|
ইসলামে শ্রম অধিকার রূপ রেখা
মনির হোসেন হেলালী |
|
মানুষের হালাল জীবিকা উপার্জনের প্রধান উপায় হচ্ছে শ্রম। মানুষের পার্থিব জীবন যাতে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত না হয় সেজন্য ইসলাম পরিশ্রম করাকে উৎসাহিত করেছে, একই সাথে এটিকে ইবাদাত হিসেবেও গণ্য করা হয়েছে। আল কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর মানুষের প্রাপ্য শুধু তা, যার জন্য সে চেষ্টা ও শ্রম করেছে। চেষ্টা ও শ্রম অবশ্যই গুরুত্ব পাবে এবং চেষ্টা ও শ্রমকারীকে তার পূর্ণমাত্রার প্রতিফলন অবশ্যই দেয়া হবে’ [সূরা-আন নজম : ৩৯-৪১]। শ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর তাগিদ দিয়ে আল কুরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।’ [সূরা রা’দ : ১১] আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা ফরজের পরে ফরজ। (বায়হাকী)
সমগ্র বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি আদায়ের সুদীর্ঘ রক্তয়ী সংগ্রামের এক স্মরণীয় দিন ‘পহেলা মে’। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী শ্রমজীবী মানুষ দিবসটি পালন করে এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রকাশ করে। মে দিবসের প্রতিপাদ্য চেতনা মূলত ইসলামী ভাবধারা থেকেই উৎপত্তি লাভ করেছে। মে দিবস, শ্রমিক শ্রেণী, শ্রমের মর্যাদা, ন্যূনতম মজুরি, শ্রম শোষণ, শ্রমিক মালিক সম্পর্ক- এসব বিষয়ে রয়েছে ইসলামের যথার্থ ব্যাখ্যা ও দিক নির্দেশনা।
বর্তমান শ্রমিক দিবসের গোড়ায় রয়েছে একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৮৮৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের প্রতি নিপীড়ন এবং তৎপরবর্তী রক্তক্ষয়ী শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়ে আমরা যতটুকু জানি ইসলাম পূর্বকালীন শ্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ততটুকু জানি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আবির্ভাবের পূর্বকালে খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার ছিল উপেক্ষিত। শ্রমজীবী মানুষ পণ্যদ্রব্যের মতো হাটবাজারে বেচাকেনা হতো। অনেকেরই পায়ে পরিয়ে দেয়া হতো চিরদাসত্বের শিকল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রমজীবীদের এ করুণ দৃশ্য দেখে মন্তব্য করেছেন- আমি জানি ইসলামের পূর্বে খেটে খাওয়া মানুষের কোন সামাজিক মর্যাদা ছিল না, তাদের পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট মনে করা হতো। সে সমাজে ধনী ও নেতারা নিজেদের সব মানসম্মানের মালিক মনে করত। আল্লাহর বান্দারা ভুলে গিয়েছিল, সব মানুষ সমান এবং সব মানুষ ন্যায়বিচার লাভের অধিকারী। তারা ভাবত, অধীনস্থদের জীবনের একমাত্র ব্রত হচ্ছে মালিকের সেবা করা এবং তাদের কৃত সব জুলুম-অত্যাচার সহ্য করা। মালিকের কথা ও কাজের প্রতিবাদ করা ছিল মৃত্যুযোগ্য অপরাধ [কানজুল উম্মাল]। এ তথ্য থেকে বুঝা যায়, মে দিবসের চেতনা শিকাগো শহরে নয় বরং ইসলামের আদর্শ থেকেই নিঃসৃত।
১৮৮৬ সালে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ওই সময় তাদের নির্দিষ্ট কোন কর্মঘণ্টা ছিল না। নামমাত্র মজুরিতে শ্রমিকরা মালিকের ইচ্ছামতো কাজ করতে বাধ্য হতেন। ১৮৮৬ সালের ৩ মে হে মার্কেটে আহূত ধর্মঘটি শ্রমিক সমাবেশে পুলিশের হামলায় ছয়জন শ্রমিক নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৪ মে হাজার হাজার শ্রমিক ফেটে পড়ে বিক্ষোভ। সেদিনও পুলিশের গুলিবর্ষণে পাঁচজন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেন। আন্দোলন গড়ে তোলার অপরাধে কয়েকজন শ্রমিককে মৃত্যুদন্ডও দেয়া হয়। এভাবে প্রাণের বিনিময়ে শ্রমিক শ্রেণী কায়েম করে দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রমের অধিকার। ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ‘পহেলা মে’ আন্তর্জাতিক শ্রমিক ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নির্দিষ্ট শ্রমঘণ্টার সঙ্গে সঙ্গে বেতন বৈষম্য, ন্যূনতম মজুরি, নিয়োগপত্র প্রদানের মতো বিষয়ও আজ শ্রমিকদের জোরালো দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ হচ্ছে বর্তমান কালের শ্রমিক দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
পৃথিবীর সব দেশেই শ্রমজীবী মানুষ রয়েছে, রয়েছে তাদের জন্য শ্রম আইনও। কিন্তু যারা শ্রমিক শ্রেণীর লোক তারা কি তাদের পূর্ণ অধিকার ভোগ করতে পারছে? সাহস করে এ কথা আজ বলা যায় না- পারছে। একটু সচেতনতার দৃষ্টিতে তাকালেই দেখা যায়- পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত ও বঞ্চিত শ্রেণী হলো শ্রমিক শ্রেণী। শ্রমিক আন্দোলনের ফলে পূর্বের তুলনায় এদের অবস্থা কিছুটা উন্নত হলেও এখও মানবেতর অবস্থাই তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে। কারণ শ্রমিকদের কল্যাণে দেশে দেশে প্রতিনিয়ত আইন তৈরি হচ্ছে ঠিক, কিন্তু সে আইন আলোর মুখ দেখেনি। হয়তো দেখবেও না। কারণ পৃথিবীর যেখানেই আইন তৈরি হয়েছে সেখানেই শাসক গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ রা করেই আইন তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। ফলে আইনের পোশাক পরে তারা বারবার কেবল ধোঁকাই দিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকদেরকে।
শ্রম অধিকারের ব্যাপারে ইসলাম যে রূপ রেখা দিয়েছে তা কিয়ামাত পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্বের আসনে থাকবে। আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘শক্তি-সামর্থ্যরে অতিরিক্ত কাজ শ্রমিকদের ওপর চাপাবে না। যদি তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত কোন কাজ তাকে দাও তাহলে সে কাজে তাকে সাহায্য কর [সহীহ আলবুখারী, মুসলিম]। ইবনে উমর রাদি আল্লাহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মজুরের শরীরের ঘাম শুকাবার আগেই তার মজুরী দিয়ে দেবে। [ইবনে মাজাহ] মজুরের মজুরী নির্ধারণ না করে তাকে কাজে নিযুক্ত করতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ভাষায় নিষেধ করেছেন। [সহীহ বুখারী]
আজকের শ্রমিক শ্রেণী সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিপতিদের হাতে চরমভাবে নিস্পেষিত হচ্ছে। আবার কোথাও লাল সম্রাজ্যবাদী সমাজতন্ত্রীদের হাতে। পত্রপত্রিকায় খোঁজ খবর নিলে দেখা যায় শ্রমিকের সাধ্যের বাইরেও আজ অনেক কাজ তাকে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে একজন শ্রমিক দৈনিক ১২-১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় কাজ করতে হচ্ছে; সরকারি ছুটির দিনেও নেই তার বিশ্রাম। তাকে যে পরিমাণ খাটান হয় সে পরিমাণ পারিশ্রমিক দেয়া হয় না। বরং তার উপর নিয়মিত জুলুমই করা হয়ে থাকে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পৃথিবীর কেউ দিতে পারেনি, পারবেও না। কারণ মানুষের চিন্তাপ্রসূত আইন দিয়ে এর সমাধান সম্ভব নয়। শ্রমিকদের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করেছে একমাত্র ইসলাম। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শ হিসেবে শ্রমজীবীদের সকল সমস্যার সার্বিক ও ন্যায়ানুগ সমাধানের দিকনির্দেশ করেছে। শ্রমিকদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে আল কুরআনে বলা হয়েছে- “আমি তোমার উপর কোনরূপ কঠোরতা করতে চাই না, কোন কঠিন দুঃসাধ্য কাজ তোমার উপর চাপাতেও চাই না, আল্লাহ চাহে তো তুমি আমাকে সদাচারী হিসেবেই দেখতে পাবে। [সূরা কাছাছ-২৭] কুরআন মাজিদ আরো বলছে- ‘এবং তোমরা যা কিছু করতেছিলে সে বিষয়ে আমি তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞেস করবো। [সূরা নাহল-৯৩] সূরা নিসার ১০৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে- “যে লোক বিশ্বাস ভঙ্গ করে অর্পিত কাজ বা জিনিস বিনষ্ট করে আল্লাহ তাকে ভালবাসেন না। উক্ত আয়াতগুলোতে শ্রমিক মালিক উভয়ের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে এবং কেউ এর ব্যতিক্রম করলে তাকে যে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে সে দিকেও ইংগিত করা হয়েছে।
বর্তমান দুনিয়ায় শ্রমিকদেরকে ঠকানোর বড়ই প্রতিযোগিতা চলছে। যার কারণে যখন তখন শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। শ্রমিকরা তাদের পাওনা আদায়ে রাজ পথে নামতেও অনেক সময় বাধ্য হয়। এতে এক শ্রেণীর উশৃঙ্খল লোক গাড়ি-বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেশের অনেক মূল্যবান সম্পদও নির্বিচারে ধ্বংস করে থাকে। যা ইসলাম সমর্থন করে না। যারা শ্রমিকের মুজুরি যথার্থভাবে আদায় করবে না কিয়ামাতে তাদের সাথে আল্লাহ তা‘আলার ঝগড়া হবে। আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, কিয়ামাতের দিন তিন ব্যক্তির সাথে আমার ঝগড়া হবে- ১. ঐ ব্যক্তি, যে আমার নামে কোন চুক্তি করে তা ভঙ্গ করেছে ২. সেই ব্যক্তি, যে কোন মুক্ত মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করেছে আর ৩. সেই ব্যক্তি, যে মজুরের দ্বারা কাজ পুরোপুরি করিয়ে নিয়েছে কিন্তু তার পারিশ্রমিক দেয়নি। [সহীহ বুখারী]
প্রতি বছর ১ মে আসলে শ্রমিকের অধিকারের ব্যাপারে নানান কর্মসূচী লক্ষ্য করা যায়। মে মাস চলে গেলে আর কোন খবর থাকে না। প্রকৃত পক্ষে ইসলামের শিক্ষা এমনটি নয়। ইসলামে শ্রমিক-মালিকের মাঝে মানুষ হিসেবে কোন তফাত নেই। মানুষ হিসেবে সবার মর্যাদাই সমান। ইসলামকে বলা হয় সাম্যের ধর্ম। ধন, বংশ ও ভৌগোলিক পরিচয়ের কারণে এখানে কারো মর্যাদা নির্ণীত হয় না। তাকওয়া বা খোদাভীতি হচ্ছে ইসলামের দৃষ্টিতে সম্মান ও মর্যাদার একমাত্র মানদন্ড। আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে ‘নিশ্চয় তোমাদের মাঝে তাকওয়ার দিক থেকে যে এগিয়ে রয়েছে আল্লাহর নিকট সে-ই সবচেয়ে সম্মানিত। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব কিছু জানেন এবং সব বিষয়ে অবহিত।’ [সূরা : হুজরাত-১৩]
এখানে কেউ কারো প্রভু নয়, ভৃত্যও নয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় গরিবদের সঙ্গে থাকতেই পছন্দ করতেন। সাহাবায়ে কিরামও দরিদ্র পরিবেশ নিয়েই থাকতেন। কেউ ধন বা ক্ষমতার বিন্দুমাত্র অহংকার প্রকাশ করুক, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সহ্য করতেন না। তিনি প্রভু-ভৃত্য বা মনিব-গোলামের প্রথাকে ঘৃণা করতেন। সাহাবি আনাস রাদি আল্লাহু আনহু একটানা দশ বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর খেদমত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই দীর্ঘ সময়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর যত না খেদমত করেছি, তিনি আমার খেদমত করেছেন তার চেয়ে অনেক বেশি। তিনি আমাকে মনিবসুলভ ধমক দেয়া তো দূরের কথা, কোনদিন এমন কথাও বলেননি যে, এ কাজ হলো না কেন? আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘বলুন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মত একজন মানুষই।’ [সূরা কাহাফ : ১১০]
১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রম নির্ধারণ। ইসলাম পূর্বকালেও শ্রমিকদের জন্য এরকম শ্রমঘণ্টা নির্ধারিত ছিল না। আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘শক্তি-সামর্থ্যের অতিরিক্ত কাজ শ্রমিকদের ওপর চাপাবে না। যদি তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত কোন কাজ তাকে দাও তাহলে সে কাজে তাকে সাহায্য কর [সহীহ আলবুখারী, মুসলিম]। উমর ইবনে হুরাইস কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের কর্মচারীদের থেকে যতটা হালকা কাজ নেবে তোমাদের আমলনামায় ততটা পুরস্কার ও পুণ্য লেখা হবে [তারগিব ও তারহিব]।
পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে [সূরা আলইনশিরাহ : ৫-৬]। কাজেই একেবারে বিশ্রামহীন কাজ করতে শ্রমিকদের বাধ্য করা যাবে না। নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করার পর তাকে অবসরের সুযোগ দিতে হবে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘লোকদের সহজাত দাও, কঠোরতার মধ্যে নিক্ষেপ করো না।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রমিকদের মজুরি দানের ব্যাপারে কোনরূপ জুলুম করতেন না, জুলুমকে প্রশ্রয় দিতেন না। [সহীহ বুখারী]
ইসলাম বহুকাল আগেই শ্রমিক মালিকের বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এ নীতিমালায় শ্রমিকের প্রতি মালিকের যেরূপ দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বলা আছে, তদ্রুপ মালিকের প্রতিও শ্রমিকের দায়িত্ব কর্তব্যের বিশদ বিবরণ রয়েছে।
ইসলাম শ্রমিকদের বলে দিয়েছে, সে যখনই মালিকের কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করে তখন তা যেন ন্যায়পরায়ণতা ও সততার সঙ্গে করে, সে যেন মালিকের সঙ্গে অযথা বাড়াবাড়ি না করে, মালিকের সম্পদের ক্ষতিসাধন না করে। মালিকের সম্পদ তার কাছে আমানতস্বরূপ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শ্রমিক সযত্ন কাজের মাধ্যমে মালিকের স্বার্থ রা করে যা উপার্জন করে তাই সর্বোত্তম উপার্জন [শরহে মিরআতুল ইসলাম]। তিনি শ্রমিকদের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জোর তাকিদ দিয়ে বলেন, তোমাদের কেউ যখন কোন শ্রমের কাজ করবে তখন তা নিখুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করবে, ইহাই আল্লাহ ভালবাসেন। [বায়হাকী]
ইসলাম যে শ্রমনীতি শিক্ষা দিয়েছে তা সার্বজনীন। মালিক-শ্রমিক উভয়ই যদি ইসলামের শ্রম নীতি মেনে চলেন তাহলে পৃথিবীতে আর বঞ্চিতদের আর্তনাদ শোনা যাবে না, দেখা দেবে না কোন রকম শ্রমিক অসন্তোষও। আমরা সে ধরনের একটি পরিবেশই প্রত্যাশা করছি।
লেখক : প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক
E-mail : mh_helaly2009@yahoo.com |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/MonirHosenHelali |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| |
|