|
ফাল্গুনের আনন্দ, আনন্দের মেলা...
মোমিন মেহেদী |
|
আমাদের প্রাণের মেলা, বই মেলা। আর এই মেলাকে ঘিরে থাকে অগণিত লেখকের গর্ভপাত উৎসব। একসাথে, একই মাসে হাজার হাজার গর্ভবতী লেখক-কবির গর্ভপাত হয় এই মেলা প্রাঙ্গণে। তারই সূত্র ধরে বিগত বছর অর্থাৎ ২০১০ সালের একুশে বই মেলায় প্রকাশিত নতুন বইয়ের সংখ্যা ছিল ২৮৭৯টি বিক্রির আর্থিক পরিমাণ ছিল ২৬ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে মেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয় ২,৭৪১টি নতুন বই এবং বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ২১ কোটি টাকা। সে বছর কবিতার বইয়ের সংখ্যা ৮০৭টি, উপন্যাস ৫৮১টি, গল্প ৩৭৮টি, প্রবন্ধ ২৫৫টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ১১০টি, জীবনী ১৩৪টি এবং শিশুসাহিত্য ১২৯টি। তবে আমাদের দেশে সারা বছর প্রকাশিত বইয়ের তিন-চতুর্থাংশই প্রকাশিত হয় মেলাকে সামনে রেখে। বাংলাদেশে সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশকের সংখ্যা প্রায় ৩০০। সেই সৃজনশীল বই প্রকাশকদের কথা বিবেচনা করেই হয়তো মেলার পরিধি বাড়ানো দরকার বলে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন দেশের অন্যতম প্রধান কবি-লেখক সৈয়দ শামসুল হক। এই মেলায় তাঁর তিনটি বই আলোর মুখ দেখবে। একটির নাম-‘জলেশ্বরীর দিনপত্রী’ প্রকাশ করছে শুদ্ধস্বর প্রকাশনী। একটি প্রবন্ধের বই এবং অন্যটি ‘ভালোবাসার রাতে’ নামে কবিতার বই।
একুশের বইমেলা প্রসঙ্গে সৈয়দ হক বলেন, এ মেলা আমাদের প্রাণের মেলা। একে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। মেলার পরিধি বাড়ানো দরকার। বাংলা একাডেমী পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। আগামী বছর থেকে মেলা আরও সম্প্রসারিত হবে, এ প্রত্যাশা আমরা করতে পারি। এবারের মেলা আগের চেয়ে আরও সুন্দর হবে, এ প্রত্যাশাও করছি। প্রত্যয়ে প্রত্যাশায় এগিয়ে চলা ‘খেলা রাম খেলে যা’ খ্যাত আমাদের আগামীর আলো আঁকা কাব্য পুরুষ সৈয়দ শামসুল হকের জীবন বোধের অমিয় ধারায় বয়ে চলুক কবিতার নদী, প্রত্যাশা সকল কাব্যজ মানুষের। বই, আমাদের শিল্প সংস্কৃতি দর্শনে যুক্ত হওয়া অনন্য মাত্রা। হাজার বছর ধরে পথ চলার পর তৈরি হয়েছে আমাদের আজকের বইয়ের অবস্থান। বাংলা বইয়ের প্রকাশনা এবং বইমেলা নিয়ে পথ চলা, তাও প্রায় অর্ধশত বছর। যার শুরুটা করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ ভূখন্ডে বইমেলার প্রতিষ্ঠাতা 'মুক্তধারা' প্রকাশনীর চিত্তরঞ্জন সাহা। আমাদের এই বইপ্রিয় মানুষটি ১৯৭২ সালের যুদ্ধপরবর্তী একটি অগোছালো দেশে বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বটতলায় চটের ওপর কয়েকটি বই বিছিয়ে প্রথম বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। ১৯৭১ সালে ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশি লেখকদের ৩২টি বই প্রকাশ করেন চিত্তরঞ্জন সাহা। ওই বইগুলোই আমাদের 'অমর একুশে বইমেলার' প্রথম বই। ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চিত্তরঞ্জন সাহা একাই তার এ মেলার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বাংলা একাডেমী এ মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বেশ পরে। ১৯৭৮ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি মেলার সঙ্গে যুক্ত হয়। পরের বছরই 'বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা প্রকাশক সমিতি' চিত্তরঞ্জন সাহার সঙ্গে এ মেলায় যোগ দেয়। এভাবে মেলাটিকে পূর্ণাঙ্গ বইমেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশ অনেকটা সময় লেগে যায়। আজ আমরা একুশের রক্তাক্ত ফাল্গুনে দাঁড়িয়ে বইমেলার রুপ উপভোগ করি; তাও তাঁর প্রাণের উজ্জ্বল প্রকাশ। আজ এই বইয়ের উৎসবটি বাঙালির প্রাণের উৎসবে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে ব্র্যাক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, প্রশিকা, ইউনিসেফ-এর মত এনজিওগুলোও এগিয়ে আসছে বইয়ের এই উৎসবে। সাধারণত বইয়ের ক্রেতা হলো সাধারণ লোকজন। আমাদের বইয়ের বাজার বাংলাবাজারে বই তৈরি হলেও সেখান থেকে পাইকারি ক্রেতারাই বই কেনেন। খুচরা ক্রেতা বাংলাবাজারে খুবই কম। বাংলাবাজারের বেশিরভাগ বই চলে যায় নীলক্ষেত, নিউমার্কেট এবং আজিজ মার্কেটে। সারা বছর বই বিক্রি হলেও মেলায় বিক্রি হয় হাজার রকমের বই, হাজার রকম লেখকের বই। যা আমাদের বর্তমান আগামীর জন্য শুধু আনন্দেরই নয় স্বাচ্ছন্দেরও...
স্বাচ্ছন্দের এই নীলাভ আকাশে বই মেলা উৎসব, বই মেলা সুখ। এই সুখকে পূঁজি করেই লেখক-কবি তাদের পোড় খাওয়া জীবনের অনুপ্রাস-অন্তপ্রাস খোঁজেন। আমদের দেশে উপন্যাস, গল্পের বইয়ের বাজার মূলত মেলাকেন্দ্রিক। আর গবেষণাধর্মী বই চলে সারা বছর। প্রচ্ছদ শিল্পীদের মধ্যে মেলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রায় সবাই। এদের মধ্যে কাইয়ুম চৌধুরী, হাশেম খান, ধ্রুব এষ, সব্যসাচী হাজরা, খলিল রহমান, রঙ, প্রমুখ শিল্পী বইয়ের প্রচ্ছদের কাজে এখন দারুণ ব্যস্ত। এবারের মেলা উপলক্ষে 'মুক্তধারা'র নতুন প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৫টি। গত বছর যে সংখ্যাটি ছিল ১২। মুক্তধারার আবদুল আলী সম্প্রতি একটি পত্রিকার সাথে আলাপকালে জানান, সরকারি এবং এনজিওগুলো এবার সে রকমভাবে বই কিনছে না। সাধারণ মধ্যবিত্তরাই মূলত ক্রেতা। লেখক সম্মানী বিষয়ে তিনি জানান, অনেক লেখককে সম্মানীর টাকা অগ্রিম দিতে হয়, বাকিরা শর্তানুসারে টাকা নেন। সাধারণত লেখক সম্মানী বইয়ের দামের ১৫ শতাংশের নিচে নামে না। নকল বইয়ের কারণে মূল প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হলেও আবদুল আলী মনে করেন, নীলক্ষেতে নকল বই বিক্রি না হলে অনেক ছাত্রের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যেত। কেননা কিছু কিছু ক্ষেত্রে আসল পাঠ্যপুস্তকের দাম মধ্যবিত্ত ছাত্রছাত্রীদের নাগালের বাইরে। নবীন লেখকদের বই প্রকাশের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রকাশকই অনিচ্ছুক। কেননা পাঠক নির্দিষ্ট কিছু লেখক ছাড়া আর কারও বই পড়ে না। আমাদের দেশে মেলার সময়ে যে বিশাল লোকসমাগম দেখা দেয় তারা মূলত মেলাকেন্দ্রিক পাঠক। ফলে তারা চেনা লেখকদের বই-ই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রাখেন। একটি মেলা দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। ফলে নতুন লেখকদের বই আমরা সাধারণত করি না। আর্থিক ঝুঁকির কথা চিন্তা করেই প্রকাশকরা নতুনদের বই ছাপতে রাজি নন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেখকরা যদি বই প্রকাশের ব্যয় বহন করেন তাহলে প্রকাশক তা ছাপতে রাজি হন। সেক্ষেত্রে সমপরিমাণ টাকার বই লেখককে দিয়ে দেওয়া হয়। প্রকাশনার এই মাধ্যমটিতে এগিয়ে আসছেন অনেকেই।
লাভ বা লোকশান হিসেব করে নয়; মনের তৃপ্তি থেকে প্রকাশনা ব্যবসায় এসেছেন অসংখ্য তরুণ। সেই তরুণদের বিজয় কেতন উড়ছে বইয়ের জগতে। বিশেষ করে ইত্যাদি প্রকাশ, সাউন্ডবাংলা, সাহিত্যদেশ, প্রতিভা প্রকাশ, সাহস প্রকাশন, ভাষাচিত্রসহ বেশকিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাচ্ছে বইয়ের টানে, বইয়ের ঘ্রাণে। এই বইময় আগামীতে জীবনকে জড়িয়ে দেশের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ থেকে শুরু করে তরুণতম কবি-লেখক হাফিজুর রহমান শাকিল বা লিন্ডা আমিন পর্যন্ত বইয়ের যাত্রাপথে পথিক হয়েছেন। মেলায় বই প্রকাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন জানান, এই মেলায় আমার একটি কবিতার বই আসবে। বইটির নাম-সব জনমে শত্রু ছিল যে। এছাড়াও কবি কচি রেজা, শান্তা ফারজানা, নবীর হোসাইন, প্রিন্স আশরাফ, রুমানা বৈশাখী, মারুফ ওয়েসিস প্রমুখ তরুণ কবিদের বই থাকবে মেলার বাড়তি যোগ। কবি রবীন্দ্র গোপ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডবাংলা থেকে প্রকাশ করেছিলেন ভালোবাসার এপার ওপার। তারপর অনেক বই বের হলেও সেই স্মৃতি আজো মনের ঘরে এসে উঁকি মারে বলে জানান তিনি। এই মেলাতে তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। এছাড়াও মেলাকে কেন্দ্র করে কাজ করে যাওয়া প্রকাশকদের মধ্যে একজন শফিকুল ইসলাম জানান, আমার প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান সাহিত্যদেশ থেকে প্রকাশিত হচ্ছে প্রায় ২৫টি বই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রকাশিত দেশের প্রথম জীবনীছড়া গ্রন্থ ‘আমাদের পিতা তিনি আমাদের মিতাও’। একটি ছড়ায় বঙ্গবন্ধুর পুরো জীবন তুলে আনা হয়েছে। আশাকরি ৪৫৫ লাইনের চমৎকার এই বইটি সবশ্রেণীর পাঠকের ভাল লাগবে।
শিশুতোষ বইয়ের চাহিদাও প্রচুর থাকে বই মেলায়। দেশ বরেণ্য কবি আসাদ চৌধুরী, মুহম্মদ নূরুল হুদা, হাসান হাফিজ, নাসির আহমেদ, জরিনা আখতার, রুবী রহমান, রিজিয়া সুলতানা প্রমুখের কাব্যগ্রন্থের ডামাডোল ইতোমধ্যেই বাজা শুরু হয়েছে। তবে মেলাকে ঘিরে ব্যতিক্রম কথা বলেছেন আমাদের চারদশকের বাংলা কবিতার শক্তিমান কবি সাযযাদ কাদির। তিনি মনে করেন মিডিয়ার উচিত সাহিত্য জগতে তারকার সংখ্যা বাড়ানো। তিনি বলেছেন, প্রতি বছরই একুশের বইমেলায় আমার চার-পাঁচটি করে বই প্রকাশ পেয়ে থাকে। এবারও প্রকাশকরা কয়েকটি পান্ডুলিপি নিয়ে গেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোন কোনটা যে শেষ পর্যন্ত বেরুবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। বইমেলার জায়গাটা আসলে বাড়ানো দরকার, ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার। পাঠকরা মেলায় এসে যদি বই নাড়াচাড়া করতে না পারে, তাহলে কীভাবে তারা বই পছন্দ করে কিনবে? মেলায় শৃঙ্খলাটাও থাকতে হবে। মেলার নিয়মকানুনগুলো যাতে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের সহায়ক হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। লেখক-প্রকাশকদের সম্পর্ক আরও উন্নত করতে হবে। এ ব্যাপারে মিডিয়ার একটা দায়িত্ব আছে। আসলে আমাদের সাহিত্য জগতে তারকার সংখ্যা কমে গেছে। মিডিয়ার উচিত তারকার সংখ্যা বাড়ানো। সব সময় মিডিয়াতে হাতেগোনা নির্দিষ্ট কয়েকজন লেখক, প্রকাশকের উপস্থিতি দেখা যায়। এটা তারকা সৃষ্টির অন্তরায়। অথচ মেলায় বহু বিষয়ে ভালো বই প্রকাশ পায়, যেগুলো মোটেও আলোচনায় আসে না। অনেক ভালো লেখকও আছেন যাদের মিডিয়ায় তেমন প্রচার করা হয় না। তবুও তাদের বই বের হচ্ছে, তারা লিখছেন, পাঠকও পড়ছেন। আমাদের মিডিয়াগুলোর উচিত আরও ভালোভাবে তাদের তুলে ধরা। এটা করা হলে লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। এই হলেন কবি সাযযাদ কাদির বই মেলা নিয়ে অ-নে-ক আগ্রহ, অনেক ভালোবাসা...
কথাশিল্পী রাহাত খান, রাবেয়া খাতুন, ইমদাদুল হক মিলন, সালাম সালেহউদিদন, আন্দালিব রাশদী, তসলিমা নাসরীন, তাপস মজুমদার, নাসরীন জাহান, নূর কামরুন নাহার, মনি হায়দার, রওশন আখতার প্রমুখের বইয়ের প্রতিও মেলায় থাকে অন্যরকম আকষর্ণ। যা পাঠমাত্রই দৃষ্টিনন্দিত। ছড়াকার ফয়েজ আহমদ, আখতার হুসেন, আলী হাবিব, শাহাবুদ্দিন নাগরী, আশরাফুল আলম পিন্টু, আহসান মালেক, নাসের মাহমুদ, রাশেদ রউফ, তাহমিনা কোরাইশী, আসলাম সানী, রোকেয়া ইসলাম, আয়াত আলী পাটওয়ারী, আনজির লিটন, জগলুল হায়দার, মানসুর মুজাম্মিল, একে আজাদ, মানিক চক্রবর্তী, লোকমান আহমেদ আপন, নীহার মোশারফ, তানভীর আলাদিন প্রমুখের বেরুবে ছড়ায় ছন্দিত আনন্দ বই। যা মেলায় শিশু-কিশোরদের জন্য থাকবে অতি মাত্রার খুশির উপহার। এইসব উপহারের দোলনায় দুলে উঠবে আমাদের মেলা, আমাদের ভাষা উৎসব...
mominmahadi@gmail.com
21/a topkhana road (Konica) Dhaka- 1000
01712740015 |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/MomenMahadi |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
মোমিন মেহেদী। তরুনদের মধ্যে এগিয়ে থাকা সাহসী সৈনিক। সত্যকে সত্য আর মিথ্যেকে মিথ্যে বলার বলিষ্ঠতা আছে তার। আর একারনেই পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে কেউ কেউ। দেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমানের স্নেহধন্য মোমিন মেহেদী বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার আন্দোলন জোটের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের শীর্ষস্থানিয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি প্রচারিতব্য একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দৈনিক যুগান্তর, সমাচার, খবরপত্রসহ বিভিন্ন কাগজে কাজ করে অভিজ্ঞতার ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। ১৯৮৫ সালের ২৮ আগস্ট ময়মনসিংহে জন্মগ্রহনকারি মোমিন মেহেদীর পৈত্রিকনিবাস বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে। তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে। বর্তমানে তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ১১। এরমধ্যে ডিভোর্স (২০০৫), শকুনেরা উড়ছে (২০০৬), জীবনজুড়ে যুদ্ধ (২০০৭), কাকতাড়য়ার দেশে (২০০৭), আমার আকাশ তোমায় দিলাম (২০০৮), এই চাকাটা ভালোবাসার (২০০৯), ছন্দ ছড়ায় বঙ্গবন্ধু (২০০৯), সাহসের জোস্নায় শান্তজ সুখ (২০১০), যে শহরে তুমি নেই (২০১০), তোমায় দেব না ছুটি, উল্লেখযোগ্য। তিনি ভালোবাসেন তার জীবনসাথী শান্তা ফারজানাকে আর শান্তজ গল্পকে। অনন্ত সাহসের পথে নির্ভিক পথিক মোমিন মেহেদীর মূল লক্ষ্য সাংবাদিকতা, লেখালেখি, গান, গল্প, নাটকের সাথেসাথে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে স্বাধীনতার সুখকে প্রতিষ্ঠিত করা। তিনি সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা (২০০১), মেহেন্দীগঞ্জ ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক (২০০২), অর্নিবান সম্মাননা (২০০৩), বাংলাভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র সম্মাননা পুরস্কার (২০০৪), বাঁধনহারা সম্মাননা (২০০৬), কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত সম্মাননা (২০০৭), বঙ্গবন্ধু সম্মাননা (২০০৮), চন্দ্রিমা সাহিত্য সম্মাননা (২০০৯), আনন্দ আড্ডা সাহিত্য পুরস্কার, ভারত (২০০৯), কবি গুরু সম্মাননা (২০১০), নক্ষত্র সাহিত্য পদক (২০১০) ও পুন্ড্রবর্ধন সম্মাননা পেয়েছেন। প্রকৃত মানুষের জন্য তার বক্তব্য হলো- মানুষ মানুষের জন্য...
তোমাদের মত ছোট বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু হয় তার। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেফাক-এর কচি কাঁচার আসরে ১৯৯৫ সালে। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত দৈনিক বাংলা, দৈনিক জনকন্ঠ, যুগান্তর, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি লিখছেন। তার লেখক নাম মোমিন মেহেদী। ছোটদের পাশাপাশি বড়দের জন্যে লিখে চলা এই লেখকের জন্ম ২৮ আগস্ট ১৯৮৫ তে ময়মনসিংহ শহরে। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে। শৈশব কৈশোর আর তারুণ্যের প্রথমাংশ কেটেছে কর্ণফুলী, শীতলক্ষ্যা, মাসকাটা, ঈলশা, কীর্তণখোলার জল ছলছল এলাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক মোমিন মেহেদী উচ্চশিক্ষার্থে ইংল্যান্ডের লন্ডনে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্বাধীনতা-স্বাধীকার আর আগামীর আলোকিত সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা এই লেখকের প্রতিটি লেখাই তোমাদের ভালো লাগার দোলনা চড়াবে। তোমাদের জন্য তার লেখা বইয়ের মধ্যে কাকতাড়য়ার দেশে (ছড়া), ছন্দ ছড়ায় বঙ্গবন্ধু (ছড়া), এই ভুত সেই ভুত (গল্প) হিপ হিপ হুররে... (গল্প), আমাদের পিতা তিনি আমাদের মিতাও (ছড়া) উল্লেখযোগ্য। তোমাদের আরেক গল্পবন্ধু শান্তা ফারজানা মোমিন মেহেদীর সহধর্মীনি। আগামীতে তারা দুজন তোমাদের মধ্যে দেশ, মানুষ আর মায়ের ভালোবাসা তৈরির জন্য, দেশকে গড়ার জন্য আরো লিখবেন; এ প্রত্যাশা আমাদের সকলের...
আহমেদ কায়সার |
|
ধন্যবাদ দিয়ে েছাট করবো না। চমৎকার এই লেখাটির খোঁজ দেয়ার জন্য শুভ কামনা থাকলো বহুদূর যাওয়ার। আশা করি আরো সম্মৃদ্ধ হবে। তোমার সেই শৈশবের, কৈশোরের দিনগুলোর দিকে তাকিয়েই বলছি, এগিয়ে যাও অকুতোভয় সৈনিকের মত, আমরা আছি আলোকমাশাল হাতে। ফেসবুকে সানন্দায় প্রকাশিত তোমার কবিতাটি দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছি, জনকন্ঠের লেখাটিও দেখলাম; অসাধারন। আবারও শুভেচ্ছা থাকলো।