এই মুহূর্তে দেশের ভেতর সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত বিষয় হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অবৈধ বলার পর থেকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এটা আরো সংকটাকার ধারণ করছে, যেদিন প্রধানমন্ত্রী মিডিয়ার সামনে বল্লেন যে আদালতের রায় অনুযায়ী সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার আর কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক ময়দান ক্রমন্বয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিরোধী দল ইতিমধ্যে টানা ৩৬ ঘন্টার হরতাল সহ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে। সামনে আরো কর্মসূচী আসছে বলে শুনা যাচ্ছে। দেশ এক মহা সংকটের দিকে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আবারো ওয়ান ইলেভেন জাতির জন্য অপেক্ষা করছে। আবারও ২৮ অক্টোবরের পট তৈরী হচ্ছে।
আমরা যারা প্রবাসে থাকি আমাদের দাবী একটাই যে, দেশটা সুন্দরভাবে চলুক। চাই সেটা মহাজোট কর্তৃক পরিচালিত হোক অথবা চারদলীয় জোট কর্তৃক। তাই প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীর নিকট খোলা চিঠির মত একটা আবেদন যে, যেহেতু আদালত কর্তৃক আরো দু’টার্ম পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্দেশনা দেয়া আছে। সমস্যা হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে তাই মাননীয় স্পীকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করে উভয় জোট থেকে ৩০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। সি.ই.সি কর্তৃক নিবন্ধিত প্রত্যেক দলের অপেক্ষাকৃত ক্লিন ইমেজের ২৯ জন লোক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। এটা হতে পারে সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ জন এবং বিরোধী দল থেকে ১৫ জন।
এই ফর্মূলা যদি উভয় দলে নিকট গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয় তাহলে স্পীকারকে হতে হবে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য এবং উদাহরণীয় ব্যক্তিত্ব। আমার বিশ্বাস বর্তমান স্পীকার সাহেবের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার দুঃসাহস তার আছেই। আর যদি কোনো কারণে কেউ মনে করে থাকেন যে স্পীকারও দলীয় পক্ষপাত দোষে দোষী হতে পারে তাহলে তাকে তাৎক্ষণিক ইমপিচমেন্টের ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে।
“সেই সাথে কিভাবে একটা ভারসাম্যহীন সংসদ কার্যকর হতে পারে তার উপায়”।
আমরা যদি নিকট অতীতের দুটি সংসদ নির্বাচনের কথা আলোচনা করি তাহলে দেখবো কতটা ভারসাম্যহীন ছিল এই সংসদ। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ভরাডুবি এবং বিএনপির জয় জয়কার। ঠিক তেমনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি এবং আওয়ামীলীগের মহা বিজয়। এর কোনটাই দেশের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কল্যাণকর নয়। ভারসাম্যহীন জয় যেমন দলের জন্য ক্ষতিকর তেমনি দেশের জন্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশের সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সংসদ। কিন্তু সেই সংসদে যদি সকল রাজনৈতিক দলের সহাবস্থান নিশ্চিত না হয় তাহলে সংসদ হয় অকার্যকর। আর রাজপথ হয় কার্যকর। এ থেকে শুরু হয় হানাহানি, মারামারি, সংঘর্ষ, প্রাণ হরণ, মালের নিশ্চয়তা আর কোথায়? এ থেকে কি পরিত্রাণের কোনো উপায় নেই? হ্যাঁ আছে তাহলো-
১) ভোটের % পারসেন্টিজ অনুসারে প্রত্যেক দলের প্রতিনিধি সংসদে পাঠাবে।
২) দলীয় % পারসেন্টিজ অনুসারে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই সরকার পরিচালনা করবে।
৩) জাতীয় নির্বাচন হবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, দলকেন্দ্রিক। ভোট দিবে ব্যক্তিকে কিন্তু দলীয়ভাবে তার হিসাবের % হবে।
৪) অমুসলিম ভোটাররা অমুসলিমদের থেকে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তাদের ভোটের পারসেন্টিজ হিসাবে সংসদে প্রতিনিধি থাকবে।
এই ফর্মূলায় সংসদে প্রত্যেক দলের কমবেশী উপস্থিতি থাকবে এবং সংসদ একটা কার্যকরী প্রাণবন্ত সংসদ হিসাবে জাতিকে উপহার দিতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
লেখকঃ আইন ও মুসলিম বিধান অনুষদ’আল আযহাব বিশ্ববিদ্যালয়, দুহা, কাতার।
alimanazhary@yahoo.com
বিএনপি আওয়ামীলীগের অধীনের নির্বাচন চায় না। আবার আওয়ামীলীগ ভয় পাচ্চে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে। এই অবস্থায় একটি বিকলপ হতে পারে বিএনপির অধীনে নির্বাচন। আওয়ামীলীগ এটা মানবে কি ? মনে হয় না। আসলে কথা একটাই, সরকার নিজেদের অধীনেই নির্বাচন চায়, দলীয় সরকার হোক কিংবা অন্তবর্তীকালীন সরকার নামেই হোক।
চেয়ারম্যন সাহেব বিচার মানি কিন্তু বটগাছ আমার হতে হবে ?
আওয়ামী লীগ র্নিবাচনে অংশগ্রহন করার জন্য একটা গ্যরান্টি দিতে হবে যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে।
61529
২
বড়পুকুরিয়া থেকে জাহেদ লিখেছেন,
০৪ জুলাই ২০১১; দুপুর ০৩:০৫
শেখ মুজিব জাতির পিতা। অতএব এ দেশ-জাতি পিতা মুিজবের সম্পত্তি। আজ তিনি নেই । তাঁর কন্যা আছে। তাঁর গড়া পার্টি আছে। অতএব তাঁর কন্যার নেতৃত্বে তাঁরই হাতে গড়া দলের সম্পত্তি এখন দেশ-জাতি। এ কন্যা এদেশের ক্ষমতায় অন্য কাউকে কখনো সহ্য করেনি কখনো করবেনা। যে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় হয়না সে জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই পাতানো এবং সাজানো নির্বাচন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অনেক সহ্য করেছে। আর নয়। নির্বাচনে বিজয়ের গ্যারান্টি না পেলে আওয়ামী লীগ আর কোনদিন নির্বাচন করবেনা নির্বাচন হতেও দেবেনা।
61590
৩
জেদ্দা, সৌদি আরব থেকে মোহাম্মদ নোমান লিখেছেন,
০৬ জুলাই ২০১১; সন্ধ্যা ০৬:৩৫
যিনি বিতর্কের উর্ধে তিনিই সর্ব শ্রদ্ধেয়। আইন করে বিধান করে কাউকে সর্ব শ্রদ্ধেয় বানানো যায়না। দেশের ১০০% লোক শেখ মুজিবকে যদি জাতীর পিতা হিসাবে মানে তাহলে কোনো আইন বিধান করতে হয়না দরকার হয়না। ৫০% বেশী লোক শেখ মুজিবকে জাতীর পিতা মানতে রাজী নয় তাই আইন বিধান করে হরেও গোটা জাতীর উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা। এখন প্রশ্ন হল, চাপিয়ে দেয়া কোনো বিষয়ের স্থায়ীত্ব কত দিন? যদি আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় আসে সংখ্যা গরিষ্টতার জোড়ে সংবিধান আবারও তাদের ধ্যান ধারনা মতে সংশোধন হয় তখন শেখ মুজিবের মত উচ্চ মাপের এক মহান নেতাকে তুচ্চ করা হইল না? তাহলে শেখ মুজিবকে কে বিতর্কিত করল? আওয়ামী লীগ? নাকি তাদের রাজনৈতি প্রতিপক্ষ!
আমরা জানি আজকের (বর্তমান) আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক যোগ্যতা তথা লাইসেন্স হচ্ছে (১) শেখ মুজিবুর রহমান (২) স্বাধীনতা যুদ্ধ (৩) শেখ মুজিবের হত্যা মামলা (৪) কথিত যুদ্ধাপরাধী। শেষের দুইটি বিলোপ্তির পথে আর প্রথম দুইটিরও বাজার নাই কারণ শেখ মুজিবুর রহমান বিতর্কের উর্ধে থাকতে পারেন নাই এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযুদ্ধারা আওয়ামী লীগের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয় বরং আওয়ামী লীগের ভেতরে যুদ্ধাপরাধীর স্থান হয়েছে সূতরাং সংবিধানিক ভাবে শেখ মুজিবকে জাতীর পিতা বানিয়ে আরও বিতর্কিত করা হয়েছে, কেননা যারা জাতীর পিতা মানেনা তারা সব সময় শেখ মুজিবের দূর্গন্ধটাই খুঁজবে। তবে হেঁ এখানে গভীরে একটি বিষয় রয়েছে, তাহা হল প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিবকে (জাতীর পিতাকে) নিয়ে যখন টানা হেঁচড়া করবে তখন আওয়ামী লীগ ঐ টানা হেঁচড়াকে রাজনৈতিক ইস্যু বানাবে অর্থাৎ সম্মানার্থে নয় বরং রাজনৈতি ফায়দা লুটার জন্য শেখ মুজিবের মত মহান নেতােক বিতর্কিত অবস্থায় রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।
61826
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
চেয়ারম্যন সাহেব বিচার মানি কিন্তু বটগাছ আমার হতে হবে ?
আওয়ামী লীগ র্নিবাচনে অংশগ্রহন করার জন্য একটা গ্যরান্টি দিতে হবে যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে।