উতসর্গঃ ববি, টিউলিপ, জয়, পুতুল, তারেক আর কোকো । পরিচয় করিয়ে দেই । প্রথম দুইজন শেখ রেহানার দুই মহা ভাগ্যবান সন্তান,পরের দুইজন জন মহামতি শেখ হাসিনার । তার পরের দুইজন আবার লাস্যময়ী বেগম খালেদার পুত্রদ্বয় । আজকাল বুকের কোথায় যেন একটা সুতীব্র সুক্ষ বেদনা হয় । খুব সুক্ষ । কেউ বুঝতে পারে না এমন । এ বেদনা, শেখ পরিবারে না জন্মানোর বেদনা । এ বেদনা জিয়া পরিবারে না জন্মানোর বেদনা…
শুরুর প্যাঁচালঃ
আমাদের এক মন্ত্রীর মেয়ে যখন আমাকে টেলিফোনে উপর্জুপুরি প্রশ্ন করে যাচ্ছিলো , আমি নিতান্ত বেহায়ার মত টেলিফোনের ওইপাশ থেকে হেসে যাচ্ছিলাম । অনেক কথা শুনতে হয়েছিলো ফোনে । আপনারে “গাপ” কইরা দিমু, “ভিক্টিম” বানাইয়া রাখমু, দেশে যাইবেন না ? কার “লেজে” পাড়া দিসেন , জানেন ? এইসব অনেক কিছু । কোন কথাই আমাকে ঠিক ওইভাবে আলোড়িত করতে পারেনি । না পারার অনেক গুলো কারন হয়ত ছিলো । সে কারন গুলো নিয়ে বিস্তারিত আজকে নয় । অন্যদিন । ওই টেলিফোন কথপোকথন আমার জন্য খুব একটা সুখকর হয়নি তা বলাই বাহুল্য । আমাকে শেখ হাসিনা এবং তার বাবার অনেক “সৎ” কর্মের বয়ান ও অসিহত শুনতে হয়েছিলো এবং তা করেই তবে সেদিন তিনি ক্ষান্ত দিয়েছিলেন । (তার ঠিক দুই মাস পরেই অবশ্য জানতে পেলাম উনি, ইশ্বরদী-৪ আসনের আরেক সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলু’র দ্বিতীয় পূত্র গালিবুর রহমান শরীফের ২৭০০ পাউন্ড ও ৫০০ পাউন্ড মুল্যের গিফট আল্লাহর ওয়াস্তে ভোগ করে লন্ডন থেকে স্বামী সহ বাংলাদেশে পদার্পণ করেছেন ।) উনার সব অসাধারণ কথার ভীড়ে একটি বাক্য আমি আজও ভুলতে পারিনি । এই বাক্যটিই সম্ভবত আমাকে এই লেখাটি লিখবার পেছনে বড় সাহস জুগিয়েছে । শক্তি জুগিয়েছে । আমার কোনো একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি আমাকে বলেছিলেন, “ এক্সকিউজ মি, আমাকে প্লিজ পাবলিকের সাথে এক করে ফেলবেন না । আমি মন্ত্রীর মেয়ে । ভুলে যাবেন না । পাবলিক আপনি । আমি না ।”
আজো এই বাক্যটি আমাকে দুঃস্বপ্নের মত তাড়া করে ফেরে । প্রতিটি ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া রাতের নিস্তব্ধতায় আমার কানে অহেতুক ওই বাক্যটি কষ্ট দেয় ।“পাবলিক আপনি, আমি না ।” আজকাল আর মন্ত্রীকন্যাকে তার কথার জন্য দোষ দেই না । তাকে ক্ষমা করে দিতে চাই । ভুলে যেতে চাই সে যা বলেছে সব ।
কেননা এখন আর নিজেকে মানুষ মনে হয় না । পাবলিক মনে হয় । স্রেফ পাবলিক ।
এক
গত কিছুদিন থেকেই দেখলাম আমার ব্লগে রাজনৈতিক সলুক সন্ধান কিংবা ইতিহাস সন্ধান, যাই বলিনা কেন অনেকেই করে যাচ্ছেন । যেমন- জনাব শেখ কামাল সাহেব কি ব্যাংক ডাকাতি করেছিলেন না করেন নাই, তিনি কি ডালিম এবং তার স্ত্রীকে অপহরন করেছিলেন নাকি করেন নাই । এর আগেও ঠিক এক ব্যাক্তি না, তবে একই চিন্তা-ধারার অনেক পোস্ট দেখেছি । যেমন তারেক রহমান ভাল না খারাপ, কোকো কি অতি ভদ্রলোক নাকি চোর ছ্যাঁচর ইত্যাদি…ইত্যাদি । এইসব পোস্টের ক্ষেত্রে যা হয়, দেখা যায় সবাই দুইটি ভাগেই ভাগ হয়ে গেছেন । কেউ কেউ আবার আদাজল খেয়ে নামেন যে আজ রাতে শেখ কামাল কে মহামানব বানিয়ে ফেলবেন । কেউ আবার নেমে যান তারেক রহমানের গুষ্টি উদ্ধার করতে । যারা আবার আলোচনা করছেন তারাও আমাদের খুব কাছের লোক । মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে যাদের প্রতিনিয়ত জানি । বুকের ঠিক ভেতর থেকে যাদের জন্য ভালোবাসা প্রতিটি মুহূর্তেই রক্ষিত আছে । কবি জিফরান খালেদ কে খুব কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন এই আদা জল খেয়ে নামা ? শেখ কামাল , শেখ জামাল, তারেক, কোকো ,জয়, এরা কে ? কেন এরা আমাদের রাজনীতির জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ ? এদেরকে, কে কি বলল কিংবা না বলল তাতে করে ঠিক কি এসে যায় ? কেন তাদের উপর চেপে থাকা অনেক বছরের তথাকথিত অপবাদ ভাংবার জন্য আমরা রাত দিন জেগে থাকি ? ব্লগের পর ব্লগ লিখি ? জিফরান আমাকে তার আঁতেলিয় বাণী শুনিয়েছিলেন । বলেছিলেন মহা জ্ঞানী ম্যাকভেইন,মার্ক্স সাহেবদের কথা । যারা কিনা ছিলো ইতিহাসে জায়গা হয়ে থাকা বৃদ্ধ পোকা । যাদের থিওরী কপচিয়ে কপচিয়ে আমরা সান্তনার বীর্যটুকু মুখে ঢালি । সেইখান থেকে জন্মায় আমার মতনই আরেক অকাল কুষ্মান্ড । আরেক পাপী । যে কিনা মেনে নেওয়া শিখবে । ঘাড় গুঁজে সব অন্যায় অত্যাচার মেনে নিবে । আর প্রশ্ন করলেই কপচাবে অনেক বছর আগের সক্রেটিস, প্লেটো, ম্যাকভেইন, কেলসেন,হেগেল কিংবা মার্ক্স । শুধু এইসব সন্তানেরা বোঝেনা আমাদের পেটে ভাত নেই । আমরা ক্ষুধার জ্বালায় অস্থির । আমার নাড়ী ছিড়ে দগ দগে ঘা হয়ে গেছে । ইস্কাটনের আঠারো তলা ইষ্টার্ন টাওয়ারের নীচে শত শত অভুক্ত মানুষ,কমলাপুরের রেল স্টেশনে অর্ধমৃত মানুষ, ডাস্টবিনের পাশে না খাওয়া শিশু, বংগ ভবনের সামনে,হাই কোর্টের সামনে,সংসদ ভবনের সামনে কেবল ভাতের জন্য হাহাকার । রাস্তায় রাস্তায় শুধু হাভাতের মিছিল, হাতের মিছিল । শুধু এক মুঠ ভাতের জন্য ।
আর আমাদের মহামতি হাসিনা নিরাপত্তা বলয় তৈরী করেছেন তার চৌদ্দগুষ্টির জন্য । লন্ডনের আলো-উত্তাপে বড় হওয়া ববি-টিউলিপ,যারা কোনদিন বাংলাদেশ যাবেন ও না তার জন্য তাদের হাসিনা খালামনি অস্থির হয়ে গেছেন । জয়ের মত নির্বোধ এক বালকের জন্য ,পুতুলের জন্য যার শ্বশুরও কিনা রাজাকার, সবার জন্য মহামতি হাসিনা আজীবন নিরাপত্তা জারি করেছেন । আর গভীর দীর্ঘঃ শ্বাস ফেলে বলে উঠব আহ্…আহ্… ।
আমাদের রাত জেগে ঘুম নেই । আমরা সারা রাত জেগে উকিল সাজি । আমরা শেখ কামাল কে এক রাতেই ব্যাংক ডাকাতির অপবাদ থেকে মুক্তি দিতে চাই, আমরা তাকে অপহরনের অপবাদ থেকে মুক্তি দিতে চাই, দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা পাচার করা তারেককে নিয়ে আমি আলহাজ্ব কমরুদ্দিনের কমরযাত্রা দেখি ব্রিক লেনের পথে পথে, মোহাম্মদ সালিকের ঘুম নাই, আব্দুল মালিক সাহেবের ঘুম নেই । তারেকের এনফিল্ডের বাসা রাত জেগে পাহারা দিতে হবে । সিঙ্গাপুরে কোকোর জন্য সাইফুর সাহেব, আজিজ সাহেবের ঘুম নেই । হায় কোকো, হায় কোকো বলে পীরের পেছনে ছোটেন । বিনিময়ে ??? বিনিময়ে কোকো ফেরারী চালায় সিঙ্গাপুরে, জয় কোটি কোটি টাকার গাড়িতে আর বাড়িতে শোয়, পুরা লন্ডনের সব আরাম আয়েস তারেকের পায়ে এসে লুটিয়ে পড়ে, শেখ হাসিনা মেয়েকে বিয়ে দেন রাজাকারের ছেলের সাথে, বিজেপির চেয়ারম্যান পার্থ বিয়ে করেন আওয়ামীলীগের শেখ হেলালের মেয়েকে, বি এন পি’র ইকবাল হোসেন মাহমুদের মেয়ে প্রেম করে আওয়ামী নেতা শেখ সেলিমের ছেলের সাথে, সাকার মামাতো বোন হয় হাসিনা ( যেখানে কি না বংশদন্ড টানা-টানির কথা হলেও শাস্তি হয় না)। আর আমরা পাবলিক রাস্তায় রক্ত দেই বি এন পি, আওয়ামীলীগ মাতম করে । ববি তার অহংকারের ঝান্ডা উঁচিয়ে দাম্ভিক পথ চলেন,টিউলিপ কোনোদিন রাজনীতির “র” এর চর্চা না করেও খালার সাথে স্টেজে উঠেন, মানুষের ভোট চান । তাপস কে ধরে বেঁধে এম পি করে দেয়া হয়, তেরো খুনের আসামী মির্জা আজম, নানক কে মন্ত্রী করা হয় ।
এই হলো আমাদের পুরষ্কার । আমার এই কথা শুনে আপনি আমাকে ঝান্ডা নিয়ে গাল দিবেন । বলবেন নব্য আঁতেল । আর বলবেনই না কেন ? যদি আসিফ ভাইয়ের মত অতি মানবিক লোকটা কিংবা যদি ব্যারিস্টার জামানের মত লোকটা বলেন , “তারেক রহমান যদি বলেন সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে, আমি তাও মেনে নিব” তাহলে আমি কাকে কি বলব ? কেন শেখ হাসিনা আমাদের আরো বোকা বানিয়ে নিজের চৌদ্দগুষ্টির জন্য নিরাপত্তা আইন বানাবেন না ? কেন বেগম খালেদা তার মুখখানায় আমার আর আপনার বাবার কষ্টের টাকায়, রক্তের টাকায়, ফাউন্ডেশন আর লিপ্সটিক লাগাবে না ?
শুধু আমাদের মত পাবলিকের জন্যই মাহি বি চৌধুরীর মত রাজনীতিবিদরা আজ সুযোগ পায় । যে কি না, দুইদিন আগে তারেক রহমানের সবচাইতে কাছের লোক ছিলেন সে আমাকে মেসেজ দেয়, “after all i am a human being. aar bhaijan, gali den thik ache kintu tareq er shathe ek katare kore dilen? anyway, its ur opinion.” কি হাস্যকর !!! এখন তিনি তারেক রহমানকে আর চিনেন না । অথচ সারা রাত জেগে বানালেন “সাবাশ বাংলাদেশ”। আবার সেই আওয়ামীলীগের সাথে এই একই লোকের রাত জেগে ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারা হয় । সেলুকাস!!!
সারা জীবন মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি করে, মানুষের ঘরে ঘরে দৌড়িয়ে কলিমুদ্দির দৌড় থানা কমিটির আহবায়ক পর্যন্ত । হাসিনার ছেলে,খালেদার ছেলে,রেহানার ছেলে, নোমানের ছেলে,সাকার ছেলে,মন্ত্রীর ছেলে,এম পির ছেলে,দেলোয়ারের ছেলে,বদরুদ্দোজার ছেলে আমেরিকা ,লন্ডন,অষ্ট্রেলিয়া থেকে আসবে । চাকরের মুখের উপর ব্যাগ ছুড়ে মারবে । খাওয়ার টেবিলের মা’র সাথে কিংবা বাবার সাথে রাতের আলাপ হবে । সেখানেই নির্ধারিত হয়ে যাবে সে কোন মন্ত্রনালয় নিবে, কোন আসন নিবে । আমরা ছোট বেলায় মেলায় গেলে ঠিক বাবার কাছে যেভাবে আবদার করতাম, “বাবা ওইটা দাও, এইটা দাও” , ঠিক তেমনি এখন মন্ত্রীর ছেলেরা বাবা মা’র কাছে আবদার করে, “বাবা আমি এম পি হব । মন্ত্রী হব”। মা কিংবা বাবা আবার তাকে আশ্বস্ত করেন । “ঠিক আছে বাবা । তুই যা চাশ, তাই হবে” লন্ডন আমেরিকায় মৌজ-মাস্তি করে,বাবার অবৈধ টাকায় ফূর্তি করে ছেলে দেশে ফিরে । আর আমরা পাবলিক নিজের খাবার টাকা দিয়ে ফুল কিনে নিয়ে, একজনের উপর আরেক জন হুমড়ি খেয়ে পড়ে হাত তালি দেই । আমরা পশুর মত তারস্বরে চেঁচাই । “আমার ভাই তোমার ভাই…জয় ভাই…জয় ভাই… আমার ভাই তোমার ভাই…তারেক ভাই… তারেক ভাই” অথচ বাসায় ফিরে এই শূন্য বুকের মত শূন্য পকেট খানা তখন উপহাস করে । আর সে রাতেই জয় ভাই কিংবা তারেক সাহেব ওই মুহুর্তেই মুরগী ছিড়ে ছিড়ে পেটে সাঁটায় কুতসিত খাটাশের মত ।
আমি আর কি বলব ? আমার কথায় ঠিক কি আর এসে যাবে ? দেশ বদলাবে না । মানুষ বদলাবে না । দিন বদলাবে না । শিক্ষিত সব মানুষ গুলো, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের সব মানুষগুলোর আমাকে নিয়ে মজার মজার সব লিঙ্কস দিবেন । কেউ দিবেন “আমি যে যে কারনে আওয়ামীলীগ ছেড়েছি” কেউ কেউ আবার জানতে চাইবেন আমি আর কি কি তথ্য জানি, যে তথ্যে তিনিও জাতির পিতার ছবি সরিয়ে ফেলতে চান । কেউ কেউ আবার কিছু না বলেও দূর থেকে হতাশার বাণী পৌছাবেন । আহারে…নিঝুম ছেলেটার যে কি হবে । কেউ কেউ আমাকে নেতা নেতা বলে চিতকার করে উঠবেন । যদিও পুরা চিতকারের সময়টুকু সে মনে মনে আমাকে “ ছাগল” ছাড়া আর কিছুই ভাববেন না । কেউ কেউ আবার বলবেন আমি স্ট্যাবল না, রিলায়েবল না । কমিনিউজমের “ক” না জানা আমাকে কেউ কেউ নব্য কমিউনিস্ট বলবেন । কেউ কেউ আমার দল খুজঁতে না পেয়ে আমাকে জামাতি বানিয়ে ফেলবেন । কিংবা অন্য কোনো দলের । আমাকে ট্যাগায়িত করতেই হবে । ট্যাগ না করলে আমাকে যে চেনা যাবে না । আমি জানি সেই পথের কথা, জেনেছি এই পথে কারো কোনোদিন শান্তি মেলেনি ।
পরিশিষ্টঃ
যে ছেলেটা এস এস এফ এ ঢোকে অনেক দিনের চেষ্টায়,পরিশ্রমে তার কি ঠিক কিছু বলার আছে ? তাকে যার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকতে বলা হবে, রাষ্ট্রের জন্য তাতেই সে নিয়োজিত হতে বাধ্য । কেননা এইটাই তার দায়িত্ব । আইন তাঁকে বাধ্য করে । সেও মাথা নীচু করে করে যাবে,যা তাকে করতে বলা হবে । টিউলিপ,ববি,জয় কিংবা পুতুল রেহানা কিংবা হাসিনা এসব কিছুই কোন ব্যাপার না তার কাছে । জয় তার আমেরিকান স্ত্রী নিয়ে দেশে মাস্তি করে বেড়াবেন, ববি তার ফিরিঙ্গি স্ত্রী নিয়ে মৌজ করে বেড়াবেন, টিউলিপ তার শপিং সারবেন মেট্রো , বসুন্ধরায় । আর পেছনে সারি সারি গোয়েন্দা তাদের দিকে প্রতিটি মুহূর্তে অনুসরণ করবেন । রাষ্ট্রের টাকা,রাষ্ট্রের সম্পদ । কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না । একদিন খালেদা ক্ষমতায় আসবেন । তিনি বানাবেন আরেক নিরাপত্তা আইন । জিয়া পরিবার নিরাপত্তা আইন । এই রকম করে জিয়া আর শেখ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যাবে । তারা নিশ্চিন্তে ঘুমাবেন । তাদের ছেলে মেয়ের বিয়ে হবে নিজেদের মধ্যেই । শুধু ময়দানে থাকবে আওয়ামী আর বি এন পি’র বানানো নাটক । ডাব্লিউ ডাব্লিউ এফ রেস্লিং এর মতন । ময়দানে কালাম,কুদ্দুস,মফিজ,মতিন প্রাণ দিবেন হাসিনা-খালেদা করতে করতে, আর রাতে হবে নেতাদের গোপন জলযাত্রা । জলের আসর । যে আসরের কথা আমরা কী কখনো জানিনি, জানতে পারবোও না । সেখানে আমাদের মত পব্লিকদের নিয়ে হাসি তামাশা হবে । রাজনীতি নিয়ে বাঁকা ঠাট্টা হবে । রাত শেষে সাকা- সৈয়দ আশ্রাফুল ভাই ভাই ।
আর আমরা ? ভাত পাবনা , কাপড় পাবনা, চিকিতসা পাবনা, শিক্ষা পাবনা, চাকরি পাবনা, ঘর পাবনা । তবুও বেঁচে থাকব । আমাদের নিরাপত্তাহীন জীবন নিয়ে আমরা বেঁচেই থাকব । আমাদের অনাহারী মুখে,অভুক্ত পেটে আমরা ছুঁচো দাবড়াবো । ভোট এলে হাসি মুখে ভোট দিতে যাব । শেখ কামাল,শেখ জামাল,তারেক,কোকোর ফেলে আসা অপবাদ নিয়ে, মিথ নিয়ে আমরা একজন আরেকজনকে মারব । কেটে টুকরো টুকরো করব । রাতে অভুক্ত পেটে ঘুমাতে যাব । তীব্র এক কষ্ট নিয়ে ।
রাত শেষে এই কষ্টের কথা আমরা ভুলেই যাব । শুধু থেকে যাবে দুঃস্বপ্নের প্রতিটি প্রহর । যে প্রহরের কথা আমরা কাউকে বলব না।
দারূন লেখা...ধন্যবাদ...। আমাগো মতো পাবলিকের দিন বদল হবে না, আফসোস...।
3356
২
ঢাকা থেকে অর্ণব লিখেছেন,
০২ সেপ্টেম্বর ২০০৯; সকাল ১০:৪৫
সোনার বাংলাদেশ দিনে দিনে কেমন যেনো বদলে যাচ্ছে। সুচিন্তিত লেখার স্থান দখল করে ফেলছে রাজনৈতিক গালাগালি পূর্ণ লেখা। এ বিষয়ে সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
3357
৩
london থেকে jahangir alam লিখেছেন,
১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯; সকাল ০৬:৫৯
thank u writer. we have to fight against this for two hundred years so that new generation can forget thier ( so called politician) existance.
3589
৪
ঢাকা থেকে আশিক লিখেছেন,
২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯; সন্ধ্যা ০৬:৪৬
নিঝুম, ভালো লেখেন জানতাম কিন্তু এতো ভালো ভাবতে পারি নি। ভিষন ভালো
3843
৫
ক্যানাডা থেকে পাঠক লিখেছেন,
২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯; রাত ১১:৩৭
এ লেখকতো অন্যান্য ব্লগে ইসলামপন্থীদের গালিগালাজ দিয়ে বেড়ান। তিনি গোলাম আযমকে কেটে টুকরো টুকরো করে রাস্তার কুকুরটিকে খাইয়ে দিতে চান। তিনি নিজামীর গলাটুকু কেটে বায়তুল মোকাররমের গেটে ঝুলিয়ে দিতে চান। তিনি জামাতের সব লোকগুলোকে আগুনে পূড়িয়ে মারতে চান। তার আফসোস যে তিনি এসব করতে পারেননা। http://www.somewhereinblog.net/blog/ghaghuBabublog/29008752 ভাবছি, সোনার বাংলাদেশ ঐসব লেখাও ছাপানো শুরু করবে কীনা।
3847
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: