মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; বিকেল ০৫:৫৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

সংসদীয় কমিটি বনাম দুদক

মইনুল ইসলাম তপন

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জরুরী অবস্থার দুই বছরে আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রম পর্যেবক্ষণ করেছি। দুদক তখন তাদের আওতার বাইরেও অনেক কাজ করেছে। তারা যেমন সত্যিকার দূর্নীতিবাজদের জেলে ঢুকিয়ে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি বিরাজনীতিকরণের নামে ঢালাওভাবে রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার করে ( অনেকক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই) সকলের বিরাগভাজন হয়েছে।

তখন দুদকের চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরীর প্রতিনিয়ত হুঙ্কারে সবাই তটস্থ থাকতো। তার বাণী ছিল, “রুই-কাতলা-টেংরা-পুটি কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না"। তখন অনেক আইনজ্ঞ বলেছিলেন যে দুর্নীতির নামে তাদের জরুরী আইনের যে ধারায় ধরা হচ্ছে, জরুরী অবস্থা উঠে গেলে তাদের আটক রাখা যাবে না। এখন আমরা সেটাই দেখতে পাচ্ছি। যাদেরকে ধরা হয়েছিল তাদের প্রায় সবাই ফুলের মালা সহকারে জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। বাকিরা জামিনে মুক্তির অপেক্ষায় আছেন।

আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুদক চেয়ারম্যান হামচৌর রাজত্বকাল (ত্রাস কাল) শেষ করে দেওয়া হয়। নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্তি লাভ করেন। তবে সরকার আইনমন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে যার কাজ হলো গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যে সমস্ত মামলা হয়েছে (দুদকসহ) সেগুলি রিভিউ করা। আমাদের দেশে পুরাতন রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে অনুসরণ করেই ( দিনবদলের কথা মাটিতে চাপা দিয়ে ) এ কমিটি আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনার সব মামলাসহ অন্যসব বড় নেতা-কর্মীদের প্রায় ১০০ টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে যেখানে দুদকের মামলাও রয়েছে। এরকম প্রতি সপ্তাহেই সুপারিশ যাচ্ছে। অথচ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের একই ধরনের মামলা এই কমিটি এখনও কোনও আমলেই নেয়নি, সুপারিশতো পরের কথা। বরং আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম ( যিনি একাধারে ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ) সাংবাদিকদের বলেছেন, "আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মামলাগুলি তারা এক পাল্লায় মাপবেন না।"

এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুদক নতুন কোনোও মামলা দায়ের করেনি। কিন্তু আশ্চয্যে ব্যাপার হলেও সত্য যে, দুদকের কাজটি এখন করছে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি, উপ-কমিটি। এ কমিটিগুলি এখন বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য অষ্টম সংসদের বিএনপি থেকে নির্বাচিত স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে এ কমিটিগুলি উঠে পরে লেগেছে। সংসদে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা বর্ণনা বা আইন প্রণয়নের চেয়ে এসব তদন্তের পিছনে তাদের বেশী সময় দিতে হচ্ছে। কিন্তু এখানেও তারা একপেশে নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপি দলীয় সাংসদদের ঘায়েল করাই যে নীতির মূল উদ্দেশ্য। জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের একটি ক্লাব রয়েছে এবং এর একটি ফান্ডের ক্ষেত্রে অনেক অনিয়ম ধরা পড়েছে যার সাথে অষ্টম সংসদের বিএনপি - আওয়ামীলীগের অনেক সংসদ সদস্য জড়িত। তাদের একজন হচ্ছেন আওয়ামীলীগের চিফ হুইপ ( তদানীন্তন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ) উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। তিনি এই ফান্ডের এক লক্ষ টাকা তছরুপ করেছেন। কিন্তু সংসদীয় কমিটি এই বিষয়ে তদন্ত করতে রাজী নয় যেহেতু তাদের চিফ হুইপ অনিয়মের সাথে জড়িত।

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে সংসদীয় ঐ কমিটির প্রধান এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এবং উপ- কমিটির প্রধান শাহজাহান খানের বিরুদ্ধে ১৯৯৩-১৯৯৮ সময়কালে ভ্রমণকালে উত্তোলন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনাব রাব্বী গাইবান্ধা থেকে ঢাকা আসার সময় সৈয়দপুর - ঢাকা ভূয়া প্লেনের টিকেট দেখিয়ে ১৭৭৯৪/- টাকার দূর্নীতি করেছেন। আর জনাব খান মাদারীপুর থেকে ঢাকা আসার সময় যশোর-ঢাকার ভূয়া প্লেনের টিকেট দেখিয়ে ১৭,৬৪০/- টাকার দূর্নীতি করেছেন। সম্প্রতি অডিট রিপোর্ট আকারে এটা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এখন যাদের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে তারা আবার কিভাবে অন্যের অনিয়মের তদন্ত করে। এ ধরনের কমিটি দিয়ে তদন্ত কাজ করালে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে তা সহজেই অনুমেয়। তাছাড়া দুদুকের কাজ সংসদ সদস্যরা করে দুদকের অস্তিত্বকে কি প্রশ্নবিদ্ধ করছে না? সরকার কি তাহলে সংসদীয় কমিটি এবং দুদককে একে অপরের প্রতিপক্ষরূপে দাঁড় করাতে চায়? নাকি দুদককে ঠুটো জগন্নাথরূপে পরিগণিত করাই এসবের আসল উদ্দেশ্য?

লেখকঃ মোহাম্মদপুর, ঢাকা থেকে, ই-মেইল, esl@bangla.net
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MoinulIslamTapon
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Dhaka থেকে MINTU লিখেছেন, ১৬ জুলাই ২০০৯; সকাল ০৫:৫৮
আপনার তথ্যবহুল লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ। এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা নিয়ে টকশো গুলিতে আলোচনা হওয়া উচিত। আমরা দেখতে পাচ্ছি মইনের সরকারের মত হাসিনার সরকারও একটা মামলাবাজ সরকারে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। অন্যের দূর্ণীতির তদন্ত করা ছাড়া সংসদ সদস্যদের কি আর কোনো কাজ নাই ?
2178
AUSTRALIA থেকে FARRUK লিখেছেন, ১৬ জুলাই ২০০৯; সন্ধ্যা ০৭:০০
Thanks Mr Moinul. Fazle Rabbi Saheb ja suru korechen tate ''kecho khurte gia unar sapta'' na ber hoa jai. Karon apnar likha pore janlam durniti Rabbi saheb o kom koren nai .
2191
DHAKA থেকে Nuruzzaman লিখেছেন, ১৬ জুলাই ২০০৯; রাত ০৮:৪২
Mr. Moinul deserve thanks for his feature on parliamentary committee versus Dudak.
AL Govt. is always trying to divert the people from major issues like deteriorating Law an order situation, High rise of prices, Tipaimukhi Dam/Barrage etc. So they are busy in making all the inquiries and making propaganda against the opposition parties.
I also support Mr. Farrukh about the corruption or irregularities of Mr. Fazle Rabbi. So far I remember, during Ershad and last AL regime he was a Telephone Bill defaulter amounting to more than some Lakh taka. So think twice before you ink.
2194
ঢাকা থেকে রিনা ইদ্রিস লিখেছেন, ১৭ জুলাই ২০০৯; দুপুর ০৩:১৩
ভাই মইনুল, আপনার ছোট্ট কিন্ত তথ্য বহুল লেখাটি পড়ে অনেক কিছু জানলাম। আরো লিখুন এবং আর একটু বড় করে লিখুন।
2217
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy