মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৪:৪২ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

তুমিও একদিন বৃদ্ধ হবে

মামুনুর রশীদ

এত দিন ছিলে বাপের আদরে, মায়ের স্নেহের খনি,
এ ঘরে ও ঘরে ঘুরে বেড়াতো, আমাদের সোনামণি।
যখন যা চাইতো মনে ‘মা’ জান দিতো এনে,
আদরে সোহাগে রাখতো সদা বুকের মধ্যে টেনে।

হরেক রকম বায়না ধরে বলতো মায়ের কাছে,
এনে দিতো সবকিছুই যেখানে যা আছে।
জানতে তুমি বাবার পকেটে, আছে কি বা নাই,
এখনই আমায় দিতে হবে, এখনই তা চাই।

বাবার পকেট যদিও খালি মায়ের মুষ্টি চাল,
বিক্রি করে জামা জুতো এনে দিয়েছে কাল।
এমনিভাবে জনক জননী অতীত ও বর্তমান,
সন্তানের তরে কাঁদে তাদের, সারাটি জীবন প্রাণ।

মল-মূত্র গায়ে লাগলে মুছে দিতো ত্বরা করে,
আগুন পানিতে না যায় যেন রাখতো চোখের পরে।
বাপ মা না খেয়ে, আমাদের খাওয়ায়ে রাখছেন সদা খুশি,
রোগে শোকে সেবা করতেন, শিহরে মোদের বসি।

ঘুম না এলে ঘুম পড়াতেন, মাথায় বুলিয়ে হাত,
এমনিভাবে কেটেছে মায়ের অনিদ্রায় কত রাত।
সেই পিতা মাতার কথা ভুলে গিয়েছি হয়েছি যখন বড়ো,
কথায় কথায় ধমক দিয়ে বলি, তোমরা কী বুঝো? সরো।

তোমাদের চেয়ে কম বুঝি না, জ্ঞান কী মোদের কম?
তোমরা এখন বুড়োধুড়ো মানুষ, বুঝোইনা একদম।
বিয়ে-শাদী করে এখন আমরা দূরে গিয়েছি সরে,
আমরা খাই কোর্মা পোলাও, ‘বাপ-মা’ না খেয়ে মরে।

ছেলের পরনে দামী দামী শার্ট মায়ের ছেড়া শাড়ী,
বাবার পরনে শত তালি দেওয়া জামা লয়না খবর তারি।
বাপ মা খাওয়ালে কম পড়ে যাবে! হতে পারবো না বড়লোক,
বাপ মা থেকে তাই, আলাদা থাকি, করছি যোগ-বিয়োগ।

হায়রে মানুষ কি আশা-ভরসা নিয়ে আছে যে, দুনিয়ায়,
চোখ বুঝিলে কে কোথায় যাবে, খবর কে তার পায়?
কোথায় থাকবে ধন সম্পদ আর, কোথায় বাড়ি-ঘর,
স্বার্থ লোভে সব ভুলে যায়, আপন করে পর।

ধন সম্পদে কাজ হবে না, বাবা মায়ের কষ্ট থাকলে মনে,
আল্লাহ ও রাসূল হবে বিমুখ, দোযখ সম্মুখ পানে।
স্রষ্টার পরে পিতা-মাতা সকল ধর্মে কয়,
প্রভূর বিধান মেনে চললে জান্নাত পাবে নিশ্চয়।

তুমিও একদিন বৃদ্ধ হবে, ভাঙবে সেদিন ভুল,
বাবা মায়ের শোকে সেদিন ছিড়বে মাথার চুল।
লাভ হবে না কিছুই তাতে বৃথা চোখের জল,
পিতা মাতার সেবা করো, পাবে তাহার ফল।

এখনো সময় আছে, পিতা-মাতা যাদের আছে দুনিয়াতে,
তাদের মনে আঘাত দিওনা, খুশি হবে প্রভূ তাতে।

লেখকঃ কুয়েত
ওয়েব সাইট: মাসিক আলা-হুদা বাংলা পত্রিকা
mamunipc09@yahoo.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MamunurRashid
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
কুয়েত থেকে আবু আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ০৩ জুলাই ২০১১; রাত ০৮:১৪
সত্যিই সবাইকে একদিন বৃদ্ধ হতে হবে। ধন্যবাদ সুন্দর একটি কবিতা শেয়ার করার জন্য।
61502
ঢাকা থেকে আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব লিখেছেন, ০৪ জুলাই ২০১১; দুপুর ০২:৩১
"এখনো সময় আছে, পিতা-মাতা যাদের আছে দুনিয়াতে,
তাদের মনে আঘাত দিওনা, খুশি হবে প্রভূ তাতে।"

প্রাণের কথাগুলো-ই বললেন আঙ্কল। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

তথাকথিত আধুনিকতার ধ্বজাধারীরা এখন মা-বাবা থেকে পৃথক জীবন যাপনকেই স্মার্টনেস বলে ধারণা করে নিয়েছে। বস্তুত পশুত্বের স্তরে যে মানবসভ্যতা দ্রুত বেগে ধাবিত হচ্ছে, এসবের মধ্যেই তার প্রমাণ নিহিত।

আর আমরা যারা লিখি, আমাদেরও বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে শুধুমাত্র শহুরে জীবনের রোমান্টিকতাগুলোই। জীবন চলার পথের অসঙ্গতিগুলো কলমের ছোঁয়ায় তুলে ধরতে যেন আমাদের যত অনীহা!

আলহামদুলিল্লাহ, আপনি সেই বিষয়টার উর্ধ্বে উঠেছেন। অসংখ্য ধন্যবাদ। সত্যের পথে আল্লাহ আমাদের অবিচল রাখুন। আমীন। মাআসসালাম।
61587
ঢাকা থেকে জসিম লিখেছেন, ০৪ জুলাই ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:২৪
জসিম উদ্দিনের সেই কবিতাটির অনুসরনে।

তবে সাফল্যজনকভাবে প্যারোডি করতে পারেন নি।

কবির প্রতি অনুরোধ রইলো আরো ভালো করে চেষ্টা করার জন্য।
61619
doha/qatar থেকে Nurul hoque লিখেছেন, ০৫ জুলাই ২০১১; রাত ০৪:২১
আপনী জাহা লিখিযাছেন বওমানে ১০০% বাসতব সত্য, এই খানে একটি বাক্য সত্য, মা বাবা কে জে অভহেলা করে সে হতভাগ্যা জাহান্যামে জাবে, মা বাবার জন্য কোন কোন জাযগা ছেলের ইছ্যা করিলে ও কেন পারেনা বলুন দেখয়া যাক সাহস করে,
61671
পটুয়াখালী থেকে মুতাসিম বিল্লাহ লিখেছেন, ১৫ জুলাই ২০১১; দুপুর ০৩:২৪
লেখাটি অনেক ভাল লাগলো লেখককে
62923
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
লেখক....

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy