|
বায়ু বিষাক্ত হচ্ছে
মো. হুমায়ুন কবীর |
|
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য নির্মল বায়ুর প্রয়োজন রয়েছে। মানুষ নানাবিধ কার্যক্রমের মাধ্যমে বায়ুকে দূষণ করছে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণকালে নানারকম বায়বীয় ও ক্ষুদ্র দানাদার পদার্থ বিশেষ করে নাইট্রোজেন, নিয়ন, আর্গন ও হিলিয়ামসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাসসমূহ মানব শরীরে প্রবেশ করছে। যার ফলে মানবদেহে ফুসফুসসহ দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। রোগ সৃষ্টিকারি বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ অঞ্চলভেদে বায়ুতে বিভিন্ন মাত্রায় থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় তার সত্যতা পাওয়া গেছে।
‘দ্য ইয়েল সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল ল অ্যান্ড পলিসি এবং কলম্বিয়ার সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল আর্থ সায়েন্স ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক’ মানবদেহের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে বায়ুমানের একটি জরিপের ফলাফল ‘এয়ার ইফেক্টস অন হিউম্যান হেলথ’ সম্প্রতি দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে প্রকাশ করে। তারা ২০০৬ সাল থেকে দুই বছর পরপর পরিবেশের ওপর এই জরিপ প্রকাশ করে আসছে। উক্ত জরিপের মাধ্যমেই পরিবেশগত অবস্থা ও অবস্থানের সূচক নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত এই জরিপে ব্যবহার করা হয়। ১৩২টি দেশের বায়ুর ওপর পরিচালিত জরিপে ২০১২ সালের এনভায়রনমেন্ট পারফরম্যান্স সূচক (ইপিআই)এ ২২টি পলিসির মধ্যে সম্ভাব্য পয়েন্ট ধরা হয়েছে ১০০।
এই জরিপের ফলাফলে দক্ষিণ এশিয়ার বায়ু দূষণের ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায়। বিষাক্ত বায়ু দূষণের দিক দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি দেশের মধ্যে ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের স্থান রয়েছে। ভারতের পয়েন্ট ৩.৭৩, অবস্থান ১২৫তম এবং বাংলাদেশের পয়েন্ট ১৩.৬৬, অবস্থান ১১৫তম। ১৩২টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান সর্বনিম্নে। অর্থাৎ ভারতের অবস্থা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ। ভারতে মোটরযানের সংখ্যার ক্রমাগত বৃদ্ধিকে বায়ু দূষণের কারণ বলে দেশটির পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। গত দুবছরে ভারত বন, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কয়েকটি সেক্টরে তুলনামূলকভাবে ভালো করেছে। তবে খারাপ করেছে পানিসম্পদ ও মানবস্বাস্থ্য খাতে। ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে সবচেয়ে নির্মল বায়ুর দেশ হিসেবে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, লাটভিয়া, নরওয়ে, লুক্সেমবার্গ ও কোস্টারিকা।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে শিল্পকারখানার পরিমাণ চীন বা ভারতের মতো নয়। এখানে বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানা, ইটখোলা এবং যানবাহন নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণে ভূমিকা রাখছে। তবে গ্রাম ও শহরের বায়ুতে দূষিত পদার্থের মাত্রার মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে শীত থাকে। এসময়ে বৃষ্টিপাত তেমন হয় না। এসময়ে নির্মাণ কাজ বেশি হয়। সাধারণত গ্রামের তুলনায় শহরেই নির্মাণ কাজ বেশি হয়। ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট নির্মাণ অব্যাহতভাবে চলার কারণে বায়ুতে অন্যান্য পদার্থের সাথে ধূলিকণা, গাড়ির ধোঁয়া, কলকারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্য পদার্থ মিশে বায়ুকে বিষাক্ত করছে।
এখন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বায়ু দূষণও ছড়িয়ে পড়ছে প্রায় সর্বত্র। জলবায়ু পরিবর্তনকে এজন্য দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবাযু পরিবর্তনের কারণে আজকের এই বিপর্যয়। এজন্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন। পরিবেশ দূষণকারী দেশগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রতিশ্রুত আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রাপ্তি উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মোকাবেলার জন্য উপায় নির্ণয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে সমন্বতি প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
লেখকঃ প্রভাষক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, সরকারি এম এম কলেজ, যশোর।
ইমেইলঃ hkabir_1974@yahoo.com |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/MdHumayunKabir |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| |
|