পঞ্চদশ সংশোধনীর পোষ্ট মর্টেম-(২) রাষ্ট্রদ্রোহিতার অতি পুরাতন অভিযোগ
মোবায়েদুর রহমান
গত মঙ্গলবার বলেছিলাম যে পঞ্চদশ সংশোধনীর ভালো এবং খারাপ দিক দিয়ে বিষদ আলোচনা করতে গেলে কয়েক কিস্তিতে সেটা করতে হবে। আজ সেটি শুরু করছি। এ মুহূর্তে আমি জানি না, কয়টি কিস্তির প্রয়োজন হবে। এখানে প্রসঙ্গত বলে রাখতে চাই, এ কিস্তিবন্দি আলোচনার ফাঁকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরী ইস্যু আসলে আমি এ কিস্তি থেকে ডিপারচার করব এবং পরবর্তীতে কিস্তিতে ফিরে আসব। এখন ফিরে যাচ্ছি প্রতিশ্রুত সংশোধনীর আলোচনায়।
পঞ্চদশ সংশোধনীতে প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে ৪৮টি অনুচ্ছেদ সংশোধন বা প্রতিস্থাপন করা হয় এবং তিনটি তফসিল সংশোধন ও তিনটি নতুন তফসিল সংযোজন করা হয়। অর্থাৎ এর মাধ্যমে ৫৫টি বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়। সংবিধানের যেসব অনুচ্ছেদ সংশোধন বা প্রতিস্থাপন করা হয় সেগুলো হলো, ২(ক) অনুচ্ছেদ, ৪(ক) অনুচ্ছেদ, ৭(ক) অনুচ্ছেদ সন্নিবেশ, ৮ম(ক), ৯ম অনুচ্ছেদ, ১০ম অনুচ্ছেদ ১২, ১৮(ক), ১৯, ২৩(ক), ২৫, ৩৮, ৪২, ৪৪, ৪৭, ৫৮(ক), সংবিধানের ২(ক) পরিচ্ছেদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপ অনুচ্ছেদ, ৬১, ৬৫, ৬৬, ৭০, ৮০, ৮২, ৯৩, ৯৫, ৯৬, ৯৮, ৯৯, ১০০, ১০১, ১০২, ১০৩, ১০৭, ১১৬, ১১৭, ১১৮, ১২২, ১২৩, ১২৫, ১৪১, ১৪২, ১৪৫(ক), ১৪৭, ১৫০ এবং ১৫২ অনুচ্ছেদ। আওয়ামী লীগ ব্রুট মেজরিটির জোরে কিভাবে সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছে এটা তার নমুনা। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ তাদেরই প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৪০টি অনুচ্ছেদ ও ৩টি তফসিল সংশোধন করেছিল। সংবিধানে নতুন ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে জনগণের কর্তৃত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, 'সংবিধানের কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উহা উদ্যোগ বা যড়যন্ত্র করিলে তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।' এর জন্য সর্বোচ্চ দন্ডে দন্ডিত হইবে। এর অর্থ হল কোনো নাগরিক জনস্বার্থেও সংবিধানের ব্যাপারে কোনো সমালোচনা বা নিজ বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে পারবে না।
৭(খ) আরও মারাত্মক। ৭(খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। সংবিধান কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়। প্রয়োজনে জনগণ সংবিধান সংশোধন করবেন। ৭(খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথমভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোনো পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।
'
বিশ্বের কোনো দেশের সংবিধানে এ ধরনের বিধান আছে বলে আমাদের জানা নেই। জনগণ সংবিধানের মালিক। তারা চাইবে তা প্রয়োজনে সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন, রহিতকরণ বা বিলোপ সাধন করিতে পারিবেন - এটাই যুক্তিসঙ্গত। অথচ ৭(খ)-এর মাধ্যমে জনগণের অধিকার নির্মমভাবে হরণ করা হয়েছে। সংশোধনী প্রশ্নে জনগণের মতামত নেয়ার জন্য গণভোটের যে ব্যবস্থা ছিল এ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বিলোপ করা হয়েছে।
!!দুই!!
সংবিধানের চতুর্থ অনুচ্ছেদে রয়েছে নিম্নোক্ত উপ অনুচ্ছেদসমূহ
৪(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনা বাংলা'র প্রথম দশ চরণ।
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের ওরপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্য শীর্ষ বেষ্টিত পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা।
(৪) উপরি-উক্ত দফরসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদের পরিবর্তে ৪(ক) অনুচ্ছেদ হিসাবে প্রতিস্থাপিত হবে নিন্মোক্ত উপ অনুচ্ছেদ।
৪(ক) 'জাতির পিতার প্রতিকৃতি। - জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারী ও আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করিতে হইবে।'
সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদ নিম্নরূপ:-
৬(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে।
(২) বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে,
'বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।'
সবচেয়ে কঠোর, প্রতিক্রিয়াশীল এবং স্বৈরাচারী সংযোজন হল ৭(ক) এবং (খ) অনুচ্ছেদ। সংবিধানের ৭ এর ১ ও ২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:-
(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এ সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।
(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এ সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোনো আইন যদি এ সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।
!!তিন!!
কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীতে যা সন্নিবেশিত হয়েছে সেটি নিম্নরূপ:-
'সংবিধানে নূতন ৭ ক এবং ৭ খ অনুচ্ছেদের সন্নিবেশ। - সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের পর নিম্নরূপ দুইটি নূতন অনুচ্ছেদ যথাক্রমে ৭ক এবং ৭খ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
৭ ক। সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।- (১) কোনে ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোনো অসাংবিধানিক পন্থায় -
(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে কিংবা
(খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে -
তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি (২) দফায় বর্ণিত-
(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা
(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে - তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দন্ডের মধ্যে সর্বোর্চ্চ দন্ডে দন্ডিত হইবে।
৭(খ)। সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।"
!!চার!!
পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪(ক) অনুচ্ছেদে জাতির পিতার ছবি টাঙ্গানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই ধরনের কাজ নির্বাহী আদেশে দেয়া হয়ে থাকে। তাই বলে সেই নির্দেশ সাংবিধানিক সংশোধনী আকারে সন্নিবেশিত হয়েছে, এমন নজির বিরল। আগেই বলেছি, সবচেয়ে বিধ্বংসী সংশোধনী হলো ৭(ক) এবং (খ) এই সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ রদ, রহিত, বাতিল বা স্থগিত করলে সেটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ হবে কেন? যারা এই সংশোধনীর উদ্যোক্তা তারা হয়ত বলতে পারেন যে ভবিষ্যতে যাদে সামরিক শাসন না আসতে পারে তার পথ বন্ধ করার জন্যই এই দুইটি অনুচ্ছেদ সংযুক্ত হয়েছে। তাহলে সেক্ষেত্রে সামরিক আইনের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল। সংবিধান ধর্মগ্রন্থের মতো পরিবর্তনীয় নয়। জনগণ তো সেটির পরিবর্তন বা সংশোধন চাইতেই পারি। যুগের সাথে সংবিধানকে খাপ খাওয়ানো জন্য এবং যুগের চাহিদা মেটানো জন্যই সংবিধানকে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে হাল নাগাদ করা হয়। সেই সব সংশোধনী আনার পূর্বে জনমত সৃষ্টি করতে হয়। কেনা জানে যে জনমত সৃষ্টির মাধ্যম হল প্রচার প্রচরণা এবং জনসংযোগ। সভা-সমিতি, মিছিল, সমাবেশ, সেমিনার, গোলটেবিল, লিফলেট, পোস্টার, পথসভা, জনসভা প্রভৃতির মাধ্যমে জনমত গঠন করতে হয়। এগুলো হল রাজনৈতিক কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক প্লাটফর্মের মাধ্যমে এসব কাজ সমাধান করা হয়। তাই, ভবিষ্যতে এই পঞ্চদশ সংশোধনীতেও যদি কেউ অধিকতর সংশোধনী আনতে চান, এমন কি বাতিলও করতে চান, তাহলেও তো তাকে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ব্যবহার করতেই হবে। আর রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ব্যবহার করলেই পঞ্চদশ সংশোধনীর ৭(ক) এবং ৭(খ) অনুযায়ী সেটি রাষ্ট্রদ্রোহ হয়ে যাবে। এমন অযৌক্তিক কথা বললে জনগণ সেটা শুনবে কেন? কথায় কথায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ দিলে জনগণ সেই অপরাধ মানবে কেন?
রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ একটি মারাত্মক অভিযোগ। অথচ বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে কথায় কথায় যে সে অপরাধকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ফেলা হচ্ছে। দু:খের বিষয় হল এই যে যারা আজ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনছেন কিন্তু অতীতে রাষ্ট্রদ্রোহিতায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন। জাতি হিসাবে আমাদের দুর্ভাগ্য হল এই যে আমারা খুব সহজেই অতীত ভুলে যাই, সম্ভবত সে কারণেই চীনের লোকান্তরিত চেয়ারম্যান মাও সেতুং বলেছেন বড় মূল্যবান কথা। তিনি বলেছেন, ইতিহাসের শিক্ষা হল এই যে আমরা কেউ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। একটু আগেই বলেছি যে আজ যারা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ করছেন গতকাল তারাই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন এবং চূড়ান্ত পরিণামে দেখা গেছে যে তাদের বিরুদ্ধে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অভিযোগ তাদের জন্য সাপে বর হয়েছে। পাকিস্তানিদের কথিত সেই রাষ্ট্রদ্রোহীরাই পরবর্তীকালে সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক হিসাবে জনগণের কাছে বরিত হয়েছেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তার বড় প্রমাণ। ব্রিটিশ আমলে সন্ত্রাস এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে খুদিরামের ফাঁসি হয়েছিল। তরুণ বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকী ধরা পড়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। ব্রিটিশরা চলে গেছে। কিন্তু খুদিরামকে নিয়ে লতা মুঙ্গেশকরের কিন্নরী কন্ঠে গান হয়েছে।
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
হাসি হাসি পরব ফাঁসি
দেখবে ভারতবাসী
একবার বিদায় ------
কলের বোমা তৈরী করে
দাঁড়িয়ে ছিলাম রাস্তার ধারে, মাগো
বড়লাটকে মারতে গিয়ে
মারলাম আর এক ইংল্যান্ডবাসী
একবার বিদায় --------
শনিবার বেলা ১০টার পরে
জজকোর্টেতে লোক না ধরে, মাগো
হলো অভিরামের দ্বীপচালান মা
খুদিরামের ফাঁসি
একবার বিদায় -------
১২ লক্ষ ৩৩ কোটি, রইলো মা তোর বেটাবেটি, মাগো
তাদের নিয়ে ঘর করিস মা মোদের করিস দাসী
একবার বিদায় -------
১০ মাস ১০ দিন পরে
জন্ম নিব মাসীর ঘরে, মাগো,
তখন যদি না চিনতে পারিস
দেখবি গলায় ফাঁসি
ওমা তখন যদি না চিনতে পারিস
দেখবি গলায় ফাঁসি
একবার বিদায় --------।