মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:৫৩ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

রাষ্ট্রপতির সাজা মওকুফ ভুল নাঃ ডিজিটাল রাষ্ট্রীয় ব্যার্থতার দলীয় এভিডেন্স

অধ্যাপক কে এম চৌধুরী

এক.
বেশ কয়েকদিন ধরে একটি খবর সংবাদপত্রের পাতা দখল করে রেখেছে। আর তা হলো ‘ভৈরব’কে জেলা করার সরকারী সিদ্ধান্ত পাল্ট দাবী ও কর্মসূচীকে ঘিরে। আন্দোলন, কর্মসূচী, অবরোধ, হরতাল, কুশপুত্তলিকা দাহ, ছবি ভাংচুর ইত্যাদি।

কিশোরগঞ্জ! মুহতারাম কিশোরগঞ্জ!!

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর VIP জেলা হিসেবে পরিচিত। খন্ডতা -অখন্ডতা নিয়ে চলছে যত সব ঠান্ডা ··· হট লড়াই। অনেকে একে গুরু শীষ্যের লড়াই বলছেন। এক পক্ষে অবস্থান সন্তান তুল্য আশরাফুল অন্য পক্ষে পিতৃসম জিল্লুর রহমান। একজন নব্য ঝানু পলিটিশিয়ান অন্য জন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবীদ। আরো আছেন সংসদের অভিভাবক স্পীকার এড. আব্দুল হামিদ। তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, মধ্যখানে পত্রিকায় প্রকাশ হলো ‘ভৈরব’ জেলা ঘোষণার পক্ষে বিপক্ষে আন্দোলন হওয়ায় তারা নাকি বিব্রত!!! বাহ্ বেশ চমৎকার সব আয়োজন, জনগণ হাততালি না দিয়ে পারে না। অবশ্য আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত আসেনি যে, এজন্য বিরোধীদল বিএনপি-জামাত ষড়যন্ত্র করছে? রাষ্ট্রপতি পুরো দেশের অভিভাবক। দলমত নির্বিশেষে সকল মত ও মানুষের অভিভাবক। তিনি ‘ভৈরবের’ ভৈরব তার এমন সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে। তাকে এমন সংকীর্ণতা আঁকড়ে ধরতে পারে না। তার মর্যাদা সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। ইতো পূর্বের প্রেসিডেন্টকে আওয়ামীলীগ নেতা নেত্রী এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বলেছিলেন ‘ ইয়েস উদ্দীন’। অনেকে আবার তার অক্সিজেন বন্ধ করে দেয়ার মত ‘হুমকিও দিয়েছিলেন!’ সে যাক একটা গল্প মনে পড়ে গেল।

কয়েকদিন আগে মৌমাছি সর্ম্পকে একটা গল্প পড়লাম। একটি মৌচাককে কতগুলো কর্মী মৌমাছি থাকে। এরা শুধু মৌচাক ও অন্য মৌমাছিদের সেবা বা উপকার করে যায়। বহিঃশত্রু থেকে মধু ও মৌচাককে রক্ষা করে। মধু সংগ্রহ করে আনে। আর রাণী মৌমাছি থাকে শুধুমাত্র একটা। একাধিক রাণী মৌমাছির জন্ম হলেও তাকে মা বা রাণী মৌমাছি মেরে ফেলে (এক বনে যেমন একাধিক রাজা থাকে না)। আর কোন কারণে রাণী মৌমাছির জন্ম হলেও বড় হয়ে তাকে অন্যত্র চলে যেতে হয়। আর চলে যাওয়ার সময় পুরাতন মৌচাক হতে মধু, মোম ও কিছু কর্মী মৌমাছি নিয়ে রাণী পৃথক হয়। আবার তারা মধু সংগ্রহ করে, ডিম দেয়। মৌচাক গড়ে। এ অবস্থাই যেন দেশবাসী মানব সমাজে প্রত্যক্ষ করছে। মুহতারাম কিশোরগঞ্জ জেলায়। অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রপতির কুশপুত্তলিকা দাহ ও ছবি ভাংচুর করে রাষ্ট্রপতির অবমাননা করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রদ্রোহী ব্যাপার। অবশ্যই এদের বিচার হতে হবে। তবে রাষ্ট্রপতি যদি আইন ভঙ্গ করেন তবে ····।

দুই.
গত ১৫ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় একটি ব্যাখ্যা দিলেন। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে দেয়া ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রপতি শাহদাবের সাজা মওকুফ করেছেন। ওই অনুচ্ছেদে বলা আছে কোন আদালত, ট্রাইবুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দন্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন দন্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে। তবে প্রশ্ন উঠেছে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সাজা পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি ‘মূলনীতি’ মেনে চলতে হয়। (১) নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হয়। (২) পলাতকদের জন্য আইনগত সুবিধার কোন বিধান বিবেচনার সুযোগ নেই। (৩) আইন মেনে আইনের সুবিধা পেতে হবে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এবং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রশ্ন শাহদাবের ক্ষেত্রে কোন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। এখন পাঠক জানতে চাইতে পারেন যেই শাহদাবের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি এমন ‘ভুল’ বিব্রতকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সেই শাহদাব আকবর চৌধুরীর সোনার ছেলেটা কে? আসলে উনি আর কেউ নন। আকবর চৌধুরীর পুত্র। আরো পরিস্কার করে বলি, উনি আওয়ামী নেত্রী সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর ‘সোনার ছেলে’। যার বিরুদ্ধে চারটি দুর্নীতির মামলায় ১৮ বছরের সাজা ও পাঁচ কোটি টাকার জরিমানার রায় দেন ফৌজদারী আদালত। শাহদাব সেই রায় মেনে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। তিনি তো একজন ফেরারী আসামী। যিনি শুরু থেকে পলাতক। তার জন্য আইনের সুবিধা গ্রহণযোগ্য কি না? আমার জানা মতে অনেক বিজ্ঞ আইনজীবি বলেছেন, ফেরারী আসামীর জন্য আইনের সুবিধা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায় আইনের কাছে আত্মসমর্পণ না করে শাহদাব কোন আইনগত সুবিধা পেতে পারে না। তওবা, উনি রাষ্ট্রপতি, ক্ষমা করবেন! ওনার কোন ভুল হতে পারে না। তাহলে তিনি কি ভুলের উর্ধ্বে। এমনকি আইনের ঊর্ধ্বেও ····।

একটি কথা রাষ্ট্রপতি শপথের সময় বলেছিলেন কিনা? শপথের টেপ রেকর্ড বের করে দেখতে পারেন ·······। তবে আমার স্পষ্ট মনে আছে তিনি শপথের সময় বলেছিলেন, কারো প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোন কাজ করবেন না। এ কাজটি কি অনুরাগের পর্যায়ে পড়ে না? যদি পড়ে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন কিনা? আর শপথ ভঙ্গ করলে এটা নিঃসন্দেহে একটা অন্যায় ও গর্হিত কাজ তিনি করেছেন। এ অবস্থায় বিজ্ঞজনেরা মনে করেন রাষ্ট্রপতি পদে থাকার নৈতিক অধিকার তিনি হারিয়েছেন। নাকি এখানেও বিরোধী দলের কোন ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে। আবার কেউ বলেন আইনের চোখে ‘সকলেই সমান’। আমি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রশ্ন তুলতে চাই বাংলাদেশের সকল নাগরিকের অভিভাবক আপনি। আপনি যেমনভাবে সাজেদা চৌধুরীর ছেলের সাজা মওকুফ করেছেন এমনি ফাইল যদি আসে বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনীদের সাজা মওকুফের, জয়নাল হাজারীর, হাজী সেলিমের, ডাঃ ইকবালের, আঁখি মনির, রসু খাঁর। আপনার দিল যখন এতই নরম তখন কি করবেন। বড়ই জানতে ইচ্ছা করে। অপেক্ষায় রইলাম। অবশ্য আমার আর একটি বিষয় কৌতুহলে জানতে ইচ্ছে করে আপনাকে যদি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় ওয়াকিং কমিটির সভায় অথবা সভাপতি মন্ডলীর সভায় যোগদানের আহবান জানানো হয় (পূর্বের মতই) তখন আপনি কী করবেন। আওয়ামীলীগ ও পি.এম. এর প্রতি আপনার গভীর আনুগত্য কীভাবে প্রকাশ করবেন। জনগন আশংকা করছে হয়ত এমন একদিন আসবে সেদিন আমাদের এ মন্তব্য সত্য প্রমানিত হবে। অবস্থা সেদিকেই যাচ্ছে তারই ইঙ্গিত পাচ্ছে জনগণ।

তিন.
মাননীয় রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বর্তমানে সকল বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের চ্যান্সেলর। পত্রিকায় দেখলাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকুরীচুত্য করেছেন। তাদেঁর অপরাধ একজন ডক্টরেড ডিগ্রীধারী প্রফেসর তার কেন বি.এড ডিগ্রি নাই। আর অন্যজনের অপরাধ তিনি প্রফেসর হয়েছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত কেন তিনি পিএইচডি করেননি। ((অদ্ভুত অপরাধ))। উল্লেখ্য যে বাংলাদেশে এমন অনেক প্রফেসর পাওয়া যাবে যাদের কখনই পিএইচডি ডিগ্রি ছিল না। এখন ও নেই। এ দু’জন শিক্ষকের চাকুরীচুত্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পেশার মর্যাদার হানী করা হয়েছে। মাননীয় চ্যান্সেলর সাহেব শিক্ষকদ্বয়ের ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে কি করেছেন। উনি কি শাহদাবের ন্যায় কোন ক্ষমা বা অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। করলে জানতে চাই। না করলে তারা কি শাহদাবের চেয়েও ‘বড় অপরাধী’ ক্ষমার অযোগ্য। নাকি তারা ডিজিটাল শিক্ষক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। সুতরাং তাদের কপালে ডিজিটাল ক্ষমাও প্রযোজ্য নয়।

লেখকঃ কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক
http://www.sonarbangladesh.com/articles/ProfKMChowdhury
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
সাইপ্রাস থেকে রাজিব লিখেছেন, ০২ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ০৮:৪৫
ভালো লিখেছেন। আরও লেখা চাই।
5721
গাবতলীর হাট থেকে বলদ লিখেছেন, ০৭ ডিসেম্বর ২০০৯; দুপুর ০৩:৪৯
এভিডেন্স শব্দটির কি কোন বাংলা প্রতিশব্দ নেই?
5822
Bahrain থেকে Mohammad Mostafa লিখেছেন, ০৭ ডিসেম্বর ২০০৯; বিকেল ০৪:১৭
Digital President of Digital Party works as per the instruction of Digital Prime Minister.
5823
বাংলাদেশ থেকে বোকালোক লিখেছেন, ১৮ ডিসেম্বর ২০০৯; সকাল ১০:২৭
আমি ভাবছি: মানুষের একটা মৌলিক বৈশিষ্ট আছে; যার নাম হচ্ছে 'লজ্জা'। বাংগালীর [ধর্ম নির্বিশেষে] মনে হয় কোন কারনে এই বৈশিষ্টটি লোপ পেয়েছে বা কোন দিন আদৌ ছিলনা। যদি আদৌ থাকতো, তাহলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়তো সাড়ে সাত কোটির জননীর কাছে অনুযোগ করতেননা। প্রেসিডেন্ট (রাষ্ট্রপতি নয়) যদি স্বাধীন ও সার্বভৌমিক হয়ে যান, তাহলে হয়তো আমরা তাঁর বিরুদ্ধে সংসদীয় অভিসংশন (Impeachment) এর হুমকি দিয়ে বসতে পারি। এই অভিসংশনে প্রেসিডেন্টের সুপুত্র অভিসংশনের পক্ষে ভোট (এর কোন বাংলা জানা নেই) দিতে বাধ্য।
6060
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy