প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লোকমানঃ পার্থিব ও পরকালীন কল্যাণের আদর্শে সমুজ্বল পুরুষ
মুজিবুর রহমান মঞ্জু
আমার এবং আমাদের প্রিয় শিক্ষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লোকমান, ২৪ জুন শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৫ টায় আমাদের চিরতরে ছেড়ে চলে গেলেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রা-জিউন)।
শুক্রবার বিকেলে টুইটুম্বুর আয়োজিত বাবা দিবসের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘর থেকে বের হলাম। পথে আমার দুই বন্ধু সংগীত শিল্পী কায়সার ইসলাম এবং সন্দ্বীপন অপেক্ষা করছে সংসদ ভবনের সামনে। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে আসতেই এডভোকেট কামাল ভাইয়ের ফোন কল পেলাম, ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি জানালেন প্রফেসর লোকমান ভাই এইমাত্র ইন্তেকাল করেছেন।
কি! আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিনা। কামাল ভাইয়ের ফোন রাখতে না রাখতেই ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে আজাদ এর বিধ্বস্থ কণ্ঠে ফোন-স্যার আর নেই। আমার পাশে গাড়ীতে ৩ সন্তান সহ রিজু, বৈবাহিক সূত্রে আমার স্ত্রী। স্যারের বাসা ছিল যার ছাত্রজীবনের একসময়ের নির্ভরতার ছায়া, খালাম্মার স্নেহ-মায়া-শাসনে যার আন্দোলন জীবন। সে বুঝতে পারলো কিছু একটা হয়েছে। কোন দূ:সংবাদ! আমি বেদনায় তার দিকে তাকাতে পারছিনা, মুখ নীচু করে বললাম-লোকমান চাচীর সাথে না তুমি সকাল থেকে একসাথে ছিলে?
-হ্যা, ফুলের মেলার অনুষ্ঠানে চাচী সহ সারাক্ষণই একসাথে ছিলাম, ইমরানের বউ স্যারের নাতী-নাতনীরা সবাইতো ছিল। কেন কি হয়েছে?
আমি স্যারের ইন্তেকালের কথা বলার সাথে সাথে সে আর্তনাদ করে উঠলো। অসম্ভব! স্যারের হার্টের সমস্যা অনেক পুরোনো। ডায়েবেটিস অনেক দিনের সঙ্গী।কিন্তু আজ স্যার সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ। সকালে ইমরান-রায়হানের সাথে নাস্তার টেবিলে একসাথে অনেক কথা বলেছেন। নাস্তা শেষে যে যার প্রোগ্রামে বেরিয়ে গেছেন যথারীতি। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে স্যারের বোর্ড মিটিং। মিটিং শেষ করে বাসায় ফিরতেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন, বুকে তীব্র ব্যথা-সবাই দ্রুত নিয়ে গেলেন ইবনে সিনা হাসপাতালে। সেখানকার ইমার্জেন্সী বেডে চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে গেলেন তিনি।
চিন্তায় আর কিছুই আসছেনা। গাড়ী ঘুরিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে ইবনে সিনা হাসপাতালে গিয়ে পৌছালাম। এরই মধ্যে মনকে অনেকভাবে শান্ত ও শক্ত করতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু পারলাম না। হাসপাতালের বারান্দায় রায়হান কে দেখেই বুক ভাঙ্গা কষ্ট কান্নার স্রোত হয়ে সব ছিন্ন-ভিন্ন করে দিল। আমি সান্ত্বনা দিতে পারলাম না-নিজের অজান্তেই শিশু হয়ে গেলাম। আমার অবোধ তিন সন্তান ফ্যাল-ফ্যাল করে আমাকে দেখছে।
আমার স্যার, আমার স্যার, স্যার-আর কিছুই মুখে আসছেনা। আমার কি সুন্দর মিষ্টি হাসি মুখে নিয়ে ঘুমিয়ে আছেন। এর আগে বেশ ক'বার স্যার খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতাল থেকে আমাকে একবার দেখার জন্য খবরও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দূর্ভাগ্য আমার, বছরে কিছুদিন পর পর হাসপাতাল-বাস আমার জীবনেরও রুটিন হয়ে গেছে। সে সময়ে আমিও তার মত অন্য একটি হাসপাতালে শুয়েছিলাম। শুয়ে শুয়ে মর্মবেদনা হচ্ছিল, যদি স্যারকে আর না দেখি!
স্যার সে যাত্রায় সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছিলেন। আবার ছড়িয়েছিলেন স্বভাব-সুলভ মমতার পরশ। আজ কত কথা মনে পড়ছে-দক্ষিণ ক্যম্পাসে আমাদের দু'টি নিবিড় ঠিকানা ছিল, লোকমান স্যার-হারুন স্যারের বাসা। রাত-বিরাত,সময়-অসময়, সুখ-শংকা'য় যখন-তখন ফোন। ঈদে ক্যম্পাস ছেড়ে সবাই যখন আনন্দ ভাগা-ভাগি করতে মা-বাবার কাছে যেত,আমরা যেতাম না। যেতে পারতাম না। আমরা দল বেধে যেতাম লোকমান স্যার-হারুন স্যার-বদিউল আলম স্যার বা ছন্দা আপার বাসায়। ঈদে আমরা তাদের বাসার প্রধান অতিথি।তাদের কাছে ইমরান-রায়হান-মামুন-ফাহিমা যেমন মঞ্জু-হান্নান-তোওফিক-দিদার-জাহেদ একই রকম।
বাসায়,মেডিকেল সেন্টারের পুরোনো ডিপার্টমেন্টে নিজের রুম, একাডেমিক ভবন, সেন্ট্রাল মসজিদ, দক্ষিণ ক্যম্পাস মসজিদ-কত স্মৃতি। প্রয়োজনীয় উপদেশ। অবিভাবকসুলভ বন্ধুত্ব। দৃষ্টির সীমানায় নির্যাতন-নীপিড়নে মজলুম আত্মায় একাত্ম হওয়া। স্যার যখন ঢাকায় এলেন আমিও ঢাকায়। আই-আই-ইউ-সি তে নিজের চেম্বারে কত একান্ত আলাপ, ব্যক্তিগত সাংগঠনিক কত খুনসুটি। কিং ফয়সল বিশ্ববিদ্যালয় করা নিয়ে কত স্বপ্ন। স্যার বড় বড় চিন্তা করতেন। তাই তার বিচরণ ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম শহর-ঢাকা-ঢাকার বাইরে-বিশ্বময়।
আমরা ভুল বুঝতাম,অভিমাণ করতাম।প্রয়োজনের সময় ছায়া না পেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে নি:শব্দে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতাম। পরক্ষণে বুঝতাম বটবৃক্ষ শুধু ছায়া দেয় না, দুর থেকে ডাল-পালা-ছড়িয়ে অফুরন্ত জীবনী শক্তি জোগায়-নির্মল নি:শ্বাসের জন্য সীমাহীন বিশুদ্ধ বায়ু'র জন্ম দেয়। আজ আমাদের মনভাঙ্গা কান্না। সবার হৃদয়ে অন্যরকম শুন্যতা। ফোন করে টেলিভিশন টিকারে নিউজ দিতে বললাম। এনটিভি, নিউজ টুয়েন্টি ফোর এর ফাহিম, প্রথম আলো-র বুলবুল ভাইকে ফোন করলাম। মুহূর্তে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লো বেদনার শিহরণ। আমি আর কল রিসিভ করতে পারছিনা। চট্টগ্রাম থেকে শামীম ভাই, মাহবুব ভাই, শামসু ভাই ফোন করে অনেকটা নির্দেশের সূরে বললেন স্যার কে শেষবারের জন্য অবশ্যই চট্টগ্রাম আনতে হবে। যা করা দরকার করতে হবে। কোন কথা শুনতে চাইনা।
বিপদে পড়লাম। রাত নয়টায় ধানমন্ডি ঈদগাহ মাঠে জানাজা এবং কাল সকালে ফেনীতে জানাজার সময় জানিয়ে মাইকিং হয়ে গেছে। খালাম্মা আমার সামনেই হাসপাতালে জ্ঞান হারিয়েছেন, তার প্রেসার খুব হাই হয়ে গেছে। এখন কিভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে। আল্লাহর কাছে মনে মনে দোয়া করলাম। নিজেরও মন বলছে যে বিশ্ববিদ্যালয় স্যার নিজ হাতে গড়েছেন। যে জারুল বনের বাতাস গায়ে মেখে যুবক লোকমান প্রফেসর ড.লোকমান হয়েছেন সেখানে তার কফিন যাবেনা? আমি ক্যম্পাসে থাকলে আমিওতো মানতে পারতামনা। স্যারের কফিন নিয়ে গোসল দিতে গেছেন ইসলামী ব্যাংকের ডিরেক্টর শামসুল হুদা ভাই। তাকে ফোন করলাম তিনি সম্মত হলেন। ইমরান-রায়হান এত বড় হয়েছে অথচ এখনো যেন ওরা মুখের ওপর কথা বলতে শিখেনি। সাহস করে সিদ্ধান্ত নেয়া হল। খালাম্মা কে আমরা ভয় পেতাম-সমীহ করতাম কিন্তু ওনার ভালোবাসার বিস্তৃতি জীবনে বহুবার টের পেয়েছি। আজ আবারো পেলাম-তিনি অমত করলেন না। সবকিছু নতুন করে আবার ঠিক করা হলো। চট্টগ্রামে ৩ টি জানাজা হবে। সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, ৯টায় শহরের প্যারেড মাঠে, ১১টায় আই,আই,ইউ,সি কুমিরা ক্যাম্পাসে এবং সবশেষে বিকেল ৩টায় নিজ গ্রামের ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুল মাঠে।
রাত ৯টার প্রথম জানাজায় ঢাকার ধানমন্ডি ঈদগাহ মাঠ লোকে লোকারণ্য। এত অল্প সময়ে কে আসেনি।যে শুনেছে সে ছুটে এসেছে এখানে। মিডিয়া কত বড় শক্তি, মনে মনে অনুভব করলাম আবারও। আলো-আধারীর বিশাল জানাজায় ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত এবং ইমরান সবার কাছে দোয়া চাইলেন। জানাজা পড়ালেন মাওলানা একেএম ইউসুফ সাহেব। স্যারের কফিন এখন সুন্দর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম পোছানো একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। যারা মনের আকুলতা নিয়ে শেষবারের মত এসেছিল ধীরে ধীরে সবাই বিদায় নিয়ে যাচ্ছে। আমার ভাই মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন আর কামরুল ইসলাম আজাদ মিলে অনেক কষ্টে অসাধ্য সাধন করলো। সবোর্চ্চ বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় কফিন হিমায়িত করে রাত ১১.৪৫ মিনিটে সবাই যাবার জন্য প্রস্তুত। মনটা হু-হু করে উঠলো। মাত্র ৭টি ঘন্টা। বিকেল ৫টা-১২টা এরই মধ্যে সব শেষ। আর দেখা হবেনা স্যার? সেই মৃদু হাসি মাখা মুখ।
স্যার মাঝে মাঝে আদর করে লিডার বলে ডাকতেন-তার একটি বিশেষ ভঙ্গী ছিল। স্নেহ-সম্মান-মমতার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। আর কে ডাকবে এমন করে? কেউ না, পৃথিবীর আর কোন মায়াবী মানব আমার স্যারের মত করে ভালবাসবে না। আমার চোখে শুধু নোনাজলের ধারা,হৃদয়ে বিধ্ধস্থ কম্পন। শবযাত্রা প্রস্তুত। একে একে সবাই গাড়ীতে উঠছে। ধানমন্ডি থানা আমীর আমার শ্রদ্ধেয় প্রিয়জন হেমায়েত ভাই আমার হাত ধরে আছেন।তিনি শুধু বললেন যারা চলে যাচ্ছে তাদের কি কোন রিপ্রেসমেন্ট হবে এ আন্দোলনে? তার প্রশ্নের কোন জবাব নেই আমার কাছে।আমার আছে অথৈ বেদনা। যে বেদনা শুধু নি:শব্দ কান্না হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে অজান্তে। রাত গভীর ১২ টা ছুই-ছুই।
রিজু তার তিন সন্তান নিয়ে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কানের কাছে আমি তার দীর্ঘশ্বাসের তপ্ত তরঙ্গ অনুভব করলাম, সাথে একটি বাক্য-লোকমান স্যার নামক একটি অধ্যায় কি তাহলে শেষ? আমি জানি সে কত নির্মম একটি সত্য কথা বলছে। প্রতিদিন এক একটি করে বাতি নিভবে কিন্তু আরেকটি বাতি জ্বলবেনা। যেটা জ্বলবে সেটা নিজের জন্য জ্বলবে। আমার বা আমাদের জন্য জ্বলবেনা। প্রফেসর লোকমান খুব সাধারণ একজন মানুষ, অথচ তার কাজের ব্যাপ্তি কত দুর-দুরান্তে ছড়িয়ে গেছে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ একসাথে চাইতে বলেছেন। আমরা অনেকেই তা চাই, কিন্তু কেউই কি পাই? কি আশ্চর্য! আমার স্যার সেটা পেয়েছিলেন।
স্যারের ৫টি সন্তান। বড় মেয়ে সালমা আপা, তার হাসবেন্ড আরমান ভাই সহ ইউএসএতে, ফাহিমা শওকত ভাই সহ লন্ডনে সেটেল্ড। বড় ছেলে ইমরান আইআইইউসিতে এবং রায়হান ইউজিসিতে লেকচারার, পিচ্চি নাদিমা এখন এমবিবিএস শেষ করে ডাক্তার হতে যাচ্ছে। সবাই মেধাবী, সবাই সফল আবার সবাই ইসলামী আন্দোলনে নিবেদিত প্রাণ। জীবন ও আন্দোলন তাদের কাছে একাকার। স্যার তার সন্তানদের সবাইকে দ্বীন শিখিয়েছেন, দ্বীনের পথ মজবুত ভাবে আকড়ে ধরে বৈষয়িক জীবনে মাথা উচু করে দাড়ানোর পথ দেখিয়েছেন। আজ তার দায়িত্ব শেষ, তাই তিনি হাসতে হাসতে চলে গেলেন। একজন মানুষের জন্য ৫টি জানাজা, সবখানে সহস্র ভালোবাসার সম্মিলন। পার্থিব দৃষ্টিতে কতইনা ঈর্ষণীয় মানুষ তিনি। আমরা যারা তার কাছের কেবল তারাই অনুভব করতে পারি ইসলাম তার জীবনে কত মূর্ত ছিল।
সবকিছুর পরও একটি ক্ষত আজ মনের মধ্যে খচ্ খচ্ করছে। সালমা আপা, ফাহিমা, আরমান ভাই, শওকত ভাই আজ পাশে থাকতে পারলেননা। দুঃখ সাগরে একসাথে সব ভাই-বোনেরা মিলে একাকার হতে পারলাম না। দুটি বোন দুর দুরান্ত থেকে কতইনা কষ্ট পাচ্ছে। পৃথিবীর কোন ভাষা কি তা অনুভব করতে পারে? পারেনা। স্যার আমাদের কি শিখিয়ে গেলেন? স্যার শিখালেন দ্বীনের জন্য নিজেকে একাকার করে দিলে দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অবশ্যই পাওয়া সম্ভব। হে আল্লাহ তুমি আমার স্যার কে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন রেখো—আমীন।
আল্লাহর প্রিয় বান্দাহ গুলো একে একে সব চলে যাচ্ছে।
হেমায়েত ভাইয়ের মতো, বলতে চাই,
যারা চলে যাচ্ছেন তাদের কি কোন রিপ্রেসমেন্ট হবে এ আন্দোলনে?
60739
২
লণ্ডণ থেকে মুহাম্মদ সেলিম লিখেছেন,
২৬ জুন ২০১১; সকাল ০৫:০৮
সালাম মন্জু ভাই, লোকমান স্যারের মত দরদী মানবের রিপ্লেসমেন্ট ইসলামী আন্দোলনের জন্য হবে কিনা জানি না তবে স্যারের মত অকৃএিম আদর মাখা হাসিমূখ মানুষের রিপ্লেসমেন্ট যে হবে না সেটা অনায়াসে বলা যায়।ছাএ জীবনে স্যারের খুব কাছে যাওয়ার সুভাগ্য হয়নি,আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে স্যারের বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্হিত থাকার সুভাগ্য আমার হয়েছিল স্যারের নসিহত গুলো আমার জীবন চলার পাথেয় হয়ে থাকবে।
60743
৩
কলাবাগান থেকে এ, কে, এম, এমদাদ উল্লাহ লিখেছেন,
২৬ জুন ২০১১; সকাল ১১:১৬
মন্জু ভাইয়ের এই লেখায় চোখের পানি ধরে রাখতে পারলামনা। আমার ছোট মেয়ে সাদিয়ার বিয়েতে লোকমান স্যারের বাসায় দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে চা না খেয়ে আসতেই দিলেননা। আমি একই গ্রামের বাসিন্দা। স্যার অনেক কথা জানতে চাইলেন। কাঠাল বাগানে আমাদের বাসায় স্যারের আসার কথা ছিল। এখানে তিনি দ্বীনের দাওয়াত দিতে চেয়েছিলেন আমাকে সাথে নিয়ে। স্যারের অতি পরিচিত কয়েকজন এখানে থাকেন। আমার মেয়ের বিয়েতে স্যার হঠাৎ করে অসুস্থ্য হয়ে যাওয়ায় আসতে না পেরে আমাকে যখন ফোন করে 'সরি' বললেন, আমি বিস্মিত হয়ে উঠলাম। স্যারের মত এত বিশাল হৃদয়ের ব্যক্তিত্ব আমাকে 'সরি' বলাতে আমার চোখে সেদিন পানি এসে গিয়েছিল। স্যার যে ছোট খাটো বিষয়কেও কত গুরুত্ব দিতেন, তখন বুঝতে পারলাম।
মন্জু ভাই ঠিকই বলেছেন, প্রয়োজনের সময় ছায়া না পেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে নি:শব্দে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতাম।পরক্ষণে বুঝতাম বটবৃক্ষ শুধু ছায়া দেয় না, দুর থেকে ডাল-পালা-ছড়িয়ে অফুরন্ত জীবনী শক্তি জোগায়-নির্মল নি:শ্বাসের জন্য সীমাহীন বিশুদ্ধ বায়ু'র জন্ম দেয়|
আজ আমাদের মনভাঙ্গা কান্না।সবার হৃদয়ে অন্যরকম শুন্যতা| ।
সত্যিই স্যারের জীবন সফল হয়েছে। জানাযা থেকে ফেরার পথে অনেক মুসুল্লীকে বলতে শুনলাম, প্রফেসার সাহেব নিশ্চিত জান্নাতে যাবেন। এমন ভাগ্যবান লোকের জানাযায় এসে নিজেদেরও ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।
স্যারের জন্য মন খুলে দোওয়া করছি, হে আল্লাহ তুমি স্যার কে জান্নাতের সবোর্চ্চ মর্যাদায় আসীন রেখো— আর আমাদেরকে তার জীবন থেকে শিক্ষা নেবার যোগ্যতা দান করো। আমীন।
60765
৪
যাত্রাবাড়ী থেকে সালমান শামিল লিখেছেন,
২৬ জুন ২০১১; সকাল ১১:৪৬
সত্যিই ! প্রেরণার বাতিঘরগুলো নিভে যাচ্ছে এক এক করে। যারা চলে গেলেন তারা তো চলেই গেলেন। আল্লাহ তাদের কবুল করুন। আর আমরা যারা এখনো আছি তাদের কি হবে ?? তারা কি নতুন করে কিছু ভাবতে পরি না ? দ্বীনের জন্য নতুন কোন শপথ নিবো না ? যেমন করে কবি মল্লিক ভাই বলেছিলেন- "দ্বীন কায়েমের প্রয়োজনে, আল-কুরআনের আহবানে নতুন করে আবার আমি শপথ নিলাম আজ, কেউ না করুক আমি করবো কাজ"
60769
৫
সিডনী, অস্ট্রেলিয়া থেকে শফিকুর রহমান লিখেছেন,
২৬ জুন ২০১১; সকাল ১১:৪৭
আমার ছবি কইবে কথা, যখন আমি থাকবোনা - please click the link to see his visit to Australia
প্রফেসর ডক্টর লোকমান স্যারকে তো অনেক আগে থেকেই চিনি। অতুলনীয় এক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন শিক্ষক এবং অমায়িক স্বভাবের মানুষ।
আরমান ভাই ও তার স্ত্রী সালমা ভাবীর সাথে অন্তরঙ্গ ঘনিষ্ঠতা অনেক দিনের। সালমা ভাবীর আম্মা যখন নিউ ইয়র্কে ছিলেন তখন উনার সাথেও দেখা এবং অনেক কথাবার্তা হয়েছে। ইন্তেকালের খবর শুনার সাথে সাথে উনাদেরকে ফোন দিলাম। একদিকে মনের ব্যথা প্রকাশ করতে পারবো অন্য দিকে একান্ত আপন হিসেবে তাদেরকে কিছুটা স্বান্তনা দিতে পারবো। কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ নেই। ভাবলাম উনারা হয়তো New York ছেড়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। তাই পাশাপাশি ই-মেইল করলাম। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরান ভাইয়ের ই-মেল এর উত্তর পেমাল দুবাই এয়ারপোর্ট থেকে। জানিনা উনারা মরহুমের লাশ দেখতে পারবেন কিনা। জানিনা উনাদের মন কেমন করছে। কিন্তু আমরা বাইরের সবাই যতোটুকি হৃদয় দিয়ে উনার শূন্যতা অনুভব করছি তাতে বুঝতে পারছি উনার অতি কাছের মানুষদের হৃদয়ের শূন্যতা কতোখানী। আল্লাহ উনাকে জান্নাত নসীব করুন।
60794
৭
লেক সার্কাস,কলাবাগান। থেকে মজিবুর রহমান মন্জু লিখেছেন,
২৬ জুন ২০১১; দুপুর ০৩:০৬
মোকাররম ভাই,সেলিম ভাই,সালমান শামিল,এমদাদ ভাই,শফিক
ভাই সালাম ও শুভেচ্ছা নিন।
স্যারের জন্য আবেগ ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য অনেক অনেক শুকরিয়া।
60802
৮
লালমাটিয়া থেকে নিজাম উদ্দিন মাহমুদ লিখেছেন,
২৬ জুন ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:৫০
চবিতে ভর্তির পর (৯৯-২০০০) কঠিন সময়ে দুর থেকে লক্ষ করতাম ক্যাম্পাসে দুজন যুবক খুবই ততপর, আর তাদের মাথার উপর দেখতাম দুটি বট বৃক্ষ। যুবক দুজন মন্জু ভাই (লেখক) অন্যজন দিদার ভাই। আর আশা ভরসার দুটি ছাতা হলেন এই শ্রদ্বেয় লোকমান স্যার, আরেকজন হারুন স্যার। আর কলাবাগান থাকার সময় কয়েকবার তার অফিসে গিয়ে খুব কাছ থেকে দেখলাম তার আন্তরিকতা, সহজ সরলতা, হৃদ্যতাপূর্ণ ভালবাসা। আল্লাহ স্যারকে জান্নাতবাসি করুন।
60834
৯
মালয়শিয়া থেকে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম লিখেছেন,
২৬ জুন ২০১১; রাত ১০:১৬
আল্লাহ ওনাকে বেহেস্তবাসি করুন।আমীন।
60863
১০
লেক সার্কাস,কলাবাগান। থেকে নজরুল ইসলাম বাবু লিখেছেন,
২৬ জুন ২০১১; রাত ১০:২৬
মন্জু ভাই, আসসলামু আলাইকুম। আপনার লিখা পেয়ে ভালো লাগলো। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাত নসীব করেন।
60864
১১
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাহফুজুর রহমান আখন্দ লিখেছেন,
২৬ জুন ২০১১; রাত ১১:০৯
বটবৃক্ষরা এভাবে চলে যাওয়ায় খুব অসহায় মনে হচ্ছে.....
জানিনা এ শূন্যস্থান পূরণ হবে কি না।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসীব করুন, আমীন।
60870
১২
Dhaka থেকে Foyasal Khan লিখেছেন,
২৭ জুন ২০১১; সকাল ১১:৩৯
I got the news of the departure of this great man in the next day when I kept my eyes on newspaper. I was terribly shocked as I had a good relationship with him and it started recently.
Prof Lokman started to write a text book for economics student and when I came to Bangladesh I was involved with him to do the task. The way he guided us was very cordial. I found him a man with soft and warm heart. I was happy with his behavior. I pray to Allah for granting him in the highest place in Zannah
really pathetic writing, next pls write his bio grapy this site.
60994
১৫
London, United Kingdom থেকে Kazi Shaukat Osman লিখেছেন,
২৮ জুন ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:৩২
Salam and thanks to brother Mojibur rahman Monju for this heartiest writing about Professor Dr Muhammad Loqman. Just corrections about the place of stopping catch his breath. Actually, he was on his bed at home when it was declared by a learned doctor that he has been expired. May Allah(Swt) keep his soul in the place of peace and grant him Jannatul Firdaus. Thanks every one for their condolence.
61047
১৬
সিডনী থেকে ফারুক আমিন লিখেছেন,
২৮ জুন ২০১১; রাত ০৯:৩৯
অনেক অনেক আগের শৈশবের কথা মনে পড়লো। তখন মাঝে মাঝে আমিন মামুনদের বাসায় গিয়ে থাকতাম, ক্যাম্পাসে বেড়াতাম। তখন রাশভারী লোকমান চাচাকে দেখে ভয় পেতাম। ছোটবেলার সে ভয় কাটিয়ে পরে আর বেশি কথা বলা হয়নি। কিন্তু কালেভাদ্রে দেখা করার সুযোগ বা উপলক্ষ হলে বুঝতে পারতাম তাঁর স্নেহ এবং মনযোগ। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন, একান্ত একাগ্রতার সাথে এ দোয়া করছি।
61076
১৭
দক্ষিণ ক্যম্পাস, চ.বি. থেকে মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন,
২৮ জুন ২০১১; রাত ১১:১৭
হ্যাঁ, লোকমান স্যার খুব সাদা-সিধে মানুষ ছিলেন। জামায়াতে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে উনি খুব সিরিয়াস ছিলেন। মসজিদে দেখা না গেলে নিশ্চিন্তভাবে ধরে নেয়া যায় যে, তিনি বাসায় নাই - চ.বি. ক্যম্পাসে এমন যে ক’জন আছেন/ছিলেন - লোকমান স্যার এর অন্যতম।
স্যারের পরিবারের প্রায় সবার সাথে আমার অতি-ঘনিষ্ঠতা সত্বেও স্যারকে ভয় পেতাম। কি ফিলোসফার, কি খবর- আমাকে দেখলে স্যার এটি প্রায়শঃ বলতেন।
নিজের হাতে গড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে যাওয়া, আই. ইউ.সি.’র পিছনে ছোটাসহ স্যারের বেশকিছু কর্মপন্থার সাথে আমি একমত হতে পারিনি তবুও আমার মনের প্রবল ধারনা, স্যার নাজাত পাবেন। কারন, তিনি ছিলেন অতি উত্তম মুছল্লি।
61092
১৮
আবুধাবী, সংযুক্ত আরব আমীরাত থেকে মোহাম্মদ লোকমান লিখেছেন,
২৯ জুন ২০১১; রাত ১২:৩৫
ইন্ন লিল্লােহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
প্রফেসার ডক্টর মোহাম্মদ লোকমান স্যারকে খুব নিকট থেকে না জানার কারণে অন্য দশ জনের মত সাধারণ একজন দায়ী মনে করতাম। গত বছর আমার মেয়ে চট্টগ্রাম ক্যাম্পাস থেকে একটা প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করার জন্য ঢাকা গিয়ে তাঁর তত্বাবধানে থেকে খুব িনকট থেকে দেখেছিল তাঁকে। মেয়ের নিকট থেকে জানার সুযোগ হয়েছিল তিনি কত অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন।
মাহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করছি, তিনি যেন তাঁর এই বান্দার সমস্ত খাতা মাফ করে দিয়ে জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান বানিয়ে নেন।
61100
১৯
সন্দ্বীপ থেকে আবদুর রহিম লিখেছেন,
২৯ জুন ২০১১; বিকেল ০৫:৩৮
আল্লাহ স্যারকে জান্নাত দান করুন।
61151
২০
ঢাকা থেকে সুলতান মতিঝিল থেকে লিখেছেন,
২৯ জুন ২০১১; রাত ০৮:৪১
লোকমান স্যারের জন্য অনেক অনেক সমবেদনা। জনাব মনজু ভাই খুবই ভাল লেগেছে লেখাটি। আল্লাহর নিকট মুনাজাত করি আল্লাহ যেন স্যারকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করেন।
61169
২১
Switzerland থেকে George লিখেছেন,
৩০ জুন ২০১১; সকাল ০৫:৩১
AsSalamulukum to all. Thanks to Br. Monzoo and i also pray May Allah (SWT) give him Jannat ul Fardaus, Amin.
61194
২২
ঢাকা থেকে জসিম লিখেছেন,
০১ জুলাই ২০১১; দুপুর ০২:৪৭
স্যারের কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়নি।
তবে তার অসামান্য কর্মের কথা জেনেছি। অন্য অনেক ব্যবস্ততার মধ্যে বিশেষ করে আমাদের বাড়ি ফুলগাজিতে মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অসামান্য।
সন্তানদের যেভাবে তিনি দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য তৈরি করেছেন তাও একজন সত্যিকার মুমিনের জন্য ঈর্ষণীয়।
এই মহান মনীষিকে অসাধারন লেখনি শক্তি দিয়ে তুলে ধরার জন্য মঞ্জু ভাইকে ধন্যবাদ।
ভালো লাগলো পুরোনো দিনের রহিম ভাইয়ের একটি কমেন্ট দেখে।
সোনার বাংলাকেও ধন্যবাদ।
61288
২৩
লেক সার্কাস,কলাবাগান,ঢাকা। থেকে মজিবুর রহমান মন্জু লিখেছেন,
০২ জুলাই ২০১১; দুপুর ১২:১৮
স্যারের জন্য কাল ১লা জুলাই শুক্রবার বিকেলে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে।প্রায় ১০০০ বিশিষ্ট নারী-পুরুষ অংশ নিয়েছে তাতে।বিশেষ উল্লেখযোগ্য যারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তারা হলেন-ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত মকবুল আহমদ,শাহ আব্দুল হান্নান,আবু নাসের মো: আব্দুজ্ জাহের,আইআইইউসি ভি.সি প্রফেসর ড.মাহবুব উল্লাহ,ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন,প্রফেসর ড.কোরবান আলী,প্রফেসর হারুনুর রশীদ,ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের এম,ডি মি:জাকারিয়া,সিটি জামায়াতের আমীর রফিকুল ইসলাম খান,ড.লোকমানের বড় মেয়ের জামাতা মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকার জয়েন্ট সেক্রেটারী মি:আরমান চৌধুরী,প্রফেসর ড.শফিকুল ইসলাম,মরহুমের ছোট ভাই মো:ইসহাক এবং বড় ছেলে মোস্তফা শওকত ইমরাণ।সভার সকলেই অশ্রুসজল চোখে,হৃদয় নিংড়ানো ভাষায় স্যারের স্মৃতিচারণ করেন।
তাদের কথয় উঠে আসে স্যার ইসলামী শিক্ষা আন্দোলন এবং ইসলামী অর্থনীতির বিকাশে জীবনভর কাজ করে গেছেন।তিনি একাধারে স্কলার,মিষ্টভাষী,আপোষহীন দ্বীনি চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।জামায়াতে নামাজ পড়ার ব্যপারে স্যার কত সিনসিয়ার ছিলেন তার উদাহরণ টানলেন একান্ত কাছের লোকেরা।সন্তানদের দ্বীনি আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার ব্যপারে তিনি এতই যত্নশীল ছিলেন যে ছেলে-মেয়েরা প্রত্যেকেই প্রখর মেধাবী হওয়া সত্বেও দ্বীনের ওপর শক্তভাবে দাড়িয়েছেন।তিনি কখনো কারো ওপর অভিমান ধরে রাখতেননা,সহজেই ক্ষমা করে দিতেন।কুরআন অধ্যায়ন এবং কোরআনের দাওয়াত সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য তিনি পেরেশান ছিলেন।তার চেহারা ছিল খুব সুন্দর-সৌম্য।ভেতরটা তার চেয়েও উজ্বল।
সভায় দোয়া করেন বয়োবৃদ্ধ প্রবীন আলেম মাওলানা একেএম ইউসূফ।তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন-আমার এবং লোকমান সাহেবের একই সাথে হার্টের অপারেশন হয়েছে সৌদি আরবের কিং ফয়সল হাসপাতালে।তার আগে আমার যাওয়ার কথা ছিল,কিন্তু তিনি আমার আগে আল্লাহর কাছে হাজির হয়ে গেলেন।আবেগ জড়িত দোয়ায় সকলেই কায়মনো বাক্যে মহান আল্লাহর কাছে স্যারের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউসের আবেদন জানান।
61347
২৪
ঢাকা থেকে শাহজাহান সানু লিখেছেন,
০২ জুলাই ২০১১; দুপুর ০১:০১
দ্বীনের মূর্ত প্রতিক ড. লোকমান স্যারের মত ব্যক্তিত্বরা এদেশকে ইসলামের জন্য উর্বর এবং সবুজে-শ্যামলে পল্লবিত করেছেন। তাঁদের জীবনের সবটুকু ভালবাসা ছিল ইসলামী মূল্যবোধ ও ইসলামী পূণর্জাগরনের স্বপ্নে আচ্ছাদিত। তাঁদের শূণ্যতা পূরণের জন্য আমাদের একমাত্র অভিভাবক আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।
61352
২৫
চট্টগ্রাম থেকে রায়হান আজাদ লিখেছেন,
০২ জুলাই ২০১১; দুপুর ০৩:০৬
একে একে নিভিছে দেউটি- লোকমান স্যারের সাথে আমার পার্সোনাল পরিচয় ছিল না । তবে আমি তাকে আল হুব্বু ফিল্লাহ ভালবাসতাম। আমার ভয়, এখলাস ও যোগ্যতার সমন্বয় সাধন করা এমন অগ্রপথিকেরা এভাবে চলে গেলে কিংবা কারাগারে অন্তরীন হলে কিয়ামত কি কাছে এসে যাচ্ছে না ! লোকমান স্যারের মত চৌকস মুমিন আর হয় না।
61359
২৬
ঢাকা থেকে শাহজাহান সানু লিখেছেন,
০২ জুলাই ২০১১; দুপুর ০৩:৫৮
দ্বীনের মূর্ত প্রতিক ড. লোকমান স্যারের মত ব্যক্তিত্বরা এদেশকে ইসলামের জন্য উর্বর এবং সবুজে-শ্যামলে পল্লবিত করেছেন। তাঁদের জীবনের সবটুকু ভালবাসা ছিল ইসলামী মূল্যবোধ ও ইসলামী পূণর্জাগরনের স্বপ্নে আচ্ছাদিত। তাঁদের শূণ্যতা পূরণের জন্য আমাদের একমাত্র অভিভাবক আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।
61361
২৭
ড. লোকমান এর বাসা থেকে রায়হান জামিল লিখেছেন,
০৩ জুলাই ২০১১; দুপুর ১২:৪৩
Dear Manju bhai, assalamualikum,
i am speechless seeing your love and affection towards my father. A lot of people who know Abbu love same way you do but the way of your expression of feelings is excellent. I cant stop my tear. What you did after my father's dead our family can never repay you. Jahed Hossain bhuiyan, Hemayet bhai, Jashim bhai, Mao. Shamsul Islam M.P., IIUC VC Dr. Mahbubulla sir, Sagir, Kamal kaka, Sohag-Sobuz, our relatives, IIUC students-teachers-officers, Chittagong University ex-students, Dhanmondi Islamic movement and many more were involved in each programs after my father's dead.
Every day people are calling from many areas and crying and telling like "sir was very good and pious man and he loved me so much"! i cant understand how a person can love and honor each person?
My father never said single rough word in his life; He was regular in Mosque and if for unavoidable reason he missed the Jamat in Mosque, he used to say his prayers with my mother.
He was a very good father. He never wanted a single penny from us. He only wanted us to say our prayers in mosque, study and Islam . He was never annoyed by his grand childrens' shouting or jumping on him.
He sacrificed his life for Islamic movement, building Islamic University, establishing Mosque-Madrasa-Orphanage, Ideal Teachers' Association. He was the founder President of Bangladesh Adarsha Shikkhok Porishod for the 26 years. He visited almost every district of Bangladesh under the banner of Bangladesh Adarsha shikkok porshod and promoted the teachers of every leve to join in this organization. Even i was his partner in last visits in Moheshkhali, Shatkania, Dinajpur, Nilphamari etc in the last election. He was one of honorary director of First Security Islamic Bank (he also played strong role to make this bank an Islamic one); I heard from my mother that he was also involved in Establishing Islamic Bank about 30 years ago and he went many corners to sell the initial shares of this bank. He was the project director of Islamic University Chittagong for first five years. He was associated with Islamic Education Society, Institute of Islamic Thought , Feni Forum,WAMY etc. He visited many countries for taking part in Islamic seminars even he was suppose to go in Indonesia on 27th June for another Islamic seminar. In his dedicated his whole life for Islamic organizations, Islamic education system, Islamic banking system etc.
He was a good teacher as well. He was an expert professor on |Islamic Finance and Banking system. Though he was associated with Islamic movement he never gave a single less number to a student of other stream. His every colleague with other ideology honored him so much and every one obeyed him as a leader.
If i try i can write hundred of pages about him...but thats not wise. I wrote these not to advertise him but to influence our brothers, Islamic scholars and general people to inform Islam can be practiced in each and every moment of life and Islam can be enjoyed in profession, family and personal life. Because my father did that and he was a very happy man till his last breath.
My mother, My elder brother Md. Showkat Imran are now our guardian. And our family is so much pleased to have to great son-in-laws who are always good guide and mentor. Our elder brother in law Arman bhai came for one week and he tried to settle every family matters in a nice way.
Finally, i request all the readers to pray for my father, for his family and especially pray to Allah so that my father's undone works could be completed.
Once again thank you dear Manju bhai and every one who commented.
61430
২৮
ঢাকা থেকে জসিম লিখেছেন,
০৩ জুলাই ২০১১; দুপুর ০১:৪৯
স্যারের সন্তান রায়হান জামিলকে।
স্যার সম্পর্কে জানতে পেরে আমার মতো অনেকে উদ্বুদ্ধ হবে।
বিশেষ করে পরিবারের অভ্যন্তরে একজন মানুষকে সবচেয়ে ভালোভাবে চেনা যায়। আপনার কাছ থেকে স্যারের প্রেরণাময়ী কর্মকান্ড জেনে আশা জাগছে।
আমি সম্ভাবনা দেখছি একটি বাংলাদেশের। সেই সম্ভাবনার জন্ম দিয়ে গেছেন লোকমান স্যারের মতো আল্লার বান্দারা।
61442
২৯
ধানমন্ডি, ঢাকা। থেকে মাহমুদ নূর সবুজ লিখেছেন,
০৪ জুলাই ২০১১; সকাল ১১:৪৬
ধন্যবাদ মঞ্জু ভাই সুন্দর লেখার জন্য।
আমার মামা প্রফেসর ড. লোকমান সাহেব সত্যিই একজন সফল মানুষ ছিলেন। একজন আদর্শ শিক্ষক, সংগঠক, ইসলামী চিন্তাবিদ। বহু প্রতিভার অধিকারী মানুষ। অরেক বড় মনের মানুষ ছিলেন। মামা কে হারিয়ে আমরা অবিভাবক শূন্য হয়ে গেলাম। সুখে-দুঃখে, বিপদে আপদে সবসময় মামাকে কাছে পেতাম। আর দেখবো না মামাকে !!! ভাবকেই পারিনা।
মামা আমাকে খুব আদর করতেন ।।।।।।
সবাই আমার মামার জন্য দোয়া করবেন।
মাহমুদ নূর সবুজ।
61573
৩০
Lalkuty, Mirpur, Dhaka-1216 থেকে Md. Ibrahim Chowdhury লিখেছেন,
০৪ জুলাই ২০১১; দুপুর ০১:০৬
I want to share something to complement Raihan vi’s writing on Prof. Dr. M. Loqman-my beloved maternal uncle (Mama).
Mama was so attached to his relatives, specially his two sisters and only brother. He always tried his best to maintain communication with them, their family members and all the relatives. He used to live one of his sister’s (my mom) house whenever he came to Dhaka for professional purposes before permanently shifting in Dhaka. I was lucky by the grace of almighty Allah (swt) to see his daily routine personally at that time. I have seen him standing for long time in late night prayers, early going for Zamat in nearby Mosque and recitation of holy Quran with great voice. He was so humble and simple to anybody he met. I observed him giving Salam loudly whenever entering into our house. He was so social and respected in our area (Lalkuty, Mirpur). Nearby people and relatives often come to him for his guidance in various social and personal matters. Mama was so mindful to hear and solve the things that mostly satisfy both sides and made them happy. He was so smart and handsome by in and outer side. Mama’s smile was a blessing to us and his presence completes our family treasure. I never had seen him misbehaving with anyone in anytime. His patience and honesty was immeasurable various personal and professional crises. I cannot forget his Munajat before Iftar and in different family gatherings. I always amazed how one could memorise such wonderful Duas and words from the holy Quran. My father has been ill since last two months. Recently he was hospitalized for three days. It was almighty Allah’s (swt) blessing that Mama visited the chamber of my father’s consultant doctor that very evening and they jointly decided to admit him in hospital as soon as possible. Our family could not even think to decide for any critical issues without Mama’s consent. Mama’s love was exemplary with his brother and sisters family.
I was just a kid when I used to look at Mama’s correspondence, his engagement with big personnel, his whole day writings in weekend and day with full of activities. Later I came to know his dedicated service for Islamic movement and establishment of many more educational institutions which can provide ‘Quality with Morality’ education in Bangladesh.
I saw Mama visiting our home with late Mr. Badiul Alim who jointly visited many countries in the world to collect funds to launch IIUC. I have to admit here that Prof. Dr. M. Loqman was not only one of the founders of IIUC but also a visionary of IIUC, Dhaka Campus. I am still trying to catch up more information on Prof. M. Loqman and wondering day by day after his passing away from this world, because Mama never advertise himself nor he let anyone to do so in his lifetime. It is worth feeling to attend some of the programs where people saying
good things, unknown things about Mama. I am sure there are still lot of students and known people of Dr. M. Loqman who can share many unknown quality and service history of Mama.
Please let us all make dua for late educationalist Prof. M. Loqman and try to follow Quran and Sunnah in our family and professional affairs.
Ma-assalam
BR/Ibrahim
61579
৩১
OZONE PARK, BROOKLYN NEW YORK থেকে MD ABU YUSUF লিখেছেন,
০৪ জুলাই ২০১১; দুপুর ০৩:৩৭
Dr Lokman will be remembered for his warmth, gracious and broad hearted etiquette to everyone he met. In his death we have lost a caring relative. May his soul be rested in eternal peace.
We mourn the death of such outstanding personality and offering our deepest condolences to the bereaved members of his family and lets pray to Almighty to give them the strength to endure this irreparable loss.
61594
৩২
Dhanmondi থেকে Saima Sabiha Kamal ( daughter-in-law of Dr. Loqman and wife of Raihan Jamil) লিখেছেন,
০৪ জুলাই ২০১১; রাত ০৮:০৫
Assalamualaikum.
I want to thank all those who shared their feelings about my dear father-in-law Professor Dr. Md. Loqman.
Abba was an amazing person mashAllah. His knowledge and dedication to the Islamic movement and Islamic education was vast. He tried his heart and soul to implement Islam in all areas of his life.
In his personal life, he encouraged all family members to practise Islam with dedication. I found Abba to be warm and caring to each and every family member. He encouraged us to recite Quran, memorize important duas and ayats, perform salat sincerely, encouraged his sons to go to Masjid for the 5 daily prayers. He loved entertaining guests and loved visiting relatives. He was extremely patient and always in a good mood. Although sometimes he got quite sick he tried to do his own tasks and rarely asked for anybody's help.
My own father died before my marriage, so when I came into the family my father-in-law welcomed me as if my own father. I was so happy that I could call him "Abba".
Abba cared for me like his own daughter, sometimes taking me with him on different places. I remember going to an education fair where IIUC had a stall and he introduced everyone there to me. Since I started teaching at IIUC, often we would eat breakfast together and go out together. He would drop me off at the female campus and then go to his office. All those things are just memories now!
Abba was so caring towards his relatives. Although he was a very busy person, any free time he found he would go visit his relatives. He absolutely loved his two sisters and brother Ishak kakku. One of his favorite things to do was talk to his brother and two sisters. He loved his nephews and nieces very much and were very happy whenever they visited us.
His attitude and demeanor to guests was so nice and warm. One incident that happened recently was one of my cousin Masud bhaiya was leaving for US. His flight was at 4am and he would leave our home at 1am to catch the flight. Since it was too late to bid goodbye to my father-in-law he decided he will say salam beforehand around 11:30pm. I mentioned to Abba my cousin wanted to say salam but Abba said to call him at 1am when my cousin leaves. So around 1am I knocked in his bedroom door and he came out and walked my cousin downstairs and bid him goodbye. His hospitality towards guests was so remarkable!
He loved his grandchildren so much. He used to get worried to see any of them sick or crying. He would always remind his sons/daughter-in-laws to go to doctor if the grandchildren are sick. He never got annoyed with their playing in front of his jainamaj. He smiled whenever he saw them going to the masjid with his two sons. Ibadi and Ihsan talk about their dada often and miss him dearly! Ishati is too small to understand.
Abba used to wake everyone in the household for fajar prayer. He used to pray tahajjud as often as possible. Eid will never be the same without him. Every Eid he would give us gifts and also Eid money. Before going to Eid salat, he would remember to give each of us our eid money, even the maid servants would get their share.
I make dua to Allah to accept all his good deeds and forgive any mistakes he might have done. He was dedicated soul in carrying Islam in all walks of his life. May Allah accept all his hard work and dedication and grant him the highest place in Jannah!
61628
৩৩
Kolabagan,Dhaka. থেকে Monju, লিখেছেন,
০৪ জুলাই ২০১১; রাত ১১:৩২
Many many thanks to Raihan & Saima. We,everybody happy to know from your side about our Sir. It's really a clear sketch of an ideal father,father-in-law,Grandpa and also a complete Man..Same thanks to Sobuj, Ibrahim and all.
We should follow our sir about his caring & good feelings to relatives..May Allah Accept him for jannah & allow us to join with him at there.
61648
৩৪
ধানমন্ডি, ঢাকা। থেকে মাহমুদ লিখেছেন,
০৫ জুলাই ২০১১; সকাল ১০:০৬
মঞ্জু ভাইয়ের সুন্দর লেখাটি পড়ার সুবাদে আরো অনেক কলামিস্ট তৈরী হলো যারা প্রফেসর ড. লোকমান সাহেবকে নিয়ে অনেক সুন্দর লিখেছেন। অনেক কিছু জানা হলো। বিশেষ করে রায়হান ভাই, সায়মা ভাবী, ইব্রাহীমকে অনেক ধন্যবাদ।
61694
৩৫
Doha, Qatar. থেকে Md Monirul Haque লিখেছেন,
০৫ জুলাই ২০১১; সকাল ১০:৪৮
I am not able to express my feeling's about Lokman sir. May Allah (SWT) give him Jannat ul Fardaus, Amin.
61697
৩৬
Chittagong থেকে Salahuddin লিখেছেন,
০৫ জুলাই ২০১১; সকাল ১১:৪৬
Really loss of a very learned and erudite personality. May Allah bless him JANNAH.
61701
৩৭
Riyadh থেকে Md. Nurul Amin লিখেছেন,
০৫ জুলাই ২০১১; দুপুর ০১:০৩
Dear all thanks a lot. Once I took the opportunity to invite Professor Dr. Lokman in my house in Riyadh with his brother Mr. Ishaq along with his family. I found him very sincere, dedicated and devoted to Islam. I was listening to his virtual speech; it was focusing the light of Islam in all respect. He was very simple as like our great prophet Mohammad (peace be upon him) said “the people of paradise will be simple”. It’s a great sad to all of us. I pray to the almighty Allah to accept his all work and grant him rewards. Ameen.
61709
৩৮
Montreal থেকে Akmal লিখেছেন,
০৫ জুলাই ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:৪৩
All praise is due to Allah, the Lord of the universe.
May His peace and blessings be upon the noble Prophet Muhammad (Peace be upon him),
his faithful companions and dutiful followers till the end of time, amin.
Many Thanks for sharing about professor Dr. Muhammad Lokman Sir.
I believe this article will inspire many people. May Allah reward him Jannatul Ferdous.
61743
৩৯
সিডনী, অস্ট্রেলিয়া থেকে শফিকুর রহমান লিখেছেন,
০৫ জুলাই ২০১১; রাত ০৯:২২
লোকমান স্যারের সাথে আমার পরিচয় ১৯৯৯ সাল থেকে। পরিচয়ের দেড় দুই বছরের মধ্যেই উনার সাথে IIUC Dhaka Campus এর MBA Coordinator হিসেবে নিয়মিত আমার কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে অফিসিয়াল অনেক বিষয়ে আমি একমত হতে পারতাম না; কিন্ত অল্পকিছুদিনের মধ্যেই তিনি আমাকে এমন আপন করে নেন, লোকজন আমদের ঘনিষ্ঠতা দেখে হতভম্ব হয়ে যেত। একটা উদাহরন দেই, আমি যদি ঢাকায় উপস্থিত থাকতাম, তাহলে উনি মিটিং এর schedule এমন ভাবে দিতেন যেন আমার মিটিং এ উপস্থিত থাকতে সুবিধা হয়।
তিনি ছিলেন দয়ার সাগর, কেউ যদি উনার কাছে চাকুরীর জন্যে আসতো, উনি সাথে সাথে বিভিন্ন যায়গায় ফোন করে অনুরোধ করতেন। তিনি নামাজ পরতেন খুবই মনোযোগ সহকারে। বিশেষ করে, MBA Office এর কাজ শেষ করতে অনেক সময়ই রাত নয়টা সাড়ে নয়টা বাজতো, উনি সবাইকে নিয়ে জামাতে নামাজ পরে তার পর বাসায় যেতেন।
অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী সংগঠন IPDC'র আমন্ত্রনে তিনি কয়েক বছর আগে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। উনারা লোকমান স্যারকে এমন ভাবে মনে রেখেছেন যে, উনার শোক সংবাদ Sydney'েত পৌছার সাথে সাথে আমার কাছে একের পর এক এসএমএস, ফোন কল আর ইমেইল আসতে থাকে। স্যারের প্রিয় লোকগুলোর কান্না ভেজা কন্ঠ শুনে মন হয় যেন তারা পরিবারের একজন সদস্য হারিয়েছে। মুহু্্্র্তের মধ্যে Sydney, Melbourne সহ সব যায়গায় খবর পৌছে যায়। সাথে সাথে এটাও সিদ্বান্ত হয়ে যায় যে সিউনিতে লোকমান স্যারের জীবনীর উপর একটা আলোচনা সভা হবে এবং সেখানে যেন আমি অবশ্যই কিছু কথা বলি।
স্যারের সরলতা সর্বজনবিদিত। উনার কাছে একটি গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বে চাকুরী পাবার জন্যে একজন সন্মনিত ব্যাক্তি অনেকদিন ধরেই অনুরোধ করছিলেন। উনি আমার মতামত চাইলে পরোক্ষ ভাবে আমি নেতিবাচক মনোভাব জানাই। কিন্তু লোকমান স্যারের মত একজন নেহায়েত ভদ্রলোকের পক্ষে অনুরোধ উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলেই তিনি তাকে চাকুরী দিলেন, অথচ এই ব্যাক্তির কারেনেই স্যারকে অনেক যন্ত্রনা পোহাতে হয়েছে।
অসম্ভব পরিশ্রমি ছিলেন লোকমান স্যার। দিনের বেলা ক্যামপাসের কাজ শেষ করে রাত ১০টা ১১ টা পর্যন্ত হোস্টেল ভিজিট করতেন, অনায়াসে চারতলা, পাচতলায় উঠেযেতেন, কারো নি্ষেধ শুনতেন না। একবার চিটাগাং থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরতে গিয়ে আমি আর স্যার দুজনেই এয়ারপোর্টের পথে ট্রাফিক জ্যামে আটকে যাই। আমরা গাড়ি ছেড়ে হাটতে থাকি, এমন সময় শুরু হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। আমি আর স্যার রাতের অন্ধকারে বুক চিরে ভিজে ভিজে শাহ আমানত এয়ারপোর্টের দিকে হাটতে থাকি। পরে ফ্লাইট পেয়েছিলাম, কেননা বিমান ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্যে লেট করেছিল।
লোকমান স্যার নেই, মনে হলেই বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে, চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। মাত্র কয়েকদিন আগে স্যারের বাসায় সকালের নাস্তার দাওয়াত ছিল, একসাথে খেয়েছি, দেখেছি স্যারের প্রাণখোলা হাসি। আজ উনি নেই। সব কিছু শুন্য করে আল্লাহর কাছে চলে গেছেন। সম্পর্কের সুরুটা খুব মধুর ছিলনা, আর শেষেরটা এমন হলো, যেন আমাকে বাবার অভাব ভুলিয়ে দিয়েছিলেন।
কবির ভাষায় বলতে গেলে
"এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ,
মরনে তাহাই তুমি করে গেলে দান"
61751
৪০
ড. লোকমান এর বাসা থেকে রায়হান জামিল লিখেছেন,
০৫ জুলাই ২০১১; রাত ১১:৫৫
আসসালামুআলাইকুম,
please read the following link
http://sonarbangladesh.com/blog/sazadi786/47801
61763
৪১
Oman থেকে A F M S MOULA(Shamim) লিখেছেন,
১১ জুলাই ২০১১; বিকেল ০৫:৫৬
Assalamualaikum,
I was shocked after hearing this news Prof. Lokman is no longer on earth,Actually i coldnt belive first but later this is the universal truth man is mortal.Though he is not our direct teacher but i knew many more about him as he is father of raihan jamil vai .
i m making dua that his eternal soul to the way of jannah .
shamim.
Sandwip,Chittagong,Bangladesh থেকে Muhammad Fasihul Alam লিখেছেন,
১৩ অগাস্ট ২০১১; রাত ১০:০৯
Assalamu alaikumwarhmatullah.
He was a symbol of ideology,truth & struggle.I saw him closely the same in my boyhood when I was a varsity student then the same when I grew up. He is an inspiration for many who wish to build & dedicate themselves for salvation and betterment of mankind.
65324
৪৪
USA থেকে Afzal Khan লিখেছেন,
১৪ অগাস্ট ২০১১; রাত ০৩:০৯
Innalillahi-Wa-Inna-Ilihi- Rajiun. May Allah forgive him and provide him the best Jannah. Now our obligation is to inquire about his family and provide any kind of support if his family needs. We all have to leave this world and we do not have any control and this is Qadar from Allah. After the death of our beloved Prophet when Muslims become speechless and started behaving emotionally loosing beloved one and guardian. After taking the leadership of the Muslims Hazrat Abu Bakar Siddique gave a very short speech to remind the Muslims including Hazrat Omar Faroque regarding the responsibilities of the Muslims after Rasul uffat. Hazrat Abu Bakar said "Those who worship Mohammed(s.a.w) he is dead and no more with us and will not come back again to us. But those who worship Allah, He is there and will be there for ever. Also Kitab of Allah and Sunnah of our Rasul will never die. So to fulfill brother Muhammad Lokman's dream we have to study Islam and Seraah of our Rasul correctly and propagate it to others and to follow in our life. Allah created a method for us when one leaves another will take place. If there is none Allah will make one from us. Because Allah said he will protect his Deen by the Muslims. Inshaallah may be one of his followers will rise up to do the job. Let us pray to Allah to give us quality leader like him.
65337
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
হেমায়েত ভাইয়ের মতো, বলতে চাই,
যারা চলে যাচ্ছেন তাদের কি কোন রিপ্রেসমেন্ট হবে এ আন্দোলনে?