মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৪:৪৮ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

ফতোয়া

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মজিবুর রহমান

‘‘ফতোয়া’’ শব্দটি এমন একটি শব্দ যার আভিধানিক অর্থ হলো - কোন মানুষ যখন কোন সমস্যায় পতিত হয় তখন সে সমস্যাটির সুন্দর সমাধান শরীয়তের বিধানমতে অর্থাৎ পবিত্র কোর আন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে প্রদান করা। এ শব্দটি আসলে খুব ই একটি সুন্দর শব্দ যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় সমস্যার শরীয়তসম্মত সমাধান প্রদান করে। কিনতূ কতিপয় অশিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত মোল্লা নামধারী লোকের নির্বুদ্বিতা ও কায়েমী স্বার্থবাদী লোকের বাচ-বিচারহীনভাবে ব্যবহারের কারণে এ সুন্দর শব্দটি ই আজ সবচেয়ে ঘৃণা ও আতংকের শব্দে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে অবশ্য কতিপয় ভূঁইফোড়ে টাইপের এনজিওদের ভূমিকা ও কোন অংশে ই কম নয় এ শব্দটির অপব্যবহারের ক্ষেত্রে। তবে যে যা-ই বলুক না কেন এ শব্দটির মন্দ প্রয়োগে যেমন ঝামেলা রয়েছে তেমনি এর সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে যে শুভ ফল পাওয়া সম্ভব তা কিন্তু কোন মহল ই অস্বীকার করার প্রয়াস পাবেন না। নীচের কৌতুকটির মাধ্যমে ই আমরা এ অকাট্য সত্যটিকে সহজে ই অনুধাবন করতে পারি।

হযরত আবু হানিফা(রাঃ) এর মেধা ছিল খুবই প্রখর। ফতোয়ার ব্যাপারে তাঁর সতর্কতা ছিল তুলনাহীন। একবার ইমাম সাহেবের মজলিসে এক ব্যক্তি এসে বললো, ''হুজুর, এক লোক বলেছে যে, কোন কাফের জাহান্নামে যাবে না' - এ ব্যক্তির ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কি?
ইমাম সাহেব তাঁর ছত্রদেরকে বললেন, ''তোমরা এ লোকটির কথার জবাব দাও।''

ছাত্ররা বললো, ''লোকটি কাফের।'' কারণ সে 'নফছ' কে অস্বীকার করছে (অর্থাৎ কোরানের সে সব আয়াতকে অস্বীকার করছে যার অর্থ স্বতঃ প্রকাশমান)।

ইমাম আবু হানিফা (রাঃ) বললেন, ''তাবীল কর''। (অর্থাৎ কোন ওজর বের করে লোকটিকে কুফুরীথেকে বাঁচাও।)

ছাত্ররা বললো, '' এখানে তাবীল করার কোন সুযোগ নেই। তাবীল করা অসম্ভব।''
ইমাম সাহেব বললেন, ''তাবীল আছে। আর তা হলো - জাহান্নামে যাওয়ার সময় কেউ কাফের থাকবে না, মুমীন হয়ে মরবে। কারণ তখন সবাই দোজখ দেখবে এবং তা তখন অস্বীকার করার উপায় থাকবে না। আর তখন দোজখীরা সবাই শরীয়তের অর্থে কাফের থাকলে ও আভিধানিক অর্থে মুমীন হয়ে যাবে। আর সে মুমীন অবস্থায় দোজখে যবে। কাফের অবস্থায় দোজখে যাবে না। তাই এ লোকটিকে কাফের হিসেবে ফতোয়া দেয়া যায় না।''

শিক্ষনীয়ঃ এ কৌতুকটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ঈদানীং ফতোয়া নিয়ে কতিপয় মহলে যে ভয়-ভীতি বা ঢালাওভাবে ইসলামের দোষারোপ করা বা ইসলামী আকীদাকে হালকা জ্ঞান করার যে প্রবণতা শুরু হয়ে গিয়েছে এটা কোন মতে ই মেনে নেয়া যায় না যদি ও স্বীকার করতে হয় কতিপয় অশিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত মোল্লা নামধারী লোকেরা ফতোয়ার নামে ইসলামের বিরাট ক্ষতি করে বেড়াচ্ছে। তাই আমরা যারা আমাদেরকে শিক্ষিত দাবী করি তাদের উচিত হবে চিলে কান নিয়ে গিয়েছে বলে কানের দিকে না তাকিয়ে চিলের দিকে না দৌড়িয়ে বরং কান কনাএর জায়গায় আছে কি না তা পরীক্ষা করা এবং অতঃপর চিলের পিছনে দৌড় ঝাপ করা অর্থাৎ অশিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত মোল্লা নামধারী লোকেরা কি ফতোয়া দিল তা সঠিকভাবে যাচাই-বাচাই করার মতো যোগ্যতা ও প্রতিটি মুসলমানের থাকা উচিত। একমাত্র তখন ই সমাজ যথাযত ফতোয়া থেকে উপকার পাবে আর স্বার্থান্বেষী, বানোয়াট ও অযাচিত ফতোয়ার কালিমা থেকে আমাদের মা বোনরা রেহাই পাবে। আল্লাহ্ পাক আমাদের সে তৌফীক দান করুন, আমীন।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MaziburRahman
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
ব্যারিষ্টার মোহাম্মদ মজিবুর রহমান কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার স্বনামধন্য ও বহুমুখী ব্যবসায়ের প্রাণকেন্দ্র রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের খানেপাড়া নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চার বোনের একমাত্র ভাই তিনি। ছাত্র জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষকমহলে তিনি ভাল ছাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে তিনি কুমিল্লা বোর্ডে মানবিক বিভাগ থেকে মেধাতালিকায় স্থান করে নেন। ১৯৯৫ এবং ১৯৯৬ সালে যথাক্রমে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল এল বি (অনার্স) এবং এল এল এম পাশ করেন। এল এল এম পড়াকালে ই তিনি বি সি এস পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন এবং সহকারী জজ হিসেবে ১৯৯৯ সালের ২৫ শে জানুয়ারী চাকুরিতে যোগদান করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এল এল বি (অনার্স) পড়াকালীন সময়ে-ই ঢাকা ল\\\' রিপোর্টস (Dhaka Law Reports) বিভিন্ন ধরণের অনুবাদ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি ২০০১ সালের সালিশী আইন (The Arbitration Act of 2001) বাংলা থেকে ইংরেজীতে অনুবাদ করেন এবং ঢাকা ল\\\' রিপোর্টস তা প্রকাশ করেন। তাছাড়া তিনি ঢাকা ল\\\' রিপোর্টস কতৃক প্রকাশিত Law on Bail বইটির ও প্রুফ রিডিং (Proof reading) এর কাজ করেন। অতঃপর তিনি ২০০১ সালে শিক্ষা ছুটি নিয়ে বার-এট-ল\\\' করার উদ্দ্যেশ্যে যুক্তরাজ্য গমন করেন। ২০০৫ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পুনরায় এল এল বি (অনার্স) সম্পন্ন করেন। ২০০৫-২০০৬ সালে তিনি সিটি ইউনিভার্সিটির অধীন আ ই সি এস এল (বর্তমানে সিটি ল\' স্কুল) থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স (বর্তমানে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স) সম্পন্ন করেন এবং লিংকন্স ইন থেকে বার-এট-ল উপাধি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে দু\'টো কলেজে সুনামের সাথে আইন শিক্ষকতায় জড়িত। ২০০৮ সালে তাঁর এক বাংলাদেশী ছাত্র ক্রিমিনাল ল\' তে ৯১% নম্বর পেয়ে যুক্তরাজ্যের আ ইন জগতের রেকর্ড ভংগ করেন। আইন শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এ টেলিকমিউনিকেশন্স ল\' (Telecommunications Law) এর উপর বিশেষায়ণ (Specialization) করছেন। তিনি তিনি সমাজে ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রচলিত অনিয়ম ও অনাচার দূরীকরণ এবং মানবাধিকার উন্নয়নে কলম সৈনিক হিসেবে কাজ করতে বেশ আগ্রহী।

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy