মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:৩৯ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
ফরমালিন দিয়ে হয় না দিন বদল (২০/১০/২০১১)
র‌্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করবেন না (২৪/০৯/২০১১)
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব (২৮/০৭/২০১১)
আওয়ামী লীগের জন্য ওয়াক আপ কল (৩০/০৬/২০১১)
আমি অবুঝের মতো একি করেছি... (১৭/০৬/২০১১)
তুমি খুশি তাই আমিও খুশি... (০৩/০৬/২০১১)
মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী, বন্ধ করুন সংবর্ধনার নামে ভোগান্তি (২৯/০৫/২০১১)
কালো র‌্যাব হলুদ সাংবাদিক (১৬/০৫/২০১১)
মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা প্লিজ, অপেক্ষা করুন (১৬/০৪/২০১১)
বাণিজ্যমন্ত্রী কোন কাননের ফুল (০৭/০৪/২০১১)
সুর তাল লয় কেটে যাচ্ছে সরকারের (২৭/০৩/২০১১)
অতি আনন্দে সর্বনাশা আওয়ামী লীগ! (২১/০১/২০১১)
আওয়ামী লীগকে হলুদ কার্ড (১৯/০১/২০১১)
চট্টগ্রাম থেকে আওয়ামী লীগ কি শিক্ষা নেবে (১৯/০৬/২০১০)
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, সীমা লঙ্ঘন করবেন না (১৫/০৬/২০১০)
আগের লেখা
215


ফরমালিন দিয়ে হয় না দিন বদল

নঈম নিজাম

২০০৬ সালের এপ্রিলের কথা। স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফর করি। ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটরস প্রোগ্রামের ২১ দিনের কর্মসূচি। সাউথ এশিয়ার সাতজন সাংবাদিক এক টিমে। বাংলাদেশ থেকে দুজন। এনটিভির তখনকার নির্বাহী পরিচালক হাসনাইন খুরশিদ ও আমি। পাকিস্তান থেকে ছিলেন এআরওয়াইর ব্যুরো চিফ মহসিন রেজা খান ও পশতুন টিভির হাসান খান। ওয়াশিংটন দিয়ে আমাদের কর্মসূচি শুরু। এরপর আরও তিনটি স্টেট। ওয়াশিংটন সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি ছিল পেন্টাগন ও স্টেট ডিপার্টমেন্টে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও সামরিক বিষয়ে আমাদের ধারণা দিতেই এই আয়োজন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফ করেন একজন পরিচালক। প্রশ্নোত্তর পর্বে মহসিন রেজা খান পাকিস্তানের সামরিক শাসন সম্পর্কিত একটি প্রশ্ন করেন। পাকিস্তানে পারভেজ মোশাররফের সামরিক শাসন জারির দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের একটি বক্তব্যই তার প্রশ্নের বিষয়বস্তু। সিএনএন লাইভে দেখা যায়, একজন সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট বুশকে প্রশ্ন করছেন, পাকিস্তানের নতুন সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ তার নির্দেশে ক্ষমতা দখল করেছেন কি না? জবাবে বুশ পাশে দাঁড়ানো প্রেস সেক্রেটারির দিকে তাকালেন। জানতে চান হু ইজ পারভেজ মোশাররফ? প্রেস সেক্রেটারি কানে কানে বললেন, পাকিস্তানের নবাগত সেনাশাসক।

সিএনএনের লাইভ সম্প্রচার নজর এড়ায়নি পাকিস্তানি সাংবাদিকের। তাই সুযোগ বুঝে এতদিন পর পাকিস্তানি সাংবাদিক মহসিন রেজা জানতে চান, এটা কী করে সম্ভব পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হবে আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তা জানবেন না? সামরিক শাসকের নামও জানবেন না। ঠাণ্ডা মাথায় জবাব দেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পরিচালক। বললেন, পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হবে কি হবে না, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দেন না। আর পারভেজ মোশাররফ দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট বুশের সংবাদ সম্মেলন হয় ভিন্ন বিষয়ে, যা ছিল পূর্বনির্ধারিত। অপার বিস্ময়ে করা হাসনাইন খুরশিদের আরেক প্রশ্নের জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা বলেন, সাউথ এশিয়া ও ইস্ট-নর্থ আফ্রিকা দেখেন তাদের একজন পরিচালক। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের জানা। তাই কী সিদ্ধান্ত দিতে আর নিতে হবে, তা একজন সহকারী পরিচালকই বলে দেন। প্রেসিডেন্ট দূরে থাক, অনেক বিষয়ে পরিচালকের সঙ্গেও পরামর্শের প্রয়োজন পড়ে না।

পরে আমি এ বিষয়ে আলাদা কথা বলি ইস্ট-নর্থ আফ্রিকা ও সাউথ এশিয়া ডেস্কের প্রোগ্রাম অফিসার এলিজাবেথ গোমেজের সঙ্গে। আন্তরিক, স্মার্ট এলিজাবেথ কিছুটা হিউমার নিয়ে বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তোমাদের মতো দেশের ছোটখাটো বিষয়ে সারাক্ষণ মাথা ঘামালে এত বড় দেশ কীভাবে চালাবেন? বাকি বিশ্বের কথা নাইবা বললাম। এরপর পেন্টাগনেও আরেক বৈঠকে আমরা জানতে পারি দুনিয়ার বাদশার রাষ্ট্র চালানোর পদ্ধতি নিয়ে। যুদ্ধবিগ্রহ নিয়ে। সারা বিশ্বের দাপুটে দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজের ওপর সব বিষয়ে চাপ নেন না। রাষ্ট্র চালান নির্ধারিত পলিসির ভিত্তিতে। আর এ কারণেই বের হতে পারেন অবকাশ যাপনে। হাফপ্যান্ট পরে সুইমিং করেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, যার ছবি প্রকাশিত হয় বাংলাদেশেও।

আসলে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম এমনই। সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান তার পলিসি নির্ধারণ করে দেবেন। দায়িত্বরতরা তা বাস্তবায়ন করবেন। আমাদের দেশে সব কিছু বিপরীত। 'চণ্ডীপাঠ থেকে জুতা সেলাই' - সব কিছুতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। অদক্ষ মন্ত্রীরা নিজেদের ব্যক্তিত্ব দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। দিতেও পারেন না। আজকাল নাকি মন্ত্রীরা অফিসের পিয়ন নিয়োগেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কথা বলেন। সরকারের পদে পদে সিদ্ধান্তহীনতা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও দক্ষ জনবলের অভাব। নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে কেউ কোনো কাজ করেন না। সরকারে থাকলে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। একজনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। আওয়ামী লীগের আগের আমলে দেখেছি, জাওয়াদুল করিম, রবিউল মুক্তাদির চৌধুরী, ইব্রাহিম হোসেন খান, বাহাউদ্দিন নাছিম, আলাউদ্দিন চৌধুরী ও নাসিমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসে দায়িত্ব নিতেন, সিদ্ধান্ত নিতেন এবং দিতেন। এমনকি দক্ষতা নিয়ে প্রশ্নবাণে থাকা ডা. এস এ মালেকও কাজ করতেন। নজীব আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে না থাকলেও কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেন। এবার কোথাও কেউ নেই। সবাই গেছেন দূরে। আওয়ামী লীগের আগের আমলের মন্ত্রিসভাও ছিল বলিষ্ঠ। জিল্লুর রহমান, আবদুস সামাদ আজাদ, আমীর হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, শাহ এএমএস কিবরিয়া, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, আবুল হাসান চৌধুরী, সাবের হোসেন চৌধুরীরা ছিলেন মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারীর ছড়াছড়ি ছিল না। সচিব মর্যাদার একান্ত সচিবও ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রীর একজন একান্ত সচিব ছিলেন উপসচিব, আরেকজন সিনিয়র সহকারী সচিব। সব কিছু ভালোই ছিল। শপথ না নিয়ে মন্ত্রীর মর্যাদার কেউ মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেননি। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমেও করতেন না হস্তক্ষেপ। শেখ হাসিনার সাফল্যও ছিল অনেক। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, দারিদ্র্যবিমোচনে একটি বাড়ি একটি খামার, ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেনের নির্মাণ এগিয়ে নেওয়া, জেলায় জেলায় স্টেডিয়াম, বড় বড় ব্রিজ নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য ছিল। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ছিল না। বেসরকারি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানের ছড়াছড়ি ছিল না। হাইব্রিড নেতাদের দাপট কোথাও ছিল না। রাজনীতিকরণ ছিল। দলবাজি সীমাহীন ছিল না। এবার সব কিছুতে হাইব্রিড আর ফরমালিন। আসলে হাইব্রিড ও ফরমালিনযুক্ত আওয়ামী লীগকে দেখার জন্য নেতা-কর্মীরা কাজ করেননি। ২০০১ সালের পর অত্যাচার, নির্যাতন, হয়রানি সহ্য করেননি। জীবনের ঝুঁকি নেননি। কেন এমন হলো? জবাব হলো, সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্তহীতা, অহমিকা ও দাম্ভিকতা।

আসলে পদে পদে সিদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়হীনতা নিয়ে দেশ ও সরকার চলতে পারে না। দায়িত্ব নিয়ে কেউ কাজ করলে আজ এত সমস্যা থাকত না। বঙ্গবন্ধুকন্যা গণমানুষের জন্য ১৬-১৭ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন। সবাই জানেন তার মানবিক গুণের কথা। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে দেশের জন্য কাজ শুরু করেন। ঘুমাতে যান মধ্যরাতে। তার ভালো কাজগুলোও তুলে ধরার কেউ নেই। নিজেকে লিখতে হয় সরকারের সাফল্যের কথা। প্রধানমন্ত্রীকে সব কাজ কেন করতে হবে? তাহলে এত কর্মকর্তা, এত মন্ত্রী-এমপি, চামচা, অমাত্যের কাজ কী? সবাই সমানভাবে দক্ষতা নিয়ে কাজ করলে সরকারের পরতে পরতে এত সমন্বয়হীনতা থাকত না। সর্বস্তরে অসন্তোষের আগুন দাউদাউ করে জ্বলত না। ক্ষোভে-দুঃখে আওয়ামী লীগের কর্মীরা অশ্রু বিসর্জন দিতেন না। সরকার জনবিচ্ছিন্ন, আওয়ামী লীগ কর্মীবিচ্ছিন্ন হতো না। এবার সরকারের সাফল্য একটাই তা হলো অহমিকা ও দাম্ভিকতা। এর বাইরে কিছু নেই। আর আছে নীরব চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস। বুঝতে হবে কমিউনিস্ট মন্ত্রী দিয়ে শিল্পায়ন হয় না। বেসরকারিকরণের বিকাশ হয় না। দিনবদল হয় না।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কোনো অঙ্গীকারই হাইব্রিড ও ফরমালিনযুক্ত আওয়ামী লীগ দিয়ে পূরণ হবে না। শুধু অতীতের সমালোচনা আর কত দিন? মিডিয়ায় সরকারের সাফল্য নেই। টেলিভিশন টকশোয় আওয়ামী লীগের পক্ষে বলার কেউ নেই। তিন বছরের মাথায় লোক খুঁজে পাওয়া না গেলে আগামী দুই বছর পর কী হবে? আবারও বলছি, অহমিকা আর দাম্ভিকতাই আওয়ামী লীগের সর্বনাশ করে ছেড়েছে।

ভুলে গেলে চলবে না, অহমিকা রাষ্ট্রপতি এরশাদেরও কম ছিল না। তারেক রহমানেরও কম ছিল না। বারবার ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা ছিল হাওয়া ভবনের। লুৎফুজ্জামান বাবরের সীমাহীন ক্ষমতার দাপট জাতি দেখেছে। রেজ্জাকুল হায়দার ছিলেন অসীম ক্ষমতাবান। তারা আজ কোথায়? উইকিলিকসের এই যুগে এত অহমিকার কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের অহমিকার প্রতীক 'ব্ল্যাক হক' হেলিকপ্টার কীভাবে সোমালিয়ানরা ধ্বংস করেছে তা সারা দুনিয়া জানে। 'ব্ল্যাক হক ডাউন' ছবিটি আমি অনেকবার দেখেছি। সময় পেলেই বই পড়ি। ছবি দেখি। আমার পছন্দ রোমান্টিক ছবি। তবে অ্যাকশন ছবিও ভালো লাগে। 'ব্ল্যাক হক ডাউন' তেমনই একটি। এই ছবিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অহমিকার ওপর আঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দক্ষতা, মেধা, প্রশিক্ষণ দুনিয়াজুড়ে তুলনাহীন। তাদের যুদ্ধযানেরও তুলনা চলে না। কারণ সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধযান তাদের। 'ব্ল্যাক হক' তেমনই একটি। এতে চড়ে অপারেশনে যেত মার্কিন সেনারা। আমেরিকার অহমিকা-দাম্ভিকতার প্রতীক সেই 'ব্ল্যাক হক' ডাউন হয় সোমালিয়ায়। সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাত বন্ধ করতে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে করে অভিযানে যায় মার্কিন সেনারা। সোমালিয়ান বিদ্রোহীরা গুলি চালিয়ে দুটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে তাদের শহরে। নৃশংসভাবে হত্যা করে ২০ মার্কিন সেনাকে। অন্যরা সারা রাত যুদ্ধ করে টিকে থাকে। পরদিন বাকিদের উদ্ধার করা হয়। ছবিতে দেখা যায় সোমালিয়ান টোকাইরা ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের ওপর উঠে আনন্দে নাচানাচি করছে। হৈচৈ করছে। দূর থেকে সেনারা তা দেখছে। ক্ষমতার দাম্ভিকতার স্বপ্নচূড়ায় থাকা মানুষ ছবিটি দেখতে পারেন। শেখার কোনো শেষ নেই। ভাবের শেষ আছে।

অনেকে জানতে চান, সরকারের এত ভাব দেখানোর কারণ কী? জবাব এখানে একটাই, দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। বিএনপি মঞ্চে ভালো, মাঠে নয়। মঞ্চে তাদের নেতাদের বক্তৃতাবাজির শেষ নেই। বাস্তবে হরতাল ডেকে নেতারা বের হন না। ঘরে বসে খিচুরি খান। হিন্দি ছবি দেখেন। আর টেলিফোনে সরকারের সমালোচনা করেন। দ্রব্যমূল্য চড়া হলে, তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়লে তাদের কর্মসূচি থাকে না। ভাব এমন, তাদের কিছু যায় আসে না। এক বন্ধু সেদিন বললেন, আজ অবধি তারেক রহমানের পক্ষে তারা ভালো কোনো কর্মসূচি দিতে পারেননি। কিন্তু স্বপ্ন দেখছেন, আবার ক্ষমতায় এসে গেছেন। বিএনপিতেও সিনিয়র নেতারা হতাশ। তাদের কাছে দলের নিয়ন্ত্রণ নেই। গুলশান অফিস জিম্মি কয়েকজনের কাছে। অনেক সিনিয়র নেতা অসহায়ের মতো গুলশান অফিসের রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। দাম নেই। পরামর্শ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। সংসদ, রাজপথ - কোনোটায় বিএনপি নেই। বরং মাঠে-ঘাটে আওয়ামী লীগই সরকারের বিপক্ষে কথা বলছে। আওয়ামী লীগই সরকারি দল। আওয়ামী লীগই বিরোধী দল। এ কথা সত্যি, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে। এর বিপরীতে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়েনি। এত বড় শেয়ার কেলেঙ্কারি নিয়ে বিএনপি টুঁ-শব্দ করেনি। ৩৫ লাখ বিনিয়োগকারীর পাশে দাঁড়ায়নি। কারণ কী? সমালোচকরা বলেন, শেয়ারবাজারের লুটপাট হয়েছে যৌথভাবে। দুই পার্টির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বা উপদেষ্টা ভালো বাণিজ্য করেছেন। বারোটা বেজেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর। আসলে ক্ষতি জনগণেরই হয়, যারা ক্ষমতা উপভোগ করেন তাদের হয় না। হতাশ মানুষের যাওয়ার জায়গা নেই। তাই একবার আওয়ামী লীগের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়। আবার বিএনপির জাঁতাকলে। সব কিছু যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নিয়ম কবে ভাঙবে কেউ জানে না।

পুনশ্চ : এক বাড়িতে মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধ কৃষকের। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন গোপাল ভাঁড়। কান্না শুনে গোপাল শোকাহত বাড়িতে প্রবেশ করেন। দেখেন কান্না আর আহাজারিতে ভেঙে পড়ছে এক যুবক। শোকের মাতম, কান্না-আহাজারি করা যুবককে সান্ত্বনা দেন গোপাল। কিন্তু কান্না থামছেই না। গোপাল ভাঁড় নিজেও ভেঙে পড়েন। আহারে, কারও আপনজনই চিরদিন বেঁচে থাকে না। সান্ত্বনা দিতে দিতে গোপাল বললেন, ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি তুমি যাতে বাবার মৃত্যুর শোক সামলিয়ে উঠতে পার। যুবক কাঁদতে কাঁদতে বলল, যিনি মারা গেছেন তিনি আমার বাবা নন। বড় চাচা অর্থাৎ জেঠা। অবাক গোপাল! জেঠার মৃত্যুতে এত কান্না! আর মৃত মানুষটির বয়সও কম হয়নি। ৭০ বছর। মন খারাপ করে গোপাল বললেন, জেঠার মৃত্যুতে তুমি এত কাঁদছ কেন। যুবকের উত্তর, কাঁদছি জেঠার জন্য নয়। নিজের জন্য। যম বাড়ি চিনে গেছে। আমাদেরও দেখে গেছে। পাপ তো কেউ কম করছি না। জেঠা গেছেন যাক, আমাদের কী হবে?

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২০/১০/১১]
http://www.sonarbangladesh.com/articles/NoimNizam
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Long Drive থেকে জাতীয় বেঈমান লিখেছেন, ২০ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০২:৩৫
লেখক এই লেখায় দালাল, চামচা, চাটুকার সহ আরো কিছু শব্দ ব্যাবহার করেছেন। নিজের বক্তব্যে নিজের চরিত্রটাও ঐ শব্দ গুলির সাথে মিলে যায়। এটা কেই ডিগি-বাল নির্লজ্জতা বলে। কেউ নাকি গভির রাতে ঘুমাতা যায়, তাহাজ্জদের নামাজ পড়ে কর্মদিবস শুরু করেন ! দেশ বিদেশের কত অহংকারির কথা কলম থেকে ঝরলো , কিন্তু ''কোথায় আজ সিরাজ সিকদার''--''লাল ঘোঁড়া দাবড়াইয়া দিমু'' ঐ অহংকারির কথা নাই ।
70120
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
লেখক ও সাংবাদিক

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy