পারস্য অধিপতি বখতে নাসের যখন জেরুজালেম থেকে ফিরে যেতে সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন জেরুজালেমে মাথা গোঁজানোর মত একটি ছায়াও ছিলনা। ঘর-বাড়ী, বসতি, বাজার সবকিছুকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোলায়মান (আঃ) কর্তৃক নির্মিত বায়তুল মোকাদ্দাসের সীমাহীন ক্ষতি করা হয়েছে। শহরের সর্বত্র হাজার হাজার ইহুদীর লাশ ছড়িয়ে চিঠিয়ে পড়েছিল। নাসেরের গজব তুল্য এই আক্রমণে ইহুদীরা জ্ঞানশূন্য হয়ে দিক বিদিক চারিদিকে পালিয়ে গেল। যে কয়জন ইহুদী পালাতে পারল না, বখতে নাসের তাদেরকে যুদ্ধলব্দ মাল হিসেবে বন্দী করে ব্যবীলনে নিয়ে গেলেন। ইহুদীদের সীমাহীন লোভ, সোনা-রুপা দখল করা, সম্পদ কুক্ষিগত করা। বৈষয়িক স্বার্থের লোভে নবীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা। জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলা। আশের পাশের নগর, নাগরিক জীবনকে ভীত সন্ত্রস্ত করা। সর্বোপরি সম্পদ কুক্ষিগত করতে ঠগ বাজি, ওয়াদা ভঙ্গের পরিণাম হেতু পারস্য অধিপতি বখতে নাসের তাদের উপর প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য, নিজেই সেনাবাহিনী নিয়ে জেরুজালেমের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। খৃষ্টপূর্ব ৫৫০ সালে অগ্নি উপাসক বখতে নাসেরের এই লোমহর্ষক আক্রমণে, যে সামান্য সংখ্যক ইহুদী কোনমতে জান বাঁচাতে পেরেছিলেন তাদের কিছু সংখ্যক ভূমধ্য সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে, আফ্রিকার বনে-জঙ্গলে এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়া ও আরবের উত্তপ্ত মরুভূমির আনাচে কানাচে আত্মগোপন করে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। এই ঘটনার কিছু দিন পরে, আল্লাহর নবী ওজায়ের (আঃ) বিরান জনপদ জেরুজালেমের করুন দশা দেখে আশ্চর্য হয়ে আল্লাহর কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন, “হে আল্লাহ এই নিস্তব্ধ বিরান শহরের, নিশ্চিহ্ন মানুষগুলোকে তুমি কিভাবে পুনর্জীবিত করবে”? আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেই প্রশ্নের উত্তর ওজায়ের (আঃ) কে এক সুন্দর ঘটনার মাধ্যমে দিয়েছিলেন! বখতে নাসেরের ধ্বংস-যজ্ঞের প্রায় একশত বছর পরে, পারস্য সম্রাট ‘সাইরাসের’ সাথে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে, মুসা (আঃ) কর্তৃক আনিত তাওরাতের স্বীকৃতি দানকারী আল্লাহর প্রিয় নবী ওজায়ের (আঃ) ইহুদীদেরকে মুক্ত করে পুনরায় জেরুজালেমে স্থলাভিষিক্ত করেন।
উপরে বর্ণিত উদাহরণটি ইহুদী কর্তৃক ঘটিত ইতিহাসের শত শত ঘটনার একটি। পৃথিবীর মানুষকে উৎপীড়ন কারী, প্রতারণার মাধ্যমে অপরের সম্পদ আত্মসাৎ কারী, অপরের অর্থ নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নেবার ধান্ধায় সদা মতলবি, নিজের ঘরকে টাকার গুদাম বানানোর প্রচেষ্টাকারী, কৃতজ্ঞতা বোধকে পদতলে পিষ্ট করে বিপদে সাহায্য কারীকে উৎখাত করে তার সম্পদ লুণ্ঠন কারী, একমাত্র সম্প্রদায়ের নাম ইহুদী। তাদেরকে উদ্ধার এবং পুনর্বাসন কারী নবী ওযায়ের (আঃ) কে অতি ভক্তি, অতি শ্রদ্ধা করতে গিয়ে, তাঁকে আল্লাহর নবী না বলে, আল্লাহর পুত্র বানিয়ে চরম বেইজ্জতি করেছে। শুধু কি তাই! এই ইহুদীরা তাদের সময়ে আগত সকল নবীকেই অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বহু নবীকে নির্মম কায়দায় হত্যা করেছে। গাছের গর্তে লুকিয়ে থাকা নবীকে গাছ সহ চিরিয়ে ফেলেছে। নবীদের দাঁড় করিয়ে খাড়া গাছের ন্যায়, তক্তার মত করে করাত দিয়ে চিরিয়েছে। তাদের উপদ্রবে ঈসা (আঃ) তাঁর প্রতিটি দিন পার করেছেন বহু কষ্ট করে। ঈসা (আঃ) অবর্তমানে তাঁর সওয়ারীদের জন্য পৃথিবী সংকোচিত হয়ে পড়েছিল। শেষ নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন সংহারে এরা মরণপণ জেদ ধরেছিল। তাঁর খাদ্যে বিষ মাখানো, রাসুলকে (সাঃ) তাদের ঘরে দাওয়াত দিয়ে হত্যা করা। রাসুল (সাঃ) এর নিজ গোত্রের মানুষদের ক্ষেপীয়ে হত্যা করানো, রাসুলের সাথে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে তাঁকে নিশ্চিহ্ন করা সহ হেন অপকর্ম বাদ রাখেনি, যা ইহুদীরা না করে থাকেনি। পৃথিবীতে ক্ষমার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ব্যক্তি মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে বার বার ক্ষমা করার পরও, সুযোগ পাওয়া মাত্রই তাঁকে হত্যা করতে বিন্দু মাত্র সুযোগ তারা হাতছাড়া করে নাই। বস্তুত দুনিয়ার স্বার্থ লোভেই তারা নবীদের সাথে এই দুষমনি করত। নবীদের আগমনে তারা প্রতিপত্তি আর ক্ষমতা হারানোর ভয় করত। অধিকন্তু তারা প্রবৃত্তির মোহ, লিপ্সা ও লোভ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারত না। ফলে তারা বারবার নবীদের উপর হাত তুলতে বিন্দুমাত্র চিন্তা করত না। সেজন্য বহু নবী এই জাতীকে বদদোয়া করে আল্লাহর দরবারে হাত তুলেছেন। যার ফলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে বলেছেন, “এদের যেখানেই পাওয়া গেছে সেখানেই এদের ওপর লাঞ্ছনার মার পড়েছে। তবে কোথাও আল্লাহর দায়িত্বে বা মানুষের দায়িত্বে কিছু আশ্রয় মিলে গেলে তা অবশ্য ভিন্ন কথা। আল্লাহর গযব এদেরকে ঘিরে ফেলেছে। এদের ওপর পর মুখাপেক্ষিতা ও পরাজয় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আর এসব কিছুর কারণ হচ্ছে এই যে, এরা আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করতে থেকেছে এবং নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। এসব হচ্ছে এদের নাফরমানি ও বাড়াবাড়ির পরিণাম ৷ আল ইরমান-১১২
সকল নবীগন যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী প্রাপ্ত হতেন, সেহেতু তাঁরা ইহুদীর দুরভিসন্ধি থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছেন। প্রয়োজনে জীবন দিয়েছেন তারপরও সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন। পক্ষান্তরে পৃথিবীতে ইহুদীকে বন্ধু ভেবে যারা তাদের সাথে আত্মীয়তা করেছে, তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে, তাদের সহযোগিতা করেছে এবং তাদের বিশ্বাস করেছে। পৃথিবীতে তার অধঃপতন হয়েছে! কেউ চির নিঃস্ব হতে, কারো দুনিয়াতে প্রচুর শত্রু জোটতে একমাত্র ইহুদীর বন্ধুত্বই যথেষ্ট হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা যায়, যারা ইহুদীকে চরম বিপদের দিনে একদা স্থান দিয়েছে, পরবর্তীতে তারাই মারাত্মক আগ্রাসী হয়ে আশ্রয় দাতাতে নির্মমভাবে উৎখাত করেছে! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার মশা-মাছি নিধনের মত করে ইহুদী নিপাত করেছেন। তার যুক্তি ছিল পৃথিবীতে একজন ইহুদী বেঁচে থাকলেও মানবজাতি তার কারণে অশান্তিতে থাকবে। যে জার্মানি একদা ইহুদীদের নিজের দেশে স্থান দিয়ে জগত জোড়া সুনাম অর্জন করে; আবার সে জার্মানি হাজার হাজার ইহুদীকে গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে; বিষাক্ত সায়ানাইড গ্যাসের নির্যাতনে, বুকে হাত মেরে তর-পড়িয়ে ইহুদীর মৃত্যু দৃশ্য উপভোগ করেছে! এত বীভৎস কায়দায় ইহুদী হত্যা করা করার পরেও হিটলারের অন্তরে দয়ার উদ্রেক হয়নি বরং উত্তরোত্তর প্রচেষ্টা ছিল ইহুদী হত্যায় আরো অভিনবত্ব আনতে! বর্তমান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পরাশক্তি ও খৃষ্টান জনসংখ্যার দেশ আমেরিকার নাকে ইহুদীরা সুতলি বেঁধে কিভাবে পুতুলের মত নাচাচ্ছে! দেশের সমূদয় অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে! আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতিকে খেদিয়ে বেড়াচ্ছে! সেটা দেখলে হিটলারের আগ্রাসী হয়ে উঠার মর্ম ব্যথা কিছুটা হলেও অনুধাবন করা যায়।
এহুদ বারাক প্রথম বারের মত ইস্রায়েলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসে এক বক্তব্যে বলেন, ‘মুসলমানদের জানা উচিত এই অঞ্চলের দাবী আমরা এমনিতেই ছেড়ে দিচ্ছিনা। এই ভূখণ্ডে ফিরে আসতে আমরা দুই হাজার দুই শত বছর লড়াই করেছি’। উল্লেখ্য মুসলমানেরা হযরত ওমরের নেতৃত্বে খৃষ্টানদের নিকট থেকে প্রথমবার জেরুজালেমের দায়িত্বভার পেয়ে যান। খৃষ্টানদের নিরাপত্তা দেবার শর্তে, বিনা রক্তপাতে জেরুজালেম মুসলমানদের অধিকারে আসে। এর পরে জেরুজালেম নিয়ে মুসলিম ও খৃষ্টানদের মাঝে বহুবার ক্রুসেড তথা ধর্মযুদ্ধ সংগঠিত হয়। তবে জেরুজালেম উদ্ধারে ইহুদীদের সাথে মুসলমানদের কোন সংঘাত হয়নি, অথচ মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের ভাষার প্রয়োগ লক্ষণীয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার কর্তৃক ইহুদী নিধনে ফিলিস্তিনরা ইহুদীদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন। ফিলিস্তিনদের সহানুভূতির হাতই পরবর্তীতে তাদের জন্য মরণের কারণ হয়েছে। ফিলিস্তিনের মানুষেরা আল্লাহর দেওয়া হুশিয়ারির কথা ভুলে গিয়ে, ইউরোপ থেকে ইহুদী বিতাড়নের কারণ গুলো পর্যালোচনা না করে, ফিলিস্তিনরা নিজেদের বাড়ী ঘরের পাশেই ইহুদীদের স্থান করে দিয়েছিল। বর্তমানে সেই ইহুদীদের হাতেই প্রতিনিয়ত হাজার হাজার ফিলিস্তিনদের বাস্তুহারা হতে হচ্ছে! নিজেদের ভিটে বাড়ি বুলডোজার দিয়ে নিজেদের চোখের সামনে গুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। প্রতিবাদে পাথর মারা ব্যতীত আর কিছুই করতে পারছে না। আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ, যাদের ওপর আল্লাহ রুষ্ট (ইহুদী) তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। আখেরাত সম্পর্কে তারা ঠিক তেমনি নিরাশ যেমন কবরস্থ কাফেরা নিরাশ’। সুরা মুমতাহিনা-১৩। আল্লাহর এই সতর্ক বাণী মুসলমানেরা ভুলে গিয়েছিল এবং মুসলমানের প্রতিটি দুর্বলতার সুযোগ কে কাজে লাগাতে ইহুদীরা একটি মুহূর্তকেও বরবাদ করেনি। এভাবে মুসলিম দেশগুলো ঘুমিয়ে থাকার কারণে ইহুদীরা মুসলিম দেশগুলো থেকেই বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। মধ্য প্রাচ্য থেকে দূর প্রাচ্য পর্যন্ত চারিদিকে যে অশান্তি আর বিভেদ তার মূল কারণ হল এই ইহুদী জাতির সর্বগ্রাসী চিন্তাভাবনা।
ইহুদী কর্তৃক ইউরোপের বিভিন্ন জাতির দুঃখ-দুর্দশা থেকে দুনিয়ার মানুষেরা শিক্ষা গ্রহণ করেনি। আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কে হবেন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তেল-আবিবে বসে! কার সাথে যুদ্ধ করা হবে, কাকে সর্বস্বান্ত করা হবে, আমেরিকার প্রতি সে নির্দেশনা আসে তেল আবিব থেকে। বর্তমানে এসব ধীরে ধীরে আমেরিকার জনগণের চোখে পড়ছে। তারা এসবের হেতু বের করার প্রতি উৎসাহী হয়েছে। ইহুদীদের প্রতি আমেরিকান জনগণের মোহ কেটে যাচ্ছে। যে অপকর্মের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন জনপদ থেকে ইহুদীদের উচ্ছেদ হতে হয়েছিল; সেই কারণ এখন আমেরিকানদের ঘাড়ের উপর চেপে বসেছে। চরম অ-বিশ্বস্ত, প্রচণ্ড বিশ্বাসঘাতক ইহুদীদের যে অপরাধের কারণে ইস্রায়েল থেকে উৎখাতের জন্য মুসলমানেরা দিনের পর দিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সে একই অপরাধের কারণে, ইউরোপের প্রায় প্রতিটি খৃষ্টান দেশ ইহুদীদের উৎখাত করেছে। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখতে পাই; ফ্রান্স থেকে ইহুদীদের বিতাড়ন করা হয় ১১৮২ সালে, পর্তুগাল থেকে ১৪৯৬ সালে। সেভাবে, ন্যাপলস থেকে ১৪৯৬, ইংল্যান্ড ১২৯০, নাভারে ১৪৯৮, নিউরেম্বের্গ ১৪৯৮, ব্রান্ডেনবার্গ ১৫১০, প্রুসিয়া ১৫১০, হাঙ্গেরী ১৩৬০, জিনোয়া ১৫১৫, বেলজিয়াম ১৩৭০, স্লোভাকিয়া ১৩৮০, ইতালী ১৫৪০, অষ্ট্রিয়া ১৪২০, প্রাগ ১৫৪১, ভিয়েনা ১৬৬৯, মোরাভিয়া ১৭৪৪, স্পেন ১৪৯২, মস্কো ১৮৯১, ইতালী ১৪৯২, নেদারল্যান্ড ১৪৪৪.......... ইত্যাদি। উল্লেখ্য সে সময় ইতালী, ন্যাদারল্যান্ড নামে কোন দেশ না থাকলেও স্থান দুটো চিহ্নিত করতে বর্তমান কালের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে শুধু মাত্র বেশী পরিচিত স্থানগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকটি দেশ থেকে কয়েকবার হিসেবে ইহুদীদের শুধুমাত্র ইউরোপ থেকেই সর্বমোট ১০৯ বার উচ্ছেদ করা হয়েছিল। মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বের শেষ সময়ে ওআইসি সম্মেলনের এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘মুসলমানদের হাতে যে কয়জন ইহুদী নিহত হয়েছে, তার বিপরীতে ইহুদীর হাতে অনেকগুণ বেশী পরিমাণে মুসলিম নিহত হয়েছে। আর ইউরোপিয়ান হত্যা কাণ্ডে সারা পৃথিবীর ইহুদীর সংখ্যাকে অর্ধেক করে দিয়েছে’। মাহাথির বর্ণবাদী কথা বলেছেন এমন অভিযোগে আমেরিকা তাঁকে তিরস্কার করেছিল, আজ ইরান সেই সত্যকে উপলব্ধি করছে বলেই, তাকেও ইতিহাসের পাতা থেকে নিশ্চিহ্ন করার পাঁয়তারা চলছে। ইহুদিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এসব ঘটনা বর্ণবাদী ঘটনা ছিলনা, এসব ছিল তাদের পাপের অর্জিত কর্মফল। যা তারা আজোও ফিলিস্তিনের অসহায় মানুষদের হত্যার মাধ্যমে অর্জন করে চলছে। পৃথিবীর কোন মানুষের অনুরোধ, কোন দেশের ইচ্ছা, রক্তের নদী, লাশের মিছিল দেখেও তারা হত্যা থেকে নিবৃত হচ্ছেনা। ইহুদীদের চরম বাড়াবাড়ির চূড়ান্ত সীমারেখা তারা বহু আগেই পার করেছে, এখন শুধু পায়চিত্তের মহা অনুষ্ঠান বাকি রেখেছে।
ইহুদীরা তাদের সেই পুরানা ধারনা থেকে আজো সরে আসেনি। তারা ভাবছে অস্ত্র আর অর্থ সম্পদ দিয়ে পৃথিবীর সমূদয় শক্তিকে দমিয়ে রাখা যাবে। ফলে নিজেরা সামনে অগ্রসর না হয়ে, অন্যদের কাঁধে ভর করে পৃথিবীকে শাসাতে চায়। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে ইহুদীরা আমেরিকাকে আষ্টেপৃষ্ঠে শক্ত বাধনে আবদ্ধ করেছে। পৃথিবীতে অনেক সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। সম্পদের পাহাড় গড়া, অন্যের সম্পদ কুক্ষিগত করা এটা এদের কোন নতুন চরিত্র নয়। এই চরিত্রকেই শানিত করতে গিয়েই দুনিয়াতে সকল অঘটন ঘটিয়ে চলছে। ইতিহাসের পাতায় দেখা হয়েছে, তাদের যতই সম্পদ থাকুক, যত বৈষয়িক ক্ষমতা থাকুক না কেন, তারা নিজেরা কোন দিন বিজয়ী হয়ে টিকে থাকতে পারেনি। ঈসা (আঃ) সময়ে তারাই সবদিকে ক্ষমতা বান ছিল তবুও তাদের সামনেই খৃষ্টধর্ম বুৎপত্তি অর্জন করেছিল। মোহাম্মাদ (সাঃ) জামানায় তারাই সবদিকে ক্ষমতা বান ছিল। অস্ত্র, অর্থ, প্রাচুর্য সবটাই তাদের হাতে থাকার পরও তারা নিঃস্ব অবস্থায় আরব উপদ্বীপ ত্যাগ করেছিল। এটার মূলে ছিল তাদের নৈতিক শক্তির বড় অভাব। লোভ, হঠকারিতা, শঠতা আর বক্রতার মাঝে কোনদিন নৈতিক শক্তি জীবিত থাকতে পারেনা। দুনিয়াতে সর্বত্র সকল ইহুদীর মাঝে এই চরিত্রের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। যার কারণে তারা জগতবাসীকে নৈতিকতার জোড়ে আহবান না করে অর্থ-সম্পদ, ভোগ-বিলাসিতা, প্রাচুর্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমেই মানুষের দৃষ্টিকে প্রলুব্ধ করতে চেষ্টা করে। ইহুদীর এসব প্রাচুর্য ও শক্তির বিপরীতে ইসলাম এসেছিল ঝড়ের মত প্রচণ্ড নৈতিক শক্তি নিয়ে। ইসলাম বিরোধী প্রতিটি শক্তিকে ইহুদীরা অর্থ, অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে দমানোর চেষ্টা করেছিল। তারপরও এক হাজার কাফের শক্তির বিপরীতে তিন শত মুসলিম বিজয়ী হয়েছিল। একই ভাবে তিন হাজারের বিপরীতে এক হাজার, এক লক্ষের বিপরীতে তিন হাজার, দুই লক্ষের বিপরীতে ত্রিশ হাজার সৈন্যকে পরাজিত করা সম্ভব হয় নাই। এটা মুসলমানদের আল্লাহ প্রদত্ত নৈতিক শক্তির কারণেই হয়েছিল।
বর্তমান পৃথিবীতে ইহুদীরা একটি সংগঠিত শক্তি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শক্তি পৃথিবীকে শাসন করেছে। এক সময় তারাও পৃথিবীর কর্তৃত্ব হারিয়েছে। হালাকু খানের পঙ্গপালের মত সৈন্যের ক্ষুধা দেখে ইরাক বাসী ভেবেছিল এরাই সেই ইয়াজুজ মাজুজ! কোনদিন এদের বিপক্ষে জয়ী হওয়া সম্ভব নয় ভেবে, লক্ষ লক্ষ ইরাকী সৈন্য যুদ্ধ না করে হালাকু খানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল! হালাকু খানের সেনাবাহিনী মিশরে সামান্য শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল। মুসলিম শাসকেরা বিজ্ঞান, ভূগোল, পৌরনীতি, ইতিহাস, গণিত এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে দুনিয়াকে ৫শ বছরের বেশী শাসন করেছিল। পৃথিবীর অন্য সকল শক্তি ভাবত মনে হয় তারাই পৃথিবীকে কেয়ামত পর্যন্ত শাসন করবে! কিন্তু না মুসলমানদের এখন সে যুগ নাই। পাঁচ হাজার বছর পরে এসে ভারতীয়রা দুনিয়া বাসীকে শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে। দুটি বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম নায়ক জার্মান এখন সমীহ আদায়ের কোন দেশ নয়। বিশাল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এখন ডিমের আকৃতি প্রাপ্ত হয়েছে। অর্থ-সম্পদ আর শক্তিমত্তার একটি পরিসীমা আছে। সীমা পর্যন্ত পৌঁছলেই সেটা পতনের দিকে ধাবিত হতে থাকে। বর্তামানে ইহুদীরা সেই সীমারেখায় প্রান্ত ছুঁই ছুঁই করছে। বাড়াবাড়ি হঠকারিতা তারা প্রতি পদে পদে বাড়িয়ে তুলেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের আগ্রাসী চরিত্র ফুটে উঠছে। ফলে সকল জনপদে তাদের শত্রু সংখ্যা বাড়ছে। আমেরিকান খৃষ্টান যুবকেরা ভাবতে শুরু করেছে, দেশটা তাদের আর প্রভুত্ব চলছে ইস্রায়েলের। আমেরিকানদের চাই চাপা তুষের আগুনের ফুলকা যে কোন মুহূর্তেই দাবানলের মত জ্বলে উঠতে বেশী সময় লাগবে না।
প্রাচুর্যে মদমত্ত মানুষেরা পৃথিবীতে চির দিন বাঁচতে চায়। প্রয়োজনে অন্যের রক্তের নদীতে নিজের সুখের ভেলা ভাসাতে তারা চিন্তা করেনা। ন্যায়ের পক্ষে অস্ত্র ধরার কথা তারা কল্পনাতেও আনতে পারেনা। ইহুদীরা হল এসবের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আল্লাহ বলেছেন, ‘বেঁচে থাকার ব্যাপারে তোমরা ইহুদীদেরকে পাবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে লোভী। বাকারা-৯৬। বেঁচে থাকার জন্যই তারা প্রাচুর্যের পূজা করে। অন্যায় করে সম্পদ কুক্ষিগত করে। প্রতিবেশীকে উচ্ছেদ করে মুসিবত দূর করে। সম্ভাব্য কেউ শত্রু হতে পারে এই দুর্ভাবনায় তাকে অগ্রিম হত্যা করে। সমগোত্রীয় শক্তিকে বন্ধুত্বের চাদরে শঠতার মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করে। শত্রু ছোট কিংবা বড় হউক, সে পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, তাকে উৎখাত করে। এই কদাকার চাহিদা বাস্তবায়নে, তারা পৃথিবীর বৃহৎ শক্তির পূজা করে এবং তাদের কেন্দ্রকে অনুগত বানাতে ধান্ধায় থাকে। জনশক্তি কমের কারণে তারা চালাকি, কৌশল, চাতুর্য, ধূর্তামি, নগ্নতা, বেহায়াপনা সর্বোপরি অর্থের চালবাজিতে টিকে থাকতে চায়। প্রতিটি দেশে তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য মোটা অর্থের বিনিময়ে চর নিয়োগ দেয়। সকল চরের একটি গুন থাকা বাঞ্ছনীয় সেটা হল মিডিয়া এবং সংস্কৃতি জগতে সদম্ভ পদচারণা। ইহুদীর এই চরিত্রের কারণে, ইসলামের চরম দুষমন দজ্জালকে তারা সহযোগিতা দেবে এবং তার পক্ষ হয়ে লড়বে, কেননা দজ্জালের সাথে লড়াই করার মত শক্তি ঈসা (আঃ) ব্যতীত কারো থাকবেনা।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ইহুদীদের পাপ, অন্যায়, অকল্যাণ, জুলুম, নির্যাতনে পৃথিবীর মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে। এমনকি জড় জগত পর্যন্ত তাদের সহযোগিতা করতে অনীহা দেখাবে। ঈসা (আঃ) এর সম্মিলিত বাহিনীর ভয়ে তারা লুকানোর মত জায়গা পাবেনা। তাই রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘সেদিন জঙ্গলে, আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইহুদীদের ধরিয়ে দেবে গাছ ও পাথর! তবে গারকাদ গাছ ছাড়া, কেননা এটি ইহুদী বান্ধব গাছ’! রাসুল (সাঃ) যখন এই হাদিস বলেছিলেন তখন পৃথিবীতে ইহুদীদের কোন রাষ্ট্র ছিলনা এবং তারা বিক্ষিপ্ত অবস্থায় যাযাবরের ন্যায় বাস করছিল। বর্তমান ইস্রায়েল সরকার দেশের কোন খালি জায়গা পেলেই গারকাদ গাছের বনায়ন করছে। দেশের রাজস্বের একটি বড় অংশ তারা গারকাদ গাছের পিছনে ব্যয় করে। ইহুদীরা নিশ্চয়ই হাদিসের কথা বাস্তবায়নের জন্য কাজটি করছেনা তবে কেন করছে তার কোন উত্তর আজো পাওয়া যায়নি। এত অন্যায়, এত জুলুম, এত শক্তি অর্জন, এত দম্ভ, এত হঠকারী এই শক্তি, পারমানবিক দক্ষতা অর্জন করেও নিশ্চিন্ত হতে পারছেনা। তাদের নিরাপত্তার জন্য গারকাদের বন দরকার! তাই তারা গড়ে তুলেছে বিশাল গারকাদ বনরাজি! তারপরও তারা অন্যায় করবে, হঠকারিতা কররে এবং পৃথিবীকে অশান্ত ও উত্তপ্ত করে রাখবে। এই গোঁয়ার্তুমি তারা হাজার বছর আগেও ত্যাগ করেনি এখনও করবেনা। তাদের কারণেই পৃথিবীতে এত অশান্তি, এত ধ্বংস, এত অকল্যাণ আর অরাজকতা।
লেখকঃ আমিরাত প্রবাসী।
tipu1900@yahoo.com |