মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৫:১৬ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

ভার্সিটিতে প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধিঃ গরীব মেধাবীরা যাবে কোথায়?

মো. সানাউল হক

কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস শিক্ষা সম্পর্কে একটা কথা লিখেছিলেন “শিক্ষা চলবে রাষ্ট্রের খাতে কিন্তু থাকবে সমাজের হাতে।” অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় ব্যয় রাষ্ট্রই বহন করবে, ভবিষ্যতের যোগ্য ও কার্যকর একটা জাতি গঠনের কান্ডারী তৈরি করার স্বার্থে, কিন্তু আমরা কি দেখতে পাই, কিছুদিন পরপর বিভিন্ন উন্নয়নের “ফি”র নামে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে আর সেই টাকা ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও ওঠে নানা অভিযোগ। বাংলাদেশের প্রায় ৬০ ভাগ লোক দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে, যেখানে গরীব ঘরের একজন ছাত্র টিউশনি ও বিভিন্ন কাজের ওপর নির্ভর করে তার পড়াশোনা চালিয়ে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে, তার ওপর এই অবৈধ উন্নয়ন “ফি” এর বোঝা চাপিয়ে দেয়ার অর্থ এই নয় যে, ভবিষ্যৎ মানব সম্পদ গঠনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করা, নাকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা তাদের সন্তানের মত সবাইকে সৌভাগ্যবান ভাবছেন?

যেখানে উচ্চ আদালত, সেনাবহিনীর ব্যয় নির্বাহের জন্য কোন সমস্যা হয়না, তাদের স্বাধীনতায় কেউ হস্তক্ষেপ করেনা, সেখানে উচ্চ শিক্ষার কেন্দ্র পাবলিক ভার্সিটির বেলায় যৌক্তিকতা কতটুক? কেউ কেউ দূর্নীতি করে টাকার পাহাড় বানাচ্ছে, কারো কারো এক মাসের আয় দিয়ে বাংলাদেশের কয়েকটা পাবলিক ইউনিভার্সিটির এক বছরের ব্যয় মিটানো যায়, অথচ সেইসব নব্য কোটিপতিরা কর ফাঁকির মামলার আসামী, প্রশাসন এ ব্যাপারে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করছেনা কেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাদের ওপর আরো করারোপ করা এবং অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যয় করা যায়। কেবল মাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত পাঁচ বছরে একাডেমিক বিভিন্ন খাতে দ্বিগুনের বেশি ফি বাড়ানো হয়েছে, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কত নিচের দিকে ধাবিত হচ্ছে তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মান রেটিংয়ে স্পষ্ট।

শিক্ষার্থীরা তার ক্যারিয়ায়ের ক্ষতির আশংকায়, শিক্ষকদের বিভিন্ন জমিদার সুলভ আচরণ ও অন্যায় ফি বৃদ্ধির সবসময় প্রতিবাদ করতে পারেনা। কিন্তু এর ফলাফলটা আরও ভয়াবহ। যা আমরা দেখতে পাচ্ছি, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহানের মৃত্যুর পর পাওয়া যায় তার ডায়েরীতে লেখা কয়েকটি কথায় “আমার মৃত্যুর জন্য ইউনিভার্সিটি দায়ী” সুন্দর এই সোনালী স্বপ্ন গুলোর ঝরে যাওয়ার দায় ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষ ও সরকার কখনোই এড়াতে পারেনা। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কেন তাজা প্রাণগুলো ঝরে যাবে। তাহলে আমরা কোথায় শিক্ষিত হয়ে জীবনে সাফল্যের গ্যারান্টি পাব? অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধি, শিক্ষার মান নিচের দিকে যাবে, কিছু কিছু শিক্ষক জমিদারী সুলভ আচরণ করবেন তা কখনোই সচেতন ছাত্র সমাজ মেনে নেবেনা, যা স্পষ্ট হয়েছে ঢাবি, চবি, কুবি সহ বিভিন্ন ভার্সিটিতে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলনে অনেক সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে। পুলিশ দিয়ে আন্দোলন দমানো যায়না উপরন্তু আন্দোলনের গতি বৃদ্ধি পায়, ন্যায্য আন্দোলনের কারণে খুলনা সহ অনেক জায়গায় ছাত্র নেতাদের বহিস্কার করা হয়েছে, সেটা আসলে শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষণ নয়, ধ্বংসের শুরু মাত্র। দেশের সেরা মেধাবীদের পুলিশ যেভাবে পেটালো সেটা কখনোই সভ্য সমাজের কাছে জাতি আশা করেনি। পত্রিকায় দেখলাম, পুলিশ পরিবেষ্টিত অবস্থায় ছাত্রীদের ওপর অমানবিক ভাবে লাঠিচার্জ হচ্ছে এটা কি ক্ষমতা প্রয়োগের নগ্ন প্রকাশ নয়?

দাবি আদায়ের পথ হিসেবে সহিংসতা ভাংচুর অবশ্যই নিন্দনীয়। কিন্তু অনেক নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আন্দোলন করার পর ও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি, উপরন্তু কোথাও বহিস্কারের মত ঘটনা ঘটেছে, বছরের পর বছর তাদের ফি বৃদ্ধির এই নিয়মের কোন পরিবর্তন হয়নি। মনে হয় প্রতি বছর বেতন ফি বৃদ্ধি এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিছু আদর্শিক ছাত্র সংগঠন ছাড়া আর কোন সংগঠন এ ব্যাপারে কোন কথা বলেনা। অথচ প্রত্যক ছাত্র সংগঠনের এ ক্ষেত্রে কার্যকর কঠোর কর্মসূচী দেওয়া দরকার। আমরা সকল ছাত্র সমাজের পক্ষ হয়ে বলতে চাই পাবলিক ভার্সিটিতে শিক্ষা বাণিজ্য বাদ দিয়ে একটি কার্যকর সমাজ গঠনের জন্য বেতন ফী যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে এনে গরীব মেধাবীদের পড়ালেখার সুযোগ দিন।

লেখক: সাংবাদিক ও সাহিত্যিক






http://www.sonarbangladesh.com/articles/MdSanaulHoque
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ঝনঝনিয়া, বাশাইল । থেকে হাসান খান লিখেছেন, ১৯ জুন ২০১১; দুপুর ০২:৫৬
শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নয় সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ব্যাবসায়িক চরিত্রে আবির্ভুত হয়েছে । সেসব প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি, জায়গা আর আবকাঠামো সহ সরকারের নানান সুযোগ সুবিধাও নিচ্ছে আবার যাদের জন্য সরকার ঐসব দিচ্ছে, তাদের কাছে থেকেও বেশি বেশি অর্থ আদায় করছে । আমার কথা হলো শিক্ষা খাতের সর্বমোট ভর্তুকি বাড়ানো কমানো যেতে পারে, তাতে যে ক'টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের দাতব্য চরিত্র ভালো ভাবে বজায় রেখে চলতে পারবে, সরকার সে ক'টাকেই চালাবে । প্রয়োজনে নতুন কোনটা হিসেব না করে বাড়াবে না । কিন্তু সরকারের ভর্তুকি প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো কিভাবে বেতন-ফি বাড়িয়ে সেটা সাধারনের দুসাধ্যের পর্যায়ে নিয়ে যায় । আবার হয়তো দেখবেন যে, যার সামর্থ্য আছে সেও সরকারে ঐ ভর্তুকির সুবিধা পাচ্ছে, আর যার নেই তাদের কেউ কেউ অতিষ্ট হয়ে আত্মহত্মাই করে বসছে । যার দরকার তাকে দিয়ে আর যার সামর্থ্য আছে তার কাছ থেকে নিয়েও সরকারের ভর্তুকির সিমাবদ্ধতা কিছুটা লাঘব করা যেতে পারে । তদন্ত করলে দেখবেন, ঐ বেতন-ফি আদায়ের একটা অংশ বিস্ববিদ্যালয়ের একাউন্টস, প্রসাশন, শিক্ষক, ছাত্র এমনকি মন্ত্রনালয়ের লোক জনেরও উপরি আয়ের ব্যাবস্থা করছে ; যে জন্য তারা এ ব্যাপারে চুপ থাকছে । বেতন-ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থ নির্ধারিত কোন ব্যাঙ্কে রাখার মত বিষয়েও তাদের স্বার্থ রয়েছে । কাজেই যত বেশি টাকা আদায় হবে, সংশ্লিষ্টরা তত বেশি লাভ পাবে, সেটাই তাদের লক্ষ্য হয়ে দাড়াচ্ছে । ছাত্র বা ভুক্তভুগিদের কি হলো, সেদিকে তাদের কোন চিন্তা নেই ।
60025
ঢাকা থেকে ফয়সাল খান লিখেছেন, ২২ জুন ২০১১; সকাল ১০:০৪
I would like to thank the writer to bring this vital issue to the public. Yes, I believe that all citizen have the similar rights of having education. but irony that we see the severest inequality persists in this sector specially in LDCs. Differents streams of education is going on here. Only quality education is the product of rich people. but every briliant student (may be poor or rich ) should have been equal opportunity of using his/her potentially. then we can expect that we will be highly beneficial as it will build social capital. but that is not happening.

when I was a student of DU, I noticed that people from different economic background studied there. There were some students who have ability to pay 10000 per month even more. on the other, many student who have no ability to pay. they have no security of living and meet the livelihood. So I beleive that fee structure should change and it should be pro-poor.
60328
চবি থেকে রুবেল হাসান লিখেছেন, ২২ জুন ২০১১; বিকেল ০৫:০৬
গুরুত্বপূর্ন একটা লেখা। আমরাও এর অবসান চাই।
60355
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy