প্রাগ-ঐতিহাসিক কাল থেকে এখন পর্যন্ত সকল মানব প্রচেষ্টাই সভ্যতা। সমাজ বির্ব্তনের এমন এক পর্যায়ে এসে বিদ্যুৎ আবিষ্কৃত হল যখন তার অপেক্ষায় সভ্যতার গতি থমকে ছিল । বিদ্যুতই এসে সভ্যতার চাকাকে সচল করে। শুরু হয়ে গেলো সভ্যতার বিকাশ। পরিব্র্তন ঘটল মনুষ্য ব্যবহৃত সবকিছুতে। সভ্য হল মানুষ। বিজ্ঞানে ,চিকিৎসায়, যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিতে, শিল্পে এবং কৃষিতে এল নতুন সংযোজন । দ্রুত অসাধ্য মানুষের আয়ত্তে এল । আজ সেই বিদ্যুতের অভাবে শুধু জন-জীবন অতীষ্ট নয় ।
সভ্যতার উপর ও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে । বহু দিনের সাধনায় যে সভ্যতার ভিত গড়ে উঠেছিল , সেই সভ্যতা আজ অস্থিত্ব টিকে রখার সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে । খাদ্যের সন্ধানে মানুষ সর্বপ্রথম যে সভ্যতার উন্মেষ ঘটেয়েছিল তা কৃষি। প্রস্তর ফলক দিয়ে মাটি র্কষণ করে অবৈজ্ঞানিকভাবে বীজ বপন করে তাতে যে ফসল ফলাত, তা চাহিদা পুরনে পর্যাপ্ত ছিল না ফলে ঘন ঘন দুর্ভিক্ষ দেখা দিত । কয়েক দশক আগেও কোন কারনে কৃষির উৎপাদন ব্যাহত হয়ে দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মরেছে।বিজ্ঞানের এ যগে কৃষিতে ব্যাপক অগ্র গতি হয়েছে ফলে দর্ভিক্ষের ভয়ানক থাবা থেকে মানুষ রক্ষা পেয়েছে।কিন্তু বিদ্যুতের এমন সংকট অব্যাহত ভাবে চলতে থাকলে হয়ত তার ব্যত্যয় ঘটবে না।শিল্প বিপ্লবের পর থেকে কল-কারকানার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে, ফলে মানুষ আরও সভ্য হয়েছে। যদিও বা শিল্প বিল্পব ইউরোপীয় দেশ গুলোতে সংঘটিত হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির সিংহ ভাগই শিল্প নির্ভর হয়েছে। বাংলাদেশের শহর গুলোতে আনাচে কানাচে অসংখ্য কল কারখানা গড়ে উঠেছে, আর এখান থেকে প্রতি বছর দেশীয় চাহিদা পুরিয়ে বিপুল হারে বৈদিশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু সেই শিল্পের গতির চাকা হঠাৎ যেন নিশ্চল হবার উপক্রম । আর এর জন্য দায়ী বিদ্যুৎ স্বল্পতা।
বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৫হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদিত হচ্ছে।বর্তমানে সেচ মৌসুমে শুধু গ্রামঞ্চলেই বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে আড়াই হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু সে খানে মাত্র ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।সেচের জন্য গ্রামে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে শহরে লোডশেডিং বাড়ানো হয়েছে।রাজধানীর অনেক এলাকায় এখন দিনে ১০ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।বিদ্যুৎ কখন যায় এটা না বলে মানুষ এখন অপেক্ষায় থাকে বিদ্যুৎ কখন আসে। কারন দু- তিন ঘন্টা পর কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এসে আবার চলে যায়।সরকার সেচকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে ঢাকা থেকে রাতে অতিরিক্ত ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রামঞ্চলে সরবরাহ শুরু করেছে ফলে সেচের জন্য সরবরাহ কিছু টা বাড়বে।তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির(পবিস) সূত্রে জানা যায় এ বছর সেচের জন্য সর্বোচ্চ চাহিদা হচ্ছে ১হাজার ৮০০ মেগাওয়াট । এত দিন দেওয়া হয়েছিল ১০০০ মেগাওয়াট ফলে ২০০ মেগাওয়াট বাড়লেও সেচ সংকট কাটবেনা।ধার কর্জ কওে বহু আশা নিয়ে কৃষকেরা ধান বুনেছেন, কিন্ত পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় ধান গাছ পুষ্ট হচ্ছে না। বিশেষ করে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় পানি না পেলে উৎপাদন দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।ফলে যে ঋণ নিয়ে কৃষকেরা ধান বুনেছেন তা তারা পরিশোধ করতে পারবে না। জমিতে উৎপন্ন ধান বিক্্ির করে যে ঋণ শোধ করার কথা সেই ঋণ শোধ করতে হবে জমি বিক্্ির করে।অনেকেই বলছে ধান চাষের ঝুঁকিতে না গিয়ে শুধু চারা বিক্্ির করে দিলেও লাভ হত।উচু দামে চারা কিনে যদি পানির অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয়, তবে কৃষকের মরা ছাড়া উপায়ান্তর থাকে না। অনেক স্থানে পানির সিরিয়াল নিয়ে মারা মারি করে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কারণ পানির জন্য তীর্থের কাকের মত প্রতিক্ষার পর বিদ্যুৎ আসলে সবাই আগে নিতে চায়। না পারলে মারা মারি লাগাটা অস্বাভাবিক কিছু না। কেননা ক্ষেত ফসলের অবস্থা দেখে কৃষকের মাথায় বাজ পড়েছে।আবাদী জমি ফেটে চৌচির হয়ে ফেটে গিয়েছে।পানির অভাবে ধানের চারার সঠিক পরিচর্যা করা যাচ্ছে না। এমন কি পানি নিয়ে সৃষ্ট সংঘাতে কোথাও কোথাও ভাই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করেছে।
দরিদ্র নিরীহ কৃষকেরা আজ পানির জন্য মারমুখী হয়েছেন। তারা সম্মিলিত হয়ে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, ভাছচুর এবং পথ অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষেত ফসলকে কৃষকেরা নিজ সন্তানের মত ভালবাসে অথচ শুধু পানির অভাবে ধবংশের দিকে যেতে দেখে কি ভাবে তারা শান্ত থাকতে পারে ? এদিকে যেমন বিদ্যুৎ সংকট অন্যদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ১ ঘন্টায় যে পরিমান পানি তোলা যেত তা তিন ঘন্টায় ও তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এর উপর বিদ্যুৎ থাকছে না।আবার বিদ্যুৎ আসলেও ভোল্টেজ ওঠা-নামা করে। ফলে অনেকের সেচ পাম্প বিকল হয়ে যাচ্ছে।কৃষকদো অবরোধ ভাংচুর থেকে বিদ্যুৎ অফিসের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু তা হলেও সেচে পানি সরবরাহ প্রায় অনিশ্চিত। বোরো ধান বলতে শত ভাগ সেচ নির্ভর । বোরো ধানের উৎপাদনের উপরেই খাদ্য-স্বয়ংসম্পূর্ণতা বেশি নির্ভরশীল।প্রতি বছর বোরো ধানের আওতায় জমির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে । যদিও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের মত সুফল পাচ্ছে না কৃষকেরা তার পরও বোরোই সুনীল স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু জমিতে ঠিকমত সেচ না দিতে পারলে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা কখনোই অর্জিত হবেনা। ফলে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হবে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা সহ দেশের অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলের কারানা গুলোতে উৎপাদন অর্ধেক নেমে এসেছে। ফলে মালিক পক্ষ যথা সময়ে শ্রমিক কর্মচারীদেও বেতন দিতে পারছেনা। বাধ্য হয়ে শিল্প মালিকেরা শ্রমিক ছাটাই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৪৫০০ কারখানার মধ্যে ১৫০০ শিল্প কার খানার বিদ্যুৎ সংকটের কারনে ১ লাখ শ্রমিক ছাটাই করেছে।অর্ধহারে- অনাহারে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের মধ্যে দিন দিন ক্ষেভ বাড়ছে। ফলে তারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে পারে। এ সুযোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত অপশক্তি চক্র তাদেরকে নানা ভাবে উস্কে দিয়ে জ্বালাও, পোড়াও, ভাংচুর সহ বিভিন্ন নাশকতা মূলক কর্ম কান্ডে সমপৃক্ত করার চেষ্টা চালাতে পারে।গ্রামের দরিদ্র পরিবারে ছেলে মেয়েরা জীবিকা উপার্জনের সর্বশেষ উপায় হিসেবে শিল্প কারখানা বুঝত , কিন্তু বিদ্যুৎ সংকট সহ নানা প্রতিকূলতার কারনে যে হাওে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাতে তাদেও আর ঠাই মিলবে না।ফলে দারিদ্র আর ও চেপে বসবে।বৈদিশিক মুদ্রা অর্জনকারী শ্রেষ্ট এ পথ টি যদি বন্ধ হয়ে যায় তার পরিনাম সকল কে বহন করতে হবে। সুতরাং সরকারের উচিৎ এই দুর্যোগময় সময়ে ঘোষিত প্রনেদনা প্যাকেজ বাস্তাবায়ন করে শিল্প কে বাচান। বিদ্যুৎ সংকটের কারনে ঠিকমত বিনিয়োগ হচ্ছে না ফলে অর্থনীতিতে মন্দা বাড়ার আশংঙ্কা করা হচ্ছে। গভীর রাতে লোডশেডিং হচ্ছে।বিদ্যুৎ না থাকায় সাম্প্রতিক প্রচন্ড গরমে অনেক পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ব্যাংক ঋণ নিয়ে যারা ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন করেছেন তারা গভীর চিন্তায় পড়েছেন। বর্তমানে গ্রাহকদেও বিদ্যুৎ দেয়া যাচ্ছেনা ফলে নতুন করে সংয়োগ দেয়া হচ্ছেনা। পুরনো পাম্প গুলো পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। নতুন কোল্ড স্টোরেজ নির্মানের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে এবার আলুর বাম্পার ফলন হলেও অধিকাংশ আলু চাষী আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।যদিও বা নির্বাচনী অংগীকার ছিলনা তবুও জরুরি ঘাটটি মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের প্রথম পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ হিসেবে মোট ৫৩০ মোগাওয়াট ক্ষমতার আটটি ভাড়া ভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতা গ্রহনের নয় মাস পর। সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে দ্রুত বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য ডিজেল এবং ফার্নেস তেল দ্বারা চালিত করার পরিকল্পনা করা হলেও এই মৌসুমে এক ইউনিট বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না । তাছাড়া ডিজেল ফার্নেস তেল ও কয়লা আমদানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের খরচ অত্যাধিক বাড়ার আশংকা প্রকাশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।ডিজেল ও ফ ার্নেস তেল চালিত বিদ্যুতের দামও অত্যাধিক। ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের উপর চাপ পড়বে।আমদনিকৃত কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা আমদানি, মজুদ ও পরিবহনের যে বিশাল অবকাঠামো দরকার তা দেশে নেই। নতুন করে তা করা বিপুল খরচ সাপেক্ষ। সরকার নির্বাচনী ইসতেহারে বলেছিল রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না কওে বরং তিন বছর মেয়াদি ক্রাশ প্রোগামের আওতায় বর্তমানে নির্মানাধীন ও গৃহীত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দ্রুত বাস্তাবায়ন , জরুরি ভিত্তিতে ১০০-১৫০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন প্রকল্প, বৃহৎ ও ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ সহ আওমীলীগ আমলে বে সরকারী খাতে ১০,২০,৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে । এ ছাড়া রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তাবায়ন করা হবে। আগামী তিন বছওে অর্থাৎ ২০১১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫০০০ মেগাওয়টে, ২০১৩ সালের মধ্যে ৭০০০ মেগাওয়াটে, এবং ২০২১ সালের মধ্যে ২০০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। কিন্তু এ পর্যন্তু ক্ষমতায় আসার ১৫ মাসে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে মাত্র ৫৩১ মেগাওয়াট।সর্বশেষ গত ১৪ ফেব্্রয়ারি গ্যাস প্রাপ্তির নিরাপত্তা ছাড়াই প্রধান মন্ত্রী সিদ্ধির গঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্টের একটি ইউনিট উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরের দিনই গ্যাস স্বল্পতার কারনে উৎপাদন ৫০ মেগাওয়াটে নেমেছে। সরকার দরপত্র আহ্বান চুক্তি সহ সব প্রক্রিয়া শেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে বাড়তি এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে নাই। ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড় কেন্দ্র গুল্ োস্থাপনের ব্যাপারে সরকার পরিকল্পনা এগিয়ে থাকলেও বাস্তবায়নে অনেক পিছিয়ে।প্রতি বছরই বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কিন্তু সেই তুলনাই উৎপাদন বাড়ছে না । প্রতি নিয়ত চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় জ্বালানির সংস্থাপন না হলে ঘাটতি পুরন করা অসম্ভব।
সমগ্র ঢাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ করতে যে স্ঞ্চালন ব্যবস্থা দরকার তা নেই। বর্তমানে দেশে সরকারি হিসেবে ৪৭ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের পুরো সুবিধা তারা পাচ্ছেনা। দেশের ৮৫ শতাংশ বিদ্যূত উৎপাদন গ্যাসের উপর নির্ভরশীল কিন্তু গ্যাসের নতুন কোন ক্ষেত্র আবিষ্কার নেই। দেশি বিদেশি মহলের চক্রান্তে গ্যাস॥সেক্টর নাজুক অবস্থায় পতিত হয়েছেু। আবিকৃত খনি থেকে আশানুরুপ গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছেনা। সরকার ফাস্ট ট্রাক কর্মসূচি নামে ২ বছরের মধ্যে অন্তত ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছিল তা এখনো শুরুই করেনি ।গ্যাসের অভাবে শিল্প করখানা সহ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর পরেও চোরেরা কনডেনসেট চুরি করতে পাইপলাইন ছিদ্র করার কারনে গ্যাসের উৎপাদন কমেছে কম পক্ষে আড়াই কোটি ঘন ফুট। জ্বালানি সমস্যা সমাধানের জন্য তরলী কৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি পরিকল্পনার চেয়ে দেশের গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধানের উপর জোর দেয়া উচিত।বিদ্যুৎ সংকটের কারনে পানির ও ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ঢাকা নগরীতে ২২০ কোটি লিটার পানির দরকার ।আর উৎপাদন হচ্ছে ২০০ কোটি লিটার । ফলে ২০ কোটি লিটার পানি লোডশেডিং এর কারনে উৎপাদিত হচ্ছে না।ঢাকাশহ অন্যান্য শহরে পানির জন্য ওয়াশা অফিস ভাংচুর, রাস্তা অবরোধ করছে বিক্ষুব্ধ জনগন । ভারত থেকে চুক্তির মধ্যে পাওয়া ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের কাজ শিগ্রই শুরু হবে ।
সম্প্রতি চিন সফরে প্রধান মন্ত্রী চিনের সহায়তা চান। নেপাল, ভুটানের সাথেও এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য মার্চের প্রথমের দিকে দুটি পর্যায়ে সারা দেশের গ্রাহকদের মধ্যে বিনা মুল্যে দুই কোটি ৬৫ লাখ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাল্ব বিতরন করা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। এতে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হত । বিদ্যুৎ গ্রাহকদেও প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার জন্যে যে আলোচনা চলছে তা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ভাল ফল আনতে পারে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশ বিপর্যয় এড়াতে সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক সহ দেশব্যাপি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের যে আহ্বাহন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভণর জানিয়েছেন তা খুবই ইতিবাচক। বিগত জোট সরকার এবং তত্ত্বাবধয়ক সরকারের সাত বছরের শাসনামলেই যদি বিদ্যুৎ নিঃশেষ হয়েও থাকে, তার দায় বহন করতে হবে বর্তমান সরকারকে ।বিগত সরকারকে দোষারোপ করে লাভ নেই কারন তারা এখন ক্ষমতাই নেই। তাই জনগন আপনাদেরকে যে বিপুল রায়ে জয়ী করেছে, আপনাদের উচিত সকল প্রকার রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে জন স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যাদি সমাধানের উপর নজর দেওয়া।বর্তমানে দেশের মাথা পিছু বিদ্যুৎ ব্যাবহারের পরিমান ১৭২ কিলোওয়াট ঘন্টা। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই পরিমান ৬৬৫ কিলোওয়াট ঘন্টা। প্রতি সরকারই প্রতিশ্রতি দিয়ে এলেও তার ফল শুন্য। বর্তমান বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪ হাজার ৩১০ কোটি টাকা বরাদ্ধের প্রস্তাব রয়েছে এর সুফল যাতে জনগন পায় সে দিকে নজর দিতে হবে। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বঞ্চিত মানুষ যাতে আন্দোলন মুখী না হতে পাওে সে দিকে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। তাদের সাথে সমবেদনা প্রকাশ করতে হবে ।