মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:০৯ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

ঈশ্বরের বিবর্তন

মোজাম্মেল হক

সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসেবে মানবজাতির জয়জয়কার সর্বত্র। প্রকৃতির কোন কিছুই একতরফাভাবে মানুষের উপর বিজয়ী হতে পারেনি। জ্ঞান-বিজ্ঞানের নব নব অগ্রযাত্রায় মানুষের শির আরো উন্নত হচ্ছে, বশ মানছে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান। কিন্তু এই মানুষেরই একটি শ্বাশত স্বভাব হল- সে কারো না কারো কাছে মাথা নত করে। কেউ যদিও প্রত্যক্ষভাবে মাথা না নোয়ায় তারপরও অন্ধ সমর্থন বা আনুগত্যেও মধ্য দিয়ে এ স্বভাবের বহি:প্রকাশ ঘটায়। মানুষ নাস্তিক বা আস্তিক যাই হোক না কেন এই স্বভাব প্রকাশ পাবেই। যখন কেউ নাস্তিক হয় তখন তার ঈশ্বর হয়ে দাঁড়ায় নিজের ইচ্ছা-বাসনা বা উর্ধ্বতন ব্যক্তি। কোন মতবাদ বা নিয়ম-প্রথার পিছনে অবিরাম ছুটে চলাটাও এই স্বভাবেরই বহি:প্রকাশ। শুধুমাত্র এককেন্দ্রিক আনুগত্য নয় বরং মিশ্র আনুগত্যও দেখা যায় যেমন স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসী আবার একই সাথে নিজের ইচ্ছা-বিশ্বাসের আনুগত। সত্যিই বড় বিচিত্র এই “মানুষের ঈশ্বর”।

বর্তমানকালের “মানুষের ঈশ্বর”দের মধ্যে সৃষ্টিকর্তা যেমন আছেন তেমনি রয়েছেন ব্যক্তির ইচ্ছা-বাসনা, বিভিন্ন মতবাদের পূজা ইত্যাদি। “মানুষের ঈশ্বর”এর একটি প্রাচীন ধারণা হল ব্যক্তিকেন্দ্রিক ঈশ্বর বা ব্যক্তির পূজা। আদিম সমাজ থেকে এটি আজ পর্যন্ত বিদ্যমান। ঈশ্বরের এই রূপ জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে, তারপরও কখনোই এটি নি:শেষ হয়ে যাবেনা। ব্যক্তিপূজা আধুনিক রূপ ধারণ করলেও মূলনীতির পরিবর্তন হয়নি। এখনো রাজতন্ত্র বা বিভিন্ন ছদ্মাবরণের রাজতন্ত্র, ধর্মীয় লেবাসে আবদ্ধ ব্যক্তিদের কর্তৃত্ব বেশ ভালোভাবেই চলছে। তবে এখন ব্যক্তির পূজার চাইতে গোষ্ঠী বা জাতি, নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকায় বসবাসকারী মানুষের পূজা, নির্দিষ্ট ভাষা-ভাষীদের পূজা ইত্যাদি বিভিন্ন রকম জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটছে এবং ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। “মানুষের ঈশ্বর”এর এই রূপটি সার্বজনীন না হওয়া সত্ত্বে¡ও মানুষ ক্রমবর্ধমানহারে একে সমর্থন করছে।

সার্বজনীন মতবাদরুপী “মানুষের ঈশ্বরদের ” মধ্যে অন্যতম হল “সেক্যুলারিজম”। মানুষ এর উদ্ভব ঘটায় মধ্যযূগীয় ইউরোপে গীর্জা আর শাসকগোষ্ঠীর মিলিত শোষনের হাত থেকে বাঁচতে। এতে গীর্জার বিকৃত বিধান শাষকদের তৎকালীন শোষণকে বৈধতা দিয়ে পরোক্ষভাবে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করত আর শাসক পেত শোষণের নৈতিক সমর্থন। ফলে ধর্মকে দৈনন্দিন জীবন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে গিয়ে সেক্যুলারিজমের উদ্ভব ঘটে। এই মতবাদটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বিশেষ করে পাশ্চাত্যে। পুঁজিবাদ নামে আরেকটি “মানুষের ঈশ্বর” সেক্যুলারিজমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এদুটি মিলে গোটা বিশ্বকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসন করছে।

সার্বজনীন “মানুষের ঈশ্বর”দের আরেকটি হল “সমাজতন্ত্র”। ছোট-বড় সবার সবার সমান ভাগ এমন শ্লোগান দিয়ে এ মতবাদ বেশ সাড়া ফেলে দেয়। তবে এখন জন্মস্থান থেকে বিদায় হলেও বিভিন্ন জায়গায় জোরালোভাবেই এর পূজা চলছে। “মানুষের ঈশ্বর”এর একটি শ্বাশত রূপ হল সৃষ্টিকর্তার ধারণা এবং সৃষ্টিকর্তার বিভিন্ন ক্ষমতার স্বীকৃতি। তবে এই ঈশ্বরের প্রভাবের ব্যাপকতা বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন। কারণ মানবজীবনের বিভিন্ন বিভাগে ধর্মের নির্দেশনা না থাকা। বিশেষ করে খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদী ইত্যাদি বিভিন্ন বড় বড় ধর্মে অর্থনৈতিক, সামাজিক, বিচারিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোন নির্দেশনা নেই। কেবলমাত্র কিছু নিয়ম-প্রথা, উপাসনার বিধান রয়েছে। ফলে এসব “মানুষের ঈশ্বর” মানবজীবনের উপর সর্বব্যাপী প্রভাব রাখতে পারেনা। তবে এক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা ব্যতিক্রম। তারা দাবী করেন যে ইসলামে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য ব্যাপকভিত্তিক নীতিমালা দেয়া আছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থাৎ অর্থনীতি, বিচারনীতি, শাসননীতি ইত্যাদি বিভাগে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতির অনুসরণ পৃথিবীর কিছু কিছু জায়গায় এখনো বিদ্যমান।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ তাদের প্রয়োজন, ঝোঁক-প্রবণতা, অনুযায়ী নতুনরূপে “মানুষের ঈশ্বরের” উদ্ভব ঘটাচ্ছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ হল বিভিন্ন মতবাদ বা অর্থনৈতিক সিষ্টেমকে ঈশ্বরের মর্যাদায় আসীন করা। মানুষের দ্বারা আর কিরূপ “মানুষের ঈশ্বর” তৈরী হয় তা দেখার জন্য আর খুব বেশী সময় অপেক্ষা করতে হবেনা। এক্ষেত্রে বিনোদন, আইটিভিত্তিক এমনকি মিডিয়া সংশ্লিষ্ট নতুন “মানুষের ঈশ্বরের” সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MozammelHouqe
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Bangladesh থেকে Reza লিখেছেন, ২৫ ডিসেম্বর ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৪৪
I agree that man always like to obey others and supplicate him on his feet. Now, the so called god whether it is money or a philosophy or anything all are very durable. If anything cannot sustain until the last it could not be called creator. it is better for anyone to consider these points before supplicate himself.
44061
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy