মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৪:৫০ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
এমএলএম বাণিজ্য ও জনসচেতনতা (২৮/০৪/২০১২)
নিত্য নতুন চ্যানেল ও টিভি বিজ্ঞাপন (৩১/০৩/২০১২)
যদি লক্ষ্য থাকে অটুট... (০৭/০১/২০১২)
উপেক্ষিত ও নিরাপত্তাহীন তরুণসমাজ (২৪/১২/২০১১)
জীবনের লক্ষ্য ও বর্তমান মানসিকতা (১০/১২/২০১১)
নিজেকেই সাহায্য করতে হবে (২৬/১১/২০১১)
কোটিপতি হবার প্রতিযোগিতা (১৩/১১/২০১১)
উত্থান-পতনের শেয়ারবাজার (২) (২৯/১০/২০১১)
উত্থান-পতনের শেয়ারবাজার (১) (২২/১০/২০১১)
সোস্যাল মিডিয়া: বিকল্প গণমাধ্যম (০৮/১০/২০১১)
ভিসা প্রক্রিয়ার অন্যরকম অভিজ্ঞতা (২৪/০৯/২০১১)
মন্টিনিগ্রো: পর্যটনে ঈর্ষণীয় সাফল্যের উদাহরণ (১১/০৬/২০১১)
একাল-সেকাল: অর্জন-বিসর্জন (০৪/০৬/২০১১)
সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প: আলবেনিয়ার অভিজ্ঞতা (২১/০৫/২০১১)
মোটিভেশন লেটার: যে তথ্যগুলো জানা দরকার (০৭/০৫/২০১১)
ফেসবুক বিতর্ক (৩০/০৪/২০১১)
রিসার্চ প্রপোজাল লিখতে দরকারী তথ্য (শেষ পর্ব) (০৯/০৪/২০১১)
রিসার্চ প্রপোজাল লিখতে দরকারী তথ্য (পর্ব - ২) (০২/০৪/২০১১)
রিসার্চ প্রপোজাল লিখতে দরকারী তথ্য (১৯/০৩/২০১১)
ভেনিস কার্ণিভাল: অন্যরকম অভিজ্ঞতা (১২/০৩/২০১১)
আড্ডায় সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ (২৬/০২/২০১১)
সিলেট অঞ্চলের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ভাবনা (০৮/০১/২০১১)
ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ: স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা (০১/০১/২০১১)
মূল্যবোধের ভয়াবহ সংকট: লাগাম টানবে কে? (২৫/১২/২০১০)
ডেনিশ কালচারের কতিপয় বৈশিষ্ট্য (১৮/১২/২০১০)
দেশে দেশে কালচারের ভিন্নতা (২য় পর্ব) (১১/১২/২০১০)
দেশে দেশে কালচারের ভিন্নতা (২৭/১১/২০১০)
সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পে সক্ষমতার দৌঁড়ে বাংলাদেশ (০৬/১১/২০১০)
Upcoming Budget: Some Proposals (২৯/০৫/২০১০)
সুনাগরিক তৈরিতে শিক্ষার ভূমিকাঃ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ (১৫/১২/২০০৯)
আগের লেখা
405


এমএলএম বাণিজ্য ও জনসচেতনতা

মোঃ আব্দুল হামিদ

ঘটনাটি বছর পনের আগের। কলেজে ক্লাশ শুরু করেছি মাত্র। সিনিয়র এক ভাই বললেন সেদিন সন্ধ্যায় এক ‘সেমিনার’ আছে আমি যেন অবশ্যই উপস্থিত থাকি। সেমিনার শব্দটির সাথে পরিচয় থাকলেও বাস্তব কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। শুধু জানতাম সেখানে বিজ্ঞজনেরা নির্ধারিত বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন। আগ্রহ সহকারে যথাসময়ে হাজির হলাম। প্রচন্ড গরমে ছোট্ট হলরুমে কোট-টাই পরা দেখে শুরুতেই আলোচকের কমনসেন্স লেভেল নিয়ে খটকা জাগল। তবুও অপেক্ষা করলাম বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থাপনা দেখার জন্য কারণ প্রচার করা হয়েছিল যে তিনি উচ্চতর ডিগ্রীধারী। উপস্থাপিত তথ্য ও যুক্তিগুলো অনেকেক্ষেত্রেই অবাস্তব মনে হলো। শেষে জানতে চাইলাম-ঘরে বসেই যদি আমার পক্ষে লাখ লাখ টাকা কামাই করা সম্ভব হয় তবে আপনি কেন মাসে পাঁচ-সাত হাজার টাকা বেতনের জন্য ‘সঙ’ সেজে (ভ্যাপসা গরমে অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে তার পোশাক দেখে সেটাই মনে হচ্ছিল) প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছুটে বেড়াচ্ছেন? তাছাড়া সহজে ধনী হবার এমন মোক্ষম বুদ্ধি তিনি আত্মীয়-স্বজনকে না দিয়ে আমাদের মতো অপরিচিত লোকদের বিলিয়ে দিতে কেন উঠেপড়ে লেগেছেন? বলাই বাহুল্য সন্তোষজনক জবাব পাইনি। এভাবেই মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বাণিজ্যের সাথে পরিচয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে এমএলএম আসক্ত এক বন্ধু থেকে সবাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখত কারণ বলা হতো যে ভিক্ষুকের কাছ থেকে রক্ষা পাওয়া গেলেও নাকি তার থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব! সম্প্রতি এশিয়াকাপ ক্রিকেটে আমাদের গর্বের প্রতীক জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বুকে বন্ধুটির সেই কোম্পানীর নাম দেখে খুব অবাক হয়েছি। কারণ তাদের ব্যবসায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং মানুষকে নি:স্ব করে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ রয়েছে। ডেসটিনি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পর এমএলএম বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক পর্যালোচনা হচ্ছে। এবিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরাই এ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য।

বছর পঞ্চাশ আগে আমেরিকান এক গ্যারেজ মালিক নিজের উদ্ভাবিত পণ্য বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপনের বিকল্প উপায় খুঁজছিল। হঠাৎ খেয়াল করল-কিছু ক্রেতা নিয়মিত পণ্য কেনার পাশাপাশি বন্ধুদেরও শোরুমে নিয়ে আসছে। অনুগত সেই ক্রেতাদের চেষ্টার বিনিময়ে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। ক্রেতারাও বিষয়টি লাভজনক বুঝে নিত্য নতুন ক্রেতা খুঁজতে লাগল। বিক্রেতা ভাবল, ব্যাপারটা মন্দ না; কারণ বিজ্ঞাপনে সবসময় অনেকগুলো অনিশ্চয়তা কাজ করে। যেমন ক্রেতারা বিজ্ঞাপনটি দেখবে কি না, দেখলেও বিশ্বাস করবে কি না; বিশ্বাস করলেও পণ্যটি শেষ পর্যন্ত কিনবে কি না ইত্যাদি। অথচ এই প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র বিক্রি হলেই কমিশন দিতে হয়! তাই এজেন্টের সংখ্যা বেশি হলেও সমস্যা ছিল না। মোটামুটি এভাবেই ‘নেটওয়ার্ক মার্কেটিং’ এর উদ্ভব হয় এবং কিছুটা পরিবর্তিত আকারে এমএলএম কোম্পানীগুলো কাজ করে। বর্তমানে ডেসটিনি’র এমএলএম কার্যক্রম নিয়ে অনেক কথা শোনা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিতর্কের সূচনা হয়েছে তা কিছুটা সন্দেহজনক বটে। কারণ দেশে আরো অসংখ্য এমএলএম কোম্পানী সক্রিয় থাকলেও শুধুমাত্র ‘ডেসটিনি’ নিয়ে কথা হচ্ছে; ওপর মহল থেকে কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছে! একইজাতীয় সকল কোম্পানীকে অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনার চেষ্টা না করাটা অনেকেই স্বাভাবিক মনে করছে না। পাশাপাশি এই উদ্যোগ সাধারণ জামানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় কতোটা ভূমিকা রাখবে তাতে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। কারণ ইতোপূর্বে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ বিনিয়োগকারী নি:স্ব হয়েছে, যুবক কিংবা ইউনিপে টু ইউ এর মতো হায় হায় কোম্পানীগুলো হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নি।

চেনাজানা যারা এমএলএম কার্যক্রমের সাথে যুক্ত অনেককে জিজ্ঞাসা করেছি যে বাস্তবে তারা মাসে কতো টাকা আয় করছেন? অবাক করার বিষয় হলো-সবাই বলে, এখনো পাওয়া শুরু হয়নি তবে যখন হবে তখন শুধু টাকা আর টাকা! আরো জানতে চেয়েছিলাম তাদের কোন বন্ধু বা কাছের মানুষ প্রতিমাসে টাকা পাচ্ছে কি না? কেউই ইতিবাচক জবাব দিতে পারে নি (হয়তো যারা পায় তাদের কাছে আমরা পৌঁছতে পারি না)! স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে-তাহলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকাগুলো যায় কোথায়, কারা এই প্রক্রিয়ার সত্যিকারের সুবিধাভোগী? প্রশ্নগুলোর জবাব মেলে যখন শুনি কোন এমএলএম কোম্পানী পদ্মা সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বিনিয়োগ করার সামর্থ্য রাখে, টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রের মালিক হয়! এখন প্রশ্ন হলো-মানুষ কেন এদের কথায় প্রলুব্ধ হয়? দরিদ্র জাতি হিসাবে আমরা অনেকগুলো সমস্যার সাথে বসবাস করি। একদিকে দেশে কাজকর্ম নাই অন্যদিকে অল্পপরিশ্রমে বেশি আয়ের আকাঙ্ক্ষা প্রবল। উন্নত দেশগুলোতে প্রয়োজনীয় পলিসি ও কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি থাকায় জনস্বার্থবিরোধী কাজে এমএলএম কোম্পানীগুলো জড়িত হতে পারে না। কিন্তু আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত কোন নীতিমালা প্রণয়ন সম্ভব হয় নি। হায় হায় কোম্পানীগুলো বারবার প্রতারণা করলেও উল্লেখযোগ্য কোন বিচার হয় নি। সুবিধাবাদীরা নানা কৌশলে সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঐসকল কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট করে যাতে সুসময়ে জনগণের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায় আর দু:সময়ে জোটে সরকারী মহলের সমর্থন।

মুদ্রার অপর পিঠও দেখা দরকার। সবাই এমএলএম কোম্পানীগুলো কিংবা সরকারকে দোষারোপ করতে তৎপর। কিন্তু যারা লাভের আশায় অবাস্তব এবং অযৌক্তিক প্রস্তাবগুলোতে লাখ লাখ টাকা অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে তারাও কি কম দায়ী? আগে ভন্ড ফকিরেরা মোহর ভর্তি সোনার কলস পাবার লোভ দেখিয়ে মানুষকে নি:স্ব করত আর এখন কোট টাই পরে সাহেব সেজে কোটিপতি বানানোর স্বপ্ন বিক্রি করছে! লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো-যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারাই এমএলএম’র সবচেয়ে বড় প্রমোটার! তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে ডাউনলাইনে আর কিছু লোককে ভেড়াতে পারলেই তার সব বিনিয়োগ সুদে আসলে উঠে আসবে। ততক্ষণ পর্যন্ত সে এই আশা জিইয়ে রাখে যতক্ষণ পর্যন্ত নি:স্ব না হয়! প্রতিটি এমএলএম কর্মী যেন লেজকাটা শেয়ালে পরিণত হয়। নিজেরটা যেহেতু কাটা গেছে সেহেতু অপরের লেজ কাটাতে তারা সদা তৎপর। সহজ যুক্তিটি বুঝতে চায় না যে, কোম্পানী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাঁচ বা তদুর্ধ্ব স্তরের পরিবেশকদের বোনাস বা কমিশন দেয়। যদি সত্যিই তা দিতে হয় তবে একসময় কোম্পানী দেউলিয়া হতে বাধ্য। তাই তারা হয় প্রতিশ্রুত সুবিধা দেয় না অথবা অবৈধ কোন উৎস আছে যা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। তাছাড়া যিনি বাস্তবে পণ্য বিক্রি করেন তার চেয়ে তাদের ওপরের স্তরের এজেন্টরা বেশি পয়সা পায়! ফলে পণ্য বিক্রির চেয়ে নতুন এজেন্ট রিক্রুট করায় তাদের আগ্রহ ঢের বেশি।

এমএলএম বাণিজ্য বৈধ কিনা তা নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত। তবে এ বিষয়ে দীর্ঘ গবেষণা শেষে অধ্যাপক ডারিয়েল কোয়েন বিজনেস ইথিকস্ জার্ণালে লিখেছেন-‘এমএলএমগুলো আইনগত দিক থেকে বৈধ কিংবা অবৈধ হতে পারে। কিন্তু যখন তারা সেগুলিকে ‘পিরামিড’ অথবা ‘সীমাহীন-চেইন’ স্কিম আকারে পরিচালনা করে তখন তা যেমন হয় অবৈধ তেমনি অনৈতিক’। আমাদের দেশের অধিকাংশ এমএলএম কোম্পানী পিরামিড স্কিমটি পরিচালনা করে ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ঘাপলা করার সুযোগ অনেক বেশি যে কারণে সেটি হলো-একজন এজেন্ট সহজেই আরেকজনকে এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করছে কিস্তু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চেনা প্রয়োজন মনে করছে না। ফলে যখন অফিসে তালা পড়ে তখন সেই এজেন্ট মারাত্মক বিপদে পড়ে যান; এলাকা ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু জীবনযাপন করেন। সব মানুষের রাগ হয় তাদের ওপর কারণ তারাইতো লোভনীয় কথা বলে এ লাইনে এনেছে। শুধুমাত্র ‘ডেসটিনি'কে নিয়ে এরূপ তোড়জোড় হওয়া মোটেই স্বাভাবিক ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে না! যদিও সাধারণভাবে ধারণা করা যায় যে প্রতিপক্ষরা শক্তিশালী গণমাধ্যমের সাহায্যে তাদের সুনাম ক্ষুন্ন করছে কিন্তু তার উল্টোটা হবার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ব্লগগুলোতে এনিয়ে নানা শংকার কথা লেখা হচ্ছে। যেহেতু শেয়ারবাজারসহ নানাক্ষেত্রের অপকর্মকারীরা দেশের জনগণের লক্ষ কোটি টাকা লোপাট করলেও কোন বিচার হয় নি বা কাউকে জবাবদিহি করতে হয় নি সেহেতু এই সুযোগে কোম্পানীটি নিষিদ্ধ করা গেলে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা আর ফেরত দেওয়া লাগবে না! এর চেয়ে লাভজনক বুদ্ধি আর কী হতে পারে?

এমএলএম’র সাথে যুক্তরা অপ্রয়োজনীয় জিনিস বেশি টাকায় কেনে; অনেকে নিজের টাকায় পণ্য কিনে নিম্নধাপের ব্যক্তিকে দেয় আর স্বপ্ন দেখে-ভবিষ্যতে কমিশন পেলে এসব বিনিয়োগ সুদেআসলে উঠে আসবে! দু:খজনকভাবে একবার যে এই চক্রে পা দেয় তাকে যে কোন মূল্যে খেলায় টিকে থাকতে হয়। তাছাড়া অপ্রয়োজনীয় একটি পণ্য শুধুমাত্র চাপার জোর কিংবা প্রলোভন দেখিয়ে কতোদিন বিক্রি করা সম্ভব? ফলে যখনি কোন পিরামিড বন্ধ হবার সম্ভাবনা দেখা দেয় তখন তারা নতুন স্কিম চালু করে নিম্নস্তরের কর্মীদের সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করে। নতুন এলাকায় গিয়ে বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর চেষ্টাও তাদের মাস্টারপ্ল্যানে থাকে। বড় বড় ইভেন্টে ডোনেট করে কিংবা তারকাদের হায়ার করে সামাজিক স্বীকৃতির জন্য। পাশাপাশি প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের বিশাল অংকের সম্মানী দিয়ে উপদেষ্টা বা পরিচালক হিসাবে রাখে। কোম্পানী পরিচালনা সংক্রান্ত কোন সহযোগিতা না পেলেও বছরের পর বছর এজাতীয় লোকদের সম্মানী দেয় বিভিন্ন সুবিধা পেতে। পরিশেষে বলি, ২০০৫ সালে শ্রীলংকান সরকার যে এমএলএম বাণিজ্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে এবং এই প্রক্রিয়ার সাথে কোনভাবে যুক্ত হওয়াকে মারাত্মক অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করেছে সেই দেশের এক নাগরিক বাংলাদেশে এমএলএম ধারণার জনক হিসাবে গর্ব করে পরিচয় দেয়! দেশের জনগণকে এর হাত থেকে রক্ষায় জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। কেউ এসে বলল যে আপনার নামে আমরা চাঁদে সস্তায় একখন্ড জমি রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছি শীঘ্রই দশলাখ টাকা দেন-সঙ্গে সঙ্গে আপনি টাকা দিবেন; তাহলে আপনাকে ঠকার হাত থেকে রক্ষা করার মতা সরকার কেন কারোরই নেই। নিজের জ্ঞান-বিবেক যে প্রস্তাবকে যৌক্তিক বলে সায় দেয় না, সেখানে পয়সা ঢালবেন না। কারণ যেদিন তারা লাপাত্তা হবে সেদিন হায় হায় করা ছাড়া কপালে আর কিছুই জুটবে না।

[প্রবন্ধটি গত ২০ এপ্রিল, ২০১২ তারিখে দৈনিক ‘বণিক বার্তা’য় ছাপা হয়েছে]
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MdAbdulHamid
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
chandpur থেকে kazi rasel লিখেছেন, ০১ মে ২০১২; সকাল ০৯:৩৮
mr.hamid vi apni pora lakha korao murukha e thaka gelan.kono kesu somporka na jana somalochona kora gadar moto kaj noy ke????
83641
জেদ্দা থেকে প্রবাসী লিখেছেন, ০১ মে ২০১২; বিকেল ০৪:১০
খুব একটা তথ্যনির্ভর হয়নি। বিশেষ করে "বছর পঞ্চাশ আগে আমেরিকান এক গ্যারেজ মালিক নিজের উদ্ভাবিত পণ্য বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপনের বিকল্প উপায় খুঁজছিল" এবং সেখান থেকেই এম এল এম ব্যবসার শুরু তা মোটেই সত্য নয়।
লেখকের এ বিষয়ে আরো ভালো করে জেনে লেখা উচিত ছিল।
83655
ঢাকা থেকে জয় লিখেছেন, ০১ মে ২০১২; বিকেল ০৪:৫৫
কিভাবে যে তারা আমাদের ঠকাচ্ছে তা যদি জনগণকে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে জানানো যেত তাহলে তারা সেটা দেখে নিজেরাই আশ্চর্য হয়ে যেতো।
83657
কানাডা থেকে সালাম শিকদার লিখেছেন, ০২ মে ২০১২; রাত ০২:২৫
@Kazi Rasel: আপনিও কি লেজ কাটাদের দলে? এমএলএমের সমালোচনা শুনে এত বিরক্ত হচ্ছেন অথচ সরকার যে ডেসটিনির বসদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিল, স্থায়ী কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে তাতে ক্ষতিগ্রস্থ লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের কি হবে তাতো বললেন না! তাছাড়া লেখক যতোটুকু বুঝেন সেটা বলতে চেষ্টা করেছেন কিন্তু আপনিতো বিকল্প কোন যুক্তিও দিলেন না...বিষয়টা বুঝলাম না, গাধাটা কে?
83682
ctg থেকে taher লিখেছেন, ০৫ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৪৮
kono bishoi a naa jena lekha vhalo na aro lekha pora koren!
83828
Rajbari থেকে Maruf লিখেছেন, ০৫ মে ২০১২; বিকেল ০৪:৫৯
যেহেতু শেয়ারবাজারসহ নানাক্ষেত্রের অপকর্মকারীরা দেশের জনগণের লক্ষ কোটি টাকা লোপাট করলেও কোন বিচার হয় নি বা কাউকে জবাবদিহি করতে হয় নি সেহেতু এই সুযোগে কোম্পানীটি নিষিদ্ধ করা গেলে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা আর ফেরত দেওয়া লাগবে না! এর চেয়ে লাভজনক বুদ্ধি আর কী হতে পারে?
Apnar ei lekhatar sathe ami ekmot.
83833
রাজবাড়ী থেকে এম এ আল মারুফ লিখেছেন, ০৫ মে ২০১২; বিকেল ০৫:১৪
এমএলএম নিয়ে যা লিখেছেন তাতে মনে হচ্ছে আপনি একটু লবিং টবিং করলে এমএলএম বিশেষজ্ঞ খেতাব পেয়েও যেতে পারেন। তবে জানেন কি ? আমাদের বাঙ্গালীদের এই একটাই দোষ শুধু সমালোচনাটাই ভালো করতে পারি।আপনি কিন্তু লেখাটার মধ্যে সাধারন মানুষের যাতে ভাল হয়, বিশেষ করে যারা যারা বিনিয়োগ করেই ফেলেছে। এমন কিছু লেখা দিতে পারতেন।
83834
chittagong থেকে raihan লিখেছেন, ০৭ মে ২০১২; বিকেল ০৫:১৮
abdul hamid bai;apnar likhata pore mone holo chogol dia haal chash kora hoyacha..noton kichu den.je janenna seta nia kotha na bolai valo....
83937
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
জন্ম নাটোরে, পড়াশোনা করেছেন কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, বাগাতিপাড়া কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের স্কলারশীপ নিয়ে ‘ইউরোপীয়ান ট্যুরিজম’ বিষয়ে অধ্যয়নরত। ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি অব সাওদার্ণ ডেনমার্ক ও স্লোভেনিয়ার ইউনিভার্সিটি অব লুবলিয়ানার পরে বর্তমানে স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব জিরোনায় অধ্যয়ন করছেন। কর্মজীবনে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক (শিক্ষা ছুটিতে)।

শিক্ষাজীবনে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসাবে আকবর হোসেন স্কলার এওয়ার্ড (বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায়); নুরুন্নেছা এওয়ার্ড (বিবিএ, বিএ ও বিএসএস পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সেরা হওয়ায়); ইউজিসি মেরিট স্কলারশীপ (অনার্স পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে); অগ্রণীব্যাংক স্বর্ণপদক (বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টিতে প্রথম হওয়ায়); ইউনিভার্সিটি এওয়ার্ড (মার্কেটিং বিভাগে প্রথম হওয়ায়); সৈয়দ আমীর আলী স্বর্ণপদক (আউটস্ট্যান্ডিং রেজাল্টের জন্য); নাটোর শিক্ষা ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক (এইচএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগে সম্মিলিত মেধাতালিকায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করায়) লাভ করেন।

সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিকট থেকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ স্বর্ণপদক (বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম হওয়ায়); ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ স্বর্ণপদক (রচনা প্রতিযোগিতায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম হওয়ায়) লাভ করেন। থানা, জেলা, বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ে বক্তৃতা, বিতর্ক, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতায় শতাধিক পুরস্কার লাভ করেছেন। দীর্ঘসময় সৈয়দ আমীর আলী হলের বাংলা ও ইংরেজী বিতর্ক দলের দলনেতা ছিলেন। গবেষণামূলক কয়েকটি প্রবন্ধ বিভিন্ন জার্ণালে প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, ব্লগ ও ট্যুরিজম বিষয়ক ওয়েবসাইটে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তাঁর স্ত্রী বিলকিস আক্তারও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় নিয়োজিত আছেন।

পর্যটন বিষয়ে আগ্রহ ও পড়াশোনার প্রয়োজনে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্পটের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক, জার্মানী, অষ্ট্রিয়া, ইতালী, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, আলবেনিয়া, বসনিয়া, মন্টিনিগ্রো, কাতার ও স্পেনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করেছেন।

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy