বিয়ে একটা সামাজিক বন্ধন। ইতিহাস সিদ্ধ এই বন্ধন। প্রথম মানুষ থেকে এই পর্যন্ত মানুষের বিস্তারের মাধ্যম হল বিয়ে অথবা ইয়ে। বিয়ে ছাড়াই
যে বন্ধন তাকে ইয়ে বলা যায়। আগে ছেলে মেয়েকে বিয়ে করতো। এখন মেয়ে ছেলেকে বিয়ে করে। আবার নতুন করে ছেলে ছেলেকে বিয়ে করে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চিন্তা, ভাষা, ও কর্মের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন বুঝে, না বুঝে, নিজেদের স্বার্থে অথবা গোষ্ঠির স্বার্থে করে থাকে। ফলাফল কোথাও জিরু আবার কোথাও হিরো। তবে হিরোর সংখ্যা দূর্লব। বিয়ের সংজ্ঞা ও ধরণ এক এক ধর্মে, সমাজে ও রাষ্ট্রে এক এক রকম। চলুননা দেখি কে কিভাবে বিয়ে করে। বিয়ের অনেক ধরন আছে, শিশু-শিশুতে, ছেলে-ছেলেতে, মেয়ে-ছেলেতে, বিয়ের মত বিয়ে, বিয়ের আগে বিয়ে। বিয়ে অনেক মজার। যদিও ভাত আর গোস্তের মত খাওয়া যায়না তবে অনুভব করা যায়। অনুভুতির উদাহরণ উনি দিতে পারেন যিনি মিষ্টি খেয়েছেন। মিষ্টির দোকানের পাস দিয়ে হাজারও বার যাতায়াত করলেন কিন্তু মিষ্টি না খেলে বুঝা দায়, মিষ্টি যে কত মিষ্টি।
শিশু বয়সের বিয়ে আর কুঁড়িতে বুড়ি এখন আর নেই। থাকবেইবা কেমনে। ওরা বিয়ের “ব”ও বুঝেনা। পিতা-মাতা ও পরিবার ওদের বিয়ে দিয়ে দেয়। ওরা গ্রামের কঁচু পাতায় ধূলা-বালী দিয়ে খেলে। ধূলা-বালী ও ফড়িং ওদের খাবার। আসলে খায়না। দুষ্টামি করে মুখের সামনে নেয়। আর খাবারের ভান করে শব্দ করে ফেলে দেয়। বাড়ীর কত যায়গায় যে গর্ত করে চুলা বানিয়েছে। বড় হলে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়, অনেক সময় অনুষ্ঠানের আগেই ছেলে-মেয়ে বা সন্তানাদী হয়ে যায়। তখন ছেলে-মেয়েরা তাদের বন্দু-বান্দবীদেরকে বলে, এই নে আমার মা-বাবার বিয়ের কার্ড। আসবি কিন্তু। ছেলে ছেলেরে বিয়ে করলে মেয়েদেরকে বিয়ে করবে কে। আসলে এটাকে সম্পূর্ণ ভাবে বিয়ে বলা যায় না। অভিবাবকগণ মেয়ে সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়ে যায়। মন যা চায় সব করা দায়। অন্যদিকে মেয়েরা যদি এই আন্দোলনে শামিল হন, তাহলেতো সব সারা। তবে মানুষের দুইটা বিষয়ের বাস্তবায়ন প্রয়োজন। কারন জন্মগত ভাবে মানুষ হওয়া যায়না। মানুষ হওয়ার জন্য মান এবং হুষ দুইটাই প্রয়োজন। বিয়ের আগে বিয়ে। নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করে। মা-বাবাকে বলে, বিয়ে করব আমি, সংসার করব আমি। তোমরা আবার কে। সবায় তাকিয়ে থাকে।
কিছু বলতে ও করতে গেলেই পালিয়ে যায় অথবা আত্নহত্যা করে। কি আর করার। মাস খানিক পর বলে, তোমরাই (মা-বাবা) ভালো ছিলে। কারণ বাসরের রাতেই বর্ষা। কেন যে ঐ গাঁধারে বিয়ে করলাম। তার মাঝে কত কিছুই দেখতাম। এখন আর বলেনা, তুমি পূর্ণিমার থেকেও অনেক। মন চায় ফাঁসিতে মরি। কিন্তু বিয়ের মত বিয়ে। যা পরিবার ও সমাজ এর মাধ্যমে হয়ে থাকে। একে অন্যকে চিনেনা-জানেনা। বাসরেই পরিচয়। প্রথমে মুচকি হাসে। মনে ভয় হয়, কিনা কি বলবে। এক পর্যায়ে ছেলের-মেয়েদের নামও রেখে দেয়। জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা ও নয়া সংসার। তবে শালী হল এক আকর্ষণ। স্বামী ঘন-ঘন শশুর বাড়ীতে যায়। শালীর জন্যে আচার নিয়ে যায়। আর রসিকতার সুরে বলে, বউ মরে গেলে কি হবে, শালীতো আছে। অন্য দিকে, বেয়াই-বেয়ানে আর বেয়ান- বেয়াই এর প্রেম। তারা সিজনের বাজেট কষেন। এতে শীতে খেঁজুরের পিঠাও বাদ পড়ে না।
লেখকঃ Student of Political Science (IR), International Islamic University Malaysia (IIUM)
বিয়ে নিয়া অনেক জানলাম। লেখটা অনেক অনেক ভালো হয়েছে। এ ধরনের আরও আরও আরও লেখা চাই।
50803
২
Bangladesh থেকে abdullah লিখেছেন,
১৩ মার্চ ২০১১; সকাল ০৫:২৮
তবে শালী হল এক আকর্ষণ। স্বামী ঘন-ঘন শশুর বাড়ীতে যায়। শালীর জন্যে আচার নিয়ে যায়।
হায়রে মামু!! কি লিখেলন???
50812
৩
যশোহর থেকে হাফিজ লিখেছেন,
১৫ মার্চ ২০১১; রাত ১১:০৯
এই মন্তব্য আসলে যথাযত নয়। কেননা ‘বিয়ে’ নিয়ে লেখা উপাখ্যানে বাঙালি তথা সারা বিশ্বের একটি বিশেষ অবস্থাকেই প্রতীকায়িত করা হয়েছে এ কথা বললে ভুল হবে। বরং বলতে হয় ব্যষ্টিকতা অবলম্বন করে সামষ্টিকতার যে চিত্র লেখক (মহিউদ্দিন) বিয়ে নামক উপাখ্যানে আলোকপাত করেছেন তা অনন্য।
51102
৪
malaysia থেকে alok লিখেছেন,
১৬ মার্চ ২০১১; সকাল ০৯:৩২
ভালৈ লিখেছেন!
51131
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: