|
মক্কা ও মদীনায় আমার এবারের সফর
অধ্যাপক ওমর ফারুক |
|
আল্লাহর ঘর জিয়ারত করার সৌভাগ্য লাভ কারো জীবনের জন্য একটি মহা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। সেই তারুণ্যের সোনালী দিনগুলোতে এশিয়ার দেশগুলো সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ভ্রমণের সূত্রপাত। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। এসোসিয়েশন অব ইউথ রিলেশন্স ডেভেলপমেন্ট নামে এশিয়ার বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ছাত্র ও যুবকদের একটি সংগঠনের জয়েন্ট কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, ফিলিপাইন, ভারতসহ এশিয়ার অনেকগুলো দেশ একাধিকবার সফরের সুযোগ পেয়েছি। এ সময় আমি ১১টি দেশ ১৭ বার সফরের সুযোগ পাই। তখন থেকেই মনে হয়েছিল জীবনটা বোধ হয় আল্লাহ তায়ালা ভ্রমণে কাটিয়ে দেয়ার জন্য আমাকে মনোনীত করেছেন। ভ্রমণের এ নেশা আমাকে কোন পেশাতেই থিতু হতে দেয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে অনেক ভাল চাকরি অফার পেলেও জয়েন করা হয় নি। শেষাবধি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর ঢাকার রমনাস্থ হেড কোয়ার্টার্স- জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করি। অফিস সময় এখানে দুপুর একটা থেকে সন্ধ্যে সাতটা। আমার অফিস সময় আলোচনা সাপেক্ষে বিকেল চারটা থেকে সাতটা ছিল। আইইবি‘র তখনকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী আনোয়ার হোসনে এবং সম্মানী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন খ্যাতিমান প্রকৌশলী রুহুল মতিন। জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজ। জনসংযোগের কাজ ঠিকমত চলছে। বাড়তি অফিসে যাবার আগে অফুরন্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে মিডিয়া জগতে আমার পদচারণাকে অব্যাহত গতিতে চালিয়ে যেতে থাকা। সব মিলিয়ে জীবন এভাবে চলছিল। ব্যস্ত সমস্ত সময়। সবসময়ই।
সেই তারুণ্যের দিনগুলো থেকে পৃথিবীর কত দেশ কত বার ঘুরেছি কিন্তু মক্কা ও মদীনা সফর আমার জীবনের একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। দেশে আসার জন্য পরিকল্পনা করছিলাম। এরিমধ্যে মনের ভেতর উকিঝুঁকি মারছিল যে, এবার বাংলাদেশ যাওয়ার পথে মক্কা মদীনা সফর করে গেলে ভালই হয়। বাংলাদেশে আগে থেকেই পূর্ব নির্ধারিত একটি সেমিনার করার কথা এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে। সে অনুযায়ী ফেইথ হোম্স লিমিটেডের নতুন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী তালুকদারকেও জানিয়ে রেখেছিলাম্ এজন্য এ সেমিনারে যোগদান ও আয়োজনের বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লন্ডন থেকেই আমি চীফ গেস্ট ঠিক করার ব্যাপারে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছিলাম। প্রথমে চেয়েছিলাম শিল্পমন্ত্রী দিলিপ বড়ুয়া কিংবা বাণিজ্য মন্ত্রী জিএম কাদের, কিন্তু শেষাবধি ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব) শওকত আলীকে প্রধান অতিথি করেই আমাদের সেমিনার সম্পাদন করতে মনস্থ করলাম। সেমিনারের বিষয় হল ‘ব্রিটেন ও বাংলাদেশ যৌথ বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও বাস্তবতা‘। সৌদি এয়ার লাইন্সের টিকেট করে মক্কা ও মদীনা সফর করে দেশে ফিরে যাওয়া, এরকমটি বিবেচনায় এনে সৌদি ভিসা সংগ্রহের জন্য চেষ্টা করতে চাইলাম। ভিসা সংগ্রহে ও মক্কা মদিনা সফরে তথা ওমরা হজ্জ সম্পাদনে কমুনিটি নেতা কে এম আবু তাহের চৌধুরী ও আলহাজ তাহির আলীসহ অনেকই আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ যুগিয়েছে।
মার্চ মাসের ২১ তারিখে বাংলাদেশ চলে আসব সে দিকটি বিবেচনায় রেখেই মক্কা শরীফ যাওয়ার জন্য লন্ডনস্থ সৌদি দূতাবাসে ভিসার জন্য পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেনস্থ মদিনা ট্রাভেল্স এর মাধ্যমে ভিসা পেতে চেষ্টা চালাই। মদিনা ট্রাভেল্স এর আব্দুস সাত্তার খান অত্যন্ত অমায়িক ও সজ্জন ব্যক্তি। জনাব তাহির আলী সাহেবও এ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। হজ্জ ও ওমরা প্যাকেজ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে তাদের রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। প্রথম দফায় আমার বাংলাদেশি পাসপোর্টে লন্ডনস্থ সৌদি দূতাবাস ভিসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে পাসপোর্ট ফেরত পাঠায়। আমি কিছুটা হলেও নিরাশ হয়ে গিয়েছিলাম। ওমরাহ যেতে চেষ্টা করছি বিষয়টি অনেকই জানছে। মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ, জনাব কে এম আবু তাহের চৌধুরী, এইচ এম আশরাফ আহমদ, খসরু খান, কবির খান, কবি শিহাবুজ্জামান কামাল, মোহাম্মদ ইয়াওর উদ্দিন, কবি আলিফ উদ্দিন, মোহাম্মদ ইছবাহ উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী তালুকদার যুক্তরজ্যে বসবাসকারী বহু ভায়েরা জানতে পারল আমি ওমরাহ যাওয়ার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিসা দেয় না, কিন্তু দিয়ে দিতেও পারে আমাকে। ১১ মার্চ প্রথম বার সৌদি দূতাবাস ভিসা না দিয়েই আমার পাসপোর্ট ফেরত পাঠালো। উপায়ান্তর না দেখে বিমানে করা আমার রিটার্ন টিকেট টা কাজে লাগাতে সচেষ্ট হলাম। সেখানেও বিধি বাম। এখন যে যুক্তরাজ্য স্কুলগুলোতে ছুটির মওসুম। বাংলাদেশে যে ট্রাভের এজেন্সিতে আমি টিকেট করি, তাদের দিয়েই সাধারণত আমি রিটার্ন টিকেটটা রিকনফার্ম করি। যোগাযোগ করে জানলাম- এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। কোন যাওয়ার তারিখ রিকনফার্ম করার কোন সুযোগ নেই।
চিন্তায় পড়ে গেলাম। বাংলাদেশ থেকে ট্রাভেল এজেন্সী‘র সিজু ভাই পরামর্শ দিলেন আমি যেন লন্ডনস্থ বিমান অফিসে যোগাযোগ করি। তারা হয়ত আপনার পরিচিতি পেয়ে অবশেষে যে করেই হোক টিকেটটা ২০ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে যে কোন এক তারিখে কনফার্ম করে দিতে পারবে।
১২ তারিখে প্রত্যুষে লন্ডন বিমান অফিসে যাওয়ার জন্য ইয়াওর উদ্দিন সাহেবকে নিয়ে লন্ডন বিমান অফিসে গেলাম। উদ্দেশ্য টিকেট রিকনফার্ম করা এবং ১৮ মে হাউজ অব লর্ডস এ অনুষ্ঠিতব্য ‘বাংলাদেশিজ ইন ইউরোপ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিতব্য স্যুভেনির - এর জন্য বিমানের একটা বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করা। জানি বিমানের নতুন ম্যানেজার বদলি হয়ে এসেছে। তার সাথে আমার পরিচয় নেই। এবার গিয়ে তার সাথেও পরিচিত হব। বিমান অফিসে গিয়ে কান্ট্রি ম্যানেজার চিশতী সাহেবকে পাওয়া যায় নি। সেল্স এর দায়িত্বে নিয়োজিত একজনের সাথে কথা বলে ২১ মার্চ ২০১২ তে ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকেট রিকনফার্ম করার অনুরোধ করলাম। তাদেরকে আমার লেখা ইউরোপে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের নিয়ে লেখা তিনটি গ্রন্থ উপহার দিলাম।
এদিকে আমার সকল বন্ধু বান্ধবরা উদগ্র আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছে আমি কি করি তা জানতে। হাউজ অব লর্ডস ১৬ মে ২০১২ তে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশিজ ইন ইউরোপ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান বিষয়ে বারবার প্রকাশনা কমিটির সভা বসছে। চ্যানেল আই তে বিজ্ঞাপন যাবে। ১৩ মার্চ ২০১২ মদিনা ট্রাভেল্স এ গেলাম পাসপোর্ট ফেরত আনব বলে। কিন্তু গিয়ে শুনলাম তারা পাসপোর্ট আবার সৌদি দূতাবাসে ভিসার জন্য জমা দিয়েছে। একটু চিন্তিত হলাম। আমাকে না জানিয়েই পাসপোর্ট তারা আবার জমা দেয়াতে বিব্রতই বোধ করলাম। কেননা বিমানে যে বলে এসেছি ২১ মার্চ ঢাকা যাওয়ার টিকেট রিকনফার্ম করতে। তবুও ভাবলাম সময় তো আছে। ১৮ মার্চ এর মধ্যে যদি জেনে যাই ভিসা হচ্ছে কি হচ্ছে না, তাহলে তো বিমান এর রিটার্ন টিকেট ব্যবহার করব কি করব না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো যাবে। কিন্তু না। সৌদি দূতাবাস থেকে সেদিনের মধ্যেও পাসপোর্টে ভিসা লাগানোর বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত জানা যায় নি। কেমন জানি একটু গোল চক্করে পড়ে গেলাম। ইয়া আল্লাহ এ কী হল। কেমন যেন একটা গোল চক্করে পড়ে গেলাম। কে এম আবু তাহের চৌধুরী সাহেব থেকে শুরু করে লন্ডনে আমার সকল সুহৃদরা বুঝাতে লাগল ওমরা ভিসা হয়ে গেলে এটা ভাগ্যের বিষয়। ওমরা পালনের ইচ্ছা মনের মধ্যে লালিত হতে থাকল ভীষণভাবে। প্রতি নামাজে দোয়া করতে থাকলাম যাতে ওমরা পালনের সৌভাগ্য হয়। ভিসা হল কিনা ২১ মার্চের মধ্যেও জানতে পারলাম না। অবশেষে বিমান অফিসকে না ‘করে দিলাম যে, ২১ তারিখের রিকনফার্ম ডেট ঠিক রাখা যাচ্ছে না।
ওমরাহ ভিসার অপেক্ষা করছি আর ১৬ মে প্রকাশনা উৎসব নিয়ে স্যুভেনির প্রকাশনা নিয়ে কাজ করছি। অপেক্ষার দোলাচলে থাকতে থাকতে একদিন জানতে পারলাম আমার বহুল প্রতিক্ষিত ওমরাহ ভিসা হয়েছে। তারিখটি সম্ভবত ৩০ মার্চ ২০১২। ভিসা তো পাওয়া গেল। এবার কিন্তু টিকেট সংগ্রহের সমস্যা। ২৭ মার্চ থেকে স্কুলগুলো ছুটি। এসময় সাধারণত অনেকই বাংলাদেশ সফরে বা হলিডে কাটাতে ওমরাহ পালন করতে মক্কা শরীফ যায়। মদিনা ট্রাভেল্স ৭ এপ্রিলের মধ্যে ইকোনমিক কাশে কোন টিকেট সংগ্রহ করতে পারে নি। আমি অন্য ট্রাভেল এজেন্সিতেও চেষ্টা করতে থাকলাম। এরিমধ্যে পূর্ব লন্ডনের ক্যানন স্ট্রীটস্থ বাংলাদেশ মানি ট্রান্সফার এন্ড ট্রাভেল্স এর স্বত্ত্বাধিকারী মসুদুর রহমান চৌধুরীর মাধ্যমে প্রথমে ৬ এপ্রিল ৭১০ পাউন্ডের টিকেট ও পরে ৩ এপ্রিল ২০১২ তে জেদ্দা অভিমুখী সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স এর টিকেট যার মূল্য ৯৪০ পাউন্ড লাগল। অবশ্য ক্রেডিট কার্ডে মূল্য পরিশোধিত হওয়াতে আরও ২০ পাউন্ড অতিরিক্ত পে করতে হল।
৩ এপ্রিল ২০১২ তারিখ দুপুর ১২ : ২৫ মিনিট সময়ে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স এর বিশাল বোয়িংটি লন্ডন হিথরো বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার পথে রওয়ানা হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে যোগাযোগ হচ্ছিল সকল ভায়ের সাথেই। তাহের ভাই, সালেহ ভাই, শিহাবুজ্জামান কামাল ভাই, মুফতী শাহ সদরুদ্দীন, আলিফ উদ্দিন ভাই, ইসলাম উদ্দিন ভাই, ইছবাহ উদ্দিন ভাই, ইয়াওর উদ্দিন ভাই, যুবাযের, ডাঃ এমরান, তাঁর সহধর্মিনী মুন্নি, মাওলানা শোয়েব আহমদের মায়ের মৃত্যুতে তিনি খুব সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আগমণ করলেও পুনরায় দু' সপ্তাহের জন্য দেশে চলে গেছেন। তবুও যোগাযোগ হচ্ছিল। যুক্তরাজ্যে কেউ যদি মক্কা ও মদীনা শরীফে যাওয়ার নিয়্যত করে এবং সে ওমরাহ কিংবা হজ্জ যেটিই হোক না কেন, যখনই অন্য ভায়েরা শুনতে পায়, সকলেই সেই ওমরা বা হজ্জে গমনকারীর নিকট খালেছ নিয়্যতে দোয়া কামনা করে। যে সব ব্যক্তিরা নতুন করে হজ্জ বা ওমরায় গমনকারীর নিকট দোয়া চায়, দেখা যায় সে সব ব্যক্তিরা জীবনে বহুবার হজ্জে বা ওমরায় গিয়েছে। কিন্তু নতুন করে আবার যারাই আল্লাহর ঘর মক্কাতে কিংবা নবী করিম (সাঃ) এর ঘর মদীনাতে যায়, সে সব হাজীরা কি যে আবেগতাড়িত হয়ে আল্লাহর ঘরের এ মেহমানের নিকট দোয়া চায়, তা দেখে অবাকই হতে হয়েছে। এ রকম দোয়ার কাঙাল মানুষের সংখ্যা বিলেতে অনেক বেশি হলেও বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলে কি হবে, তা এখানে দেখা যায় না।
আমার মক্কা শরীফ গিয়ে আল্লাহর ঘর জিয়ারত করার কথা শুনে যেই শুনেছে তিনিই বলেছেন যেন আমি সেখানে গিয়ে তার জন্য তার পরিবারের জন্য দোয়া করি। বার্মিংহাম থেকে চ্যানেল এস এর বার্মিংহাম প্রতিনিধি আশরাফ আহমদ ভায়ের উদ্বিগ্নতা ছিল আরও বেশি। প্রথমবার মক্কা শরীফ যাওয়া। ঠিকমত সফর হচ্ছে কিনা, ইহরামের কাপড় কিনতে হবে, কিভাবে বাঁধা হবে, শেষাবধি তিনি আমাকে লন্ডন হিথরো এয়ারপোর্ট পর্যন্তও পৌঁছে দিলেন। এছাড়া জেদ্দা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করতে সেখানকার তার আরেকজন পরিচিত ভাই মাওলানা মোবারক সাহেবকে বলে দিলেন। আশরাফ ভাই যেমন উদ্বিগ্ন ছিলেন, তেমনি আমিও কম চিন্তিত ছিলাম না। কিন্তু মনে মনে দোয়া করতে থাকলাম এই বলে- আল্লাহ যেন সহি সালামতে ওমরাহ করায়ে নেন। ঢাকা থেকে ফরিদ ভূঁইয়া ফেইথ হোম্স লিঃ এর ডাইরেক্টর শাহ আলমের কথা বলছিল। মাওলানা আবদুল কাদের সালেহ ভাইও মোহাম্মদ আলী নামে একজন ভায়ের মক্কায় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন। হলে কি হবে শেষাবধি মাওলানা মোবারক সাহেবই জেদ্দা এয়ারপোর্ট পেলাম। শাহ আলম সাহেব যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু আশরাফ্ ভাই বললেন, না আপনি মাওলানা মোবারক সাহেবের সাথেই যোগাযোগ করে সেখানে যাবেন। কে এম আবু তাহের চৌধুরী ভাইও কম উদ্বিগ্ন ছিলেন না। তিনি একটি কথা বলতেন যে, আরে আল্লাহর বাড়ির দাওয়াত পেয়েছেন, সেখানে যাবার দাওয়াত সবাই পায় না। পেয়েছেন যখন তখন আপনার সকল সুবিধা ও যাওয়ার ব্যাপারে কষ্ট কমিয়ে দেবে সেই আল্লাহ তায়ালাই। তিনি আরো বলতেন, আল্লাহর ওপর বেশি ভরসা করুন। আমি ঠিকই আল্লাহর ওপরই ভরসা করেছিলাম এবং আল্লাহর সাহায্য পেয়েছি। খুব সুন্দরভাবেই ওমরাহ পালন করেছি।
জেদ্দাস্থ কিং আব্দুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট নামলাম। ইমিগ্রেশনে যেতেই আরবিতে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছে। না পারলে ইংরেজি ভাষার কিঞ্চিত ব্যবহার। এ যেন মনে হল, তারা বুঝাতে চায়- আরবি ভাষায় কথা না বলতে শিখেই সৌদি আরব বেড়াতে এলে। আমাকে ইমিগ্রেশন অফিসার অল্প সল্প কথা বলেই ছেড়ে দিল। শুধু জিজ্ঞেস করল কোন হোটেলে উঠব। মিসফালাহ এলাকার একটি হোটেলের নাম বললাম। পাসপোর্ট হাতে ফেরত দিল। উড়োজাহাজের ভেতর লন্ডনে বসবাসকারী একটি পরিবারের সাথে পরিচয় হয়েছিল। তারা দু‘ভাই স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাসহ ওমরা করতে এসেছে। সাথে মা‘কে আনতেও ভুলে নি। সিলেটের গোলাপগঞ্জ এলাকার বানীগ্রামে বাড়ি। ইমিগ্রেশন পার হবার সময় সে পরিবারটিও ছিল। এক সাথেই আমরা বেরিয়েছি। বাংলাদেশে জন্ম হলেও দু‘ভাই ইংল্যান্ডে কৈশোর ও যৌবন পেরিয়ে মধ্যবয়স পার করতে তৎপর। নিজেরা এ দেশে সেকুলার শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও এখন ব্যক্তিগত স্টাডির মাধ্যমে কোরান হাদীস ফেকাহ সম্পর্কে বেশ ভালই জ্ঞান রাখেন বলেই মনে হল। অনেকই তাদের সাথে কথা বলে মনে করবে তারা হয়ত মাদ্রাসা পড়ুয়া কোন ইসলামি পন্ডিত ব্যক্তি। ছেলেপুলে যারা সাথে ছিল তারাও ইসলামি পোষাক আশাকেই অভ্যস্ত। আমার পাশে বসা তাদের মধ্যে বড় ভায়ের সাথে কথা বলে ও গল্প করে লন্ডন থেকে জেদ্দা পর্যন্ত উড়োজাহাজের এ ক‘ঘণ্টা সময় বেশ ভালই কেটেছিল।
ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছ থেকে পাসপোট ফিরে পেয়ে লাগেজ পেতে বেল্টে গেলাম। আমার ছোট্ট একটি ব্যাগ। তারপরও হাতে ঝামেলা কম রাখতে সেটিকে বেল্টে দিয়েছিলাম। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও লাগেজটি পাচ্ছিলাম না। আমার সাথের সকল প্যাসেঞ্জারই তাদের নিজ নিজ লাগেজ পেল। আমার সাথের দু‘ভায়ের পরিবারটিও। এক সময় লাগেজ আসার বেল্টটিও ঘুরা বন্ধ করে দিল। কিন্তু আমার ব্যাগটি পেলাম না। একটু চিন্তিত হলাম। কিন্তু না একটু পরই দেখলাম। লাগেজটি এক পাশে কে যেন নামিয়ে রেখেছিল। এবার বেরুতে রওয়ানা হলাম। বার্মিংহামের আশরাফ ভাই মনোনীনত মাওলানা মোবারক সাহেবকে একবার ফোন দিলাম। কথা বললাম। ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট কন্ট্রোলে দাঁড়ালে দু‘ একজন বাংলাদেশিকে সৌদি সিম কার্ড বিক্রির জন্য আসতে দেখা গেল। মূল্য জিজ্ঞেস করলে জানালো ৫০রিয়েল। অবশ্য ‘দশ রিয়েল বেশি দিয়ে কিনতে হয় এখানে। বাইরে এ সিম কার্ডটি ৪০ রিয়েল বিকায়। কারো প্রয়োজন পড়লে এয়ারপোর্টে থেকেই সৌদি সিম কার্ড নিয়ে নিতে পারেন এবং আপনার প্রিয়জনের সাথে কথা বলতে পারেন। এ সিমকার্ডে আবার ৪০ রিয়ালের টপআপ করা থাকে যা অনায়াসে কল করে ব্যবহার করা চলে। লন্ডন থেকে যাবার সময় আমার কাছে রক্ষিত নাউ মোবাইল সিমকার্ডটি জেদ্দা এয়ারপোর্টেও কিছু সময়ের জন্য ব্যবহার করা গেছে। কিন্তু পরে আর তা কাজে লাগে নি। বিষয়টি বুঝলাম না। অবশ্য কেউ কল করলে রিং টোনে আওয়াজ হয়েছে। কিন্তু কল দিতে চাইলে তা আর দেয়া যায় নি।
যাই হোক কাস্টম্স বিভাগের মাঝ দিয়ে পেরুতে দেখলাম স্কেনার মেশিন দিয়ে ব্যাগ চেক করল। মাওলানা মকবুল সাহেবকে বলে রেখেছিলাম টেক্সি ক্যাব আনতে। কাস্টম্স এর সীমান্ত পেরিয়ে এখন তো প্রিয় ভাই মাওলানা মকবুলকে খুঁজবো। একটু আগে মোবাইলে কথা বলেছি। আমি তাঁকে চিনি না। জীবনে কখনও দেখি নি। তিনি আসছেন আমাকে জেদ্দাস্থ কিং আব্দুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট আমাকে রিসিভ করতে। কাস্টম্স এর চৌহদ্দি পেরুতেই দেখা গেল কিছু অল্পবয়সী ছেলেরা আগত যাত্রীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে নিচ্ছে। আমার পাসপোর্ট টাও নিয়ে নিল। আমি মাওলানা মোবারককে খুঁজতে লাগলাম। বেস্টনীর বাইরে যারা আছে তাদের মধ্যে কোন চেহারাকে মাওলানা মোবারক বলে আন্দাজ করা যায় কিনা, তা অনুমান করতে থাকলাম। মোবাইলে ফোনও দিচ্ছিলাম। কিন্তু তিনি কল রিসিভ করছিলেন না। হয়ত পাঞ্জাবীর বড় কোন পকেটে মোবাইল সেটটি অতি যতনে সংগোপনে রেখে দিয়েছেন। পাসপোর্ট নিয়ে নিলে মনে পড়ল লন্ডনে যুবায়ের বলছিল ইমিগ্রেশন সেরে বাইরে আসলে এভাবে পাসপোর্ট নিয়ে নেয়। আরবী জানা থাকলে এবং আরবী ভাষায় কথা বলতে পারলে আর নাকি নেয় না। আমিও পাসপোর্ট কোথায় যায় পেছনে পেছনে গেলাম। এরিমধ্যে মাওলানা মকবুলকেও খুঁজছি। সব মিলিয়ে একটু চিন্তার মধ্যে থাকলাম। মনে মনে লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক..
দোয়া ছাড়াও অন্য সব দোয়া ও তছবিহ পাঠ করছিলাম। ইমিগ্রেশন ও কাস্টম্স চৌহদ্দির বাইরে আবার কিছু লোক বসে থাকতে দেখলাম। তাদেও বয়সও অধিকাংশেরই ত্রিশ পেরোয় নি বলেই মনে হল। পাসপোর্টটি দেখলাম তাদের কারো হাতে দিয়ে দিয়েছে। ডেস্কে এক হাত থেকে আরেক হাতে পাসপোর্টটি আমাকে বাদ দিয়ে এখন নিজেই ভ্রমণ করে চলছে। যুবায়ের আরেকটা ভয়ও আমার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। বলল -এসব ছেলেরা নাকি অনেকসময় পাসপোর্ট হারিয়েও ফেলে। অতএব সাবধান থাকবেন। পাসপোর্ট কোথায় যায়, কি করে দেখতে থাকবেন। এ বিষয়ে তাহের ভাই ও আশরাফ ভাই বললেন, আরে আল্লাহর বাড়ি যাবেন, এত কিছু কি ভাবেন? সবই আল্লাহ সহজ করে দেবে। আমার পাসপের্টের সাথে ঐ যে বলেছিলাম লন্ডন থেকে আসা দু‘ভায়ের পরিবারের কথা। তাদের পাসপোর্টও ছিল। কেননা আমরা সকলেই একত্রে বেরিয়েছিলাম। তাদের পাসপোর্টের রঙ লাল। তাদের মায়ের পাসপোর্টটি দেখলাম আমার পাসপোর্টের মতই সবুজ রঙের। সবুজ রঙের কভারের এ পাসপোর্টকে আমরা ছাত্রাবস্থায় যখন বিভিন্ন দেশে বেড়াতে যেতাম, তখন মজা করে এ পাসপোর্টবে সবুজ সাথী বলতাম। এ সবুজ সাথী দেখলেই নাকি ভিন দেশের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ম্যুড অফ হয়ে যায়।
সৌদি আরবের জেদ্দাতে এসেও দেখলাম লাল রঙের পাসপোর্টগুলো আগে দিয়ে দিলেও আমারটি পরেই দিয়েছে। অবশ্য ভাগ্য ভাল আমার মুড অফ করে নি। তারা শুধু আমার নাম জিজ্ঞেস করেই পাসপোর্ট হাতে দিয়ে দিয়েছে। অনেককে নাকি এখানে জিজ্ঞেস করে কোথায় তোমর ওমরাহ বা হজ্জ এজেন্ট? কোন হোটেলে উঠবে? ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর কোন এজেন্ট বা রিসিভ করতে আসা কোন লোক না পেলে নিদেনপক্ষে কোন টেক্সি ড্রাইভার বা কোচ ড্রাইভারের হাওলা করে দেয়, তারা হোটেলে পৌঁছে গিয়ে নাকি পাসপোর্ট ফেরত দেয়। ইতোমধ্যে লম্বা দাঁড়িওয়ালা একজন মানুষকেও দেখলাম ডেস্কগুলোর দিকে এগিয়ে আসছে। আমি আন্দাজ করলাম ইনি হবেন আমার প্রািতক্ষিত মানুষটি অর্থাৎ মাওলানা মকবুল। একটু দূরে থাকতেই তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। যাক কাছে এলে জিজ্ঞে করলে বললেন যে, তিনিই মাওলানা মকবুল। কোলাকুলি করলেন। তাঁর সাথে ছিল একজন সৌদি ড্রাইভার। তিনিও কোলাকুলি করলেন এবং আমার হাত থেকে লাগেজগুলো নিয়ে নিলেন। আমরাও তাকে অনুসরণ করলাম। মকবুল ভাইয়ের সাথে কথা বলে বুঝলাম মানুষটি মিশুক এবং খোলা মনের। একটু হাঁটলেই টেক্সি ক্যাবটি। ড্রাইভার ও মকবুল ভাই কেউই কম নয়, আমাকে কোন লাগেজ উঠাতে দেয় নি। লন্ডন থেকে সফর করে এসেছি, কষ্ট করে আল্লাহর ঘর জেয়ারতে এসেছি, নবীর দেশে এসেছি। তাদের মনোভাবটি যেন এমন। গাড়িতে পেছন সিটে আমি ও মকবুল ভাই বসলাম। ড্রাইভার গাড়ি চালাতে শুরু করল। মকবুল ভাই একটি সৌদি মালিকাধীন দোকানে কাজ করে। দোকানটি তৈরি খাদ্য, সুগন্ধী ও গ্রসারি দ্রব্যজাতীয়। তিনি আমার ‘জন্য কিছু রুটি ও পানীয় নিয়ে এলেন এবং গাড়িতে উঠেই তা আমাকে খেতে দিলেন। অবাক হলাম। আত্মীয় নয়, কিছু নয়। শুধু টেলিফোনে দু‘একবার কথা। অবশ্য সে টেলিফোনের আলোচনাতেও আন্তরিকতার যেন কমতি ছিল না।
অনেক মানুষ টেলিফোনে আন্তরিক মনে হলেও বাস্তবে কিছু ভিন্ন থাকে। কিন্তু মাওলানা মকবুল বাস্তবেও যে আন্তরিক মানুষ তা আস্তে আস্তে উপলব্দি করতে পেরে পুলকিত হতে থাকলাম। ভাবলাম আশরাফ ভাইয়ের সিলেকশন ঠিকই আছে। মাওলানা মকবুল যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের শাহপরান মসজিদে কর্মরত ইমাম হাফিজ মাওলানা আবদুর রব ফয়জী সাহেবের ছোট বোনের জামাই। মাওলানা ফয়জী সাহেব আমারও বন্ধু মানুষ। গাড়ি জেদ্দা ছেড়ে আস্তে আস্তে হেরেম শরীফের দিকে এগিয়ে চলছে। রাত তখন কত হবে। হয়ত দশটা কি এগারটা। মনে নেই। মন ভরে ভক্তি সহকারে আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তায়লাকে স্মরণ করলাম। আল্লাহকে অনেক ধন্যবাদ দিলাম। দু‘চোখ ভরে গাড়ির দু‘পাশে পথ প্রান্তর দেখতে থাকলাম। বইতে পড়েছিলাম। মক্কা ও মদিনার কথা শুনেছি। এটিই প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মভূমি- মক্কা নগরী। মক্কা নগরী সম্পর্কে বেশি আমি জেনেছি ‘মক্কা শরীফের ইতিহাস‘ নামক বইটি পড়ে। এছাড়া মক্কা ও মদিনা সম্পর্কে আরও কিছু জেনেছি বাল্যকালে দাদা হাজী নূর মিয়া চৌধুরীর কাছ থেকে। অবশ্য তখন বয়সটি খুবই কম ছিল না। যে বয়সের স্মৃতির পাতাগুলো এখন খুব ঝাপসা ঝাপসা মনে হয়। রাস্তায় গাড়িতে চলতে গিয়ে এশিয়ার কোন শহরে যে এসেছি তা বুঝতে কোন বেগ পেতে হয় না। নিয়ন সাইনের আলো রাতের অন্ধকার ভেদ করেও দু‘পাশের পাহাড়গুলোর অবস্থান আমাকে জানান দিতে ভুল হয় নি। এয়ারপোর্ট থেকে বেরুতেই কিছু খেজুর গাছও চোখে পড়ার মত। মক্কা শরীফের আবহাওয়ায় যেটুকু উত্তাপ হবে মনে করেছিলাম, তার চেয়ে আবহাওয়া আরও ভাল বলেই অনুভূত হল। দিনে বৃষ্টি হয়েছে বলে জানলাম। মোবারক ভাই জানালেন, তিনি সৌদি আরবে প্রায় ত্রিশ বছর ধরে থাকেন। এক বছর দু‘বছর পরপর দেশে যান। স্ত্রী পুত্র কন্যারা সকলেই বাংলাদেশে বসবাস করে। পাহাড় আর খেজুর গাছ দেখতে এক সময় গাড়িটি এমন জায়গায় পৌঁছাল যেখানে কিছু দোকান পাট দেখা যাচ্ছিল। এক জায়গায় গিয়ে গাড়ি থামল। এবার এখানে নামতে বলল। ভাবলাম কোথায় আসল। মোবারক ভাই বললেন, এটি মসজিদে আয়েশা। এখানে আপনি দু‘রাকায়াত নামাজ আদায় করুন। আর আমিও আপনার সাথে ওমরাহ করার জন্য ইহরাম বেঁধে তৈরি হয়ে নেই। আমি আমার নিজের ওমরাহ করতে থাকব এবং আমার সাথে সঙ্গী হিসেবে মোবারক ভাই থাকবেন। তিনি আবার আব্বা হুজুর মরহুম আবদুর রহিম চৌধুরীর বদলি ওমরাহ করবেন।
মোবারক ভাই হোটেল ঠিক করে রেখেছেন আগে থেকেই। একটু সস্তা দামের হোটেল। মিসফালাতে অবস্থিত এ হোটেলের দৈনিক মাত্র ৮০ রিয়েল। তিনি ফাইভ স্টার হোটেলে সিট রাখার কথা বলছিলেন। আমি লন্ডন থেকে ফোনে তাকে বললাম, আমি যেহেতু একা ওমরাহ সম্পাদনের জন্য যাচ্ছি। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময়ই তো মসজিদে হেরেমে কাটানোর ইচ্ছা, তাই দামী হোটেলে উঠে কাজ নেই। এ হোটেলে উঠার উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধুমাত্র লাগেজগুলো রাখা, কখনও কখনও শাওয়ার সারা এবং একটু আধটু প্রয়োজনে রেস্ট নেয়া। প্রথম রাত তো ঘুমানোই হয় নি। এরপর দু‘রাতও বলতে গেলে হেরেম শরীফেই কেটেছে। মক্কা বা মদিনা শরীফে কেউ হোটেল ভাড়ার ক্ষেত্রে দামী হোটেলে ২০০ থেকে ৪০০ রিয়েলে প্রতি রাত ভাড়া দিয়ে থাকতে পারবেন। তবে একজন থাকলেও আপনি দু‘টি বা তিনটি বেড পাবেন। অতএব পুরো পরিবার নিয়ে থাকলে ইকোনমি হয় বৈ কি! হোটেলে লাগেজ রেখে ও শাওয়ার সেরে প্রথমেই একটি পাকিস্তানী হোটেলে রুটি ও গোশত খেলাম। যে হোটেলটিতে উঠেছি সেটি পরিচালনা করে বাঙালি একজন, যার বাংলাদেশে বাড়ি হল চট্টগ্রামে। লোকটি প্রায় দু‘দশক ধরে সৌদি আরবে থাকে। খাবার শেষ করে দু‘জনেই হেরেম শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। মিসফালাহ থেকে বেশি দূরে নয়। এরিমধ্যে এক পশলা বৃষ্টিও হয়ে গেছে। মন্দ নয়। আবহাওয়া উত্তপ্ত থাকছে না। এগুতে থাকলাম। মনের মধ্যে উকিঝুঁকি মারছে অনেক কথা। আল্লাহর ঘর প্রথম দেখতে পেলে কি সব দোয়া করব। এ সব কিছু ভেবে ভেবে আমি হেঁটে চলেছি। অনেক ভাইয়েরা ও বোনেরা দোয়া চেয়েছে। কতজনের নাম উল্লেখ করতে পারব আল্লাহর দরবারে। রাইসা‘র রোগমুক্তির জন্য খাস করে দোয়া চাইতে হবে। রাইসার সুস্থতার সাথে হায়াত চাইতে তো বিশেষ করে আল্লাহর ঘরে আসা এবং নবী করিম (সাঃ) এর রওজা মোবারক জেয়ারত করা। মনে পড়ে অনেকই বলেছে, এ জায়গাতে দোয়া কবুল হয়। খুবই পরীক্ষিত। দোয়া কবুলের জায়গাতে শেষাবধি আমি এসেছি। মনটা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠল।
সাথে সাথে মনে হল আল্লাহর দরবারে এসেছি, কোন মুখে যাচ্ছি। জীবনে তো বহু অপরাধ করেছি। আমি তো ‘আল্লাহর কাছে বড় একজন আসামী। গুনাহ মাফ চাইতে যাচ্ছি। গুনাহার সমুদ্র আমার। কিছুকক্ষণ পরই নজরে পড়ল আল্লাহর ঘর। দরদর করে দু‘চোখ দিয়ে পনি ঝরছে অঝোরে। আমি বুঝতে পারি নি- কোথা থেকে আমার এত আবেগ আর অনুভূতি এলো। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ওলামা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর কথা মনে পড়ল। তিনি নাকি আগে এত সুমধুর কন্ঠে এবং এত জ্ঞানগর্ভ ওয়াজ করতে পারতেন না। হজ্জ করতে এসে তিনি আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানালেন- ইয়া আল্লাহ আপনি আমার জেহান খুলে দিন এবং সে জ্ঞান সুমধুর কণ্ঠ দিন, যাতে আমি আপনার দ্বীনের কথা মানুষকে শুনাতে পারি। মানুষকে হেদায়াতের পথে ডাকতে পারি। আর এরপরই তিনি আজ শুধু ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে পরিচিত হলেন একজন সুমধুর কণ্ঠের জ্ঞানগর্বের অধিকারী ওয়ায়েজিন হিসেবে। তিনি আজ যদিও অত্যাচারী শাসক গোষ্ঠীর অন্যায় এক জিঘাংসার শিকার। কিন্তু এখনও তিনি যদি ডাক দেন লক্ষ লক্ষ মানুষ বাতিলের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে এতটুকু দ্বিধা করবে না।
কায়মনো বাক্যে আল্লাহর কাছে গনাহ মাফ চাইলাম। রাইসার রোগমুক্তি ও নেক হায়াতের জন্য দোয়া করলাম। আমার শিশুকন্যা রাইসা তিন বছর বয়সেই ঘাতক ব্যাধি ‘ক্যান্সারে আক্রান্ত হল।‘ ইয়া আল্লাহ এ এক কঠিন পরীক্ষা। নিজের অনেক মাকসুদ পূরণের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করলাম। তারপর বাবা মা, স্ত্রী পুত্র কন্যা, ভাই বোন, আত্মীয় স্বজন, পরিচিত জনের সকলের জন্য দোয়া করলাম। অধিকাংশেরই নাম উল্লেখ করে দোয়া করলাম।
আমি ও মোবারক ভাই এগিয়ে যেতে থাকলাম। আল্লাহর ঘর এবার পূর্ণভাবে খুবই কাছে থেকে দেখছি। আরেকটু পরেই আমরা সরি তওয়াফ শুরু করব। এ কথা ভেবে ভেবেও আমি ভীষণভাবে পুলকিত হচ্ছিলাম। আল্লাহকে আবারও অজস্র ধন্যবাদ জানালাম। জীবনে আল্লাহর ঘর সরাসরি দেখতে পাওয়ার মুহূর্তটিকে ভেবে ভেবে আমি এখনও খুবই ইমোশনাল হয়ে যাই। পৃথিবীতে এটিই বোধ একটি জায়গা যেখানে লক্ষ লক্ষ আল্লাহর বান্দাহ তাওয়াফে নিয়োজিত থাকে। নারী পুরুষ তওয়াফ করে যাচ্ছে, কোন বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয় না। দুনিয়াবি অন্য সব কর্মকান্ডে আমরা কি দেখি - ৫ হাজার নারী পুরুষও যদি একত্রিত হয়ে কোন কর্মসূচি পালন করতে যায়, সেখানে কত গন্ডগোল ও ফেতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয়। কিন্তু আল্লাহর দাওয়াতে আল্লাহর ঘরে আসা এসব নারী পুরুষের আগমনে ও তওয়াফে কোন গন্ডগোল বা বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয় না। নারী পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত বলে দাবীদার ব্যক্তিদের উচিৎ হজ্জ ও ওমরাহকালীন মুসলমানদের এ অবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করা ও উদাহরণ হিসেবে পেশ করা। আমি ও মকবুল ভাই সাতবার তওয়াফ শেষ করলাম। এরপর অনেক কষ্ট করে এবং প্রচন্ড ভীড় ঠেলে আল্লাহর ঘরের প্রবেশ দরজার পাশে গিয়ে আল্লাহর ঘর ধরতে সমর্থ হলাম। সেখানে গিয়ে আবার রাইসা‘র রোগমুক্তির জন্য দোয়া করলাম। আবার বাবা মা, স্ত্রী পুত্র ও কন্যা, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব ও পরিচিতজন সকলের যার যার পেরেছি নাম ধরে দোয়া করেছি।
আল্লাহর ঘর ধরে দোয়া পর্ব শেষ করে এবার মাওলানা মকবুল সাহেব বললেন, চেষ্টা করে দেখুন সেই ঐতিহাসিক কালো পাথর বা ব্লাক স্টোন চুমু খেতে পারেন কিনা। আমি চেষ্টা করলাম। প্রচন্ড ভীড় ঠেলে এগুতে চেষ্টা করলাম। ভীড়ে অনেকক্ষণ ঠেলাঠেলির পর আমি কালো পাথর স্পর্শ করতে তো পারি নি, কান্ত হয়েছি এবং আমার বাম পায়ের পাতায় জনৈক আল্লাহর বান্দাহর পায়ের মাড়ানি খেয়ে সে যাত্রায় কালো পাথর চুমু খাওয়ার খায়েশ মিটে গেল। প্রচন্ড ব্যাথায় কঁকিয়ে উঠলাম। এরকম ব্যথা পেলে যে ঠান্ডা বরফ ব্যথার জায়গায় লাগাতে হয়, আমার স্ত্রী ডাঃ মর্জিনা আক্তারের সে উপদেশ বাণীটি বেমালুম ভুলে থাকলাম। আশা করতে থাকলাম একসময় হয়ত ব্যাথা কমে যাবে। নামাজের পায়ের ব্যাথা কমাতে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকলাম। পায়ের এ ব্যাথা যে তীব্র আকার নেবে তখনও বিষয়টি ঠাওর করতে পারি নি। যাই হোক তাওয়াফের জায়গা থেকে বেরিয়ে মাকামে ইব্রাহীম গেলাম ও দু‘রাকাত নামাজ আদায় করলাম। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে আবার গোনাহ মাফ চাইলাম ও একইভাবে নিজের ও সকলের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম।
পায়ের ব্যাথা নিয়েই এবার গেলাম সাফা ও মারওয়া পাহাড় সা‘য়ী করতে। অবশ্য এর আগে ঝমঝমের ঠান্ডা পানি দিয়ে পা ধুলাম। বিশেষ করে ব্যাথায় টনটন করা জায়গাটাতে অনেকক্ষণ ঠান্ডা পানি দিতে থাকলাম। তখন মনে পড়ল আমার স্ত্রী তো তাই বলেছিল। এখানে তো বরফ নেই। অন্তত হিমশীতল ঠান্ডা পানি দিলেও ব্যথা কমতে পারে। দু‘জনে সা‘য়ী শেষ করে আবার সাফা পাহাড়ে এসে আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম। অঝোর ধারায় কেন জানি কান্না এলো। মনে পড়তে থাকল অতীতের অনেক ইতিহাস। আমাদের আদি পিতা হযরতে আদম (আঃ), আদি মাতা বিবি হাওয়া এবং মুসলমানদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ), বিবি হাজেরা ও হযরত ঈসমাইল (আঃ) এর কথা। কোরান ও হাদীস দ্বারা বর্ণনাগুলো ছাড়াও ইসলামের ইতিহাসের পাতায় অংকিত সেসব ইতিহাস যখন স্মৃতির পাতায় তুলে আনি, তখন তো ভীষণ ইমোশনাল হয়ে যাই। আজ জাতির পিতা নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে কত রকম কথা শুনা যায়। অথচ মুসলমানরা বেমালুম ভুলে যাচ্ছে যে, তাদের জাতির পিতা একামাত্র ইব্রাহীম (আঃ)। কেন জানি সকল দোয়ার মাঝে বারবার আমাদের দেশে বিদ্যমান অরাজক পরিস্থিতির কথা মনে হতে লাগল। ইয়া আল্লাহ দেশ আজ মুসলমান নামধারী বিশ্ব বেহায়া এক কালো নাগিনীর নিষ্ঠুর ছোবলে আক্রান্ত। আপনার দ্বীনের কথা প্রচারে যারা ব্যাপৃত সেসব দেশবরেণ্য আলেম ওলামারা এ নাগিনী ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের দ্বারা হিংস্রতার শিকার। আপনি শাহ জালাল, শাহপরান, শাহ মখদুমসহ অসংখ্য পীর আওলীয়ার বাংলাকে জালিমের ‘হাত থেকে রক্ষা করুণ। মনে পড়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা সকলেই তখন সোচ্চার। জাতীয় কবিতা পরিষদের কবিতা পাঠের আসরেও দেশের সকল বরেন্য কবি, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা দেশ বিরোধী চক্রকে রুখতে ঐক্যবদ্ধ। শিল্পী কামরুল এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আঁকলেন সেই ছবি, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন, দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে। শিল্পী কামরুল আজ যদি বেঁচে থাকতেন এই পিশাচ ও কালো নাগিনীর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তিনি কি আঁকতেন সেটি জানি না।
(চলবে)
লেখকঃ সাংবাদিক, লেখক, ইংরেজি সাপ্তাহিক ঢাকা পোস্টের সম্পাদক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক নির্বাহী সদস্য |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/ProfOmarFaruk |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
অধ্যাপক ওমর ফারুকঃ জন্ম তারিখঃ ৩০ সেপ্টেম্বর। পিতাঃ মরহুম মোহাম্মদ আবদুর রহিম চৌধুরী, মাতাঃ বেগম রাহ্মাতুন্নেছা চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর মালয়েশিয়াস্থ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এনথ্রোপলজি ও সোসিওলজিতে এমফিল এবং বর্তমানে আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি প্রোগ্রাম সম্পন্ন করছেন। তিনি ইংরেজি সাপ্তাহিক ঢাকা পোস্ট সম্পাদক, পাক্ষিক তৃতীয় বাংলা‘র প্রধান সম্পাদক এবং ঢাকা পোস্ট ফাউন্ডেশন নামে একটি আন্তর্জাতিক চ্যারিটি সংস্থার চেয়ারম্যান। তিনি লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনের সাথে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে সক্রিয়ভাবে জড়িত। এছাড়া তিনি ‘বাংলা একাডেমি’ -এর সদস্য ও ‘বাংলাদেশ বুক কাব’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট এ্যসোসিয়েশন-এর আজীবন সদস্য। তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) -এর ২০০৪-২০০৬ সেশনে নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় চেতনা পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ওমর ফারুক নিহাল পাবলিকেশন-এর স্বত্ত্বাধিকারী। এটি সাধারণত সৃজনশীল গ্রন্থ প্রকাশ করে থাকে। এছাড়া তিনি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন ’ব্রিটিশ বাংলাদেশ এডুকেশন লিংক এরও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুরুতে শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে পূর্ণকালীন লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সাথে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখছেন। এ পর্যন্ত তাঁর লেখা গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় দু‘ ডজনেরও বেশি। কবিতা দিয়ে লেখালেখির যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে উপন্যাস, ছড়া, প্রবন্ধ, গল্প, গবেষণামূলক নিবন্ধসহ লেখালেখির সকল শাখায়ই তাঁর অবাধ বিচরণ রয়েছে। গত ২০০৫ সাল থেকে তিনি যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ওপর লেখালেখি করছেন। ব্রিটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ওপর ইংরেজি ভাষায় তাঁর লেখা দুটি গ্রন্থ (১) বাংলাদেশি এক্সপ্রেট্রিয়েট্স ইন ব্রিটেন এবং (২) বাংলাদেশিজ ইন ব্রিটেন প্রকাশের পর এবার তাঁর লেখা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের নিয়ে সম্প্রতি তাঁর লেখা প্রকাশিত আরেকটি গ্রন্থ ‘বাংলাদেশিজ ইন ইউরোপ‘ প্রবাসী বাংলাদেশিসহ ইউরোপে মেইনস্ট্রিম পাঠকদের কাছে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে। এ সব গ্রন্থ রচনার জন্য তিনি গত ২০০৫ সাল থেকে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বহুবার সফর করে চলেছেন এবং সহস্রাধিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন।
ওমর ফারুকের সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয় সাপ্তাহিক রিপোর্টারের মধ্য দিয়ে। তিনি সাপ্তাহিক জীবনের আলো, সাপ্তাহিক অগ্রপথিক, সাপ্তাহিক সন্ধানী, দৈনিক মিল্লাত, দৈনিক নব অভিযান, দৈনিক জনতা, নিউনেশন, একুশে সংবাদ প্রভৃতি পত্রিকায় কাজ করেন। এরপর তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক উপকূল-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জুন ১৯৯১ থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন, ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘ঢাকা পোস্ট’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক। এছাড়াও তিনি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত পাক্ষিক তৃতীয় বাংলা- র বর্তমান প্রধান সম্পাদক। তিনি লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সাময়িকী ‘সিলেট টাইম্স‘ এর চীফ এডিটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তিনি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, জার্মানী, হল্যান্ড, স্পেন, হংকং, বার্মা, ভারত, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, সিংগাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ব্যাপকভাবে সফর করেন। |
|