মানবাধিকার বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত একটি ইস্যু। সার্বজনীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিশ্বের সকল জাতি সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে তাদের জাতিগত অধিকার বৃহদার্থে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। বিভিন্ন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও বিপ্লব শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই সংঘটিত হয়েছে, যাতে প্রাণ দিতে হয়েছে কোটি কোটি মানুষকে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিশ্বের সকল সরকার প্রধান, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মীবৃন্দ এবং সচেতন মানুষগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু মানবাধিকার নামক শান্তির পায়রাটি আজও মানব জাতির নিকট অধরাই রয়ে গেছে।
মানবাধিকার বলতে কী বোঝায়?
মানবাধিকার বলতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শিক্ষা, ভাষা, রাজনৈতিক বা অন্যবিধ মতামত, জাতীয় বা সামাজিক উৎপত্তি, জন্ম, সম্পত্তি বা অন্য কোন মর্যাদা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান অধিকার থাকাকে বোঝায়।
মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর Universal Declaration of Human Rights’ তথা মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। এতে ৩০টি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত হয়, যাতে মানবাধিকার প্রদানের ত্রেগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। নিম্নে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অনুচ্ছেদ তুলে ধরা হলো:
অনুচ্ছেদ-১
সব মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাদের বিবেক এবং বুদ্ধি আছে; সুতরাং সকলেরই একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে আচরণ করা উচিত।
অনুচ্ছেদ-৫
কাউকে নির্যাতন করা যাবে না; কিংবা কারো প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা যাবে না অথবা কাউকে এহেন শাস্তি দেয়া যাবে না।
অনুচ্ছেদ-৭
আইনের চোখে সবাই সমান এবং ব্যক্তি নির্বিশেষে সকলেই আইনের আশ্রয় সমানভাবে ভোগ করবে। এই ঘোষণা লঙ্ঘন করে এমন এক বৈষম্য বা বৈষম্য সৃষ্টির প্ররোচনার মুখে সমানভাবে আশ্রয় লাভের অধিকার প্রত্যেকেরই আছে।
অনুচ্ছেদ-৯
কাউকেই খেয়াল-খুশি মতো গ্রেফতার বা অন্তরীণ করা কিংবা নির্বাসন দেয়া যাবে না।
অনুচ্ছেদ-১৮
প্রত্যেকেরই ধর্ম, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। এ অধিকারের সঙ্গে ধর্ম বা বিশ্বাস পরিবর্তনের অধিকার এবং সেই সঙ্গে প্রকাশ্য বা একান্তে, একা বা অন্যের সঙ্গে মিলিতভাবে, শিক্ষাদান, অনুশীলন, উপাসনা বা আচারব্রত পালনের মাধ্যমে ধর্ম বা বিশ্বাস ব্যক্ত করার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মানবাধিকারের হাল-চাল
বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতা এত বিশাল থেকে বিশালতর হচ্ছে যে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যত উদ্যোগ নেয়া হোক না কেন সেই আওতা অতিক্রম করা সম্ভব নয়।
মুসলিম দেশগুলোকেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সবক দেয়া হয় সবচেয়ে বেশি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় মানবাধিকার শুধু মুসলমানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ইসলামকে কটাক্ষ করে কেউ কিছু বললে বা লিখলে তা বাক স্বাধীনতা ও প্রগতিশীলতা হিসেবে বাহবা কুড়ায়। কিন্তু এর বিপরীত কেউ কিছু বললে বা লিখলে সেখানে ধর্মান্ধতা ও জঙ্গিবাদ খোঁজার চেষ্টা চলে।
ধর্মীয় আদর্শভিত্তিক রাজনীতি করাকে মৌলবাদ ও চরম পন্থার শামিল হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু যে কোন আজগুবি আদর্শভিত্তিক রাজনীতিও সেখানে সমাদৃত হয়। বর্তমান সময়ে শক্তিধর দেশগুলোর ছত্রছায়ায় জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলে ইসলাম ও ইসলামপন্থী দলগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার চক্রান্ত চলছে।
বৈষম্যমূলক এসব আচরণের মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে নির্দিষ্ট এক পরে ওপর বর্তমান সময়ে নির্যাতন ও নিষ্পেষণ চালানো হচ্ছে। যাতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার শ্লোগান দিন দিন সুদূর পরাহত হচ্ছে।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ব্যর্থতা
আন্তদেশীয় সম্পর্ক বৃদ্ধি ও সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংঘাত-সংঘর্ষ দূরীভূত করে বিশ্বশান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫১টি সদস্য দেশ নিয়ে জাতিসংঘ গঠিত হয়। বর্তমানে এর সদস্য দেশ সংখ্যা ১৯২টি, ১৯৫টি স্বাধীন দেশের মধ্যে। বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থা নিয়ে জাতিসংঘ তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
কিছু আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদন ও মুখরোচক বক্তব্য প্রদান এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে কিছু দর্শনীয় কাজ উপহার দেয়া ছাড়া জাতিসংঘ নামক এ সংস্থাটি শক্তিধর দেশগুলোর শোষণের হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। সুদূর অতীত ঘাঁটতে হবে না, বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালেই আমরা এর সত্যতা খুঁজে পাব। আফগানিস্তান ও ইরাক আগ্রাসন মোকাবেলায় এটি নীরব দর্শকের ভূমিকায় লিপ্ত ছিল এবং আছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, মিন্দানাও ইস্যুতে জাতিসংঘ অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস মোকাবেলা ও ধর্মীয় অধিকার রায় জাতিসংঘ কার্যত কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না।
অন্যান্য সংস্থাসমূহের ব্যর্থতা
আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের মধ্যে OIC, NAM সহ অন্যান্য আঞ্চলিক সংস্থাগুলো আজ অস্তিত্বসর্বস্ব হয়ে আছে। বিশ্বব্যাংক, IMF, WTO প্রভৃতি সংস্থা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রকাশ্যভাবে শক্তিধর দেশগুলোর শোষণ ও তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা
শক্তিধর দেশগুলোই কার্যত সকল ক্ষমতা ও সম্পদ কুক্ষিগত করে রেখেছে। দুর্বল দেশের সরকারগুলো তাদের হাতের পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যারা শক্তিধর দেশের অঙ্গুলি নির্দেশে যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে থাকে। সরকার পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সৃষ্টিতে শক্তিধর দেশগুলো প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য মদদ দিয়ে থাকে। মধ্য-প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের দোহাই দিয়ে তারা বিশ্ব জনমতের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন দেশে হামলা পরিচালনা করে থাকে। শান্তি ও মানবাধিকারের কথা বলে তাদের বিরুদ্ধ মতাদর্শী সরকার পতনে ইন্ধন ও সহযোগিতা প্রদান করে।
তারা একদিকে মানবাধিকারের কথা বলে, আবার অন্য দিকে নির্যাতিত ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের অধিবাসীদের সমস্যার সমাধানে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলে, আবার আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর বিনা বিচারে নিরপরাধ মানুষকে নির্জন দ্বীপে বন্দী করে রেখে অমানবিক ও পাশবিক নির্যাতন চালায়।
আতশবাজি, বিভিন্ন ধরণের টুর্নামেন্ট আয়োজন, আর অস্ত্রেও ঝনঝনানিতেই তারা আজ যত ব্যস্ত। গৃহহারা, বস্ত্রহীন ও ভুখা-নাঙ্গা মানুষকে নিয়ে চিন্তা করার সময় কোথায়!
ব্যর্থতার কারণসমূহ
১. জাতীয়তাবাদ ও ক্ষমতার লড়াই
বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্র আজ পরিচালিত হচ্ছে কোন না কোন সঙ্কীর্ণ জাতীয়তাবাদকে আশ্রয় করে। বিভিন্ন জাতীয়তাবাদের মধ্যে রয়েছে অঞ্চলভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, বর্ণভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ ও ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। পাশ্চাত্য দেশগুলো যখন আমাদেরকে মানবাধিকারের সবক শেখায়, তখন আমরা দেখি যে সাদা-কালো বিভেদ এখনও পাশ্চাত্যে কত বড় ইস্যু হতে পারে। আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কিভাবে নির্যাতন ও নিষ্পেষণ চালানো হচ্ছে। মার্কিন জাতীয়তাবাদের ধারক-বাহকরা মার্কিনিদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে একের পর এক দেশে আগ্রাসন চালাচ্ছে। অন্যদিকে রুশ, চাইনিজ, জাপানিজ, ইংলিশ, জার্মান ও ফরাসি জাতীয়তাবাদ মানবজাতিকে যে কী উপহার দিতে পারে তা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে তাকালেই আমরা বুঝতে সক্ষম হবো।
২. সেক্যুলারিজম
‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’- এই শ্লোগান তুলে বিশ্বের তাবৎ দেশগুলোকে সেক্যুলারিস্ট করার মহান কাজ সম্পাদনের উদ্যোগ নিয়েছে তথাকথিত সভ্য দেশগুলো। আর তাদের দোসর হিসেবে প্রতিটি দেশে সুর মেলাচ্ছে একশ্রেণীর প্রগতিশীল সুশীল (?) সমাজ। ধর্ম নিছক কোন আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়। ধর্ম মানে আদর্শ (Ideology) বা জীবনব্যবস্থা (Code of life)। সেক্যুলারিজম নিজেও একটি আদর্শের ধারক, যার সার কথা হলো রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে ধর্মকে দূরে সরিয়ে রাখা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন রাষ্ট্র যদি সেক্যুলারিস্ট আদর্শ গ্রহণ করতে পারে, তবে কেন ধর্মীয় আদর্শ গ্রহণ করতে পারবে না?
সেক্যুলারিজমের নামে মানুষকে ধর্ম থেকে বিচ্যুতির এ আদর্শ বর্ণিল এক খোলস ছাড়া কিছুই নয়। আর তাই তো পৃথিবীর প্রত্যেকটি সেক্যুলারিস্ট রাষ্ট্রেই ধর্মীয় আদর্শের লোকেরা নির্যাতনের শিকার হয়, পদে পদে তারা হয় প্রতিবন্ধকতার শিকার। সেক্যুলারিস্টদের ভাষায় বলতে হয়, প্রত্যেক মানুষকে যদি সমান অধিকার পেতে হয় (যা আজ মানবরচিত মতাদর্শভিত্তিক পরিচালিত বিশ্বে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না), সে জন্য প্রত্যেক মানুষকে হতে হবে একই বর্ণ, ভাষা ও মতের। কিন্তু তা কি আদৌ সম্ভব?
৩. বস্তুবাদ
মানুষকে নিছক প্রাণসর্বস্ব জীব হিসেবে আজ চিন্তা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে মানুষের মূল কাজ হলো জৈবিক চাহিদা পূরণ। ভোগ-বিলাসই হলো প্রত্যেক মানুষের ধ্যান-জ্ঞান। তাই মানুষ আজ নিজের স্বার্থোদ্ধারেই যত বেশি ব্যস্ত। অন্যের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হওয়ার মত সময় তার কোথায়!
সর্বত্র আজ অশ্লীলতা আর বেহায়াপনার ছড়াছড়ি। প্রাকৃতিক আইনকে (Natural law) অমান্য করার ফলে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন ধরণের ঘাতক রোগ-ব্যাধি। কিন্তু তবু মানুষকে যেন সব নিয়ম ভেঙ্গে অশ্লীলতার সাগরেই ডুব দিতে হবে। আর এর ফলেই বর্তমানকালে পাশ্চাত্যে ১৮ বছরের কোন কুমারী মেয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রতি সেকেন্ডে সংঘটিত হচ্ছে শত শত ধর্ষণের ঘটনা। নারী স্বাধীনতার নামে নারীকে আজ পুরুষের ভোগের পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। বিল বোর্ড, বিজ্ঞাপন চিত্র কিংবা পতিতালয়ই হয়ে উঠেছে যাদের জন্য স্বাধীনতার প্রতীক!
৪. মানুষের বিধানদাতা মানুষ
মানুষ এমন এক প্রাণী যে সূর্য নামক ছোট একটি তারার দিকেই তাকিয়ে থাকতে পারে না, খালি চোখে দেখতে পারে না মহাকাশের অধিকাংশ জিনিসকেই। নির্দিষ্ট মাত্রার শব্দ ছাড়া কম বা বেশি মাত্রার শব্দ কানে শুনতে পায় না। অনেক গবেষণার মাধ্যমে কোন থিউরি দিলেও কিছুকাল পরে তা আংশিক বা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়। মানুষ এমন এক প্রাণী যে সঙ্কীর্ণ জাতীয়তাবাদ থেকে খুব কমই ঊর্ধ্বে ওঠার সামর্থ্য রাখে। আর তাই মানুষ হয়ে একজন কিভাবে মানুষেরই বিধানদাতা হতে পারে?
মানুষকে মানুষের বিধানদাতা করতে গিয়েই বর্তমান সভ্যতার যত সমস্যার সূচনা। সুশাসন, ন্যায়বিচার, শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা তাই ভিনগ্রহের কোন প্রাণীর মতো আমাদের কাছে আজও অপরিচিত থেকে গেছে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান
মানুষ নিছক কোন প্রাণসর্বস্ব জীব নয়। তার সাথে যোগসূত্র আছে এক মহা অলৌকিক সত্ত্বার, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি দিয়েছেন তার প থেকে যাবতীয় বিধানাবলি, যা আজও আমাদের সামনে বর্তমান রয়েছে এবং যার প্রতিষ্ঠার মধ্যে মানবজাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হতে পারে। বিশ্বে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এর কোন বিকল্প নেই।
মানব রচিত কোন বিধানই সঙ্কীর্ণতা ও ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। এগুলো কিছু মুখরোচক বুলি ও চমক লাগানো কিছু তত্ত্বেও সমাহারে ভরপুর। এক সময় কমিউনিজমে আকৃষ্ট হয়ে মানুষ যেমন প্রতারিত হয়েছে, বর্তমান সময়ে যেমন পুঁজিবাদেও বিষবাষ্প থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হাহাকার করছে, তেমনি প্রত্যেকটি মানবরচিত আদর্শই মানুষের জন্য শুধু গ্লানি বয়ে নিয়ে আসতে পারে। সেক্যুলারিজমের নামে তাই ধর্ম উৎখাতের পদক্ষেপ মানবজাতির জন্য আত্মঘাতিই হবে।
মানুষকে ভোগসর্বস্ব নীচ জীব হিসেবে চিন্তা না করে আমরা যদি নৈতিক মানসম্পন্ন জীব হিসেবে চিন্তা করতে পারি, যদি আমরা ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে যেতে পারি তবেই বিশ্বে শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে যে রেষারেষি ও হিংসা-বিদ্বেষ তা ধর্মহীনতা থেকেই উৎসারিত। স্বার্থের সংঘাতই যেখানে সব কিছুর মূল হিসেবে কাজ করে।
পরিশেষ
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সময়, ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন চুক্তি ও সনদ এবং ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠন। কিন্তু বাস্তবিকভাবে এ বিষয়গুলো কাগজে-কলমেই থেকে গেছে কিংবা ব্যবহৃত হয়েছে শক্তিমানদের হাতিয়ার হিসেবে। মানবরচিত আদর্শও এর কোন সমাধান দিতে পারেনি। তাই মানবরচিত এসব আদর্শের ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় মূর্লবোধের সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হতে পারে। আর এ জন্য দরকার মূল্যবোধের জাগরণ।
লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ (৩য় বর্ষ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়