মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:১২ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

ইটিভি এটা কি করলো?

মুহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম

ETV কর্তৃক দাঁড়ি টুপির অপমান
গণ প্রতিরোধই আসল সমাধান

সেদিন রাত অনেক হলো, প্রায় দেড়টা। দেশের পত্রিকা পড়তে পড়তে হঠাৎ Youtube.Com এ কী যেন দেখতে গিয়ে এক সময় একটা শিরোনামে চোখ আটকে গেল। শিরোনামটি হলো- দাঁড়ি-টুপিকে অপমান করলো একুশে টিভি। কৌতুহলী হয়ে দেখলাম। আমি ভেবে কুলাতে পারছিলাম না ৯০% মুসলমানের দেশে কীভাবে এমন একটা ন্যাক্কারজনক কাজ Etv করতে পারল? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না এই বেসরকারী টিভি চ্যানেলটির সাথে জড়িত কোন মুসলমান আছেন। আরো ভেবে আশ্চর্য হচ্ছি সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান কেমন করে এমন অপমান সহ্য করে বসে আছেন? মুসলমান দাবীদার যে সরকার কথিত রাজাকারদের দমনে এতটা আত্মপ্রত্যয়ী তাদের দলীয় নেতারা কেন এখনো পাঞ্জাবী পরে আছেন? রাজাকারদের বিরুদ্ধে সব চেয়ে বেশী আস্ফালন করেন আইন প্রতিমন্ত্রী, তাকে তো প্রায়ই পাঞ্জাবী পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। আমার বুঝে আসেনা এমন একটা টিভি চ্যানেলের প্রধান হোতাদের প্রিয় সরকারী দল কী বুঝে দাঁড়ি-টুপিধারীদের প্রতি এতটা বিদ্বেষ নিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আফজাল খানের মতো দাঁড়ি-টুপিধারী রাজাকারকে পার্টি থেকে নমিনেশন দিল? এমন অসংখ্য প্রশ্ন গোলপাক খাচ্ছে। আমি লেখক অঙ্গনের কেউ নই। অনেক কিছু লিখেও ছাপাতে না দেওয়ার নিস্ক্রিয়তা আছে। তুবও এ বিষয়ে কলম না ধরে পারলামনা। আমি জানিনা আমার লেখা পাঠককে কতটা নাড়া দেবে তবুও কয়টি কথা লিখে বিবেকের দংশন থেকে মুক্তি পাবার আশা।

পাঠক, আমি জানিনা আপনারা কতজন দৃশ্যটি দেখেছেন। লিংকটি হলো youtube.com/watch?v=ILsGjT1bA&feature=related একজন নির্লজ্জ নারী কীভাবে কতগুলো পুরুষের মাঝে দাঁড়িয়ে সারা বিশ্বের শতকোটি মুসলমানকে অপমান করে নিদারুণ খেলায় মেতে উঠলো? কতগুলো যুবক জেনে কিংবা না জেনে নিজেদের কুফুরির দিকে ঠেলে দিল। আপসোস Etv এর পরিচালক প্রযোজকদের জন্য। তারা এমন একটা হঠকারী আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে পারলেন? আপসোস জমায়েত হওয়া লোক গুলোর জন্য। তারা কীভাবে এতটা জঘন্য দৃশ্য উপভোগ করতে পারলেন? আরো আপসোস শেষে এগিয়ে আসা সুন্নাতী লেবাসধারী বেকুবটার জন্য যে এসে এমন বাজে খেলার বিজয়ী নির্ধারণ করলো। পুরো আয়োজনটাতে তারা দাড়ি-টুপি, পাঞ্জাবীকে রাজাকারের পোশাক হিসেবে চিহ্নিত করে তা খসে ফেলার আয়োজন সম্পূর্ণ করলো। আমি কল্পনা করতে পারছিনা, কোন মস্তিকে তারা দাঁড়িকে রাজাকারদের পোশাক বানালো? তবে কি ১৯৭১ সালের রাজাকাররাই প্রথম দাঁড়ি রাখলো, টুপি-পাঞ্জাবী পরিধান করলো? ৭১ এর সব রাজাকাররা কি দাঁড়ি-টুপিধারী ছিল? এও প্রশ্ন জাগে কবিগুরু রবিঠাকুর আর প্রয়াত আওয়ামী নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ কত নম্বর রাজাকার ছিলেন? এই শয়তানের চেলাদের দাড়ি আর পাঞ্জাবীর প্রতি এতটা বিদ্বেষ থাকলে কেন তারা গিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুন আর সুভাষ দত্তের দাঁড়ি খসিয়ে আনেনা? দাড়ি ও পাঞ্জাবীধারী আসাদুজ্জামান নূর কেন এখনো অভিনয়ের মঞ্চে থাকেন?
আমার কথা হলো, দাঁড়ি তো কোন রাজাকারের সৃষ্টি নয়। এটি তো পুরুষের সৃষ্টিগত স্বাভাবিক লক্ষণ। এটার প্রতি সম্মান না থাকলে, সৃষ্টির স্বাভাবিকথা মেনে নেয়ার মানসিকতা না থাকলে, পুরুষের দাড়ি থাকার উপকারীতার কথা না ভাবলে, ইসলামের বিধান মানার মানসিকতা হারিয়ে গেলে কেউ দাঁড়ি কেটে ফেলতে পারেন, চেঁটে ফেলতে পারেন, কিন্তু দাঁড়ি গজানো তো ঠেকাতে পারবেন না। প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন-
মুখে দাঁড়ি দিছে আল্লাহ
পুরুষ লক্ষণ
নারী খোঁজা মুখে দাঁড়ি
না হয় কখন
আপনার পুরুষত্বের কিবা দোষ পাইলা
তাই বলে পুরুষত্ব লক্ষণ তেজিলা।

দাঁড়ি সৃষ্টির স্বাভাবিকতা। ইসলামের শেষ নবী মানবতার মহান শিক্ষক মুহাম্মদ (সাঃ) এর সুন্নাত। দাঁড়ির পরিমান নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও দাঁড়ি রাখা কমপক্ষে ওয়াজিব। কেউ ইচ্ছা করে তা ফেলে দিলে তিনি নিয়মিত কবীরা গুনাহ করছেন। এখন কথা হলো কেউ ইসলামের বিধান পালনে অক্ষম হলে, না মানলে তিনি গুনাহগার হবেন। কিন্তু কেউ যদি ফরজ ওয়াজিব বিধান তো দূরের কথা, কোন সামান্য পূণ্যের কাজ নিয়ে খেলতামাসা করে তবে তো সে সরাসরি কুফরিতে লিপ্ত হলো। বুঝে শুনে অনুতপ্ত হয়ে তাওবাহ না করলে তো আল্লাহর ক্ষমা এরা পাবেনা। আমি জানি ইটিভির মালিকরা যে নগ্ন খেলায় মেতে উঠেছেন তার পরিণতি সম্পর্কে তারা সচেতন নন। জানিনা ঐ ঈমান বিধ্বংসী দৃশ্যে যারা অংশ নিলো তারা কতটা সুস্থ মস্তিষ্কের। যাদের সামনে ঐ খেলাটি মঞ্চস্থ হয়েছে তাদের নূন্যতম ঈমানের তেজ থাকলে এমনটি তাদের সামনে হতে পারার কথা নয়। নিঃসন্দেহে ইটিভি এ কাজটি করে মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি কুশলতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে অপমান করেছে। অপমান করেছে তারা তাবৎ মুসলিম উম্মাহকে। এটি একটি মুসলিম দেশে বসে সারাবিশ্বের সকল মুসলমানের বিরুদ্ধে সুষ্পষ্ট বিদ্রোহ। আমার মনে হয়েছে, দেশের মানুষ এতটা বড় বড় সংকটে নিমজ্জিত আছেন যে, তাদের অলক্ষ্যে এত বড় জঘন্য কাজটি হয়ে গেল যে তারা ফুঁসে উঠতে পারলেন না। যে সকল ইসলামী দল এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবেন তাদের রাস্তায় চলাই তো এখন রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের নিকট মহা অপরাধ।

বড় আজব বিষয় হলো, যখন আওয়ামী সরকার বাংলার মসনদ দখল করে কিংবা তাদের দোসররা, তখন এহেন অপকর্ম অহরহ ঘটতে থাকে। ইতোমধ্যে কতজন হিন্দু শিক্ষক নবী (সাঃ) কে গালি দিল, ইসলাম-কুরআন নিয়ে কটুক্তি করলো, কই কী প্রতিকার এ সরকার করলো? তারা করবেই বা কেন? দাদা বাবুদের খুশি করাই যখন তাদের আসল এজেন্ডা। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসীনয় যে সরকার, যারা স্বজ্ঞানে ১৫ কোটি মুসলমানের বিশ্বাসের কথা দেশের সংবিধানের পাতা থেকে তুলে দিতে পারে, যারা দেশের আগামী প্রজন্মকে ধর্মহীন অন্ধ ও খোঁড়া জাতি বানানোর জন্য শিক্ষানীতি প্রনয়ন করতে পারে তাদের নিকট এসবের প্রতিকার আশা করাটাই বোকামী।

তবে কি এসবের প্রতিকার হবেন না? আমার সামনে দুটি পথ পরিষ্কার। হয়তো দেশের মুসলমান এসব ইয়াহুদী মুশরিকদের দোসর থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বেন। অবতীর্ণ হবেন কঠোর জিহাদে। ইনশাল্লাহ তারা বিজয়ী হবেন। নতুবা দেশের নেতৃত্ব ইসলামী জনতা যদি তাদের ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হন তবে আল্লাহর আযাবই তার সুরাহা করবে। লেখার কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় আমি বিস্তারিত টানবো না। তবে প্রত্যেক সচেতন মুসলিমই জানেন, যখন কোন জনপদে অন্যায় অপরাধ সংঘটিত হয়, আর সে জনপদের লোকেরা সামর্থ থাকার পরও তা প্রতিরোধ না করে তবে আল্লাহ ব্যাপক আযাব দিয়ে সবাইকে ধ্বংস করেন। ১৯৯৮ সালে তুরস্কের এক সাগরতীরে ধর্ম বিদ্বেষী জেনারেলদের সম্মেলনে আল কুরআনকে অপমান করার কারণে, কুরআনের স্রষ্টার প্রতি অবজ্ঞার কারণে সাথে সাথে যে আযাব নেমে এসেছিলো তা অনেকেরই জানা থাকার কথা। বাংলাদেশ তেমন আযাবের দ্বারেপ্রান্তে। আমি দেশবাসীকে আহবান জানাই, নিজেদের ঈমান বাঁচাবার তাগিদে জেগে উঠুন, প্রতিরোধ করুন ইসলাম বিরোধী সকল কর্মকান্ড। আমাদের ভূলে গেলে চলবেনা ইসলাম কোন দলের সম্পদ নয়। রাজাকার বলে যাদের অপমান করা হচ্ছে, যাদেরকে অপদস্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এ দাঁড়ি টুপি পাঞ্জাবী কেবলি তাদের সম্পদ নয়। যখন দাঁড়ি টুপি উৎপাটন করার কথা বলা হয়, তখন এটা ভাবলে চলবেনা কোন বিশেষ দল হেনস্তা হচ্ছে। বরং হেনস্তা হচ্ছেন বিশ্বনবী। অপদস্থ হচ্ছে দেড়শত কোটি মসুলমান। খসে ফেলা হচ্ছে সারা বিশ্বের মুসলমানের লেবাস। অতএব চাই গণ প্রতিরোধ। আল্লাহ মুমিনদের সহায় হোন।

লেখকঃ Imam & Khatib, Masjidul Falah, Engerthstr. 79/1/6, 1200 Wien, Austria
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MuhammadAbdulQuaiyum
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলাদেশ থেকে আব্ু সাইফ লিখেছেন, ২৩ জানুয়ারি ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:৫৮
"""""অতএব চাই গণ প্রতিরোধ। আল্লাহ মুমিনদের সহায় হোন।"""""
জান্নাতের প্রত্যাশী মুমিনেরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে- একটা প্রতিবাদ মিছিল পর্যন্ত করবেনা..... আর আল্লাহর বড় দায় পড়েছে এদের সহায় হতে>>>
""যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তবে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন" আলকুরআন
অন্যায়ের প্রতিবাদে জীবনবাজি রেখে কাজ করা- এটাই আল্লাহর সাহায্য পাবার শর্ত; আজকাল মুমিনরা সেটা পরিত্যাগ করেছে "হিকমত" নাম দিয়ে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ঠিকই চিনেছেন এ জাতিকে -
""...... মুসলিম আজ পোষা জানোয়ার..."" দুটো দানাপানি আর ঘুমানোর আশ্রয় পেলেই আর কিছু লাগেনা তার!
এটিভিকে ধন্যবাদ- তার সাহস আছে বটে! এদের দেখেও যদি "আল্লাহর সৈনিক""দের সাহস বাড়ে!!!
77053
4euyolik থেকে bmnh,lkö.cv লিখেছেন, ২৪ জানুয়ারি ২০১২; রাত ০২:৫২
e 7isd u7yi6uk6at6a
77086
বুয়েট,ঢাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিক লিখেছেন, ২৪ জানুয়ারি ২০১২; দুপুর ১২:৩৮
ইটিভিকে করতে দিন আরও কিছু পারলে ওরা করুক না কেন? তাতে আমাদের কি জায়। আমি যতটুকু করব তার ফল আমি পাব। মানুষ টের পায়না এটাই আল্লাহর ইচ্ছা। আমি একটা খারাপ করার জন্য যে শাস্তি আমার জন্য আসবে তা অবশ্যই আসবে। সেটা আজ হউক আর কাল হউক। সুতরাং ইটিটি শুধু রাজাকার এর নাটক কেন? কর এর চেয়ে আরও কিছু দেখাও যা মানুষ কল্পনাও করছেনা। এমনটা দেখাও রাজাকারের নাটক এতো পুরানো কাহিনী। ইটিভি তোমাকে আমরা দেখিনা তোমাকে আমরা দেখিনা দেখিনা দেখিনা।
77122
ঢাকা থেকে কবি লিখেছেন, ২৬ জানুয়ারি ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:৪৯
এখন ইটিভি সব দোষ স্বীকার করেও যদি বলে, আমরা আর দাঁড়ি-টুপি নিেয় 'বিটলামী' করবো না, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সকল গল্প-উপন্যাস-নাটকে রাজাকার চরিত্র কে কোন পোষাক পড়ানো হবে? কালো কোট পড়ালে উকিল রা মাইন্ড করবে,
হাতাকাটা কালো কোট পড়ালে আওয়ামী লীগ মাইন্ড করবে, সাফারী পড়ালে বি.এন.পি মাইন্ড করবে, এভাবে রাজাকারের গেটআপের সাথে যাদের গেটআপ মিলে যাবে তারাই মাইন্ড করবে। সবচেয়ে ভালো হয় জাতীয় ফুল-ফলের মতো রাজাকারের জন্য সুনিরদৃষ্ট 'রাজাকারী পোষাক' নির্ধারন করে অচীরেই সংসদে বিল আনা বা সরকারী অধ্যাদেশ জারি করা!
77327
ঢাকা থেকে আগুনের ফুলকি লিখেছেন, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ১১:৩৪
এবার বুঝুন জাতির পিতা কত নম্বর রাজাকারছিল? তিনিও পাঞ্জাবি পরতেন!
77851
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy