মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:১৩ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
আন্তঃধর্ম বিয়ে : সেকুলার প্রজন্ম গড়ার চূড়ান্ত মিশন! (১২/০৫/২০১২)
আল্লামা আযীযুর রহমান নেছারাবাদী (র.): একজন আদর্শ মানুষের প্রতিচ্ছবি (২৮/০৪/২০১২)
মাকে নিয়ে রাসূলের দেশে (ভ্রমণ কাহিনী) (২১/০৪/২০১২)
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ড. মোহাম্মদ মাহবুবউল্লাহ’র অপ্রকাশিত কলাম (৩১/০৩/২০১২)
কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে হাজার মানুষের হাসি! (১৭/০৩/২০১২)
পর্দা উচ্ছেদ করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ! (০৩/০৩/২০১২)
মিডিয়ার নৈতিকতা, সাংবাদিকদের বোধোদয় ও সোস্যাল মিডিয়ার দায় (১৮/০২/২০১২)
পরিশুদ্ধ চেতনায় রাসূল (স.) এর ভালবাসা (০৪/০২/২০১২)
অস্ত্র হাতে ছাত্রদের মানায় না (২৮/০১/২০১২)
মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সংকুচিত হচ্ছে উচ্চ শিক্ষার দ্বারঃ লংঘন হচ্ছে সংবিধান ও মানবাধিকার (১৪/০১/২০১২)
দাড়ি টুপি ও পাঞ্জাবী নিয়ে ইটিভির খেল-তামাশা (০৭/০১/২০১২)
যীশুখৃষ্টঃ ইসলাম ও খৃষ্টান ধর্মে (২৪/১২/২০১১)
ইবির ৩২ বছরঃ প্রত্যাশা ও বাস্তবতা (১৭/১২/২০১১)
কুরআন সম্পর্কে নকুল কুমার বিশ্বাসের উপলব্ধি: কুরআন বিদ্বেষীদের বোধোদয় হবে কবে? (১০/১২/২০১১)
জিহাদ নিয়ে কিছু কথা (০৩/১২/২০১১)
মতের অমিল হলেই চরিত্র হরণ! (১৩/১১/২০১১)
শিশুর হাতে শিশু খুন ছেলের হাতে মাঃ কিসের আলামত? (০৮/১০/২০১১)
বাঁচতে চাইনা, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই (০১/১০/২০১১)
আল কুরআনঃ বান্দার কাছে আল্লাহর খোলা চিঠি (১৩/০৮/২০১১)
সিয়াম সাধনাঃ পরিশুদ্ধিতা চাই জীবনের প্রতিটি বাঁকে (৩০/০৭/২০১১)
দেবনাথ নারায়ণ, অরুন চৌধুরী, পরিমল ঘোষের পর এবার শংকর বিশ্বাসের ধৃষ্টতা (১৬/০৭/২০১১)
খাল কেটে কুমির আনাঃ ইতিহাস কী বলে (০৯/০৭/২০১১)
নীতিহীন সংবাদপত্রঃ দেশ জাতি রাষ্ট্রের স্বার্থ উপেক্ষিত যেখানে (০২/০৭/২০১১)
বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ান (১৮/০৬/২০১১)
পরিবেশ সংরক্ষণে ইসলামের দিক নির্দেশনা (০৪/০৬/২০১১)
নজরুল আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক (২১/০৫/২০১১)
বাংলাদেশের সংবিধানঃ রচিত হোক সংখ্যাগরিষ্ঠের চেতনার ভিত্তিতে (১৪/০৫/২০১১)
ধর্ম নিয়ে ব্যবসা (৩০/০৪/২০১১)
বিজাতীয় সংস্কৃতির কবলে আমাদের সংস্কৃতি (২৩/০৪/২০১১)
প্রসঙ্গ মাদরাসা শিক্ষা ও শ্রেণীবৈষম্য (১৬/০৪/২০১১)
আগের লেখা
1352


আন্তঃধর্ম বিয়ে : সেকুলার প্রজন্ম গড়ার চূড়ান্ত মিশন!

মুহাম্মদ আমিনুল হক

‘বিশেষ বিবাহ আইন’ প্রণয়ন করে আন্ত:ধর্ম বিয়ে সম্পাদনের জন্য সম্প্রতি আইন মন্ত্রনালয় কর্তৃক বিশেষ কাজী নিয়োগ এবং ছেলে না থাকলে কন্যাসন্তানকে পুরো সম্পদের মালিক করে মুসলিম পারিবারিক আইন সংশোধনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সারা বাংলাদেশে মিছিল-মিটিং, আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। ধর্মপ্রাণ মানুষেরা কোনোভাবেই সরকারের এ উদ্যোগকে মেনে নিতে পারছে না। বিজ্ঞ আলেমদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ সরাসরি আল্লাহর আইনের বিরোধী যা কোনো মুসলিম মেনে নিতে পারে না।

জানা গেছে, এই আইন অনুযায়ী একজন মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি কিংবা অন্য যেকোনো ধর্মের যে কেউ কাউকে বিয়ে করতে পারবে। এজন্য পাত্র-পাত্রী কাউকেই ধর্মান্তরিত হতে হবে না। ধর্ম পরিবর্তন ছাড়াই তারা দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করতে পারবে। ইচ্ছে করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে অথবা যেকোনো একজন নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস বাদ দিতে পারে। এ ধরনের বিয়ের মাধ্যমে জন্ম নেয়া সন্তানদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় থাকবে না। বড় হয়ে তারা যেকোনো ধর্ম বেছে নিতে পারবে অথবা ধর্ম বিশ্বাস ছাড়াই জীবন যাপন করতে পারবে।

উপরোক্ত আইনটি পড়ে যে কেউ সহজেই বুঝতে পারে, এটি ১০০ ভাগ ইসলাম ধর্ম বিরোধী আইন। ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী মুসলিম ব্যক্তি কোনো অমুসলিমকে বিয়ে করতে পারে না। আল্লাহ বলেন, “আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতন না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্যই মুসলিম ক্রীতদাসী মুশরিক নারী থেকে উত্তম যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোনো মুশরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত না সে ঈমান আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভালো, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও মার দিকে”(সূরা আল বাক্বারা:২২১)। আল-কুরআনের এই অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, বেঈমান মুশরিকের সাথে কোনো ঈমানদার মুসলিমের বিয়ে হতে পারে না। কেন পারে না তাও আল্লাহ পরিস্কার করে বলেছেন। তবে ইহুদী ও খ্রিস্টানগণ এই হুকুমের অন্তর্ভূক্ত হবে না। কেননা তারা আহলে কিতাব। আল্লাহ তায়ালা অন্য আয়াতে বলেন, “...তোমাদের জন্যে হালাল সতী সাধ্বী মুসলিম নারী এবং তাদের সতী সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে...”(সূরা আল মায়েদাহ:০৫)।

বর্তমান যুগের সেরা আলেমে দ্বীন আল্লামা ইউসুফ আল কারদাভী বলেন, আহলে কিতাবদের থেকে বিয়ে করা যাবে যদি নিম্নের শর্তগুলো পাওয়া যায়: এক. বাস্তবিকই আহলে কিতাব হতে হবে। শুধু নামে ইহুদী কিংবা খ্রিস্টান হলে চলবে না। নামে ইহুদী-খ্রিস্টান অথচ সে নাস্তিক কিংবা নিজ ধর্মকে বিশ্বাস করে না; তাহলে চলবে না। দুই. অবশ্যই তাকে পবিত্র হতে হবে। ব্যভিচারিনী হলে চলবে না। তিন. এমন কাউকে বিয়ে করা যাবে না যার জাতি পুরো মুসলিম উম্মতের সাথে ঘোর শত্রুতা পোষণ করে, যেমন- বর্তমান সময়ের ইসরাঈলের ইহুদীগণ। চার. বিয়ের কারণে স্বামীর সন্তানের কোনো বৈষয়িক ক্ষতি সাধিত হওয়ার আশংকা থাকলেও আহলে কিতাব বিয়ে করা যাবে না। বিজ্ঞ আলেমগণ মনে করেন, যদিওবা আহলে কিতাবদের বিয়ে করা যায় তারপরও তা মাকরূহ বা অপছন্দনীয়। কেননা এই বিয়েতে কোনো সুখ হয় না। মহিলা তার সৌন্দর্য ও উদ্ভট চলা-ফেরার মাধ্যমে সংসারে ফ্যাসাদ তৈরী করবে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ হুমকির মধ্যে পড়বে এবং তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মায়ের ধর্মে ধাবিত হবে; যাতে ইসলামের কোনো ফায়দা নেই।

আন্ত:ধর্ম বিয়ের আইনটি যে পুরো জাতিকে সেকুলার জাতিতে পরিণত করার মানসে করা হয়েছে তা আইনটি একটু পড়লেই অনুমান করা যায়। বলা হয়েছে, ‘একজন মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি কিংবা অন্য যেকোনো ধর্মের যে কেউ কাউকে বিয়ে করতে পারবে। এজন্য পাত্র-পাত্রী কাউকেই ধর্মান্তরিত হতে হবে না। ধর্ম পরিবর্তন ছাড়াই তারা দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করতে পারবে’। আইনটির প্রতিটি লাইন সাংঘর্ষিক। আল্লাহ বলছেন একজন মুসলিম মুশরিককে বিয়ে করতে পারবে না আর আইন বলছে পারবে। আইন বলছে, ধর্ম ত্যাগ না করেই অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করা যাবে আর ইসলাম বলছে, এধরনের কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া যেখানে যেকোনো মুসলিম যেকোনো মুসলিম নারীকে যখন তখন বিয়ে করতে পারে না সেখানে কিভাবে অমুসলিমকে বিয়ে করা সম্ভব? ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নর কিছু নারীকে তো আজীবন বিয়ে করতে পারে না, যেমন- মা, বোন, ভাগ্নি, খালা, নানী, নাতনি ইত্যাদি। কেউ কেউ সাময়িক সময়ের জন্য হারাম। তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দত শেষ না হলে বিয়ে করা যায় না। দুই বোনকে একসাথে বিয়ে করা হারাম। স্বামী থেকে তালাক না নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করাও অবৈধ। মহিলাদের মাসিক ও ঋতুস্রাব চলাকালীন সহবাস নিষিদ্ধ। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার মধ্যেও আছে নানান ধরনের শর্ত। এধরনের কঠোর বিধিমালা মেনে নিয়েই মুসলিম নর-নারী বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। অন্যথা সে মুসলিম থাকতে পারে না। সেই মুসলিম কিভাবে অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করে নিজ ধর্মের ওপর অটল থাকতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়। বিয়ে করার অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে নর-নারীর মানসিক শান্তি। সেই শান্তির জায়গায় যদি অশান্তি ভীড় করে তাহলে বিয়েতে ফায়দা কি? কুফুতে না মেলার কারণে যদি একই ধর্মের হয়েও চট্টগ্রামের মেয়ের সাথে সিলেটের ছেলের সাথে বিয়ে না হয়, তাহলে কিভাবে চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতা, ধর্ম, সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে ভিন্নতর হয়ে নর-নারীর মধ্যে বিয়ে সম্ভব?

বিশেষ বিবাহ আইনটি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে দু’ধর্ম পালনকারী স্বামী-স্ত্রীর সন্তানরা। মানসিকভাবে তারা বিকারগ্রস্থ হবে। মুসলিম বাবা বলবেন, আল্লাহ এক আর মা বলবেন আমি Trinity অথবা বহু খোদা’য় বিশ্বাস করি। মুসলিম বাবা যেটাকে বলবেন সত্য সেটাকেই অমুসলিম মা বলবেন অসত্য। মা বাবার এই বিপরীত অবস্থান থেকে সন্তানের মনে ঘৃণার জন্ম নেবে। ১৮ বছর যাবত সে ভোগতে থাকবে মানসিক ব্যধিতে। এছাড়া উত্তরাধিকার হয়ে মা বাবার সম্পত্তি ভোগ করতেও ঝামেলায় পড়তে হবে সন্তানকে। মোটকথা নৈরাজ্য ছাড়া উপায় নেই। গত ১৬ নভেম্বর’২০১১ দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত শাকিল ওয়াহেদের ‘সুলেমানের কোরবানী দেখা’ লেখাটি যারা পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই একটু হলেও বুঝতে পেরেছেন যে দু’ধর্ম ওয়ালা মা বাবার সংসারে কী মানসিক যন্ত্রনায় দিন কাটছে সুলেমানের। ২০১১ সালের ৩০ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকেও বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বলা হয়েছে, আন্ত:ধর্ম বিয়ের কারণে সমাজে গড়ে উঠছে নতুন আরেক জাতি; যাদের ধর্মীয় কোনো পরিচয় নেই। এ নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে নাকি বলা হয়েছে, এই আইনটি ১৮৭২ সনের বৃটিশ আইন এবং মুসলমানের জন্য নয়, অন্য ধর্মের লোকদের জন্য। এটি আসলে ভাওতাবাজি। তা না হলে হঠাৎ করে দু’জন কাজী নিয়োগ করে বলা হচ্ছে কেন যে, সারাদেশেও প্রয়োজন হলে এ ধরনের কাজী নিয়োগ হবে। যেখানে বছরে দু-চারজন নিজ ধর্ম ছেড়ে অন্য ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে শাদী করছে সেখানে কাজী লাগে কয়জন? তাছাড়া ১৮৭২ সনের বৃটিশ আইন আমাদের রাখার দরকার কি? প্রতিনিয়ত সবকিছু উল্টাতে পারলে ওই আইন কেন বাদ দেয়া যাবে না?

সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থাকে বাদ দিয়ে সেকুলারিজমকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সারাদেশে সেকুলার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পর্দার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। কুরআন বিরোধী নারী নীতিমালা পাশ করা হয়েছে। ইসলামপ্রিয় জনতা ও আলেম-ওলামাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। এসব করা হয়েছে ইসলামের বিরুদ্ধে যায়, কুরআনের বিরুদ্ধে যায় এমন কিছু করা হবে না ঘোষণা দিয়েই। এত্থেকে বোঝা যায় যে, সরকার পরিকল্পিতভাবেই তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আর তা হচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জাতিকে ধর্মহীন করা। কেননা সেকুলার রাষ্ট্র কায়েম করতে হলে ধর্মকে সাগরে ছুড়ে ফেলতে হবে। সেকুলারিজমের সংজ্ঞাতেই যা অনুমেয়, Secular spirit or tendency especially a system of political or social philosophy that rejects all form of religious faith. অর্থাৎ- ‘সেক্যুলারিজম হচ্ছে এমন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন যা সকল ধর্ম বিশ্বাসকেই প্রত্যাখ্যান করে’। অতএব ধর্মকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ থেকে বিদায় করতেই হবে, বিশেষ করে ইসলামকে।

আন্ত:ধর্ম বিয়ের পরিণতি হবে ভয়াবহ। এদেশে কোনো ধর্ম আর টিকে থাকবে না। সবচেয়ে বড় আঘাত আসবে হিন্দু এবং ইসলাম ধর্মের ওপর। আগে দেখা যেত, কেউ নিজের ধর্ম ব্যতিত অন্য কাউকে বিয়ে করতে চাইলে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে বিয়ে করতে হতো বিধায় সহজে কেউ ওপথে হাটতো না। এখন বিষয়টি সহজ হয়ে যাবে। ধর্ম ত্যাগ না করেই যুবক যুবতীরা তাদের রঙ্গলীলা সাঙ্গ করতে নেমে পড়বে। প্রত্যেক ধর্মের স্বকীয়তা আর থাকবে না। যার ফল দাঁড়াবে অদূর ভবিষ্যতে গোটা সমাজ ব্যবস্থাই ধর্মহীন হয়ে পড়বে। জন্ম নেবে জারজ সন্তান। একদিন জারজ সন্তানে দেশ ভরে যাবে। ধর্মের আর দাম রইবে না। আরিক অর্থে নয়, বাস্তবিকই রক্ত-মাংসে সেকুলার রাষ্ট্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ! আর তা যদি পুরোপুরি নাও হয় সামাজিক বিশৃংখলা যে দেখা দেবে তা তো হলফ করেই বলা যায়।

বিবাহ একটি সামাজিক প্রথা। তাই বলে আমার ইচ্ছে মতো এই প্রথাকে পরিবর্তন করতে পারব না। ইসলাম ধর্ম মানুষের সকল কিছুকে অন্তর্ভূক্ত করেছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কেমন হবে, দিয়েছে তার গাইড লাইন। এই গাইড লাইন আল্লাহ প্রদত্ত বিধায় এর মধ্যে কোনো গলদ নেই। সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিবাহের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনার বিকল্প নেই। এর বাইরে যাওয়ার চেষ্টা মানেই নিজেদের ধ্বংস নিজেরা ডেকে আনা। ব্যক্তি স্বাধীনতার নাম দিয়ে বল্গাহীনভাবে কিছু করার স্বাধীনতা ইসলামে নেই। যারা নিজের স্বাধীনতা দিয়ে অন্যের ধর্ম, সম্মান, রীতি-নীতি ও স্বাধীনতাকে নষ্ট করে তারা মানবতার শত্রু। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দিন। আমীন।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।
ই-মেইল: aminulhoque_iiuc@yahoo.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/MuhammadAminulHaque
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
india থেকে dirtroad লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; সকাল ১০:২২
The responsibilities of a state and religion are different. While religion can promise eternal punishment or reward after life the state necessarily needs to make the existing living rational and liveable for all. In todays age there are a few foundamentals of a state policy which need to be kept in mind. The rights of man and woman to stay together and have a family is one such. And even if religion forbids it a modren state needs to have a mechasim to handle these exceptions..or it becomes a fascist state. In todays world fascism..esp religious fascism doesn't have a place. Its better fr parents to broing up their children in such ways that they abide by the religion. But there are times when the state will need to make policies for outlying population also.
84249
Sydney থেকে Coat Hanger লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; সকাল ১০:২৫
To : aminulhoque
Even the debate on same sex marriage is now almost over in many countries. And from the direction what we can see, sooner or later we all will have to allow same gay marriage. President Obama changed his mind the other day about gay marriage. We like it or not, we support it or not, we have to accept the part of our society, we have to accept they are us, part of us, our relatives. We can't have anything in our law that discriminate them.

While the world is changing and having debate on questions like that, how can you consider religion is important for marriage? Marrigae is a tie between two, where does religion fit in there? I dont see any space in between two for marriage to take place.
84250
চরভব্ সুর, দেওয়ান গঞ্জ, জামালপুর থেকে ফরহাদ লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; দুপুর ১২:৩৭
সরকার নিজেদের কারো কারো কু কীর্তি ঢাকতে এই কাজ করছে.
=
ধন্যবাদ সুন্দর প্রবন্ধ লেখার জন্য!!!
লেখাটি খুবই প্রয়োজনীয়..........
84261
alornishan থেকে jabedbhoiyan লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; দুপুর ০১:৫০
বাংলাদেশের একমাত্র সম্পূর্ন ইসলামিক কমিনিউটি ফোরামঃ http://alor-nishan.com
84262
Arial Kha থেকে Mannan লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; দুপুর ০৩:২১
"Secular spirit or tendency especially a system of political or social philosophy that rejects all form of religious faith."
Then what is the difference between fundamentalism and secularism? As both 'ism' guided by the same ferocious spirit against human rights. You reject fundamentalism? Then you must reject secularism along with.
84269
ঢাকা থেকে মতি য়ার লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; বিকেল ০৪:২৬
খুব ভালো লেখেছেন ।
84271
Hong Kong থেকে Tapon Barua লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; রাত ০৮:৩০
There is no secular country in the world it’s only a slogan. Predominantly Christian west will not choose a non Christian head of state in near future, on the other hand so called most secular (Muslim) Turkey will not elect a non Muslim as their president. Forget about gay president in United States it’s not ready for unwed president yet. In India things are different; the overwhelming caste and religion issues define the rights of the people from matrimony to funeral. Dalits and other religious minorities, including Christians and Muslims continue to be marginalized and these injustices in the civil society reveal the true face of this is so called “Secular” India.
84281
London থেকে Lunik লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; রাত ০৯:১৪
Secularism does not mean rejection of all or any faith at all. It merely ensures that rights of all citizens are protected and no one is discriminated against on the basis of religion. Interfaith marriage is one such case where the marriage between consenting adults is supported and recognized by the state. If we oppose this we'd be swimming against the tide of civilization.
84282
London থেকে Lunik লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; রাত ১০:২৬
india_dirtroad @ 1: The concept of outlying population (your last line) is alien to a true secular country which is or at least tries to be inclusive unlike India, a caste-ridden country with a secular constitution (in paper but not in practice) where the society will never be fit for purpose in a secular environment.
84284
১০
Kuwait থেকে ইকবাল হোসেন লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; রাত ১১:৩৪
Secularism is a doctrine that rejects religion and religious considerations. On the other hand Multiculturalism refers to the manner of a state where no particular “culture” -be it religious, political or ethnic is given official privilege.

Pope Benedict lamented the “increasing disintegration of family, especially in Europe” and urge young people to resist “that secularized mentality which proposes living together as preparation, or even a substitute for marriage.” No one can deny role of religion forming the EU, Turkey would’ve been already in the EU if it were a Christian country. While opposing turkey’s entry to EU, Pope Benedict has strongly supported Croatia, an overwhelmingly Catholic Balkan nation’s bid, with shared value Croatia’s entry to the 27 member bloc help Benedict’s project of Europe’s sense of its Christian heritage.

So called secularism is a sham....thing of the past like communism. It is absolutely impossible to implement secularism unless we live in an atheist society.
84286
১১
বীরভূম পশ্চিম বাংলা থেকে ধাতুশ্রী রায় লিখেছেন, ১৪ মে ২০১২; রাত ১১:৫১
এরশাদের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী
বিশেষ বিবাহ আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা নেই

তারিখ: ১৪-০৫-২০১২

আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেছেন, আন্তধর্ম বিবাহ আইন বা বিশেষ বিবাহ আইন প্রণয়নের কোনো পরিকল্পনা বা উদ্যোগ বর্তমান সরকারের নেই।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গতকাল রোববার সরকারকে আন্তধর্ম বিবাহ আইন বা বিশেষ বিবাহ আইন প্রণয়ন না করার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তার জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শফিক আহমেদ আজ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার বিশেষ বিবাহ আইন বা আন্তধর্ম বিবাহ আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বা উদ্যোগ নিয়েছে বলে মহলবিশেষ অপপ্রচার করছে। এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আইনমন্ত্রী বিবৃতিতে আরও বলেন, তাঁর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আকছির এম চৌধুরী ‘স্পেশাল ম্যারিজ’ রেজিস্ট্রার নন। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন সরকার প্রণয়ন করবে না।
গত ১৮ এপ্রিল আইনমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আকছির এম চৌধুরীকে বিশেষ বিয়ে নিবন্ধকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এরপর ধর্মভিত্তিক কয়েকটি রাজনৈতিক দল আন্দোলন শুরু করে।
আজ আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে আকছির এম চৌধুরী তাঁর লাইসেন্স প্রত্যাহার করে নেওয়ার আবেদন করেন। এরপর আইন ও বিচার বিভাগ থেকে লাইসেন্স প্রত্যাহার-সংক্রান্ত দপ্তর আদেশ জারি করা হয়।
আবেদনে আকছির এম চৌধুরী ব্যক্তিগত কারণে লাইসেন্সের কার্যক্রম পরিচালনায় অপরাগতা প্রকাশ করে সচিবের কাছে লাইসেন্স অর্পণের (সারেন্ডার) কথা জানান।
84287
১২
india থেকে dirtroad লিখেছেন, ১৫ মে ২০১২; রাত ১২:২৫
@Lunik.......A paper is a good start
84289
১৩
London থেকে Lunik লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; রাত ০৩:২৪
@india_dirtroad ...... a good start no doubt but with no end in sight. Shifting the goalpost may be the culture of Indian progress but not a healthy sign for a modern democracy. Is it?
84344
১৪
india থেকে dirtroad লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; সকাল ১০:২১
@lunik..india has its difficulties...we have uge grinding proverty and a historical legacy which gives us casteism as well a big nation aspiration and geo-politics. the priorties overlap sometimes in resource allocation....as a missile or space program possibly kills many people. These deaths happened in china and russia during their social revolutions also. Most indians are proud of the achivements and only fools deny the existance of challenges. But we are doing good and we are trying to do better.....and our youth are confident...and many social institutions anre holding strong. The prognosis looks good....but the path is long.
84357
১৫
Mauritius থেকে Ram Gopal লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:২২
shitroad
Ever since the independence in 1947 most notable achievement India has so far is it has successfully launched cow’s dung tooth paste locally called “GORANTA TOOTHPASTE” and cow’s urine drink “PISS COLA” inspired by the Prime Minister Morarji Desai’s (Brahmin) drinking of his own urine. Keep on dreaming. lol.
84374
১৬
London থেকে Lunik লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; রাত ০৮:৩৪
@india_dirtroad ...... if anything, we have a lot to learn from your civility and patience. I know that you don't have to be here but your contribution enriches SB.Com. So, keep on writing. Dirt Road could be the shining path we need.
84380
১৭
india থেকে dirtroad লিখেছেন, ১৭ মে ২০১২; রাত ১২:১৮
Thanks Lunik..my parents are from Sylhet..i grew up hearing sylheti..and though i cannot speak that language i seek out youtube clips in sylheti and listen and laugh. I had fantastic experiences in Rome and London speaking in Bengali when i least expected it......its difficult to drive me away from here!!!!:-)
84392
১৮
Mauritius থেকে Ram Gopal লিখেছেন, ১৭ মে ২০১২; রাত ০১:২৯
Yet pathological liar neither can write in Bangla nor can find Bengali speaking in India.
84394
১৯
BANGLADESH থেকে BANGLAI লিখেছেন, ১৮ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৩৮
IT IS A FLAGRANT VIOLATION OF HUMAN RIGHT. SOMEONE ELSE HAS THE RIGHT TO CHOOSE ONE'S PARTNER NOT THE CONCERNED PERSONS. MOST VULGAR, OBSCENE AND PERVERTED POLICY IN THE NAME OF RELIGION.
84452
২০
টুঙ্গিপাড়া থেকে সেলিম ভূইয়া লিখেছেন, ১৮ মে ২০১২; রাত ০৮:২৫
আলীগ, বাম ও তাদের মতাদর্শীরা সেকুলারীজমের মানে কি জানতে চাইলে তারা বলেন, সেকুলার মানে ধর্মহীনতা নয় বরং সকল ধর্মের সহ অবস্থানকে লালন করা। কেউই তাদের এই মতকে সমর্থন করেনি তাদের আচরনের কারণে। তাদের আচরনের আগাগোড়া ছিল ধর্ম হীনতা। এখন যে আইনের কথা বলা হচ্ছে তা তো তাদের বিরোধীদের বিশ্বাসের প্রতি শেষ পেরেকটাই মারতে যাচ্ছে। মানে সেকুলার মানে, ধর্মহীনতা.... ধর্মহীনতা.... ধর্মহীনতা.... ধর্মহীনতা.... । তাদের দলে অনেক সদস্য ইতোমধ্যে মুসলমান হয়েও অন্যধর্মের অনুসারীকে বিয়ে করেছেন। দেশ প্রেমের দোহাই দিলেও অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেন।
84456
২১
মক্কা-আল্ মোকররমা সৌদি আরব থেকে এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া [নিজামী] লিখেছেন, ২১ মে ২০১২; রাত ১১:২১
একদিন জারজ সন্তানে দেশ ভরে যাবে। ধর্মের আর দাম রইবে না। আরিক অর্থে নয়, বাস্তবিকই রক্ত-মাংসে সেকুলার রাষ্ট্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ! আর তা যদি পুরোপুরি নাও হয় সামাজিক বিশৃংখলা যে দেখা দেবে তা তো হলফ করেই বলা যায়।

বতমানে
এ আন্ত ধম বিবাহর বিরুদ্ধে সকল কে সোচ্ছার হতে হবে, এটা ঈমানী দায়িত্ব,
কিন্তু বতমানে এর বিরুদ্ধে ওলামায়ে কেরাম সোচ্ছার ,তবে বিএনপি জামাত জোটের পক্ষ থেকে তেমন কোন প্রতিবদ দেখা যায়না ,
এখন তারাও কি পদার আডালে এ ঘৃনিত আইনের পক্ষে?????????????????????????????????????????????????
84643
২২
ঢাকা থেকে সুশান্ত লিখেছেন, ২২ মে ২০১২; রাত ০৪:৫৩
এই আইন যদি নতুন হয়, তাহলে ফেরদৌসী-রামেন্দু/সুলতানা কামাল-চক্কোরবর্তী'দের বিয়ে কিভাবে হয়েছিলো? তঝলে এদের বিয়ে আইনসম্মত ভাবে হয় নাই? তাদের সন্তানদের পরিচয় তবে কি?
84648
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy