মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৪:৫১ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

বড় ভাই রাস্তা দেখায়, ছোটভাই হাঁটলেই কেবল দোষ

মোঃ আব্দুর রহমান

মাননীয় হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট সকলের উপর সম্মান প্রদর্শন করছি। বর্তমানে আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালত প্রাঙ্গনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেল। আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে অত্যন্ত হতকচিত হয়ে গিয়েছি, আর চিন্তা করছি যে আমরা সাধারণ জনগণ আজ কোথায় যাব। সাধারণ মানুষ আজ নিরপেক্ষ থাকতে চাইলেও আর বোধ হয় নিজেদের বাঁচার তাগিদে তা আর হয়ে উঠছে না। মানুষ তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আজ অনেকটা বাধ্য হয়ে অনেক কিছু করতে বসেছে, যাহা কখনোই শুভ হইতে পারে না। অনেক শুনেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট শিক্ষকদের কত কাহিনী। এখন শুরু হয়েছে আদালত ভবনে। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে যতটুকু বোধগম্য হয়েছে, তাতে মনে হয় উক্ত ঘটনার দুটি দিক রহিয়াছে। দিক দুটি হইল আইনের শাসন ও দলীয়করণ। আমরা সবাই আইনের শাসনে বিশ্বাসী, কিন্তু প্রশ্ন হল কতটুকু আইনের শাসন আমরা পাই বা পাচ্ছি। এর বিচারের ভার জনগণের উপরই ছেড়ে দিলাম। আমিও অতি ক্ষুদ্র হলেও জনগণেরই একজন, দিনের পর দিন যা উপলদ্ধি করছি, তা ভবিষ্যতে ক্যাঙ্গারু কোর্টকেও হার মানিয়ে ফেলতে পারে বলে মনে হচ্ছে। হাঁচি দিলেও আজকাল হাইকোর্ট ডেকে পাঠাতে পারে, কারণ হাঁচিতে কারও প্রিয়জনের সাথে মধুর গল্প ভেঙ্গে যেতে পারে। তাই হাঁচি মারতে হবে সাবধানে, ভাল হয় যদি দরজা জানালা সব বন্ধ করে একা একা হাঁচি মারেন।

যাইহোক, আদালতে এই ঘটনা নতুন নয়, ইতিপূর্বে ২০০৬ সালে ৩০ শে নভেম্বর একই ধরনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলো। আজকের ঘটনা, শুধুমাত্র একটি পুনরাবৃত্তি বৈ কিছুই নয়। ২০০৬ সালে সংঘটিত ঘটনার নায়করা শাস্তি তো পানইনি, বরং আজকে বিভিন্ন পদে অলংকৃত হয়েছেন (সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ, তারিখঃ ৭ই আগস্ট, ২০১১ ) ।

আজকে মনে হচ্ছে বড় ভাই রাস্তা দেখায়, আর ছোট ভাই যখন ঐ পথে হাঁটতে শুরু করে তখনই হয়ে যায় বিপদ। বড়ভাই হাঁটলে ক্ষতি নাই, ছোট ভাই হাঁটলেই কেবল ক্ষতি। এর সুরাহা কবে হবে, এই নিয়ে আমরা সাধারণ জনগণ আজ অসহায়, বলা যায় একরকমের কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েছি। তবে মনে হচ্ছে জনগণ আমরা তখনই আশাগ্রস্ত হব যদি হাইকোর্ট ২০০৬ সালের ঘটনায় ও বর্তমানে ঘটে যাওয়া ঘটনায় জড়িত আইনজীবীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে লঘু হোক আর গুরু হোক আর অর্থ দণ্ডই হোক কিছু একটা শাস্তি প্রদান করতে পারেন। ইহা করিতে পারিলে কেবল আইনের শাসনই প্রতিষ্ঠা হইবে না বরং আদালতের উপর মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়া আসিবে। তাই আদালতের কাছে বিনীত নিবেদন, ঘটনা দ্বয়ে জড়িত আইনজীবীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন।

লেখকঃ উচ্চশিক্ষার্থে প্রবাসরত,
Email: abdur182010@yahoo.com, Rahman@tudelft.nl
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MdAbdurRahman
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Tokai mura, Ibaraki, Japan থেকে Anisur Rahamn লিখেছেন, ১৪ অগাস্ট ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:৫৪
Good mama, amar mone hoi 2006 e jemon bichar hoine abaro hobe na. karon bangladesh e jonno বড় ভাই রাস্তা দেখায়, ছোটভাই হাঁটলেই কেবল দোষ 100% right. tobe e rokom leker jonno dannabad toke.
65437
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy