উন্নয়ন শব্দের অভিধানিক অর্থ ইতিবাচক বা কাঙ্খিত পরিবর্তন। পূর্বের তুলনায় বর্তমানের যে ইতিবাচক পরিবর্তন সেটাই উন্নয়ন। পূর্বের এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদরা এভাবেই সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সংজ্ঞা দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতিবিদগণ এই উন্নয়নকে পরিমাপ করেন গলাবাজীর মাধ্যমে। গোলটেবিল, জনসভা, সেমিনারের বক্তব্য ও বিবৃতির মূল সারমর্ম হলো দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সরকার দলীয় মন্ত্রী-এমপিরা যেভাবে নিজেদের সাফাই গাওয়া শুরু করেছেন তাতে মনে হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসখ্যাত এডলফ হিটলারের প্রচার মন্ত্রী গোয়েবলস এর “একটি মিথ্যা কথা দশবার বললে সেটা সত্য হয়ে যায়” তত্ত্বের সফল এবং নিপূণভাবে প্রয়োগ করছেন।
একটি একটি করে স্বাধীনতার ৪০টি বছর অতিক্রম করলো বাংলাদেশ। বিজয়ের এই ৪০ বছরে বিশ্লেষকদের অভিমত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটাপন্ন। স্বাধীনতার চার দশক পরেও এখনও যেমন বেকারত্বের অভিশাপ রয়েছে তেমনি আছে দারিদ্রতা। প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক মুক্তি যেমন আসেনি তেমনি হয়নি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। বাংলাদেশ বাংকের সাবেক গভর্ণর ড. সালেহ উদ্দীনের মতে, বিনিয়োগে অস্থিরতা, ঘাটতির চাপ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়েছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১১-২০১২ অর্থবছরের মাত্র পাঁচ মাসে সরকার ব্যাংক লোন নিয়েছে ২১০০০ কোটি টাকা। বৈদেশিক লোন ছাড়ের চেয়ে পরিশোধ করতে হচ্ছে অধিকহারে। ফলে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ এক বছরে কমে দাড়িয়েছে ১০৮০ মিলিয়ন থেকে ৯৩৫ মিলিয়ন। মধপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক ফিরে আসায় ২০১১ সালে রেমিট্যান্স কমতে থাকে। অব্যাহতভাবে ডলারের দাম বাড়তে থাকায় আমদানী ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিকহারে অন্যদিকে রপ্তানী আয় কমে গেছে ২৫০০ কোটি টাকা। চলতি ২০১১-২০১২ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর মাসে রপ্তানী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ যেখানে গত বছরে একই সময়ে যা ছিলো ২৫ শতাংশের উপরে। ডলারের দাম কমে যাওয়ায় এবং রেমিট্যান্স কমে আসায় হুমকির মুখে পড়েছে মূল্যস্ফীতি। সাত শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে বছর শুরু করলেও ২০১১ নভেম্বর মাসে তা এসে দাড়িয়েছে ১১.৫৮ শতাংশ। সম্প্রতি দফায় দফায় জ্বালানী তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে অন্যান্য জিনিসের উপর এর প্রভাব পড়েছে। ফলে চাহিদার যোগান দিতে মানুষ বাংকে রাখা আমানত ভাংতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে দেশের খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় তিনগুন। যেখানে গত অর্থবছরে এই মূল্যস্ফীতির পরিমান ছিলো ৩.৩৩ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি বর্তমান সময়ে গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অব্যাহত মূল্যস্ফীতির উর্ধ্বগতি, বিশাল আকারের ভর্তূকি ও সরকারের বেপরোয়া ব্যংক লোন গ্রহণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং আই এফ এম এর মিশনের বাংলাদেশ প্রধান ইতেরি ভেনতেরজা।
দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরার জন্য মধ্যবিত্ত ও গরীব শ্রেণীর আকুতি নিত্যনৈমিত্তক ব্যাপার। তারপরও বাজার মনিটরিং এর অভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে হু হু করে। জিনিসপত্রের দাম জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী প্রচার করলেও কনজুমার এ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সভাপতি কাজী ফারুক বলেন, বাজার পরিস্থিতি আর জনগণের নিয়ন্ত্রণে নেই। এইজন্য তারা ব্যয় সংকোচন করতে বাধ্য হচ্ছে। কমিয়ে নিতে হচ্ছে খাদ্য ব্যয়। এইজন্য অপুষ্টিতে ভূগছে মানুষ। প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক আ হ ম মোস্তফা ফিরোজ বলেন, অসংগতি আয় নিয়ে সংসার চালাচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবার। নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ক্ষোভের কারণে গণ বিস্ফোরণ হতে পারে। অপরদিকে ২০১১ সালের পুরোটাই পুঁজিবাজার ছিলো অস্থিতিশীল। ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ভাংচুর, বিক্ষোভ, অনশন ছিলো মিডিয়ার অন্যতম শীর্ষ খবর।
সামাজিকভাবে রাজধানী সহ সারাদেশে গুম, গুপ্তহত্যা বেড়েছে অস্বাভাবিকহারে। গত এক বছরে রাজধানী ও আশেপাশের এলাকা থেকে ২৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের বেশ কয়েকজনকে তুলে নেয়া হয়েছে আইন শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর পরিচয়ে। পরে তাদের লাশ মিলেছে ১১ জনের। বাকীদের লাশও পাওয়া যাচ্ছেনা। রাজশাহীতে গত সাড়ে তিন মাসে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২১ টির উপরে। এর মধ্যে অধিকাংশই অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে অথবা অন্য কোন অজ্ঞাত দ্বন্দ্বের কারণে হত্যা করে গোপনে ফেলে দেয়া হয়েছে লাশ। এই সব লাশ উদ্ধার করলেও অনেক গুপ্তহত্যার রহস্যই উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতার করতে পারেনি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় গত এক বছরে অন্তত ১০০ ব্যক্তি এভাবে নিখোঁজ হয়েছেন।
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর দূর্নীতিগ্রস্থ দেশগুলোর তালিকা থেকে এক পয়েন্ট নীচে নেমে আসলেও দক্ষিণ এশিয়ায় ঘুষ লেনদেনে শীর্ষ দেশটির জায়গা দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এতকিছুর পরেও যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃংখলা বিগত দশ বছরের তুলনায় অনেক ভালো, বাণিজ্যমন্ত্রীকে যখন স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত সবচেয়ে সফল বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, তখন মনে হয় দেশ উন্নয়নের জোয়ারে নয় কথার জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে।
khaledar amole oo temon hoyto . taai jonogon amader btv er naam diyachilo unnyon tv. ekhon shudhu parthokyo hooilo age kahleda boliyachilo ekhon hasina bolitechhe.
75843
৩
্বুয়েট,ঢাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিক লিখেছেন,
১২ জানুয়ারি ২০১২; বিকেল ০৫:২৩
বিপ্লব সাহেব কি যে বলেন আপনি আমাদের প্রধান মন্ত্রি মাঝে মাঝে বলেন যে, তার দল ক্ষমতায় ্আসলে জনগণ কিছু পায় । তা আপনি কি কিছুই পাননি। পোড়া কপাল আমাদের তাই আমাদের ভাগ্যে কিছু এসে জোটলনা। ভাল থাকুন
76100
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: