|
আমার আমেরিকায় আসা এবং দু’ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অসমতা
মামুন হাসান |
|
ছোটবেলা থেকে যখন মোটামুটি বুঝতে শিখেছি তখন মায়ের কাছে গল্প শুনতাম আমার মেজ মামা নাকি “আমেরিকা” নামক এক দেশ আছে, সেখানে থাকে। সে দেশে নাকি সবাই বড়লোক, কেউ রাস্তা দিয়ে হাঁটে না, সবাই নিজস্ব গাড়ি নিয়ে চলাচল করে। সে দেশটা নাকি একটা “স্বপ্নের দেশ”-----মায়ের কাছে এ সমস্ত গল্প শুনতাম এবং “আমেরিকা”কে নিজের কল্পনায় সাজাতাম। আর ভাবতাম আমিও যদি মামার মত সেই স্বপ্নের দেশে যেতে পারতাম তবে জীবনটা বুঝি সার্থক হত।
আর একটু বড় হবার পর ক্লাস থ্রির “সামাজিক বিজ্ঞান” বইয়ে মহাদেশ বিষয়ে পড়লাম তখন একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল আর তা হল----“একই নামে যদি দুটি মহাদেশ তবে আমার মামা কোন মহাদেশে থাকে?”—প্রশ্নটা করেছিলাম সেই সময়ে ক্লাস নাইনে পড়ুয়া, আমার ছয় বছরের বড় ভাইকে, তিনি মুচকি হেসে বললেন, “উত্তর আমেরিকা” । সেই থেকে উত্তর আমেরিকার প্রতি একট আলাদা “টান” অনুভব করতাম। এরপর হঠাত একদিন শুনলাম আমার মামার পাশাপাশি আমার ছোট খালু, তিনিও আমেরিকায় চলে গেছেন, কিভাবে আমেরিকায় যাওয়া যায় এ বিষয়ে আমার কোন ধারণা ছিল না আমার। আর সে বয়সে এগুলো না জানাটাই স্বাভাবিক। যাই হোক, ছোট খালুর আমেরিকায় চলে যাবার পর আমিও মায়ের কাছে “বায়না” ধরলাম, “আমিও আমেরিকায় যাবো”। মা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, “সেখানে সবাই যেতে পারে না”। আমি ভাবলাম হয়ত আমেরিকায় ছোটদের যাওয়া নিষেধ। তাই আশায় বুক বাধলাম, “একদিন বড় হব, আমেরিকায় যাবো”।
সেই আশা বহুগুণে বেড়ে গেল যখন ফাইভের বৃত্তি পরীক্ষার পরে, স্থানীয় মেইল ম্যান আমার আব্বুর হাতে একটা সাদা খাম দিতে দিতে বলল, “সোলাইমান সাহেব, আপনার কাছে আগাম মিষ্টি কিন্তু পাওনা থাকল”। চিঠিটার প্রেরকের ঠিকানা পড়তে একটু কষ্ট হল আমার, ইংরেজিতে লেখা ছিল, “US EMBASSY”. এর পর থেকে আমার আব্বু আম্মু আর ভাইয়ের মধ্যে কি রকম এক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগল। তাদেরকে প্রায়ই সন্ধ্যাবেলা পড়তে পড়তে দেখতাম এক জায়গায় বসে কি সব বিষয়ে আলোচনা করত। হঠাৎ একদিন মায়ের কাছে শুনতে পেলাম আমরাও অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আমেরিকা চলে যাচ্ছি। তবে আম্মু আমাকে প্রতিজ্ঞা করে নিয়েছিলেন আমি যেন একথা আর কাউকে না বলি।
কথায় আছে, “দেয়ালেরও কান আছে”—তবে বাংলাদেশের দেয়ালের কান একটু বেশীই বড়। কয়েক মাসের মধ্যেই বিষয়টা নিকট আত্মীয় পেরিয়ে পাড়া- প্রতিবেশীর নিকট চলে গেল। বাইরে গেলেই-“তোরা নাকি আমেরিকায় যাচ্ছিস” এই প্রশ্নের মুখোমুখি যে কতবার হয়েছি তার কোন ঠিক নেই। তবে আমেরিকায় আসার প্রসেসটা মোটেও সহজ ছিল না। আমাদেরকে অনেক বার এমবাসি যেতে হয়েছিল। লাইনে দাঁড়ানো, বিভিন্ন উইন্ডোতে বিদেশীদের সাথে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংলিশে কথা বলা, অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন যোগাড় করা, পুলিশ ভেরিফিকেশন, আমেরিকান ভিসা, পাসপোর্ট, বিমান টিকেট, ওহ!!! আরও কত কি? আর এ সকল কাজ সম্পাদন করতে আমাদের পুরো চার বছর সময় লেগেছিল।
সে সময় পড়াশোনার অবস্থা ছিল একদম করুণ। একটা কথায় কেবল মাথায় বন বঙ্করে ঘুরত, “চলেই তো যাচ্ছি”। ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলেও ক্লাস এইটে পাই নি। কারণ একটাই—“স্বপ্নের আমেরিকা” এ বছর গুলোতে কখনো কখনো দুঃখে মন ভরে যেত যখন আমাদেরকে এমবাসির ফোন কলের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হত, আমার আনন্দের সাগরে ভেসেছি যখন এমবাসির ডাকে ছুটে গিয়েছি ঢাকায়। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এলো, ২০০৯ সালের পহেলা জুন নিউ ইয়র্কের জন, এফ কেনেডি বিমান বন্দরে বিকাল চারটায় স্বপ্নের দেশের মাটিতে পা দিলাম।
মানুষ যখন অনেকগুলো পরিচিত বিষয় বা জিনিসের মধ্যে একটা ভিন্ন বা অচেনা, অজানা বিষয় বা জিনিস দেখলে অবাক হয়, আশ্চর্য বোধ করে। কিন্তু মাত্র ২২ ঘণ্টার ব্যবধানে যদি কেউ এমন একটা স্থানে যায় যেখানে সে কোনদিন আসে নি, দেখেনি, তবে সেই ব্যক্তির আর যা-ই হোক আশ্চর্য বোধের চেয়ে একটু বেশী অন্য কিছু বোধ হয়। আমার ক্ষেত্রে ঠিক তেমন হয়েছিল। যেদিকে তাকাই কেবল সবকিছুতেই নতুনত্বের ছোঁয়া। মানুষ থেকে শুরু করে বস্তু সবকিছুই নতুন। যেদিকেই যাই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি, হারিয়ে যায় বাকশক্তি।
ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে-All Glitters Are Not Gold”বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন মানুষের মুখ নিঃসৃত বর্ণনা আর বাস্তব আমেরিকার মধ্যে বেশ পার্থক্য খুঁজে পেলাম। “আমেরিকা হল বাংলাদেশের মতই সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার দেশ তবে বাংলাদেশের মত চায়ের দোকানে বসে অযথা সময় কাটাবার সময় এখানে কারও নেই”---কথাটি বলেছিলেন আমার আব্বু, অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। নিউ ইয়র্ক স্টেটে অধিকাংশ বাঙ্গালীরা নিউ ইয়র্ক সিটির মধ্যেই বসবাস করে, এছাড়াও অন্যান্য এলাকায় বাংলালীরা তো আছেই। এখানে ছাত্র-শিক্ষক, অফিসার, বই বিক্রেতা, সকল প্রকারের শ্রমজীবী মানুষ সকাল থেকে রাত অবধি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।
যাই হোক, এখানে এসেই আমি নিউ ইয়র্কের একটা স্কুলে ভর্তি হলাম। প্রথম দিন স্কুলে গিয়ে আমি তো হতবাক এবং হতভম্ব। আধ উচ্চারণে আমেরিকান আক্সেন্টে তারা কি বলছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। সবকিছু অপরিচিত, মানুষ, স্কুল, স্কুলের শিক্ষক, সবাই। তারপরও আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা ব্রিটিশ আক্সেন্টে তাদের কথার উত্তর দিতে লাগলাম। আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম একজন বোবা মানুষের কি যে কষ্ট!
বাংলাদেশ বা পৃথিবীর অন্যান্য দেশ (যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয়) থেকে যে সমস্ত ইমিগ্রান্ট আমেরিকাতে আসেন, বিশেষ করে যারা আমেরিকাতে তাদের শিক্ষাকাল আরম্ভ করতে চান, তাদেরকে আমেরিকান মূল একাডেমিক শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত হবার আগে একটি ম্যানডেটোরি কোর্স করতে হয় তা হল ESL (English As A Second Language) আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। এই কোর্স করতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। এটা মূলত আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড ইংলিশের পরিচিতি মূলক কোর্স যাতে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজের তিন রকম ব্যবহার শেখানো হয় তা হল, লেখা পড়া এবং বলা। আমরা যারা এশিয়ার অধিবাসী, ব্রিটিশ ইংলিশের সাথে আমাদের ঘনিষ্ঠতা ব্যাপক। কিন্তু ব্রিটিশ এবং আমেরিকার ইংরেজির মূল পার্থক্য হল উচ্চারণ। উদাহরণ: ব্রিটিশ ইংরেজিতে একটা বহুল পরিচিত শব্দ হল schedule বা শিডিউল কিন্তু এটাকে যদি আমেরিকান ইংরেজিতে বলা হয় তবে এর উচ্চারণ সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যাবে যেমনঃ schedule বা স্কাজুয়াল।
এদেশে হাতে গোনা কিছু প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুল ব্যতীত অন্যান্য স্কুলের কোন ইউনিফর্ম নেই। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হল কোন ক্লাসে স্যার বা ম্যাডাম আসলে কোন ছাত্র-ছাত্রীই উঠে দাঁড়ায় না। কেবল হাই-হ্যালোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ক্লাসে কেউ কোন ছাত্র বা ছাত্রী কিছু বলতে চাইলে বাংলাদেশের মত কেউ উঠে দাঁড়ায় না, সবাই নিজের আসনে বসে প্রশ্ন করে।
বাংলাদেশে শিক্ষকদের সব সময় সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হয় না কিন্তু এখানে শিক্ষকদের মর্যাদা এবং সম্মান সব সময় অনেক বেশী। আর সবচেয়ে নিম্ন স্তরের যেমন এলিমেনটারি বা প্রি-প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকের বেতন অনেক বেশী কারণ তাদেরকে ছোট বাচ্চাদের সাথে কাজ করতে হয়। তারা শিশুদের মানুষিক বিকাশের ক্ষেত্রে মা- বাবার পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
ক্লাসে শিক্ষকদের পড়ানোর বিষয়ে না বললেই নয়। আমি এখানে একাধিক শিক্ষকের নিকট থেকে শিক্ষার্জন করেছি তবে পরানোর মূল কৌশল একই রকম, যেমনটা আমি পেয়েছি আমার বাংলাদেশের সম্মানিত শিক্ষকের কাছ থেকে। তবে আরও কিছু কৌশলগত পরিবর্তন এখানে পরিলক্ষিত হয় যেটা বাংলাদেশে কেউ কিছু মনেই করে না কিন্তু আমেরিকা এবং বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক পার্থক্যের কারণগুলোও সেটি। প্রথমেই বলি এখানকার কোন শিক্ষক কোন প্রকার শারীরিক আঘাত বা ভয়-ভীতি বা হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পড়া আদায় করে না। এদেশের আইনে ছাত্র-ছাত্রীদের মার-ধর করা নিষেধ। ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই উৎসাহিত হয়ে পড়াশোনা করে কারণ এদেশের প্রত্যেকটি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পরম বন্ধুর মত। আর ক্লাসের হোম ওয়ার্ক বাংলাদেশের মতই তবে শিক্ষার্থীদের বাসায় খুব বেশী পরিশ্রম করতে হয় না, পরবর্তী দিনের পড়া রেডি করার জন্য।
আসলে মূল বিষয়টা হল এদেশের মানুষ একটা ছাত্রকে বা ছাত্রীকে তার ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তার জ্ঞানের প্রসারণ ঘটায় যার কারণে হোম ওয়ার্কের জন্য এখানে কাউকে অনেক পেজ লেখা বা কোন কিছু মুখস্থ করার প্রয়োজন পড়ে না কারণ বাংলাদেশের একজন ছাত্র যখন ডাইনোসরের ছবি বইয়ে দেখছে বা তার সম্বন্ধে কিছু তথ্য পড়ছে, তখন এদেশের ছাত্রটি হয় তো তার বন্ধুদের নিয়ে অথবা ক্লাসের স্যারের নিয়ে ডাইনোসরের একটা মুভি দেখছে অথবা কোন ন্যাচারাল মিউজিয়ামে গিয়ে সেগুলো সরাসরি প্রদর্শন করছে।
পরীক্ষা পদ্ধতি বাংলাদেশ থেকে অনেকটাই ভিন্ন। এখানে প্যারাগ্রাফ আকারে লেখার প্রয়োজন সব সময় হয় না, পরীক্ষায় শতকরা একশত ভাগ প্রশ্ন অবজেক্টিভ পদ্ধতিতে, এতে শিক্ষার্থীদেরকে কেবল সঠিক উত্তরটিতে বাবল করতে হয়। কিন্তু মজার বিষয় হল যে, এই যে প্রথম গ্রেড থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত (উল্লেখ্য আমেরিকাতে বাংলাদেশের মত দুই বছর কোন কলেজে পরা লাগে না কারণ কলেজের দু বছরের ক্লাসও হাই স্কুলের মধ্যে) কোন সিলেবাস নেই। তবে টেক্সট বই আছে, যা তাদেরকে ইতিহাস বা ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে ব্যাপক ধারণা দেয়, তবে পরীক্ষার প্রশ্ন হুবহু বই থেকে থাকে না।
আমরা বাংলাদেশে হাইস্কুলে ক্লাসে গ্রুপ ওয়ার্ক বা দলবদ্ধভাবে কাজ করতে খুব বেশী দেখি না কিন্তু এখানে গ্রুপ ওয়ার্ক কে অনেক মূল্য দেওয়া হয় কারণ এর মাধ্যমে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন ঘটে। একজনের সাথে আরেক জনের পরিচয় , কথা বলা, সামাজিক বিভিন্ন কাজে অংশ গ্রহণ করা, এগুলোর শিক্ষা দেওয়া হয় হাইস্কুল থেকে এবং পরবর্তীতে কিভাবে একজন ছাত্র বা ছাত্রী তার পছন্দ অনুযায়ী বিভাগে পড়তে পারবে এবং কোন কলেজে বা ইউনিভার্সিটিতে সে পড়তে চায় সে বিষয় গুলো হাইস্কুল থেকেই বেশ ভালো ধারণা দেওয়া হয়। আমার মনে হয়, সে কারণেই সামাজিক ভাবেই হোক আর ধর্মীয় কারণেই হোক এদেশের সামাজিক বন্ধন ততোটা মজবুত না হলেও মানুষের সাথে মানুষের আন্তরিকতার কোন অভাব এখানে নেই। যা আমাকে হতবাক করে।
এদেশের হাইস্কুলের পাঁচ বছরকে অনেক মূল্যবান সময় বলে ধরা হয়, কারণ শিক্ষার্থীদের বেসিক শিক্ষা এই হাইস্কুলেই। তবে এদেশের সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় যে সুবিধা প্রদান করেছে তা হল লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজের ব্যবস্থা, সরকারি বা বেসরকারি বা প্রাইভেট কোম্পানি। আমি নিজেও একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি পড়াশোনার পাশাপাশি। আর এ সকল বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য এদেশের মানুষ ব্যক্তিগত ভাবে অনেক সচ্ছল। বাংলাদেশে বাড়ি-ঘরের অনেক টুকিটাকি জিনিসের জন্য আমাদেরকে অন্য মানুষের উপর নির্ভর হতে হয় কিন্তু এরা নিজেদের কাজ নিজেরা করে।
পশ্চিমাদের কাছ থেকে ভাল দিকগুলো শিখতে কোন দোষ নেই। |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/MamunHasan |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
নিউ ইর্য়ক, যুক্তরাস্ট্র
tumamunhasan@gmail.com |
|