মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৪:৪১ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

তৃষিত জলধির জিয়া এবং জাতির জন্য ঐতিহাসিক তাগিদ

মেজর সিদ্দিক (অবঃ)

কবি আল মাহমুদের “তৃষিত জলধি” প্রবন্ধটি বহুবার পড়েছি। যতবার পড়েছি ততবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশ প্রেমের দৃষ্টান্ত ও জাতির জন্য ইতিহাসের তাগিদকে উপলব্ধি করেছি। তৃষিত জলধি একটি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রবন্ধ। এই প্রবন্ধে দেশের মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘হিজবুল বাহারে’ চড়ে বঙ্গোপসাগরে তিন দিনের ভ্রমণ স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। এ প্রবন্ধে সে সময়ের
সমসাময়িক মানুষ, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক বিষয়, প্রকৃতি, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পর্কে বলা হয়েছে ;শহীদ জিয়ার গভীর দেশপ্রেম তথা বহুমুখী দক্ষতা ও জাতির জন্য ঐতিহাসিক তাগিদকে তুলে ধরা হয়েছে। জিয়াউর রহমান সে দিন দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিষয় নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মত বিনিময় করে নতুন প্রজন্মকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সমুদ্র তলদেশ থেকে তেল গ্যাস উত্তোলনের বিষয়ে দেশ ও দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। মার্কিন কোম্পানি “কনকও ফিলিপ্স” এর সঙ্গে বর্তমান আওয়ামী সরকারের ৮০-২০ হারে অসম চুক্তি নিয়ে আলোড়িত দেশ ও সচেতন মানুষ; দেশের তেল গ্যাস রক্ষার জন্য অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের সংগ্রাম চলছে। দেশের সংবিধানকে অকার্যকর করার জন্য বহুমুখী চক্রান্ত চলমান। বাক স্বাধীনতার টুটি চেপে ধরা হচ্ছে অহরহ। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী নির্যাতনের প্রকৃতি ও মাত্রা সকল সীমা অতিক্রম করেছে। সাংসদ জয়নুল আবদিন ফারুককে সংসদ ভবন চত্বরে পুলিশের নির্যাতন অতীতের সকল সীমা অতিক্রম করেছে; পুলিশের এই নির্যাতনে জাতি স্তম্ভিত। চলছে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার পায়তারা। মূলত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ নগ্ন রূপ ধারণ করেছে।

জন্মভূমির স্বাধীনতার ৪০ বছরে এসে দেশের এমন অস্থির অবস্থায় বেশি বেশি মনে পড়ছে শহীদ জিয়ার কথা; মনে পড়ছে তাঁর দেশ প্রেম, দূরদর্শী চিন্তা চেতনা ও জাতির জন্য ঐতিহাসিক তাগিদের দৃষ্টান্ত- ‘হিজবুল বাহারে’ সমুদ্র ভ্রমণ নিয়ে লেখা “তৃষিত জলধির” কথা। ৩০ বছর পূর্বে আনন্দ মোহন কলেজের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে তখন আমি আপসোস করেছিলাম –জাতীয় মেধা তালিকায় আসতে না পেরে সে দিন হিজবুল বাহারে প্রিয় রাষ্ট্রপতির সমুদ্র ভ্রমণে সাথী হতে পারি নাই। রাষ্ট্রপতি জিয়ার ‘হিজবুল বাহারে’ দেশের মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে বঙ্গোপসাগর ভ্রমণ ছিল তাঁর অসাধারণ দূরদর্শনের পরিচায়ক।

গণ মাধ্যমে বিষয়টি ফলাও করে এসেছিল। মেধা বিকাশের জন্য বিশেষ করে মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদেরকে দেশ প্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলার জন্য কোন রাষ্ট্রপতির তিনদিন সাগরে ভাসার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। ভ্রমণের প্রথম দিনটি ছিল ১৯ জানুয়ারি ১৯৮১; জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম জন্ম দিন। ইসলাম ধর্মের পবিত্র ১৯ নম্বরটি তাঁর জীবন ও কার্যক্রমে দারুণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কে জানত তাঁর ৪৫ তম জন্ম দিনই হবে শেষ জন্ম দিন? ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে ৪৬ তম জন্ম বার্ষিকী পর্যন্ত বাঁচতে দেয় নাই। তবে জিয়াউর রহমান তাঁর এবং দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়েছিলেন; সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তিনি মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদেরকে লক্ষ্য করে যে অসাধারণ দেশ প্রেমের বক্তব্য রেখেছিলেন তাতে তিনি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অসাধারণ দেশ প্রেমের সেই বক্তব্যের কিছু অংশ তুলে ধরা হলঃ

“ আমি তোমাদের কাছে যে কথা বলবো তা আমাদের জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক তাগিদ। এই তাগিদকে স্মরণীয় করার জন্য আমি একটা পরিবেশ খুঁজছিলাম। হঠাৎ বঙ্গোপসাগরের কথা মনে পড়লো। এই উপসাগরেই রয়েছে দশ কোটি মানুষের উদর পূর্তির জন্য প্রয়োজন এর অতিরিক্ত আহার্য ও মূল ভূমি ভেঙ্গে আসা বিপুল পলিমাটির বিশাল দ্বীপ দেশ—যা আগামী দুতিন প্রজন্মের মধ্যেই ভেসে উঠবে; যা বাংলাদেশের মানচিত্রে নতুন বিন্দু সংযোজনের তাগিদ দিবে। মনে রেখো, আমাদের বর্তমান দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও অসহায়তা আমাদের উদ্যমহীনতার ঐ আল্লাহ্‌ প্রদত্ব শাস্তি মাত্র। এর জন্য অন্যের চেয়ে আমরাই দায়ী বেশি।” “আমাদের ভিটা ভাঙা পলি যেখানেই জমুক --তা তালপট্টি কিংবা নিঝুম দ্বীপ, এই মাটি আমাদের। দশ কোটি মানুষ সাহসী হলে আমাদের মাটি ও সমুদ্র –তরঙ্গে কোন ষড়যন্ত্রকারী নিশান উড়িয়ে পাড়ি জমাতে জাহাজ ভাসাবে না।” প্রিয় পাঠক তাঁর ইঙ্গিত আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে –মিয়ানমার এবং ভারত আজ আমাদের সমুদ্র সীমানায় প্রবেশ করে অনধিকার চর্চা করছে।

বাংলাদেশের স্বাধীন জলসীমার মধ্যে তাদের সীমারেখা টেনে আমাদের তেল গ্যাস তুলে নেয়ার পায়তারা করছে। বিষয়টি এখন জাতিসংঘ বিচারালয়ে বিচারাধীন রয়েছে। দেশের সচেতন মানুষ এ বিষয়ে জানতে চায়। এখানে জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমা নির্ধারণের
একটি বাস্তব ভিত্তিক বিষয় - অর্থাৎ নদী বাহিত পলিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। নদী মার্তৃক দেশ বাংলাদেশের প্রায় ৫০০ টি নদী সহ হাজার হাজার খাল বিলের পানি দেশের পলি বহন করে আবহমান কাল ধরে নিয়ে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে।

সীমানা নির্ধারণে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে এই পলির বিষয়টি প্রাধান্য সৃষ্টি করে। হিজবুল বাহারে বসে তিনি বলেনঃ

“ আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা দশ কোটি মানুষ যথেষ্ট সাহসী নই বলে শত্রুরা, পর রাজ্য-লোলুপ রাক্ষসেরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এই স্বাধীন জলাধীকারে আনাগোনা শুরু করেছে।”

তৃষিত জলধি প্রবন্ধে এ পর্যায়ে ছাত্রদের সাথে জিয়ার অসাধারণ ইন্টার একটিভ বক্তব্যে হাজার বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের বীর---- রাজা মহীপালের দৃষ্টান্ত লিপিবদ্ধ হয়।
আবেগপূর্ণ এক পর্যায়ে তিনি বলেনঃ “যে সম্পদের বিনিময়ে অর্থের প্রাচুর্য ঘটে তা আমাদের দেশের পেটের ভেতরেই জমা আছে। আমরা তুলতে পারছিনা। কি সেই সম্পদ যা আমরা তুলতে পারছি না? তোমরা কি জান সেই লুক্কায়িত সাতরাজার ধন কী? কোথায় সে গুলো আছে? সেই সাত রাজার ধন হল তেল, গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর আরও অনেক কিছু।”

গ্যাস ও তেলের বিষয় নিয়ে বলতে গিয়ে নইমা নামের মেধাবী ছাত্রীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি তাঁর ব্যাগ থেকে একটি শিশি বের করে জ্বালানি তেলের স্যাম্পল দেখিয়ে বলেনঃ
“ এতে বাংলাদেশের পেটের ভেতরে লুক্কায়িত সাতরাজার ধন, পেট্রোল। বিশুদ্ধ পেট্রোল। যা পুড়িয়ে বিমান, গাড়ী, অসংখ্য ভারী যানবাহন, সমুদ্রে জাহাজ অনায়াসে চলাচল করতে পারবে। শক্তির ধাত্রী এই তেল। আল্লাহ্‌র সর্ব শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। তোমরা ভালো করে দেখে রাখো ছেলেমেয়েরা, আমার হাতের মুঠোয় রয়েছে সেই মহার্ঘ নিয়ামত যা বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে, মাটির উদরে তোমাদের জন্যে অপেক্ষা করছে। ক্রমাগত বাধার ফলে আমি শত চেষ্টা সত্ত্বেও তোমাদের ভাগ্য ফেরাতে তুলে আনতে পারছিনা ।” এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে
প্রেসিডেন্ট একটু ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। আবেগ বিহ্বলের মতো একটু পাশ ফিরে ডাঃ চৌধুরীর দিকে তাকালেন। তারপর মুহূর্তের মধ্যে মুখ ফিরিয়ে শ্রোতাদের স্তব্ধতা উপলব্ধি করে শান্ত কণ্ঠে বললেন, “আমার জীবন কালে সম্ভবপর না হলে তোমরা, আমার ছেলেমেয়েরা, এই তেল তুলবে।”

প্রিয় পাঠক, রাষ্ট্রপতি জিয়ার সমুদ্র ভ্রমণ এবং এই অসাধারণ দেশ প্রেম জাগানিয়া বক্তৃতা সেদিন উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীদেরকে সত্যিকারের দেশ প্রেমিক করেছিল কিনা জানিনা তবে কবি আল মাহমুদের লেখা “তৃষিত জলধির” জিয়া যুগে যুগে এদেশের ছাত্র ছাত্রীদেরকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।


৭১ থেকে ৮১-মাত্র দশটি বছর; মেজর জিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়া। ৩৪ বছরে স্বাধীনতার ঘোষক, ৩৫ বছরে জেড ফোর্স কমান্ডার ও বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত, ৩৯ বছরে সেনাবাহিনী প্রধান, ৪১ বছরে রাষ্ট্র প্রধান এবং ৪৫ বছরে লক্ষ কোটি মানুষকে কাঁদিয়ে চিরবিদায়। সৌভাগ্যের এই ক্ষণ জন্মা মহানায়ক ২৫ মার্চ ১৯৭১ হতে ৩০ মে ১৯৮১ পর্যন্ত প্রতিটি দিনকে বিভিন্ন পর্যায় ও পদকে কাজে লাগিয়ে একটি আত্ম নির্ভরশীল দেশ
গঠনে নিজেকে অকাতরে নিবেদন করেন। জাতির প্রতিটি ক্রান্তি লগ্নে আল্লাহর অসীম কৃপায় জিয়ার আবির্ভাব ঘটেছিল উল্কার মত। আধুনিক মানসিকতা সম্পন্ন এই সিংহ পুরুষের জীবনের চারটি পর্বের কার্যক্রম দেশ, জাতি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁকে অসাধারণ কৃতিমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্থানে আসীন করে। তাঁর কাজের মাধ্যমে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জিয়া একজন উজ্জ্বল স্টেটস ম্যান হিসেবে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন।

তাঁর সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী আদর্শ আজ জাতীয় জীবনের জন্য অপরিহার্য। প্রথম পর্ব -জিয়ার জীবনের সামরিক প্রস্তুতি পর্ব পাকিস্থান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন পাওয়ার পর দ্রুত সময়ে তিনি নিজেকে চৌকশ অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। প্লাটুন কমান্ডার বা অফিসার ক্যাডেটদের প্রশিক্ষক জিয়া রণকৌশল শিক্ষক হিসেবে সুনাম অর্জন করেছিলেন। রণকৌশল পারদর্শী জিয়ার নেতৃত্বে পাকভারত যুদ্ধে পাঞ্জাবের খেমকারান রণাঙ্গনে তাঁর আলফা কোম্পানি দুঃসাহসিক বীরত্ব দেখায়। এই যুদ্ধের সাফল্যে তিনি হিলাল-ই-জুরত খেতাবে ভূষিত হন;
তাঁর কোম্পানি ১১ টি খেতাব পায়। যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর বুলেটের সামনে কিভাবে ম্যানুভার করতে হয় তা তিনি পাকভারত যুদ্ধে সিদ্ধহস্ত করে নিয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে জার্মানে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ জিয়ার সামরিক মহাপরিকল্পনা (Military Strategy) প্রণয়নে সহায়ক ছিল।
একজন ইন্টেলিজেন্ট অফিসার হিসেবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে পাকিস্তান সরকার বা সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। কঠোর প্রশিক্ষণ, জ্ঞান আহরণে সাধনা, সততা এবং দেশপ্রেম জিয়ার জীবনের সামরিক প্রস্থুতিকে করেছিল পরিপূর্ণ।

দ্বিতীয় পর্ব-
জিয়ার জীবনের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান, ২৫ মার্চ গভীর রাত থেকে অর্থাৎ ২৬ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাধীনতাকামী যুদ্ধ রত দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনী প্রধানের দায়িত্ব পালন, ১ম সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন, ১১ তম সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন, প্রথম নিয়মিত বাহিনী “জেড ফোর্স” কমান্ডার হিসেবে জেড ফোর্স গঠন, কামাল পুরের যুদ্ধ সহ অসংখ্য যুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনা ছিল তাঁর জীবনের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব। এমন স্বর্ণ অধ্যায় লক্ষ কোটি মানুষের জীবনে কাল কালান্তরে কয়জন পায়? স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়টি ছিল -

তিনি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে বিপদসঙ্কুল রেখে ৯ টি মাস প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন।


একটি পাক ভারত এবং দ্বিতীয়টি বাংলাদেশ ভারত –এ দুটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরীক্ষিত এবং দুঃসাহসী সেনানায়ক জিয়াউর রহমান প্রতিনিয়ত রণকৌশল উদ্ভাবনের মাধ্যমে যুদ্ধের ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীকে ঘায়েল করেছেন; ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে অসাধারণ অবদানের মাধ্যমে
স্বাধীনতা অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ জিয়া “বীরউত্তম” (স্বাধীনতা যুদ্ধের দ্বিতীয় বৃহত্তম) উপাধিতে ভূষিত হন।

তৃতীয় পর্ব-স্বাধীনতা উত্তর-জিয়ার সেনাজীবন পর্ব
স্বাধীনতা উত্তর সেনাজীবনে জিয়াউর রহমানকে শেখ মুজিবুর রহমান পুরস্কৃত না করে তিরস্কার করেছিলেন। জিয়ার জুনিয়র শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান করা হয়-যা সেনাবাহিনীকে অবাক ও আহত করেছিল। কারণ যোগ্যতম সিনিয়র মোস্ট অফিসারকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য জিয়ার জুনিয়র অফিসারকে সেনাপ্রধান করায় সেনাবাহিনীতে ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিলো। জিয়াকে ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব দিয়ে কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়; তিনি অনুগত সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে কুমিল্লায় কাজে যোগদান করেন। ৭৩ সালে তিনি উপ সেনা প্রধানের দায়িত্ব পান। ৭৫ এর ১৫ আগস্টে কিছু সেনা অফিসারদের সশস্ত্র হামলায় দেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের অন্যান্য সদস্য সহ নিহত হন। আওয়ামী সরকারের মুস্তাক আহমেদ রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসেন। জিয়া সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পান। সেনাবাহিনীতে তখন চলতে থাকে অভ্যুত্থান এবং পাল্টা অভ্যুত্থান।

৩রা নভেম্বর ১৯৭৫ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থানে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দি করে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তরীণ রাখা হয়। ৭ই নভেম্বর ৭৫ সিপাহী জনতা বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াকে মুক্ত করে দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। শুরু হয় জিয়ার জীবনের চতুর্থ পর্ব; রাজনৈতিক পর্ব।

চতুর্থ পর্ব- জিয়ার জীবনের রাজনৈতিক শেষ পর্ব
শুরু হয় দেশ গড়ার কাজ। বহু মেধাসম্পন্ন ও কর্মঠ মানুষের সমাবেশ ঘটানোর মাধ্যমে প্রথমে তিনি কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত এবং এক দলীয় আওয়ামী বাকশালী শাসন ও নির্যাতনে ছিন্ন ভিন্ন দেশকে দ্রুততম সময়ে তিনি টেনে তুলে আনলেন এক সম্মান জনক স্থানে। হানাহানির রাজনীতি পরিহার করে উৎপাদনের রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করলেন আপামর জনতাকে। প্রবর্তন করলেন বহুদলীয় গণতন্ত্র। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্থপতি জিয়া গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটে বেড়ান; জাগিয়ে তোলার আপ্রাণ প্রয়াস চালান প্রতিনিয়ত। জেগে উঠে বিধ্বস্ত সমাজ।

১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতির সামনে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচি জাতীয় জীবনে ঐতিহাসিক ম্যাগ্নাকার্টা হিসেবে আবির্ভূত হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা, মুক্ত বাজার অর্থনীতি, সবুজ বিপ্লব, গ্রাম সরকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ছাত্রদের জন্য বিএনসিসি, শিশুদের জন্য নতুন কুড়ি, শ্রমিকদের জন্য প্রণোদনা, বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন, পরিবেশ বান্ধব অবকাঠামো তৈরি করা এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তুলা। মাত্র তিন বছরে অর্থাৎ মধ্য ৭৮ থেকে ২৯ মে ৮১ পর্যন্ত সময়ে তিনি বাংলাদেশেকে বহুমাত্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দেশ ও জাতি হিসেবে দাঁড় করান। সার্কের স্বপ্ন দ্রষ্টা হিসেবে তিনি যে আন্তর্জাতিক টেবিল তৈরি করে গেছেন সেখানে আজ অবজারভার ও ডায়লগ পার্টনার হিসেবে পৃথিবীর ৬৫০ কোটি মানুষের মধ্যে ৪০০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। সার্ক আজ একটি উন্নয়নের গ্লোবাল ফোরামে রূপান্তরিত হয়েছে। শহীদ জিয়া বেঁচে থাকলে এখন বয়স হতো মাত্র ৭৫ বছর ; চার্চিল, ম্যানডেলা কিংবা মাহাথিরের কীর্তি- মনুমেন্টকে অতিক্রম করে হয়তবা একটি গর্বিত মডেল বাংলাদেশ তিনি উপহার দিতে পারতেন।

নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস। জাতি অকালে এক অসাধারণ ষ্টেট্‌সম্যানকে হারাল। আজ ৩০ বছর পর জাতি এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। ফ্যাসিবাদ নতুন আঙ্গিকে নগ্ন রূপ ধারণ করেছে। প্রাকৃতিক সম্পদের সমুদ্র সীমানা আজ শকুনের থাবার কবলে; স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন। ৩০ বছর পর আবারও জাতির জন্য নতুন করে তাগিদ এসেছে। জন্ম ভূমির জন্য আর একটি গণ আন্দোলন অপরিহার্য- আলোক বর্তিকা হাতে উচ্চারণ করতে হবে- “ বল বীর চির উন্নত মম শির” শহীদ জিয়ার আদর্শে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।
এই অনিবার্য আন্দোলনে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আর একটি ঐতিহাসিক ডাক অপরিহার্য। রাজপথ সহ সকল মাধ্যমে সকল স্তরের দেশী বিদেশী মানুষ সহ জ্ঞান ভিত্তিক সমাজের বিচরণ সংগঠিত করতে হবে; ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব সহ সকল অনলাইন গণমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। দেশ ও মানুষ বাঁচানোর প্রত্যয় নিয়ে সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে হবে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সংযোগকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতে হবে। দেশপ্রেমকে বুকে নিয়ে দেশের জন্য আত্মনিবেদন হতে হবে জাতীয়তাবাদের ব্রত। জাতি গঠনে জাতির জন্য অপরিহার্য তাগিদ পালন করে যে দিন জিয়ার আদর্শে আবার নতুন স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে- সে দিন তৃষিত জলধির জিয়ার আত্মা শান্তি পাবে।

callsiddique@gmail.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MajorSiddique(Ret)
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
doha qatar থেকে Nurul hoque লিখেছেন, ১৮ জুলাই ২০১১; রাত ০৪:০৪
জনাব মেজর ছিদিদক আপনি জিযার রহমানের সুনাম করিতে যাইযা আসল
জাযগা কেন যে হাত দিলেন, বুজতে পারলাম না, আপনী বলিতেছন শেখ মুজিব
জুনিযর অপিসার কে এম সপি উল্যা কে সেনা বাহিনির ছিপ অপ কমানড
বানাইযা জিযা কে অ সম্যানিত করিযাছে, আহত করিযাছে, এই কতা কি
বুজায শেখ মুজিব এর হত্যার জন্য জিযার হাত আছে ,তাহা যদি হয
আপনি ঘটনার সবই জানেন, কারন আপনি নিজে ও ঐ বাহিনির ,
63196
NY থেকে Shuvo Chy Abed লিখেছেন, ১৮ জুলাই ২০১১; দুপুর ১২:০৩
Thanx. Mr Siddiq .
This article may be a good evidence for bongobondhu murder. Once u also mention that the children of Maj Zia will be pull out the natural resources of our country. That means he knew that his child will do bzness with Mr. Mamun (Owner of Khambba Gp)
63210
ধানমন্ডি থেকে মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা লিখেছেন, ১৯ জুলাই ২০১১; বিকেল ০৫:২৭
অসম্ভব সুন্দর এবং তথ্যবহুল লেখা। বর্তমান সরকারের জিয়া বিরোধী প্রাচারণা-ই আমাকে জিয়া সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করছে। জিয়া সম্পর্কে যতই পড়ছি, ততই তার দেশপ্রেম, সততা, রাষ্টচিন্তা সম্পর্কে অবহিত হচ্ছি। আজকের দিনে একজন জিয়ার বড়ই প্রয়োজন। জিয়া বিরোধীদের ধন্যবাদ তার সম্পর্কে জানতে উদ্ভুদ্ধ করানোর জন্য। লেখককে তার অসাধারণ লেখার জন্য ধন্যবাদ। জিয়া বিষয়ে তার নিকট থেকে আরও লেখা আশা করছি............
63338
ঢাকা থেকে সাজ্জাদ লিখেছেন, ১৯ জুলাই ২০১১; রাত ০৯:২২
ধানমন্ডি থেকে মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন
জিয়া সম্পর্কে জানতে হলে তার চোখের কালো চশমাটা খুলে নিতে পারেন। তাহলে দেখবেন তিনি আসলে কী?
63367
যুক্তরাষ্ট্র থেকে শামসুল আলম লিখেছেন, ২৮ জুলাই ২০১১; রাত ১১:৩৩
মনযোগ দিয়ে পড়‍ার জন্য একটু বেশী সময় নিয়ে ফেল্লাম। খুবই ভালো লিখেছেন সিদ্দিক ভাই। অভিনন্দন আপনাকে।।

শহীদ জিয়াকে নিয়ে লিখতে গেলে অনেক কথাই চলে আসে। সব গুছিয়ে লেখা হয় না। তাছাড়া একাডেমিক পারপাস নিয়েও আমি খুঁজে বেড়াচ্ছি নানান কিছু। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অনেক কিছুই মিলছে না। শহীদ জিয়াকে নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা হয় নি এখনো। বাংলাদেশের ক্ষমতায় দীর্ঘকাল থেকেছে ‍বিএনপি, কিন্তু জিয়াকে নিয়ে তেমন কাজ হয় নি। একজন সৈণিক কি করে বিশ্ব নেতাদের একজন হলো; কি করে তিনি দেশের আমুল পরিবর্তন করে দিলেন; সারা দেশময় ঘুরে বেড়ালেন পায়ে হেটে, আমেরিকা থেকে জাপান সারা পৃথিবীটা চষে বেড়ালেন, ‘তলা বিহীন ঝুড়ির দেশ’কে কেমন করে খাদ্যে সারপ্লাস করলেন, কেনো উনি বাংলাদেশের সীমানা বাড়ানোর কথা বলতেন, একটা গরীব ও নবীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান সত্তেও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কার্টার কেনো হোয়াইট হাউজে রিসিভ করে বলেন “Very fine President of Bangladesh”, কেনো দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতার জন্য SAARC বানাতে এ এলাকার রাষ্ট্রপ্রধানদের চিঠি লিখলেন- দূত পাঠালেন; ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধে কোনো তাঁর ডাক পড়লো; “আল-কুদস” জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে কি সাহসী ভূমিকা ছিলো তার; কার্টার, থেচার, ক্যাষ্ট্রো, টিটো, ইয়াসির আরাফাতের মত বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে সমানে সমান হয়ে চলা সে মানুষটিকে আমরা মাপতে পারিনি এখনো। পারিনি তার প্রাপ্য সম্মান দিতে। প্রচুর গবেষণা দরকার তার জীবন ও কর্ম নিয়ে, দরকার রেকর্ডগুলো সংরক্ষনের। দেশে বিদেশে যে মানুষটি এত কিছু করেছেন, তার জন্য আমরা কি করছি??
64202
dammam. ksa থেকে jalal uddin লিখেছেন, ৩০ জুলাই ২০১১; রাত ০৮:৫৬
thanks . well written.
64326
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
মেজর সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, পি এস সি (অবঃ) নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলায় গাতী পাড়া গ্রামের সৈয়দ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মরহুম সৈয়দ শাহাব উদ্দিন
এবং মাতা মরহুমা কুলসুম আরা। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২১ বছর চাকুরির পর ২০০৬ সালের মে মাসে স্বেচ্ছায় সঙ্গ বাহিনীতে সামরিক অবজারভার হিসেবে ২০০০ সালে পূর্ব তিমুরে বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করেন। তিনি মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড ও স্টাফ কলেজ থেকে ১৯৯৯ সালে পি এস সি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৯ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাষ্টার অফ ডিফেন্স স্টাডিস সৈয়দ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মরহুম সৈয়দ শাহাব উদ্দিন অবসর গ্রহন করেন। তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদ ছাড়াও জাতি অর্জন করেন।

তিনি ২০০৬ সালে ক্যানাডার রয়্যাল রোডস বিশ্ব বিদ্যালয় হতে এম বি এ ডিগ্রী লাভ করেন।
তিনি নেতৃত্ব, রাজনীতি, বিভিন্ন গণ মাধ্যমে লেখা লেখি করেন। স্ত্রী, ছেলে মাহিয়ান ও মেয়ে মাসনুরা সহ লন্ডনে বসবাস করেন।

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy