মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৪:৫৩ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

ওদের থামান

মোঃ আবু তাহের

দেশের সকল সঙ্কটকাল মোকাবেলা করার জন্য ছাত্ররা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। ছাত্ররা সংঘবদ্ধভাবে যেসব সমস্যা সমাধানের জন্য পা বাড়িয়েছেন দেরিতে হলেও সেসব সমস্যা সমাধান হতে বাধ্য হয়েছে। এই সংকট উত্তরণের জন্য নিজেদের জীবনকে কুরবান করতেও তারা দ্বিধাবোধ করেননি। এক্ষেত্রে আমরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা বলতে পারি। মায়ের ভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ছাত্ররা নিজের বুকের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়েছিলেন। বিলিয়ে দিয়েছিলেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু ‘জীবন’। আমরা যদি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা চিন্তা করি তাহলে দেখবো সেখানেও ছাত্রদের ভূমিকাই উল্লেখযোগ্য। আর ১৯৭১সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তারাও হলেন ছাত্র। ছাত্রজীবন ঠিক থাকবে কি থাকবে না সেদিকে না তাকিয়ে তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মুক্তি সংগ্রামে। এই ছাত্রদের লাশের উপর দিয়েই, রক্তিম পথ মাড়িয়েই প্রতিষ্ঠিত হলো লাল-সবুজের একটি দেশ ‘বাংলাদেশ’।

এরপর যদি আমরা ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের দিকে তাকাই তাহলে ঐ একই চিত্র আমাদের সামনে ভেসে উঠবে। এই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে সফল করার জন্য ছাত্ররাই সর্বাগ্রে এগিয়ে এসেছিলেন। আর এসকল আন্দোলনের প্রায় প্রত্যেকটিতেই ছাত্রলীগের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যে ছিল একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নাই। যে ছাত্রসংগঠনটি জাতীয় উস্যুতে এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছিল সেই ছাত্রসংগঠনটি আজ দেশবাসীর বিশেষ করে সকল ছাত্রদের কাছে একটি ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। তারা এত নিচে নেমেছে যে, ‘মানুষ’ নামের একজন মানুষ সাধারণত এত নিচে নামতে পারে না। তাদের অপকর্ম দেখে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা অনেক বেশি ক্ষুব্ধ। তারা তাদের সাবেক নেতাদের কোন কথাই শুনতে চায় না। যখন এমন বাজে অবস্থা ঠিক তখনই সবাইকে হতবাক করে ছাত্রলীগের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলেন আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবশ্য মজার বিষয় হলো শেখ হাসিনার পদত্যাগের পূর্বে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কোন ব্যক্তিই জানতেন না যে শেখ হাসিনার মত একজন মানুষ ছাত্রলীগের এতবড় দায়িত্বে নিয়োজিত! সেটা যাই হোক তিনি পদত্যাগ করাতে এটা আরও স্পষ্ট হলো যে ছাত্রলীগের অপকর্মের পরিমান কেমন বেড়ে গিয়েছিল।

এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ছাত্রলীগ এই দেশটিকে বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে অতিষ্ট করে তুলেছে। আজ বাংলাদেশের বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনটাই ছাত্রলীগের হাত থেকে নিরাপদ নয়। এদের কারণে কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাসের পর মাস বন্ধ হয়ে থাকছে। যে সকল ছাত্রের ছাত্রজীবন শেষ করে বের হয়ে যাওয়ার কথা ছিল চার বছরে তারা তাদের সেই ছাত্রজীবন শেষ করতে পারছে না আট বছরেও! অনেক ক্ষেত্রে আবার ছাত্রজীবন শেষ হচ্ছে ঠিকই তবে সেই ছাত্রজীবন শেষ হচ্ছে লাশ হওয়ার মধ্য দিয়ে। যেই পিতা-মাতা অনেক স্বপ্ন নিয়ে তাঁদের কলিজার টুকরা সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে ভবিষ্যতের ছক আঁকে, ছাত্রলীগের একটা গুলির মধ্য দিয়েই পিতা-মাতার সেই স্বপ্নটা ভেঙ্গেচুরে চুরমার হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যেই।

বর্তমানে ছাত্রলীগ পারে না এমন কোন কাজ নাই। কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলে থাকেন যে, তারা শুধু ছেলেকে মেয়ে আর মেয়েকে ছেলে বানানো ছাড়া আর সবকিছুই করতে পারে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পরে পরেই মিডিয়ার কল্যাণে আমরা দেখেছি ছাত্রলীগের অস্ত্র কাকে বলে। তাদের কাছে পিস্তল, রিভলবার, আর বন্দুক যেন একেবারে পানি পান্তা। ছোড়া, চাকু, কিরিচ, রামদা না হলে তো তাদের বাহিরে বের হওয়াটাই লজ্জাস্বকর বলে মনে হয়। এরকম একজন স্মার্ট (?) ছাত্রের কাছে যদি একটা রামদাই না থাকে তাহলে আর ছাত্রলীগ কেন! ছোট-খাট একজন নেতার কাছে যদি একটা পিস্তলই না থাকে তাহলে কি আর মান-সম্মান বলে কিছু থাকে! অতএব তাদের মান-সম্মান ঠিক রাখার জন্যই এসব অস্ত্র তাদের কাছে রাখা জরুরী বলে মনে হয়। যদি তাই না হবে তাহলে পুলিশ জাতি (মানুষ এখন পুলিশকে আলাদা জাতি হিসেবেই উল্লেখ করে থাকেন) সেই লীগদের কাছে অস্ত্র দেখেও তাদেরকে ধরাতো দূরের কথা অস্ত্রটা পর্যন্ত ছিনিয়ে নিতে পারছেন না কেন! এ থেকে এটাই কি প্রমাণিত হয় না যে ছাত্রলীগ করলে অস্ত্র রাখাটা দোষের কিছু নয় বরং তা সম্মানই বয়ে আনে!

ছাত্রলীগ শুধু অন্যের উপরই অস্ত্রের ধার বা কার্যকারীতা পরীক্ষা করে না বরং তা তাদের নিজেদের উপরও এর কার্যকারীতা পরীক্ষা করতে কুন্ঠাবোধ করে না। তাদের ইচ্ছা হলেই যে কারো উপরই সেই অস্ত্রের কার্যকারীতা পরীক্ষা করতে লেগে যায়। গ্রামাঞ্চলে আমরা কুকুরের সাথে কুকুরের দুষ্টমি দেখেছি। দু’টি কুকুর প্রথমে দুষ্টমি শুরু করে, কিন্তু এক পর্যায়ে এই দুষ্টমি আর দুষ্টমি থাকে না বরং সেটা পরিণত হয় রক্তারক্তিতে, ছাত্রলীগের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটে না।

আওয়ামীলীগ সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অস্থির হয়ে ইঠেছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, অত্যতম। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলিতে তারা শুধু অস্থিরতা সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের ছাত্রসংগঠনের অনেক ছাত্রকেও। শুধু তাই নয় সাধারণ ছাত্রসহ তাদের সংগঠনের নেতা কর্মীদের হত্যা করতেও তাদের হাত কাঁপেনি। সর্বশেষ তাদের এই নির্মমতার শিকার হল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মাসুদ বিন হাবিব ও মুজাহিদুল ইসলাম। তাদের অপরাধ তারা শিবির করতো। শিবির করার অপরাধে (!) ছাত্রলীগ এই মেধাবী ছাত্র দুজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার দৃশ্য আমরা মিডিয়ার কল্যাণে দেখতে পেরেছি। যেই অস্ত্রের মহড়ার দৃশ্য কোটি কোটি মানুষ দেখলো কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সেই দৃশ্য বর্তমান সরকারের পুলিশ জাতি দেখতে পেল না। উল্টো শিবিরেরই আরও কয়েকজন নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হলো। মজার বিষয় হলো ছাত্রলীগ শুধু মাসুদ আর মুজাহিদকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা সেই লাশেকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে চালিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেছে। মিডিয়ায় যখন এই বিষয়টা ফলাও করে প্রচার করা হয় তখন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সেই দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠে।

আওয়ামীলীগের গুন্ডা কাহিনী জামায়াতে-শিবিরের নেতা-কর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর তারা আবার সেই লাশকে নিজেদের কর্মী হিসেবে প্রমান করানোর জন্য একজন ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিহত ব্যক্তির পিতা সাজিয়ে মিডিয়ার সামনে নিয়ে এসেছিল।
পরে অবশ্য মিডিয়ার কল্যাণে তাদের সকল অপকর্ম ফাঁস হয়ে যায়। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার সাথে ২০১২ সালেরর ৮ ফেব্রুয়ারীর ঘটনা মিলালে মনে হয় যে, সত্যিই যোগ্য পিতার (আওয়ামীলীগ) সুযোগ্য সন্তানই (ছাত্রলীগ) বটে। মিথ্যা কথা বলাতে, লাশের রাজনীতি করাতে কেউই কারো চেয়ে কম নয়, এ যেন সমান সমান।

আক্ষেপের বিষয় হল বর্তমান সরকারের ৩৭ মাসে যে ২১ জন ছাত্র খুন হয়েছেন তার একটির বিচারও এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি এমনকি কোন হত্যাকান্ডের চুড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টও জমা দিতে সক্ষম হয়নি। যে হত্যাকান্ড নিয়ে সরকারের স্বরাষ্টমন্ত্রী ভাই বলে সম্বোধন করে জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে চিরুনী অভিযান ঘোষণা করেন সেই ফারুক হত্যারও এ পর্যন্ত তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি। এ থেকে কি এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেনা যে ফারুককে তারা নিজেরাই খুন করে তার দায়ভার জামায়াত-শিবিরের উপর চাপাতে চাচ্ছে? তদন্ত করলে যেহেতু জনসম্মুখে সেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাবে তাই সেটা আর ভালভাবে তদন্ত না করে বিনা বিচারে জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মীদেরকে মাসের পর মাস বছরের পর বছর জেলখানায় বন্দি করে রাখা হচ্ছে। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে এটাও বলা যায় যে বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির জন্মদাতা হলো আওয়ামীলীগ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আজ কেউই ছাত্রলীগের খপ্পরের বাইরে নয়। ভিসি থেকে শুরু করে একজন সাধারণ কর্মচারী পর্যন্ত তাদের নির্যাতনের শিকার । চাঁদা দিতে দিতে অতিষ্ট হয়ে ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে অনেক ছোট ব্যবসায়ীর। ডাইনিং এ খাবার খেতে গেলে সেখানেও ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে অতিষ্ট হতে হয় সাধারণ ছাত্রদের। ছাত্রলীগের ঘৃন্য দৃষ্টি আজ ছাত্রী বোনদের উপরও। এপর্যন্ত অসংখ্যা ছাত্রী তাদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। হোস্টেলে সীট পেতে গেলে ছাত্রীলীগের কু প্রস্তাবে সারা না দিয়ে উপায় নেই। এক কথায় সকল ছাত্র-ছাত্রীই আজ ছাত্রলীগের কালো থাবার মধ্যেই অতি কষ্টে সময় অতিবাহিত করছেন। এত কিছু দেখার পরও আমাদের মন্ত্রী এমপিরা এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ আতঙ্কের আর এক নাম হয়ে দাড়িয়েছে ছাত্রলীগ। ছাত্ররা এখন একটা পাগলা কুকুরের চেয়েও বেশি ভয় করে ছাত্রলীগকে। ছাত্রলীগকে এখন মানুষ জঙ্গীদের চেয়েও বেশী ভয় করে। জঙ্গী আবির্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যতজন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে শুধু এই সরকারের মাত্র ৩৭ মাসেই। তাই এটা নির্দিধায় বলা যায় যে জঙ্গীদের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর বর্তমানের ছাত্রলীগ। এখনই যদি ছাত্রলীগের কর্মকান্ডকে নিষিদ্ধ করা না যায় তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যে খারাবীই আছে। খুন , গুম, ধর্ষণ এর আর এক নাম ছাত্রলীগ। কয়েকদিন আগেও মিডিয়ার বদৌলতে আমরা লজ্জার সাথেই দেখলাম কিভাবে ছাত্রলীগের এক সভাপতি ও সেক্রেটারী মিলে একজন নর্তকীকে ধর্ষণ করলো। প্রধানমন্ত্রীর যদি একটু লজ্জাও থাকতো তাহলে নারী হাওয়ার কারণে ন্যুনতম এই ঘটনার বিচার করতো। মিডিয়ায় এমনভাবে প্রচার হাওয়ার পরেও এর কোন প্রতিক্রিয়া আমরা বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে দেখলাম না।

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ছাত্রলীগকে যেন অপকর্ম করার অঘোষিত লাইসেন্স প্রদান করেছেন। যদি তাই না হবে তাহলে একজন ছাত্রলীগের নেতা বা কর্মীকে পর্যন্ত কেন বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হলো না?

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের দুইজন নেতাকে হত্যার পূর্বে ছাত্রলীগ ২০১০সালের ১১ফেব্রুয়ারী রাতে চট্টগ্রামে ট্রেনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র শিবিরের কর্মী মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করে। এর প্রায় দেড়মাস পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে আরেক হত্যাকান্ড। ২০১০ সালের ২৮মার্চ রাতে শাটল ট্রেনে করে শহর হতে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র শিবিরের কর্মী হারুনুর রশীদ কায়সারকে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় নগরীর চৌধুরীহাট এলাকায়। একই বছর ১৫এপ্রিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অ্যাকাউন্টিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আসাদুজ্জামান নিহত হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর বেশি ছাত্র হত্যা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমান সরকারের গত ৩৭ মাসে এখানে তিন জন মেধাবী ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ ছাত্রলীগ নির্মমভাবে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সেক্রেটারী, মেধাবী ছাত্রনেতা শরীফুজ্জামান নোমানীকে। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী ছাত্রলীগ, পুলিশ আর ছাত্রশিবিরের ত্রিমূখী সংঘর্ষে নিহত হয় ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন। তদন্ত না হওয়ার কারণে অনেকেই এই হত্যাকান্ড ছাত্রলীগের বলেই মনে করতে বাধ্য হচ্ছে। কেননা যেই ফারুক হত্যাকান্ডের কারণে শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি থেকে শুরু করে আমীরে জামায়াতকে পর্যন্ত গ্রেফতার করা হলো। চিরুনী অভিযান চালানো হলো, অথচ সেই হত্যাকান্ডের এখন পর্যন্ত বিচারতো দূরের কথা চার্জশীট পর্যন্ত জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। যেহেতু তদন্ত করলে ছাত্রলীগরাই ফেঁসে যাবে তাই সেই পথ থেকেও সরকার পিছিয়ে এসেছে।

২০১০ সালের ১৫ আগস্ট শোক দিবসের টোকেন ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শাহ মাখদুম হলের দোতলার ছাদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মী নাসিমকে ফেলে দেয় ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা। ৯দিন মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৩ আগস্ট নাসিমের মৃত্যু হয়। ২০১০সালের ২ফেব্রুয়ারী নির্মমভাবে খুন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরীহ মেধাবী ছাত্র মায়াবী চেহারার অধিকারী আবু বকর।

২০১০ সালের ৮ জানুয়ারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ তাদেরই দালীয় কর্মী ও ইংরেজী বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমদকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে, ৯ জানুয়ারী ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ২০০৯ সালের ৩১ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের দ’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত হয় ঐ কলেজেরই ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ওরফে রাজীব। ২০১০সালের ১২জুলাই মাসে সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগের একপরে হামলায় অপর পরে কর্মী উদায়সীন পলাশ খুন হন। ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রদল নেতা চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবিদুর রহমান নিহত হন। ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারী রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ছাত্রমৈত্রীর সহ-সভাপতি রেজানুল ইসলাম চৌধুরীকে খুন করেছে ছাত্রলীগ। ২০১২ সালের ২১ জানুয়ারী পাবনা টেক্সটাইল কলেজের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী মোস্তফা কামাল শান্তকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে যুবলীগ।

এতো গেল শুধু ছাত্র হত্যা আর এর বাইরে যে কতশত হত্যাকান্ড ঘটেছে তার হিসাব কয়টাইবা আমরা রাখতে পেরেছি। এরপরও যদি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল আছে তাহলে জানিনা আরও কত হত্যাকান্ড ঘটলে তিনি বলবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

ছাত্রলীগের সর্বশেষ আক্রমন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। এখানে কেউ মারা না গেলেও অনির্দিষ্ট কালের জন্য কলেজ বন্ধ করে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর জীবনের উপরই পরোক্ষভাবে আঘাত হেনেছে ছাত্রলীগ নামের এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গী সংগঠনটি। এখনই যদি এসব ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো না যায় তাহলে সামনে আমাদেরকে আরও বড় মাসুল দিতে হতে পারে। যদি সেই বিচার করেও তাদের দমন করা না যায় তাহলে সময়ের দাবী এই সংগঠনটিকে এখনই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

abutaherics@gmail.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MdAbuTaherRangpur
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
পাটগ্রাম থেকে আবু বকর ছিদ্দিক লিখেছেন, ১১ মার্চ ২০১২; রাত ১২:৩৯
সময়োপযোগি একটা লেখা প্রকাশ করার জন্য সোনার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
80941
ঢাকা থেকে শিকদার দস্তগীর লিখেছেন, ১৬ মার্চ ২০১২; সকাল ০৭:৪৭
শুধু লীগ নয়, একযোগে সকল ছাত্র সংগঠণ নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবী জানাচ্ছি। বাংলাদেশে বর্তমানে কোন ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজন নাই । এ বিষয়ে আমার মতে দেশের সব ছাত্র-ছাত্রীর বাবা মা যদি ঐক্য বদ্ধ হন বা প্রয়োজনে অনশন করে সব রাজনৈতিক দলকে বাধ্য করেন তাহলে অবশ্যই এ অপরাজনীতি বন্ধ হবে ।
81284
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy