতটা কার্যকরভাবে সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব এই মেয়াদে তার চমত্কার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রেও আদালত তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে চলেছে। টেলিভিশনে সরকারকে সমালোচনা করতে গেলেই কথা বলার সময় মাথার ওপর সুয়োমোটো রুলের ঝুলন্ত তরবারির কথা স্মরণ করে অতিথিবৃন্দকে কথা গিলে ফেলতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুলের উদাহরণ খানিক আগেই দিয়েছি। একুশের উপস্থাপক অঞ্জন রায় এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানও উচ্চ আদালতে অনুরূপ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে এসেছেন। সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে নিজ, পৈতৃক ও শ্বশুরের পরিবারসহ অতিঘনিষ্ঠ, দেশের জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদও তার উপন্যাসে কী লিখবেন, সে বিষয়ে আদালত রুল জারি করেছে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদপত্রে রিপোর্টিংয়ের বিষয়েও একই স্থান থেকে নির্দেশনা এলেও সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে নির্দেশ প্রদানকারীরা শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছিলেন। অর্থাত্ তথাকথিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে চিন্তা, লেখা, কথা বলা এবং গণমাধ্যমের আর কোনো স্বাধীনতা অবশিষ্ট নেই।

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, দুর্নীতিবাজ ক্ষমতাসীনদের এমন নগ্ন ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে ওঠার কথা ছিল, সেটি এখন পর্যন্ত হয়নি। সুশীল (?) সমাজের আপসকামিতা ও জনগণের ভীরুতার পাশাপাশি বিরোধী দলের বিভ্রান্তিকর রাজনীতিও এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী। বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করেই আজকের লেখায় ইতি টানব।

বিরোধী নেতৃবৃন্দের পলায়ন কৌশল
যে বানোয়াট মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কারাগারে গেছেন, সেই মামলাটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরের মাত্র চারদিন আগে দায়ের করা হয়েছিল। ইলিয়াস আলী গুমের প্রতিবাদে দেশব্যাপী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি তখন ক্রমেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাড়ে তিন বছরের অপশাসনে পিষ্ট জনগণ ঊনসত্তরের মতো গণআন্দোলনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা এমন সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে হিলারি ক্লিনটনের সফরকালে আন্দোলন স্থগিত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। বিরোধী দলীয় নেত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দও মার্কিন সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে তাকে আন্দোলন সাময়িকভাবে বন্ধের পরামর্শ দেন।

বিএনপি’র তখন শাঁখের করাত অবস্থা। নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়ে গেছে, যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতারের আশঙ্কা। আর গ্রেফতার হলে হরতাল না দিলে ইজ্জত থাকে না। ওদিকে আবার আন্দোলন বন্ধের বিদেশি চাপ। সুতরাং, দল থেকে সিদ্ধান্ত হলো দলবেঁধে পলায়নই উত্তম। বাঘা বাঘা আইনজীবীরা ভরসা দিলেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিন প্রাপ্তি এক-দু’দিনের ব্যাপার মাত্র। আর উচ্চ আদালত একবার জামিন দিলে কি নিম্ন আদালত সেটা কাটার সাহস দেখাবে? এসব বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও জ্ঞানী আইনজীবী এখনও বোধহয় শেখ হাসিনাকে ঠিকমত চিনে উঠতে পারেননি। রিজভী আহমেদ ব্যতীত সব নেতা পালালেন এবং বিএনপি আন্দোলনে বিরতি দিল।

হিলারি ক্লিনটন এবং প্রণব মুখার্জী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে বিরোধী দলের পুলকিত হওয়ার মতো প্রকাশ্যেই অনেক কিছু বললেন। চেয়ারপার্সনের পরামর্শদাতারা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে ভাবতে লাগলেন, নাগালের মধ্যেই রাষ্ট্র ক্ষমতা। হাইকোর্টে কয়েকদিনের জন্য আগাম জামিন প্রাপ্তি তাদের সন্তুষ্টির পারদ আরও ওপরে তুলল। শেষ হাসি অবশ্য হাসলেন মাহবুবুল আলম হানিফ, কামরুল ইসলাম, সাহারা খাতুন, শামসুল হক টুকু এবং অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পলায়নের রাজনৈতিক কৌশল সরকারের আদালতি কৌশলের কাছে চরমভাবে মার খেল। বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ঠিকই শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন জেলে ভাত খেতে হচ্ছে। উপরি হিসেবে কপালে জুটছে নানা মহলের কটাক্ষ ও নিন্দাবাদ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করার পরিণতিতে বিএনপিকে আবার গোড়া থেকে আন্দোলন শুরু করতে হবে। মাঝখান থেকে দেশ-বিদেশে প্রবল সমর্থনপ্রাপ্ত ইলিয়াস গুম ইস্যুকে পেছনে ঠেলে সামনে আনতে হচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীদের জামিন ও মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি। কত নির্যাতন, কত জেল-জুলুম, কত প্রাণ বিসর্জন, কত রক্ত ক্ষয়ের বিনিময়ে ইলিয়াসকে ফিরিয়ে দেয়ার ন্যায্য আন্দোলন দানাবেঁধে ওঠার পর কেবল বিদেশিদের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সেই আন্দোলনের গতি শ্লথ করার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বিএনপি’র জন্য শেষ পর্যন্ত কতটা বিপর্যয়কর হয়, সেটা ভবিষ্যতই বলে দেবে। মামলা দায়েরের পর যদি বিএনপি নেতৃবৃন্দ দলের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান গ্রহণ করে তাদের গণগ্রেফতারের জন্য সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতেন, তাহলে ক্ষমতাসীনদের গদি নড়ে ওঠার সম্ভাবনাই অধিক ছিল বলে আমার ধারণা। হিলারি ক্লিনটনের সফরের সময় দেশের অবস্থা স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব সরকারের ছিল, বিরোধী দলের নয়। এ কথাটা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পরিষ্কার ভাষায় বলে দিলে বিএনপির তাতে কোনো ক্ষতি হতো না। আজকের ক্ষমতাসীনরা বিএনপি জোট সরকারের আমলে তত্কালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলের সফরের দিনে হরতাল পালন করেছিল। তাতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে একতরফা মার্কিন সমর্থন পেতে আওয়ামী লীগের কোনো অসুবিধা হয়নি। যে বিদেশিরা আন্দোলন স্থগিত করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে চাপ দিয়েছিলেন, তারা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মুক্তির জন্য পর্দার আড়াল থেকে কোনোরকম কার্যকর ভূমিকা রাখছেন কীনা, তা আমার জানা নেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বারিধারার দূতাবাসসমূহে ধর্না দেয়ার চেয়ে জনগণ ও আল্লাহ্র শক্তির ওপর নির্ভর করতেই পছন্দ করি।

সর্বব্যাপী হতাশার মধ্যেও আমি দীর্ঘ মেয়াদে চূড়ান্ত বিজয়ের আশা ছাড়তে রাজি নই। ইতিহাসের শিক্ষা হলো, সব স্বৈরশাসককে তার অপকর্মের জন্য এক সময় মূল্য দিতে হয়। তারা শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের আঁস্তাকুড়েই নিক্ষিপ্ত হন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের ট্র্যাজেডির জন্য দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে জনসমক্ষে অবিরত অশ্রুপাত করে চলেছেন। সেই ট্র্যাজেডির সঙ্গে সম্পৃক্তদের ফাঁসি দেয়ার পরও তার অশ্রুর বন্যা শেষ হয়নি। এই সেদিনও তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩১তম বার্ষিকীতে নিহত পিতা-মাতা, ভাইদের কথা স্মরণ করে তাকে কাঁদতে দেখলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যেও অনেককেই চোখ মুছতে দেখা গেল। অথচ এই একই শেখ হাসিনা সাগর-রুনির হত্যা এবং ইলিয়াস আলীর গুম নিয়ে যখন তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, তখন রবাট লুই স্টিভেনসনের লেখা কালজয়ী ইংরেজি উপন্যাস ড. জেকিল অ্যান্ড মি. হাইড (Dr. Jekyll and Mr. Hyde)-এর কথা স্মরণে এসে যায়। তিনি সাগর-রুনির এতিম পুত্র, ছয় বছরের মেঘ এবং ইলিয়াসের সাত বছরের কন্যা সাইয়ারা নাওয়ারের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চান, অথচ খুনিকে খোঁজার ব্যাপারে তার কোনো উত্সাহ নেই কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি ইলিয়াসকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো নির্দেশও তার কাছ থেকে আসে না। উল্টো ইলিয়াসের পরিবারকেই এখন মধ্যরাতে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সরকারের বিশেষ খুনেবাহিনী একের পর এক গুম করবে, আর দয়াশীল প্রধানমন্ত্রী এতিমদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে থাকবেন, এমন বীভত্স রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমরা বসবাস করতে চাই না। মাত্র দু’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী দম্ভোক্তি করেছেন, বিরোধী দলকে কীভাবে সোজা করতে হয় আমি জানি। তিনি আরও বলেছেন, তার সহ্য করার ক্ষমতাকে যেন দুর্বলতা মনে করা না হয়। বিগত সাড়ে তিন বছরের গুম, হত্যা, নির্যাতনের শাসনকাল যদি সহ্যের নমুনা হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশকে কি মৃত্যুপুরীতে পরিণত করার আয়োজন চলছে? আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানায় সন্ত্রাসী হামলা কি প্রধানমন্ত্রীর হুমকির বাস্তবায়ন? শেকসিপয়রের নাটক রিচার্ড-থ্রি (Richard-III) থেকে একটি ক্ষুদ্র অথচ অসাধারণ বাক্য উদ্ধৃত করে দেশের উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে হৃদয়ভরা বেদনা নিয়ে আজকের মন্তব্য-প্রতিবেদন সমাপ্ত করছি। শেকসিপয়র লিখেছেন— “Bloody thou art, bloody will be thy end.”
(যত তুমি রক্ত ঝরাবে
অন্ত তোমার ততই রক্তাক্ত হবে)।

ই মেইল : admahmudrahman@gmail.com
[সূত্রঃ আমার দেশ, ২০.০৫.১২]
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MahmudurRahman
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Pirgonj.Thakurgoan থেকে Humayoun Kabir লিখেছেন, ২০ মে ২০১২; দুপুর ০১:৪৫
Sir,thankssssss. I expect how to recovery of it situation.
84561
রোম, ইতালি থেকে বখতিয়ার খান লিখেছেন, ২০ মে ২০১২; দুপুর ০২:৪৪
রাষ্ট্রের মূল উপাদান ই হলো জনগণ, এই জনগণকে ভাল না বেসে তাদের উপর জুলুম করে চিরস্হায়ী ক্ষমতা লাভের বাসনা যারা লালন করে তাদের সুখের স্বপন অচিরেই ভাংবে ইনশাল্লাহ। গুপ্ত বাহিনী দিয়ে রাস্ট্র পরিচালনা করে নিকট অতীতে বেশ কয়েকটি জবরদস্ত সরকারের করুণ পরিণতি আমরা দেখেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতার জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা একসময় আকাশ স্পর্শ করেছিল, কিন্তু শুধুমাত্র গণমানুষের বিরুদ্ধে অবস্হান নেয়ার আত্মঘাতি সিদ্ধান্তের রক্তাক্ত এবং সকরুণ পরিণতি বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে। গ্রামবাংলা্য একটা কথা খুব প্রচলিত, সেটা হলো, ' আগের হাল যেভাবে যায়, পিছের হালও সেভাবে যায় '। একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় অথচ স্বৈরশাসক হিসাবে দুনিয়া থেকে নির্মমভাবে বিদায় নেয়া একজন রাজনৈতিক নেতার কণ্যা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা ব্যতিক্রম আর কিই বা আশা করতে পারি......!!!!
84563
Teknaf থেকে Despremik লিখেছেন, ২০ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৩৮
আদালত আদালত খেলে কোনো লাভ নেই. বিবেকহীন দলীয় লোকেদের আদালতে বসিয়ে আওয়ামী লিগ কোর্টকে তাদের অফিস বানিয়ে রেখেছে. কোনো সংলাপ, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না. যে ভাবে শক্ত করে পুলিস আর আদালত দ্বারা সন্ত্রাসী জাল বিছিয়েছে তাতে তারা আরো দশ বছর ক্ষমত্তায় থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই, যদি না ঘেরাও আর অসহযোগ আন্দোলন করে সব কিছু অচল করে না দেয়া যায়. হরতালেও কোনো কাজ হবে না. মনে রাখতে হবে এখন যারা মন্ত্রী মিনিস্টার আছে এরা কেউ রাজনীতিবিদ না, এরা সবাই সন্ত্রাসী, আওয়ামীলীগের যারা রাজনীতিবিদ ছিল তারা কেউ এখন আর ক্ষমতায় নেই.
84565
নারায়নগন্জ থেকে মাহবুব লিখেছেন, ২০ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৪৬
অসাধারণ ও সাহসী লিখা। আপনার মত অসীম সাহসী লেখকের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করছি। মহান রাব্বুল আ'লামিন আপনাকে সকল অসুভ শক্তি থেকে রক্ষা করুক, আরও বেশী করে দেশ ও জনগনের পক্ষে লিখার তৌফিক দান করুন।
আপনার সাথে আমিও একমত- সর্বব্যাপী হতাশার মধ্যেও দীর্ঘ মেয়াদে চূড়ান্ত বিজয় আসবেই। সব স্বৈরশাসককে তার অপকর্মের জন্য এক সময় মূল্য দিতে হয়। তারা শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের আঁস্তাকুড়েই নিক্ষিপ্ত হয়।
84566
রিয়াদ সৌদি আরব থেকে জাহিদ লিখেছেন, ২০ মে ২০১২; বিকেল ০৪:২৬
মাহমুদুর রহমান স্যার যতই লিখা লিখি করেন না কেন কোন লাভ হবে না ? কুকুর কে তাড়ানোর জন্য মগুরই দিতেই হবে।
84571
ঢাকা থেকে আনোয়ার লিখেছেন, ২০ মে ২০১২; বিকেল ০৫:১৯
স্বৈরশাসন শাসকের পতনকে কেবল ত্বরান্বিত করে।
84572
কাতার থেকে মূর্ত লিখেছেন, ২০ মে ২০১২; বিকেল ০৫:৫২
(কুকুর কে তাড়ানোর জন্য মগুরই দিতেই হবে) সেই মুগুরকে তেজিয়ে তোলার কাজটাইতো করছেন মাহমুদুর রহমান স্যার, আললাহ যেন উনাকে হেফাজত করে জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই এ উত্তীর্ণ হবার তৌফিক দান করেন...........
84573
ঢাকা থেকে লেদু মিয়া লিখেছেন, ২০ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:৫৭
বিএনপি আন্দোলন করছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য, তাদের নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্য। সেটা তারা করতেই পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। সাধারণ মানুষের জীবন যাপনের ব্যয়-ভার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। প্রতিটা ভোগ্যপণ্যের রাতারাতি দাম বেড়ে যাচ্ছে। এই বাজারে মানুষের জীবন যাপন ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। এজন্য সরকারী দলতো নয়ই বিরোধীরাও যে খুব একটা উচ্চকিত এমনটি মনে হচ্ছেনা।

আল্লাহ মানুষকে সহ্য করার ক্ষমতা দাও। এদেশের অসহায় মানুষের প্রতি চেয়ে, জালেম সরকারগুলোর বদলে জনদরদি সরকারের হাতে ক্ষমতা দাও।
84575
সিঙ্গাপুর থেকে ইয়াছিন লিখেছেন, ২০ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:৫২
মানেষের বিচার বিবেচনা ও সত্যোপলব্ধি,সেই সত্যোপলব্ধির ভিওিতে স্বধিীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং যুক্তি প্রমানের আলোকে যাবতীয় কাজ করা এগুলোই মানুষকে পশু খেকে পৃথক ও স্বতন্ত্র প্রাণী রূপে চিহ্নত করে।কিন্তু ক্ষমতাসীনদের অবস্হা দেখে মনে হয় তারা একদম বিবেকঅন্ধ।এবং বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে অবস্হান করছেন।ক্ষমতার মসণদ স্হায়ী নয়।মাণষকন্যার মহান পিতাও একদলীয় শাসন ব্যবস্হা কায়েম করেছিল কিন্তু বেশিদিন টিকে থাকতে পারেন নি ।
84578
১০
south korea থেকে khairul alam লিখেছেন, ২০ মে ২০১২; রাত ০৮:২৮
Thanks.Allah help you.Go ahead.
84581
১১
কানাডা থেকে গোলাপ লিখেছেন, ২১ মে ২০১২; রাত ০২:৫৩
২০/৫ এর একটা দৈনিকের খবর-" জেসমিন বলেন, তিনি এখন নিঃস্ব। বাবাকে খুঁজবেন সেই সঙ্গতিও নেই। খেয়ে না খেয়ে দিন কেটে যায়। তিনি বলেন, ‘পৃথিবী লিখে দিলেও আমি তা নেব না, আমি আমার বাবাকে ফেরত চাই।’ তার বক্তব্য ‘যে দল ক্ষমতায় থাকতে আমার বাবাকে গুম করা হয়েছে সেই দল আমি চাই না।’ জেসমিন বলেছেন, বাগেরহাটের এসপির কাছে দুই হাত পেতে বলেছিলাম অন্তত আমার বাবার লাশ ফেরত দেন। ফজরের নামাজ পড়ে বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করব।’"
উপরের কথা গুলো আরেক গুম হওয়া বাবার খোজে অন্য এক সন্তানের আহাজারি। আজীবন অওয়ামী ভালবাসার পরিনতি নব প্রজন্মকে যে এত মুল্য দিয়েই পেতে হবে তা ভাবতেও কষ্ট হয়।
লেখকের শেষ কথাটা আবারো ভাবছি। শেকসিপয়র লিখেছেন— “Bloody thou art, bloody will be thy end.” (যত তুমি রক্ত ঝরাবে, অন্ত তোমার ততই রক্তাক্ত হবে)।
84590
১২
uk থেকে ৃabu hanifa লিখেছেন, ২১ মে ২০১২; রাত ০৪:০০
jonab mahmudur rahman, may allah help u to carry on your powerful writing. this writing is very essential , it will wake up all pettriot youth in bangladesh,
84591
১৩
চট্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালী নং১ লিখেছেন, ২১ মে ২০১২; রাত ০৪:১৯
সরকার বিভিন্ন অত্যাচার নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী দলের পিট দেয়ালে ঠেকিয়ে দিতে চাচ্ছে যাতে বিরোধীদল ক্ষেপে গিয়ে লগি বৈঠা কর্মসূচীর মত মারপিট কর্মসূচী আরম্ভ করে। আর এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অযুহাতে আওয়ামী লীগ নির্বাচন না দিয়ে বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছে। বলাই বাহুল্য, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করার কারন এটাই। মইন ফখরুদ্দিনরা তিন মাসের জায়গায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকতে পারলে নির্বাচিত সরকার হয়ে পাঁচ বছরের বদলে এরা পঞ্চাশ বছর থাকতে পারবেনা কেন?
84592
১৪
নারায়নগন্জ থেকে মাহবুব লিখেছেন, ২১ মে ২০১২; সকাল ০৯:২২
বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোট, তাদের কর্মী বাহিনী ও সার্পোটাররা অধীকাংশই হয়ে থাকে ভদ্র এবং শান্তি প্রিয়। তাদের পক্ষে লগী-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে রাস্তায় জ্যান্ত মানুষ মারা কখনো সম্ভব হবে না।তবে কুকুরের জন্য দরকার মুগুর ।শুধু লিখা-লিখিতে কাজ হবেনা।BAL এর দলীয় পুলিশ ও সন্ত্রাসি লীগারদের ঠেকাতে শক্ত মুগুর বা তিতুমিরের বাঁশের লাঠিই জনগনের মোক্ষম হাতিয়ার হতে পারে।
84596
১৫
Biswanath. থেকে Majlum's Tear. লিখেছেন, ২১ মে ২০১২; সকাল ০৯:৪০
Mahmud Bhai, you are always in our prayers. May Allah S.W.T grant you good health, long active life and save and protect you from the Pheraun and its gang.You are the voice of the voiceless. If Bangladesh could have 50 pen warriors like you,Bangladeshis could breathe the air of freedom.Majlums tear and supplication never go un-answered by Allah Rabbul Alamin.We all the voiceless citizens are waiting to see that day.May be that day is near ,inshaallah.
84597
১৬
বাংলাদেশ থেকে আব্ু সাইফ লিখেছেন, ২১ মে ২০১২; দুপুর ০১:৩৬
মাত্র একটি প্যারা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই-

জনাব মাহমুদুর রহমান- আপনি খুবই আল্লাহভক্ত(আখেরাতভীরু বলতে পারলে ভালো লাগতো) সাহসী লেখক, আপনাকে মোবারকবাদ সাহসিকতার জন্য, দেশপ্রেমের জন্য। কিন্তু এ সাহসিকতা যদি আল্লাহতায়ালর পছন্দের বাইরে নিজের মনমত হয় তবে তা ভেবে দেখার অনুরোধ করবো। যে কাজের শক্তি-সাহসের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করা হয়, কিন্তু আল্লাহর আদেশ-নিষেধের কাছে মাথা পেতে দেয়া হয়না- সে দেশপ্রেম, সে সাহস আখেরাতে আপনার কোন কাজে লাগবে? দুনিয়াতে মানুষ খুব বাহবা দেবে- এবং দিচ্ছেও, তাতে কি কোন উপকার হবে আপনার? আপনি তীক্ষ্ণমেধাবী অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সমাজসচেতন নীতিবান মানুষ, কিন্তু আপনার দেশসেবার কাজে, অন্যায়ের প্রতিবাদের কাজে আল্লাহতায়ালার আদেশ-নিষেধ মেনে চলার নীতি কই? তবে কি আপনিও আল্লাহর আদেশ-নিষেধ কেটে-ছেঁটে পালনে বিশ্বাসী? এটা কোন্‌ নীতির কথা?

*""মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করার পরিণতিতে বিএনপিকে আবার গোড়া থেকে আন্দোলন শুরু করতে হবে। মাঝখান থেকে দেশ-বিদেশে প্রবল সমর্থনপ্রাপ্ত ইলিয়াস গুম ইস্যুকে পেছনে ঠেলে সামনে আনতে হচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীদের জামিন ও মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি। কত নির্যাতন, কত জেল-জুলুম, কত প্রাণ বিসর্জন, কত রক্ত ক্ষয়ের বিনিময়ে ইলিয়াসকে ফিরিয়ে দেয়ার ন্যায্য আন্দোলন দানাবেঁধে ওঠার পর কেবল বিদেশিদের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সেই আন্দোলনের গতি শ্লথ করার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বিএনপি�র জন্য শেষ পর্যন্ত কতটা বিপর্যয়কর হয়, সেটা ভবিষ্যতই বলে দেবে।""
**বিদেশী মাতব্বরদের উপেক্ষা করে চলার নীতি থেকে সরে আসাটাই বিএনপির দুর্গতির অন্যতম কারণ। আর বিএনপি এটা তখনই করতে বাধ্য হয়েছে যখন তার আপাদমস্তক নেত্ৃত্ব জনসেবার চেয়ে আত্মসেবাকে দলীয় নীতি হিসেবে গ্রহন করেছে। তাই এ খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা বা শক্তি বিএনপি নেত্ৃব্ৃন্দের নেই- যদিও শুভাকাঙ্খী সাহসী জনগণ সেটা আশা করে।

*""মামলা দায়েরের পর যদি বিএনপি নেতৃবৃন্দ দলের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান গ্রহণ করে তাদের গণগ্রেফতারের জন্য সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতেন, তাহলে ক্ষমতাসীনদের গদি নড়ে ওঠার সম্ভাবনাই অধিক ছিল বলে আমার ধারণা। হিলারি ক্লিনটনের সফরের সময় দেশের অবস্থা স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব সরকারের ছিল, বিরোধী দলের নয়। এ কথাটা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পরিষ্কার ভাষায় বলে দিলে বিএনপির তাতে কোনো ক্ষতি হতো না। আজকের ক্ষমতাসীনরা বিএনপি জোট সরকারের আমলে তত্কালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলের সফরের দিনে হরতাল পালন করেছিল। তাতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে একতরফা মার্কিন সমর্থন পেতে আওয়ামী লীগের কোনো অসুবিধা হয়নি।""
**নিজেদের জনসমর্থন ও শক্তি সম্পর্কে দলীয় নেত্ৃব্ৃন্দ স্বচ্ছ ধারণা রাখেন বলে মনে হয়না! তার প্রধান কারণ নৈতিক মানে তাঁরা আওয়ামী নেতাদের চেয়ে নিজেদের উন্নত প্রমান করতে পারেননি। সাধারণ মানুষ যারা নীতিগতভাবে বিএনপির সমর্থক তারাও ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির স্থানীয় নেতাকে আওয়ামী নেতার চেয়ে ভালো মনে করেননা- দুএকটি ব্যতিক্রম ধর্তব্য নয়।
নেতাদের নৈতিক মান রক্ষা বা উন্নয়নের কোন প্রক্রিয়া বা প্রচেষ্টা বিএনপির আছে বলে এখন পর্যন্ত জানা যায়না। বিপরীতে নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অর্থ বা পেশীশক্তির জোরে বিএনপির নেত্ৃত্বলাভের উদাহরণ ভূরিভূরি।

*""যে বিদেশিরা আন্দোলন স্থগিত করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে চাপ দিয়েছিলেন, তারা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মুক্তির জন্য পর্দার আড়াল থেকে কোনোরকম কার্যকর ভূমিকা রাখছেন কীনা, তা আমার জানা নেই।""
**ভূমিকা যদি তাঁরা রাখানও তবু সেটা হবে "গিভ-এন্ড-টেক" নীতিতে, তাতে বিএনপির লাভ হবে কিনা বলা যায়না, তবে নেত্ৃব্ৃন্দের কিছু লাভ হতেও পারে। আর বাংলাদেশ বা তার সাধারণ মানুষের লাভ যে হবেনা তা চোখ বুঁজেই বলা যায়।

*""তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বারিধারার দূতাবাসসমূহে ধর্না দেয়ার চেয়ে জনগণ ও আল্লাহ্র শক্তির ওপর নির্ভর করতেই পছন্দ করি""
**যে আল্লাহর হুকুম গত ৩০ বছরে ঐ বিধবার চুল ঢালতে পারেনি সেই আল্লাহর এমন কি দায় পড়েছে বিএনপিকে সাহায্য করার? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে এক আল্লাহর উপর আস্থা এবং বিসমিল্লাহ যুক্ত করে এদেশের মানুষের বিশ্বাসবোধের প্রতি যে শ্রদ্ধাপ্রদর্শন করেছিলেন (যে কারণে আল্লাহয় বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী তাঁকে পছন্দ করেছিল) এবং যে শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ (অভিনয় করে হলেও) বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও রক্ষা করে চলেন (মাথায় কাপড় দিয়ে, হাতে তসবীহসহ দোয়ারত ছবি দিয়ে), বেগম জিয়া ততটুকু শ্রদ্ধাবোধের অভিনয় করতেও রাজী হননি, কিন্তু রাজনৈতিক সুবিধালাভের উদ্দেশ্যে বিসমিল্লাহর ব্যবহার করে চলেছেন অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে। একইভাবে বিএনপি নেত্ৃব্ৃন্দ ব্যক্তিগতভাবেও আওয়ামী নেতাদের চেয়ে বেশী ইসলামপ্রিয়- এমনটা পাগলেও বিশ্বাস করেনা- দুচারজন ব্যতিক্রম ভিন্নকথা, দলের কর্মকান্ডে তার কোন প্রভাব নেই।।

সুতরাং বাংলাদেশের মানুষের সামনে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তা। বিএনপি ক্ষমাতায় এলে সাধারণ জনগোষ্ঠীর লাভ হবে- এমনটা এখন জনসাধারণ বিশ্বাস করতে ভয় পায়। যে কারণে সরকার জুলুম-নির্যাতন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলেও মানুষ এমন কাউকে সামনে দেখছেনা যার পিছে দাঁড়িয়ে লড়াই করা যায়, যার পিছে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সাহায্য পাবার আশা করা যায়!


বিএনপি যতদিন এদেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসবোধের অনুকুল নৈতিকতাসম্পন্ন নেত্ৃত্ব তৈরীর কর্মসূচি হাতে নিবে এবং তা জনগণের সামনে হাজির করতে পারবে ততদিন রাষ্ট্রক্ষমতার এ সংঘাত কে ""দুই কুকুরের লড়াই"" ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে রাজী হবেনা!
84611
১৭
Rehar Char, Bangladesh থেকে Vulumunsi10 লিখেছেন, ২১ মে ২০১২; দুপুর ০২:৫৮
১৯৭৫ ,১৫ই আগষ্ট , বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবার, শিশু , গর্ভবতী নারী , কাউকে রেহাই দেয়নি পশুর দল , হায়েনার পাল। Zia became chief of Army staff. Then সারা দেশে ট্যাংক কামান ভারী মেশিন গান রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসিয়ে ভয় দেখানো হয়েছিলো এক বছর ধরে। ১৬থেকে ২২আগষ্ট সারাদেশে কারফিউ , দেড় বছরব্যাপি রাতে বড় শহরগুলোতে কারফিউ দিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখা হয়েছিলো। Lot of BAL leaders and supporters included Razzak and Tofail were taken to Jail.

In 1975, Zia imposed the concept of Bangladeshi Nationalism in order to accommodate the anti-liberation forces (Muslim Leaguers, Islamic fundamentalist groups) in national politics
Literally made politics difficult by investing large amount of foreign aids to buy over opposition political leaders in order to form his own political party the Bangladesh Nationalist Party (BNP).

Zia ruthlessly eliminated the remaining Muktijoddha (pro liberation) officers in the army, navy and air force (in 1976 to 1981 a total of 4000 air force officers and soldiers, former freedom fighters, were killed in firing squad under Zia's instruction ).

Zia ruined the system crucial for democracy: the election system.

Zia involved of killing Shekh Muziabur Rahman and National 4 leader in Jail. Ziaur Rahman executed Colonel Taher.
On November 9, 1975 Zia dissolved the commission for investigation of the murder of four national leaders in Dhaka central jail.

By May, 1976, Zia conferred the war criminals constitutional rights to vote and involve in political activities in Bangladesh.

General Zia's:
a. Second proclamation order no.3 of 1976 overwrote section 38, which had abolished religion based politics.
b. Second proclamation addressing section 122 reestablished the right of war criminals to vote
c. Proclamation order no.1 of 1977 overwrote certain points in section 66, which addressed the rights of war criminals to contest elections.
d. On 18 January, 1976, the war criminals were asked by the ministry to apply for citizenship
e. Proclamation Order no.1 of 1977 eliminated section 12 of the constitution

Zia let the killers of Sheikh Mujib escape from Bangladesh and rewarded them with diplomatic posts and status in various foreign missions of Bangladesh.

1976 সালের 8 জানুয়ারী সামরিক ফরমান জারি করে বলা হয় 'কুনু শব্দ', লেখায়, কথাই, চিহ্ন, আকারে, প্রচারে, আচার , আচরণে সামরিক শাসক বা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে কুনু প্রকার বিরুপত্তা প্রকাশ ও উসকানি প্রদান করলে দশ বছর পর্যন্ত্ত সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হতে হবে.' আরও বলা হয়, সামরিক শাসক ও শাসনের বিরুদ্ধে কুনু কার্যক্রম বিবৃতি, ভাষণ মুদ্রণ, প্রকাশ রক্ষণ বা বিতরণ করা হলে দশ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদন্ডসহ সম্পদ ও সম্পতির পুরো বা আংশিক বাজেয়াপ্ত করা হবে। জারীকৃত এ ঘিরণ্য সামরিক ফরমান টি জিআর জীবিতকাল পর্যন্ত লিখিত ও অলিখিতভাবে কার্যকর ছিল। প্রতিটি সংবাদপত্র অফিসে সামরিক, বেসামরিক, গোয়েন্দা সংস্থার লোক বসানো হয়েছিল। বেতার, টিভিতে সামরিক কর্মকর্তারা অফিসে বসতেন। সেন্সর করতেন।
পরিসংখানে দেখা যাই জিয়াউর রহমান এর আমলে প্রকৃত ঘটনা ও সত্য প্রকাশ যাতে নে হয় সে জন্যে তিন হাজার পাচশতস বাষট্টি (3562) বার প্রেস এমবার্গ দেয়া এ অবস্তই সামরিক ফরমানের আওতায় ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে দেশের সংবাদপত্র ও ব্সংবাদিকগন কেমন সাধীন ছিল?
These were called independent of news papers and media by General Zia.

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেই যুদ্ধাপরাধী ও পাকি দালাল শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করে এবং বিচারাধীন এগারো হাজার যুদ্ধাপরাধীকে জেল থেকে মুক্তি দেয়, পাশাপাশি দালাল আইন বাতিল করে।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে উচ্ছেদ করতে মেধাবী ছাত্রদের লাঠিয়াল বন্দুকধারী, মোটরসাইকেল আরোহী খুনী ক্যাডারে পরিণত করে তাদের দ্বারা ক্ষমতা দখলের স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করে!

‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ ঘোষণা করে এ দেশে প্রথমবারের মতো হাজার কয়েক ব্যাংক ঋণ খেলাপীর জন্ম দেয়। হারিয়েছে।

ZIA did all caitiff works in the name of Multi Party Democracy under military rule.

ZIA provided the necessary platform to ISI for conducting its business in Bangladesh. The Pakistanis got total upper hand in the chess game.

At that time there was an analytical report published in Weekly Bichitra, which indicated how Zia government’s prominent minister (Moudud) made that bartered deal with collaborators of Pakistan to give them back their fallen properties in Bangladesh to cash in and launder that to Pakistan by depriving Bangladesh once again!

In heritance khaleda Zia continued her Husband task; she took money from ISI to defeat Hashina BAL Party in 1991 election, For that Khaleda Zia provided the necessary platform to ISI for conducting its business in Bangladesh. Such as 10 track weapons were brought by ISI for ULFA through Bangladesh under Khaleda and Tareq Zia’s permission.

Media reports confirm that Khaleda Zia’s son and BNP leader Tareque Rahman held meetings with the underworld don Dawood Ibrahim in Dubai in 2004.

Voters either suffer from shortness of memory or are limited in their options when they go to polling booths to elect their representatives. The BNP chairperson Khaleda Zia is surely counting on the former or how else could she comprehend that people would so easily forget the darkest era of rule this country has ever withstood?

Khaleda Zia gifted Magura election and 17 Farmers were killed for Fertilizer while BNP came in power in 1991.
18 people were killed for power at Kansat, Chapai Nowabgonj while BNP came in power in 2001.
Khaleda zia was in power in 2001 to 2006 -----------------------
21st August killing, killed SM kibria MP, Ahsanulla Master MP, Momotaz Uddin MP, Professor Yunus and Taher (Rajshahi University), Professor Mohuri (Chittagong), 14 family members were roasted by BNP Caders, 500 places bomb bluest, Two Justice killing, More than 200 women were rapped by BNP Caders, killing and Attracted minority family, 10 Trucks weapon, Howa, Bhaban, Khoab Bhaban, Mr 10%, Khamba Bahini, Looting, Money laundering (Tareq Zia & KoKo), Bangla Bhai,Jangi Bader Zanmo Data and lots. These are not violation of Human Rights.

The whole country became a killing-ground in the aftermath of her party's victory in 2001. A human right conference organized by AL in 2002 turned into a hospital of the tortured and wounded. Human right conferences were held in many capitals of the world to attract world attention to the despicable human right situation of the country
Probably the most despicable of all the crimes committed by the successive governments, called "terrorism by the state" by human rights organizations, was initiated by the erstwhile BNP government as so-called "crossfire." Ministers of the then government not only lauded the extrajudicial taking of lives but also reprimanded the proponents of human rights and rule of law. The then finance minister's statement on the floor of the Parliament that, "if the killings by the killers are not human right violation, how can any one term the death of killer a human right violation?" equated an individual with the state, reflected the sheer incomprehension of the rule of law on the part of the minister.

The atrocities of so-called Bangla Bhai, which were either aided by some leaders of the then ruling coalition or ignored by the central leaders of the government, reflected a horrific state of affairs of the state. In spite of the not so laudable human rights situation under the current government, it does not parallel the degree of depravity the last BNP government indulged in.

A judicial commission in Bangladesh has concluded that ''over 200 minority women were gang raped'' in the violence following the October 2001 parliamentary poll that was intended to force families ''to leave the country''.

A court in Bangladesh has sentenced 11 people to life imprisonment for gang raping a female school student during post-election violence in 2001. The commission submitted the report to Home Ministry. It lists 3,625 incidents of major crimes, including killing, rape, and arson and looting.
Eleven members of same family roasted by BNP terrorists at Bashkhali, Chittagong, Nov 19, 2003.

Tareq Zia, Mamun and Koko were charged against money laundering case. A Federal Bureau of Investigation (FBI) agent on Wednesday Nov 16 2011 testified before a Dhaka court against ex-prime minister and opposition leader Khaleda Zia's "fugitive" elder son Tareq Zia saying the US agency found him siphoning out Taka 20.41 crore to a Singaporean bank. Koko was already charged for money laundering.
Almost 15 journalists were killed and 1500 tortured during Khaleda Zia regime.

Bodor Ali and others were burnt when BNP caders torched in Bus. Where were Mahmudur Rahman and Barrister Rafiqul Islam that time? It is not a violation of Human Rights.

Mahmudur Rahman is happy to describe the killing of Bangobandhu. It is usual for him because his dictator leader Zia became beneficiary of the killing of Muzib. In a long run he became advisor of power and chairman of investment board in 2001 to 2006. He could not add any unit of electricity in our national grade due inefficiency of knowledge. For that people of Bangladesh suffered lots for electricity. He is worthless and dumpy guy. He and his party left behind our country about twenty years. Now He is a fake patriot as his fake hero Zia.

When Mahmudur Rahman held these positions, he did behave like dictator. He was conspirator for Uttara conspiracy during Eazzuddin care taker government. While he was an advisor of power he did harass our respected economist Rehman Shohban and others. He and his BNP Party filed case against them and issued arresting order. It is his caitiff character. Black will take no other hew. Now he is barking and making issue like Human Rights.

Mahmudur Rahman, are you calling above all dirty task as a multi party Democracy and not violating Human Rights?
84617
১৮
ঢাকা থেকে মোজাম্মেল লিখেছেন, ২১ মে ২০১২; রাত ১০:৪৬
জনাব মাহমুদুর রহমান- আপনার মতো সাহসী নেতার আজ আমাদের বড় প্রয়োজন। এগিয়ে চলুন।জেলেগেলেও আপনার কলম বন্ধ হয় না আরো গতিশীল ও শানিত হয়। তবে গুম করার সুযোগ দেবেন না । জাতি বড় অসহায় হয়ে পড়েব।
84641
১৯
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ থেকে মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম লিখেছেন, ২২ মে ২০১২; সকাল ১০:১৩
আমাদের দেশের অমানিশা অন্ধকারের এই সময়ে আশার আলোকবর্তিকা নিয়ে এসেছেন........... দূর্বার সাহসী কলম সৈনিক মাহমুদুর রহমান। তাঁর প্রতি রইল শত কোটি সালাম।
এগিয়ে যান স্যার! আমরা যুবারা আমৃত্তু আপনার সাথে আছি, থাকবো-- ইনশাআল্লাহ্
84654
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মাহমুদুর রহমানের জন্ম। ১৯৭৭ সালে বুয়েট থেকে তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন এবং ১৯৮৬ সালে জাপান থেকে সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮৮ সালে তিনি এমবিএ করেন। টিএনসি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও হিসেবে তিনি কাজ করেন। টেক্সটাইল, সিরামিক ও কেমিক্যাল সেক্টরে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা অপরিসীম। তিনি ১৯৭৭ সালে বিওসিতে অপারেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পেশা শুরু করেন। এরপর মুন্নু গ্রুপ, ডানকান ব্রাদার্স, বেক্সিমকো গ্রুপ, পদ্মা টেক্সটাইলে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। মুন্নু সিরামিক, শাইন পুকুর সিরামিক ও আর্টিসান সিরামিক তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব ও দক্ষতার ফলে উন্নতি লাভ করেছে। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম বোন চায়না প্ল্যান্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তিনিই বিশ্বে টেকনোলজিক্যাল \\\'ব্রেক থ্রো\\\' করেন।

বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও জ্বালানি উপদেষ্টার দায়িত্ব সফলভাবে পালন শেষে তিনি তাঁর আর্টিসান সিরামিক নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এরই মধ্যে ওয়ান-ইলেভেন ঘটে যায়। তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তে শুরু করেন লেখালেখি। পাশাপাশি ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ (এনআইজি) গড়ে তোলেন। জরুরি সরকারের সময় দৈনিক আমার দেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। মালিকরা জেলে থাকায় চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়ে পত্রিকাটি। একই সময় বিএসইসি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সঙ্কট আরও বেড়ে যায়। ফলে পত্রিকার সাংবাদিক-কর্মচারীরা ১২ মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। ঠিক এ সময় একদিন তিনি আমার দেশ অফিসে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আতাউস সামাদ সাহেবের সঙ্গে এনআইজি নিয়ে কথা বলতে আসেন। শ্রদ্ধেয় আতাউস সামাদ পত্রিকার সঙ্কট বিবৃত করে তাঁকে পত্রিকাটির হাল ধরতে অনুরোধ করেন। মাহমুদুর রহমান সাহেব সবকিছু শুনে একটু সময় নেন। এরপর তিন-চারটা মিটিংয়েই পত্রিকাটির মালিকানা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং কয়েকজন উদ্যোক্তাকে সঙ্গে নিয়ে এর দায়িত্ব নেন। সেদিন আমার দেশ-এর কয়েকশ\\\' সাংবাদিক-কর্মচারীর জীবন বাঁচাতেই তিনি সাংবাদিকতা পেশায় চলে আসেন।

সাহসী সাংবাদিকতার কারণে মাহমুদুর রহমান সরকারের রোষাণলে পতিত হন এবং এক পর্যায়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়। অবশেষে ১৭ মার্চ ২০১১ সালে তিনি মুক্তি পান।

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy