মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:৫৯ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

'খোলা কলাম'-এর জনৈক মেজর জেনারেলকে খোলা চিঠি

রফিকউদ্দিন আহমাদ

গত ১৩ অক্টোবর ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার উপসম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় ‘ঝড়ে বিধ্বস্ত জামায়াত টেনে ধরছে বিএনপিকে’ খোলা কলামে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল একে মোহাম্মদ আলী শিকদার এক নিবন্ধ লিখেছেন। বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে উক্ত প্রবন্ধটি পড়ে আমার বোধ হয়েছে এটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপন, বিশ্লেষণ ও নিম্ন মানের ভাষা ব্যবহারের একটি দলীল মাত্র। তাঁর চমকপ্রদ দীর্ঘ ভূমিকা বিষয়ে আমার খোলা চিঠির শেষাংশে মন্তব্য করার ইচ্ছা রেখেই প্রথমে উক্ত নিবন্ধের তথ্যগত বিভ্রান্তি অপনোদন করা প্রয়োজন মনে করছি। বিভ্রান্তির ক্রমানুসারে-

১. ঝড়ে কবলিত লঞ্চের উদাহরণ টেনে ব্যাখ্যা শেষে মাওলানা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের মতাদর্শ অনুকরণে মাওলানা মওদূদী জামায়াতে ইসলামী গঠন করেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রবন্ধকার। ভাবখানা এই যে, ইবনে আব্দুল ওয়াহাব যেন কোন এক খারাপ মানুষ, যার অনুসরণ করা খুবই গর্হিত কিছু একটা হয়ে গেছে বা করে ফেলেছেন মাওলানা মওদূদী। মেজর সাহেব এখানেই নিজের চরম অজ্ঞতার চমৎকার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর জানা নেই যে, আব্দুল ওয়াহাব নজদী বৃটিশ যুগে আরব বিশ্বকে অন্ধকার কুসংস্কারাচ্ছন্ন অবস্থা হতে জাগিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর সে সংস্কার আন্দোলনের ঢেউ উপমহাদেশের উলামায়ে কেরামকেও নাড়া দিয়েছিল। আব্দুল ওয়াহাব নজদীর সংস্কার আন্দোলন ছিল ইসলামী জীবনাদর্শের দিকে মুসলিম উম্মাহকে সচেতন করার এক মহৎ প্রয়াস। কিন্তু ইংরেজ বেনিয়া গোষ্ঠী তাঁর প্রতি ছিল ভীষণ ক্ষিপ্ত। দীর্ঘ পরাধীনতায় কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুসলিম জাতিকে আব্দুল ওয়াহাব নজদীর আদর্শিক আন্দোলন থেকে দূরে রাখতেই তৎকালীন বৃটিশ শাসকরা সারা বিশ্বে তাঁর বিরূদ্ধে প্রচণ্ড অপপ্রচার চালায়। উপমহাদেশেও ইংরেজদের অপপ্রচারের মাত্রা কোন অংশেই কম ছিলনা। ফলে এদেশেও আব্দুল ওয়াহাব নজদীর সংস্কার প্রচেষ্টাকে কিছু মানুষ ভুল বুঝেছে।

বিশেষত: লর্ড ম্যাকলে প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থা- যা ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে পশ্চিমা লেখকদের চরিত্র হননমূলক মিথ্যা তথ্য ও ইতিহাস বিকৃতির আকর। সে শিক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশে এখনও বিদ্যমান- যেখানে আমাদের জাতি সত্তার সঠিক পরিচয় অনুপস্থিত। সে শিক্ষায় শিক্ষিতরা মনের অজান্তেই নিজ ধর্ম ও জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন- এটাই হল স্বাভাবিক। অতএব কেউ যখন ইংরেজের দেয়া চশমায় ইসলাম ও মুসলমানদের অতীত ও বর্তমান কার্যক্রমকে দেখতে থাকে তখন তো তিনি সঠিক জ্ঞান থেকে দূরেই থাকবেন - এতে অবাক হবার কিছুই নেই। একারণে সম্মানিত লেখকের প্রতি করুণা প্রদর্শন পূর্বক বলা প্রয়োজন যে, মাওলানা মওদূদী যদি মুহ্ম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের সংস্কার প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধ হয়েই থাকেন, তাতে দোষের কি ঘটলো? প্রাবন্ধিক মহোদয়ের প্রতি সশ্রদ্ধ অনুরোধ জানিয়ে বলতে চাই যে, ইসলামী আদর্শকে নিরপেক্ষ বা পূর্ব ধারণা বিমুক্ত হয়ে পুনরায় অধ্যয়ন করুন। তাহলে ইনশাআল্লাহ যে সত্যের সম্মুখীন হবেন, তাহলো ইসলাম একটি পূর্ণাংগ জীবন বিধানের নাম। এটি মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সকল সমস্যার সমাধানে সক্ষম এবং তা পৃথিবীতে সকল মত-পথের উপর নিজের প্রতিষ্ঠা দ্বারা মানুষের কল্যাণ সাধনের নিমিত্তেই আল্লাহপাক রাসুল(সা) কে পাঠিয়েছেন। তিনি আরো বুঝতে পারবেন যে, ইসলাম বুঝার জন্য কোন মানুষকে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দেশের দ্বারস্থ হওয়া প্রয়োজন করেনা। মাওলানা মওদূদীও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব নজদীর অনুকরণ করেননি। তিনি আল কুরআন ও আস্সুন্নাহ হতে ইসলাম বুঝেছেন ও তা বাস্তবায়নে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুকরণ করেছেন।

কারণ কুরআনুল কারীমের সুরা আল-ইমরানের ১০৩ নং আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন- ‘তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে (বিধানকে) সংঘবব্ধভাবে আঁকড়ে ধরো, পৃথক হয়োনা।’ রাসুলের জীবনী ও সুন্নাহ হলো কুরআনেরই বাস্তব প্রতিফলন। তিনি আরো বুঝতে পারবেন যে, মানুষের কল্যাণে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর চেয়ে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহর চিন্তা, কর্মপরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি ছিল অনেক ফারাক। তিনি সস্তা শ্লোগান কিংবা আবেগধর্মী কোন কর্মসূচী বা পদ্ধতি গ্রহণ না করে কিছু লোককে ঈমানিয়াতের ভিত্তিতে এমনভাবে তৈরী করেছিলেন যে রাসুলের ইন্তিকালের পরে যাঁরা খিলাফত পরিচালনা করেছিলেন তাঁরা সারা বিশ্বের জন্য আজও মডেল হয়ে রয়েছেন। নবুয়্যত প্রাপ্তির পর দাওয়াতী কাজের মাধ্যমে যাঁদেরকে বাইয়াতের অধীন আনতে পেরেছিলেন তাঁদেরকে নিজ সাহচর্যে রেখে উত্তম চরিত্রের লোক তৈরী করেছেন, অপরদিকে জনমত তৈরীর মাধ্যমে মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করেছেন। কোন মানব দরদী যদি রাসুলের তরীকায় লোক তৈরী ও জনমত সংগঠনের উক্ত পদ্ধতি অনুকরণ করতেন, তাহলে মতায় যাওয়ার পরে আফসোস করা লাগতোনা যে, ‘লোকে পায় সোনার খনি আর আমি পাই চোরের খনি।’

২. উক্ত প্রবন্ধে দ্বিতীয় যে ভুল তথ্য পরিবেশিত হয়েছে তা হলো মাওলানা মওদূদী পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন। এটি শুধুমাত্র তথ্যগত বিভ্রান্তিই নয়, অজ্ঞতা প্রসূতও। সেই সাথে স্ববিরোধীও। ভদ্র মহোদয়ের জানা আছে যে, তেতুঁল গাছ লাগিয়ে যেমন আম ফল পাওয়া যায় না তেমনি ইসলামী আখলাকের লোক তৈরী না করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যায় না। পাকিস্তান আন্দোলন দ্বারা (নিছক মুসলিম জাতীয়তাবাদ অবলম্বন করে) জিন্নাহ-লিয়াকত আলীর ন্যায় নামে মুসলিম বাস্তবে সেক্যুলার রাজনীতিকরা মতারোহণ করেছিলেন মাত্র। জনগণের কোন অধিকারের প্রতি তাঁরা এবং তাঁদের দোসররা সম্মান দেখাতে সম হননি। সচেতন প্রবন্ধ লেখক যত কষ্ট করে পুরাতন বস্তাপচা প্রসংগ উত্থাপন করেছেন সেগুলো তৎকালীন পাকিস্তানী শোষক শ্রেণীর মুখেই শোনা যেত। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রোপটে এটি পরিত্যক্ত বিষয় বৈ আর কিছুই নয়। তবু যেহেতু প্রসংগটি উত্থাপন করেই ফেলেছেন, অন্তত: পাঠকের সঠিক তথ্য জানার প্রয়োজনকে সামনে রেখে ইতিহাসে ফিরে যাওয়া যাক।

১৮৮৫ সালে উপমহাদেশে প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস- দিল্লীতে। ইংরেজ শাসন ও শোষণে পিছিয়ে পড়া মুসলিম নেতারা তারও বিশ বছর পর ঢাকায় গঠন করেন মুসলিম লীগ ১৯০৬ সনে। এর ৩৪ বছর পর ১৯৪০ সনে লাহোর সম্মেলনে পকিস্তান প্রস্তাব পাস হয়। যে শের-ই- বাংলা ঐ প্রস্তাব সেদিন উত্থাপন করেছিলেন তিনিই আবার ৪৪-৪৫ সালে মুসলিম লীগ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এতেই পাকিস্তানের ভবিষ্যত কী দাঁড়াতে পারে সেদিন কেউ যদি আগাম বুঝে থাকেন, তবে তাকে দোষ দেয়া যায় কী? বৃটিশ ইণ্ডিয়ার পঞ্চাশের দশকের রাজনীতির আরেক বাস্তবতা ছিল কংগ্রেসের অখণ্ড ভারত মাতার অঙ্গচ্ছেদ না করে সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদে লীন হয়ে এক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশ স্বাধীন করার শ্লোগান। বিপরীত দিকে মুসলিম লীগের দাবী ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র পাকিস্তান কায়েম করতে হবে। অর্থাৎ কংগ্রেসের ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদ এবং মুসলিম লীগের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ- এ দুয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই সে সময়ে উপমহাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণের নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। মুসলিম লীগের দ্বিজাতি তত্বই পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের কারণ। প্রসংগত এটাও সত্য যে পাকিস্তান না হলে আজকের বাংলাদেশ হতো না, যেমন বাষট্টি বছর সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি কাশ্মীরের। আমাদের প্রাবন্ধিক (নিরাপত্তা বিশ্লেষক) নিশ্চয়ই এতটুকু জ্ঞান রাখেন যে, বিগত ৬৫ বছরে কতজন সেনা ও সেনা কর্মকর্তা ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীতে চাকুরী, প্রমোশন ও পদায়ন পেয়েছেন।

আগেই উল্লেখ করেছি যে ‘যখন যেমন তখন তেমন ’ মার্কা মুসলিম লীগের সেক্যুলার লীডারগণ ইংরেজ প্রবর্তিত শিাব্যবস্থায় (যা আজো বাংলাদেশে মূলভাবধারা নিয়ে বিদ্যমান) শিতি হবার কারণে অনেক কিছুই শিখেছিলেন, কিন্তু ইসলামের সঠিক মর্মার্থ বুঝার সুযোগ পাননি। যে কারণে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদের মুকাবিলায় দ্বিজাতিতত্বের স্বরূপ ও এর আবেদন কী পাকিস্তান আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জনগণের নিকট তা প্রকাশ করছিলেন শুধুমাত্র হিন্দু বনাম মুসলিম এই পরিচয়ে। ইসলামের দৃষ্টিতে এ দু’টির একটিও সঠিক না হওয়ায় মাওলানা মওদূদী সে সময় ‘ইসলাম ও জাতীয়তাবাদ’ নামে একটি বই লেখেন। কংগ্রেসের ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদের বিপরীতে উর্দু ভাষায় লিখিত এই বইটি মুসলিম লীগ নেতারা লুফে নেন। যা পাকিস্তান আন্দোলনে তাত্বিক সহায়তা করেছিল। প্রাবন্ধিকের কষ্টসাধ্য উপস্থাপনায় সে সময়ে মাওলানা মওদূদী কীভাবে পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন তার কোন তথ্য প্রমাণ না থাকায় মনে হয় যেন জামায়াতের কাজই হল শুধুমাত্র বিরোধিতা করা। জ্ঞানী লোকের এতটুকু জানা থাকা জরুরী কেবলই যারা নেতিবাচক কর্মে লিপ্ত থাকে তারা বেশী দূর অগ্রসর হতে পারেনা। জামায়াতে ইসলামীর যদি গঠনমূলক কোন ভূমিকাই না থাকবে তাহলে সে সংগঠন এখনো বাংলাদেশ, ইণ্ডিয়া, শ্রীলংকা ও পকিস্তানে টিকে থাকতে বা অগ্রসর হতে পারতোনা।

৩. ‘‘পাকিস্তান সৃষ্টির পর মাওলানা মওদূদী তার দলবল নিয়ে লাহোরে অবস্থান নেন। শুরুতেই তিনি ফেতনা সৃষ্টি করেন। কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার নর-নারী ও শিশু হত্যা করেন। অর্থাৎ হত্যার মাধ্যমেই জামায়াতের রাজনীতি শুরু হয় পাকিস্তানে। ওই হত্যাকাণ্ডের বিচারে লাহোর হাইকোর্ট মওদূদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন।” জনাব প্রবন্ধকার চাতুর্যের সাথে ইতিহাস বিকৃতির আরেক নজীর সৃষ্টি করেছেন। ভদ্র মহোদয়ের সম্ভবত জানা আছে যে, পাকিস্তান সৃষ্টির পর শুধুমাত্র মওদূদী ও তার দলবলই সেখানে যায়নি, পুরো ভারত জুড়ে ’৪৬ –এর দাঙ্গায় মুসলমানরা জানমালের যে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখ হয়েছিল তা হতে জান বাঁচাতে লক্ষ মানুষ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ববঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিল। বিশেষত: পূর্ব পাঞ্জাব, বিহার ও পশ্চিম বঙ্গে এ দাঙ্গা ছিল খুবই ভয়াবহ। এমতাবস্থায় অন্যদের সাথে মাওলানা মওদূদীর পাকিস্তানে যাওয়া অপরাধ হলো কী করে? সাল তারিখ উল্লেখ না করে প্রবন্ধকার লিখেছেন শুরুতেই তিনি ফেতনা সৃষ্টি করেন কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা দিয়ে ..।

‘পাকিস্তানের শুরু’ বলতে বুঝায় ৪৭ সন বা তার কাছাকাছি সময়। কাদিয়ানী দাঙ্গা হয়েছিল ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে। পরে জাষ্টিস মুনিরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত হয়। মনির রিপোর্টে দাঙ্গায় সামরিক বাহিনীর গুলীতে ১১জন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয় বলে উল্লেখিত রয়েছে এবং দাঙ্গার জন্য জামায়াতকে নয় আহরার পার্টি দায়ী বলে চিহ্নিত হয়। সে দাঙ্গার বিচার হয়েছিল মিলিটারী কোর্টে, হাই কোর্টে নয়। সেক্যুলার রাজনীতিকরাই পাকিস্তান রাষ্ট্রটি তেইশ বছর চালিয়েছেন-বিরোধী পকে দমন-পীড়ন করে। তারা কোন ন্যায়-ইনসাফের তোয়াক্কা করেননি (যেমনটি বর্তমানে চলছে)। ফলে যখন তখন যেখানে সেখানে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে জন-নিপীড়ন নৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। এখানেও উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে মাওলানা মওদূদীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল সামরিক আদালত। কাদিয়ানী দাঙ্গার জন্য জামায়াতে ইসলামী ও মাওলানা মওদূদী মোটেই দায়ী নন। কেউ হয়ত বলবেন যে, কাদিয়ানী সমস্যা ও তার সমাধান নামে বই লেখেছিলেন। বইটি এখনো বাজারে পাওয়া যায়- দয়া করে পড়ে দেখুন। সেখানে দাঙ্গা ঘটানোর জন্য কী বক্তব্য দেয়া রয়েছে।

৪. ইতিহাসকে চরমভাবে বিকৃত করে মেজর জেনারেল সাহেব অত:পর যে তথ্যটি দিয়েছেন তাহলো আয়ূব খানের সাথে জামায়াতের সখ্যতার কাল্পনিক আবিস্কার। অজ্ঞতাপ্রসূত বা ইচ্ছাকৃত যে তথ্যটি তিনি চেপে গেছেন ,তা হলো আয়ূব খান রাজনৈতিক নিপীড়নে সবার আগে যে সংগঠনটির টুটি চেপে ধরেছিলেন-বেআইনী করেছিলেন এবং দেশের উভয় অংশের ৫৮জন নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন সে মজলুম সংগঠন হলো জামায়াতে ইসলামী। পরে পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্ট মজলুমের পক্ষে ও পশ্চিম পাকিস্তান হাইকোর্ট সরকারের পক্ষে রায় দেয়ায় তখনকার সুপ্রীম কোর্ট জামায়াত ও এর নেতৃবৃন্দের মুক্তির নির্দেশ দেন। এতেই প্রমাণিত হয় যে, আয়ূবের সাথে জামায়াতের বিরোধ শুরু থেকেই। সে সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাস স্বাক্ষী যে আয়ূবী স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত সব সময় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিল। অপরাপর দলগুলোর জোট যথা কমন অপজিশন পার্টি (কপ), পাকিস্তান ডেমোক্রাটিক মুভমেন্ট (পিডিএম), ডেমোক্রাটিক এ্যাকশন কমিটি (ডিএসি)- সবগুলোর সাথে মিলেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াত বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিল। যেমন ভূমিকা রেখেছিল এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে। জনাব সিকদার সাহেবের এ কথা ভুলে যাওয়ার কথা নয় যে ৯৬ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে আওয়ামী লীগের সাথে যুগপৎ আন্দোলনেও জামায়াতের ভূমিকা বলিষ্ঠ। অন্তত এই ইতিহাসটুকু যাঁদের স্মৃতি হতে মুছে যায় তাদের এক ধরণের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত বলা যায়।

৫. মেজর জেনারেল একে মোহাম্মদ আলী শিকদার ঐ নিবন্ধে এরপরে লিখেছেন ’৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা সম্পর্কে গৎবাঁধা কিছু প্রলাপ বাক্য। তাঁর কথা সত্য হলে বিগত তেত্রিশ বছর জামায়াত প্রতিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতো না এবং যতটুকু গণরায় পেয়েছে তা পাওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থাকারও কথা নয়। জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যেই শুধু কথিত যুদ্ধাপরাধ মামলা দেয়া হয়েছে। সংগতভাবেই প্রশ্ন করা যায় যে, যাদেরকে কথিত এই মামলায় জড়ানো হলো এরশাদ ও খালেদা বিরোধী আন্দোলনে তাদের সাথে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করতে তখন অসুবিধা হয়নি কেন? চল্লিশ বছরে আওয়ামী লীগ আরো দুই বার মতায় ছিল তখন কেন এসব নেতাদের নামে জিডি মাত্রও হলো না? জবাব একটাই- আওয়ামী লীগের সাথে থাকলে সে সাচ্চা আদমী, নইলে পায়জামা।

৬. পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের ফলে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুন:প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি স্বাধীন দেশে শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ তাদের লালিত বিশ্বাস ও জাতিসত্তার আলোকে রাজনীতি করতে পারবে না-এ রকম অশুভ ও অপরিণামদর্শী চিন্তা সেক্যুলারিজমের পতাকাবাহী চরম মুসলিম বিদ্বেষী রাষ্ট্র ভারতেও নাই। যে কারণে সেখানে এখনো মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী যার যার দলীয় লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও মেনিফেষ্টো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী পুনর্গঠিত হয়ে কাজ করছে বৈধ অধিকারের ভিত্তিতেই, যে অধিকারে অপরাপর দলের ন্যায় আওয়ামী লীগও পুনরায় সংগঠিত হতে পেরেছিল। সুস্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন যে জামায়াত একমাত্র আল্লাহর করুণা নির্ভর হয়েই তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, অন্য কারো কৃপা প্রার্থী হয়ে নয়। দুর্ভাগ্যক্রমে প্রাবন্ধিক মহোদয় গীবতচর্চা ও বুহতানুন (মিথ্যা অপবাদ- যা নয় এরূপ দোষারোপ )- এর ন্যায় গর্হিত কর্মসাধন পূর্বক ইংরেজী হতে অনুদিত হযরত আলী (রা:)-এর একটি উপদেশ বাণী উদ্ধৃত করেছেন বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি নসীহত খয়রাত করতে। বিষয়টি ভূতের মুখে রাম নাম ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রবাদটি পুনরায় উল্লেখ করা যায়- কারণ যখন কেউ দেখে কোন সেনা কর্মকর্তা অতি মাত্রায় সামরিক শাসন বিরোধী ভাব দেখান। তিনি লিখেছেন আর কোন সামরিক শাসন আসবে না। কোন সচেতন মানুষই চায় না সেনা কর্তৃত্বের ন্যায় জংলী শাসন। তবু বলতে হয় যে, কামাল আতাতুর্কের তুরস্ক ছাড়া সাধারণভাবে অন্য কোন দেশের সংবিধানে সামরিক শাসনের পূর্বানুমতির দৃষ্টান্ত না থাকা সত্বেও দেশে দেশে সামরিক বাহিনীর মতা দখল কেউ ঠেকাতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী যে সামরিক শাসনের চির বিরোধী বাংলাদেশের সকল সচেতন নাগরিকই তা জানেন। অতএব সামরিক শাসন না এলে ‘জামায়াত কাজের সুযোগ পাবে না, জামায়াতের রাজনীতি শেষ’- এমন মন্তব্য রাজনীতি অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই করতে পারেন। স্মরণযোগ্য যে, ষাটের দশক হতে যারা এদেশের রাজনীতির খোঁজ রাখেন এবং সত্য স্বীকারের সাহস রাখেন তাঁরা জানেন যে এক সময় আওয়ামী লীগেরও চরম দুর্দিন গিয়েছিল, তখন মরহুম মিজান চৌধুরী ও আমেনা বেগম কী কঠিন কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেই না সংগঠনটিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। অতএব কোন কোন সময় কোন কোন রাজনৈতিক দলকে এমন অবস্থার সম্মুখীন হতেই হয়। রাজনীতির এ সাধারণ ঘটনা প্রবাহের বাইরে জামায়াতের আন্দোলনের আরো একটি মৌল প্রসঙ্গ বিদ্যমান। তা হলো জামায়াত শুধুমাত্র দুনিয়ায় ক্ষমতাসীন হবার জন্য কাজ করে না- দ্বীনের সঠিক পরিচয় মানুষের সামনে তুলে ধরাই তাদের প্রধান কাজ। আর জামায়াতের বিশ্বাস আল্লাহর মঞ্জুরী ও জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতেই দ্বীন কায়েম হতে পারে। সে কারণেই জামায়াত গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি নিষ্ঠাবান।

৭. অত:পর প্রাবন্ধিক গত ১৯ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ দিবসের প্রসংগ টেনে বেশ কিছু গায়ের ঝাল মিটিয়ে বিএনপির প্রতি এন্তার নসীহত প্রদান এবং ক্ষমতাসীনদের অঢেল সফলতার ফিরিস্তি বয়ানপূর্বক গত জোট সরকারের প্রতি দোষারোপ করে হতাশার বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে ক্ষান্ত হয়েছেন এবং চার দলীয় জোট সরকারের খিস্তি খেউড় ও চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনের ব্যাপারে ভীষণ উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

উপসংহার: বিজ্ঞ মেজর জেনারেল সাহেব উপসংহার বিহীন উক্ত প্রবন্ধটির ভুমিকায় ঝড়ে বিধ্বস্ত লঞ্চের উপমা দিয়ে বিএনপি-কে জানালার বাইরে এবং জামায়াতকে ভিতরে অবস্থানকারী নিশ্চিত ডুবন্ত যাত্রী চিহ্নিত করে উভয়েরই আসন্ন সলিল সমাধির দৃশ্যকল্প এঁকে চমৎকার রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু আমরা উপসংহার টানতে চাই এভাবে যে, বর্তমান প্রেক্ষিতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে বিরোধীদলকে শেষ করতে গিয়ে বস্তুত জামায়াত বিএনপির লঞ্চ ডুবছে না। দেশের অস্তিত্বকেই হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। আরও বলতে চাই যে, বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশে ইসলাম কোন সামরিক কর্তৃত্বের দ্বারা প্রচারিত হয়নি। ইসলাম এখানে তার মানবিক আবেদন দিয়েই আমাদের পূর্ব পুরুষদের মন জয় করেছিল। ইসলামের সে আবেদন এখনো বিদ্যমান। অতএব বিদেশীদের ষড়যন্ত্রে সাময়িক গোলক ধাঁধাঁ তৈরী করা যেতে পারে। কিছু লোককে কষ্ট দেয়া যেতে পারে। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন মিটিয়ে দেয়া যাবেনা। এ বিষয়ে আবারো তুরস্কের উদাহরণ দিতে হয়- কামাল আতাতুর্ক যেখানে মসজিদগুলোকে কাব বানিয়েছিল সে তুরস্কেই এখন সেক্যুলারিজমের ছায়াতলে ইসলামী মতাদর্শপন্থীরা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দেশকে ইউরোপীয় ইহুদী-খৃস্টানদের চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে নিয়ে এসেছেন- সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক দিক-বিভাগসহ সকল বিষয়েই। আরো সুস্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন যে, মিসরেও এক সময় ইহুদী বন্ধু জামাল আব্দুন নাসের, আনোয়ার সাদাত ও হুসনী মোবারক ইখওয়ানুল মুসলিমীন নামক ইসলামী আন্দোলনের সংগঠন ও এর অসংখ্য নেতা-কর্মীকে মামলা, হামলা, গুম-খুন করে নিষ্ঠুরতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিল।

ইখওয়ানের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর শাহাদাত সত্বেও সে আন্দোলনই আজ মিসরকে ডোমেইন করার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অতএব বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উপর যে অমানবিক অত্যাচার করা হচ্ছে- এটাতে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার কোন কারণ নেই। স্বল্প ভূমির উপর সুবিশাল জনগোষ্ঠীর এ দেশের উন্নয়ন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রায় সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন জাতীয় ঐকমত্যের। কাজেই বিদেশীদের ডিভাইড এ্যাণ্ড রুল পলিসির শিকার না হয়ে দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে দেশ গড়ার অঙ্গীকারে একত্রিত করুন। মনে রাখতে হবে- বাংলাদেশ কারো গোষ্ঠীগত বা দলীয় কৃতিত্বের ফসল নয়। বাংলাদেশ সাত কোটি থেকে এখন ষোল কোটি সংগ্রামী মানুষের দেশ। সুরা বনী ইসরাঈলের একটি আয়াত দিয়েই আজকের মত ইতি টানতে চাই- (হে নবী) আপনি বলে দিন, সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত, মিথ্যার পতন অবশ্যম্ভাবী। সেই সাথে নিপীড়িত জনতাকে কুরআনের একটি আয়াত স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- ‘ওয়ালা তাহিনূ ওয়ালা তাহযানূ ওয়ানতুমূল আ’লানা ইন্ কুন্তুম মু’মিনীন’-তোমরা মন ভাঙ্গা হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে; যদি তোমরা মুমিন হও।

লেখক- কলামিষ্ট, সম্পাদক, আলোর দিশা সাময়িকী, কুষ্টিয়া।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/RafikuddinAhmad
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ঢাকা থেকে রিফাত লিখেছেন, ৩০ অক্টোবর ২০১১; সকাল ০৭:৩৭
মেজর জেনারেলের ঐ লেখাটি এতই নিম্ন মানের যে এর জবাবে কিছু লেখা মানে সময় নস্ট করা।
70874
Malaysia থেকে Dr M. S. Khan লিখেছেন, ৩০ অক্টোবর ২০১১; রাত ১০:১৪
This Maj General has no idea that the nation of Islam is evolving to occupy and claim its rightful place in histroy. He must be day dreaming and probably a drunkard fully intoxicated by RAW and excessive 'Bharat Prem'. AL promoted officers in Army are all but a shame to this noble profession when todays Major can be tomorrow's Maj Gen as long as he belong to AL. The current inept regime has destroyed every echelon of the govt institutions and defence of course is the foremost.

Being a Maj Gen, this Bharat Pujari should read sufficiently and be knowledgeable enough of history prior to jumping the bandwagon. In such a digital era, cheap and jaundiced writing are straightaway trashed in the bin as there are plenty of information and cross references to gauge the depth, direction and quality of writing.

Irony of the fact, he doesnt know in Turkey, a Islamist Govt in Power for a second second consecutive term and the Islamist Party made spectacular economic development the nation has never witnessed since the WW (World War) II. Just as recent, in Tunisia how a extremely low profile Islamic party topped the election. The probable result of other forthcoming elections, such as in Egypt and Libya are a foregone conclusion. Islam is rising both from the east and the west.

If this Maj Gen has the iota of conscience, ethics, and morality, can he testify the fact that there is just one BAL appointed minister is just as honest and incorrupt like those of few Jamaat affiliated ministers.

Muscle power, terror, bag of Indian money and advice brought them in power and enough is enough. The final verdict is already written on the wall and on the contrary, Jamaat shall never be sinking boat. Indian money shall be futile this time to work for them.
70933
UK থেকে mansoor লিখেছেন, ০১ নভেম্বর ২০১১; সকাল ০৮:৩২
By dint of some Raw aided Media 's relentless false propaganda on Jamat, Pakistan, Jinnah,Nehru-Gandhi '71 lib.war and genocide, Islam, two nation theory, congress and Muslim league's role on sub-cont.division etc bewildered our new generation for the last 40 yrs from the real truth. But truth will triumph one day and what we see now slowly the truth is exposing. Once upon a time Imam Ibn taimia , Mujadded Alfesani, Shahid Hasan a Banna were also treated as culprit by the contemporaneity ruler and by them the people of that time . In that time majority people were confused and bewildered by the ruler of that time. But in course of time the real truth has been exposed and after many years they are now seated in our respectful heart. Human being are truth seeker. False history don't sustain many years, they have to go one day. But most interesting matter is Person of Iman don't believe the baseless and confusing history- it is confirmed in spite of majority bewildered people believe !
We will treat the above mentioned Rtd Maj.Gen. also is one of the victim of propaganda. If Allah(subhana o tala) don't favor them from for real truth at all inshAllah their son or grandson will be favoured by the truth.
71016
New York থেকে Probashi লিখেছেন, ০২ নভেম্বর ২০১১; সকাল ০৫:৪৬
ভাই রফিকউদদীনকে অশেষ ধন্যবাদ এই অনবদ্য লেখাটির জন্য।একটা জিনিষ মনে রাখতে হবেঃ Rank বাড়লেই ঞ্জান বাড়ে না জেঃ সাহব মুনাফেকদের খুশি করার জন এই কসরত করেছেন।জানিন না তাদের সাবাস পাবার কিসমত তার আছে কি?
71077
Dhaka থেকে Imam লিখেছেন, ০৪ নভেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:১৬
Jamaat is parasite type of political party. Sometimes they depend on Martial-law Administrator, sometimes on BNP or AL. Sometimes their against female leadership, sometimes on Kheleda Zia. In 1971, they supported pakistan their state. But now their supporting Bangladesh(may be fake support). As a political party never they brief the nation why they change their political stand. Nobody, any human being can support their activities in 1971. They are the mastermind of all type of torture and killing. On any ground, they are far far from the philosophy of Islam. Islam is not system of killers.
71207
Dhaka থেকে Ahmed লিখেছেন, ০৫ নভেম্বর ২০১১; রাত ১০:৪৯
There are so many stupids like this major gen saheb, so called Imam saheb, S. Kabir, Kabir Chou, Syed Samsul Haque, Humayaun Azad (dead), Guhu, Golam Rabbani, ... so many Murtads, Munafiqs, Kafirs. This sort of writing, foul propaganda are not new at all. May Allah grant them hidayah or punish them as He has mentioned in His Quran.
71283
ctg থেকে mohammed লিখেছেন, ০৮ নভেম্বর ২০১১; সকাল ০৭:৪৬
to comment #5, in spite of all those 'blame' people specially from AL take 'doa' from them, like them as their 'son-in-law' like to have them as house teacher of their daughter, like to appoint them as 'accountant, manager of a project and trust them as protector of wealth of 'yatim(orphan).
71381
ঢাকা থেকে মাহবুব উল আলম লিখেছেন, ০৮ নভেম্বর ২০১১; দুপুর ১২:৪৪
প্রবন্ধটি আমি পড়েছি। এত অজ্ঞতাপ্রসূত লেখা আমি কমই পড়েছি।
71390
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy