‘যদি কেহ মনুষ্য জাতির দরিদ্রতমদের সহিত সম্পূর্ণ একাত্মবোধ করিতে পারে, তাহাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট জীবনে প্রলুব্ধ না হয় এবং নিজের শক্তি সামর্থ অনুসারে তাহাদের স্তরে থাকিবার জন্য সচেতনভাবে চেষ্টা করে, তাহা হইলেই সে গণতন্ত্রী হইতে পারে’ - ভারতীয় জাতির জনক, বিশ্বব্যাপী সমাদৃত অহিংস নীতির প্রবর্তক, নিজেকে আজন্ম গণতন্ত্রী বলে দাবীদার মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (যিনি মহাত্মা গান্ধী নামে সমধিক পরিচিত) নির্ভেজাল গণতন্ত্রীর চরিত্র এভাবেই চিত্রিত করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অসাধারণ প্রভাব বিস্তারকারী ও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক, স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিমানস ও রাজনৈতিক দর্শনে গান্ধীজির দর্শন চিন্তার অপূর্ব মিল খুঁজে পাওয়া যায়। জিয়াউর রহমান, জনপ্রিয়ভাবে যিনি জিয়া নামে পরিচিত, গণতন্ত্রকে কেবল রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখেননি, বরং জীবনদর্শন হিসেবে এ ব্যবস্থাটির যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপটি রয়েছে, বাংলাদেশের আর কোন রাজনীতিক তাঁর মত ইহার গভীরে প্রবেশ করতে পারেননি। শাসকদের সাধারণ শ্রেণী চরিত্রকে অতিক্রম করে গণমানুষের কাতারে নেমে আসতে পেরেছিলেন একমাত্র জিয়াই। ক্ষমতা তাঁকে নয়, বরং জনগণকে করেছিল ক্ষমতাবান, অধিকারহারা-আশাহারা নিষ্পেষিত মানুষকে দিয়েছিল নতুনভাবে ঘুরে দাড়ানোর জোর শক্তি। ক্ষমতার সাথে দুর্নীতির ওতপ্রোত যে সন্বন্ধের কথা আদিকাল থেকেই শোনা যায়, জিয়া সে সন্বন্ধ নতুনভাবে বিনির্মাণ করলেন, ক্ষমতার জাহাজটিকে ন্যায়নীতির সমুদ্র পেরিয়ে মেহনতি মানুষের বন্দরে ভেড়ালেন। বাংলাদেশের অন্যসব রাজনীতিকদের সঙ্গে জিয়ার পার্থক্য ও শ্রেষ্ঠত্ব এখানেই। শহীদ জিয়া সম্পর্কে মূল আলোচনার আগে স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুটা দেখে নেয়া যাক। কথায়ই তো বলে, Well beginning is half done. আর যদি Foul beginning হয়, তবে কি half undone নয়?
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক মাইন্ডসেট ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ গণতন্ত্রের আদর্শের ভিত্তিতেই ঐক্যবদ্ধ হয় এবং আন্দোলন-সংগ্রাম ও চুড়ান্ত-ভাবে রক্তাক্ত বিপ্লবের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করে। খুব সঙ্গত কারণেই স্বাধীন বাংলাদেশে শাসন ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রকে বাছাই করা হয়। কিন্তু আওয়ামী গণতন্ত্রের তত্ত্ব ও বাস্তবতার মধ্যে যে বিরাট ফারাক তা অল্পদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থার নামে এক দলীয় বাকশাল (BAKSAL) ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সাংবিধানিকভাবে একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের যাত্রা শুরু হয় এবং গণতন্ত্রের কাগুজে চিহ্নটুকুও নিচিহ্ন হয়ে যায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! যে রাজনৈতিক দলটি দীর্ঘ প্রায় দু’ যুগ ধরে (১৯৪৯-১৯৭১) গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে গণমানুষের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, সেই দলটিই ক্ষমতাসীন হয়ে গণতন্ত্রের আজন্ম শত্রু কর্তৃত্ববাদের পথ বেছে নিল। গণতন্ত্রের সকল প্রথা ও রীতি-নীতিকে এক নিমিষেই ছুড়ে ফেলে রাষ্ট্রপতির হাতে আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের উপর কর্তৃত্ব আরোপের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। ‘নতুন এ রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে সার্বভৌম জাতীয় সংসদ একটি ‘সেকেণ্ডারী রাবার স্ট্যাম্প বডিতে’ পরিণত হয়... সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা, মর্যাদা, কর্তৃত্ব ও কার্যক্রম ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হয় এবং বিচারকদের আইনগত ক্ষমতাও কাটছাঁট করা হয়। নতুন ব্যবস্থার আলোকে রাষ্ট্রপতিকে একটি ‘জাতীয় দল’ গঠনের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রদান করা হয় এবং ঐ দলের আত্মপ্রকাশের পর অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দল সাথে সাথে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংবিধানের ১১৭ক (৫) (গ) অনুচ্ছেদে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক স্থিরকৃত একটি সময়ের মধ্যে আইনসভার প্রত্যেক সদস্যকে ঐ দলে যোগদান করতে হবে নতুবা তিনি তাঁর সদস্যপদ হারাবেন এবং আসন শূণ্য ঘোষিত হবে। এ অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, ‘জাতীয় দল’ ছাড়া কারোরই কোন রাজনৈতিক দল গঠন বা দলের সদস্য হওয়া অথবা অন্যভাবে কোন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার থাকবে না। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে সরকার ‘সংবাদপত্র (বাতিল ঘোষণা) অধ্যাদেশ’ জারি করে যার ফলে কেবলমাত্র চারটি দৈনিক ছাড়া বাকী সকল সংবাদপত্রের প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। এই চারটি দৈনিকের সবগুলিরই মালিকানা এবং ব্যবস্থাপনা সরকারের হাতে ছিল। এভাবে সংবাদ মাধ্যমকে পুরোপুরিভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয় ।
প্রফেসর মনিরুজ্জামানের মতে, ১৬ জুন বাংলাদেশের ৪ টি প্রধান প্রধান শহরে বিশটি টি দৈনিক পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। টিকে থাকা চারটি দৈনিকের ২টি, The Bangladesh Observer এবং ‘দৈনিক বাংলা’ ইতোমধ্যেই ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পরিত্যাক্ত পাকিস্তান প্রপার্টি হিসেবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। অন্য দু’টি- The Bangladesh Times যেটি শেখ মনি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, এক বছর আগে এবং ইত্তেফাক- সর্বাধিক পঠিত বাংলা পত্রিকা- জাতীয়করণ করা হয়। সাড়া জাগানো ইংরেজী সাপ্তাহিক Holiday সহ অন্যান্য কয়েক শত সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়। হলিডে সম্পাদক এনায়েতুল্লাহ খানকে মে মাসে কারারুদ্ধ করা হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। প্রথম বারের মত সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আবির্ভূত হয়। সামরিক বাহিনীর ক্যু এবং পাল্টা ক্যু’র মধ্য দিয়ে দেশ অগ্রসর হতে থাকে। সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও জনপ্রিয় জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হয়। জিয়ার কন্ঠে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা এবং যুদ্ধের নয় মাসে রণাঙ্গনে তাঁর কৃতিত্বপূর্ণ অবদানই জিয়ার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল। তাছাড়া সৎ ও সাহসী মানুষ হিসেবেও সেনাবাহিনীর মধ্যে জিয়ার সুখ্যাতি ছিল। ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বলতে গেলে বাংলাদেশে কোন সরকারই ছিলনা। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হয়ে পড়েছিল অরক্ষিত। এমন রাজনৈতিক দুর্যোগ ও সংকটকালে দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যরা জেনারেল জিয়াকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ও সংহতি মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। জাতির ঐতিহাসিক প্রয়োজন এবং সময়ের দাবীই জেনারেল জিয়াকে রাষ্ট্রনায়ক জিয়া বানায়। প্রফেসর রহমান যথার্থই বলেছেন, "Ziaur Rahman emerged as a charismatic leader in the Bangladesh’s political history both by dint of his role in the country’s war of independence as well as a statesman who steered the country at a very crucial stage to provide a new sense of direction and action.” কাজেই হঠাৎ করে ঘোষণা দিয়ে জিয়া রাজনীতিতে আসেননি, বাংলাদেশের সামরিক শাসনের সুচনাও জিয়া করেননি। অথচ শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নিরন্তর মিথ্যাচার চালানো হয়। স্মরণ রাখা ভাল, ইতিহাস প্রবাহমান নদীর মত, জোর করে এর গতিপথ ঘোরানো যায়না। যিনি বা যারা এটি করতে যান, বিপদ তাদেরই। জোর করে কাউকে ইতিহাসের নায়ক বা খলনায়ক বানানো যায়না। ইতিহাসের নায়ক বা খলনায়ক চুড়ান্তভাবে ইতিহাসই নির্ধারণ করে। আমাদের ভরসা এখানেই।
পন্ডিতেরা বলে থাকেন- একটি জাতির অগ্রগতির জন্য রাষ্ট্র-গঠনের (State-Building) পূর্বে জাতি-গঠনের (Nation-Building) কাজটি সুসম্পন্ন করতে হয়। জাতি-গঠন প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা থাকলে রাষ্ট্রকাঠামোয় এর বিরূপ প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই পড়তে থাকে যা উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাঁধাগ্রস্ত করে। বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে পন্ডিত এমারসন (Rupert Emerson) বলেছিলেন, “Many of the new states of Asia and Africa are not yet nations in being but only nations in hope” (এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক নতুন রাষ্ট্র এখনো সত্যিকার অর্থে জাতি হিসেবে গড়ে ওঠেনি; তবে আশা করা যায় যে, সেগুলো ক্রমে জাতিসত্ত্বায় পরিণত হবে)। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলনা। তদুপরি, স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে চাপিয়ে দেয়া গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদ বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে মাত্রাতিরিক্ত সংকটে ফেলে দেয়। জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে জাতি-গঠন ও রাষ্ট্র-গঠনের বিরাট ও কঠিন দায়িত্বের কথা বিবেচনায় রেখেই তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে আমাদের জাতিসত্ত্বার সত্যিকার ইতিহাস-ঐতিহ্য, মানুষের আশা-আকাঙ্খা, ভাবাবেগ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের যথার্থ প্রকাশ ঘটে। বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো ও গণমানুষের সমস্যাবলীর গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিলেন এ রাষ্ট্রনায়ক, যা তাঁকে রাষ্ট্র-গঠন ও জাতি-গঠনের ক্ষেত্রে বাস্তব ও প্রায়োগিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছিল।
প্রফেসর হাবিব জাফরুল্লাহ’র মতে, “Zia’s regime initiated broad-base reform measures to bring back Bangladesh in the rail and tried to give governance an institutional shape, such as: the party system was restored, political institutions resuscitated, public administration revitalized, the economy invigorated, and diplomatic relations strengthened.” জিয়া বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রের একাত্মতার সংকট নিরসন করে রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা রাখেন। অসাধারণ ধীশক্তি ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এ রাষ্ট্রনায়ক বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োগসিদ্ধ পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন ও দক্ষ ক’টনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধন দৃঢ় করেন, জাতীয় আশা-আকাঙ্খার সাথে সঙ্গতি রেখে বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস করেন। কেবল জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অবদান রাখার সাহসী প্রত্যয় দেখিয়েছেন শহীদ জিয়া।
অধ্যাপক জিরিং বলেন, “Zia wanted Bangladesh to play an active role in the world, to prove the country was not only capable of looking after its own interest, but could also make a positive contribution to international affairs.” আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত করার লক্ষ্যে গঠিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম আঞ্চলিক সংস্থা সার্ক (SAARC) জিয়াউর রহমানের মস্তিস্কপ্রসূত উদ্ভাবন (Brain-child)। ১৯৭৬ সালে মে দিবসের (১ মে) এক ভাষণে জিয়া তাঁর পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা বর্ণনা করেন এভাবে: “We are a small country and have a lot of economic difficulties. We want to stay in peace and friendship with all the countries.”
জিয়ার সততা ছিল প্রশ্নাতীত। জিরিং যথার্থই বলেছেন, “Zia did not seek material wealth during his five year tenure as maximum leader of Bangladesh. Personal gain was not his purpose.” সততার মূর্ত প্রতীক জিয়ার সহজ-সরল জীবন-যাপন এবং তৃণমূল মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ও তাদের প্রতি সীমাহীন দরদ ও ভালবাসা তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার অভিধায় অভিসিক্ত করে। প্রফেসর জিরিং এর ভাষায়, “In fact, Zia possessed an active mind, and this, combined with a driving personality, made him a potent force in the life of the young nation..” এককথায়, জিয়ার নেতৃত্বে সূখী-সমৃদ্ধিশালী, আত্মমর্যাদাশীল একটি জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে আসন লাভ করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। এটিই ছিল শহীদ জিয়ার সব থেকে বড় দোষ(?)। যারা আত্মমর্যাদাশীল, স্বাধীন-সার্বভৌম জাতি হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্বকে মেনে নিতে অপ্রস্তুত, শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে তাদের কুৎসা আর মিথ্যাচারের শেষ নেই। আজও জিয়া ও জিয়া পরিবারের প্রতি অবিরত বিদ্বেষ ও জিঘাংসার পশ্চাতে বোধ করি ইহাই কারণ।
শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থানগত কারণেই শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁদের সন্তানদের চরিত্র হনন এবং কথিত গোয়েবলসীয় তত্ত্ব অনুযায়ী জঘন্য অপপ্রচার ও নিরন্তর মিথ্যাচারের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক শক্তিকে দমিয়ে রাখবার অপচেষ্টা থেমে নেই। জিয়া পরিবার এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল নেতৃত্ব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জঘন্য অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে আধিপত্যবাদী শক্তি দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার কোন চেষ্টা বাকী রাখেনি। ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবের (বিএনপি’র) দায়িত্ব লাভের পর তারেক রহমান যখন তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাবনা-চিন্তা হৃদয়াঙ্গম করতে ও তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে দেশের সর্বত্র ‘তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন’ (Grassroots Level Conference) অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে বেড়ানো শুরু করলেন, (বলা বাহুল্য তাঁর এ কর্মসূচী এত ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল যে, অনেকেই তাঁর মধ্যে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কাল্পনিক ছবি খুঁজে পেয়েছিলেন) সম্ভবত তখন থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নতুন নতুন ‘Clandestine Discourse’ তৈরী করা শুরু হয়, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যার বাস্তবায়ন চলেছে। ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীনের অবৈধ ও অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক নির্যাতিত তারেক রহমান বর্তমানে নির্বাসনে চিকিৎসাধীন, যতদুর জেনেছি, পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও ২/৩ বছর সময় লাগবে। আমরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং আশা করি ত্বরিত সুস্থতা লাভ করে তিনি আবার জনমানুষের মাঝে ফিরে আসবেন। বলার অপেক্ষা রাখেনা, শহিদ জিয়ার সন্তান হিসেবে তাঁর কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। জনাব তারেক রহমানকে সে প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
ওনি নিজের খমতা বাছিযে রাখার জন্য তখন কার। ১৯৭৫/৭৬/৭৭ সনে কত জন সেনা বাহিনির আপিসার কে জেল খানার ভিতর ফাসির দডিতে মারিযাছেন। দযা করিযা এই হিসাব টা লিখিলে ভাল বলতাম
68093
২
রিয়াদ সৌদি আরব থেকে জাহেদ লিখেছেন,
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১; রাত ০১:৪৫
১
qatar থেকে ala boksh কে
কত জন মানুষ কে মারিয়াছে কলম লেখক থেকে আপনি বেশি অবগত, তাই আপনার প্র্রতি অনুরোধ রহিল যাদের কে মারিয়াছে তাদের নাম ঠিকানা যেন আপনি উল্লেখ করে দেন যাতে জন সাধারণের সামনে সত্য প্রকাশ হয়।
68284
৩
আমেরিকা থেকে দুর্বিনীত লিখেছেন,
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১১; রাত ০৯:৩০
যাই করুক না কেন জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন ব্যবস্থার রাহুগ্রাস হতে দেশকে রক্ষা করেছেন। তা না হলে আজ আপনি মত প্রকাশ করতে পারতেন না। ঘৃনিত নব্য হিটলারের একনায়কত্বের হাত থেকে দেশকে বাঁচিয়েছেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে কিছু মানুষকে বলি দেওয়াটা অন্যায় নয়।
68501
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: