মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৫:৪১ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
পরীক্ষা : মূল্যায়নের মাপকাঠি (১৩/১১/২০১১)
নয়নাভিরাম কাপ্তাই আর চন্দ্রঘোনায় একদিন (২২/১০/২০১১)
ঠকা ঠকির দেশ, আমার বাংলাদেশ (০১/১০/২০১১)
শুধু নারী নির্যাতন নয়, বন্ধ করতে হবে মানুষ নির্যাতন (১৭/০৯/২০১১)
ঈদের জামায়াতেও ঈর্ষা কেন? (০৪/০৯/২০১১)
জামায়াত শিবির আর আওয়ামী লীগ আমার জন্য আল্লাহর রহমত স্বরূপ (২৭/০৮/২০১১)
চরমপন্থা : কিছু ভাবনা (১৩/০৮/২০১১)
ডোন্ট মেইক রমাদান এস এন ইটিং কনটেস্ট (০৬/০৮/২০১১)
নিজের নাক কেটে নিজের যাত্রা ভঙ্গ, অপরের যাত্রা ভঙ্গ আর দেশের যাত্রা ভঙ্গ (৩০/০৭/২০১১)
একজন পকেট মারও ধরা পড়ে লজ্জিত হয়, তাঁদের সে লজ্জাটুকুও নেই (১৬/০৭/২০১১)
রাখে আল্লাহ মারে কে, মারে আল্লাহ রাখে কে? (২৫/০৬/২০১১)
প্রবাসীদের অব্যক্ত বেদনা (১৮/০৬/২০১১)
পাহাড়ী মেয়ে অনু (গল্প) (১১/০৬/২০১১)
আমার দেখা ১৯৭৫ এবং অতঃপর (শেষ পর্ব) (২৮/০৫/২০১১)
আমার দেখা ১৯৭১ এবং অতঃপর (চতুর্থ পর্ব) (২১/০৫/২০১১)
আমার দেখা ১৯৭১ এবং অতঃপর.... (তৃতীয় পর্ব) (১৪/০৫/২০১১)
আমার দেখা ১৯৭১ এবং অতঃপর (দ্বিতীয় পর্ব) (০৭/০৫/২০১১)
আমার দেখা ১৯৭১ এবং অতঃপর .... (প্রথম পর্ব) (৩০/০৪/২০১১)
নিয়মিত হাঁটুন, বাঁচার মত বাঁচুন (২৩/০৪/২০১১)
অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে তাতে নিজেকেই পড়তে হয় (১৬/০৪/২০১১)
শেখ খলিফা বিন যায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল, আবুধাবী - ২ (০৯/০৪/২০১১)
শেখ খলিফা বিন যায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল, আবুধাবী - ১ (০২/০৪/২০১১)
বহু বিবাহ : একটি পর্যালোচনা (২৭/০৩/২০১১)
মাজার নিয়ে মজার খেলা (১৯/০৩/২০১১)
একটি চাঁদাবাজির ঘটকালী এবং বিনিদ্র রজনী (১২/০৩/২০১১)
বৃষ্টির বিয়ে (গল্প) (০৫/০৩/২০১১)
'বৃষ্টি' ছদ্ম নামের সেই মেয়েটি (গল্প) (২৬/০২/২০১১)
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী.. (১৯/০২/২০১১)
ভালবাসার হাকীকত (১২/০২/২০১১)
ইসলাম পরবর্তী আরবদেরকে কেন বর্বর বলা হয়? (০৫/০২/২০১১)
আগের লেখা
484


পরীক্ষা : মূল্যায়নের মাপকাঠি

মোহাম্মদ লোকমান

আবুধাবীতে লোকের মুখে মুখে প্রচার হতে লাগলো, আবুধাবীর মোসাফ্ফা শিল্প নগরীর একটি হলে সাঈদী সাহেবের প্রোগ্রাম চলছে। তাইতো! দূর থেকে তাঁর অস্পষ্ট অথচ সুমধুর কন্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি। হাতের কাজ ফেলে ঝটপট রওনা দিলাম হলের দিকে। আরো অনেক বাংলাদেশী নারী-পুরুষ চলছে ওদিকে। হঠাৎ এভাবে মুক্তি পাওয়ার কারণ কী? সরকারের সাথে কোন আঁতাত নয় তো? এসব ভাবতে ভাবতে হলের মধ্যে প্রবেশ করে আমার দৃষ্টি আঁটকে গেল চৌধুরী বংশীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার প্রতি, যিনি তাঁর স্বভাব সুলভ হাসি হাসি মুখ নিয়ে মঞ্চে বসে আছেন। তাহলে কি আমার প্রিয় ব্যাক্তিটি শেষপর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে জেল থেকে মুক্ত হলেন? খুব ধ্যান দিয়ে তাঁর বক্তব্য শুনতে লাগলাম। না! তাঁর বক্তব্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখতে পেলাম না। সেই আগের মতোই আওয়ামী-বাকশালী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর যুক্তিপূর্ণ জোড়ালো বক্তব্য শুনে আশ্বস্ত হলাম। তারপর স্বপ্নের সমাপ্তি।

সাধারণতঃ স্বপ্নের তা'বীর বা তাৎপর্য জানার ব্যাপারে আমার আগ্রহ খুব একটা নেই। তাছাড়া আমি এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ কেউ নই যে, স্বপ্নের মাধ্যমে কিছু অবগত হবো। স্বপ্নটির কোন তাৎপর্য্য থাক আর না থাক, আমার এ প্রিয় ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁর লক্ষ লক্ষ ভক্তের মতো আমিও সব সময় ভাবি বলেই হয়ত তাঁকে নিয়ে স্বপ্নটি দেখা হয়েছে।

যাঁকে আমি প্রিয় মানুষ বলছি সেই মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে একসময় ইসলামের দুষমন মনে করতাম। আমাদের চট্টগ্রামের মাজার পন্থী আঞ্চলিক ইসলামী দলের সমর্থক ছিলাম আমি এবং তাদের কাঁধে ভর করে বিরোধীরা নানা রকম অপ-প্রচার এবং গালাগালিতে লিপ্ত থাকতো তাঁর বিরুদ্ধে। আমি অন্যদের মতো গালাগালি না করলেও খুবই ঘৃণা করতাম তাঁকে। তাঁর ব্ক্তব্য শোনা এবং মাহফিলে যাওয়া আমাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল।

সেলিম উদ্দিন নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র লজিং থাকতেন আমাদের মহল্লায়। চট্টগ্রামে সাঈদী সাহেবের তাফসীর মাহফিল চলার সময় তিনি আমাকে তার সাথে যাওয়ার অনুরোধ করলেন। সাঈদী সাহেবের নাম শুনেই তাঁর প্রতি আমার ঘৃণার কথা জানিয়ে দিয়ে ওখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলাম। সেলিম উদ্দিনও ছিল নাছোড় বান্দা। তিনি বললেন, একবার গিয়ে দেখতে তো আর দোষ নেই। তাঁর কথা ভাল না লাগলেও মানতে হবে, এমন তো বাধ্যবাধকতা নেই। তাছাড়া আপনি বিরোধীদের কথা শুনে একজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন, তাঁকে ঘৃণা করছেন, কোন যাচাই বা পরখ করে দেখলেন না, তাতো ইনসাফ হলো না। তাছাড়া বিরোধিতা করার জন্যও তো তাঁর কথা শোনা জরুরী।

শেষমেষ তিনি কী বলেন যাচাই এবং পরীক্ষা করে দেখার নিয়্যাতে সেলিম ভাইয়ের সাথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। শীতের সন্ধ্যায় মাফলার দিয়ে মুখ ঢেকে মাহফিল স্থলে প্রবেশ করতে যাচ্ছি, যাতে আমাকে কেউ চিনে নিয়ে পরের দিন ঝামেলা না পাকায়। দেখতে পেলাম আমাদের মসজিদ কমিটির সেক্রেটারীকে, বেচারা আমার মত মুখ বেঁধে মাহফিলের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছেন। এরকম আরো অনেককে দেখতে পেলাম, যাদেরকে ইতিপূর্বে সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখেছি। ঘটনাক্রমে সেদিনের মাহফিলেই আলোচিত হয়েছিল সেই ঘটনার একাংশ, যখন মক্কার আবু লাহাব -আবু জেহেল- আবু সুফিয়ান প্রমূখ নেতারা লোকদেরকে কুরআন শোনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ জারী করেছিল আর নিজেরা রাতের আঁধারে কুরআন শুনতে এসে পরস্পর ধরা পড়ে গিয়েছিল। যথারীতি মাহফিলে সাঈদী সাহেবের বক্তব্য শুরু হওয়ার পর অত্যন্ত তন্ময় চিত্তে শুনতেছিলাম তাঁর সুললিত কণ্ঠে কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা এবং সাথে সমসমায়িক আভ্যন্তরীন এবং বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে মুসলমানদের করনীয় সম্পর্কে আলোচনা।

জীবনের প্রথম কোন শুদ্ধ ভাষায় এবং হৈ-হুল্লুর ও গালাগালি মুক্ত ওয়াজ শুনলাম। তখন অবশ্য যুদ্ধাপরাধী এবং ৭১এ মানবতা বিরোধী অপরাদের তকমা ছিলনা তাঁর উপর। কারণ তখনো তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন নি। তখন তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছিল- তিনি ওয়াহাবী, নবী মানেন না, আউলিয়া মানেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। ইতি পুর্বে ওয়াজের নামে যা শুনেছি তা হলো সারারাত চেল্লাপাল্লা, ওয়াহাবী সুন্নী গালাগালি, সর্বশেষ কেয়াম এবং লম্বা চওড়া মোনাজাত। প্রায় প্রতিটি শ্রোতাই চা-বিস্কুট অথবা সির্নির লোভে বসে বসে ঝিমুতাম। হুলুস্তুল চেল্লাপাল্লার মধ্যে হুজুর সাহেব কী বুঝাতে চান, তা বুঝার কোন সুযোগই ছিলা না। সেই তুলনায় আজকের মাহফিলে এসে যেন মনের খোরাক পেয়ে গেলাম। তিনটি ঘন্টা কি ভাবে পার হয়ে গেল টেরও পেলাম না।

প্রথম মাহফিলেই তাঁর বক্তব্য ভাল লাগার পরও পূর্ব থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণার মাইন্ড সেট থাকাতে সন্ধেহ এবং দোদুল্যমানতা দুর করতে বেশ সময় লাগলো। তাঁর বিরুদ্ধে কথিত অভিযোগ সমূহ যাচাই বাছাই করে দেখতে পেলাম তিনিই মানুষকে সত্যিকার ইসলামের দিকে ডাকছেন। "ওয়াহাবী, নবী মানেন না, আউলিয়া মানেন না" ইত্যাদি উদ্যেশ্যমূলক অভিযোগ মাত্র। বরং তিনিই সত্যিকার মুসলিম (ওয়াহাবী নন), তিনিই সবচেয়ে বেশী নবী আর আওলিয়া প্রেমিক। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে সাঈদী সাহেবের মাহফিল এবং সারা বছর মাহফিলের কেসেট বাজিয়ে শুনে ইসলামের শিক্ষা সমূহ নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে লাগলাম। শুনতে শুনতে অনেক কুরআনের আয়াত এবং হাদীস মুখস্ত হয়ে গিয়েছে। শুধু আমি নই তাঁর প্রতিটি শ্রোতাই অত্যন্ত মনোযোগী। একজন সাধারণ লেখাপড়া না জানা লোকও তাঁর বক্তব্য বুঝতে পারেন।

মনে পড়েগেল ১৯৮৯ সালের কথা। তখন এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় এবং আওয়ামী লীগ নেত্রীর সাথে এরশাদ সাহেবের দহরম মহরমের কারণে আওয়ামী লীগ ছিল ক্ষমতার বি টিম। চট্টগ্রামে তাফসীর মাহফিল হতে দেবেন না তারা। প্রশাসনের মাধ্যমে পূর্ব অনুমতি বাতিল করে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হলো। তখন সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সমগ্র চট্টগ্রাম বাসী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিল। শতভাগ সফল হরতাল এবং বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত সরকার মাহফিলের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছিল। হরতাল এবং বিক্ষোভ সফল করতে আমার এলাকায় নেতৃত্বে থাকার কারণে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে ভাগ বসানোর ভয়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ এবং জাতীয় পার্টির রোষাণলে পতিত হয়েছিলাম আমি। সেই সূত্র ধরে আমার বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্রের কারণে আমাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল।

শেখ শাসিত দেশ আবুধাবীর শিল্প নগরী মোসাফ্‌ফা আট নং মাসজিদ চত্তরে আয়োজন করেছিলাম সাঈদী সাহেবের মাহফিল। আবুধাবীতে এটিই ছিল প্রথম খোলা ময়দানে কোন জনসমাবেশ। দুবাইতে আব্দুল আজীজ (মরহুম) ভাইয়ের প্রচেষ্টায় দেরা ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্মরণ কালের সর্ববৃহৎ মাহফিল। মাহফিলে অগনিত লোকের সমাগম দেখে দুবাইবাসী বিস্মিত হয়েছিলেন। দুবাইর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনে পুলিশকে হিমসিম খেতে হয়েছিল। তাদের মুখে একটাই প্রশ্ন ছিল "আজ কি বাঙ্গালীদের ঈদ?"

তিনি দীনের পথে আহ্বান কারার জন্য দেশ বিদেশের যেখানেই গেছেন, দল-মত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলা ভাষাভাষি মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন তাঁর মুখে কুরআনের কথা শোনার জন্য। তাঁর বক্তব্য শুনে অগনিত মানুষ ইসলামের সুশিতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন। অসংখ্য পথহারা মানুষ পেয়েছেন পথের সন্ধান। ইসলামের এই অকতুভয় বীর সেনানী দীনের কথা বলার ক্ষেত্রে, হক কথা বলার ক্ষেত্রে কোন আপোষ করেননি। তিনি পূর্ব পুরুষের পীর-মুরীদি ছিলছিলা ছেড়ে জেনে বুঝেই জেহাদের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন। "ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান", রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি সহ সমস্ত নীতির নীতি ইসলামের মধ্যে নিহিত। রাষ্ট্রশক্তির সহায়তা ছাড়া ইসলাম কায়েম সম্ভব নয়। তাই তিনি সরাসরি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে ফুল বিছানা ছেড়ে কন্টাকাকীর্ণ পথ বেছে নিয়েছেন নিজের জন্য। আমরা তাঁর জবানে হাজার বার শুনেছি, তিনি নিজেকে আল্লাহর দীনের জন্য উৎসর্গ করেছেন। ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে জামায়তে ইসলামীতে যোগ দেয়ার পর থেকেই তাঁকে রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ইত্যাদি বলে অপদস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমান চরম ইসলাম বিদ্বেষি সরকার তাঁকে জেলে বন্দী করে ৭১এ মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের নামে প্রহসনের আশ্রয় নিয়ে অপরাধী সাজানোর নাটক মঞ্চায়ন করে চলেছেন। অথচ এই মর্দে মুজাহিদ হিন্দু অধ্যুসিত এলাকা থেকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নিজ এলাকায় যদি তিনি ৭১এ মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত থাকতেন তাহলে তাঁর এলাকার মানুষ তাঁকে অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করতেন। তাঁর পক্ষের একজন মুক্তি যোদ্ধা সাক্ষীকে মিছিল করার অযুহাতে গ্রেফতার করে জেল বন্দী করে রেখেছেন।

কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন সাঈদী সাহেবের এমন সংকট কালে তাঁর লক্ষ লক্ষ ভক্ত কোথায়? তারা জেলের তালা ভেঙ্গে সাঈদীকে বের করে আনছেন না কেন? সত্যিকার অর্থে সাঈদী সাহেবের ভক্তরা জেলের তালা ভেঙ্গে বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে তাঁকে বের করে আনার শক্তি রাখেন। তিনি যদি জামায়াতে ইসলামীর মত একটি সুশৃঙ্খল দলের নেতা না হতেন তাহলে এমনটিই আমরা দেখতে পেতাম। তাঁর লক্ষ লক্ষ ভক্ত কান খাড়া করে আছেন কখন কি করতে হবে সেই নির্দেশের জন্য। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী আইনী লড়াইয়ে এগুবে এটাই স্বাভাবিক। এবং এটাও ঠিক যে, বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইবুন্যাল যদি পাতানো রায় দিয়ে তামাশার আশ্রয় নেয় তাহলে হয়ত কোন কিছু ঘটতেও পারে।

শুধু মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নয়, ৭১এর মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের নামে বর্তমানে বাংলাদেশে জুলুম নির্যাতনের শিকারে পরিনত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আরো কয়েক জন নেতা। নানা অজুহাতে আন্দোলনের সাধারণ কর্মীদেরও উপরও চলছে সিমাহীন জুলুম নির্যাতন। এসব জুলুম নির্যাতনে ৭১এর মানবতা বিরোধী অপরাধের কথা বলা হলেও মূলত এসব হচ্ছে ইসলামপন্থীদের উপর জুলুমের ধারাবাহিকতা।

যারা ৭‌১ দেখেছেন অথবা সঠিক ইতিহাস জেনেছেন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাবলীর উপর সচেতন ভাবে নিরপেক্ষ নজর রেখেছেন তারা সাক্ষী দেবেন, বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধ অথবা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের নামে যে কয়জন নেতাকে আটক রেখে নির্যাতন চালাচ্ছেন তারা ১৯৭১এ পাকিস্তান সমর্থক হলেও কোন অবস্থাতেই পাকিস্তানের পক্ষে মূল ব্যাক্তি ছিলেন না। এবং খুন রহাজানির সাথেও জড়িত ছিলেন না। যদি তাই হতো তাহলে মুক্তি যোদ্ধা এবং নির্যাতিতদের রোষণল থেকে তারা রেহাই পেতেন না এবং জনগণের ভোটে জন প্রতিনিধিও নির্বাচিত হতে পারতেন না। তাছাড়া মাওলান দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীতো তখন পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্কিতও ছিলেন না।

তাহলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন দেখা দেয়, স্বাধীনতা বিরোধী মূল ব্যাক্তিরা কোথায়? কোথায় বর্বর পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা? তখনকার বাঘা বাঘা নেতাদের বাদ দিয়ে তৃতীয় চতুর্থ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা নিয়ে টানা হেঁছড়া কেন? নিজামী মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, সাঈদী এই কয়জনই কি যুদ্ধাপরাধী? তারাই যদি যুদ্ধাপরাধী হয়ে থাকবেন তাহলে যদ্ধাপরাদের দায়ে বঙ্গ বন্ধুর সরকার যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছিলেন সেখানে এই কয়জনের নাম নেই কেন? ৭১এর জীবন্ত সাক্ষীগণ স্বীকার করবেন তখন এসব নেতাদের নামও শুনেনি কেউ। উল্লেখ্য : ১৯৭৩ সালে অন্যান্যদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম আযমের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়। পরবর্তিতে নাগরিকত্ব ফিরে পাবার মামলায় তৎকালীন এটর্নি জেনারেল কর্তৃক তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যুক্তি-প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু মাননীয় আদালত তা গ্রহণ করেননি। এ ব্যাপারে আদালতের রায়ও পর্যবেক্ষণ ছিল নিম্নরূপ : পত্র-পত্রিকার কতিপয় নিউজ আইটেম এবং জেনারেল টিক্কা খান কিংবা জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সাথে আবেদনকারীর (অধ্যাপক গোলাম আযম) সাক্ষাৎকে ভিত্তি করে প্রদর্শিত একটি ছবি ছাড়া পাকিস্তান আর্মি কিংবা তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামসের নৃশংসতার সাথে তাকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার মতো কিছু নেই। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি (আবেদনকারী) কথিত নৃশংস কর্মকান্ড পরিচালনা ও অব্যাহত রাখার সাথে কোনভাবে জড়িত ছিলেন এ ধরনের কিছু আমরা পাইনি। এই রায় ছিল হাইকোর্টের ও অধ্যাপক গোলাম আযমের অনুকূলে। সরকার পক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্ট আপিল খারিজ করে দিয়েছিলেন। আদালতের রায়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে তিনি বা তার দল যে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং এ প্রেক্ষিতে তার নাগরিকত্ব বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করে তার নাগরিকত্বকে পুনর্বহাল করা হয়। বড়ই পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরও অধ্যাপক গোলাম আযমকে 'যুদ্ধাপরাধী' আখ্যা দিয়ে আদালত অবমাননা করা হচ্ছে অহরহ। জামায়াতের প্রধান ব্যাক্তিই যদি আদালতের রায়ে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যান তাহলে তখনকার তৃতীয় চতুর্থ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা নিয়ে টানা হেঁছরা জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যদি সত্যিই রাজাকারীর বিপক্ষে অবস্থান নিতেন তাহলে রাজাকারের পত্রিকা 'ইনকিলাব'এর সাথে হাত মিলাতেন না। রাজাকার পরিবারের সদস্য ও একাত্তরে স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে বর্তমান সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করতেন না। ফরিদপুরের শান্তি কমিটির লীডার মোশাররফ হোসেনের ছেলেকে মেয়ে বিয়ে দিয়ে আত্মীয়তা করতেন না। সাবেক ধর্ম মন্ত্রী মাওলানা নূরুল ইসলামকে দলে রেখে মন্ত্রীত্ব দিতেন না। এবং জেনে শুনে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিহ্নিত রাজাকারদেরকে (যাদের বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা হয়েছে) দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব দিতেন না।

সূতরাং এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিরোধী দল খতম করে এক দলীয় বাকশাল কায়েমের পথ প্রশস্ত করা। এবং বিশেষ করে ক্রম অগ্রসরমান জনপ্রিয় একটি ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীকে খতম করা। তাদের মূল টার্গেট জামায়াতে ইসলামী হওয়ার কারণ হলো- মুসলিম বিদ্বেষী প্রভূদেরকে খুশী করে তাদের আনূকুল্য পাওয়া।

তারা যতই গোয়েবলসিয় প্রপাগান্ডার মাধ্যমে গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, সাঈদী প্রমুখ নেতৃবৃন্ধকে ৭১এ নারী ধর্ষণকারী, হত্যা, লুন্ঠন এবং অগ্নী সংযোগকারী বলে প্রচার করা হোক না কেন, তাদের এই জঘন্য মিথ্যাচার বুমেরাং হয়ে তাদের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য।

জুলুম নির্যাতনের পরীক্ষা যুগে যুগে :
ইসলামী নেতৃবৃন্ধের ব্যাপারে অপ-প্রচার, মিথ্যাচার এবং জুলুম নির্যাতন নতুন কিছু নয়। যদিও জালেমরা মনে করে জুলুমের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন প্রতিহত করা সম্ভব। জালেম বনাম ইসলামী নেতৃত্বের ইতিহাস আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে। ইসলামী নেতৃত্ব এসব ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েই সমুখ পানে এগিয়ে চলছে। জুলুমকারীরাও ইচ্ছা করলে শিক্ষা নিতে পরেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলান মওদুদীকে (রহমাহুমুল্লাহ) কাদিয়ানী সমস্যার উপর বই লিখার কারণে ফাঁসির দড়িতে ঝুলনোর চেষ্টা করেছিল জালেমরা। উদ্দেশ্য ছিল যেন মাওলানা জালিমদের নিকট প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে তাঁর ক্যারিয়ার ধ্বংস করেন। তাঁকে ক্ষমতাসীনদের নিকট প্রাণ ভিক্ষা চাইতে বলা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "হায়াত আর মাউতের ফয়সালা জমিনে নয়, আসমানে হয়"। শেষ পর্যন্ত জালেমরা মাওলানাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। আজ সেই জালেমরা নিশ্চিহ্ন আর মাওলানার প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী বিশ্বব্যাপী মানুষকে আল্লাহর রাস্তায় ডাকার কাজ চালু রেখেছে এবং প্রতিনিয় মাওলানার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করছেন।

মিসরে ইখওয়ানুল মুসলেমীনের প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্না (রহমাহুমুল্লাহ)কে গুলি করে শহিদ করা হয়, সাইয়েদ কুতুবকে অমানবিক নির্যতনের মাধ্যমে শহিদ করা হয়। ইখওয়ানের মহিলা নেতৃ জয়নাব আল গাজালীকে কারাগারে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। হাজার হাজার ইখওয়ান কর্মীকে শহিদ করে জালেমরা ভেবেছিল তারাই জয়ী হয়েছে। মিসরের ইতিহাস এবং জনগণকৃতক শাসকরূপী জালেমদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হয়েছে।

কামাল পাশা এবং তার সহযোগীরা তুরস্কে যা করেছিল জনগণ তার জবাব দেয়া শুরু করেছেন। ইরানের রেজা শাহ ফাহলবি, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, আলজেরিয়া, তিউনেশিয়া এবং সর্বশেষ লিবিয়ার গাদ্দাফির ইতিহাস আমরা দেখেছি। জনগণ তাদেরকে ক্ষমা করতে পারে নি।

শুধু তাই নয়, ইমাম আবু হনীফা (রহমাহুমুল্লাহ) নির্যাতিত হয়েছিলেন খলীফা মনসুর কতৃক। ইমাম মালেক (রহমাহুমুল্লাহ) নির্যাতিত হয়েছিলেন ছিলেন খলীফা মানসুরের চাচাতো ভাই মদীনার গভর্ণর জাফরের নির্দেশে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্মল (রহমাহুমুল্লাহ) নির্যাতিত হয়েছিলেন খলিফা মামুনুর রশীদ কৃতক। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহমাহুমুল্লাহ) সমমালীন রাষ্ট্রশক্তি কতৃক জেল জুলুমের শিকার হয়েছিলেন। আমাদের দেশের বর্তমান শাসকেরা যা করছেন তা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

আওয়ামী নেতৃবৃন্ধ বঙ্গবন্ধুর কয়েকজন হত্যাকরীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখেছিল মাওলানা সাঈদী এবং কয়েকজন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকে দ্রুত ফাঁসিতে ঝুলাবেন। তাদেরকে মিথ্যা মামলায় আটক করার পর আওয়ামীদের সে কী আত্মতৃপ্তি! গত ২৮ অক্টোবর'১১, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মায়ের নামাজে জানাজা পড়ানোর জন্য তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াকে সতর্ক করে দেয়া হয় যেন কোন প্রচার প্রতিবেদন করা না হয়। এতেই আমরা পরিস্কার বুঝতে পারছি সরকার কী পরিমাণ ভিতির মধ্যে রয়েছে। আর এই জানাজা অনুষ্ঠানে সাঈদী সাহেবকে উপস্থিত করা হতে পারে ভেবে কোন প্রচার ছাড়াই লক্ষ জনতার ঢল নামে।

আমরা জানি জাময়াতে ইসলামী বর্তমান সরকার বিরোধী জোট থেকে বেরিয়ে আসলেই তারা আর যু্দ্ধাপরাধী থাকবেন না। ৯৬'র নির্বাচনে আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি। তখন বিএনপির সাথে জামায়াতের ভুল বুঝাবুঝির ফলে জামায়াত সারাদেশে তাদের নিজস্ব প্রার্থী দেয়ার কারণে আওয়ামী লীগের জন্য তা সোনায় সোহগা হয়ে দাঁড়ায়। তখন আওয়ামী নেতৃবৃন্দ জামায়াত নেতাদের সাথে দহরম মহরম এবং সেখ হাসিনা স্বয়ং অধ্যাপক গোলাম আযমের সাথে সাক্ষাত করে তাদের প্রেসিডেন্ট প্রর্থীর পক্ষে জামায়াতের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন।

পরীক্ষা অনিবার্য কেন?
পরীক্ষা মানে যাচাই করা, অনুসন্ধান করা, বিচার করা, পরখ করা ইত্যাদি। পরীক্ষা ছাড়া দুনিয়ার জমিন এক মুহুর্তের জন্যও খালি থাকে না। দুনিয়ার সর্বত্র কোন না কোন পরীক্ষা চলছেই। পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতম প্রার্থীটি বাছাই করা এবং উৎকৃষ্ট জিনিষটি পছন্দ করার নিয়ম সর্বত্র। প্রার্থীর যোগ্যতা এবং অবস্থানের উপর ভিত্তি করে পরীক্ষার মান নির্নয় করা হয়।

একজন ছাত্রকে পরীক্ষায় পাশ করে ধাপে ধাপে উপরের শ্রেণীতে উঠতে হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে সংশ্লিষ্ট শ্রেনীর সব কয়টি বই মুখস্ত করেও উপরের শ্রেনীতে প্রমোশন পাওয়ার কোন সুযোগ থাকে না।

কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মচারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। সেখানে আবারো পরীক্ষ। ইতিপূর্বেকার স্কুল, কলেজ আর বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা পাশের সনদপত্র সমূহ এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা সৃষ্টি করবে মাত্র, সরাসরি নিয়োগ পেতে সাহায্য করে না। এখানে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কতৃপক্ষকে তুষ্ট করতে পারলেই সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ প্রাপ্তির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় এবং সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় টিকে গেলে নিয়োগ চুড়ান্ত হয়।

ভোগপণ্য থেকে শুরু করে নির্মান সামগ্রী, সব কিছুরই পরীক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে মান নির্নয় করা থাকে। প্রত্যেক দেশেই মান নির্নয়ক সংস্থা কার্যকর থাকে। কোন প্রোডাক্ট মান নির্নয়ক সংস্থার পরীক্ষায় প্রতিশ্রুত মানের কম থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা রাখে। এজন্য ভ্রাম্যমান আদালতের ব্যবস্থাও রয়েছে।

আমরা বাজার থেকে রুই বা ইলিশ মাছটি কিনতে গিয়ে উপর থেকে ইলিশ আর রুইটি দেখেই কিনে ফেলি না। মাছের কানটি খুলে দেখি তা লাল টকটকে আছে নাকি ফ্যাকাসে, টিপে দেখি মাছের বডিটা শক্ত আছে নাকি পঁচে থেতলা হয়ে আছে, একটু নাকের কাছেও এনে দেখি দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে কি না তা পরখ করার জন্য।


মানুষকে পরকালে জান্নাত বা স্বর্গ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্যও কিন্তু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। আর সে পরীক্ষার মহান পরীক্ষক হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। মজার বিষয়টি হচ্ছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর সাধারণ বান্দাদের জন্য পরীক্ষা পদ্ধতিটা খুবই সহজ করে দিয়েছেন। এমনকি প্রশ্নপ্রত্র এবং সাজেসান দুটোই অগ্রীম দিয়ে রেখেছেন। প্রশ্নটা যদি হয়, "দুনিয়ার শান্তি আর আখেরাতে মুক্তির উপায় কী"? এর জবাব হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাহর অনুসরণ। এখানে কিন্তু কোন দুই নাম্বারি তরিকায় পার পেয়ে যাবার কোনই সুযোগ নেই।

আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য পরকালে যেমন রয়েছে আটটি জান্নাত বা স্বর্গ তেমননি অনুত্তীর্ণদের জন্য রয়েছে সাতটি জাহান্নাম বা নরক। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকল মানবাত্মা সৃষ্টি করে জান্নাতে স্থান দিয়েছিলেন এবং তাদের নিকট প্রশ্ন করেছিলেন, "আমি কি তোমাদের রব নই?" সকল মানবাত্মা সমস্বরে জবাদ দিয়েছিল, " হাঁ আপনি অবশ্যই আমাদের রব।" অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত আদম এবং হাওয়া (আঃ) এর মাধ্যমে ক্রমানন্বয়ে সকল আদম সন্তানকে দুনিয়া নামক পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রেরন করে তাদের কৃত ওয়াদার পরীক্ষা নিতে চান।

মানুষকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেমন জ্ঞান-বুদ্ধি বিবেক দিয়ে সৃষ্টি করেছেন তেমনি দিয়েছেন চিন্তার এবং ভাল বা মন্দ করতে পারার স্বাধীনতা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদেরকে প্রদত্ত জ্ঞান ও বুদ্ধি বিবেকের পরীক্ষা নেবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি দেখতে চান তাঁর বান্দারা মুখে যা বলে তার সাথে বাস্তবতার সম্পর্ক এবং অন্তরিকতার পরিমান।

মহান আল্লাহর পরীক্ষা সাধারণ বান্দাদের জন্য যত সহজ, তাঁর দীনের নেতৃত্বদানকারী দায়ী এবং আম্বিয়ায়ে কেরামের জন্য কিন্তু তত সহজ নয়। যে কারণে আল্লাহ্‌ প্রেরিত প্রায় সকল নবী রাসূলগণকে বাতিলের মোকাবেলা করতে হয়েছিল। এই মোকাবেলার মাধ্যমে আল্লাহর নবীগণ পরীক্ষিত হয়েছিলেন। সাথে সাথে মুজাদ্দেদ এবং দীনের অসংখ্য দায়ীকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে যুগে যুগে এবং এখনো হচ্ছেন। এই জুলুম নির্যাতন তাদের জন্য নিঃসন্ধেহে আল্লাহর পরীক্ষা। মহান আল্লাহ অবশ্যই দেখতে চান এবং দেখাতে চান, তার সেসব বান্দারা বক্তৃতা, ওয়াজ-নসিহত, দরস এবং তাফসীর করতে গিয়ে মানুষদেরকে আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গ করার ছবক দিয়েছেন, তাদের সেই শিক্ষা নিজেরা কতটুকু আমল করতে পারেন। সমূহ বিপদ দেখে দল থেকে পালিয়ে বাঁচেন কি না, ডান্ডা বেড়ী আর রিমান্ডের সীমাহীন নির্যাতনের ভয়ে বাতিলের সাথে আঁতাত করেন কি না, নিজের বিপদ থেকে (শিক্ষা?) নিয়ে পরিবার পরিজন এবং আত্মীয় স্বজনকে দীনের পথ থেকে দূরে সরে যাওয়ার নসিহত করেন কি না, তা অবশ্যই যাচাই করে দেখবেন।

আমরা মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনো বাক্যে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে হাজারো বিপদ মুসিবতের মোকাবেলায় ধৈর্য্য ধারণের তাওফিক দান করেন এবং পরীক্ষা সহজ করে দিয়ে তাঁদের জন্য সর্বোত্তম ফয়সালা দান করেন।

লেখক : আমীরাত প্রবাসী
lokmanelectronics@gmail.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MohammadLokman
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
London থেকে Md abu sufian mia লিখেছেন, ১৪ নভেম্বর ২০১১; রাত ১২:০০
After long time i got your article . Many many thanks brother. Please write every week .
71631
জিদ্দা,সৌদি আরব থেকে রুহুল কাদের লিখেছেন, ১৪ নভেম্বর ২০১১; বিকেল ০৪:৪৯
সালাম ভাই, অত্যন্ত ভাল লিখেছেন আমরা এই ফ্যসিষ্ট এবং ধরমদ্রোহী আওয়ামী সরকারের শেষ পরিণতী দেখার অপেখক্ষায় আছি । ধন্যবাদ......................।
71686
চট্টগ্রাম থেকে রমজান আলী লিখেছেন, ১৭ নভেম্বর ২০১১; দুপুর ০২:১৮
লেখাটি ভাল লাগলো। চালিয়ে যান।
71840
দুবাই, ইউ এ ই থেকে মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন লিখেছেন, ১৯ নভেম্বর ২০১১; সকাল ১১:৪৫
৯০ দশকে আমি তখন উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। ঐতিহাসিক তফসিরুল কোরআন মাহফিল এ সাঈদী সাহেবের ওয়াজ শুনার জন্য গ্রাম থেকে শহরে চলে আসতাম। সাঈদী সাহেবের ওয়াজ শুনে আবারও গভীর রাতে বাড়ী ফিরতাম। আসা-যাওয়ার পথে অনেক বাধার সম্মুখিন হয়েছিলাম...........

আমাদের এলাকায় সবাই সুন্নী মতাদর্শী ও মাজার পন্থী। তারা সবাই মাজারকে বেশী শ্রদ্ধা করে থাকে। আর সাঈদী সাহেব সবসময় মাজারে শিরক না করার জন্য অনুরোধ করতেন। যার কারনে আমাদের এলাকায় সাঈদী সাহেবের ভক্ত কম। তারপরেও অনেকে গোপনে সাঈদী সাহেবের ওয়াজ শুনে কাঁদতে থাকে।

আজ সাঈদী সাহেব বাকশালী সরকারের হাতে বন্দী। জেলের ভিতরে বন্দি করে সাঈদী সাহেবের মেধাকে নষ্ট করার জন্য চেষ্টা করছে। ওনার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ট্রাইবুনাল গঠন করে বিচার করছে। আর সাঈদী সাহেবের লক্ষ লক্ষ ভক্ত সেই বিচারের ফলাফল কি হয় দেখার অপেক্ষা করছে।

হে আল্লাহ! তুমি নিরপরাধ সাঈদী সাহেবকে মুক্ত করে দাও।
71905
ইউ, এ, ই থেকে জুমানা লিখেছেন, ১৯ নভেম্বর ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:৩৬
ভালো লাগল, ধন্যবাদ।
71921
malayasia থেকে md.shamsul islam 00660162524191 লিখেছেন, ১৯ নভেম্বর ২০১১; রাত ০৮:৩৭
লেখাটি ভাল লাগলো। চালিয়ে যান
71938
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy