মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৫:০৬ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

হামাস ফাতাহ ঐক্য কি প্যালেস্টাইনকে সত্যিকার স্বাধীনতা এনে দিবে?

মোঃ মাছুম বিল্লাহ

মিসরের মধ্যস্থতায় প্যালেস্টাইনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল হামাস ও ফাতাহর মধ্যে দীর্ঘ চার বছরের বিচ্ছেদ ও বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে এক সমঝোত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে গত সপ্তাহে। ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে চুক্তি হামাসের বিজয় হিসেবেই দেখেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। কারণ ফাতাহ প্রধান মাহমুদ আব্বাস পশ্চিমা সমর্থনপুস্ট। ফাতাহ হচ্ছে মডারেট এবং পশ্চিমা মূল্যবোধ ধারন করা ধর্মনিরপেক্ষ নীতির অনুসারী। আর হামাস কট্টরপন্থী গোড়া, ইরান ও সিরিয়ার সমর্থনপুষ্ট। হামাস ইসরাইলকে স্বীকার করেনা। হামাসের লক্ষ্য ইসরাইল ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য এবং ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র যার রাজধানী হবে জেরুজালেম। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল পশ্চিম তীর, গাজা দখল করে নেয়। জেরুজালেমও তাদের দখলে। সেই থেকে প্যালেস্টাইন ও ইসরাইলের মধ্যে চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনী তরুন, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ ও শিশু। ইসরাইল একমাত্র ফাতাহকেই বৈধ প্যালেস্টাইনী রাজনৈতিক দল মনে করে। মার্কিনসহ পশ্চিমাবিশ্বও তাই মনে করে। আর তাই, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামাস ও ফাতাহ-এর সমঝোতা চুক্তির বিরোধিতা করে বলেছে,” শান্তির পথে এটি মারাত্মক বাধা।”

মিসরের মধ্যস্থতায় হামাস-ফাতাহ সমঝোতা চুক্তি নিয়ে বিশ্বব্যাপী মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের মিত্র হিসেবে প্রথমে বিরোধিতা করলেও যুক্তরাষ্ট্র আপাতত এ চুক্তির ব্যাপারে শান্ত আ । ব্রিটেন ও চীন চুক্তিকের স্বাগত জানিয়েছে। ইসরাইল আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শান্তি আলোচনায় না ফিরলে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে ফ্রান্স। কিন্তু খোদ ফিলিস্তিনেই চুক্তির ভবিষ্যত নিয়ে আশা নিরাশার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পশ্চিম তীরের রামাল্লার কেন্দ্রস্থলে মানারা স্কয়ারের কাছেই ব্রাজিল কফিশপ। কফিশপের টেলিভিশন যখন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও হামাস নেতা খালিদ মিশালের চুক্তি সই অনুষ্ঠান দেখানো হচ্ছিল, তখন সে দিকে মনোযোগ না দিয়ে অনেকে তাস খেলে ও গল্প করে সময় কাটাচ্ছিল। কফিশপের নিয়মিত খদ্দেররা বলছে কেউই এ অনুষ্ঠান দেখছে না, কারণ এ বন্ধুত্ব বেশীদিন টিকবে না। আবার অন্যদিকে এ দিনটি উদযাপনের জন্য হাজার হাজার ফিলিস্তিনী পশ্চিম তীর ও গাজা ভূখন্ডে সমবেত হয়। তারা নেচে গেয়ে আতশবাজি পুড়িয়ে হই হুল্লোড় করে দিনটি পার করে। গাজা ভুখন্ডে শত শত মানুষ ফিলিস্তিনীর পতাকা ও চুক্তিকে স্বাগত জনিয়ে বিভিন্ন লেখাসংবলিত ব্যানার হাতে হাজির হয়েছিল। ব্যানারে লেখা ছিল- ফিলিস্তিনীরা বিরোধের নিস্পত্তি চায়। এ সময় হামাসের অনেকে সবুজ পতাকা বহন করে। অনেকে বহন করে ফাতাহর হলুদ পতাকা অথচ গত চার বছরে গাজা ভুখন্ডে ফাতাহ ছিল একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের নাম। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিষ্টি বিতরণ করেছে, গান গেয়েছে, রাস্তায় নেমে হাত বেধে উল্লাস প্রকাশ করেছে। তারা বলছে বিভক্তি ও বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে আমরা এক ধরনের বিজয় অর্জন করেছি। এই বিজয়ের বার্তা ইসরাইলী দখলদারদের কাছে পৌছে দিচ্ছি,” তোমরা আমাদের একত্রিকরণ ফিরিয়ে রাখতে পারবেনা।” এ ছাড়াও উৎসব করতে গাজার সিটি স্কয়ার অব আননোন সোজারে শত শত লোক জড়ো হয়। হামাস ফাতাহ বিভেদ শেষ করার প্রতীক হিসেবে কফিন নিয়ে উপস্থিত হয় তারা।

এই চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে শিগগিরই একটি অন্তবর্তী কালীন সরকার গঠন করা হবে এবং এই অন্তবর্তী সরকার এক বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করবে। অন্তবর্তীকালীন সরকারে হামাস থাকবে, ঐক্য টিকিয়ে রাখার জন্য যদিও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ সমন্বয়ক রবার্ট সেরি, মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল আল আরাবি ও আরব লীগের প্রধান আমর মুসা। আরও ছিলেন আরব বংশোদ্ভুত তিনজন ইসরাইলী এমপি। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হামাসের নেতা মিশাল বলেছেন সমঝোতার জন্য হামাস যে কোন মূল্য দিতে প্রস্তত। মাহমুদ আব্বাস বলেন ফিলিস্তিনিরা বিবাদের কালো অধ্যায় চিরদিনের জন্য শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন ”ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এখন হয় বসতি স্থাপনর পথ, নয়তো শান্তির পথ বেছে নিতে হবে।” এদিকে ফাতাহর যৌথ সরকার গঠনের বিষয়টিকে নিজেদের ভুবমুর্তি উন্নয়নের উপায় হিসেবে দেখছে হামাস। হামাসকে বিচ্ছিন্ন বা বয়কট করে রাখা, তাদের ওপর অবরোধ আরোপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যতকে স্থিতিশীল রাখা যাবেনা বলে মন্তব্য করেছেন হামাস নেতারা। ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ব্যাপারে ফিলিস্তিনী নেতাদের বাধা না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে দলটি। তবে সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি বেশ ঝামেলার মধ্যে হলেও এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার আশা করছে ফিলিস্তিনীরা। হামাস ফাতাহ ঐক্যের দাবীতে কয়েক মাস ধরেই ফিলিস্তিনের রাস্তা সরব রেখেছিল ফিলিস্তিনীরা। জাতীয় ঐক্যের দাবীতে আন্দোলনে নেমেছিল হাজার হাজার তরুণ। চার বছরেরও বেশী সময়ের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী দল হামাস ও পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফাতাহ অবশেষে গত ৪ঠা মে সমঝোত চুক্তি করেছে।” এটা তরুণদের কল্যাণেই সম্ভভ হয়েছে।” মিসরের গোয়েন্দা প্রধান মুরাদ মুওয়াফি এই চুক্তির মন্তব্য করে বলেন,” এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, এটির মাধ্যমে প্যালেস্টাইনের মূল ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটেছে। জনসাধারণ একতা উদযাপনের জন্য রিট্রিভ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।”

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গাজা থেকে সরাসরি টেলিভিশন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে । হামাস নেতা দের সাক্ষাৎকার দেখায় তারা । হামাস নিয়ন্ত্রিত আল-কাকসা টেলিভিশনও পশ্চিম তীর থেকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দেখায় । চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের বিভেদ দুর হবে বলে আশা করছেন অনেক ফিলিস্তিনী। তবে অনেকের আশঙ্কা কট্টরপন্থী হামাস ও উদারপন্থী ফাতাহর মত পার্থক্য শেষ পর্যন্ত দুর হবে না। বিচ্ছিন্ন দুই প্রান্ত থেকে সম্মিলিতভাবে ক্ষমতা পরিচালনার মতো প্রস্ততি তাদের আছে কিনা সে ব্যাপারেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে । ২০০৬ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসার প্রশ্নেই বিরোধ চরমে উঠেছিল তাদের। রামাল্লার কেউ কেউ মন্তব্য করেন, হামাস ও ফাতাহ কখনো মিলতে পারবেনা। তারা সমান্তরাল রেখার মতো। ২০০৭ সালে ফাতাহ-র সাথে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস এবং ২০০৬ সালে পশ্চিমা বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে হামাস ক্ষমতায় আসে আর প্যালেস্টাইনে সব ধরনের সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়। দুই দলের একত্রিকরণের জন্য গতবার বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় জনগণ। এবার জনগণের মধ্যে থেকে দুই দলের প্রতিই চাপ আসে একত্রিকরণের। মূলত আরব বিশ্বের গণজাগরণের ঢেউ থেকে তারাও এই উৎসাহ পেয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলছেন,” প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষকে বেছে নিতে হবে বা সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা ইসরাইলের সাথে শান্তি চায় না হামাসের সাথে শান্তি চায় । দুই পক্ষে থাকলে শান্তি সম্ভব নয় । হামাস চায় ইসরাইলকে ধ্বংস করতে এবং রকেট নিক্ষেপ করে তারা এই কাজ করে। তারা ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার না করে প্যালেস্টাইন রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।” তিনি এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান ও নিরুৎসাহিত করে প্যালেস্টাইনীদের ট্যাক্স কর্র্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকেই বলছেন নেতানিয়াহু যে কোন মূল্যে এই একত্রিকরণ বন্ধ করার চেষ্টা করে চাচ্ছেন । তারা শান্তি চাননা কারণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে জায়নিষ্টদের উদ্দেশ্যে সফল হবেনা । তাদের স্বপ্ন ইহুদী রাষ্ট্র সমুদ্র থেকে জর্দান নদী পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা করা। তাই তারা দ্বন্দ্ব সর্বদাই জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে। ইহুদীদের কাছে প্যালেস্টাইনীরা যত বেশী বিভক্ত থাকবে ততই তাদের মঙ্গল। ইসরাইলী দখলদাররা ইচ্ছাকৃতভাবেই ইসলামী আন্দোলন চেয়েছে যারা পরবর্তীকালে হামাসে রূপান্তরিত হয়েছে । তাই হামাস প্যালেস্টাইনের একটি বাস্তবতা । ব্রিটিশই বার বার শিক্ষা দিয়েছে যে, চরমপন্থীদের সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা মধ্যপন্থীদের চেয়ে ভাল । মধ্যপন্থীদের সাথে শান্তি চুক্তি করা মানে চরমপন্থীদের সাথেও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে, কিন্তু চরমপন্থীদের সাথে চুক্তি করা মানে কাজ শেষ । অতএব এই চুক্তি একটি বাস্তবতা ।

প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার বলেছেন,” বিশ্ববাসীর এই হামাস-ফাতাহ-ও মিলনকে শ্রদ্ধা করা উচিত । এটিকে অত্র এলাকার বৃহত্তর গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখা উচিত।” জর্জ বুশ তার দুই টার্মে প্যালেস্টাইন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজিনৈতিক কৌশলের বাইরে রেখে দিয়েছিলেন আফগানিস্তান ও ইরাকে সন্ত্রাস মোকবিলা বা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য । ওবামা যদিও প্রথমদিকে কিছুটা আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তার প্রশাসন ইসরাইলের মতের বিরুদ্ধে কিছু করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গনাইজেশন এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য ড. হানান আশরাফী বলেন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি এক ধাপ শান্তির দিকে আগাল এবং স্থায়ী শান্তির দিকেও আগাচ্ছে ।” প্যালেস্টাইন বলছে যে তাদের রাষ্ট্রে থাকবে পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং জেরুজালেম হবে রাজধানী। প্যালেস্টাইনের জন্য দরকার এখন জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করা। এতে মার্কিন হয়তো ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত দিবে তারপরেও বিষয়টি তারা উত্থাপন করবে এবং ১৯৫০-সম্মিলিত জাতিসংঘ রেজ্যুলিউশন ৩৭৭’ ইউনাইটিং ফর পিস’ এর অধীনে। এতে প্যালেস্টাইনকে সরাসরি হয়ত সদস্যপদ দেওয়া হবেনা তবে আলাদা রাষ্ট্রের মতামতের ওপর দাড় হতে পারে। অধিকাংশ রাষ্ট্রের সম্মতি পেয়ে প্যালেস্টাইনকে নৈতিক ও ডি-ফ্যাক্টো মর্যাদা নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার অধিকার লাভ করবে।

দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এই চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়ে যাওয়ায় সাধারন ফিলিস্তিনিরা উল্লাস প্রকাশ করলেও দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসরাইলী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাতান ভিলনাই বলেছেন, ”হামাসের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে আব্বাস ভুল করেছেন। তার বোঝা উচিত ছিল হামাস কোন সমঝোতার পথে আসতে রাজি হয়েছে।” তবে আমরা মনে করি প্যালেস্টাইনের এই একতাকে ইসরাইল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকাসহ সবাইকে স্বাগত জানানো উচিত। যদিও প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের এ ধরনের ঐক্যের সমঝোতা এবং সে অনুযায়ী সমান অগ্রগতির চিন্তা অতটা সহজ নয়। হামাস ও ফাতাহ-ও মধ্যে পার্থক্য গভীর এবং ঐতিহাসিক। ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী প্যালেস্টাইনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সবাইকে প্রস্তত থাকা উচিত । তাদের উৎসাহিত এবং সহযোগিতা করা উচিত বিশ্বের সকল শান্তিকামী মানুষের। অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন হোক এবং ফলাফল যাই হোক মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা উচিত হামাস ও ফাতাহ উভয় পক্ষের। কারণ এই একত্রিকরণ ছিল বিশাল জনতার দাবী। এই একত্রিকরণ চুক্তিতে মাহমুদ আববাস খালিদ মেশাল সই করেছেন, তারা বলেছেন,” আমরা এক, আমাদের উদ্দেশ্য এক, আমরা চাই এক প্যালেস্টাইন।” এক কঠিন বাস্তবার মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল এই সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ফাতাহ তাদের রাজনৈতিক গুরু মিসরকে হারিয়েছে অর্থাৎ হোসনে মোবারককে, হামাসের গুরু সিরিয়ার বাশার আল আসাদের অবস্থাও যায় যায়। তাদের ওপর আর নির্ভর করার সময় বা সুযোগ কোনটাই নেই । অতএব ঐক্য ছাড়া উপায় নেই। তারা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখী। আমরা চাই এই ঐক্য অটুট থাকুক এবং ফিলিস্তিনী বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক যেখানে জনগণ শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করবে।

লেখকঃ প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ব্রাক শিক্ষা কর্মসূচি এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টিচার্স এসোসিয়েশন (বেল্টা)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MdMasumBillah
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy