১৯৭২ সালে জাতি সংঘের সাধারণ United Nations Environment Programme গঠিত হয় এবং ঐ অধিবেসনে প্রতি বছর জুন মাসের ৫ তারিখ ‘ বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আমাদের এই সুন্দর ধরনী শিল্পায়ন ও নগরায়নের প্রভাবে দিন দিন মানুষ্য বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এ সম্পর্কে সাবধানতা ও সচেতনতা তৈরীর জন্যই প্রতি বছর জুন মাসে এ দিনটি পালন করা হয়। এ বছর দিনটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে Many Species. One Planet. One Future. ১ । যার বাংলা অর্থ করা হয়েছে- ’অনেক প্রজাতি,একটি গ্রহ, একটিই ভবিষ্যত, ’এই স্লোগানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পৃথিবীর উভয় মেরুতে যে, বরফ আছে তা অতি দ্রুত গলে যাচ্ছে যার ফলশ্র“তি হচ্ছে পৃথিবীর জীব-বৈচিত্র ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব। নাসার অর্থায়নে পরিচালিত আমেরিকান জিওফিজিকাল সোসাইটির একদল বিজ্ঞানী। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে উত্তর মেরুর বরফ গলে যাওয়ার পর আবার স্বাভাবিক মাত্রায় বরফ জমছে না (বিবিসি)। উত্তর মেরুর সাগরে এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে বরফের পরিমাণ ছিল ৫.৯ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার। সেখানে প্রতি দশ বছর ৮.৫৯ শতাংশ বরফ গলে যাচ্ছে। প্রতি বছর কমছে প্রায় ৬০ হাজার ৪২১ বর্গকিলোমিটার বরফ। এ হারে চলতে থাকলে উত্তর মেরুতে ২০৬০ সালের পর কোনো বরফই অবশিষ্ট থাকবে না বলে জানিয়েছেন কলোরাডো ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ড. মার্ক সেরেজ।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পরিবেশ বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, র্যালি, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বৃক্ষ রোপন এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে এ দিবস উদযাপন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা বিভিন্ন বাণী দিয়ে থাকেন। সারা বিশ্বে এ দিনটিকে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়। কেননা বর্তমানে বিশ্ব পরিবেশ বিভিন্ন ভাবে হুমকির সম্মুখিন। আর এ হুমকির একটি অন্যতম দিক হচ্ছে Green House Effect । গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে জানতে হলে প্রথমে গ্রীণ হাউস সম্পর্কে জানা দরকার। গ্রীন হাউস হচ্ছে এক ধরনের কাঁচের ঘর। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তাপ ধরে রাখে বা তৈরী করে। মূলতঃ উদ্ভিদ ও শাক-সবজি জন্মাবার জন্যই এই ঘর ব্যবহার করা হয়। শীত প্রধান দেশে যেখানে সাধারণ তাপমাত্রায় সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো সম্ভব নয়, সেখানে এই বিশেষ কাঁচ ঘরে সবুজ উদ্ভিদ, শাক-সবজি জন্মানো সম্ভব বলে একে গ্রীন হাউস বলা হয়। আমাদের পৃথিবী গ্রীন হাউসের মত। এখানে সূর্য রশ্মি হতে আসা সব তাপ মহাশূন্যে না গিয়ে বায়ু মন্ডলের বিভিন্ন গ্যাসের আশ্রয়ে থেকে যায়। বায়ু মন্ডলের এ ধরনের গ্যাসের পরিমাণ যত বাড়বে ততই বায়ুমন্ডলের তাপ আটকে রাখার মত ঢাকনি তৈরী হবে এবং তা গ্রীণ হাউসের কাঁচের ঢাকনির মত কাজ করবে এবং পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সৃষ্টি করবে গ্রীণ হাউস প্রভাব। যে সব গ্যাস গ্রীন হাউসের জন্য দায়ী তাদেরকে গ্রীন হাউস গ্যাস বলা হয়। যেমন- কার্বনডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রেস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লেরো কার্বন ইত্যাদি। এসব গ্যাসের পরিমাণ বায়ু মন্ডলে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে।
গ্রীন হাউস গ্যাসের প্রতিক্রিয়ায় ভবিষ্যতের পরিবেশ কেমন হবে সে সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন সম্মেলনে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা তাদের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। অক্টোবর ২০০১ সালে নেদার লান্ডের ‘হেগ’ এ জাতিসংঘ আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করেছেন, বর্তমানে পরিবেশের উপর যে ধবংসাতœক কার্যক্রম চলছে তা যদি অব্যাহত থাকে তবে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পারিমাণ দাঁড়াবে ৫০০-৭০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন), যা বর্তমানে ৩৫০ পিপিএম। এতে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে প্রকৃতিতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেবে। ইউনাইটেডনেশন এনভায়রনমেন্টাল প্রোগ্রাম (UNEP) এর সমীক্ষা অনুযায়ী পৃথিবীতে গত শতাব্দীতে সমুদ্র স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ সেন্টিমিটার। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেছেন সমুদ্র স্তর বৃদ্ধির এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশসহ বিশ্বের সমুদ্র উপ-কূলীয় অনেক দেশের ছোট ছোট দ্বীপ সমুদ্র গর্ভে তলিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের গরীব দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। গ্রীণ হাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গেলে বাংলাদেশ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সম্প্রতি দেশী ও বিদেশী মিডিয়াতে প্রকাশিত বাংলাদেশের পরিবেশ সম্পর্কিত রিপোর্টগুলো এ সম্পর্কে বিবেচনার দাবী রাখে। যার মধ্যে কয়েকটি হলোঃ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গ্রীন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের পলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২১০০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ১-৭ মিলিমিটার করে বেড়ে যাবে। এতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ অধিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারেপে)’র সদ্য প্রকাশি এক সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৯৭৭-৯৮ সাল পর্যন্ত গত ২২ বছরের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছর কক্সবাজারে ৭ দশমিক ৮৮ মিলিমিটার, হাতিয়ারচর ডাঙ্গায় ৬ মিলিমিটার ও হিরণ পয়েন্টের কাছে ৪ মিলিমিটার করে বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া ২৪টি আবহাওয়া স্টেশনে সংগৃহিত ৩০ বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বার্ষিক গড় হিসেবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রতি বছরই একটু একটু করে বাড়ছে। একই সঙ্গে সর্বনিু তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। বার্ষিক গড় তাপমাত্রায় ঊর্ধ্বগতির ফলে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরিধি আশংকাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। এসএমআরসি’র এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২০৫০ সাল পর্যন্ত ০.৪১ ডিগ্রি হারে বাড়তে থাকবে। একইভাবে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতও ২০৫০ সাল পর্যন্ত ২৯৬ মিলিমিটার ও ২১০০ সাল পর্যন্ত ৫৩৪ মিলিমিটার হারে বাড়তে থাকবে।এ সময় পানির এত পরিবর্তন ঘটার ফলে প্লাবন ও জলাবদ্ধতার মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, ভূ-পৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ পানিতে এবং মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।এতে আরো বলা হয়েছে ভূমিক্ষয় ও নতুন ভূমি জেগে ওঠাসহ উপকূলীয় ভূ-প্রকৃতিতে পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমুদ্রপৃষ্ঠে মাত্র ১ মিটার উচ্চতাকে মোকাবেলা করার খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৬ হাজার কোট টাকা বা এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জলবায়ূগত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নানা সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ উপকূলীয়বাসী। তাদের পুনর্বাসন করার খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা বা ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর এক হিসেবে দেখা গেছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য মাথাপিছু ১২ ডলার করে মোট প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের দরকার হবে। বিশেষজ্ঞরা আরো মনে করেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যদি এক মিটার বাড়ে তার প্রভাবে দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি কমে যেতে পারে ২৮ থেকে ৫৭ ভাগ। ২
উন্নয়নশীল দেশে সমুদ্রপৃষ্ঠ উচ্চতা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়াঃ তুলনামূলক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক বিশ্বব্যাংকে কার্যপত্রটি অতিসম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে প্রকাশিত হয়েছে। নিরীক্ষায় দেখা যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র এক মিটার বাড়লে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ তার জিডিপিতে সর্বোচ্চ দশমিক ৭ শতাংশ ক্ষতির শিকার হবে। যদি ৫ মিটার বাড়ে তবে বাংলাদেশে জিডিপির ৯ শতাংশ ক্ষতি হবে। জনসংখ্যাগত ক্ষতির পরিমাপে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ভূমির হিসেবেও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের তুলনায় অনেক বেশি ১১ শতাংশ এলাকা হারাতে হবে যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। কার্যপত্রে বিশেষজ্ঞরা আরো বর্ণনা করেন, কৃষিখাতে বাংলাদেশকে ১০ শতাংশ ক্ষতির শিকার হতে হবে। ৩ ‘Climate Change lapse at Bangladesh’s shore’s : rising oceans are already a reality there and thousands of people could be displaced’ শিরোনামে খবরটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলবর্তী এলাকা বাহমিয়া থেকে পাঠিয়েছেন টাইমসের রিপোর্টার হেনি চু। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রীণ হাউজের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়চে উপকূলবর্তী অঞ্চলে। এর ফলে উষ্ণতা বাড়ছে এবং সমুদ্রের উপরিভাগ উচ্চতাও বেড়েই চলেছে। এ জন্যে সামান্য বন্রাতেই সবকিছু সয়লাব হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিরাট অংশে। ফসল বিনষ্ট হচ্ছে, ভেঙ্গে যাচ্ছে বাড়িঘল। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এক সময় নদীর পানি ছিল খুবই মিষ্টি অর্থাৎ সুপেয়। আর এখন সে পানি পান করাই যায় না- এতো লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র লোকজন জীবিকার তাগিদে অনিচ্ছা সত্বেও পান করছেন সে পানি এবং অনবরত সে পানি ব্যবহারের ফলে মহিলাদের হাতে নানারোগ দেখা দিচ্ছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আমেরিকা, চীন এবং রাশিয়ার কারণে গোটা বিশ্বের উষ্ণতা বাড়ছে এবং সমুদ্রের উপরিভাগের উষ্ণতাও বেড়েই চলেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বছর তিনেক আগে সরকার আবহাওয়া পরিবর্তন সংক্রান্ত নতুন একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে পরিবেশ বিষয় মন্ত্রণালয়ের আওতায়। কিন্তু অঙ্গীকার অনুযায়ী বৃটেন থেকে অর্থ সহায়তা না পাওয়ায় সংস্থাটি সচল হতে পারেনি। এ অবস্থায় জাপান এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কয়েকটি রাষ্ট্রের কাচে বাংলাদেশ অর্থ সহায়তা চেয়েছে ভংয়কর পরিস্থিতির মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের স্বার্থে। টাইমস উল্লেখ করেছে, গ্রীণ হাউজের প্রভাবে পাশ্চাত্য বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিন্তু সেটা যত বিলম্বে ঘটবে, তার চেয়ে অনেক দ্রুত ভয়ংকর পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করবে বাংলাদেশের অগণিত মানুষ। আবহাওয়ার কারণে পাল্টে যাচ্ছে সুন্দরবনের চেহারাও। ৪ জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২০২৫ সাল নাগাদ-পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী পানি সংকটের মধ্যে বসবাস করবে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাবে উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল। তবে বিশেষজ্ঞরে মতে বিশ্ব উষ্ণায়ন এ সমস্যাকে তীব্র করে তুলবে। ৫ UNEP-Global Warming in Asia রিপোর্ট ২০০৫ এ বলা হয়েছে যে-বিগত তিন দশকে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র স্তর ৫.৫ মি.মি. বৃদ্ধি পাওয়াতে প্রায় ১৮৫০০ একর ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট প্লাবিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে সমুদ্র স্তর ১ মিটার বৃদ্ধি পেলে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী, লহ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, সন্ধীপ ও ক´বাজারের অনেকাংশ সমুদ্র গর্ভে তলিয়ে যাবে এবং দেশের ভেতরের অনেক জেলায় বন্যা বৃদ্ধি পাবে। উপকূলীয় এলাকায় মানুষ, পশুসম্পদ, ফসলাদিও গাছ-পালাসহ অন্যান্য অবকাঠামোও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সার্ক মেট্রোলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের (SMRC) জরিপ ও গবেষণা এবং নাসা কর্তৃক পরিচালিত জরিপের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে যে হারে বাংলাদেশের উষ্ণতা বাড়ছে সে হারে অব্যহত থাকলে চলতি শতকেই সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধি পাবে। এতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন, পৃথিবী বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ও ৯ টি উপকূলীয় জেলা সহ বাংলাদেশের ১৬ ভাগ এলাকা তলিয়ে যাবে । ৬ প্রাণহানি ঘটবে ২ কোটি ৪ লাখ মানুষের। ক্ষতি হবে ৪৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ। ইট ভাটা সহ কলকারখানা ও যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া। উষ্ণতা বৃদ্ধি, বরফের আস্তরণ গলা এবং অন্যান্য পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণেই এই মহাবিপদের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
পরিশেষে বলতে চাই, গ্রীন হাউস প্রভাব সৃষ্ট বিপর্যয় একটি বিশ্বজনীন ব্যাপার। এর প্রতিরোধ যে উদ্যোগই নেয়া হোক না কেন, তাও বিশ্বজনীনভাবে নেয়া প্রয়োজন। পরিবেশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদিও বেশ কিছু সফলতা অর্জন করেছে তবুও বাংলাদেশকে বর্তমানে এ বিষয়ে আরও ব্যাপকভাবে জানার উদ্যোগ নিতে পারে। বাংলাদেশে এর ফলাফল কি হবে সে বিষয়ে আন্ত-র্জাতিক পর্যায়ে যৌথভাবে আরও ব্যাপক গবেষণার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে । দেশে নতুন করে ব্যাপক হারে বনায়ন করা, উপকূলে তা আরও জোরদার করা, জ্বালানি কাঠের বিকল্প জ্বালানির সহজলভ্যতা সৃষ্টিসহ আস্তর্জাতিক ফোরামে জোরালোভাবে সম্ভাব্য সমস্যাটি উত্থাপন করা বাংলাদেশের জন্য জরুরী। বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধির ব্যাপারে কানাডা, নরওয়ে এবং হল্যান্ড সরকার আন্তর্জাতিক সমঝোতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিজেদেরকে নিবেদিত করতে সম্মত হয়েছে। মার্চ/৮৯-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে হল্যান্ডের রাজধানী হেগে গ্রীণ হাউসের বিরূপ প্রতিক্রিয়া রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ২৪টি দেশের প্রতিনিধিরা ‘হেগ ঘোষণা’য় সই করেন। এ ঘোষণায় জাতিসংঘের তত্ত্ববধানে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেয়াসহ পৃথিবীর অস্তিত্ব নিশ্চিত করার প্রয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিতে পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সর্বোপরি একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে ও গ্রীন হাউস গ্যাসের প্রভাব থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে উন্নত ও উন্নয়নশীল সকল দেশকে একত্রে এগিয়ে আসতে হবে।
লেখকঃ বেসরকারী একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত, ইমেইল, maftabuzzaman@gmail.com
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ থেকে ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ লিখেছেন,
০৭ জুন ২০১০; দুপুর ০১:৩৯
ধন্যবাদ পরিবেশ বিষয়ক একটি সুন্দর নিবন্ধের জন্য। চর্মচোখে যা দেখা দেখা আমরা সাধারণত তাই নিয়ে ভাবি, ভাটির দেশের মানুষরা যে কি ধরনের হুমকির মুখোমুখি তা আমরা কেউ ভাবিনা। আবারো ধন্যবাদ প্রাবন্ধিককে। নিয়মিত লিখার প্রত্যাশা করছি।
21738
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: