বাংলাদেশের বর্তমান শাসক আওয়ামীগোষ্ঠীর কার্যকলাপে জনগণের মনে আবার শংকা জেগেছে, তাহলে কি সেই ঘৃণ্য বাকশাল আবার ফিরে আসছে? ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলটির কিছু নেতা বলে আসছেন তারা এখনো বাকশালের আদর্শে (?) বিশ্বাস করেন। তারা মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের পাতানো নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে মুখে জনগণের ম্যান্ডেটের বুলি আওড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের ব্যর্থতা হলো তারা জনগণের সামনে আওয়ামী – মইনউদ্দিন গংদের চক্রান্তকে ফলপ্রসূভাবে তুলে ধরতে পারেননি। বিরোধীদলীয় নেত্রী সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বসেছিলেন, হয়তঃ ১/১১ এর কারণে আওয়ামী চরিত্রের মৌলিক কিছু পরিবর্তন আসবে। অনেকটা নিয়মতান্ত্রিক গণতন্ত্রের আশাবাদ। সুধী মহলও বাহবা দিয়েছিলেন দেশে সত্যিকার অর্থেই বুঝি পরিবর্তন আসছে। বাংলাদেশের প্রচলিত সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে এসে রীতিমত সংসদে যাচ্ছিল বিরোধীদল। হয়তো বিষয়টি সরকার প্রধানের কাছে ভাল ঠেকেনি। নিজেসহ দলের হাইব্রীডারদের লেলিয়ে দেয় জিয়া পরিবারকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করার জন্য। “কবরে জিয়ার লাশ আছে কিনা? জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন কিনা? মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়া এটাকিং মুডে ছিলেন না, বিরোধীদলীয় নেত্রীর চরিত্রের উপর মিথ্যারোপ, তারেক জিয়ার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্বার” ইত্যাদি, ইত্যাদি।
কারণ শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ যে সংসদে আসত না, সেখানে পাতানো নির্বাচনে পরাজিত হয়েও বি,এন,পি সংসদে আসছে। নৈতিকভাবে আওয়ামীলীগের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা রীতিমত গাত্রদাহে পরিণত হয়েছিল সরকার প্রধানের। আর অশ্লীল বাক্য ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত সরকার প্রধান খোদ সংসদে দাড়িয়েই শুরু করলেন তার চর্চা। আর ঠেকায় কে, অমনি ঝাঁপিয়ে পড়ল সন্ত্রাসী কাম রাজনীতিবিদ কিছু আওয়ামী সংসদ সদস্য। বাধ্য হয়েই বি,এন,পি ওয়াক আউট করল। তারপরও থেমে থাকেনি ব্যক্তিগত নোংরা আক্রমণ। সংসদ যেন পরিণত হলো মৃত মানুষ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আর নোংরা বাক্যালপের স্থান। খোদ সরকার দলীয় স্পিকার আওয়ামী সংসদ সদস্যদের আচরণের কারণে সংসদকে “মাছের বাজার” বলে অভিহিত করেছেন।
আওয়ামী সরকার তার প্রথম লক্ষ্য অর্জন করলো, বিরোধীদলকে সংসদের বাইরে ঠেলে দিয়ে। এবার আসল গন্তব্যের দিকে যাত্রা। জনগণ নাকি তাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে সংবিধান পরিবর্তনের জন্য। স্বঘোষিত আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন গংদের পাতানো নির্বাচন, সিইসি’র পূর্বঘোষিত ৭০’ এর মত নির্বাচন। আর দাবি করা হলো জনগণের ম্যান্ডেট। গোয়েবলসের থিউরীর সফল বাস্তবায়নে আওয়ামীলীগাররা যে কতটা সিদ্ধহস্ত বিরোধীদলীয় নেত্রী হয়ত ঠিক ঠাহর করতে পারেননি আগে।
বিএনপি আন্দোলনে কতটা দুর্বল তা শেখ হাসিনার চেয়ে ভাল আর কেউ জানে বলে মনে হয়না। তাই সংবিধান পরিবর্তন করে বাকশালের দিকে যাত্রা আর ভারতে সাথে নির্বাচনী গোপন ওয়াদা রক্ষার পথে প্রধান বাধা হলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। ভারতীয় বুদ্ধিজীবিদের লেখনীতে জোর তাগিদ ছিল জামায়াতকে দমনের। ফরমূলা খুব পরিষ্কার। বায়ুবীয় চেতনা আবিষ্কার করে তার সাথে “মুক্তিযুদ্ধ” শব্দটি জুড়ে দাও। মামলা খালাস। তৈরী হয়ে গেল “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা”। এবার এই বায়ুবীয় বটিকার বহুল বাজারজাতকরণের জন্য ‘ব্যাক-আপড বাই র এন্ড মোসাদ’ ধামাধরা আওয়ামী মিডিয়াতো রয়েছেই। তারই ভিত্তিতে কথিত “যুদ্ধাপরাধ আর যুদ্ধাপরাধের বিচার”। বিচারের জন্য তৈরী করা হলো নিখিল আওয়ামী “আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল”। কথায় আছে না “কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন”। শুধু মাত্র দলীয়, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষায় “চাটারদল” কিছু উকিল মুক্তার নিয়ে ট্রাইবুনাল, আন্তর্জাতিক তো দূরে থাক গ্রহণযোগ্যতার খাতিরে দেশীয় স্বনামধন্য নিরপেক্ষ আইনী ব্যক্তিত্বদেরকেও উপেক্ষা করা হয়েছে, আর নাম দিয়েছে “আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল”। ভাগ্যিস বেঁচে নেই। তা না হলে বেচারা “গোয়েবলস”কেও লজ্জায় পড়তে হতো এই মিথ্যার বেসারতি দেখে।
সেই বায়ুবীয় চেতনা আর কথিত যুদ্ধাপরাধ। জামায়াতকে ঘায়েল করা শেষ। গ্রেফতার করা হলো জামায়াতের শীর্ষ নেতাদেরকে। এখানেও কম ভন্ডামীর আশ্রয় নেয়া হয়নি। ভন্ড কবর পূজারীদেরকে দিয়ে মিথ্যা মামলা দেয়া হলো “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” এর। (সংবিধান থেকে “মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেবার পরেও ওই ভন্ডদের ধর্মীয় অনুভূতি কিন্তু ষোল আনাই অক্ষত আছে !)। তার পরে দেখানো হলো কথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার সহ আর বহু বানোয়াট মামলায় গ্রেফতার।
প্রসঙ্গত উল্লেখ জরুরিঃ যুদ্ধাপরাধ বিষয়টি শুধুই সেনাবাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটা বেসামরিক ব্যক্তিদের বেলায় প্রযোজ্য নয়। সে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে মার্কিন মূল্লুক থেকে ফিরে এসে মহামান্য আইন মন্ত্রী বলতে লাগলেন, যুদ্ধাপরাধ নয়, বিচার হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের। বিদেশে ডাহা মিথ্যাচার করে এলেন সরকার প্রধান (আগেই বলেছি তিনি এ ব্যপারে বড়ই সিদ্ধহস্ত), বিচার হবে রোম ঘোষণা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মান বজায়া রাখা হবে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। প্রশ্ন হলোঃ ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী সেনাকর্মকর্তাকে ছেড়ে দিয়ে ছিলেন তৎকালীন সরকার। সেটা কি জন্যে? আর ১৯৫ জন সেনাকর্মকর্তাকে ছেড়ে দেবার বদৌলতে ভারত পাকিস্তানের কাছ থেকে কি সুবিধা আদায় করেছিল? আর এখন কোন সুবিধার আশায় যুদ্ধাপরাধের ধূয়া তুলা হচ্ছে, জাতি তা জানতে চায়।
জামায়াতকে দুর্বল করতে পারলে রাস্তায় বিরোধীদের আন্দোলন জোর পাবেনা, ভারতীয় বুদ্ধিজীবিদের ফর্মূলা। আর সাথে আমাদের দেশের কিছু পরগাছা বুদ্ধির ঢেঁকি তো রয়েছেই। দুই ছেলে নির্যাতিত অতঃপর নির্বাসিত, বিরোধীনেত্রী তো দুর্বল হয়েই আছেন, আর বি,ডি,আর ট্রাজিডির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের তো ম্যাসেজ দেয়াই আছে, এই হলো তাদের ছক। এবার ডিজিটাল - বাকশাল বলেন, পরম বন্ধুরাষ্ট্রকে ট্রানজিট / করিডোর / কানিক্টিভিটি / ইজারা প্রদান যা ই বলেন, রুখবে তাদের কে?
সংস্কারের ফেঁনা তুলা বাবুজিকে কো-চেয়ারম্যান করে সং – বি – ধা – ন সংশোধনী কমিটি, হররোজ সাংবাদিক সকাশে কিতাবী বহিঃপ্রকাশ, বাবুজির কত রংগে – ঢংগে উপস্থাপন, কত (সু)শীল মহল, নাম সর্বস্বঃ রাজনৈতিক দল, নৌকার নতুন মাঝি-মাল্লা বাম নেতারা (পাতানো নির্বাচনের পূর্বে যারা কখনোই নির্বাচনী জামানত ফিরে পায়নি) ইত্যাকার শ্রেণীর সাথে আলোচনার বন্যা। তত্ত্বাবধায়ক থাকছে, ’৭২ এর সংবিধান ফিরছে, বায়ুবীয় চেতনা সহকারে আরো কতকি। আত্মপ্রবঞ্চনার একটা প্রকৃষ্ট উদাহারণ হলো এই কো-চেয়ারম্যান বাবুজি, যিনি ’৭২ এর সংবিধানে ফেরত যেতে মরিয়া, অথচ এই ভদ্রলোক ’৭২ এর সংবিধানে স্বাক্ষরই করেননি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ত্রাণ ভোগী বিচারপতির রায়ের ভগ্নাংশের দোহাই দিয়ে দ্বিতীয় মুলাকাতে মহাজোটের মহানেত্রী জানিয়ে দিলেন “মহামান্য আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর রাখা যাচ্ছে না”। আদালতের কী নজীর বিহীন পায়রুবীর নমূনাই না জনগণ দেখলেন। আদালত মান্য করার সেই দৃষ্টান্তও কিন্তু জনগণের মনে আছে। অই যে ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা’ গীত গেয়ে আদালতের সামনে ময়লা আবর্জানা ফেলে (শুনেছি মেথরদের সাথে নাকি জগরা করলে তারা বাসার সামনে ময়লা ফেলে দিয়ে যায়), আলাদতের আর বিচারপতিদের বিরোদ্ধে লাঠি মিছিল।
প্রসংগত উল্লেখ জরুরীঃ আদালতের কাজ হলো আইনের ব্যাখ্যা প্রদান, বিচার কার্য পরিচালনা করা ইত্যাদি। আইন প্রণয়ন এবং সংবিধান সংশোধন ইত্যাদি সার্বভৌম সংসদের কাজ। সংবিধান সংশোধনীর ব্যাপারে ভূমিকা রাখা, দিক নির্দেশনা দেয়া ইত্যাদি আদালতের ইখতিয়ারে মধ্যে পড়ে কিনা সেটাই প্রশ্ন সাপেক্ষ্য বিষয়। আর সেই আদালতের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল, যার জন্যেই কিনা এক সময় এই আদালত মান্যকারী প্রধানমন্ত্রীর (ততকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী) নেতৃত্বে শ’খানেক হরতাল, ভাংচুর আর বহুলোকের প্রাণহানি হয়েছিল। সত্যিই সেলুকাস!
বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুককে ছাত্রলীগ ক্যাডার কাম পুলিশে যোগদানকারী কর্মকর্তাদের দিয়ে পিটিয়ে সরকারের আস্ফালন আর দেখে কে। তাও কিনা আজকের প্রধানমন্ত্রীকে ৬ বছর আশ্রয় দিয়ে লালন-পালনকারী রাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রীজী ঢাকা সফর করছেন যখন ট্রানজিট আর বন্দর চুক্তির ঘাটছড়া পাকাপোক্ত করার জন্য। জনগণ জানেন, এই জয়নাল আবদিন ফারুক হলেন সরকারের ভারত তোষণনীতির সবচেয়ে বড় প্রতিবাদকারী। সফরকারী বিদেশমন্ত্রীজী নিশ্চয়ই এই ব্যপারে বিলকুল ওয়াকিবহাল। কারণ তার আগে যিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী ছিলেন সেই প্রণব মূখার্জী (ভারতের বর্তমান অর্থমন্ত্রী, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে “কাকা বাবু” বলে ডাকেন এবং বি, ডি, আর বিদ্রোহের সময় যার কাছে প্রধানমন্ত্রী সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে) তিনি নিশ্চয়ই সকল তথ্য তার উত্তরসূরির কাছে প্রদান করেছেন। সচেতনমহল মনে করছেন, হয়তো প্রত্যক্ষ নিশ্চয়তা আর উজার করে দেবার এক প্রকার গ্যারান্টি প্রদান করার জন্যেই জয়নাল আবদিন ফারুকের উপর এই আক্রমণ। আর প্রতিউত্তরে বিদেশমন্ত্রীজীও সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন হাসিনা সরকার কে। (দ্রষ্টব্যঃ “হরতালের ঢাকায় নেমে সমস্যায় জেরবার হাসিনাকে আশ্বাস কৃষ্ণের” আনন্দবাজার পত্রিকা, সংখ্যাঃ ৭ জুলাই, ২০১১)।
ভারতের সাথে চুক্তি করা হলো, কিন্তু জনসাধারণ্যে তো দূরে থাক সংসদেও তা পেশ করা হলো না, উল্টু পঞ্চদশ সংশোধনী দিয়ে আগের বিধান রহিত করা হলো আর নতুন সংশোধনী মতে, চুক্তি প্রকাশ করা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। প্রশ্ন হলোঃ কি সেই চুক্তি যা প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংবিধানের বিধি পরিবর্তন করতে হলো? আর চুক্তি হয়েছে ২০১০ সালে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়। আর ষড়যন্ত্রের সংবিধান সংশোধনী পাশ হয়েছে ২০১১ সালের জুন মাসে। আইন অনুযায়ী, নতুন আইন দিয়ে পুরাতন বিষয়ের বিচার করা যায় না, তাহলে আইন – আদালত মান্যকারী প্রধানমন্ত্রী পুরাতন চুক্তি, নতুন সংশোধনী বলে কিভাবে সংসদে উপস্থাপন করা থেকে বিরত থাকবেন?
একদিকে সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলছে ফেলানীদের লাশ, অপর দিকে সিলেটের জৈন্তাপুরে মীমাংসিত সীমানা নতুন জরিপের নামে বাংলাদেশের ভূমি ভারতের হাতে তুলে দেয়ার পায়তারা চলছে। খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ ওই ভূমি জরিপের নামে ভারতের হাতে তুলে দিতে চাইছে কেন এই আওয়ামী সরকার??
ভারতের কাছে থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে, সেই টাকায় আবার ভারতীয় কোম্পানিকে দিয়ে রাস্তা বানিয়ে, ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার চক্রান্ত চলছে। আর বিনিময়ে ট্রানজিট ফি নিলে আমরা “অসভ্য জাতি” হয়ে যাব এই তত্ত্ব শোনাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুসভ্য (?)উপদেষ্টা। আওয়ামী সরকারের ভারত প্রীতি দেখে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটি প্রসংগক্রমে মনে পড়ে যাচ্ছেঃ “ দ্য গভার্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল এন্ড ফর দ্য পিপল”। কোন দূর্মুখ হয়তো এই প্রসংগে বলে বসবেঃ “দ্য গভার্নমেন্ট অব দ্য ইন্ডিয়া, বাই দ্য ইন্ডিয়া এন্ড ফর দ্য ইন্ডিয়া”।
শিরোনামটি এই জন্যেই ‘আওয়ামী ঔপনিবেশের কবলে বাংলাদেশ’। কেউ দয়া করে সঠিক সংখ্যাটি কি জানাবেন, এই সরকারের কতজন মন্ত্রী আর উপদেষ্টা “বিদেশী পাসপোর্টধারী”???
দেশের প্রতি তাদের কতটা টান তা তো দেশবাসী দেখতেই পাচ্ছেন। সংসদে আবার গলা ফাটিয়ে বলা হয় “আওয়ামীলীগের চেয়ে দেশপ্রেমী কে আছে, আমার চেয়ে বড় দেশপ্রেমী আর কে আছে আমি তো দেখি না” ইত্যাদি, ইত্যাদি। আমাদের দেশীয় প্রবাদে আছে “চোরের মায়ের বড় গলা, ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না। ওই দশা আর কি।
এখন জনগণের কাছে এই বিষয়গুলো খুবই পরিষ্কার, কেন জিয়া পরিবারের বিরোদ্ধে কুতসা আর বিষেদাগার, কেন সুপরিকল্পিতভাব বিরোধীদলকে সংসদের বাইরে ঠেলে দেয়া হলো, কেন যুদ্ধাপরাধের ধুয়া তুলে জামায়াত নেতাদেরকে গ্রেফতার করা হলো (সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেদেশের পত্রিকা সম্পাদকদের সাথে আলোচনায় বিষয়টি আরো পরিষ্কার করে দিলেন)।
তারো আগে কেনই বা বি,ডি,আর কে ধবংস করে দিয়ে সীমান্ত আর সেনাবাহীনিকে দুর্বল করে দেয়া হলো। মিশন পরিষ্কারঃ বাকশাল টাইপের ডিজিটাল কায়েম করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা, ভারতকে সুবিধা দিয়ে দেশকে তাদের আশ্রিত রাষ্ট্র বানিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করে রাখার ধান্ধা।
এখন নতুন সেনা অফিসারদেরকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বদলে ভারতের সেনাপ্রধান কে স্যালুট প্রদান করিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।
আর এই সামগ্রিক মিশনের পথে কাঁটা হলো জাতীয়তাবাদী আর ইসলামীমূল্যবোধের দেশপ্রমিক জনতা। তাইতো তাদের কে নিঃচিহ্ন করে দেবার মহারণ প্রস্তুতি। দরিদ্র এই দেশের পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে আরো ৩২ হাজার ছাত্রলীগ আর দলীয় ক্যাডার। দেশকে পুলিশীরাষ্ট্র বানানোর পায়তারা।
কিন্তু মনে রাখা উচিত, এদেশের জনগণ প্রবল প্রতাপশালী পাক-সেনাদেরকে হটিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। এই নতুন প্রজন্ম সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরই উত্তরসূরী। তাদের পূর্বসূরীরা যেমন বুকের জমিনের তাজা খুন ঢেলে দিয়ে মাটির জমিন রক্ষা করেছিল, প্রয়োজন হলে সেই স্বাধীনতা আর জমিন রক্ষার জন্য তারাও পিছ পা হবে না। সিলেটের জৈন্তাপুরের বীর জনতা তার প্রমাণ।
বাদাঘাট,তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ । থেকে আবুল হোসেন লিখেছেন,
১২ জুলাই ২০১১; রাত ১১:০৩
লেখক সময়োপযোগী চমত্কার একটি কলাম লিখেছেন । আওয়ামীলীগের বহুরুপী চরিত্র আস্তে আস্তে নতুন প্রজন্মের কাছে উন্মোচিত হচ্ছে । সেদিন হয়ত বেশি দূরে নয় যেদিন এদেশের জনগণই তাদের (আওয়ামীলীগের) প্রতিটি কর্মের হিসাব কড়াই-গন্ডায় বুঝে নিব । আর সেদিনটিও বেশি দূরে নয় ।
62681
২
বাংলাদেশ থেকে বোকালোক লিখেছেন,
১৫ জুলাই ২০১১; বিকেল ০৫:৪১
লেখাটা শেষ করেছেন এইভাবে:
"কিন্তু মনে রাখা উচিত, এদেশের জনগণ প্রবল প্রতাপশালী পাক-সেনাদেরকে হটিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। এই নতুন প্রজন্ম সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরই উত্তরসূরী। তাদের পূর্বসূরীরা যেমন বুকের জমিনের তাজা খুন ঢেলে দিয়ে মাটির জমিন রক্ষা করেছিল, প্রয়োজন হলে সেই স্বাধীনতা আর জমিন রক্ষার জন্য তারাও পিছ পা হবে না। সিলেটের জৈন্তাপুরের বীর জনতা তার প্রমাণ।"
আমার কাছে মনে হয়েছে কথাগুলো আবেগময়; বাস্তবতা থেকে দুরে!! যদি সেটা সত্যি হতো, তাহলে আমাদের চেয়ে আরো উন্নত জাতিসত্তা (চেচেন, উলফা, কাশ্মীর জনতা, উঘুইর, মরো ন্যাশনাল লিবারেশান ফ্রন্ট ইত্যাদি) আরো আগেই সম্মানজনক স্বাধীনতা অর্জন করতো।
আর সিলেটের জৈন্তাপুরের ইতিহাস: সেটা একটা ইতিহাস ই বটে। সেই বীরদের কোন সম্মান নেই; সেই গাঁথা কোন 'সঠিক' ইতিহাসের বা পাঠ্যপুস্তকের অংশ নয়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই সেটা ভুলে যেতে চায়!
শুধু কি তাই? আমরা জনাব ভাষাণীর বীর গাঁথা, জনাব কাদের সিদ্দিকীর বীর গাঁথা, জনাব আতাউল গনি ওসমানীর (এবং আরো অনেকের) বীর গাঁথা সমুহ, 'সঠিক' ইতিহাসের অংশ মনে করিনা।
বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানতে আগ্রহী না কেন আমরা বার বার স্বাধীন ও পরাধীন হই! এই প্রজন্মের কাছে গনতন্ত্র ও স্বাধীনতার সংজ্ঞাটাও বিকৃত!
এই প্রজন্ম মিথ্যা বলার জন্য, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য, বিনা বিচারে নিরীহ লোকদের বন্দী/নির্যাতন করার জন্য লজ্জা অনুভব করেনা।
এই প্রজন্ম জানতে চায়না এককালে এই বাংলার একসময়ের শাসক লক্ষণসেন তাঁর প্রাসাদের জানালা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন শুধু এইটুকুই শুনে যে ইখতিয়ার উদ্দিন খিলজী নামক এক ব্যক্তি প্রাসাদ আক্রমন করতে আসছেন যাঁর হাত জানু পর্যন্ত লম্বা। আক্রমনকারীর সাথে যে মাত্র তেরোজন সহযোগী আছেন এবং যাদেরকে পরাজিত করা যেতে পারে, লক্ষণসেন সেটা ভেবেও দেখেননি!! কী বীরত্ব!
আর মইন-ফখর উদ্দিনরা শুধু এই কারনে অন্যায় ভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন যে তা নাহলে জাতিসংঘের ভাড়াটে সৈন্যের ব্যবসাটা বন্ধ হয়ে যাবে।
আপনি হয়তো জিজ্ঞাসা করবেন কি করা উচিৎ। আমার উত্তরঃ জানিনা! হয়তো হতে পারে-- আরো দুটো প্রজন্ম অপেক্ষা করা অথবা হতে পারে অধিক সংখ্যক অভিবাসন দ্বারা এই জাতিসত্তাকে একটা সংকর (hybrid) জাতিসত্তায় রূপান্তর করা।
জানিনা সৃষ্টিকর্তা (কেউ কেউ আজ যেটাকে বিবর্তন বা প্রকৃতি জননী বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন) আমাদের জন্য কি ভবিষ্যত রেখেছেন।
একটা আশা করা যেতে পারতো যদি আমাদের আমলাতন্ত্রটা একটা মেধাবী, জ্ঞানী ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন জনসম্পদ দ্বারা চালিত হতো (যেমন হচ্ছে সিংগাপুর বা জাপান বা ইসরায়েল)।
ভাল থাকবেন।
62933
৩
রিয়াদ থেকে মুনির লিখেছেন,
১৮ জুলাই ২০১১; রাত ১১:০৬
বুজলাম কিনতু বি এণ পি ঠেকে কি আশা করটে পারি। জখন টেরানজিট চালু হল টখন হরটাল দিল না। এরা খমতায় এলে টারেক কোকো কে ইনডিআ আমনটরন করবে । সুটকেস ভরটি গিফট নিএ সব ভুলে জাবে।
63247
৪
জয়ধরপাড়া থেকে কল্লোল লিখেছেন,
২১ জুলাই ২০১১; রাত ০২:৩০
মীরজাফরকে মানুষ কি তীব্রভাবেই না ঘৃনা করে।
জেনেও কেন, কেন, কেন তিনি কেন ইতিহাসে মীরজাফরের চাইতেও বড় বেঈমান হিসাবে চিহ্নিত হবার ঝুঁকি নেন? কেন?
প্রধানমন্ত্রী কি বন্দি? তার বাসার চাকর-বাকরের ছদ্মবেশে ভারতীয় এজেন্টরা তাকে বন্দি করে রেখেছে? তাদের এসব আদেশ-নির্দেশ মানতে প্রধানমন্ত্রী বাধ্য?
63492
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: