এত দিন ছিলে বাপের আদরে, মায়ের স্নেহের খনি,
এ ঘরে ও ঘরে ঘুরে বেড়াতো, আমাদের সোনামণি।
যখন যা চাইতো মনে ‘মা’ জান দিতো এনে,
আদরে সোহাগে রাখতো সদা বুকের মধ্যে টেনে।
হরেক রকম বায়না ধরে বলতো মায়ের কাছে,
এনে দিতো সবকিছুই যেখানে যা আছে।
জানতে তুমি বাবার পকেটে, আছে কি বা নাই,
এখনই আমায় দিতে হবে, এখনই তা চাই।
বাবার পকেট যদিও খালি মায়ের মুষ্টি চাল,
বিক্রি করে জামা জুতো এনে দিয়েছে কাল।
এমনিভাবে জনক জননী অতীত ও বর্তমান,
সন্তানের তরে কাঁদে তাদের, সারাটি জীবন প্রাণ।
মল-মূত্র গায়ে লাগলে মুছে দিতো ত্বরা করে,
আগুন পানিতে না যায় যেন রাখতো চোখের পরে।
বাপ মা না খেয়ে, আমাদের খাওয়ায়ে রাখছেন সদা খুশি,
রোগে শোকে সেবা করতেন, শিহরে মোদের বসি।
ঘুম না এলে ঘুম পড়াতেন, মাথায় বুলিয়ে হাত,
এমনিভাবে কেটেছে মায়ের অনিদ্রায় কত রাত।
সেই পিতা মাতার কথা ভুলে গিয়েছি হয়েছি যখন বড়ো,
কথায় কথায় ধমক দিয়ে বলি, তোমরা কী বুঝো? সরো।
তোমাদের চেয়ে কম বুঝি না, জ্ঞান কী মোদের কম?
তোমরা এখন বুড়োধুড়ো মানুষ, বুঝোইনা একদম।
বিয়ে-শাদী করে এখন আমরা দূরে গিয়েছি সরে,
আমরা খাই কোর্মা পোলাও, ‘বাপ-মা’ না খেয়ে মরে।
ছেলের পরনে দামী দামী শার্ট মায়ের ছেড়া শাড়ী,
বাবার পরনে শত তালি দেওয়া জামা লয়না খবর তারি।
বাপ মা খাওয়ালে কম পড়ে যাবে! হতে পারবো না বড়লোক,
বাপ মা থেকে তাই, আলাদা থাকি, করছি যোগ-বিয়োগ।
হায়রে মানুষ কি আশা-ভরসা নিয়ে আছে যে, দুনিয়ায়,
চোখ বুঝিলে কে কোথায় যাবে, খবর কে তার পায়?
কোথায় থাকবে ধন সম্পদ আর, কোথায় বাড়ি-ঘর,
স্বার্থ লোভে সব ভুলে যায়, আপন করে পর।
ধন সম্পদে কাজ হবে না, বাবা মায়ের কষ্ট থাকলে মনে,
আল্লাহ ও রাসূল হবে বিমুখ, দোযখ সম্মুখ পানে।
স্রষ্টার পরে পিতা-মাতা সকল ধর্মে কয়,
প্রভূর বিধান মেনে চললে জান্নাত পাবে নিশ্চয়।
তুমিও একদিন বৃদ্ধ হবে, ভাঙবে সেদিন ভুল,
বাবা মায়ের শোকে সেদিন ছিড়বে মাথার চুল।
লাভ হবে না কিছুই তাতে বৃথা চোখের জল,
পিতা মাতার সেবা করো, পাবে তাহার ফল।
এখনো সময় আছে, পিতা-মাতা যাদের আছে দুনিয়াতে,
তাদের মনে আঘাত দিওনা, খুশি হবে প্রভূ তাতে।
লেখকঃ কুয়েত
ওয়েব সাইট: মাসিক আলা-হুদা বাংলা পত্রিকা
mamunipc09@yahoo.com |