|
কারিকুলাম ভিটা (রম্যগল্প)
নাজমুস সায়াদাত |
|
এক.
সাব্বির তৃতীয়বারের মত ডিগ্রী পরীক্ষ দিয়েছিল।
প্রথমবার ফেল করার সময় তার আত্মহত্যার ইচ্ছে হয়। কিন্তু সম্ভব হয়নি উপরওয়ালার ডাক না পাওয়ায়। তাকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিতে হয়। দ্বিতীয়বারেও রেজাল্ট যথারীতি। বাংলায় ছাব্বিশ। এবারে আর আত্মহত্যার ইচ্ছা জাগেনি। কারণ সে জানতে পারলো, আত্মহত্যা করে মেয়েরা। সে মেয়ে মানুষ না। পুরুষ মানুষ। সুতরাং সে তার পৌরুষত্ব দেখাতে পড়ার টেবিলে বসে গেল। ফেইলার ইজ দ্যা পিলার অব ডিগ্রী পাশ...।
আজ বিকেল থেকে তার মনটা ভীষণ খারাপ। কিছুণ আগে সে রেজাল্ট পেয়েছে। থার্ড টাইম পরীক্ষা, তাই ফলাফলও থার্ড কাস। তবে আশার কথা হলো- গত দুইবারের চেয়ে তুলনামূলক ভালো। এগুলো হলো তার আত্মসমালোচনা। আত্মসমালোচনা করা ভাল, আত্মসমালোচনা মানুষকে উপরে উঠতে সহায়তা করে। এই মুহূর্তে তাকেও উপরে উঠতে হবে। ডাক এসেছে। চারতলা থেকে দুলাভাইয়ের ডাক।
সাব্বির এখন বসে আছে তার টিনশেড মেসে। পাশের বিল্ডিংটাই দুলাভাইয়ের। সাততলা ভবন। দুলাভাই আপারা থাকেন চতুর্থ তলার ডান পাশে। সাব্বিরের ধারণা, সম্ভবত: পৃথিবীতে একমাত্র ব্যক্তি হচ্ছেন দুলাভাই যিনি তাকে দুচোখে দেখতে পারেননা। সাব্বিরের ‘সা’ শুনলেই তার গায়ে যেন আগুন জ্বলে। বড় আপা মিষ্টি কথার পানি ঢেলে ঢেলে তাকে ঠাণ্ডা করেন। সেই ভয়ংকর দুলাভাই কেন তাকে আজ এই মুহূর্তে ডেকেছে সাব্বির বুঝতে পারছে না। থার্ড কাস রেজাল্ট করার মহা আনন্দে? ব্যাপার খুবই জটিল। সাব্বিরের মাথায় আসছেনা। আগে সে বড় আপার বাসায়ই থাকতো। বার বার ফেল করলে ডিমোশন নির্ঘাত। সেই সুবাদে দুলাভাইয়ের রাজপ্রাসাদ ফ্যাট ছেড়ে তাকে নেমে আসতে হয়েছে স্যাঁতস্যাঁতে মশা-আরশোলার আস্তানা এই মেসে। এই মেসের সে একটা সুন্দর নাম দিয়েছে : ‘প্রাগৈতিহাসিক আবাস’। তার ধারণা আরশোলা, মাকড়সা, তিনটা ভাঙ্গা চৌকি, কিছু হাড়ি-পাতিল, গোটা কয়েক ডাট ভাঙ্গা হ্যাংগার, সাথে চাম উঠা জিন্স প্যান্টটা, তিনবার হ্যাট্রিকের পথে ডিগ্রী ফেলটুস সাব্বিরসহ অন্য চারজন বেকার রুমমেট প্রত্যেকেই ইতিহাসের আগের যুগের বাসিন্দা।
সে এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে যে দুলাভাইয়ের ডাকে সাড়া দিবে কিনা। ইদানিং তার মধ্যে একটা ড্যামকেয়ার ভাব এসেছে। বার বার ফেইলার টাইপ ভাব। সে সিদ্ধান্ত নিল, ও বাসায় যাবে না।
দুই.
কলিং বেলে চাপ দিতেই প্যাঁ পোঁ শুনতে পেল সাব্বির। সেই সাথে আরো একটা ব্যাপার ঘটছে। বাসার ভিতরে সম্ভবত ক্যাটরিনা-হারিকেন শুরু হয়েছে। বড় আপা আর দুলাভাই লেগেছেন। আবহাওয়া খুব খারাপ। সাব্বির এখন ভাবছে না আসার সিদ্ধান্তটায় ঠিক ছিল। এখন আসার সিদ্ধান্ত নিয়েই ভুল করেছে। কিন্তু ফেরার পথ নেই। কলিং বেলে চাপ পড়েছে। পালাবে কিনা এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না। দরজা খুলে গেল। ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে মেহজাবিন। বড়আপার একমাত্র তনয়া-সাব্বিরের ভাগ্নি। সাত বছরের পিচ্চি হলেও কথায় ওরে বাপ!
‘মামা এখন এসো না ! পরে এসো। বাসায় বুশ ইরাকের যুদ্ধ লেগেছে!’ ওকে ভেতরে ঢুকতেই দিবে না মেহজাবিন।
‘কে রে মাহি?’ বড় আপার হুংকার শুনা গেল ভেতর থেকে।
‘আম্মু ছাব্বিশ মামা।’ ওকে পোবার জন্যই হোক আর অন্য কোন কারণেই হোক মেহজাবিন সাব্বিরকে অংকের ছাব্বিশ মামা নামে ডাকে। ওর ধারণা তার মামার নম্বর ছাব্বিশ। ছাব্বিশ মার্কা মামা।
দরজায় দাঁড়িয়ে গাধাটা কি গল্প করছে, ভিতরে আসতে বল। বড়আপার সমন জারী হলো।
সাব্বির ভেতরে গিয়ে বসল। বড় আপা আর দুলাভাই মুখোমুখি সোফায় বসে আছেন। বুঝায় যাচ্ছে চেহারা বেশ ভয়ংকর। একটু আগেই যে ঝড় বইছিলো তার বহি:প্রকাশ।
দুলাভাই সাধারণত: ওকে সরাসরি কোন কথা বলেন না। এ্যালাও-ই করেন না, আর কথা তো অনেক দূরে। তাই সে বড়আপাকে কিছু বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুলাভাই কেন ডেকেছেন- এই ধরণের প্রশ্ন করবে ভাবছে।
‘সাব্বির আহমেদ সাজু।’ দুলাভাইয়ের গম্ভীর গলা। ওকে উদ্দেশ্য করে বাবার রাখা পুরো নামটা ধরে ডাকলেন। সাব্বির ভেতরে ভেতরে ঘামতে লাগলো। কী ভয়ংকর ব্যাপার! দুলাভাই পুরো নাম ধরে ডাকছেন। নিশ্চয়ই কোন ‘কিন্তু’ আছে।
‘জ্বি দুলাভাই।’
‘গতকালের ইত্তেফাকের সাত নম্বর পেজের ছয় নম্বর কলামে একটা বিজ্ঞাপন আছে। তুই চাকুরীটার জন্য এপ্লাই করবি।’ সাব্বিরের মনে হলো রাজা পঞ্চম জর্জের আইন জারী হচ্ছে, অথবা কয়েকটা পারমানিক চুল্লির মালিক বিশ্বমোড়ল বুশ ব্যাটা বলছে যাও ইরাক আক্রমণ কর।
‘জ্বি আচ্ছা।’ আমতা আমতা করে ঢোক চিপলো সাব্বির।
‘দেখিস গাধার মতো আবার এপ্লিকেশন লিখতে ভুল করিস না যেন। তোর মত গাধারা তো আবার হুট করেই ভুল করে। হাতের লেখা তো মিশরীয় বর্ণ হায়ারোগ্লিফস। পাঠোদ্ধার করতে বিশেষজ্ঞ লাগে। ডক্টর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কেন, তার ফরটিন জেনারেশনও পড়তে পারবেনা। আজকাল আবার ফ্যাশন হয়েছে। কমপিউটারে কম্পোজ। তুই স্বহস্তে লিখবি। কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং হস্তার যেন না হয়, বুঝেছিস?’
‘জ্বি আচ্ছা।’
‘ডিগ্রী রেজাল্ট থার্ড কাস হয়েছে চিন্তা করিস না। আবার ইমপ্রুভ দিবি। তার আগে চাকরী কর। বেকার জীবনের একটা গতি হোক।’
‘জ্বি আচ্ছা।’ সাব্বিরের মনে হলো দুলাভাইয়ের মুখে এই ধরণের বাক্য তার জীবনে প্রথম শুনলো।
‘কী সব জ্বি আচ্ছা জ্বি আচ্ছা করছিস। যা ভাগ।’
‘জ্বি আচ্ছা। যাচ্ছি।’
তিন.
একটা কোম্পানীতে কিছু লোক নিয়োগ করবে। দুলাভাইয়ের কথামতো দৈনিক ইত্তেফাকের বিজ্ঞাপন দেখে জানতে পারলো সাব্বির। সে জানে তার চাকুরীটা হবে না। কারণ সে ডিগ্রী থার্ড কাস। জীবনেও সে চাকরী-বাকরীর ব্যাপারে চিন্তা করেনি। সে স্ট্যাবলিস্ট বেকার। বেকারই থাকবে। এ সব ঝামালার দরকার কি? তার এই সব গুছালো চিন্তা-ভাবনাগুলো দুলাভাই হঠাৎ করে যেন হচপচ করে দিলো। পরদিন দুলাভাইয়ের আবার ডাক পড়লো।
‘সাব্বির আহমেদ সাজু।’
‘জ্বি দুলাভাই।’
‘দরখাস্ত লিখেছিস।’
‘লিখবো ভাবছি।’
‘ভাবছি কি রে গাধা। দরখাস্ত লিখে আমার সাথে দেখা কর। আর শোন সাথে তোর একটা সিভি, পাসপোর্ট সাইজের তিন কপি ছবি আর কিছু কাগজপত্র চেয়েছে। ওগুলো কিন্তু ঠিক-ঠাক মত কমপ্লিট করবি।’
‘জ্বি আচ্ছা।’
‘জ্বি আচ্ছা জ্বি আচ্ছা করিস না, যা ভাগ।’
সাব্বির দুলাভাইয়ের ধমক খেয়ে বড় আপার কাছে গেলো। বড়আপা ইয়া বড় কড়াইয়ে কী যেন মাছ ভাজছেন। প্রচুর তেলে মাছের ফ্রাই। বেশ জোড়ালো সুবাস। ঘ্রাণং অর্ধনং ভোজনং...। সম্ভবত: সেই কারণেই হোক কিংবা অন্য কোন কারণেই হোক মেহজাবিন ওর মায়ের আশে পাশে তিড়িং বিড়িং করে লাফাচ্ছে।
‘কিছু বলবি নাকি।’ চামুচটা কড়াই থেকে তুলে নিয়ে সাব্বিরের দিকে তাকালেন বড়আপা।
‘বলবো মনে করেই তো এই কিচেন পর্যন্ত এসেছিলাম।’
‘কথা বেশি বলা তোর অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।’
‘আপা দরখাস্ত দিব ভালো কথা তার সাথে একটা সিভি। এই সিভি-টা কী?’
আপা উত্তর দেবার আগেই মেহজাবিন ঠাস করে বলল, ‘মামা সিভিটা চেন না ওই যে আমাদের ওখানে। শরবত...।’
‘মাহি চুপ কর।’ বড় আপার ধমকে মেহজাবিনের আরো কিছু বলার ইচ্ছাটা কঠিনভাবে বাধাগ্রস্থ হলো। বড় আপা সাব্বিরের দিকে তাকালেন।
‘সিভি হলো তোর কারিকুলাম ভিটা। জীবনবৃত্তান্ত। জীবনে কতবার ফেল করেছিস, কতবার দুলাভাইয়ের লাথি-গুতো খেয়েছিস এইসব ফিরিস্তি। আর কিছু?’
‘বুঝলাম কিন্তু আপা সাথে চেয়েছে পাঁচ ফুট সাইজের ছবি। পাঁচ ফুট মানে বোঝ, আমার দৈর্ঘ্য কত জানো? সাড়ে পাঁচ ফুট। এতবড় ছবি দিতে হবে কেন? আবার এক কপি নয়, তিন কপি। ওরে বাপ! ’
সাব্বিরের কথা শেষ না হতেই আপা হাসতে হাসতে কঠিন অবস্থা। ‘গাধারে গাধা! পাঁচ ফুট সাইজ নয় রে গাধা, পাসপোর্ট সাইজের।...’
লজ্জায় ওর মাথা হেট হলেও আপার হাসি থামছে না। সাথে আবার যোগ দিয়েছে পিচ্চি মেহজাবিনও!
চার.
আজ সকাল বেলায় সাব্বিরের বিপত্তি ঘটলো। সাড়ে সর্বনাশ না হলেও পৌনে পৌষ মাস।
ফাইলটা হাতে নিয়ে সে এ্যাপ্লিকেশনটা জমা দেবার জন্য যাচ্ছিল।
বিপত্তিটা ঘটলো বল্টুর চায়ের দোকানে। চা দে টাইপের ইংগিতের পর বল্টু চা বানিয়ে কাপটা এগিয়ে দিলো।
সাব্বির কাপটা ধরেছিল। ঠিক এই মুহূর্তেই ঘটনাটা ঘটে গেল। কাপের নীচে প্রিচ নামক একটি ঠেস দেয়া বস্তু বিদ্যমান ছিল। ওটা ধপাস করে নীচে পড়ে গেল। শব্দের সাথে প্রিজের ভাংগা টুকরোগুলো ছিটকে পড়লো শান বাধা মেঝেতে। একটা টুকরা আবার খুবই উদ্যত আচরণ করে চটাং করে উঠে এলো সাব্বিরের পালিস করা ডান পায়ের জুতোর উপর।
মেজাজ খিচরে উঠতে কয়েক সেকেন্ড সময় নিলো সাব্বিরের। প্রিচটা না ধরার অপরাধে মনে মনে নিজেকে এবং জোড়ে জোড়ে বল্টুকে গালি দিলো।
‘দেখছিস না এই হাতে ফাইল ধরে আছি। তুই শুধু কাপ দিবি, প্রিজটা দিতে গেলি ক্যান...’ ইত্যাদি ইত্যাদি।
বল্টুও স্প্রিংয়ের মত বলে উঠলো, ‘আপনে প্রিজের দাম দিয়ে তবে যাইবেন।’
এমন কথা শুনলেও মাদার তেরেসার মতন মমতাময়ী মানুষেরও মেজাজ খিচরে ওঠার কথা। আর সাব্বির তো এম্নিতেই ‘ফাদার অব ত্যারছা’। সুতরাং একটা হট্টগোলের সমূহ সম্ভাবনা দেখা গেলো। সাব্বির ব্রিটিশ আমলের দারোগার মত করে হুংকার ছাড়লো, ‘বল্টু তুই কী কইলি? একেবারে মুখের মানচিত্র চেঞ্জ করে দিব বুঝেছিস।’
আর যায় কোথায়? বল্টুর পাড়াতো আত্মীয়রা মানে কিছু হিরোইন খোর টুলটায় বসে বেনসনের ধোঁয়া হজম করছিল। সুতরাং বল্টুর প থেকে এবার তাদেরই জবাব দেবার পালা। গালকাটা সামসু ওর স্বভাবসূলব নাকী সুরে ফোঁস করে বলল, ‘প্রিজ ভাঙছেন, আবার বড় নেকচারও দেন। ভাইজানের বাড়ী কোথায়?’
সাব্বিরের মেজাজের পারদ উপরে উঠছে।
পাশের ‘সিগন্যাল বাবু’ নামে খ্যাত চৌকাটমুখো গাঁজাখোরটা খ্যাঁক করে উঠলো ‘আব্বে হালায় বেশি ফাল পাড়স কেল্লায়, দুডা চাবকানি লাহাই দেনা।’
সাব্বিরের মেজাজের থার্মোমিটার অতিরিক্ত তাপে ফেটে চৌচির হয়ে গেল।
প্রথম আক্রমণটা হলো সিনগ্যাল বাবুর উপর। আর যায় কোথায়?
ওরে বাপরে বাপ? গোটা চায়ের দোকানটা বাংলা চলচ্চিত্রের শুটিং স্পটে পরিণত হয়ে গেলো। ঢুসুম-ঢাসুম শব্দ, কাপ-প্রিচ, বিস্কুটের বয়াম, দোকানের মালপত্তর, বসবার নড়বড়ে টুলটাসহ সবকিছুই ভেঙ্গে-চুড়ে, চুড়ে-ভেঙ্গে শুটিং স্পটের শ্রীবৃদ্ধি করতে লাগলো।
সেই সাথে তো রক্ত, মাংসের খাবলা, ভাঙ্গা হাত-পার মটমটানি আছেই! ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড হিসেবে মারমারিরত অভিনেতাদের ইয়াহু টাইপের খিস্তিগুলোও শুনতে খারাপ লাগার কথা নয়।
আশপাশে উৎস্যুক জনতার ভীড় জমে গেছে।
হঠাৎ করে কে একজন বলে উঠলো র্যাব।
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্থানটা অন্যরকম হয়ে গেল। জনগণ হাওয়া। দোকানদার বল্টু আর তার প্রফেশনাল পাড়াতো স্বজনরাও লা-পাত্তা। শুধু ভাঙ্গা টুলটার কোণায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে সাব্বির আহমেদ সাজু।
পরিশিষ্ট
হাসপাতালের বেডে শুয়ে সাব্বির যখন চোখ খুললো তখন এক মহা অবস্থা। চেনা অনেকগুলো মানুষের উৎস্যুক মুখ। মেহজাবিন চিৎকার করে বলল, ‘মামা!’
সাব্বির ব্যান্ডেজরত অবস্থায় উঠে বসার চেষ্টা করল। আপা সাহায্য করলো।
সাব্বির উহ আহ করতে করতে অনেক কষ্টে উঠে বসল। সম্ভবত: দুলাভাইয়ের মুখ ফসকে বেড়িয়ে এলো ‘গাধা!’
সাব্বির ভয়ে ভয়ে আপার দিকে তাকালো।
‘কিছু বলবি?’ আপা একটা কমলা তুলে দিচ্ছিল।
‘আমার ফাইল? ওর ভিতর বায়োটাডা আর এপ্লিকেশনটা ছিল।’
‘তোর এ্যাপ্লিকেশন আজরাইল নিয়ে গেছে। আর বায়োডাটাটা কবরে দিস। মুনকার-নকীরের খুব সুবিধা হবে। গাধা।’ হুংকার ছাড়লেন দুলাভাই।
সাব্বিরের চোখ দিয়ে টপ করে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল।
মেহজাবিন চট করে হাত দিয়ে মামার অশ্রুর ফোঁটাটা ধরে ফেলল। |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/NajmusSaadat |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
নাজমুস সায়াদাতের জন্ম ২২ অক্টোবর ১৯৭৯। পৈত্রিক নিবাস জয়পুরহাট। ছয় ভাই ও চারবোনের মধ্যে সবার বড়। পিতা সায়েম উদ্দীন শিক্ষক, মাতা নূরজাহান বেগম গৃহিণী।
নাজমুস সায়াদাত স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে উচ্চ শিক্ষারত। এছাড়াও তিনি একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ বিভাগে আইটি অফিসার হিসেবে কর্মরত।
তার প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ :
থ্রিলার : বিধ্বস্ত প্রান্তর ১ম ও ২য় খণ্ড (২০০৪), ভয়ংকর বিভীষিকা (২০০৫), মৃত্যুনীল আতংক (২০০৯); গবেষণা : আব্বাস আলী খান : জীবন ও কর্ম (২০০৬); সায়েন্স ফিকশন : ক্রমোজমের ক্রমোন্নতি (২০০৭), ডিজিটাল বাংলাদেশ (২০১০) কবিতা : মেসেজগুলো ডিলিট হয় স্পর্শের আগেই (২০০৮) কিশোর উপন্যাস : ট্যাবলেট (২০১০), গল্প : মেস মেম্বার আবশ্যক (২০১১) উল্লেখযোগ্য। |
|