মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:৩৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

বাঙালীরাই আদিবাসী এবং আদিবাসীরাই বাঙালী

নীলকান্ত চৌধুরী

২৭ জুলাই ২০১১ তারিখে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি কুটনৈতিক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘উন্নয়ন-সহযোগী ও কূটনীতিকদের প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আদিবাসী বলে বিতর্ক উস্কে দিবেন না’। অপরদিকে ২৯ জুলাই ২০১১ তারিখে প্রকাশিত চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের ‘আদিবাসী বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে’ নামক লেখাটিতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষে যে যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে তা প্রকৃতপক্ষে ভিত্তিহীন। তার লেখাটির প্রতিক্রিয়ায় দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি আমার নিজস্ব অভিব্যক্তি প্রকাশ করছি এনিবন্ধে।

২৬ জুলাই ২০১১ তারিখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার, রাষ্ট্রদূত ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদেরকে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে ‘আদিবাসী’ বিষয়টিকে নিয়ে বিতর্ক উসকে দেওয়া হলে, তা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। উক্ত প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয় যে, আদিবাসী বিষয় নিয়ে সরকার কূটনীতিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নরওয়ের রাষ্ট্রদূত রাইন ব্রিট লুনড আদিবাসী প্রসঙ্গে পুনরায় আলোচনার আশাবাদ ব্যক্ত করলে তাতে দ্বিমত পোষণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে জানিয়ে দেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান খুব স্পষ্ট। কাজেই এ নিয়ে পুনরায় আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিসীমায় উপজাতিদের অধিকারের স্বীকৃতি আমাদের সংবিধানে রয়েছে এবং তার সাথে পঞ্চদশ সংশোধনীতে ২৩ (ক) অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের সব অভিবাসী ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীগুলোকে ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’ কিংবা ‘ক্ষুদ্র সম্প্রদায়’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। আদিবাসী বিতর্কের মাধ্যমে কোন স্বার্থান্বেষী মহল দেশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির পায়তারা করছে সরকার তাদের বিষয়ে সচেতন এবং কঠোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে অবশেষে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে উক্ত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জাতিসংঘে আদিবাসীবিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ২০১১ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির প্রেক্ষাপটে তিন পার্বত্য জেলার অধিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকার এ ব্যাপারে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছে এবং প্রতিবাদ করেছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুনরায় অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করলাম, বাংলাদেশ ও বাঙালির সমৃদ্ধ নৃ-তাত্ত্বিক ইতিহাস, ঔপনিবেশিক ইতিহাস ও সমৃদ্ধ আত্মপরিচয় সম্পর্কে বিশ্বের যে ভুল ধারণা রয়েছে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আদিবাসী প্রসঙ্গটিতে।’

অপর দিকে জনাব দেবাশীষ রায়ের মতে ‘নেপাল, ফিলিপাইন, স্ক্যান্ডিনেভীয় ও লাতিন আমেরিকার দেশে আদিবাসীদের অধিকার দিতে গিয়ে অ-আদিবাসীদের বঞ্চিত করতে হয়নি’। কিন্তু তাকে ভুলে গেলে চলবে না যে এদেশগুলোর আদিবাসীরা যে সেসব দেশের ভূমিপুত্র, যেটা বাংলাদেশের ক্ষেত্র প্রযোজ্য নয়। কারণ বাংলা ভূখন্ডে বসবাসকারী বাঙালীরাই এখানকার আদিবাসী এবং বাংলামুলুকের আদিবাসীরাই বাঙালী। এ সহজ সরল কথাটি দেবাশীষ রায়ের মতো বিজ্ঞ আইনজ্ঞ কেন বুঝতে চাচ্ছেন না সেটা সন্দেহের উদ্রেককারী; নিশ্চয় কোন ফন্দিফিকির কাজ করছে এপ্রত্যাশার অন্তরালে। বাংলাদেশের চাকমা জনগোষ্ঠীর সার্কেল প্রধান হিসেবে তার কাছে কি গ্রহণযোগ্য আর কি গ্রহণযোগ্য নয় সেটার চেয়ে রাষ্ট্রের কাছে কি গ্রহণযোগ্য আর কি গ্রহণযোগ্য নয় সেটাই বড় কথা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জনগণ যে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ও অর্থনৈতিক অভিবাসী’ সেটা অবশেষে সুস্পষ্টভাবে কুটনীতিবিদদের ও সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রধানদের কাছে তুলে ধরার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই। অপর দিকে জনাব দেবাশীষ রায় বলেছেন, ‘অভিবাসনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ কারণ যা-ই হোক, তা কারও জাতীয় পরিচয় বা নাগরিকত্ব কিংবা নাগরিক অধিকার বা বৈষম্যের শিকার না হওয়ার অধিকারের ভিত্তি হতে পারে না’। আমরাও এবিষয়ে তার সাথে একমত। দেবাশীষ রায়ের সম্প্রদায়ের কথায় ধরা যাক, জাতি হিসেবে তিনি চাকমা। তো তিনি নিজেকে চাকমা পরিচয় না দিয়ে কেন ‘আদিবাসী’ হতে চাচ্ছেন সেটাই আমাদের বোধগম্য নয়। চাকমা জাতির পরিচয়ে পরিচিত না হয়ে কেন খায়েশ জন্মেছে তাদের বাংলাদেশের আদিবাসী হতে? আর সে খায়েশ মেটাতে গিয়ে কেনই বা রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে পার্বত্য চট্রগ্রামের অভিবাসী চাকমাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীগুলো? কিন্তু ‘আদিবাসী’ শব্দটি কি চাকমা জাতি কিংবা অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীগুলোর জাতিগত পরিচয় বহন করে? নাকি সেটা তাদের নাগরিকত্বের পরিচয় বহন করে? সংগত উত্তর হলো- কোনটাই না। তবে কেন তাদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার শখ জেগেছে? অথচ প্রকৃত সত্য হলো পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাসকারী ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে তাদের নিজস্ব নামেই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন দলিলপত্রে- বিশেষ করে বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে।

আন্তর্জাতিক আইন ও ঐতিহাসিক দলিল ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সইয়ের সময় তিন পার্বত্য জেলার অধিবাসীদের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই শব্দটি মেনেই ওই চুক্তি সই হয়। অথচ স্বার্থান্বেষী কিছু মহল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও জাতিসংঘের বিভিন্ন আলোচনায় বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী অভিহিত করার মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অপপ্রয়াস চালায়। লক্ষ্যণীয় যে, পাশ্চাত্যের কূটনীতিকরা যখন তখন সরকারের কোন সংস্থাকে না জানিয়েই পার্বত্য চট্টগ্রাম চষে বেড়ান এবং গোপনে বৈঠক করেন সেখানকার সন্ত্রাসী দল-উপদলগুলোর সাথে। ওই সব মহলের এ ধরনের অপতৎপরতা বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়, ভাবমূর্তি ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

পৃথিবীর কোন দেশই সে দেশের সংবিদানের সাথে সাংঘর্ষিক অথবা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোন আন্তর্জাতিক আইন বা সনদকে মেনে নিবে না। তেমনি বাংলাদেশও সেটা করা উচিত না। তাই আইএলও সনদ ১০৭ বাংলাদেশ অনুসমর্থন করেছে বলেই পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বহিরাগত অভিবাসী ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের আধিবাসী হয়ে যাবে না। এরা আমাদের দেশের অধিবাসী নিসন্দেহে। কিন্তু কোন অবস্থায়ই তারা বাংলাদেশের আদিবাসী নয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী উপজাতিগুলোর বেশ পুরাতন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রয়েছে। এবিষয়ে বাঙালীদের কোন দ্বিমত নেই। তাই তো বাংলাদেশ সরকার এদের ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। নি:সন্দেহে একটি জনগোষ্ঠীকে নৃতাত্ত্বিক কিংবা ভাষাতাত্ত্বিক জাতি হিসেবে পরিচিত হওয়ার সব বৈশিষ্ট্যই তাদের মধ্যে বিদ্যমান। তাই সরকার তাদেরকে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারপরেও একটা বিশেষ মহল তাদেরকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের বিতর্কে নামিয়ে বিশেষ ফয়দা হাসিলে চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সুগভীর চক্রান্তের বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে বিশেষ করে পার্বত্য চট্রগ্রাম কমিশনে ব্রিটিশ পরামর্শক লড এরিক এ্যাভেবুরির কর্ম তৎপরতা। এরিকের এই নিয়োগের মূল কারণ পূর্ব তিমুরকেও যে কায়দায় তিনি ইন্দোনেশিয়া থেকে পৃথক করতে সক্ষম হয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের একদশমাংশ পার্বত্য চট্রগ্রামকে নিয়ে আরেকটি খ্রিষ্টানপ্রধান রাষ্ট্রের জন্ম দেয়ার স্বপ্ন দেখছে পশ্চিমা উপনিবেশিক শক্তিগুলো। তবে বাংলাদেশীদের স্বদেশপ্রেম সম্পর্কে এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে আত্মত্যাগের যে উন্মাদনা সেটা যে ইন্দোনেশিয়ান কিংবা সুদানিজদের মতো নয়, কুচক্রীরা সেটা উপলব্ধি করতে পারেনি। সরকার যখন এবিষয়ে কঠোর হবে দেশীপ্রেমিক জনতা সদাসর্বদা সরকারের সাথেই থাকবে এই সংগ্রামে।

‘আদিবাসী’ শব্দটির প্রকৃতঅর্থ ‘ভূমিপুত্র’ (Son of the Soil), দেবাশীষ বাবু সেটাকে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন। নিজেদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমিপুত্র প্রমাণ করার এপ্রচেষ্টার পেছনে যে দুরভিসন্দি রয়েছে তা সুস্পষ্ট। এটিকে ইস্যু করে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাভাবিক পরিবেশ-পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপপ্রচেষ্টা সম্পর্কে সরকার নানা আলামত সংগ্রহ করেছে বলেই পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ সরকার দেশে বসবাসকারী কোন জনগোষ্ঠীর উপরই কোন বিশেষণ চাপিয়ে দিচ্ছে না, সরকার শুধু এটাই নিশ্চিত করছে যে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জাতিগত পরিচয় এবং নাগরিক অধিকার যেন সুনিশ্চত হয়। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সব সম্প্রদায়কে সাধারণত সংখ্যালঘু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারই পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি অধিবাসীদের মর্যাদা বাড়াতে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছে।

বাঙালিরাই বাংলাদেশের প্রকৃত আদিবাসী। ইতিহাসের এ অমোঘ সত্যকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিসীমায় বসবাসকারী বাঙালী জনগোষ্ঠীই যারা প্রোটো-অস্ট্রোলয়েড (Proto-Austroloid) নামের আদি জনগোষ্ঠীর অংশ এবং বাংলা ভূ-খন্ডের একমাত্র আদিবাসী হবার দাবীদার। স্মরণাতীত কাল থেকে বাঙালীদের পূর্বপুরুষেরাই এব-দ্বীপে বসবাস করে আসছে। ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলেই এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। চার হাজার বছরেরও আগে এ দেশে বসবাস শুরু করে বাঙালিরা, যার নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গেছে উয়ারী বটেশ্বরে। তা ছাড়া আইএলও কনভেনশন-১৬৯-এ উল্লেখ রয়েছে, পাহাড়িরা নয়, বাঙালিরাই এ দেশের আদিবাসী।

নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাঙালী একটা সংকর জাতি। বাঙালীর রক্ত প্রবাহে সংযুক্ত হয়েছে হাজারো জাতির রক্ত প্রবাহ। বাঙালী জাতি হিসেব অনেক উদার। বাঙালী সহ-অবস্থানে বিশ্বাসী। পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাসকারী বাঙালী ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগুলোর অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যে দিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও উন্নয়নের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের সাথে দেশের সব জনগোষ্ঠীকে একসাথে কাজ করতে হবে। কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় কতিপয় সুবিধাভোগীর অপতৎপরতা বন্ধের উদ্যোগ আমাদেরকেই নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে উদ্ভুত নানা সমস্যা আমাদের আভ্যন্তরিণ সমস্যা, সেটা বাঙালী ও ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সেসবে সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

গত ২৫ জুন ২০১১ তারিখে জাতীয় সংসদে সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) বিল ২০১১ উত্থাপিত হয় এবং ৩০ জুন ২০১১ তারিখে সেটা পাস করা হয়। এসংশোধনীতে ৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালী এবং নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশী বলিয়া বিবেচিত হবেন’। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক ও বহুভাষিক রাষ্ট্র। নৃতাত্ত্বিক ও ভাষাতাত্ত্বিক জাতীয়তায় বাংলাদেশী জনগণ ভিন্ন ভিন্ন জাতি হিসেব আত্মপরিচয় বহন করতে পারে, কিন্তু ভৌগোলিক জাতীয়তায় তারা বাংলাদেশী। সরকারকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী সংখ্যালঘু জাতিগুলোকে তাদের নিজ নিজ পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে যাতে করে আত্মপরিচয়ের মধ্যে দিয়ে আমরা সবাই বাংলাদেশী নাগরিক হয়ে উঠতে পারি।

নীলকান্ত চৌধুরী: গবেষক ও প্রাবন্ধিক।
Email: nilkanto@activist.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/NilkantaChowdhury
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
জিদ্দা থেকে হাসান লিখেছেন, ০৭ অগাস্ট ২০১১; রাত ০৯:০৯
''কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় কতিপয় সুবিধাভোগীর অপতৎপরতা বন্ধের উদ্যোগ আমাদেরকেই নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে উদ্ভুত নানা সমস্যা আমাদের আভ্যন্তরিণ সমস্যা, সেটা বাঙালী ও ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সেসবে সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করতে হবে'' নিলকান্তকে
64877
Dhaka থেকে Arfin লিখেছেন, ০৮ অগাস্ট ২০১১; সকাল ০৬:৫০
Please use this link to know the current situation in CHT and proposed solutions:

http://www.voiceofbangladesh.info/cht.php
64907
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy